মিস্টার বিস্টের ম্যানশন চ্যালেঞ্জ: যারা খেলাকে "সহজ" বলেছিল, ১১৯ দিন পর তাদের মধ্যে কে টিকল?

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর মূল প্রশ্ন সরল। একটি বিশাল ম্যানশনে যে সবার শেষে বেরোবে, বাড়িটা তার। তবে প্রতিযোগী বাছাইয়ের পেছনে মিস্টার বিস্ট (জিমি) একটা নির্দিষ্ট কারণ জানান। এই পনেরোজনের প্রত্যেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিল যে তাঁর চ্যালেঞ্জগুলো "জলভাত", আর তারা নামলেই জিতে দেখাবে। পুরো ভিডিওজুড়ে জিমি সেই দাবিকে পরীক্ষায় ফেলেন। তিনি তাঁর পুরনো ভিডিওর চ্যালেঞ্জগুলো একে একে এখানে ফিরিয়ে আনেন, আর কেউ হার মানলে তার পুরনো ক্লিপ চালিয়ে দেখান।

18 মিনিটে পড়া

নিয়ম, ম্যানশন আর প্রথম রাত

প্রতিযোগীদের চোখের পট্টি খুলে জানানো হয় যে সাত বেডরুমের এই "মিলিয়ন ডলারের" ম্যানশনই পুরস্কার। বাড়িতে তিনটি গেম রুম, একটি মুভি থিয়েটার, একটি লাইব্রেরি আর একটি জিম আছে। নিয়ম একটাই: লাল দাগে পা দিলেই আউট। কে কোথায় ঘুমাবে তা ঠিক হয় দৌড়ে, যে আগে ঢুকবে ঘরটা তার।

প্রথম রাতেই একটা কৌশল চোখে পড়ে। সবাই বাড়ির টিভি পছন্দ করছে দেখে চেজ চুপিচুপি রিমোটগুলো চুরি করে ছুড়ে ফেলে দেয়। জশ বলে, যে-ই এটা করেছে সে চালাক, কারণ টিভি বন্ধ হলে অনেকে পালাবে বলে তার ধারণা।

3:43

দ্বিতীয় দিন: প্রথম প্রস্থান আর চেজের তাণ্ডব

দ্বিতীয় দিন সকালেই চেজ বলে তার মায়ের কথা মনে পড়ছে। জিমি মনে করিয়ে দেন, আগের ভিডিওতে চেজ এমন প্রতিযোগীদেরই ট্রোল করেছিল যারা বউ-বাচ্চার কথা ভেবে মন খারাপ করে। চেজ অবশ্য দাবি করে তিন বছর লাগলেও সে টিকবে। বাড়ি না ছেড়ে সে রাগটা ঝাড়তে শুরু করে বাড়ির লোকজনের ওপর।

সকাল দশটার মধ্যেই বাড়ির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, আর জেস চলে যেতে চায়। জিমি তাকে জিজ্ঞেস করেন, অন্তত এটুকু কি স্বীকার করবে যে চ্যালেঞ্জ সহজ নয়? সে উল্টো জবাব দেয়, চ্যালেঞ্জ এখনো সহজই। বেরোনোর কারণ হিসেবে সে বলে, লোকজন এখানে বছর পার করে দেবে, অত ধৈর্য তার নেই। পনেরোজন থেকে সংখ্যা নামে চোদ্দতে।

এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়। চেজ বলেছিল দশ দিনের মাথায় সবাই পাগল হয়ে যাবে। তারপর সে দ্বিতীয় দিনেই একটা দরজা ভেঙে ফেলে। জবাবে অন্যরা তার গদি সরিয়ে ফেলে। সোফায় শুয়ে চেজের মেজাজ আরও বিগড়ায়। সে জিমে রাগ ঝাড়ছিল, এই ফাঁকে কুয়েলি গিয়ে তার নতুন ঘর তছনছ করে দেয়। কে করেছে না জেনে চেজ র‍্যাঞ্চ সস নিয়ে পুরো বাড়িতে ঢালতে শুরু করে, কার্পেটও বাদ যায় না। সিঁড়িতে বারবিকিউ সস মাখানো হয়, একটি বিছানা ব্যালকনি দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। জিমি নিজেও বলেন, এরা সম্ভবত এ পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে পাগল প্রতিযোগী। তিনি স্বীকার করেন বারবার থামাতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কিন্তু এরা তাঁর গেমকে "জলভাত" বলেছিল, তাই তিনি হস্তক্ষেপ করেননি।

