নৌকা বানিয়ে জনমানবহীন দ্বীপ থেকে পালানোর চেষ্টা: এক সপ্তাহের নির্মাণ, প্রায় ১২ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা আর শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতা

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে এক জনমানবহীন দ্বীপে আটকে আছেন জিমি ও তাঁর চার সঙ্গী—চ্যান্ডলার, নোলান, ডেরিয়াস আর হেস। চ্যালেঞ্জের শর্ত একটাই: দ্বীপে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে নিজেরাই একটা পালতোলা নৌকা বানাতে হবে, তারপর সেই নৌকায় মাইলের পর মাইল খোলা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আরেকটি দ্বীপে পৌঁছাতে হবে। কেন এই চ্যালেঞ্জ, সে প্রশ্নের জবাবে জিমি আধা-রসিকতা করে বলেন, দর্শকেরা তাঁদের কষ্ট পেতে দেখতে পছন্দ করে। তবে তিনি আরেকটি কারণও বলেন: তিনি সবসময় ভাবতেন, বন্ধুদের নিয়ে কোনো দ্বীপে আটকা পড়লে সত্যিই কি তাঁরা সেখান থেকে বের হতে পারবেন?

11 মিনিটে পড়া

সমস্যা হলো, দলের প্রায় কেউই আগে নৌকা চালাননি বা বানাননি। জিমি, নোলান, চ্যান্ডলার—সবাই স্বীকার করেন যে পালতোলা নৌকা বানানোর কোনো অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। এই কারণেই হেসকে দলে নেওয়া হয়েছে, কারণ জিমির ভাষায়, আগের এক ভিডিওতে হেস "মোটামুটি একটা নৌকা" বানিয়েছিলেন।

প্রথম দিন: আশ্রয় তৈরি আর বাস্তবতার প্রথম ধাক্কা

নৌকার কাজ শুরুর আগে দরকার ছিল সরঞ্জাম জোগাড় আর একটা আশ্রয়। তাঁদের হাতে ছিল একটি বাক্স, যেখানে বেঁচে থাকার সামান্য কিছু জরুরি সরঞ্জাম ও সীমিত পানীয় জল। চারপাশে প্রচুর পানি থাকলেও নৌকা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ওই জল দিয়েই চালাতে হবে—এ কথা শুরুতেই জানিয়ে দেওয়া হয়। জিমি নিজেও স্বীকার করেন, নৌকা বানাতে কতদিন লাগবে তা তিনি জানেন না, কারণ তাঁরা আসলে একদল ইউটিউবার যাঁরা শূন্য থেকে আশ্রয় বানানোর চেষ্টা করছেন।

প্রথম দিনে তাঁরা গাছের দুর্গের মতো একটা উঁচু আশ্রয় বানান। চ্যান্ডলারকে উঁচুতে তুলে গিঁট বাঁধানো হয়, নামানোর সময় হাসাহাসি চলে। কিন্তু এই কাজেই তাঁরা হিমশিম খাচ্ছিলেন, আর জিমি মন্তব্য করেন—একটা ক্যাম্প বানাতেই এই অবস্থা হলে পালতোলা নৌকা বানাতে কী হবে।

হেসের প্রোটোটাইপ ও নৌকার নকশা

দ্বিতীয় দিন সকালে সবাই ঘুম থেকে ওঠার আগেই হেস কাজ শুরু করে দেন। তিনি একটি ছোট মডেল বানিয়েছিলেন, যা দিয়ে মূল নৌকার নকশা ব্যাখ্যা করেন: নিচে থাকবে দুটি খোল, তার ওপর ক্রসবিম, আর মাঝখানে মাস্তুল। পাল কোথা থেকে আসবে প্রশ্ন উঠলে মডেলের পালের জন্য নোলানের শার্টের একটা টুকরো কেটে নেওয়া হয়। মডেলটি পানিতে ভাসে।

তবে জিমি ব্যাখ্যা করেন, একটা কার্যকর প্রোটোটাইপ থাকলেও আসল নৌকা হতে হবে এর চেয়ে প্রায় ৩০–৪০ গুণ বড়, যা প্রায় ১০০০ পাউন্ড ওজন বহন করে তাঁদের ওই দ্বীপ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবে।

