মিস্টার বিস্টের ম্যানশন চ্যালেঞ্জ: যারা খেলাকে "সহজ" বলেছিল, ১১৯ দিন পর তাদের মধ্যে কে টিকল?
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওর মূল প্রশ্ন সরল। একটি বিশাল ম্যানশনে যে সবার শেষে বেরোবে, বাড়িটা তার। তবে প্রতিযোগী বাছাইয়ের পেছনে মিস্টার বিস্ট (জিমি) একটা নির্দিষ্ট কারণ জানান। এই পনেরোজনের প্রত্যেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিল যে তাঁর চ্যালেঞ্জগুলো "জলভাত", আর তারা নামলেই জিতে দেখাবে। পুরো ভিডিওজুড়ে জিমি সেই দাবিকে পরীক্ষায় ফেলেন। তিনি তাঁর পুরনো ভিডিওর চ্যালেঞ্জগুলো একে একে এখানে ফিরিয়ে আনেন, আর কেউ হার মানলে তার পুরনো ক্লিপ চালিয়ে দেখান।
নিয়ম, ম্যানশন আর প্রথম রাত
প্রতিযোগীদের চোখের পট্টি খুলে জানানো হয় যে সাত বেডরুমের এই "মিলিয়ন ডলারের" ম্যানশনই পুরস্কার। বাড়িতে তিনটি গেম রুম, একটি মুভি থিয়েটার, একটি লাইব্রেরি আর একটি জিম আছে। নিয়ম একটাই: লাল দাগে পা দিলেই আউট। কে কোথায় ঘুমাবে তা ঠিক হয় দৌড়ে, যে আগে ঢুকবে ঘরটা তার।
প্রথম রাতেই একটা কৌশল চোখে পড়ে। সবাই বাড়ির টিভি পছন্দ করছে দেখে চেজ চুপিচুপি রিমোটগুলো চুরি করে ছুড়ে ফেলে দেয়। জশ বলে, যে-ই এটা করেছে সে চালাক, কারণ টিভি বন্ধ হলে অনেকে পালাবে বলে তার ধারণা।
দ্বিতীয় দিন: প্রথম প্রস্থান আর চেজের তাণ্ডব
দ্বিতীয় দিন সকালেই চেজ বলে তার মায়ের কথা মনে পড়ছে। জিমি মনে করিয়ে দেন, আগের ভিডিওতে চেজ এমন প্রতিযোগীদেরই ট্রোল করেছিল যারা বউ-বাচ্চার কথা ভেবে মন খারাপ করে। চেজ অবশ্য দাবি করে তিন বছর লাগলেও সে টিকবে। বাড়ি না ছেড়ে সে রাগটা ঝাড়তে শুরু করে বাড়ির লোকজনের ওপর।
সকাল দশটার মধ্যেই বাড়ির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, আর জেস চলে যেতে চায়। জিমি তাকে জিজ্ঞেস করেন, অন্তত এটুকু কি স্বীকার করবে যে চ্যালেঞ্জ সহজ নয়? সে উল্টো জবাব দেয়, চ্যালেঞ্জ এখনো সহজই। বেরোনোর কারণ হিসেবে সে বলে, লোকজন এখানে বছর পার করে দেবে, অত ধৈর্য তার নেই। পনেরোজন থেকে সংখ্যা নামে চোদ্দতে।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়। চেজ বলেছিল দশ দিনের মাথায় সবাই পাগল হয়ে যাবে। তারপর সে দ্বিতীয় দিনেই একটা দরজা ভেঙে ফেলে। জবাবে অন্যরা তার গদি সরিয়ে ফেলে। সোফায় শুয়ে চেজের মেজাজ আরও বিগড়ায়। সে জিমে রাগ ঝাড়ছিল, এই ফাঁকে কুয়েলি গিয়ে তার নতুন ঘর তছনছ করে দেয়। কে করেছে না জেনে চেজ র্যাঞ্চ সস নিয়ে পুরো বাড়িতে ঢালতে শুরু করে, কার্পেটও বাদ যায় না। সিঁড়িতে বারবিকিউ সস মাখানো হয়, একটি বিছানা ব্যালকনি দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। জিমি নিজেও বলেন, এরা সম্ভবত এ পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে পাগল প্রতিযোগী। তিনি স্বীকার করেন বারবার থামাতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কিন্তু এরা তাঁর গেমকে "জলভাত" বলেছিল, তাই তিনি হস্তক্ষেপ করেননি।
কেভিন জানায়, অপরিষ্কার জায়গায় থাকা তার পোষায় না, তাই সাফাইয়ের দায়িত্ব সে নিজেই নেয়। বাকিরাও যোগ দেয়, আর বর্ণনায় বলা হয় এতে তাদের বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। সবাইকে খাটতে দেখে চেজেরও হয়তো একটু অনুশোচনা হয়। পরে তারা কিছু একটা বানিয়ে শেষ রিমোটটা উদ্ধার করে। আর্কেড গেমের মতো একটা প্রচেষ্টায় সেটা ধরা পড়তেই উল্লাস শুরু হয়, আর সেই রাতে সবাই শান্তিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখে।
পঞ্চম দিন: একসঙ্গে তিন "ট্রোলার"-এর বিদায়
টিভি ফিরলেও কয়েকজন বুঝতে শুরু করে যে এই ভিডিওতে থাকা সহজ নয়। পঞ্চম দিনে কার্টার জানায় সে তার বিড়ালকে মিস করছে। জিমি তার পুরনো ক্লিপ চালান, যেখানে সে বলেছিল প্রতিযোগীরা লক্ষ ডলার ছেড়ে বিড়ালকে খাওয়াতে বাড়ি দৌড়ায় কেন। কার্টার প্রথমে ঘোষণা দেয় সে থাকবে, তারপর বলে মজা করছিল, এবং গাড়িতে উঠে যায়।
এর পরপরই আরেকজন মায়ের কাছে ফিরতে চায়। তারপর চেজও যেতে চায়। তার ক্লিপে শোনা যায়, ১০০ দিন লাগলে সে অনায়াসে ২০০ দিন থাকবে। জিমি জিজ্ঞেস করেন, আগের প্রতিযোগীদের যে খিল্লি উড়িয়েছিল, তার জন্য ক্ষমা চাইবে কি না। চেজ সরাসরি "না" বলে। জিমির ভাষায়, মাত্র পাঁচ দিনে তাঁর সবচেয়ে বড় তিন ট্রোলার হার মেনে ব্যাগ গুছিয়ে নিল।
চেজ গেলেও ভাঙচুর থামে না
জিমির পর্যবেক্ষণে আশ্চর্যের বিষয় হলো, চেজ চলে যাওয়ার পরও কিছু বদলায়নি। বাস্কেটবল কোর্টে বই ফেলার "রেকর্ড" করা হয়, কিচেনের মেঝে ভরে যায় জিনিসপত্রে। একজন প্রতিযোগী সরাসরি কৌশল ব্যাখ্যা করে: অনেকে জিম ভালোবাসে, তাই তাদের তাড়াতে হলে জিমটাই ধ্বংস করতে হবে। ওয়েট র্যাক থেকে জানালা পর্যন্ত ভাঙা হয়। রায়ান বলে, এত সুন্দর বাড়িটা এরা ছারখার করছে। কেভিন একটা যুক্তি তোলে: যে এটা করছে, সে আসলে নিজের জিততে চাওয়া বাড়িরই দাম কমাচ্ছে।
নবম দিনে জ্যাফেথ নিজের কথা ফিরিয়ে নিয়ে বলে, গেমটা মোটেই সহজ নয়। দশম দিনে রুবেন জানায়, চিক-ফিল-এ পেলেই সে চলে যাবে। জিমি লাল দাগ পেরোলে ৩০ পিসের নাগেট মিল দেওয়ার প্রস্তাব দেন, আর রুবেন রাজি হয়ে যায়। জিমির মন্তব্য, দশ ডলারের খাবারের জন্য মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছে। রুবেনের পুরনো ভিডিওতে শোনা যায়, সে বলেছিল ৩০ দিন পর মন খারাপের নাটক কিসের, পরিবার অপেক্ষা করতে পারবে, আর জিমির কাছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ চেয়েছিল। অথচ এখন সে স্বীকার করে মাত্র চার দিনেই পরিবারকে মিস করছে।
হাতকড়ার চ্যালেঞ্জ: জুটি, ফাটল আর বন্ধুত্ব
এরপর জিমি তাঁর "এক্স-এর সাথে শিকলবন্দী" ভিডিওর ধাঁচে হাতকড়া নিয়ে আসেন। প্রত্যেককে একজন পার্টনার বেছে অনির্দিষ্ট সময় একসঙ্গে বাঁধা থাকতে হবে। খুললেই সরাসরি বাদ। এক দিন হতে পারে, এক বছরও হতে পারে। শৌচাগারের সমস্যা মেটাতে দরজায় একটা ফুটো করা হয়।
মার্ক বলে, সাধারণ কাজও ঝামেলার হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়, জুটিদের মধ্যে খিটমিট শুরু হয়। মাত্র এক দিনের মাথায় অ্যালেক ব্যাগ গোছায়। ক্যামেরার সামনে সে বলে, জিমির চ্যালেঞ্জ মারাত্মক কঠিন। মজার ব্যাপার, জিমি তার পুরনো ক্লিপ খুঁজতে গিয়ে দেখেন অ্যালেক আসলে বলেছিল, জিমি নিজে ফোন করে ভিডিওতে আসার অফার দেননি বলে সে তাঁকে দোষ দেয় না, দিলে সে লাফিয়ে পড়ত। অ্যালেকের পার্টনার কিন্তু থেকে যায়। জে-ও বিদায় নেয়। তখন টিকে থাকে পিয়ার্স-ইউথি, মার্ক-কেভিন, অ্যাশার-অ্যারন আর কুয়েলি-রায়ান জুটি।
কুয়েলি আর রায়ান সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কুয়েলি জানায় তার বাবাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। জিতলে পুরো টাকা সে বাবা-মাকে দেবে, বাবাকে অবসরে পাঠাতে পারলে তাঁদের সম্পর্কও আগের মতো মিষ্টি হবে বলে তার আশা। রায়ান বলে, এ কথা শোনার পর থেকে কুয়েলিকে জেতানোই তার একমাত্র লক্ষ্য।
অন্যদিকে অ্যাশারের সঙ্গে অ্যারন কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারে না। অ্যারন তাকে ভাইয়ের সঙ্গে বাইক চালানোর আনন্দ মনে করিয়ে দেয়। অ্যাশার জবাব দেয়, ভাই তাকে ছাড়াই দিব্যি আছে, আর তাতে তার কিছু যায় আসে না। অ্যারনের চোখে ছেলেটি খুব স্মার্ট, কিন্তু পরিবার বা বাড়ির কারও প্রতি তার কোনো টান নেই। "বাড়িটা আমার" বলে অ্যাশারের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে বাকিরা চটে যায়। রায়ান প্রতিজ্ঞা করে, অ্যাশারকে সে-ই খেলা থেকে সরাবে, কারণ তার মতে ওই অতি-আত্মবিশ্বাসই অ্যাশারকে ডোবাবে।
টিভি ভাঙা আর "ডমিনো এফেক্ট"
উনিশতম দিনে একঘেয়েমি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কেউ কেউ দেয়ালে শুধু "মিস্টার বিস্ট" লিখে ভরাতে থাকে। কেভিন, মার্ক আর ইউথি লক্ষ করে, রিমোট ফিরে পাওয়ার পর বাকিরা দিনরাত টিভির সামনে পড়ে থাকে। ইউথির তত্ত্ব হলো, এই টিভিই তাদের আটকে রাখার একমাত্র আঠা। বোর হতে শুরু করলে একে একে লোক চলে যাবে, আর শুরু হবে ডমিনো এফেক্ট। একুশতম দিনে সে দুটো টিভিই ভেঙে ফেলে।
বাইশতম দিনে রাত দশটায় জিমি আইপ্যাড হাতে এসে জানান, অ্যারন বেরিয়ে গেছে। তখন সাতজন বাকি। কেউ একজন খোলাখুলি বলে, "গেম তো গেমই"। প্রতিযোগীদের লড়াই শুধু ম্যানশনে থাকার ছিল না, প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার কষ্টও ছিল। একজন জানায় তার প্রম নাইট আর গ্র্যাজুয়েশন ডে মিস হয়ে গেছে। তার উপলব্ধি, বাইরে জীবন থেমে নেই, অথচ হারানো মুহূর্তগুলো আর কখনো ফিরবে না।
এরপর মার্ক কুইট করতে চায়। জিমি তার পুরনো ক্লিপ চালান, যেখানে সে সন্তানের পড়াশোনা বা বউয়ের জন্য কান্নাকাটি করা প্রতিযোগীদের বোকা বলেছিল এবং বলেছিল এরা সময়ের মূল্য বোঝে না। এবার মার্ক স্বীকার করে, "ভুল করেছিলাম"। ছয়জন বাকি থাকে। একজন প্রতিযোগী মন্তব্য করে, বিস্ট এমন প্রতিযোগী বেছেছেন যাদের শুধু গলার আওয়াজই বেশি, ভেতরে জেতার খিদে নেই।
টিভি না থাকায় ছেলেরা বোরডম কাটাতে নতুন উপায় খোঁজে। জিমির ভাষায়, টিভি কেড়ে নিলে পুরুষমানুষ যে গুহামানব হয়ে যায়, এ তারই প্রমাণ। তবে বন্ধনও গভীর হয়। প্রায় ২০ দিন কুয়েলির সঙ্গে বাঁধা থেকে আর পিয়ার্সের সঙ্গে ঘর ভাগাভাগি করে রায়ান বলে, তাদের সম্পর্ক অন্য স্তরে চলে গেছে।
বাংকার অ্যালার্ম: এক মিনিট, তারপর ৩০ সেকেন্ড
চল্লিশতম দিনের আগে জিমি হাতকড়া খুলে দেন এবং প্রথম চ্যালেঞ্জ শেষ ঘোষণা করেন। পরের চ্যালেঞ্জ আসে তাঁর বাংকার ভিডিও থেকে। অ্যালার্ম বাজলে এক মিনিটের মধ্যে হ্যান্ড স্ক্যানারে হাত স্ক্যান করতে হবে, না পারলে আউট। শুরুতে কেউ কেউ বলে "ধুর, এ তো সহজ"। জিমি পাল্টা বলেন, ভিডিওর শেষে কেউ আর সহজ বলার সাহস পাবে না।
প্রতিযোগীরা ঝুঁকি না নিয়ে স্ক্যানারের কাছেই ঘুমাতে শুরু করে। জিমি অ্যালার্ম দেন ভোরবেলা, এমনকি শাওয়ারের সময়ও। তবু তাঁর স্বীকারোক্তি, কোনোভাবেই তাদের সময়মতো স্ক্যানারে পৌঁছানো আটকানো যাচ্ছিল না। অ্যাশার ও অন্যরা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ দাবি করে। তাই পঞ্চাশতম দিনে জিমি সময় কমিয়ে ৩০ সেকেন্ড করেন। এতে ভুলের সুযোগ প্রায় থাকে না, ফলে অনেকে সবকিছু নিয়ে লাইব্রেরিতে উঠে আসে। কেভিন বলে, সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে হলেও চ্যালেঞ্জ আসার পর সবার একতা বেড়েছে। কেভিন আর ইউথি একে অপরকে ভাই বলে ডাকতে শুরু করে।
তবে একজন একঘরেই থেকে যায়: অ্যাশার। সে ঘোষণা দেয় সে-ই আসল প্লেয়ার, কারণ বাইরের দুনিয়ায় তার কোনো পিছুটান নেই। ষাটতম দিনের দিকে বাকিরা তাকে তাড়ানোর কথা বলতে শুরু করে। একষট্টিতম দিনে অ্যাশার ফ্রিজ, কিচেন, প্যান্ট্রি থেকে রান্নার বাসন পর্যন্ত সব সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে, যাতে কেউ খাবার না পায়। লড়াই তখন দাঁড়ায় অ্যাশার বনাম পুরো বাড়ি।
জুটিতে ঘরবন্দি
জিমি জানান, তাঁর ফেরার কথা ছিল সত্তরতম দিনে। কিন্তু অ্যাশার খেলাকে এমন স্তরে নিয়ে গেছে যে পঁয়ষট্টিতম দিনেই নতুন টুইস্ট আনতে হয়। এবার ভিত্তি তাঁর সেই ভিডিও, যেখানে দুজনকে ১০০ দিন একসঙ্গে বন্দি রাখা হয়েছিল। জুটি বেঁধে একটি করে ঘরে থাকতে হবে।
কেউ অ্যাশারের সঙ্গে থাকতে চায় না, এ নিয়ে রীতিমতো তর্ক হয় কে "বলির পাঁঠা" হবে। শেষে জুটি দাঁড়ায় কুয়েলি-পিয়ার্স, কেভিন-উথমান (ইউথি) আর রায়ান-অ্যাশার। খাবার বলতে শুধু চাল, ওটস আর বিফ। তবে ব্যাগে লুকিয়ে বই আর চকলেট নিয়ে ঢুকে প্রতিযোগীরা কিছুটা "সিস্টেমকে ঘোল খাওয়ায়"। শুরুতে তারা আবার বলে এটা সহজ। এদিকে জিমি জানান, তারা বন্দি থাকার সময় তছনছ হওয়া বাড়ি নতুন করে বানানো হবে। স্পনসর লোজ এর উপকরণ সরবরাহ করেছে, এবং দেয়াল শুধু রং নয়, ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে।