কেভিন জানায়, অপরিষ্কার জায়গায় থাকা তার পোষায় না, তাই সাফাইয়ের দায়িত্ব সে নিজেই নেয়। বাকিরাও যোগ দেয়, আর বর্ণনায় বলা হয় এতে তাদের বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। সবাইকে খাটতে দেখে চেজেরও হয়তো একটু অনুশোচনা হয়। পরে তারা কিছু একটা বানিয়ে শেষ রিমোটটা উদ্ধার করে। আর্কেড গেমের মতো একটা প্রচেষ্টায় সেটা ধরা পড়তেই উল্লাস শুরু হয়, আর সেই রাতে সবাই শান্তিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখে।

8:50

পঞ্চম দিন: একসঙ্গে তিন "ট্রোলার"-এর বিদায়

টিভি ফিরলেও কয়েকজন বুঝতে শুরু করে যে এই ভিডিওতে থাকা সহজ নয়। পঞ্চম দিনে কার্টার জানায় সে তার বিড়ালকে মিস করছে। জিমি তার পুরনো ক্লিপ চালান, যেখানে সে বলেছিল প্রতিযোগীরা লক্ষ ডলার ছেড়ে বিড়ালকে খাওয়াতে বাড়ি দৌড়ায় কেন। কার্টার প্রথমে ঘোষণা দেয় সে থাকবে, তারপর বলে মজা করছিল, এবং গাড়িতে উঠে যায়।

এর পরপরই আরেকজন মায়ের কাছে ফিরতে চায়। তারপর চেজও যেতে চায়। তার ক্লিপে শোনা যায়, ১০০ দিন লাগলে সে অনায়াসে ২০০ দিন থাকবে। জিমি জিজ্ঞেস করেন, আগের প্রতিযোগীদের যে খিল্লি উড়িয়েছিল, তার জন্য ক্ষমা চাইবে কি না। চেজ সরাসরি "না" বলে। জিমির ভাষায়, মাত্র পাঁচ দিনে তাঁর সবচেয়ে বড় তিন ট্রোলার হার মেনে ব্যাগ গুছিয়ে নিল।

চেজ গেলেও ভাঙচুর থামে না

জিমির পর্যবেক্ষণে আশ্চর্যের বিষয় হলো, চেজ চলে যাওয়ার পরও কিছু বদলায়নি। বাস্কেটবল কোর্টে বই ফেলার "রেকর্ড" করা হয়, কিচেনের মেঝে ভরে যায় জিনিসপত্রে। একজন প্রতিযোগী সরাসরি কৌশল ব্যাখ্যা করে: অনেকে জিম ভালোবাসে, তাই তাদের তাড়াতে হলে জিমটাই ধ্বংস করতে হবে। ওয়েট র‍্যাক থেকে জানালা পর্যন্ত ভাঙা হয়। রায়ান বলে, এত সুন্দর বাড়িটা এরা ছারখার করছে। কেভিন একটা যুক্তি তোলে: যে এটা করছে, সে আসলে নিজের জিততে চাওয়া বাড়িরই দাম কমাচ্ছে।

নবম দিনে জ্যাফেথ নিজের কথা ফিরিয়ে নিয়ে বলে, গেমটা মোটেই সহজ নয়। দশম দিনে রুবেন জানায়, চিক-ফিল-এ পেলেই সে চলে যাবে। জিমি লাল দাগ পেরোলে ৩০ পিসের নাগেট মিল দেওয়ার প্রস্তাব দেন, আর রুবেন রাজি হয়ে যায়। জিমির মন্তব্য, দশ ডলারের খাবারের জন্য মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছে। রুবেনের পুরনো ভিডিওতে শোনা যায়, সে বলেছিল ৩০ দিন পর মন খারাপের নাটক কিসের, পরিবার অপেক্ষা করতে পারবে, আর জিমির কাছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ চেয়েছিল। অথচ এখন সে স্বীকার করে মাত্র চার দিনেই পরিবারকে মিস করছে।

12:24

হাতকড়ার চ্যালেঞ্জ: জুটি, ফাটল আর বন্ধুত্ব

এরপর জিমি তাঁর "এক্স-এর সাথে শিকলবন্দী" ভিডিওর ধাঁচে হাতকড়া নিয়ে আসেন। প্রত্যেককে একজন পার্টনার বেছে অনির্দিষ্ট সময় একসঙ্গে বাঁধা থাকতে হবে। খুললেই সরাসরি বাদ। এক দিন হতে পারে, এক বছরও হতে পারে। শৌচাগারের সমস্যা মেটাতে দরজায় একটা ফুটো করা হয়।