উপকরণের খোঁজ: বাঁশ, জঙ্গলের বিপদ আর ভেসে আসা আবর্জনা

নৌকার জন্য সবচেয়ে কাজের জিনিস হিসেবে বাঁশের কথা বলা হয়, কারণ এটি হালকা এবং সহজে ভাসে। কিন্তু বাঁশ ছিল জঙ্গলের গভীরে। জঙ্গলে ঢোকার আগে হেস একটি জরুরি মিটিং ডেকে বিপদের তালিকা দেন: ফের-ডি-ল্যান্স সাপ, ইয়েলো আইল্যাশ ভাইপার আর ওয়ান্ডারিং বানানা স্পাইডার। জঙ্গলে শার্টের ভেতর পিঁপড়া ঢোকা, মৌচাক, হঠাৎ পাখির শব্দে চমকে ওঠা—জিমির ভাষায়, এখানে সবকিছুই যেন তাঁদের মেরে ফেলার চেষ্টা করছে।

উপকরণের আরেকটি বড় উৎস ছিল সৈকতে ভেসে আসা আবর্জনা। তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বড় জাহাজ এই অঞ্চল দিয়ে যায় এবং অনেক সময় সমুদ্রে আবর্জনা ফেলে, যা ভেসে দ্বীপে এসে জমে। সেই আবর্জনাই তাঁরা নৌকার কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন—জিমির কথায়, এতে সৈকত পরিষ্কারও হচ্ছে, পালানোর প্রস্তুতিও হচ্ছে। হেসের মতে, সীল করা কোনো কন্টেইনার এখানে সোনার চেয়েও মূল্যবান, কারণ সেটাই নৌকাকে ভাসিয়ে রাখবে। একটি নীল কন্টেইনার পাওয়া গেলেও তা ভেঙে চুরমার ছিল, তবে পরে অক্ষত একটি পাওয়া যায় এবং পানিতে পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটি ভাসছে।

প্রচণ্ড গরমে প্রায় হিটস্ট্রোকের অবস্থা হলেও এই খোঁজ সার্থক হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। কিন্তু গরমে আর কাজ করার শক্তি ছিল না। দিনের শেষে জিমি অনুমান করেন, এই গতিতে চললে নৌকা বানাতে এক মাস লাগবে। রাতে নোলানের বিছানায় একটা বড় মাকড়সা দেখা দিলে আশ্রয়ে হুলুস্থুল পড়ে যায়।

কাজের জায়গা বদল ও ভেলার কাঠামো

গরমের কারণে দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা কাজ করা যাচ্ছিল। তাই পরের দিন তাঁরা কাজের জায়গা সৈকতের ছায়াযুক্ত অংশে সরিয়ে নেন, যাতে সারাদিন কাজ করা যায়। যাওয়ার পথে চ্যান্ডলার তৃতীয় ব্যারেলটি খুঁজে পান, যা নৌকা ভাসার সম্ভাবনা বাড়ায়। অবশেষে যথেষ্ট বাঁশ ও কাঠ জমা হয়।

এই পর্যায়ে দলের ভূমিকাও খানিকটা বদলায়: ক্লান্ত চ্যান্ডলার ক্যামেরার পেছনে চলে যান, আর ক্যামেরা চালাতে থাকা ডেরিয়াসকে নৌকা বানানোর কাজে নামানো হয়। কাঠামো ধীরে ধীরে দাঁড়াতে থাকে, তবে জিমি সতর্ক করেন—একটি গিঁটও ঢিলা থাকলে ঢেউয়ের ধাক্কায় মাঝসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। বাঁশ দিয়ে ডেক তৈরি হয়, যার নাম তাঁরা মজা করে দেন "পুপ ডেক"।

জোয়ার-ভাটার হিসাব

তৃতীয় দিন সকালে হেস জোয়ার-ভাটার একটি সম্ভাব্য সুবিধা লক্ষ করেন। তাঁর ব্যাখ্যা: ভাটার সময় জলরাশি তীর থেকে দূরে সরে যায়, তাই ঠিক সেই মুহূর্তে রওনা দিতে পারলে স্রোত তাঁদের সোজা সমুদ্রের দিকে টেনে নেবে। কিন্তু বাতাস বা স্রোত প্রতিকূল হলে মোটর থাকলেও ওই দ্বীপে পৌঁছানো যাবে না বলে তিনি মনে করেন। হেস এটাও স্বীকার করেন যে সবাই তাঁর ওপর ভরসা করছে, আর নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতাহীন একদল লোক নিয়ে সফল হলে সেটা তিনি সারাজীবন মনে রাখবেন।

দিনের লক্ষ্য ঠিক হয়: পুপ ডেক শক্ত করে বাঁধা এবং বৈঠার উপকরণ জোগাড়। পাল বানানো হবে কেবল ভাসার পরীক্ষায় পাস করলে।