বই, ব্যায়াম আর খেলায় প্রথম কয়েক দিন কাটলেও পরে সব বিরক্তিকর লাগতে থাকে। একজন বলে, চোখের নিমেষে সম্রাট থেকে ফকির হয়ে যাওয়ার মতো, আর মানুষকে বিনয়ী বানাতে এর জুড়ি নেই। পিয়ার্স জানায়, আজ তার হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন ছিল, সেরিমনিটাই মিস হয়ে গেল। রোজ একই খাবার বিরক্তি আরও বাড়ায়। জিমি বলেন, এক সপ্তাহের মাথায় ওদের মাথা হ্যাং করতে শুরু করা স্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজে সাত দিন একা আটকে থেকে পাগল হয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এ-ও বলেন, ওরা তাঁর ভিডিওকে সহজ না বললে তিনি গিয়ে একটু সাহায্যই করতেন।
রায়ানের এক লাখ পর্যন্ত গোনা
তিয়াত্তরতম দিনে একঘেয়েমি তাড়াতে রায়ান একটা পরিকল্পনা করে। সে মিস্টার বিস্টের বহু বছর আগের সেই ভিডিওর মতো ১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত গুনবে। জিমি এই ভিডিওকে তাঁর চ্যানেলের "হিরো ভিডিও" বলেন, আর জানান লোকে এতদিন এটাকে সহজ বলে খিল্লি উড়িয়েছে। গোনার মধ্যে রায়ান হোঁচট খায়, সংখ্যা গুলিয়ে ফেলে, ঘুমাতেও অস্বীকার করে।
জিমি এসে দেখেন রায়ান ২৯ হাজারে পৌঁছেছে। রায়ান স্বীকার করে, কাজটা ভাবনার চেয়েও কঠিন, আর এতে জিমির প্রতি তার শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে। জিমি সতর্ক করেন যে ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে, একটা সংখ্যাও বাদ যাওয়া চলবে না, আর এক লাখ হলে সারপ্রাইজ থাকবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ১ থেকে ৫০ হাজার যত সহজ, ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন। এই পর্বে জিমি বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চান সবচেয়ে কঠিন কী। সবার এক উত্তর: খাবার।
উনআশিতম দিনে রায়ান বলে, সে কোথায় আছে বা কে, কিছুই মনে পড়ছে না। মুখ ব্যথা করছে, চোখের সামনে শুধু সংখ্যা ভাসছে। জিমি বলেন, দীর্ঘদিন তাঁর মনে হতো এক লাখ গোনার কষ্ট শুধু তিনিই বোঝেন, এবার আরেকজন বুঝল দেখে ভালো লাগছে। শেষদিকে পাশের ঘর থেকে কুয়েলি সংখ্যা মনে করিয়ে সাহায্য করে, আর অবশেষে রায়ান ১ লাখে পৌঁছে যায়। এক প্রতিযোগীর মন্তব্য, সত্যিকারের ইচ্ছা আশপাশের মানুষকেও অনুপ্রাণিত করে।
তবে অ্যাশার এতে পাত্তাই দেয় না, তার মতে এক লাখ গোনা একদম সহজ কাজ। মিলিয়ন ডলার জিতলে ১৫ হাজার দিয়ে বাইক কেনার কথাও সে বলে, যা নিয়ে রায়ান বিরক্ত হয়। রায়ান তাকে "চরম খিটখিটে লোক" বলে, এবং কুয়েলির সুযোগ বাড়াতে অ্যাশারকে আগে সরানোকে নিজের মিশন বলে ঘোষণা করে। একজন প্রতিযোগীর মতে অ্যাশার চালাক, কিন্তু তার অহংকারই তার বুদ্ধি নষ্ট করে।
এরপর অ্যাশার নিজের দিকটা ব্যাখ্যা করে। ছোটবেলা থেকে সে হোমস্কুলিং করেছে, তাই এমন পরিবেশ তার কাছে নতুন, আর সে সমাজের নিয়মকানুন শেখার চেষ্টা করছে। প্রতিযোগিতামূলক স্বভাবই তার আসল রূপ, সে সবকিছুকে চ্যালেঞ্জ মনে করত। এবার সে আবেগগতভাবে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানায়, এবং খাবার ফেলে দেওয়ার আগে অন্যদের কথা ভাবা উচিত ছিল বলে ক্ষমা চায়।
নব্বইতম দিনে জিমি রায়ানের পুরস্কার হিসেবে এক লাখ পয়সা নিয়ে আসেন, যা তাঁর পুরনো পয়সা বিলোনোর ভিডিওর কথা মনে করায়। তারপর তিনি সবাইকে বের হওয়ার ভান করান। তিন মাস পূর্ণ হওয়ায় প্রতিযোগীরা ভাবে মুক্তি মিলেছে। কিন্তু জিমি বলেন, সাধারণত এখান থেকেই বিজয়ী আসত, তবে খেলা যখন সহজ লেগেছে তখন আরও দু-এক সপ্তাহ পরে আসা যাক। প্রতিযোগীরা এবার একবাক্যে বলে, তাঁর ভিডিও মোটেই সহজ নয়। একানব্বইতম দিনে জিমি মিথ্যে করে বলেন একজন বাদ পড়েছে, তারপর জানান আসল উদ্দেশ্য সংস্কার করা বাড়িটা দেখানো। শর্ত একটাই: আর ভাঙচুর করা যাবে না, আর সবাই "পিঙ্কি প্রমিস" করে। নতুন বাড়িতে বাদ পড়াদের জন্য একটি "শহীদদের দেয়াল"ও রাখা হয়েছে। জিমি ঘোষণা দেন, বিজয়ী বাড়ির সঙ্গে আজীবন লোজ-এর গৃহ রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাবে।
পিয়ার্সের গ্র্যাজুয়েশন আর রহস্যময় ফোন
ভিডিও এত দীর্ঘ চলায় পিয়ার্সের গ্র্যাজুয়েশন বাদ পড়েছিল। জিমি তার প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে সারপ্রাইজের আয়োজন করেন। গাউন আর টুপি আনা হয়, আর টিভিতে লাইভে আসেন তার স্কুলের কাউন্সিলর। জিমি জানান, তিন মাস এখানে থাকলেও তাকে ফেল করানো হয়নি, পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর আসে নতুন খেলা। আগামী ৩০ দিনে যেকোনো সময় একটি ফোন বাজবে, আর যে তুলবে সে জিমির অফার পাবে। তবে অফার সবসময় ভালো নাও হতে পারে, শাস্তিও জুটতে পারে। প্রথম কলের আগে রক-পেপার-সিজার্সে ঠিক হয় কে তুলবে। রায়ান ফোন ধরে ১০ হাজার ডলার জেতে, পরে নগদ ব্রিফকেসও হাতে পায়। আরেকজন ফোন তুলে শোনে তাকে ২৪ ঘণ্টা বাথটাবে কাটাতে হবে। রায়ানের এরপর কৌশল হলো, আর ফোন ছোঁবে না। কিন্তু আরেকজন বলে, ফোন না তুললেও বড় বিপদ আসতে পারে, তাই সে ধরবে।
একশোতম দিনে শাস্তির বদলে পিৎজা আর কুকিজ আসে। একশো একতম দিনে কুয়েলি ফোন ধরলে জিমি তাকে বলেন, ঘরের "সবচেয়ে অবিশ্বাসযোগ্য" লোকের হাতে ফোন দিতে। ফোন যায় অ্যাশারের কাছে। অফার হলো, অ্যাশার ২৪ ঘণ্টা একা একটি ঘরে বন্দি থাকলে কুয়েলি পাবে ১০ হাজার ডলার। জিমির প্রশ্ন ছিল, এ পর্যন্ত শুধু নিজের জন্য খেলা সবচেয়ে স্বার্থপর প্লেয়ার কি নিঃস্বার্থ কাজটা করবে? অ্যাশার রাজি হয়। আইসোলেশনে বসে সে বলে, অন্যরা যেমন গভীর সম্পর্ক গড়েছে, সে হয়তো কখনো তা পারবে না, তবু তাদের মতো বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা তাকে করতেই হবে।
পরদিন ফোন আবার বাজে, এবার কুয়েলির জন্য। তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সে অ্যাশারের জায়গা নিয়ে নতুন করে ২৪ ঘণ্টা শুরু করলে দুজনেই ১০ হাজার করে পাবে, নইলে অ্যাশার শেষ করবে আর শুধু কুয়েলি পাবে। কুয়েলি জায়গা বদল করে। জিমি বলেন, তিনি ভেবেছিলেন এই চ্যালেঞ্জে বন্ধুত্ব ভাঙবে, উল্টে সম্পর্ক আরও মজবুত হলো। ২৪ ঘণ্টা পর ইউথি ফোন ধরে নির্দেশ পায় কুয়েলিকে বের করে আনতে। দুজনেই পুরস্কার পায়, আর একজন মন্তব্য করে তারা দল বেঁধে জিমিকে হারিয়েছে।
একশো চারতম দিনে কেভিন ফোন তোলে। অপর প্রান্তে কেএসআই। শাস্তি হলো, জেজে (কেএসআই)-এর গান স্পিকারে টানা ২৪ ঘণ্টা লুপে বাজবে। আঠারো মিনিটের মাথায়ই প্রতিযোগীরা কাতর হয়ে পড়ে। একজন রসিকতা করে বলে, গান বন্ধ করতে সে কোটি টাকার ম্যানশনও ছাড়তে রাজি। রাতে ঘুমানো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে। পরদিন জিমি ৫০ হাজার ডলারের অফার নিয়ে ফোন করেন, কিন্তু উচ্চ গানের মধ্যে কেউ ফোনই তোলে না। জিমি আর নোলান চুপিচুপি ঢুকে আবার বেরিয়ে যান, প্রতিযোগীরা টেরও পায় না।
শেষ লড়াইয়ের আগে: কেন জিততে চায় তারা
শেষ পর্যায়ের আগে প্রতিযোগীরা নিজেদের তাগিদের কথা বলে। একজন জানায়, সে বাবার বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ঘুরেছে, গৃহহীনও হয়েছে, তবু স্বপ্ন পূরণের জেদ হারায়নি এবং এখানে আসতে অগুনতি ত্যাগ করেছে। পিয়ার্স বলে, তার হাইস্কুলের শেষ বছর এখানেই কেটে গেল। সে মনে করিয়ে দেয়, জিমি বলেছিলেন ভিডিও দুই থেকে চার বছর চলতে পারে, আর সে সেই প্রস্তুতি নিয়েই ঢুকেছিল। আরেকজন বলে, তার পরিবার টাকার অভাবে খুব কষ্টে আছে, সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে, আর তার মনে হয় ভগবান কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই তাকে এখানে পাঠিয়েছেন। জিমির মূল্যায়নে, শেষ ছয়জন (রায়ান, কুয়েলি, উসমান, পিয়ার্স, কেভিন, অ্যাশার) কাজ দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
দেয়ালে হাত: ছয় লাখ ডলারের টোপ
একশো পনেরোতম দিনের পর জিমি এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর ভাষায় চ্যানেলের ইতিহাসে আগে ঘটেনি। চ্যালেঞ্জ হলো, যার হাত সবার শেষে ম্যানশন থেকে সরবে, বাড়িটা তার। দেয়াল, মেঝে বা কাউন্টার থেকে হাত সরলেই বাদ। সঙ্গে রাখা হয় ৬ লাখ ডলার নগদ। জিমি নিজেও দেয়ালে হাত রাখবেন। তাঁর আগে যে হাত সরাবে, সে পাবে ১ লাখ ডলার। কিন্তু জিমির হাত আগে সরলে পুরো টাকা গায়েব। শর্ত ছিল, অন্তত তিনজনকে রাজি হতে হবে। শেষে সবাই রাজি হয়, আর হাতের ওপর নজর রাখতে হ্যান্ড ক্যাম বসানো হয়।
ভাবনা শুরু হয় তখনই। একজন বলে, শূন্য হাতে এসেছিল, ফাঁকা হাতে ফিরলেও হারানোর কিছু নেই। আরেকজন বলে, বাড়িতে তাদের কিছু নেই, তারা বাড়ি হারিয়েছে, গাড়িতে রাত কাটিয়েছে, তাই এত বড় সুযোগ ছাড়া পাগলামি হবে। জিমি আদৌ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কি না, সেই অনিশ্চয়তায় তারা ঝুঁকি নিতে চায় না।
এখানে হাতকড়ার দিনগুলোর বন্ধন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। একজন প্রতিযোগী তার জুটিকে বলে, তুমি কুইট করলে আমিও কাটব। তৃতীয়জন বলে, ওরা দুজন গেলে তার থাকার মানে নেই। জিমি মনে করিয়ে দেন, প্রতিটি প্রস্থানের সঙ্গে বাড়ি জেতার সম্ভাবনা বাড়ছে। তবু তারা বলে, এরা পরিবারের মতো হয়ে গেছে এবং খেলার পরও বেস্ট ফ্রেন্ড থাকবে। একে একে হাত সরে যায়, প্রত্যেকে ১ লাখ ডলার নিয়ে বেরোয়।
চারজন বাকি থাকে: অ্যাশার, ইউথি, কেভিন আর বর্ণনাকারী প্রতিযোগী। খাওয়া, হাত ধোয়া, টয়লেট সবই ঝামেলার হয়ে যায়, আর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঘুম। জিমি জানান, তাঁর হাত আটকে রাখায় বাকিদেরই লাভ, কারণ তাঁর হাত সরলে সবাই খালি হাতে ফিরবে। তাই কেউ একজন জিমির হাতের ওপর চেপে বসে। তার কথায়, সে চায় সবাই যেন কিছু না কিছু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে। জিমির হাত সরার আগেই পরের জন বেরিয়ে যায়। তারপর কেভিন বিদায় নেওয়ার সময় জিমি নিজেও তার সঙ্গে হাত সরিয়ে বেরিয়ে আসেন। প্রতিযোগীদের একজন অভিযোগ করে, জিমি ২৪ ঘণ্টাও পার হতে দিলেন না।
অ্যাশার বনাম ইউথি: ঘুম আর ১১৯ দিনের সমাপ্তি
এখন লড়াই শুধু দুজনের। ইউথি বলে, এই লড়াই তার নিজের জন্য নয়, বাবার জন্য। অ্যাশার মেনে নেয় উদ্দেশ্যটা মহৎ, তবে জানায় সে অত নরম মনের লোক নয়। পুরনো চাকরিতে এমন বাড়ি কিনতে কত বছর লাগত, জিমির এই প্রশ্নে একজন উত্তর দেয় অন্তত ২০ বছরের বেশি। তার মতে, এটা জেতা মানে শুধু তার নয়, পরিবারেরও জীবন বদলে যাওয়া। যে বাড়িতে পনেরোজন চিৎকার করত, সেটা এখন ভুতুড়ে রকম নিস্তব্ধ।
এলিমিনেশন এড়াতে অ্যাশার জেগে থাকে। অন্যদিকে ইউথি হাত না সরিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেয়। জিমি এসে অ্যাশারকে জিজ্ঞেস করেন, সে কি অতি-আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ছে? অ্যাশার তা অস্বীকার করে। সে জানায়, শেষ এক ঘণ্টায় কী হয়েছে মনে নেই, টানা ৩২ ঘণ্টার বেশি জেগে আছে, তবে আজ রাতে ঘুমাবে। তার হাত জানালায় এমনভাবে আটকানো হয় যাতে না সরে, এবং সে দাবি করে ঘুমে সে একটুও নড়ে না।
জিমি মনে করিয়ে দেন, চার মাস আগে পনেরোজন ঢুকেছিল, আর প্রত্যেকে শপথ নিয়েছিল শেষ পর্যন্ত টিকবে। তাদের মধ্যে কেবল অ্যাশার আর ইউথিই সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে পেরেছে। এরপর তিনি দুজনকে ডেকে একটি ফুটেজ চালান। জিমির বর্ণনায়, অ্যাশার হাত তুলে নিয়েছিল এবং আশপাশেই ছিল না। অ্যাশার প্রতিবাদ করে, কিন্তু জিমি জানিয়ে দেন: "সরি অ্যাশার", আর ইউথি, ম্যানশন এখন থেকে তোমার।
টানা ১১৯ দিন পর ইউথি একমাত্র টিকে থাকা প্রতিযোগী হিসেবে ম্যানশনের দলিল হাতে পায়, যাতে তার নাম আর নিচে জিমির সই। ভিডিও শেষ হয় ইউথির ঘোষণায় যে সে বাড়িটা জিতেছে। শেষ মুহূর্তে কেউ একজন খোঁচা দিয়ে বলে, এটা তার ভিডিওর চেয়ে সহজ ছিল। শুরুর "সহজ" দাবি নিয়ে ভিডিওর পুরো বিতর্কটা এভাবে শেষ পর্যন্তও কিছুটা খোলা থেকে যায়।
সবাই, চোখের পট্টি খুলে ফেলো! যে সবার শেষে এই ম্যানশন ছাড়বে, এটা তারই হবে!