মার্ক বলে, সাধারণ কাজও ঝামেলার হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়, জুটিদের মধ্যে খিটমিট শুরু হয়। মাত্র এক দিনের মাথায় অ্যালেক ব্যাগ গোছায়। ক্যামেরার সামনে সে বলে, জিমির চ্যালেঞ্জ মারাত্মক কঠিন। মজার ব্যাপার, জিমি তার পুরনো ক্লিপ খুঁজতে গিয়ে দেখেন অ্যালেক আসলে বলেছিল, জিমি নিজে ফোন করে ভিডিওতে আসার অফার দেননি বলে সে তাঁকে দোষ দেয় না, দিলে সে লাফিয়ে পড়ত। অ্যালেকের পার্টনার কিন্তু থেকে যায়। জে-ও বিদায় নেয়। তখন টিকে থাকে পিয়ার্স-ইউথি, মার্ক-কেভিন, অ্যাশার-অ্যারন আর কুয়েলি-রায়ান জুটি।

কুয়েলি আর রায়ান সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কুয়েলি জানায় তার বাবাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। জিতলে পুরো টাকা সে বাবা-মাকে দেবে, বাবাকে অবসরে পাঠাতে পারলে তাঁদের সম্পর্কও আগের মতো মিষ্টি হবে বলে তার আশা। রায়ান বলে, এ কথা শোনার পর থেকে কুয়েলিকে জেতানোই তার একমাত্র লক্ষ্য।

অন্যদিকে অ্যাশারের সঙ্গে অ্যারন কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারে না। অ্যারন তাকে ভাইয়ের সঙ্গে বাইক চালানোর আনন্দ মনে করিয়ে দেয়। অ্যাশার জবাব দেয়, ভাই তাকে ছাড়াই দিব্যি আছে, আর তাতে তার কিছু যায় আসে না। অ্যারনের চোখে ছেলেটি খুব স্মার্ট, কিন্তু পরিবার বা বাড়ির কারও প্রতি তার কোনো টান নেই। "বাড়িটা আমার" বলে অ্যাশারের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে বাকিরা চটে যায়। রায়ান প্রতিজ্ঞা করে, অ্যাশারকে সে-ই খেলা থেকে সরাবে, কারণ তার মতে ওই অতি-আত্মবিশ্বাসই অ্যাশারকে ডোবাবে।

16:06

টিভি ভাঙা আর "ডমিনো এফেক্ট"

উনিশতম দিনে একঘেয়েমি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কেউ কেউ দেয়ালে শুধু "মিস্টার বিস্ট" লিখে ভরাতে থাকে। কেভিন, মার্ক আর ইউথি লক্ষ করে, রিমোট ফিরে পাওয়ার পর বাকিরা দিনরাত টিভির সামনে পড়ে থাকে। ইউথির তত্ত্ব হলো, এই টিভিই তাদের আটকে রাখার একমাত্র আঠা। বোর হতে শুরু করলে একে একে লোক চলে যাবে, আর শুরু হবে ডমিনো এফেক্ট। একুশতম দিনে সে দুটো টিভিই ভেঙে ফেলে।

বাইশতম দিনে রাত দশটায় জিমি আইপ্যাড হাতে এসে জানান, অ্যারন বেরিয়ে গেছে। তখন সাতজন বাকি। কেউ একজন খোলাখুলি বলে, "গেম তো গেমই"। প্রতিযোগীদের লড়াই শুধু ম্যানশনে থাকার ছিল না, প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার কষ্টও ছিল। একজন জানায় তার প্রম নাইট আর গ্র্যাজুয়েশন ডে মিস হয়ে গেছে। তার উপলব্ধি, বাইরে জীবন থেমে নেই, অথচ হারানো মুহূর্তগুলো আর কখনো ফিরবে না।

এরপর মার্ক কুইট করতে চায়। জিমি তার পুরনো ক্লিপ চালান, যেখানে সে সন্তানের পড়াশোনা বা বউয়ের জন্য কান্নাকাটি করা প্রতিযোগীদের বোকা বলেছিল এবং বলেছিল এরা সময়ের মূল্য বোঝে না। এবার মার্ক স্বীকার করে, "ভুল করেছিলাম"। ছয়জন বাকি থাকে। একজন প্রতিযোগী মন্তব্য করে, বিস্ট এমন প্রতিযোগী বেছেছেন যাদের শুধু গলার আওয়াজই বেশি, ভেতরে জেতার খিদে নেই।