চতুর্থ ব্যারেলের খোঁজ ও নোলানের অসুস্থতা

ভারসাম্যের জন্য তখনও একটি চতুর্থ ব্যারেল দরকার ছিল; না হলে নৌকার এক দিক ভারসাম্যহীন থাকবে। প্রায় একশো ডিগ্রি গরমে তাঁরা দুই ঘণ্টা ধরে পুরো সৈকত খোঁজেন। শেষে একটি ব্যারেল পাওয়া গেলেও সেটিকে প্রায় এক মাইল পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে আনতে হতো।

এই সময় নোলান জল সঙ্গে না আনার মাশুল দেন। তাঁর আঙুল ঝিনঝিন করছিল, চোখে ঝাপসা দেখছিলেন, এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হন। শেষে ডেরিয়াস একটি নীল ব্যারেল আর একটি রাডার নিয়ে ফেরেন, আর নোলানকে ধরে জল খাওয়ানো হয়। জিমি এই মুহূর্তকে দেখেন এমন এক উপলব্ধি হিসেবে যে সফল হতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়, তাঁদের জলের অর্ধেকের বেশি শেষ, তাই দ্বীপে আর বেশিদিন থাকা সম্ভব নয়।

এদিকে প্লাস্টিক গলিয়ে বৈঠা বানানোর একটা পরিকল্পনাও ছিল—ভেসে আসা একটি ধাতব পাত্রের নিচে আগুন জ্বেলে। পরে জিমি জানান এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে: জল ফুটলেও প্লাস্টিক গলেনি।

ভাসার পরীক্ষা ও জিমির উপলব্ধি

চারটি ব্যারেল ফ্রেমের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা হয়, তারপর ১৭টি ক্রসবিম একই ধরনের গিঁট দিয়ে দুই পাশে লাগানো হয়। এরপর জিমি একটি সিদ্ধান্তের কথা বলেন: হয় কাজ চালিয়ে গিয়ে আশা করা যে সব ঠিক থাকবে—যার ঝুঁকি হলো যাত্রার দিন নৌকা ভেঙে গেলে সব শেষ—অথবা এখনই পানিতে নামিয়ে দেখে নেওয়া এটি ভাসে কিনা। তাঁরা দ্বিতীয় পথ বেছে নেন। হেস নিজেও বলেন তিনি জাহাজ নির্মাতা নন, শুধু অল্পস্বল্প জানেন। নৌকাটি ভাসে, এবং জিমি বলেন এই ভিডিওতে প্রথমবারের মতো তাঁর মনে হয়েছে কাজটা আসলেই সম্ভব।

এখানে জিমি নিজের চ্যানেলের কাজ নিয়ে একটু থামেন। তাঁরা সাধারণত বিশাল সেট বানান, শত শত প্রতিযোগী আনেন, মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেন। কিন্তু তাঁর মতে, মাঝে মাঝে চার বন্ধু নিয়ে দ্বীপে আটকে পড়ে নৌকা বানানোও দারুণ লাগে। গরম আর পোকার কারণে এটি কঠিন ভিডিওগুলোর একটি, তবু বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর আলাদা আনন্দ আছে। তিনি জানান, আগে তাঁরা প্রায়ই এমন ভিডিও করতেন, কেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জানেন না।

পঞ্চম দিন: পাল, স্কেগ, বৈঠা আর সময়ের চাপ

তখনও তাঁদের হাতে ছিল একটা ভেলা, পালতোলা নৌকা নয়। পঞ্চম দিনে লক্ষ্য পাল বানানো। পরিস্থিতিও জরুরি হয়ে উঠছিল: জল কমে আসছে, আর নোলানের শুধু হাত ও বাহুতেই ৬০টির বেশি পোকার কামড়। নোলান বলেন, পরের দিন বের হতে না পারলে আর কতক্ষণ টিকবেন জানেন না।

হেস স্কেগ নিয়ে কাজ করেন, যার কাজ তাঁর ব্যাখ্যায় নৌকাকে সোজা পথে রাখা, এমনকি যখন নৌকা সোজা যেতে চায় না তখনও। স্কেগের আকৃতি থেকেই বৈঠার একটি নতুন ধারণা আসে; প্রথম প্রোটোটাইপটি দেখতে পতাকার মতো লাগলেও শক্ত করে বেঁধে এমন চারটি বৈঠা বানানো হয়। পালের জন্য পাতলা কিন্তু মজবুত বাঁশ ব্যবহার করে হেস একটি "ক্র্যাব পাল" বানান, যাকে তিনি প্রাচীন পলিনেশিয়ানদের পালের সঙ্গে তুলনা করেন। পালের কবজার জন্য একটি ছিদ্র করতে হয়, যা ব্যর্থ হলে পুরো পাল ভেঙে পড়ত। নকশা অনুযায়ী বাতাস পালে লেগে নৌকাকে সামনে ঠেলবে, আর বাতাসের দিক প্রতিকূল হলে একটা দড়ি টানলেই পাল বন্ধ হয়ে যাবে।