আমরা কেউ যাচ্ছি না! আমি? আমি তো যাবই না।
বেশ, দেখা যাক! চলে এসো ভেতরে। এসো ছেলেরা।
এখানে কী নিয়ে লড়াই হচ্ছে বোঝার জন্য বলছি, এই বিশাল মিলিয়ন ডলারের ম্যানশনটা জিততে ওরা লড়ছে… এটায় একটা নয়, দুটো নয়, তিন, চার, পাঁচ, ছয়টা নয়… পুরো সাতটা বেডরুম আছে।
এখানে থাকার পর আমার অ্যাপার্টমেন্টে কীভাবে ফিরব বলো তো?
এই ম্যানশনে সব আছে। তিনটে গেম রুম, একটা মুভি থিয়েটার…
আমার এখান থেকে যাওয়ার কারণই নেই। ভাই!
একটা লাইব্রেরি… জীবনে তো কোনোদিন বই পড়িনি!
একটা জিম… একদম ফিট হয়ে যাব ভাই! আর এখানেই শেষ নয়!
না ব্রো, আমাকে এনে ওরা ভুলই করেছে।
নিয়ম খুব সহজ। যে শেষে বেরোবে, বাড়িটা তার। এই লাল লাইনে পা দিলেই তুমি আউট! কালকে দেখা হচ্ছে তাহলে।
আচ্ছা, শোনো সবাই। আমরা কখন ঘুমাব? আর কখন উঠব? ধুর ভাই, চুপ করো তো! কে কোথায় ঘুমাবে ঠিক করব কীভাবে? যে আগে ঢুকবে, ঘরটা তার!
আরে দাঁড়াও দাঁড়াও! এই রুম আমার! পেয়ে গেছি! পেয়ে গেছি!
সবাই বেশ ভালোই মনে হচ্ছে।
কেভিন
সব ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু সামনেই বিশাল ক্যাচাল হতে চলেছে ভাই!
অ্যারন
আর ও একদম ঠিক ছিল। বিষয় হচ্ছে এই বাড়ির টিভিগুলো সবারই প্রিয় ছিল।
আমি টিভি দেখতে মারাত্মক ভালোবাসি।
যেটা দেখে চেজ চুপিচুপি গিয়ে রিমোটগুলোই চুরি করে নিল!
কেউ রিমোট ফেলে দিয়েছে। কোথায়? এখানে! কে যেন ছুড়ে ফেলেছে! ওহ মাই গড।
এসবের মানে কী? টাইম কাটানোর জন্য তো একমাত্র এটাই ছিল!
জশ
কে করল বুঝতে পারছি না! যে করেছে চালাক তো বটেই! টিভি বন্ধ হলেই আমার মনে হয় অনেকে পালাবে, শিওর!
চলো ঘুমাই এবার, দেখা যাক কাল দ্বিতীয় দিনে কী তাণ্ডব হয়।
কুয়েলি
গুড নাইট সবাইকে! গুড নাইট ভাই।
প্রথম দিন
দ্বিতীয় দিন
মিস্টার বিস্টের ম্যানশনে আমাদের প্রথম সকাল! গুড মর্নিং বন্ধুরা! সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে!
বাড়ির রোজকার রুটিন লাইফটা যে কত দামী, এখন বুঝছি।
চেজ
সত্যি বলছি ভাই, মার কথা খুব মনে পড়ছে!
বাহ চেজ! আগের ভিডিওতে অন্য প্রতিযোগীদের ট্রোল করে এখন এসব বলছ? দারুণ তো!
ভিডিওর মানুষগুলোকে বলছি… বউয়ের কথা মনে পড়ছে? বাচ্চার কথা মনে পড়ছে? বাচ্চার তো জন্মদিন আসছে তাই না? শুনে রাখো, আমার বয়েই গেছে ভাই!
আর একা চেজই যে এরকম ভিডিও বানিয়েছিল তা নয়। আসলে এদের সবাইকে এইজন্যই বেছেছি, কারণ এরা সবাই সোশাল মিডিয়ায় বুক ঠুকে বলেছিল আমার চ্যালেঞ্জ নাকি জলের মত সহজ আর এরা নামলেই নাকি জিতে দেখাবে!
আমিই ভাবছি, নাকি মিস্টার বিস্টের প্রতিযোগীরা দিন দিন সফট হচ্ছে? "উফ! বাড়ির কথা মনে পড়ছে! বেরিয়ে দেখা করব!" আমি কেয়ার করি না যদি তিন বছরও লাগে। আমি নিজেকে এটা আটকে রাখছি।
এখন মনে হচ্ছে ম্যানশনে থাকাটা যতটা সহজ ভেবেছিল, অতটাও নয়!
আমার বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে। আই ডোন্ট কেয়ার, ভাই!
কিন্তু বাড়ি ছেড়ে না গিয়ে চেজ পুরো রাগটা এই বাড়ির মানুষের ওপর ঝাড়া শুরু করল।
এটা আমাদের বাড়ি, তাই তো? আমাদের বাড়ি না এটা?
দ্বিতীয় দিন—ধামাকা শুরু!
রায়ান
এসব অসভ্যতার মানেটা কী?
কেভিন
না! সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই বাড়ির দফারফা!
আমি এখনই বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছি।
জেস
সিরিয়াসলি আমি বের হবার কথা ভাবছি!
কেউ যে ছেড়ে যেতে চায় শুনেই আমি ওর সাথে দেখা করতে গেলাম।
তুমি চলে যেতে চাও? হ্যাঁ, আমি যেতে চাই। তুমি না একটা ভিডিও বানিয়েছিলে?
আমার সবচেয়ে বেশি মেজাজ খারাপ হয় যখন দেখি মিস্টার বিস্টের প্রতিযোগীরা কুকুরকে মিস করে বলে প্রথম দিনেই পালিয়ে যায়।
তবে এবার বুঝলাম লোকজন এখানে বছর পার করে দেবে। অত ধৈর্য আমার নেই।
বেরোনোর আগে অন্তত এটা কি স্বীকার করবে যে চ্যালেঞ্জগুলো অতটাও সহজ নয়? দূর! চ্যালেঞ্জ তো এখনো সহজই আছে!
ওহ! আমি শেষ দেখে ছাড়ব! চললাম ভাইরা!
১৫ জন বাকি
১৪ জন বাকি
প্রথম দিনেই কেউ কীভাবে বাদ পড়ে ভাই?
মার্ক
এত তাড়াতাড়ি যে কেউ চলে যাবে ভাবতে পারিনি!
চেজ
দেখবে, সাত-দশ দিন পর আমরা সবাই পাগল হয়ে যাব! হ্যাঁ! একদম! তখন তো আমি দরজা ভাঙব, টুল ছুড়ে মারব…
ভাই, তুমি দশ নম্বর দিনে দরজা ভাঙবে? শোনো, আমি আজ দ্বিতীয় দিনেই দরজা ভাঙব! সরো তো!
ওরে বাপরে! ভাই, ও সত্যি এটা করে দিল! অবিশ্বাস্য!
ওটা তো তোমার ঘর ছিল ভাই! কেমন লাগছে? শোনো! এবার সাবধানে থেকো, কেবল দেখো!
এটা মিস্টার বিস্টের গেম!
চেজ
আমরা যা খুশি করব! না ভাই! তুমি শুরু করেছ। শেষটা আমি করবো। চলো, হয়ে যাক! না না!
ভাই ভুল হয়ে গেছে, সরি! দাঁড়াও, কথা শোনো! না না না! কোনো কথা হবে না!
ওহ না! আরে ভাই দাঁড়াও! দাঁড়াও ভাই! শান্ত হও! কুল ডাউন! দাঁড়াও, চিল হও!
তোমার গদি নিয়ে তুমি থাকো! শান্ত হও! তুমিই শুরু করেছ! খেলা পেয়েছ? এবার দেখাচ্ছি মজা!
দাঁড়াও দাঁড়াও! আরে শোনো। দাঁড়াও, দাঁড়াও! অসম্ভব!
আমার ভেতর থেকে বারবার মনে হচ্ছিল গিয়ে থামাই। কিন্তু ওরা বলেছিল আমার গেম নাকি জলভাত! তাই চলুক যা চলছে।
আমরা আর মাস্টার বেডরুমে নেই। তাই নিজেরাই একটা মাস্টার বেডরুম বানিয়ে নিলাম।
চেজ
হয়তো বিশাল বড় ভুল হয়ে গেছে, তবে দিনশেষে নিজের মতো চলাটাই আমার কাছে আসল কথা।
মনে হয় সোফায় শুয়ে চেজের মেজাজটা আরও বেশি বিগড়ে গিয়েছিল।
আমার মাথা একদম হ্যাং মেরে গেছে ভাই। আমি বাড়ি যেতে চাই। কেউ বুঝতে পারছে না যে আমি যদি আবার ক্ষেপি, তবে ওদের খেলা শেষ!
চেজ
ওদিকে ও যখন জিমে রাগ ঝাড়ছিল…
তোমরা ভাবছ এটাই খতরনাক প্র্যাঙ্ক? কিন্তু মাথার ভেতর কী প্ল্যান চলছে ধরতেও পারবে না!
কুয়েলি এর মাঝে চুপিচুপি এসে ওর নতুন ঘরটাই ছারখার করে দিল!
আজকে যদি আমার সাথে আর কিছু বাজে হয়, ভগবানের দিব্যি সবাইকে একহাত নেব!
ওহ! শেষ দেখে ফেললাম!
আর চেজ যেহেতু জানত না কে ঘরটা নষ্ট করেছে… এরপর কী হলো নিজেই দেখে নাও!
না!
কিন্তু ও ওখানেই থেমে থাকেনি।
র্যাঞ্চ সস? কেউ আমাকে আটকাও, নয়তো খারাপ হয়ে যাবে!
একটু শান্ত হওয়া যায় কি?
ভেবেছিলে এই দরজা আমাকে আটকাবে? বাহ্! কী কিউট!
ভাই! তুমি সত্যি সিরিয়াস? থামো এবার! আরে ও তো কার্পেটের ওপর সস ঢালছে! ছিঃ, কী জঘন্য!
ভাই এসবের মানে কী? চেজ ভাই! মাথা ঠাণ্ডা করো!
না! গায়ে হাত দেবে না!
তুমি প্লিজ একটু শান্ত হও ভাই।
আর না! সীমা পেরিয়ে গেছে ভাই!
চেজ আমার মশকরাটা নিতে পারেনি, রাগটা পুরো বাড়ির ওপর ঝাড়ল।
কুয়েলি
চারদিকে র্যাঞ্চ মাখিয়ে দিল!