টিভি না থাকায় ছেলেরা বোরডম কাটাতে নতুন উপায় খোঁজে। জিমির ভাষায়, টিভি কেড়ে নিলে পুরুষমানুষ যে গুহামানব হয়ে যায়, এ তারই প্রমাণ। তবে বন্ধনও গভীর হয়। প্রায় ২০ দিন কুয়েলির সঙ্গে বাঁধা থেকে আর পিয়ার্সের সঙ্গে ঘর ভাগাভাগি করে রায়ান বলে, তাদের সম্পর্ক অন্য স্তরে চলে গেছে।

19:44

বাংকার অ্যালার্ম: এক মিনিট, তারপর ৩০ সেকেন্ড

চল্লিশতম দিনের আগে জিমি হাতকড়া খুলে দেন এবং প্রথম চ্যালেঞ্জ শেষ ঘোষণা করেন। পরের চ্যালেঞ্জ আসে তাঁর বাংকার ভিডিও থেকে। অ্যালার্ম বাজলে এক মিনিটের মধ্যে হ্যান্ড স্ক্যানারে হাত স্ক্যান করতে হবে, না পারলে আউট। শুরুতে কেউ কেউ বলে "ধুর, এ তো সহজ"। জিমি পাল্টা বলেন, ভিডিওর শেষে কেউ আর সহজ বলার সাহস পাবে না।

প্রতিযোগীরা ঝুঁকি না নিয়ে স্ক্যানারের কাছেই ঘুমাতে শুরু করে। জিমি অ্যালার্ম দেন ভোরবেলা, এমনকি শাওয়ারের সময়ও। তবু তাঁর স্বীকারোক্তি, কোনোভাবেই তাদের সময়মতো স্ক্যানারে পৌঁছানো আটকানো যাচ্ছিল না। অ্যাশার ও অন্যরা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ দাবি করে। তাই পঞ্চাশতম দিনে জিমি সময় কমিয়ে ৩০ সেকেন্ড করেন। এতে ভুলের সুযোগ প্রায় থাকে না, ফলে অনেকে সবকিছু নিয়ে লাইব্রেরিতে উঠে আসে। কেভিন বলে, সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে হলেও চ্যালেঞ্জ আসার পর সবার একতা বেড়েছে। কেভিন আর ইউথি একে অপরকে ভাই বলে ডাকতে শুরু করে।

তবে একজন একঘরেই থেকে যায়: অ্যাশার। সে ঘোষণা দেয় সে-ই আসল প্লেয়ার, কারণ বাইরের দুনিয়ায় তার কোনো পিছুটান নেই। ষাটতম দিনের দিকে বাকিরা তাকে তাড়ানোর কথা বলতে শুরু করে। একষট্টিতম দিনে অ্যাশার ফ্রিজ, কিচেন, প্যান্ট্রি থেকে রান্নার বাসন পর্যন্ত সব সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে, যাতে কেউ খাবার না পায়। লড়াই তখন দাঁড়ায় অ্যাশার বনাম পুরো বাড়ি।

22:50

জুটিতে ঘরবন্দি

জিমি জানান, তাঁর ফেরার কথা ছিল সত্তরতম দিনে। কিন্তু অ্যাশার খেলাকে এমন স্তরে নিয়ে গেছে যে পঁয়ষট্টিতম দিনেই নতুন টুইস্ট আনতে হয়। এবার ভিত্তি তাঁর সেই ভিডিও, যেখানে দুজনকে ১০০ দিন একসঙ্গে বন্দি রাখা হয়েছিল। জুটি বেঁধে একটি করে ঘরে থাকতে হবে।

কেউ অ্যাশারের সঙ্গে থাকতে চায় না, এ নিয়ে রীতিমতো তর্ক হয় কে "বলির পাঁঠা" হবে। শেষে জুটি দাঁড়ায় কুয়েলি-পিয়ার্স, কেভিন-উথমান (ইউথি) আর রায়ান-অ্যাশার। খাবার বলতে শুধু চাল, ওটস আর বিফ। তবে ব্যাগে লুকিয়ে বই আর চকলেট নিয়ে ঢুকে প্রতিযোগীরা কিছুটা "সিস্টেমকে ঘোল খাওয়ায়"। শুরুতে তারা আবার বলে এটা সহজ। এদিকে জিমি জানান, তারা বন্দি থাকার সময় তছনছ হওয়া বাড়ি নতুন করে বানানো হবে। স্পনসর লোজ এর উপকরণ সরবরাহ করেছে, এবং দেয়াল শুধু রং নয়, ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে।