সময়ের চাপের কারণ ছিল জোয়ার। হেসের ব্যাখ্যায়, অমাবস্যার কারণে তখন প্রচণ্ড জোয়ার-ভাটা হচ্ছিল; ভাটার সময় রওনা দিলে স্রোত তাঁদের সরাসরি ওই দ্বীপের দিকে ঠেলে দেবে। জোয়ার বদলাতে তখন ১২ ঘণ্টারও কম বাকি। তাই অন্ধকারের পরও মাঝরাত পর্যন্ত কাজ চলে; শেষদিকে চ্যান্ডলার ক্লান্তিতে নিজেই বুঝতে পারছিলেন না কী বানাচ্ছেন—শেষে বোঝা যায় সেটি একটি রাডার।

যাত্রা শুরু: স্রোতের সুবিধা আর প্রথম বিপত্তি

জিমি জানান, প্রায় এক সপ্তাহের পরিশ্রমে নৌকাটি তৈরি হয়েছে; পরে তিনি এটাও বলেন যে টানা ছয় দিন, দিনে ১২ ঘণ্টা করে নির্মাণকাজ চলেছে। রওনা দেওয়ার আগে সবাই একটা প্রতিজ্ঞা করেন: ক্লান্ত হলে, আরও ক্লান্ত হলে, এমনকি থামতে ইচ্ছে করলেও—বৈঠা চালিয়ে যাবেন।

শুরুতে স্রোত সাহায্য করছিল। তবে হেস আগেই সতর্ক করেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা একটি চ্যানেলে ঢুকবেন, যেখানে স্রোত তাঁদের একপাশে টেনে সরাসরি খোলা সাগরের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তাই তার আগে যতটা সম্ভব দ্বীপের কাছে পৌঁছানো জরুরি। পাল খুলে দেওয়ার পর তাঁরা ঘণ্টায় প্রায় এক মাইল গতিতে চলছিলেন, অথচ তখনও পাঁচ মাইলের বেশি পথ বাকি।

মাত্র ২০ মিনিটেই সবাই ক্লান্ত, কেউ কেউ অসুস্থ বোধ করছিলেন। হেসের মতে তাঁরা প্রায় সোজা বাতাসের বিপরীতে যাচ্ছিলেন। চারজনই টানা বৈঠা চালালে চ্যানেলে পৌঁছানোর আগেই শক্তি ফুরিয়ে যাবে—এটা বুঝে হেস ১৫ মিনিটের পালা চালু করেন, যাতে একজন করে বিশ্রাম নিতে পারেন। প্রায় ৪৫ মিনিটে তাঁদের অনুমান ছিল প্রায় ২০ শতাংশ পথ এসেছেন।

চ্যানেলের কাছাকাছি যেতেই সমস্যা শুরু হয়। একটি বৈঠা ভেঙে যায়, নৌকার একটি অংশ পানিতে পড়ে যায়, হেসও পানিতে পড়ে যান। নৌকা একপাশে ঘুরে যাচ্ছিল, তখন সবাই মিলে জোরে টেনে দিক ঠিক করেন। এরপর কিছুক্ষণ ছন্দে চলতে থাকেন, তবে দুই ঘণ্টার মাথায় সবাই পানিশূন্যতা, কাঁধের ব্যথা আর মাথার ওপর সূর্যের তাপে বিপর্যস্ত।

চ্যানেলের লড়াই ও প্রায় হার মেনে নেওয়া

চ্যানেলে ঢুকতেই ঢেউ বেড়ে যায়। হেসের বর্ণনায়, এখানেই সবচেয়ে বেশি স্রোত আর বাতাস, এবং বৈঠা চালানো বন্ধ করলেই নৌকা দক্ষিণে ভেসে যাবে। ডেরিয়াস বলেন, পাঁচ সেকেন্ড থামলেই নৌকা পুরো ঘুরে যাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্রোত তাঁদের কখনো বামে, কখনো ডানে টেনে নিয়ে গোল গোল ঘোরাচ্ছিল, আর একসময় তাঁরা বুঝতে পারেন যে একটুও এগোচ্ছেন না।