দূর ভাই! পুরো রুমটা এখন ফ্রুট স্যালাড আর সীজার স্যালাডের মতো গন্ধ ছাড়বে।
পিয়ার্স
ইটালিয়ান রেস্তোরাঁ বানিয়ে দিয়েছে!
সবাই নিশ্চিত আমার ওপর চটে আছে।
চেজ
তাড়াতে পারলে বাঁচবে!
সত্যি, বাড়ির ওই হাল চোখে দেখে মাথা ঘুরে গেল! এটা কি একটা দরজা? তখনই আমার মাথায় এল… এ যাবৎকালের সবচেয়ে পাগল কনটেস্ট্যান্ট বোধহয় এরাই! পুরো সিঁড়িটায় বারবিকিউ সস মাখিয়ে রেখে দিয়েছে!
তুমি এখানে শুচ্ছ নাকি? একটা বেডও ঠিকঠাক আঁটছে না!
ওহ, এখানে বিছানা নেই!
ব্যালকনি দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছে জিমি!
বেড ব্যালকনি দিয়ে ফেলে দিয়েছে?
নিচে ফেলে দিয়েছে গো, বিছানাই গায়েব!
নিশ্চিত এবার কেউ যাবে। এটা তো সাক্ষাৎ নরক!
একদম না না না!
এরা তো বছর পার করে দেবে বলছে! কিন্তু ততদিনে বাড়িটাই থাকবে না!
নোংরা জায়গায় থাকাটা আমার পোষায় না।
কেভিন
আজকে যা যা তাণ্ডব হয়েছে, সেসব সাফ করার দায়িত্ব আমারই।
তবে কেভিন শুধু একা নয়, বাকিরাও সাফ করতে লেগে গেল। এতে ওদের বন্ডিংটা আরও স্ট্রং হলো।
দেখো, কেমন লক্ষ্মী ছেলেদের মতো সব খাটছে!
সব দেয়ালে লেগে ছিল, তবে আমরা দারুণ পরিষ্কার করেছি!
সবাইকে ঘর পরিষ্কার করতে দেখে চেজেরও হয়তো একটু অনুশোচনা হলো।
সবাই একটু জিরিয়ে নাও, আমি একটা নতুন জিনিস বানাচ্ছি!
তো ওরা লাস্ট টিভি রিমোটটা বের করার জন্য কিছু করছে!
এই তো হয়ে গেছে…
ওহ মাই গড!
জীবনের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট আর্কেড গেমস জিততে চলেছ কিন্তু তুমি!
কাম অন… আরেকটু ব্যস…
এই তো পেয়ে গেছে, পেয়ে গেছে! ইয়েস! মাই গড!
পেয়ে গেছি! সাবাশ! ওহ মাই গড! ইয়েস, ইয়েস!
কাজ করছে? বাটনটা প্রেস কর! ইয়েস! ওহ মাই গড!
সারারাত ম্যানশনে সবার বেশ শান্তিতেই কাটল। সবাই মিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জমিয়ে টিভি দেখল।
শুধু রিমোটটা পাওয়ার অপেক্ষা ছিল, ব্যাস!
মার্ক
টিভি পেয়ে ভালোই লাগছিল ঠিকই, কিন্তু বিস্টের ভিডিওতে থাকাটা যে জলভাত নয়, কয়েকজন কনটেস্ট্যান্ট বুঝতে পারছিল।
ফ্যামিলির জন্য মনটা ভীষণ খারাপ লাগছে।
রুবেন
ওদের ছেড়ে কীভাবে যে থাকি!
আর পাঁচ নম্বর দিন সকালে দেখলাম, একজন চলে যাওয়ার জন্য একদম রেডি!
এসব আমার কম্ম নয় ভাই।
কার্টার
আমি বেশিদিন টিকতে পারব না।
শুনলাম তোমাদের একজন নাকি চলে যেতে চায়?
হ্যাঁ, এই যে আমি! বিড়ালটাকে মিস করছি।
একটা বিড়ালের জন্য তুমি লক্ষ ডলারের বাড়ি হাতছাড়া করছ?
ও তো আমায় মিস করছে!
দাঁড়াও, আমি এখনই আসছি!
আরে ওই ক্লিপটা দেখিও না জিমি। প্লিজ ভাই প্লে কোরো না!
ওহহো! পাবলিকলি কী বলেছিলে একটু মনে করিয়ে দিই!
“আরে ভাই! মিস্টার বিস্টের ভিডিওতে প্রতিযোগীরা লক্ষ ডলারের ক্যাশপ্রাইজ ছেড়ে পুষি বেড়ালকে খাওয়াতে বাড়ি দৌড়ায় কেন?”
শোনো মিস্টার বিস্ট… আমি থাকব! তুমি ঠিকই বলেছ!
সত্যি নাকি? পরে দেখা হবে। সত্যি? নাহ, মজা করছিলাম!
উঠে পড়ো! আহা! ভেতরটা বেশ আরামদায়ক!
ঠিক। আরেকটা উইকেট পড়লো। কিন্তু তার ঠিক পরপরই আরেকজন চলে যেতে চাইল!
আবার দেখা হবে!
আরে কী হলো? দাঁড়াও দাঁড়াও! গাড়ি থামাও! গাড়ি থামাও!
আসি ভাইরা! টাটা!
ভাই, আমিও যেতে চাই। কী? মার কাছে বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে!
জিমি! আরও একজন রেডি! দাঁড়াও, আরেকজন আছে!
মার কথা খুব মনে পড়ছে ভাই, মজা করছি না! সত্যি ছেড়ে দেব ভাবছি!
দাঁড়াও!
আমাকে যেখানেই রাখো, কোনো ব্যাপার না। যেমন, এই ইয়াটে থাকো, এটা তোমার হয়ে যাবে! “১০০ দিন থাকা লাগবে? ২০০ দিন অনায়াসে থেকে যাব!”
২০০ দিন বলেছিলে। আর আজ? ৫ নম্বর দিন? চেজ! চেজ!
ভাই! এত কঠিন হবে চ্যালেঞ্জটা, আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি!
তা আগের ভিডিওর প্রতিযোগীদের যে ক্লাউন বানিয়ে খিল্লি উড়ালে আর নিজে এভাবে ফেল করলে, ক্ষমা চাইবে নাকি?
না!
পরপর উইকেট পড়ছে! গাড়ির দরজা বন্ধ করার আগে বলো, আর কেউ যাবে?
ঠিক আছে, কেটে পড়ো এবার!
মাত্র পাঁচ দিনেই আমার সবচেয়ে বড় ৩ জন ট্রোলার হার মেনে ব্যাকপ্যাক গুটিয়ে নিল!
আজকের সব শহীদদের জন্য স্যালুট! তিনটে উইকেট একসাথে!
তবে আশ্চর্যের বিষয়, চেজ চলে যাওয়ায় কিছু বদলায়নি! হয়তো ওর ক্রেজিনেসটা ওরা মিস করছিল, তাই পরের কয়েকদিনে ম্যানশনে পুরো তুলকালাম কাণ্ড ঘটল!
বাস্কেটবল কোর্টে কটা বই ফেলার রেকর্ড করতে পারি দেখা যাক! ওরে বাপ রে! এই তো চাই!
কিচেনটা পরিষ্কার করতে সময় লেগেছে! পুরো মেঝেতে ছড়ানো ছিল!
এখানে অনেকগুলো মানুষ আছে যারা জিম খুব বেশি পছন্দ করে। ওদের ভাগাতে হলে জিমটাই ছারখার করতে হবে!
জিম সরঞ্জামের বারোটা বেজে গেছে! ওয়েট রাখার র্যাকটা দেখো! উফ! জানালাগুলো পর্যন্ত ভেঙেছে! ওরে!
এসব সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে!
রায়ান
এত সুন্দর বাড়িটাকে এরা ভেঙে পুরো ছারখার করে দিচ্ছে!
কেভিন
আসলে ও তো নিজের জিততে চাওয়া বাড়িটারই ভ্যালু কমিয়ে দিচ্ছে!
নবম দিন
কথা ফেরত নিলাম, গেমটা মোটেই সহজ নয়!
জ্যাফেথ
আজ ১০ নম্বর দিন!
শুনলাম তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ নাকি ফিরতে চাও? একজন বলল চিক-ফিল-এ ডেট দিলেই কেটে পড়বে! চিক-ফিল-এ চাই? ৩০ পিস নাগেট দাও, আমি আউট! লাল দাগটা বেরোলেই পাচ্ছ ৩০ পিসের নাগেট মিল!
ব্যাস, ডিল ডান! না! দাঁড়াও, ছেলেদের একটু বাই বলে নিই! ঠিক আছে, যাও! ১০ ডলারের খাবারের জন্য মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছে!
দাঁড়াও, ওর পুরনো ভিডিওটা একটু দেখা যাক… “…৩০ দিন পর মন খারাপের নাটক কিসের ভাই? ফ্যামিলি অপেক্ষা করতে পারবে!”
“এসব জলভাত চ্যালেঞ্জ না দিয়ে আরেকটু কঠিন কিছু দাও ভাই!” ওহ! মাত্র ৪ দিনেই ফ্যামিলিকে মিস করছি আমি! ওদের ছাড়া কীভাবে চলব জানি না।
এবার পা বাড়িয়ে কেটে পড়ো দেখি! যাক, ১০ দিন কাটালাম।
রুবেন। চিকেন নাগেটের অফার ছাড়া যেত না ভাই! আসছি ভাইরা! বাই রুবেন! লাভ ইউ ভাই!
আর তারেক, নিয়ে এসো ওটা! তোমরা পাব্লিকলি বলেছিলে আমার চ্যালেঞ্জ নাকি সহজ। এবার একটু সেই ভিডিওগুলোর অভিজ্ঞতা নিজেরাও নাও!
“এক্স-এর সাথে শিকলবন্দী” ভিডিওটার কথা তো নিশ্চয়ই মনে আছে? কারণ… হাতকড়া নিয়ে এসেছি! পার্টনার চুজ করো! অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য একসাথে হাতকড়া পরে থাকতে হবে। খুললেই ডিরেক্ট এলিমিনেটেড!
কিন্তু ওয়াশরুমে যাব কী করে? ওটা নিজেরাই বুঝে যাবে! আসল টুইস্ট হলো এটা কতক্ষণ থাকবে কেউ জানে না! একদিনও হতে পারে, এক বছরও হতে পারে! ভেবেচিন্তে চুজ করো!
কেসটা সুবিধার লাগছে না! আমাদের লক করো! লক করে দেব? টিম ওয়ান! ফার্স্ট টিম! চলো জিমি, হাতকড়া পরাও! অলরাইট!
আমরা মনে হয় ধরতেই পারছি না যে কতটা খারাপ কেস হতে চলেছে!
হাতকড়া পরতেই সবার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল… বাথরুম করার কী হবে একটু খতিয়ে দেখি। দরজায় একটা ফুটো করে নিতে হবে ভাই! হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ!
অ্যাই পিয়ার্স, আমাকে একটু বাথরুমে যেতে হবে, চলো! হ্যাঁ, চলো! ঠিক আছে ভাই! আরে ঠিক আছে ভাই!
শিকলবন্দী জীবনের প্রথম দিন আজ!
মার্ক। সাধারণ কাজগুলোও কেমন ঝামেলার হয়ে গেছে! এ ব্যাপারে তোমার কী মনে হয়? খুব বাজে অবস্থা ভাই! আর কতদিন এভাবে টিকব কে জানে!
ওরে বাবারে! আমার চোখে মেরে দিলে! আমরা এবার চারদিক দিয়ে আটকে গেলাম!
কিছুদিনের মধ্যেই হাতকড়ার জন্য সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করল। পিয়ার্স, মেঝে থেকে ওঠো। মেঝে থেকে ওঠো! কিচেনে এসো তাড়াতাড়ি! মেজাজটা এবার খারাপ করছ!
তোমরা দুজন তো এমনিতেই হরিহর আত্মা। হ্যাঁ, যতদিন না ও আমার মাথায় চড়ছে, সব ঠিকই থাকবে!
গাইস, এটাই মনে হয় আমার লাস্ট ভ্লগ। কালই হয়তো আমি চলে যাব!
শিকলবন্দী জীবনের মাত্র একটা দিনেই অনেকে রণে ভঙ্গ দিতে চাইল। ব্যাগপত্র গোছাচ্ছ কেন? জিমি ভাই, আমি কাটছি এবার! ক্যামেরার সামনেই বলছি—তোমার চ্যালেঞ্জ মারাত্মক কঠিন!
ওরে বাপ রে! শুনে শান্তি পেলাম! দেখি অ্যালেক আগে কী বলেছিল! সত্যি বলতে মনে নেই, দেখি!
সত্যি বলতে, ও যে নিজে থেকে ফোন করে ভিডিওতে আসার অফার দেয়নি সেজন্য ওকে আমি বিন্দুমাত্র দোষ দিই না! দিলে তো লাফিয়ে পড়তাম। তার ওপর মোটা টাকার চেক? ওরে বাপরে! তোমাকে একদম দোষ দিই না!
লাভ ইউ এভরিওয়ান! ওহ! হাতকড়া খুলে দিলাম তোমার! ইয়েস!
দাঁড়াও, আর কেউ যেতে চাও নাকি? হ্যাঁ! না মানে, আমারটা অতটাও খারাপ নয় এখনও! না, আমি লড়ব! মিস্টার বিস্ট। কাপটা আমিই তুলব! একশ পার্সেন্ট শিওর? আচ্ছা! ধুর, ওসব তো এআই!
জে, চলে এসো ভাই! ওহ! লাভ ইউ অল!
ওরা যেতেই পিয়ার্স, ইউথি, মার্ক-কেভিন, অ্যাশার-অ্যারন আর কুয়েলি-রায়ান বেঁচে রইল।
আমি আর কুয়েলি বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেছি! এই হাতকড়া আমাদের স্ট্রং করেছে! ওদের বন্ডিংটা দারুণ জমে উঠেছিল।
জানো, বাবাকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারটাকে আগে দাঁড় করাতে হবে ভাই। আমি যদি প্রাইজ মানিটা জিতি, পুরো টাকাটা বাবা-মাকে তুলে দেব।
কুয়েলির কষ্টের কথা শোনার পর থেকে ওকে জেতানোই আমার একমাত্র লক্ষ্য! আমি তো আছি তোমার সাথে!
বাবার বয়স হয়েছে, ওনাকে রিটায়ারমেন্ট দিতে পারলে আমাদের সম্পর্কটাও আগের মতো সুইট হয়ে যাবে। আমি জিতেই ছাড়ব!
কিন্তু অ্যাশারের মেজাজের সাথে অ্যারন কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছিল না। তোমাকে তো অন্যের দিকটাও একটু বুঝতে হবে ভাই! না, আমি সব বুঝি! তোমার লজিকটাই ভুল, তাও মানছি চলো!
নিজের ভাইয়ের সাথে বাইক চালানোর আনন্দটার কথা অন্তত ভাবো! সত্যি বলতে ও আমাকে ছাড়াই দিব্যি আছে! তোমাকে ও মিস করছে, ধারণাও করতে পারবে না! তাতে আমার কিছুই যায় আসে না!