বই, ব্যায়াম আর খেলায় প্রথম কয়েক দিন কাটলেও পরে সব বিরক্তিকর লাগতে থাকে। একজন বলে, চোখের নিমেষে সম্রাট থেকে ফকির হয়ে যাওয়ার মতো, আর মানুষকে বিনয়ী বানাতে এর জুড়ি নেই। পিয়ার্স জানায়, আজ তার হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন ছিল, সেরিমনিটাই মিস হয়ে গেল। রোজ একই খাবার বিরক্তি আরও বাড়ায়। জিমি বলেন, এক সপ্তাহের মাথায় ওদের মাথা হ্যাং করতে শুরু করা স্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজে সাত দিন একা আটকে থেকে পাগল হয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এ-ও বলেন, ওরা তাঁর ভিডিওকে সহজ না বললে তিনি গিয়ে একটু সাহায্যই করতেন।

26:58

রায়ানের এক লাখ পর্যন্ত গোনা

তিয়াত্তরতম দিনে একঘেয়েমি তাড়াতে রায়ান একটা পরিকল্পনা করে। সে মিস্টার বিস্টের বহু বছর আগের সেই ভিডিওর মতো ১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত গুনবে। জিমি এই ভিডিওকে তাঁর চ্যানেলের "হিরো ভিডিও" বলেন, আর জানান লোকে এতদিন এটাকে সহজ বলে খিল্লি উড়িয়েছে। গোনার মধ্যে রায়ান হোঁচট খায়, সংখ্যা গুলিয়ে ফেলে, ঘুমাতেও অস্বীকার করে।

জিমি এসে দেখেন রায়ান ২৯ হাজারে পৌঁছেছে। রায়ান স্বীকার করে, কাজটা ভাবনার চেয়েও কঠিন, আর এতে জিমির প্রতি তার শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে। জিমি সতর্ক করেন যে ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে, একটা সংখ্যাও বাদ যাওয়া চলবে না, আর এক লাখ হলে সারপ্রাইজ থাকবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ১ থেকে ৫০ হাজার যত সহজ, ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন। এই পর্বে জিমি বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চান সবচেয়ে কঠিন কী। সবার এক উত্তর: খাবার।

উনআশিতম দিনে রায়ান বলে, সে কোথায় আছে বা কে, কিছুই মনে পড়ছে না। মুখ ব্যথা করছে, চোখের সামনে শুধু সংখ্যা ভাসছে। জিমি বলেন, দীর্ঘদিন তাঁর মনে হতো এক লাখ গোনার কষ্ট শুধু তিনিই বোঝেন, এবার আরেকজন বুঝল দেখে ভালো লাগছে। শেষদিকে পাশের ঘর থেকে কুয়েলি সংখ্যা মনে করিয়ে সাহায্য করে, আর অবশেষে রায়ান ১ লাখে পৌঁছে যায়। এক প্রতিযোগীর মন্তব্য, সত্যিকারের ইচ্ছা আশপাশের মানুষকেও অনুপ্রাণিত করে।

তবে অ্যাশার এতে পাত্তাই দেয় না, তার মতে এক লাখ গোনা একদম সহজ কাজ। মিলিয়ন ডলার জিতলে ১৫ হাজার দিয়ে বাইক কেনার কথাও সে বলে, যা নিয়ে রায়ান বিরক্ত হয়। রায়ান তাকে "চরম খিটখিটে লোক" বলে, এবং কুয়েলির সুযোগ বাড়াতে অ্যাশারকে আগে সরানোকে নিজের মিশন বলে ঘোষণা করে। একজন প্রতিযোগীর মতে অ্যাশার চালাক, কিন্তু তার অহংকারই তার বুদ্ধি নষ্ট করে।

এরপর অ্যাশার নিজের দিকটা ব্যাখ্যা করে। ছোটবেলা থেকে সে হোমস্কুলিং করেছে, তাই এমন পরিবেশ তার কাছে নতুন, আর সে সমাজের নিয়মকানুন শেখার চেষ্টা করছে। প্রতিযোগিতামূলক স্বভাবই তার আসল রূপ, সে সবকিছুকে চ্যালেঞ্জ মনে করত। এবার সে আবেগগতভাবে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানায়, এবং খাবার ফেলে দেওয়ার আগে অন্যদের কথা ভাবা উচিত ছিল বলে ক্ষমা চায়।