প্রায় ছয় ঘণ্টা বৈঠা চালানোর পর জিমি সমুদ্রপীড়ায় আক্রান্ত, চ্যান্ডলারও প্রায় অকেজো; দায়িত্ব এসে পড়ে হেস, নোলান আর ডেরিয়াসের ওপর। হেস হাল আর পাল সামলাচ্ছিলেন। দ্বীপ তখনও ৩.৫ মাইল দূরে। হেস পরিস্থিতিকে পাহাড়ে ওঠার সঙ্গে তুলনা করেন: শুরুতে তাঁরা এতটা পিছিয়ে গেছেন যে সঠিক বাতাস ও স্রোতের সুবিধা নিতে হলে আগে কষ্ট করে সেই অবস্থানে উঠতে হবে।

সাত ঘণ্টায় নৌকা প্রত্যাশামতো এগোচ্ছিল না; বৈঠা থামালেই পিছিয়ে যাচ্ছিল। নোলান বলেন তিনি সাত ঘণ্টা প্রায় একটানা বৈঠা চালিয়েছেন এবং আর পারছেন না, আর ফ্লেয়ার ছোড়ার প্রস্তাব ওঠে। দ্বীপ চোখের সামনে, অথচ নাগালের বাইরে।

জোয়ারের সাহায্যে আশা ফিরে আসা

যখন তাঁরা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন জোয়ার উঠতে শুরু করে এবং স্রোত তাঁদের ডাঙার দিকে টানতে থাকে। তাঁরা টেরই পাননি যে ইতিমধ্যে চ্যানেলটি পেরিয়ে এসেছেন। দূরত্ব দেখায় ২.৯ মাইল। আরেকবার চেষ্টার প্রশ্নে সবাই রাজি হন; একজন বলেন, তিনি হয়তো হার মানার কথা বলতে পারেন, কিন্তু সত্যি না থামা পর্যন্ত হার মানবেন না।

আট ঘণ্টার বেশি বৈঠা চালানো, সবার সানবার্ন, ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার মধ্যেও দূরত্ব কমতে থাকে—২.৫, ১.৭, ১, তারপর ০.৯, ০.৮, ০.৭, ০.৬ মাইল। ডাঙা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

শেষ ২০ মিনিট: জোয়ারের বদল ও ব্যর্থতা

কিন্তু জিমির বর্ণনায় উত্তেজনাই তাঁদের ভুল করাচ্ছিল, কারণ সামনে ছিল আরেকটি জোয়ার বদল—মাত্র ২০ মিনিট বাকি। হেস আবার মনে করিয়ে দেন, বাতাস বা স্রোত ভুল দিকে গেলে ইঞ্জিন থাকলেও পৌঁছানো যাবে না। তখন তাঁরা সম্ভবত এক মাইলের তিন ভাগের এক ভাগ দূরে, তবে নৌকা বেশি ডানে সরে যাচ্ছিল। ১১ ঘণ্টা নৌকায় থাকার পর শেষ ১৫ মিনিট, শেষ ১০ মিনিটে সবাই পুরো শক্তি ঢেলে দেন; একজন হাত দিয়েও পানি টানছিলেন।

প্রায় ৯৫ শতাংশ পথ পার হওয়ার পর বাতাসের দিক পুরোপুরি বদলে যায়। পাশ থেকে জোরালো বাতাস নৌকাকে দক্ষিণে ঠেলছিল; পাল নামানো হবে নাকি তোলা থাকবে, তা নিয়ে দ্বিধা দেখা দেয়। তারপর জোয়ার বদলে যায়, আর যে স্রোত পেছন থেকে ঠেলছিল সেটাই এখন তাঁদের বাইরে টানতে থাকে। দূরত্ব আবার বেড়ে ০.৫ মাইলে দাঁড়ায়—একজন বলেন, এখান থেকে সাঁতরেও পৌঁছানো যেত।

শেষ পর্যন্ত তাঁরা হার মেনে ফ্লেয়ার ছোড়েন। প্রায় ১২ ঘণ্টা বৈঠা আর পাল চালানোর পর জিমির হিসাব, আর মাত্র ২০ মিনিট আগে পৌঁছালে তাঁরা ওই দ্বীপে থাকতেন। তিনি বলেন, এটি তাঁর চ্যানেলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ, এবং মাত্র ৫ শতাংশ পথ বাকি থাকতে শুধু জোয়ার বদলের কারণে ব্যর্থ হওয়াটা মেনে নেওয়া আরও কঠিন। তিনি দর্শকদের হতাশ করেছেন বলে দুঃখপ্রকাশ করেন, প্রতিশ্রুতি দেন পরের চ্যালেঞ্জ ভিডিওতে তিনি আর হারবেন না, এবং হেলিকপ্টারে করে দ্বীপ ছেড়ে চলে যান।