আমার তো সিরিয়াসলি চিন্তা হচ্ছে! ছেলেটার ফ্যামিলি বা এ বাড়ির কারুর প্রতিই কোনো ফিলিংসে টান নেই! তবে ছেলেটা খুব স্মার্ট।
আর অ্যাশারের মাত্রাতিরিক্ত কনফিডেন্স দেখে বাকিরা খেপতে শুরু করল। বাড়িটা কিন্তু আমার! তোমার বাড়ি? আস্তে ডানা মেলো গুরু! মনে হয় না তুমি জিতবে! তোদের ভাবনায় আমার জেতা আটকাচ্ছে না ভাই! যাই হোক, চলো গুড নাইট সবাইকে!
অ্যাশারকে আমিই খেলা থেকে সরাব! ওর নিজেকে সবসময় অল-নোয়িং ভাবার ওভার-কনফিডেন্সটাই ওকে ডুবাবে। টের পাওয়ার টাইমও পাবে না!
আর ১৯ নম্বর দিনে এসে বোরডম কাটাতে ছেলেরা আজব সব রাস্তা খুঁজে বের করল! দেয়ালে শুধু মিস্টার বিস্ট লিখে ভরিয়ে দেব! কারণ মারাত্মক বোরিং লাগছে। মনে হচ্ছে পাগলই হয়ে যাব এবার!
কিন্তু কেভিন, মার্ক আর ইউথি দেখল যে রিমোটটা পাওয়ার পর বাকিরা সব দিনরাত টিভির সামনেই পড়ে রয়েছে! ওদের আটকে রাখার একমাত্র আঠা হলো এই টিভিটা! আমি টিভিটাই ভেঙে দেব!
উথি। বোর হতে শুরু করলেই একে একে পাততাড়ি গুটাবে! এরপর শুরু হবে ডমিনো এফেক্ট!
আর ২১ নম্বর দিনে ইউথি ওর গেমপ্ল্যান এক্সিকিউট করে ফেলল! এবার তোমাদের জীবনটা কঠিন বানিয়ে দেব!
আরে দাঁড়াও! অন্যটার কী হাল হলো? ব্যাস, দুটো টিভিই খতম! এবার বাকিদের বোর হতে হবে!
২১তম দিন… ২২তম দিন। নক নক! ছেলেরা! রাত ১০টায় হাতে আইপ্যাড নিয়ে আমি হাজির কেন আন্দাজ করতে পারছ?
রাত ১০টায় হাতে আইপ্যাড নিয়ে আমি হাজির। কেন আন্দাজ করতে পারছ? কেউ বাদ পড়ল? কেউ বাদ পড়েছে! কেউ আউট হয়েছে!
এই তো দাঁড়াও, দেখতেই পাবে কে! সোজা টেনে সটান বাইরে বেরিয়ে গেল! ওহ গড, না। অ্যারে না।
তোমরা সবাই ভীষণ ভালো, ভালো দিন কাটল!
সাতজন বাকি এবার! ও চলে যাওয়ায় তুমি খুশি? গেম তো গেমই! সত্যি কথাটা কেউ অন্তত বলল!
প্রতিযোগীদের জন্য কিন্তু লড়াইটা শুধু ম্যানশনে থাকার ছিল না, প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার কষ্টটাও সহ্য করার ছিল।
প্রম নাইট, গ্র্যাজুয়েশন ডে সব মিস হয়ে গেল! ভাবলেই কেমন যেন মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে! সবাইকে ছেড়ে এখানে থাকার পর বুঝছি যে আমার লাইফ কিন্তু দাঁড়িয়ে নেই। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া এই সুন্দর মুহূর্তগুলো আর কোনোদিন ফিরে পাব না।
মার্ক
খবর পেলাম একজন নাকি খেলায় ইস্তফা দিতে চায়! কী খবর ভাইরা? কার উইকেট পড়তে চলেছে বল তো?
মার্ক! মার্কই! মার্ক! এটা রায়ান! কী? আরে মজা করছিলাম!
মার্ক, তুমি নাকি কুইট করতে চাও? সত্যি নাকি? হ্যাঁ জিমি, একদম সত্যি। আনলক করার আগে ভিডিওটা একবার চালাই! ওহ!
মিস্টার বিস্টের প্রতিযোগী যেমন হয়: “বাচ্চার পড়াশোনা বা বউয়ের জন্য কাঁদুনি গাইছে! বোকা নাকি? সময়ের যে কী ভ্যালু এরা বোঝেই না!”
যাদের বোকামি নিয়ে খিল্লি উড়িয়েছিলে, আজকে তো নিজেই সেই ট্র্যাপে পড়লে! হ্যাঁ, ভুল করেছিলাম। হ্যাঁ।
মার্ক! নোলান, ভেতরে ঢোকো!
ওহ মাই গড! উফ লাগছে!
৭ জন বাকি।
মার্ক!
৬ জন বাকি।
সত্যি বলতে বিস্ট এমন কনটেস্ট্যান্ট বেছেছে যাদের শুধু খালি গলার আওয়াজই বেশি! ভেতরে জেতার কোনো খিদেই নেই!
প্রায় ২০ দিন কুয়েলির সাথে শিকলবন্দী আর পিয়ার্সের সাথে রুম শেয়ার করতে করতে আমাদের বন্ডিংটা এক্কেবারে অন্য লেভেলে চলে গেছে! সত্যি বলতে তোমাকে নিজের ভাইয়ের মতোই মনে হয়!
টিভি গায়েব হতেই বোরডম তাড়াতে নতুন ফন্দি আঁটল ছেলেরা।
ওরে! প্রায় লাগিয়ে দিয়েছিলে! আমি তো এখন…
টিভি কেড়ে নিলে পুরুষমানুষ যে আদিম যুগের গুহামানব হয়ে যায় তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ! ধুর! শিকলটা খুললে বাঁচি ভাই!
ভাগ্য ভালো রায়ানের, কারণ হাতকড়া খোলার সময় হয়েই এসেছে! ৪০ নম্বর দিন আসছে, আর জিমি বড়সড় ধামাকা প্ল্যান করছে! ঘুম থেকে উঠলেই সারপ্রাইজড হয়ে যাবে ওরা!
এটা আবার কী কাণ্ড? চারদিকে সেলোটেপ কেন? ৪০ নম্বর দিনে যে বড় কিছু ঘটতে চলেছে তা কনফার্ম!
উথি
৩৯তম দিন।
কী খবর ভাইরা, দিনকাল কেমন চলছে? এবার হাতকড়া খোলার সময় এসেছে! ইয়েস! ফার্স্ট চ্যালেঞ্জ এখানেই শেষ, সবাই ফ্রি!
বলো তো এবার কোন ভিডিওর মতো গেম খেলব? ধরতে পারছি না… বাংকার! মাস্কটা পরার আগে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল।
আমার বাংকার ভিডিওতে অ্যালার্ম বাজলেই গেম বজায় রাখতে ১ মিনিটের মধ্যে এই হ্যান্ড স্ক্যানারে হাত স্ক্যান করতে হতো! আর ঠিক সেটাই হতে চলেছে এবার! এক মিনিটের মধ্যে স্ক্যান না করতে পারলেই সোজা আউট!
হয়ে যাক তাহলে! ধুর, এ তো সহজ! চাপ নিয়ো না, ভিডিওর শেষে কেউ আর মুখ ফুটে সহজ বলার সাহস পাবে না!
জিমি এসে একদম খতরনাক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গেছে! আসল গেম তো এবার হবে। অ্যালার্ম বাজলেই নিচে দৌড় মারতে হবে! স্ক্যানারের কাছেই সেফ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে এখানেই ঘুমাব আমি।
আমিও স্ক্যানারের কাছেই শোব বলে ঠিক করেছি। এখানে। কখন বেজে ওঠে তার ঠিক নেই। রিস্ক নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
উথি
উথি
অ্যাশার
মনে হচ্ছে জিমি আমাদের আজ রাতে জাগিয়ে রেখে কাল সকালেই অ্যালার্মটা বাজিয়ে দেবে!
ছেলেদের ফার্স্ট রিয়েল অ্যালার্ম বেজে উঠেছে, অথচ এরা একদমই পাত্তা দিচ্ছে না!
ধুর, অতটাও কঠিন না! একদম জলভাত ভাই!
৪৩তম দিন।
ওরা দারুণ সামলালো! সবচেয়ে বাজে বাজে সময়ে অ্যালার্ম সেট করেও কাজের কাজ হলো না! যেমন একদম ভোরবেলা কিংবা শাওয়ার নেওয়ার সময়।
আসলে যাই করি না কেন ঠিক সময়ে স্ক্যানারে পৌঁছে যেতে ওদের আটকানো যাচ্ছিলই না!
বড্ড সোজা জিমি ভাই! একদম সোজা!
অ্যাশার
বেশি সহজ। কঠিন চ্যালেঞ্জ দাও। জিমি বেটার কিছু আনো!
কুয়েলি
তাই ৫০ নম্বর দিনে দাঁড়িয়ে ওদের মনমতো খতরনাক চ্যালেঞ্জ দিতে আমি চলে এলাম!
ভাই, কাঁধটা দেখা যাচ্ছে, ও করছেটা কী? কে জানে ফাঁদে পা দেবে কিনা, চেষ্টা করে দেখা যাক!
গুড মর্নিং বন্ধুরা! গুড মর্নিং জিমি! শুনলাম সবকিছু নাকি জলের মতো সহজ লাগছে। সময়টা আরেকটু কমিয়ে দেব নাকি? হ্যাঁ, কমিয়ে দাও! এবার থেকে মাত্র ৩০ সেকেন্ড! দেখি এবার কী খেলা হয়!
দেখি ৩০ সেকেন্ডে কেউ আউট হয় কি না! আর তোমাদের জন্য আরও একটা গিফট আছে! আমরা নিয়ে এসেছি ফিস্টেবলস ভেন্ডিং মেশিন!
এবার তো আমি আমার ফেভারিট পিনাট বাটার চকোলেট কাপটা পাব!
মিস্টার বিস্ট ফিস্টেবলস। ডিলিশিয়াস!
ফিস্টেবলস শুধু খেতেই অসাধারণ নয়, এটা কিনে তোমরা শিশুশ্রম কমাতেও সাহায্য করছ। কোকো ফার্মে লক্ষেরও বেশি বাচ্চারা কাজ করে। ওই ফার্মের ওই বাচ্চাদের জীবনের মূলস্রোতে ফেরাতে ফেয়ার-ট্রেড বিনস কিনে আমরা সঠিক মূল্য কৃষকদের হাতে তুলে দিই।
তাই ফিস্টেবলস চকলেট খাও। তুমি দারুণ চকলেট খাওয়ার সঙ্গে শিশুশ্রম কমাতেও অবদান রাখবে। কাছের রিটেইলারের কাছেই পাবে। আজই ট্রাই করো!
ঘড়িতে ৩০ সেকেন্ড থাকুক কি ১ মিনিট থাকুক। যাই হয়ে যাক আমি এলিমিনেট হব না!
অ্যাশার
মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় হওয়াটা ওদের কাছে এক বড় ধাক্কা ছিল! ভুল করার কোনো সুযোগই ছিল না!
ইয়েস!
সাবধানে খেলতে হবে। সবকিছু নিয়ে লাইব্রেরিতেই শিফট করতে হবে!
পিয়ার্স
টাইট কেস! ১৫ সেকেন্ড, আর সবাই গায়েব!
কেভিন
সবসময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে আমাদের। তবে চ্যালেঞ্জটা আসার পর থেকে সবারই একতা বেড়ে গেছে! সবাই এখন একতাবদ্ধ। হুররে!
উথি
কেভিন। ইউথি তো আমার ভাইয়ের মতো হয়ে গেছে! হুররে! একদম! নিজের ভাইই বলা চলে! ইয়েস বস!
কিন্তু সবাই কাছাকাছি এলেও দুঃখের বিষয় হলো, একজন কিন্তু তাও একঘরেই রয়ে গেল।
৫৭তম দিন।
মিপ্ মিপ্ মিপ্ মিপ্ মিপ্ মিপ্…
৫৮তম দিন।
আমি হলাম আসল প্লেয়ার!
আমি হলাম আসল প্লেয়ার! বাকিরা তো আমার কাছে হারার ভয়ে কাঁপছে, কারণ বাইরের দুনিয়ায় আমার কোনো পিছুটানই নেই!
এসব বন্ধ করবে? সমস্যাটা কী তোমার?
একে তাড়াতেই হবে ভাই! অ্যাশারের কথা বলছ? হ্যাঁ, হানড্রেড পার্সেন্ট!
তো এখন আমি ফ্রিজ, কিচেন, প্যান্ট্রি থেকে শুরু করে রান্না করার বাসনপত্র সব সরাব! কেউ যেন কোনো খাবার না পায়!
এবার লড়াইটা অ্যাশার বনাম পুরো হাউজের…
জেতার জন্য আমি যা খুশি করতে পারি!
আজ ৬৫ নম্বর দিন!
ভেবেছিলাম ৭০ দিনের মাথায় আসব, কিন্তু অ্যাশার খেলাটাকে এমন এক লেভেলে নিয়ে গেছে যে বাধ্য হয়ে টুইস্ট আনতে হলো! তাই আমি আরেকটু জট পাকাবো।
অভিনন্দন, বরাবরের মতো সবাই পাশ করেছ। এসো আমার সাথে! ওকে।
আরে বাহ্! কত খাবার রাখা!
ওই যে একটা ভিডিও ছিল… যেখানে দু'জনকে একসাথে ১০০ দিন বন্দি করে রেখেছিলাম? যে ভিডিওটাকে তো তোমরা খুব সহজ বলেছিলে!
হ্যাঁ, হ্যাঁ। এখন একজন পার্টনার চুজ করো। তারপর একসাথে একটা রুমে থাকতে হবে! জলদি, সিদ্ধান্ত তোমাদেরই!
এই উথমান, আমার পার্টনার হবে? না ভাই, আমি নেই! পিয়ার্স, মনে হচ্ছে তুমিই ফাঁসলে আমার সাথে!
দাঁড়াও, কেউ অ্যাশারের সাথে থাকতে চায় না? মানে, স্বাভাবিক! হওয়াটাই তো স্বাভাবিক! তোমার মুখের ওপর অ্যাশার! তোমার সাথে কে বলির পাঁঠা হবে তাই নিয়ে তর্ক চলছে! একদম লজিক্যাল!
এখনই পার্টনার ফাইনাল করতে হবে! ঠিক আছে, আমিই থাকব! না, আমি আছি তো! চলো!
তো টপ সিক্সের মধ্যে কুয়েলি আর পিয়ার্স জুটি বাঁধল।
খাবার বলতে এটুকুই পাচ্ছ! চাল, ওটস আর বিফ!
কেভিন আর উথমান।
লাল দাগে পা বাড়ালেই কিন্তু আউট!
এটাকে কি খাবার বলে? এই পুঁচকে জিনিসটাকে?
আর রায়ান-অ্যাশার।
ওরা বলেছিল না আমার গেম নাকি সহজ?