নব্বইতম দিনে জিমি রায়ানের পুরস্কার হিসেবে এক লাখ পয়সা নিয়ে আসেন, যা তাঁর পুরনো পয়সা বিলোনোর ভিডিওর কথা মনে করায়। তারপর তিনি সবাইকে বের হওয়ার ভান করান। তিন মাস পূর্ণ হওয়ায় প্রতিযোগীরা ভাবে মুক্তি মিলেছে। কিন্তু জিমি বলেন, সাধারণত এখান থেকেই বিজয়ী আসত, তবে খেলা যখন সহজ লেগেছে তখন আরও দু-এক সপ্তাহ পরে আসা যাক। প্রতিযোগীরা এবার একবাক্যে বলে, তাঁর ভিডিও মোটেই সহজ নয়। একানব্বইতম দিনে জিমি মিথ্যে করে বলেন একজন বাদ পড়েছে, তারপর জানান আসল উদ্দেশ্য সংস্কার করা বাড়িটা দেখানো। শর্ত একটাই: আর ভাঙচুর করা যাবে না, আর সবাই "পিঙ্কি প্রমিস" করে। নতুন বাড়িতে বাদ পড়াদের জন্য একটি "শহীদদের দেয়াল"ও রাখা হয়েছে। জিমি ঘোষণা দেন, বিজয়ী বাড়ির সঙ্গে আজীবন লোজ-এর গৃহ রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাবে।

33:35

পিয়ার্সের গ্র্যাজুয়েশন আর রহস্যময় ফোন

ভিডিও এত দীর্ঘ চলায় পিয়ার্সের গ্র্যাজুয়েশন বাদ পড়েছিল। জিমি তার প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে সারপ্রাইজের আয়োজন করেন। গাউন আর টুপি আনা হয়, আর টিভিতে লাইভে আসেন তার স্কুলের কাউন্সিলর। জিমি জানান, তিন মাস এখানে থাকলেও তাকে ফেল করানো হয়নি, পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এরপর আসে নতুন খেলা। আগামী ৩০ দিনে যেকোনো সময় একটি ফোন বাজবে, আর যে তুলবে সে জিমির অফার পাবে। তবে অফার সবসময় ভালো নাও হতে পারে, শাস্তিও জুটতে পারে। প্রথম কলের আগে রক-পেপার-সিজার্সে ঠিক হয় কে তুলবে। রায়ান ফোন ধরে ১০ হাজার ডলার জেতে, পরে নগদ ব্রিফকেসও হাতে পায়। আরেকজন ফোন তুলে শোনে তাকে ২৪ ঘণ্টা বাথটাবে কাটাতে হবে। রায়ানের এরপর কৌশল হলো, আর ফোন ছোঁবে না। কিন্তু আরেকজন বলে, ফোন না তুললেও বড় বিপদ আসতে পারে, তাই সে ধরবে।

একশোতম দিনে শাস্তির বদলে পিৎজা আর কুকিজ আসে। একশো একতম দিনে কুয়েলি ফোন ধরলে জিমি তাকে বলেন, ঘরের "সবচেয়ে অবিশ্বাসযোগ্য" লোকের হাতে ফোন দিতে। ফোন যায় অ্যাশারের কাছে। অফার হলো, অ্যাশার ২৪ ঘণ্টা একা একটি ঘরে বন্দি থাকলে কুয়েলি পাবে ১০ হাজার ডলার। জিমির প্রশ্ন ছিল, এ পর্যন্ত শুধু নিজের জন্য খেলা সবচেয়ে স্বার্থপর প্লেয়ার কি নিঃস্বার্থ কাজটা করবে? অ্যাশার রাজি হয়। আইসোলেশনে বসে সে বলে, অন্যরা যেমন গভীর সম্পর্ক গড়েছে, সে হয়তো কখনো তা পারবে না, তবু তাদের মতো বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা তাকে করতেই হবে।