দাঁড়াও! ব্যাগের ভেতর কী? জিমি ভাই, পড়ার জন্য কয়েকটা বই এনেছি! সাথে কিছু ফিস্টেবলস আছে! ভাই এরা তো সিস্টেমকেই ঘোল খাইয়ে দিল!
জিমি ভাই, এ তো সহজ গেম! কী! এটা সহজ লাগছে? একদম জলভাত।
তোমরা যখন ভেতরে বন্দি থাকবে… তোমাদের ছারখার করা এত সুন্দর বাড়িটাকে আমরা পুরো ঝা-চকচকে নতুন বানিয়ে ফেলব! ধন্যবাদ Lowe’s-কে!
Lowe’s-কে সত্যি মন থেকে থ্যাঙ্কস!
এত বড় বাড়িতে থেকে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। যেখানে ইচ্ছে যাওয়া যেত, হাঁটা যেত। কতদিন এভাবে থাকতে হবে কে জানে! ওটাই তো চাপ!
আমরা বেশ সুবিধাজনক পজিশনে আছি, তাই না? একদম, সহমত! ওরা ভেবেছিল এটাও কোনো সহজ গেম হবে!
আমরা দরজায় একটা ফুটো পেয়ে গেছি! রায়ান!
চ্যালেঞ্জটা কিন্তু মোটেই বাজে না। খালি অপেক্ষা করা! আসল জিনিস হলো এই একঘেয়েমি! তবে আমি আর পিয়ার্স একটা বাস্কেটবল হুপ বানিয়ে নিয়েছি!
বই পড়ে, এক্সারসাইজ আর গেম খেলে ওরা টাইমপাস করা শুরু করল।
এই তো! জিমি এমন ফালতু চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে যে কেউ বাদই পড়ছে না!
কিন্তু কিছুদিন পর সব বিরক্তিকর লাগতে শুরু করে।
চোখের নিমেষে সম্রাট থেকে ফকির হয়ে যাওয়া! সবকিছু থেকে সবশূন্য হওয়া। মানুষকে বিনয়ী বানাতে এর জুড়ি নেই!
আজকে আমার হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন ছিল রে! সেরিমনিটাই মিস হয়ে গেল পুরো!
ম্যানশনের বাইরের জগতটার কথা খুব মনে পড়ছে!
রোজ এক খাবার খাওয়াটা বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
প্লেটে কী যে ছাইপাশ দিয়ে গেছে ওরাই জানে! কোনো ভ্যারাইটি নেই, ওটাই সমস্যা!
নাও, খাও এবার!
চরম বোরড লাগছে ভাই, কী করব বুঝতে পারছি না! ভাই, এটা কবে শেষ হবে?
ওরা আমার ভিডিওকে সহজ বলেছিল। নয়তো গিয়ে একটু হেল্পই করতাম!
এক সপ্তাহ হয়ে গেল ওরা আটকে আছে, আর ওদের মাথাও হ্যাং করতে শুরু করেছে! এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি নিজে একলা ৭ দিন আটকে থাকার পর পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম!
আমরা এখন বিস্ট ম্যানশনে বন্দি! ইয়েস!
আমি ফোর্টনাইটের চাগ জাগ খাব!
এই বন্দীদশার সবচেয়ে বাজে দিক কী জানো? সময় যেন এগোতেই চায় না! মাথা ঠিক রাখা দায়। কিচ্ছু না করে এভাবে থাকতে আর ভালো লাগছে না!
তাই দুর্বিষহ একঘেয়েমি তাড়াতে রায়ান একটা মাস্টারপ্ল্যান করল, যা সবকিছু বদলে দিল!
অনেকদিন তো বন্দি থাকলাম! এবার বহু বছর আগের মিস্টার বিস্টের মতো ১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত গুনে দেখাব!
আমি এক লাখ গুনতে চলেছি!
আমার চ্যানেলের হিরো ভিডিও ছিল ওটা! লোকে এতদিন খিল্লি উড়িয়ে বলত এটা নাকি খুব সহজ। এবার দুধ কা দুধ পানি কা পানি হবে!
চল শুরু করা যাক! এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ…
রায়ানের গোনা শুনে মনে হচ্ছে এখনই মাথা ভোঁ ভোঁ করছে! আসল প্রশ্ন হলো, ও কি গুনতিতে ভুল করে ফেলবে?
২০৩৩, ২০৪৪, ২০… দাঁড়াও… ২০…
সত্যি শেষ করতে পারবে তো?
উফ ৫৯০০ কত যেন… ৭০, ৮১৭১, ৮১৭২, ৮০০০। ১০,২০০… ১০,২০০! দাঁড়াও… ১১,২৫৮, ১১,২৫৯, ১১,২৬০, ১৩,০০০…
তুমি ঘুমাবে না? না, কোনো ঘুম নেই!
১৯,৯৯৬, ১৯,৯৯৭, ১৯,৯৯৮, ১৯,৯৯৯, ২০,০০০!
ইয়ো, জিমি! কী খবর ছেলেরা? কী খবর জিম? কেমন চলছে?
আমাকে বের করো ভাই! বন্দীদশা কেমন কাটছে? জঘন্য! শিক্ষা হয়ে গেছে জিমি! প্লিজ ছেড়ে দাও!
পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, তোমরা যদি ঘরটা ছারখার না করতে… তাহলে বন্দি করার দরকারই হতো না!
আচ্ছা, আমরা দেয়ালে আবার রঙ করবো। কিছু দেয়ালে ছবি আঁকা হয়েছে। বাকি দেয়ালে মাস্টার্ড আর কেচাপ ফেলা হয়েছে। তবে আমরা শুধু দেয়ালে রঙই করছি না। দেয়াল পুরো ভেঙে নতুন বানাতে হবে!
কী! অতটাও দরকার ছিল না, মনে হয় না…
ড্যামেজ রিপেয়ারিং থেকে শুরু করে ঘরের ভোল বদলানো, সবটাই সম্ভব হয়েছে Lowe’s-এর সৌজন্যে! বাড়িটাকে নতুন রূপ দিতে সব জিনিস ওরাই সরবরাহ করেছে। নিমেষের মধ্যে ঘরটা পুরো রেডি হয়ে যাবে!
কার্পেটে বারবিকিউ সস ঢাললে কেন? কেন?
তা উপরে কী হাল? কোনটা সবচেয়ে কঠিন লাগছে?
ওই খাবারটা! খাবার! একদম! খাবারটা!
মুশকিল হলো তোমরা বলেছিলে আমার গেম খুব সহজ, নয়তো সাহায্য করতাম!
নয়তো সাহায্য করতাম! ধুর!
এই জিমি, খেয়াল করেছ একজন কম আছে? এখানে কী কাণ্ড চলছে? এই তো ১ থেকে ১ লাখ গুনছি!
হঠাৎ কেন? বন্দি হয়ে আছি… সময় কাটানোর জন্যই। ২৯ হাজার পর্যন্ত গুনে ফেললাম!
যতটা ভেবেছিলে তার চেয়ে কঠিন? ভাবনার চেয়েও চরম কঠিন ভাই! সেটাই তো! সবাই তো ভাবত এটা খেলাচ্ছলে হয়ে যায়! সত্যি ভাই, তোমার জন্য পুরো রেসপেক্ট বেড়ে গেল!
নিজের ওপর অত্যাচার করতে চাও নাকি? হ্যাঁ। যেমনটা আমি নিজের ওপর করেছিলাম! একদম তাই! অদ্ভুত হলেও তোমার অনুভূতি আমি বুঝতে পারছি! থ্যাঙ্কস! থ্যাঙ্কস।
ফুটেজ চেক করা হবে কিন্তু! যেন একটা সংখ্যাও মিস না যায়! মিস যাবে না! ১ লাখ করলে তোমার জন্য সারপ্রাইজ থাকবে! আবার গোনা যাক!
৩৮,২০৪, ৩৮,২০৫, ৩৯,২৯৫, ৩৯,২৯৬, ৩৯,২৯৭… ৩৩,৯৬৬, ৩৩,৯৬৭, ৩৩,৯৬৮, ৩৩,৯৬৯।
কে ওখানে? আমি! আরে, গুনে যাও! ঠিক আছে, ডিস্টার্ব কোরো না!
৩৯,৯৯৯, ৪০,০০০! আহ! বাহ্ ৪০ হাজারের স্বাদই আলাদা! ৪৯,৯৯৮, ৪৯,৯৯৯, ৫০,০০০!
রায়ানের ৫০ হাজার ছোঁয়ার খুশিতে ব্রেকফাস্টে ডিনার করার প্ল্যান বানিয়েছি!
আমার এনার্জির দরকার ভাই, কারণ আমি ঘুমাতে চাই না। কারণ না ঘুমিয়ে এক টানে পুরোটা শেষ করতে চাই। জিমি যেভাবে করেছিল।
চালিয়ে যাও ভাই, তুমি কিন্তু হাফওয়ে মার্ক কভার করে ফেলেছ!
আমার অভিজ্ঞতা বলে ১ থেকে ৫০ হাজার যত সহজ, ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন! দেখা যাক রায়ান পারে কিনা!
৭৯তম দিন।
আমি কোথায় আছি, আমি কে—কিচ্ছু মনে পড়ছে না! মুখ ব্যথা করছে! চোখের সামনে শুধু সংখ্যা ভেসে উঠছে! জানি না এটা কীভাবে করবো। কিন্তু করতে হবে। মারাত্মক ক্লান্ত লাগছে। এখনও কত ঘণ্টা বাকি কে জানে!
১৭,৭৭১, ১৭,৭৭২, ১৭,৭৭৩…
হ্যালো? জিমি? হাই অ্যাশার! তোমার জোশ কেমন? কতটা মেন্টাল প্রেশার পড়ে, ধারণাই ছিল না!
দীর্ঘদিন ধরে মনে হতো ১ লাখ গোনার কষ্টটা শুধু আমিই বুঝি! অবশেষে আরেকজন যে তা অনুধাবন করল, দেখে ভালোই লাগছে!
৯০,০০০! ওরে বাপ রে! ওই দ্যাখো কুয়েলি শুনছে সব। একটু সাহায্য করার চেষ্টা করছি! ও ঠিক পার করে দেবে!
৯৯,৬১১… ৯৯,৬১২… ৬১২! ৯৯,৬১৩… ৯৯,৬১৩… ৬১৪! ৬১৪! ৬১৪! তুমি পারবে ভাই! একটা লম্বা শ্বাস নাও!
৯৯,৭৯৯, ৯৯,৮০০! আর মাত্র ২০০ গুনেই রায়ান ১ লাখ ছুঁয়ে ফেলবে!
৯৯,৯৯৮, ৯৯,৯৯৯, ১০০,০০০! ১০০,০০০! শেষ ভাই, খেলা খতম! তুমি করে দেখালে! লেটস গো! লেটস গো! এক লাখ! পুরো এক লাখ! জিও ভাই!
জেনুইন কোনো ইচ্ছা থাকলে তা কিন্তু আশেপাশের মানুষগুলোকেও মোটিভেট করে!
৮০ নম্বর দিন! সাবাশ! কী খবর ব্রো-রা?
কিন্তু অ্যাশার একটুও পাত্তাই দিল না। কারণ ওর মতে এই গোনার কাজটা নাকি জলভাত!
১ লাখ গোনা তো একদম সিম্পল কাজ! ভাই তুমি যে কতটা বোকা! নিজের কোনো ধারণা আছে?
নিজের ফুটানি দিয়ে ও তখনও সবাইকে বিরক্ত করে চলেছে!
ওই লক্ষ ডলারটা পাওয়ার পর কীভাবে খরচ করব যখন ভাবছিলাম… হ্যাঁ। ১৫ হাজার তো একটা বাইকের জন্যই রেখেছি! যদি তুই মিলিয়ন ডলারটা জিতিস!
ভাবটা এমন যেন জিতেছেই! ধুর মুখ বন্ধ কর তো! ভাবলাম সবাই বন্ধু হচ্ছি, আর ও কি না ফালতু ফুটানি মারছে! তুমি আসলে একটা চরম খিটখিটে লোক! সেটা জানো তো?
কুয়েলির জেতার চান্স বাড়াতে অ্যাশারকে আগে কাটাবই আমি! যে করেই হোক, এই লোকটার আগে আমি কুইট করব না! এটাই মিশন!
সবাই যখন পেছনে অ্যাশারের বদনাম করছিল, ওর কানে কথাটা পৌঁছানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা ছিল।
অ্যাশার চালাক ঠিকই, কিন্তু ওর ওই বিচ্ছিরি অহংকারটাই ওর বুদ্ধির বারোটা বাজায়! ওর ইগোটা কী মারাত্মক! ১৮ বছর বয়স, সবে লাইফ শুরু হলো! ইগো যে কতটা বাজে জিনিস ওকে দেখে বুঝলাম সেটা!
আসলে আমি তো ছোটবেলা থেকেই হোমস্কুলিং করেছি তাই এই পরিবেশটা আমার কাছে নতুন! সমাজের নিয়মকানুন শেখার চেষ্টা করছি। কম্পিটিটিভ স্বভাবটাই আমার আসল রূপ। সবকিছুকেই চ্যালেঞ্জ মনে করতাম! তবে নিজেকে এবার ইমোশনালি ম্যাচিউর করার চেষ্টা করব!
মন থেকে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি ভাই! খাবারগুলো ফেলে দেওয়ার আগে তোমাদের কথাটা ভাবা উচিত ছিল! প্লিজ মাফ করে দিও!
খারাপ ব্যবহার না করেও তো সুস্থ প্রতিযোগিতা করা যায়! একদম!
আর ৯০ নম্বর দিনে মনে পড়ল, ১ লাখ গোনার পুরস্কার রায়ানের পাওনা আছে!
সাফ করতে সময় লাগবে। একেবারে ওপরে নিয়ে চলো তো! চলে এসো ভাইরা বাইরে!
তুমি এক লাখ পর্যন্ত গুনেছ বলে এক লাখ পয়সা নিয়ে এলাম তোমার জন্য!
সেই কত মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হলে যে পয়সা বিলোতে—ওটার কথা মনে পড়ে গেল! হ্যাঁ। অথবা যখন পয়সা দিয়ে গাড়ি কিনেছিলাম!
দেখতে দেখতে এই ম্যানশনে পুরো তিনটে মাস কাটিয়ে দিলে তোমরা! ইয়েস বস! সবাই রেডি তো ছেলেরা? চলো তাহলে!
ওরে ভাই! জাস্ট ফাটাফাটি! ওহ মাই গড! দাঁড়াও দাঁড়াও ভাইরা! দাঁড়াও!
তোমরা না বলেছিলে আমার ভিডিও সহজ? আরে না না না! মনে হয়েছিল আমরা পেরেছি! ওহ্ না না না ভাই!
নরমালি এখান থেকেই উইনার আসতো। তবে গেমটা যখন সহজ লেগেছে, তাহলে আরও দু-এক সপ্তাহ পর আসা যাক! সরি ভাইরা! বুঝতেই পারছো।
আরে না না না! খুব কঠিন জিমি! চরম কঠিন! কঠিন লাগছে শুনে শান্তি পেলাম, তোমরাই তো সহজ বলেছিলে! তোমার ভিডিও মোটেই সহজ নয়! চরম কঠিন! মারাত্মক কঠিন! আমি তো কঠিন করারই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি! জিমি! কতদিন যে থাকতে হবে কে জানে!
৯০তম দিন।
৯১তম দিন।
জানো কেন আবার ফিরে এলাম? না!
নাহ! কারণ একজন এলিমিনেট হয়েছে! আমাদের সাথে মজা নিচ্ছো? মিথ্যে বলছিলাম! আচ্ছা কীভাবে বলি। আসলে কেউ বাদ পড়েনি! তোমাদের সাথে চিল করতেই এলাম!
আসল কারণ হলো, আমি তোমাদের একটা সুযোগ দিতে চাই। তোমাদের নতুন বাড়িটা দেখার! লো’স-কে সাথে নিয়ে আমরা পুরোটা সারিয়ে ফেলেছি! তোমরা যেগুলো ছারখার করেছিলে। তোমাদের নতুন বাড়িটা দেখার একটা সুযোগ দিচ্ছি। দেখে আসো, ততক্ষণে এই ঘরগুলো সাফ করি! তবে প্রমিস করো আর ভাঙচুর করবে না!
কখনো না! একদম না! জিমি! জিমি শুনছ! পিঙ্কি প্রমিস! পিঙ্কি প্রমিস! দিব্যি করছি! ওকে!
ধ্বংসস্তূপ থেকে পুরো ঝা-চকচকে নতুন লুক! সবটাই লো’স-এর দৌলতে সম্ভব হয়েছে! ওহ্ মাই গড!
তবে লো’স শুধু ঘর নতুন করে সাজায় তা নয়! ঘরবাড়ি মেইনটেন করতেও সাহায্য করে! মনে করো তুমি যখন এই ঘরে থাকবে, তোমরা কি ড্রায়ার ভেন্ট সাফ করতে যাবে? বা এয়ার ফিল্টার ঠিক করবে? না! লাইট বাল্ব পাল্টাবে? না ভাই!
ব্যাস, বছরে মাত্র ৯৯ ডলারে ‘হোমকেয়ার+’ সাবস্ক্রাইব করে নাও! বছরে দু'বার লো’স-এর লোক এসে সব ঝামেলার কাজ ঝটপট সামলে দিয়ে যাবে! আমার ওটা চাই-ই চাই ভাই!
আস্ত একটা ফুটবল মাঠ পেয়ে গেলাম! ওটা আমাদের শহীদদের দেয়াল! সবাই স্যালুট ঠোকো! আত্মার শান্তি কামনা করি!
আর এই বাড়ি জেতাটা আরও খাস বানাতে, বিজয়ী কিন্তু লাইফটাইম লো’স হোমকেয়ার+ ফ্রি-তে পাবে! এই তো চাই! সাবাশ! হাতছাড়া করার কোনো মানেই নেই!
কিউ-আর কোড স্ক্যান করো বা ডেসক্রিপশনের লিঙ্কে ক্লিক করে আজই সাইন আপ করো! ঝামেলাগুলো লো’স-এর ওপর ছেড়ে দাও!
৩১ দিন বন্দি থাকার পর আজ প্রথম বাইরে ঘুমাবো! তাহলে আমি এখন ঘুমাতে যাই। বাকিরা মনে হয় নাইট আউট করবে! এই তো!
ওদিকে বাড়ির লড়াই চলতে চলতেই বাইরের দুনিয়ায় সময় গড়িয়ে গেছে! আর পিয়ার্সের জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন মিস হয়ে গেল!
এটা তোমাদের ভাই! দেখো, হাইস্কুল পাশ করে গেছে! ভাই অসাম! তুমি বিস্ট ম্যানশনে বসেই গ্র্যাজুয়েট হয়ে গেলে!
এই ভিডিও এত দিন ধরে চলছে যে পিয়ার্স ওর গ্র্যাজুয়েশন ডে মিস করেছে। তাই ওর প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছি!
আমার সাথে নিচে চলো তো ভাই! জিমি! পিয়ার্স এদিকে এসো! গতকাল কী হয়েছিল মনে আছে তো? কী? তোমার সব বন্ধুরা হাইস্কুল পাশ করে গেছে! তাই তোমার জন্য গ্র্যাজুয়েশন গাউন নিয়ে এলাম! ইয়েস বস!
টুপিটাও এনেছি! মাথায় দাও! সবাই এসো, বসে পড়ো! পিয়ার্স তুমি এখানে বসো! টিভিতে একজন বিশেষ অতিথি আছেন। তোমার স্কুলের কাউন্সিলর!
অনেক অনেক শুভেচ্ছা পিয়ার্স! তোমাকে ডিপ্লোমা দেওয়ার সাক্ষী থাকতেই উনি লাইভে এসেছেন! ইয়েসসস! ইয়েস! ফাটাফাটি! দারুণ! ৩ মাস ধরে এখানে থাকলেও ওরা তোমাকে ফেল করায়নি, পাশ করিয়ে দিয়েছে!
তোমার জন্য কেক এনেছিলাম, কিন্তু কনফেটিতে মাখামাখি হয়ে গেল! আমার মুখে মেখে দাও না! কনফার্ম তো? একদম! দাঁড়াও দাঁড়াও! ম্যাম, একটু চোখটা ঘোরান তো। এই তো… ওকে! ওকে! এই তো!
যাক মস্তি তো হলো, এবার নেক্সট চ্যালেঞ্জটা শুরু করা যাক? মোটা টাকা জিতলেও নাক সিঁটকোবে?
আগামী ৩০ দিনে যেকোনো সময়ে এই ফোনে রিং হবে! যে ফোন তুলবে, আমার দেওয়া অফার ও পেয়ে যাবে!
হ্যালো? কিচ্ছু নেই! কারণ আমি তো সামনেই দাঁড়িয়ে! স্রেফ ট্রায়াল দিচ্ছিলাম! ফান্ডাটা বুঝতেই পারছ!
তবে বিষয়টা হচ্ছে ছেলেরা, অফার সবসময় ভালো নাও হতে পারে! গিফটের বদলে কোনো শাস্তিও জুটে যেতে পারে! যেকোনো সময় ফোন বাজবে! বেস্ট অফ লাক! থ্যাঙ্কস জিমি!
এটা সম্ভবত প্রথম সুযোগ এই ভিডিও থেকে ভালো কিছু নিয়ে আসার। সত্যি বলছি তোমাদের! তোমার কী মনে হয়! কাম অন ভাই!
রক পেপার সিজার্স! রক পেপার সিজার্স! রক পেপার সিজার্স… শুট! এক! রক পেপার সিজার্স… শুট!
আমি তো আগেই বলেছিলাম! তোলো ভাই! হ্যালো, কে বলছেন? কনগ্র্যাচুলেশনস! ১০ হাজার ডলার জিতে গেছ তুমি! ইয়েস! ইয়েস! অবিশ্বাস্য! ১০ হাজার ডলার পাঠিয়ে দিচ্ছি! অভিনন্দন ভাই!
একদম ফেয়ার গেম! একদম ফেয়ার প্লে! ফেয়ার প্লে ভাই! কনগ্র্যাটস ভাই!
ভয় করছে! হ্যালো? ফোন তোলার জন্য থ্যাঙ্কস! এবার আগামী ২৪ ঘণ্টা তোমাকে বাথটাবে কাটিয়ে দিতে হবে! কী! বাথটাবে? একদম, বাথটাবেই!
জানতাম খারাপ কিছুই হবে! জানতাম ওই ফোনটা ধরা একদম উচিত হয়নি! পুরো ২৪ ঘণ্টা কাটাতে হবে বাথটাবে! জিমি!
এই চ্যালেঞ্জে কখন কী মেলে বলা শক্ত! তবে রায়ান তো ক্যাশ ভরা ব্রিফকেসই পেয়ে গেল! ১০ হাজার ডলার জেতার কথা কিন্তু ফালতু বলিনি ভাই!
রায়ান! মাজদ! স্পেশাল ডেলিভারি!
এই নাও, পুরো ১০ হাজার ডলার! সত্যি আমার? হ্যাঁ, তোমারই ১০ হাজার ডলার! বেশ ভারী!
চ্যালেঞ্জটা আমার জাস্ট দারুণ লাগছে! কারণটা বলছি। ফোন ধরব নাকি বাজতে দেব… চয়েস আমাদেরই। তবে ফোন না তুললে নিশ্চিত বড় কোনো বিপদ ঘাড় চেপে ধরবে!
১০ হাজার ডলার তো পেয়েই গেছি। আমি আর ফোন স্পর্শ করব না! বাকিরাই তুলুক! আমার স্ট্রেটেজি সিম্পল—ফোনই ধরব না!
তুমি আর রিসিভ করবে নাকি? একদম ধরব!
আর কুয়েলির আইসোলেশনের টাইম শেষ হতেই সেই সুযোগ পেয়েও গেল! ১ম চ্যালেঞ্জ খতম ভাই!
৯৯তম দিন। ৯৯ দিন পার, ১০০ ছুঁই ছুঁই!
সত্যি বলতে এতদিন সবাইকে ছেড়ে এখানে আটকে থাকার কথা ভাবলে না, কত দিন ধরে আছি, কত দিন সবার থেকে বিচ্ছিন্ন, ভীষণ ক্লান্তি চলে আসে! সহ্যের সীমা পার হয়ে গেছে!
কী খবর জিমি? আজ ১০০তম দিন, তাই সাজা দেওয়াটা মানায় না! মেইন গেটের বাইরে একটা স্পেশাল জিনিস রাখা আছে, দেখে এসো!
ওহ্, পিৎজা! ওটা কি পিৎজা? কুকিজও! চলো, খাওয়া যাক! আজ রাতে ভুরিভোজ হবে!
১০১তম দিন। ভাইরা, ফোনটা বাজছে! ফোন! ফোন বাজছে!
কী খবর জিমি? আজ কী আনলে শুনি? কুয়েলি, এই ঘরের সবচেয়ে অবিশ্বাসযোগ্য লোকটার হাতে ফোনটা দাও এখুনি!
কেউ ফোন ধরে নিয়েছে? ঠিক আছে। আমি? ফোনটা ধরো! হ্যালো জিমি!
অ্যাশার, অফারটা শোনো! ঘরের একটা রুমে ২৪ ঘণ্টা একা বন্দি থাকলে তোমার জন্য কুয়েলিকে ১০ হাজার ডলার দেব! না চাইলে ফোনের কথা ভুলেই যেতে পারো। যেন কিছু ঘটেনি। গুড লাক।
দেখি এবার অ্যাশার কী করে!
আমাকে ডিসাইড করতে হবে আমি কি একটা ঘরে বন্দি থাকতে চাই কি না, ২৪ ঘণ্টার জন্য। আমি সফল হলেই কুয়েলি পাবে ১০ হাজার ডলার!
অ্যাশার, তুমি কি এটা আমার জন্য করবে? যার সাথে সবচেয়ে বেশি ঝগড়া করেছি, আমার ১০ হাজার ডলার পাওয়ার চাবি এখন ওরই হাতে! যদি ও চ্যালেঞ্জটা নিতে চায়। কী অদ্ভুত কাণ্ড!
এই ভিডিওর শুরু থেকেই অ্যাশার শুধু নিজের জন্যই খেলে এসেছে! কিন্তু এবার কুয়েলিকে ১০ হাজার ডলার জেতাতে ওকে ২৪ ঘণ্টা একা থাকতে হবে। সবচেয়ে স্বার্থপর প্লেয়ারটা কি সত্যি নিঃস্বার্থ কাজটা করবে?
এই বাড়ি জেতা থেকে আমায় কেউ আটকাতে পারবে না! আমার ভাগ্য এখন ওরই হাতে!
ওকে, ঠিক আছে। ২৪ ঘণ্টা কাটাব আইসোলেশনে! আমাকে ২৪ ঘণ্টা পর দেখবে, যখন আমি এই চ্যালেঞ্জ শেষ করবো। আর কুয়েলিও পেয়ে যাবে ওর ১০ হাজার ডলার! দারুণ এক্সাইটিং!
ওরা যেমন গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছে, বোধহয় আমি কোনোদিন তা পারবো না। কুয়েলি, রায়ান, পিয়ার্স একদম নিজের ভাইয়ের মতো! কেভিন আর উথমানও হরিহর আত্মা! ওদের মতো বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা আমাকে করতেই হবে! আশা করি আমি সেটা পারবো।
১০২তম দিন। হ্যালো? থ্যাঙ্কস!
আমার কাছে একটা অফার আছে। অ্যাশার! জিমি আমাকে একটা অপশন দিয়েছে। আমি তোমার জায়গায় আসতে পারি। আবার নতুন করে সময় শুরু করতে পারি। ওকে! আর আমি ২৪ ঘণ্টা থাকলে দুজনেই ১০ হাজার করে পাব! নাকি তোমার খেলাটা শেষ করতে দেব… আর আমি ১০ হাজার পাবো।
অ্যাশার, তোমার কি ১০ হাজার ডলার চাই? হ্যাঁ, আমার ১০ হাজার চাই! তবে সিদ্ধান্তটা পুরোই কুয়েলির উপর। মানে এই মুহূর্তে সবই ওর হাতে ভাই।
অ্যাশার! হ্যাঁ স্যার! এবার সোয়াপ করার টাইম এসেছে! সত্যি? আমি ঢুকছি! তুমি এখন ফ্রী! থ্যাঙ্কস মাই বয়! আমি এখন আমার জিনিসপত্র নিয়ে কেটে পড়লাম!
১০২তম দিন। আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য কুয়েলি তাহলে আইসোলেশনে গেল! ভেবেছিলাম এই চ্যালেঞ্জে ওদের বন্ধুত্ব ভাঙবে, কিন্তু সেটা উল্টে সম্পর্ক আরও মজবুত করল! আর ২৪ ঘণ্টা পর আবার বাজল সেই ফোন!
১০৩তম দিন। হ্যালো? অ্যায় উথি! কুয়েলিকে এবার বের করে আনো আর মেইন গেটে গিয়ে নিজের প্রাইজ নিয়ে নাও! কনগ্র্যাটস!
এটা দেখো একবার! দুজনই পেলাম ভাই! চিয়ার্স ভাই! চিয়ার্স! সাবাশ মাই বয়!
সত্যি তোমাদের জন্য গর্ব হচ্ছে! তোমরা খুব ভালো করেছো। একসাথে দল বেঁধে জিমিকে হারালে!
আর এভাবেই বিস্ট ম্যানশনে ফিরল শান্তি! অন্তত আজকের রাতের মতো!
১০৪তম দিন। সত্যি বলতে আজ ফোন আমিই রিসিভ করব! দেখা যাক কপালে কী আছে!
সরি সরি সরি! ও তো মনে হয় স্বপ্ন দেখছিল! সরি ভাই! আমি উঠছি!