পরদিন ফোন আবার বাজে, এবার কুয়েলির জন্য। তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সে অ্যাশারের জায়গা নিয়ে নতুন করে ২৪ ঘণ্টা শুরু করলে দুজনেই ১০ হাজার করে পাবে, নইলে অ্যাশার শেষ করবে আর শুধু কুয়েলি পাবে। কুয়েলি জায়গা বদল করে। জিমি বলেন, তিনি ভেবেছিলেন এই চ্যালেঞ্জে বন্ধুত্ব ভাঙবে, উল্টে সম্পর্ক আরও মজবুত হলো। ২৪ ঘণ্টা পর ইউথি ফোন ধরে নির্দেশ পায় কুয়েলিকে বের করে আনতে। দুজনেই পুরস্কার পায়, আর একজন মন্তব্য করে তারা দল বেঁধে জিমিকে হারিয়েছে।

একশো চারতম দিনে কেভিন ফোন তোলে। অপর প্রান্তে কেএসআই। শাস্তি হলো, জেজে (কেএসআই)-এর গান স্পিকারে টানা ২৪ ঘণ্টা লুপে বাজবে। আঠারো মিনিটের মাথায়ই প্রতিযোগীরা কাতর হয়ে পড়ে। একজন রসিকতা করে বলে, গান বন্ধ করতে সে কোটি টাকার ম্যানশনও ছাড়তে রাজি। রাতে ঘুমানো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে। পরদিন জিমি ৫০ হাজার ডলারের অফার নিয়ে ফোন করেন, কিন্তু উচ্চ গানের মধ্যে কেউ ফোনই তোলে না। জিমি আর নোলান চুপিচুপি ঢুকে আবার বেরিয়ে যান, প্রতিযোগীরা টেরও পায় না।

শেষ লড়াইয়ের আগে: কেন জিততে চায় তারা

শেষ পর্যায়ের আগে প্রতিযোগীরা নিজেদের তাগিদের কথা বলে। একজন জানায়, সে বাবার বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ঘুরেছে, গৃহহীনও হয়েছে, তবু স্বপ্ন পূরণের জেদ হারায়নি এবং এখানে আসতে অগুনতি ত্যাগ করেছে। পিয়ার্স বলে, তার হাইস্কুলের শেষ বছর এখানেই কেটে গেল। সে মনে করিয়ে দেয়, জিমি বলেছিলেন ভিডিও দুই থেকে চার বছর চলতে পারে, আর সে সেই প্রস্তুতি নিয়েই ঢুকেছিল। আরেকজন বলে, তার পরিবার টাকার অভাবে খুব কষ্টে আছে, সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে, আর তার মনে হয় ভগবান কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই তাকে এখানে পাঠিয়েছেন। জিমির মূল্যায়নে, শেষ ছয়জন (রায়ান, কুয়েলি, উসমান, পিয়ার্স, কেভিন, অ্যাশার) কাজ দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।

48:03

দেয়ালে হাত: ছয় লাখ ডলারের টোপ

একশো পনেরোতম দিনের পর জিমি এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর ভাষায় চ্যানেলের ইতিহাসে আগে ঘটেনি। চ্যালেঞ্জ হলো, যার হাত সবার শেষে ম্যানশন থেকে সরবে, বাড়িটা তার। দেয়াল, মেঝে বা কাউন্টার থেকে হাত সরলেই বাদ। সঙ্গে রাখা হয় ৬ লাখ ডলার নগদ। জিমি নিজেও দেয়ালে হাত রাখবেন। তাঁর আগে যে হাত সরাবে, সে পাবে ১ লাখ ডলার। কিন্তু জিমির হাত আগে সরলে পুরো টাকা গায়েব। শর্ত ছিল, অন্তত তিনজনকে রাজি হতে হবে। শেষে সবাই রাজি হয়, আর হাতের ওপর নজর রাখতে হ্যান্ড ক্যাম বসানো হয়।

ভাবনা শুরু হয় তখনই। একজন বলে, শূন্য হাতে এসেছিল, ফাঁকা হাতে ফিরলেও হারানোর কিছু নেই। আরেকজন বলে, বাড়িতে তাদের কিছু নেই, তারা বাড়ি হারিয়েছে, গাড়িতে রাত কাটিয়েছে, তাই এত বড় সুযোগ ছাড়া পাগলামি হবে। জিমি আদৌ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কি না, সেই অনিশ্চয়তায় তারা ঝুঁকি নিতে চায় না।

এখানে হাতকড়ার দিনগুলোর বন্ধন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। একজন প্রতিযোগী তার জুটিকে বলে, তুমি কুইট করলে আমিও কাটব। তৃতীয়জন বলে, ওরা দুজন গেলে তার থাকার মানে নেই। জিমি মনে করিয়ে দেন, প্রতিটি প্রস্থানের সঙ্গে বাড়ি জেতার সম্ভাবনা বাড়ছে। তবু তারা বলে, এরা পরিবারের মতো হয়ে গেছে এবং খেলার পরও বেস্ট ফ্রেন্ড থাকবে। একে একে হাত সরে যায়, প্রত্যেকে ১ লাখ ডলার নিয়ে বেরোয়।

চারজন বাকি থাকে: অ্যাশার, ইউথি, কেভিন আর বর্ণনাকারী প্রতিযোগী। খাওয়া, হাত ধোয়া, টয়লেট সবই ঝামেলার হয়ে যায়, আর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঘুম। জিমি জানান, তাঁর হাত আটকে রাখায় বাকিদেরই লাভ, কারণ তাঁর হাত সরলে সবাই খালি হাতে ফিরবে। তাই কেউ একজন জিমির হাতের ওপর চেপে বসে। তার কথায়, সে চায় সবাই যেন কিছু না কিছু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে। জিমির হাত সরার আগেই পরের জন বেরিয়ে যায়। তারপর কেভিন বিদায় নেওয়ার সময় জিমি নিজেও তার সঙ্গে হাত সরিয়ে বেরিয়ে আসেন। প্রতিযোগীদের একজন অভিযোগ করে, জিমি ২৪ ঘণ্টাও পার হতে দিলেন না।

54:07

অ্যাশার বনাম ইউথি: ঘুম আর ১১৯ দিনের সমাপ্তি

এখন লড়াই শুধু দুজনের। ইউথি বলে, এই লড়াই তার নিজের জন্য নয়, বাবার জন্য। অ্যাশার মেনে নেয় উদ্দেশ্যটা মহৎ, তবে জানায় সে অত নরম মনের লোক নয়। পুরনো চাকরিতে এমন বাড়ি কিনতে কত বছর লাগত, জিমির এই প্রশ্নে একজন উত্তর দেয় অন্তত ২০ বছরের বেশি। তার মতে, এটা জেতা মানে শুধু তার নয়, পরিবারেরও জীবন বদলে যাওয়া। যে বাড়িতে পনেরোজন চিৎকার করত, সেটা এখন ভুতুড়ে রকম নিস্তব্ধ।

এলিমিনেশন এড়াতে অ্যাশার জেগে থাকে। অন্যদিকে ইউথি হাত না সরিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেয়। জিমি এসে অ্যাশারকে জিজ্ঞেস করেন, সে কি অতি-আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ছে? অ্যাশার তা অস্বীকার করে। সে জানায়, শেষ এক ঘণ্টায় কী হয়েছে মনে নেই, টানা ৩২ ঘণ্টার বেশি জেগে আছে, তবে আজ রাতে ঘুমাবে। তার হাত জানালায় এমনভাবে আটকানো হয় যাতে না সরে, এবং সে দাবি করে ঘুমে সে একটুও নড়ে না।

জিমি মনে করিয়ে দেন, চার মাস আগে পনেরোজন ঢুকেছিল, আর প্রত্যেকে শপথ নিয়েছিল শেষ পর্যন্ত টিকবে। তাদের মধ্যে কেবল অ্যাশার আর ইউথিই সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে পেরেছে। এরপর তিনি দুজনকে ডেকে একটি ফুটেজ চালান। জিমির বর্ণনায়, অ্যাশার হাত তুলে নিয়েছিল এবং আশপাশেই ছিল না। অ্যাশার প্রতিবাদ করে, কিন্তু জিমি জানিয়ে দেন: "সরি অ্যাশার", আর ইউথি, ম্যানশন এখন থেকে তোমার।

টানা ১১৯ দিন পর ইউথি একমাত্র টিকে থাকা প্রতিযোগী হিসেবে ম্যানশনের দলিল হাতে পায়, যাতে তার নাম আর নিচে জিমির সই। ভিডিও শেষ হয় ইউথির ঘোষণায় যে সে বাড়িটা জিতেছে। শেষ মুহূর্তে কেউ একজন খোঁচা দিয়ে বলে, এটা তার ভিডিওর চেয়ে সহজ ছিল। শুরুর "সহজ" দাবি নিয়ে ভিডিওর পুরো বিতর্কটা এভাবে শেষ পর্যন্তও কিছুটা খোলা থেকে যায়।