কী খবর জিমি? হাই! আমি কেএসআই বলছি। অরে কেএসআই! কী খবর, কেমন আছ? আমি ফার্স্ট ক্লাস! তোমরা কেমন আছ? এই কেএসআই! কেভিনের সাথে কথা বলো, ও বিশ্বাসই করছে না! সত্যিই কেএসআই নাকি? ভাই! কী খবর?
ফোন যখন ধরেছ, এর ফলের জন্য রেডি তো দুজনে? একদম রেডি, যা দেওয়ার সোজাসুজি দাও জিমি!
জেজে আমার সাথেই আছে! আর তুমি ওর ফোন ধরেছ। মানে স্পিকারে লুপে ওর গান বাজবে আগামী ২৪ ঘণ্টা ধরে! মজা করো এবার। বোলো না যেন আমার গেম সহজ!
[গান গাইছে] [গান গাইছে]
গানটা কতটা লাউড বাজছে?
কতক্ষণ বাজবে বলেছিল যেন ওটা? ২৪ ঘণ্টা! টানা ২৪ ঘণ্টা! না! বেশ জোরেই বাজছে! ওহ জিমি!
২৪ ঘণ্টার কেএসআই গানের ১৮ মিনিট পার! কান দিয়ে রক্ত যাচ্ছে। ১ম বার শুনে বেশ লাগছিল! ২ নম্বর, ৩ নম্বর পার হয়ে বাজতেই চলেছে! জিমি কেন করছ এসব? থামাও!
আমি যাচ্ছি ভাই! আমি কোটি কোটি টাকার ম্যানশন ছেড়ে দিতেও রাজি তোমার গান বন্ধ করার জন্য। অভিনন্দন! গানটা বন্ধ করো! গানটা থামাও!
দিনের বেলায় তাও যেমন তেমন… এই কানফাটা আওয়াজে ঘুমোতে যাওয়াটা সাক্ষাৎ দুঃস্বপ্ন ছিল!
১০৫তম দিন। চুপিচুপি ঢুকেই পড়েছি! বিরাট ধামাকা ওয়েট করছে ছেলেদের জন্য! চেক করো। পরের ফোন কলের জন্য একটা ওল্ড নেভি স্টোর সাজিয়ে ফেলেছি আর ফোন তুললেই বিজয়ী পাবে ৫০ হাজার ডলার!
রিং করছি। দেখি কেউ ধরে কি না!
[গান গাইছে]
যতক্ষণ আমরা ওয়েট করছি, ততক্ষণে তোমরাও ৫০ হাজার ডলার পেতে পারো। এই কিউ-আর কোড স্ক্যান করে।
৫০ হাজার ডলারের ভাগ পেতে পারো! ৫০ জন বিজয়ী পাবে ১ হাজার ডলারের ওল্ড নেভি শপিং স্প্রি! মিস্টার বিস্টের অফিশিয়াল ব্যাক-টু-স্কুল পার্টনার ওল্ড নেভি! হুডি, জিন্স, গ্রাফিক টি-শার্ট—স্কুলের সব স্টাইলিশ ড্রেস পাবে ওল্ড নেভিতে!
দাঁড়াও! এরা কেউ তো ফোন তুলছেই না!
টেলিফোন নং ২। ওহ মাই গড! কেউ ফোনই তুলল না ভাই! কী বিশ্রী ব্যাপার!
তবে অডিয়েন্স তোমরা কিন্তু এখনও ৫০ হাজার জিততে পারো! জলদি ওল্ড নেভি স্টোর বা ওয়েবসাইট ভিজিট করো! তোমার স্কুলের জন্য যা দরকার সব পেতে পারো।
নোলান, অবাক কাণ্ডটা দেখেছ? কী? ওরা টেরও পেল না যে আমরা এখানে এসেছিলাম! চলো কেটে পড়ি। সব আগের মতো সাজিয়ে দিই। যাতে ওরা একদম টের না পায় কী হয়েছিল।
আমি এবার নড়তে পারি? হ্যাঁ।
ওহ! আরে গানটা থামল নাকি? শেষ ভাই, শান্তি! তোমার গলার আওয়াজটা শুনতে পাচ্ছি এবার! [গান গাইছে] কথা শোনার জন্য এত কাছে যেতে হবে না। অ্যাশার! [গান গাইছে]
মিস্টার বিস্টের ভিডিওতে সুযোগ পাওয়াটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো! জীবনে বাবার বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, ঘরছাড়াও হয়েছি! এত কষ্টের পরেও আমার মধ্যে সেই ইচ্ছা, সংকল্প আর জেদটা ছিল নিজের স্বপ্নগুলোকে পূরণ করার জন্য। এখানে আসার জন্য অগুনতি ত্যাগ স্বীকার করেছি। এই ম্যানশনটা আমাকে জিততেই হবে!
১০৯তম দিন।
প্রতিযোগীরা সবাই যখন এখানে আসে তারা কনফিডেন্স নিয়েই ঢুকছিল!
মিস্টার বিস্ট শুনে রাখো! প্রমিজ করছি আমরাই জিতবো। ৩ বছর লাগলেও তোয়াক্কা করি না! নিজেকে বন্দি করে রেখে দেব! আমাকে নামিয়ে দাও গেমে! নামাও ভাই! বাড়ি ফেরার প্রশ্নই নেই! ডিরেক্ট জিতেই বেরোব! বাড়ি ফিরবো না।
তবে রায়ান, কুয়েলি, উসমান, পিয়ার্স, কেভিন আর অ্যাশার কাজের কাজ করে নিজেদের যোগ্যতার পুরো প্রমাণ দিয়েছে।
এখনও বিশ্বাস আছে যে বিজয়ী আমিই হব!
কঠিন চ্যালেঞ্জ দাও জিমি! তুমি ব্যাক করছ, কঠিন কোনো চ্যালেঞ্জ নিয়ে। আমি পুরো রেডি!
বিস্টের ভিডিওতে থাকাটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয় ভাই! হাইস্কুলের লাস্ট ইয়ারটা এখানেই কেটে গেল! তুমি তো বলেছিলে ভিডিওটা ২ বছর এমনকি ৪ বছরও চলতে পারে! আমি অতদিন টিকে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই ঢুকেছি!
১১৩তম দিন।
জীবনের চারটা মাস এই ম্যানশনে কাটালাম! মাত্র একজনই বিজয়ী হয়ে বাড়িটার মালিক হবে, আর সে যে আমিই হব তা নিয়ে নো ডাউট!
১১৫তম দিন।
ফ্যামিলিটা টাকার অভাবে খুব কষ্টে আছে ভাই! বড্ড নার্ভাস লাগছে। বাড়ির সবাই আমার দিকে চেয়ে আছে! মনে হয় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ভগবান আমায় এখানে পাঠিয়েছে! জিততে আমাকে হবেই!
আর ওদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নিতে পরবর্তী চ্যালেঞ্জে এমন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলাম যা এই চ্যানেলের ইতিহাসে আজ অবধি ঘটেনি!
অলরাইট! ছেলেরা! কে নক করবে? ছেলেরা, নিচে নেমে এসো! ওহ্ গড! আজ আবার কী হবে জিমি? এই ভিডিওর নেক্সট চ্যালেঞ্জ!
ওরে! ডান হাতটা সবাই তোলো! চ্যালেঞ্জ হলো যার হাত সবার শেষে ম্যানশন থেকে সরবে, বাড়িটা তার! ওহ্ ভগবান! ঠিক আছে, হয়ে যাক তাহলে!
কিন্তু আসল কেসটা এখানে! হ্যাঁ, ৬ লাখ ডলারের বান্ডিল এখানে রাখো! ও বাবা! ওহ মাই গড! দাঁড়াও! কী করতে চাইছ ভাই? চোখের সামনে রাখা পুরো ৬ লাখ ডলার ক্যাশ! ওহ!
আর তোমরা যদি আমাকে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে দিতে চাও… তাহলে আমিও হাতে হাত রেখে দেওয়াল ছোঁব! আমার হার মানার আগে যে যে হাত সরাবে, সটান পাবে ১ লাখ ডলার করে ক্যাশ! কিন্তু আমি হাত সরিয়ে নিলে প্রাইজমানি পুরো গায়েব! সো ১ লাখ ক্যাশ চাইলে আমার আগে সরাতে হবে!
ওহ্ গড! আমার মতে এটা করা উচিত! তবে আমি যদি জিতে যাই, বাড়িটা আমার হয়ে যাবে!
ওহ! জিমি জানি না আগের মতো আর পারবে কি না! কী বললে!
ওহ্! করা যাক, ডিল ডান! দাঁড়াও দাঁড়াও, অন্তত ৩ জনকে হ্যাঁ বলতে হবে! চলো হয়ে যাক! ইয়েস, রাজি! সবাই রাজি! হয়ে যাক লড়াই! জিমি, তোমাকে হারাতে পারাটা গর্বের ব্যাপার হবে! এবার তো আমিও ম্যানশনের প্রতিযোগী!
আহ! আহ!
পুরো আমার মতো লাগছে! জাস্ট ফাটাফাটি লুক! হেব্বি লাগছে! ধন্যবাদ। দেয়ালের ওপর হাত রাখো!
চ্যালেঞ্জ অফিসিয়ালি শুরু হলো! দেয়াল, মেঝে বা কাউন্টার থেকে হাত সরে গেলেই… হাতছাড়া হয়ে যাবে ম্যানশন! আসলে আমরা হারব, কারণ আমিও তো গেমে আছি! ওহ্ গড!
কারো হাত দেওয়াল থেকে সরছে কি না কড়া নজর রাখতে হ্যান্ড ক্যাম নিয়ে এসো! অসম্ভব! ওরে বাপ রে!
জিমি, তুমি কতদিন টিকবে? যতদিন দেহে শ্বাস আছে! ছাড়ো তো ভাই!
এক লাখ ডলার কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়! ভেবে দেখছ নাকি? তা তো বটেই! হ্যাঁ ভাই। মাথার ভেতর ওটাই ঘুরছে!
অ্যায় তুমি থামবে? ও আমার লাইফ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে! থামো এবার!
এই মুহূর্তে সবাই কিন্তু এক লাখ ডলার করে পেতে পারে! কিন্তু আমার হাত আগে সরলে ক্যাশ টাকা পুরো গায়েব!
শূন্য হাতে এসেছিলাম ভাই, ফাঁকা হাতে ফিরলেও কিছু হারানোর নেই! তার মানে হাত সরাচ্ছ না? না! এক লাখ ডলার প্রাইজ থাকা সত্ত্বেও? একদম!
বাড়িতে আমাদের কিচ্ছু নেই! আমরা সব হারিয়েছি! বাড়ি হারিয়েছি। গাড়িতে পর্যন্ত রাত কাটিয়েছি! তাই এত বড় সুযোগ ছেড়ে দেওয়াটা পাগলামি হবে!
ও আদৌ ২৪ ঘণ্টা থাকবে কি না কে জানে! হ্যাঁ, জানি! ওই রিস্ক নেওয়ার বান্দা আমি নই! আমিও না ভাই! এত বড় ঝুঁকি নেব না! একদম না! কী ফিসফাস চলছে?
আরে আরে! জিমি, জিমি, প্লিজ!
জিমি, জিমি, প্লিজ! ওকে। সত্যি বলতে পুরো একরাত চিল করতে দারুণ লাগত! তাই নাকি? তাহলে চিল করা যাক! তাড়াহুড়ো কীসের? তুমি! তোমারই তাড়া! আমি তো থাকতেই এসেছি! তুমি যে থাকবে, ভরসা নেই!
শোনো, ১১৫ দিন ধরে তোমার সাথে এক ছাদের নিচে ছিলাম। ৩১ দিন হাতকড়া পরে কাটিয়েছি! তুমি কুইট করলে আমিও কাটব! দাঁড়াও, ও গেলে তুমিও যাবে? অসম্ভব! ওরা দুজনই কেটে পড়লে এখানে আমার থাকার কোনো মানেই হয় না! সত্যি বলছ? ওরে!
কিন্তু প্রতিটা উইকেটের সাথে সাথে মিলিয়ন ডলারের বাড়ি জেতার চান্স তো তুঙ্গে চলে যাচ্ছে! জানি জিমি! অনেক দূর এসেছি! কত না স্মৃতি বানালাম! এরা সবাই আমার ফ্যামিলির মতো হয়ে গেছে! গেমের পরেও আমরা বেস্ট ফ্রেন্ডই থাকব! যেটাই হোক!
তোমাকে তো আগেই বলেছি, হাতকড়া পরার পর থেকেই তোমার সাথে বন্ডিং হয়ে গেছে! তুমি গেলে আমিও যাবো! তুমি কতটা ক্লোজ তুমি জানো না! আমি কাটলাম! তোমাদের জন্যই এতদূর টিকতে পারলাম! এই চললাম আমি!
আর ও অফিশিয়ালি হাত সরিয়ে নিল! ও আউট! বাপ রে বাপ! আর মাত্র ৬ জন বাকি! ওয়াও! কী যে বলি! এই নাও তোমার ক্যাশ! অভিনন্দন!
সত্যি করে দেখাল! ওকে ভরসা হচ্ছিল না! আমারও। আমারও ছিল না! বাহ্! না! তার মানে এখন শুধু আমরা চারজন! মাই গড! বাইরের ঘাসে ফিল নিও আমার হয়ে! ভালো থাকো তোমরা!
আর দেখতে দেখতে এখন মাত্র ৩ জন প্লেয়ার বাকি রইল! ঘর ছেড়ে বেরোনোর জন্য রেডি তো? দারুণ সফর ছিল জিমি ভাই! মেনে নিলাম তোমার চ্যালেঞ্জ খতরনাক!
ওয়াও! জাস্ট অসাম! লাল দাগ টপকে এসো, ওরে বাবারে! ওহ্ মাই গড! নোটবুক সিনেমার একটা সিনের মতো লাগছে!
ওরা বাদ পড়তেই এবার শুধু অ্যাশার, ইউথি, কেভিন আর আমিই ময়দানে আছি! এই চ্যালেঞ্জটা যে কতটা কঠিন লোকজনকে বোঝানো ইম্পসিবল! একটুখানি মনোযোগ সরলেই… এটা রিস্কি ছিল! তোমার হাতছাড়া হতে পারে মিলিয়ন ডলারের বাড়ি! নতুন ছেলেগুলোকে দেখাতে হবে আমি এখনও পারি!
আর এর ফলে খাওয়া-দাওয়া, হাত ধোওয়া… হাতে সাবান দেয়া, এমনকি টয়লেটে যাওয়াও মারাত্মক ঝামেলার হয়ে যায়! তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো কীভাবে ঘুমাবে তা ঠিক করা!
আমিই প্রথম ঘুমিয়ে পড়ছি, কারণ আমার হাত আটকানোয় ওদেরই লাভ! আমার হাত সরলে দুজনেই ফাঁকা হাতে ফিরবে! যেভাবেই হোক জিমির হাতটা এখানে আটকে রাখতে হবে! তাই ওনার হাতের ওপরই চেপে বসেছি! চাই সবাই যেন কিছু না কিছু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে। তার জন্য জিমিকে আটকে রাখতেই হবে!
আর ভাগ্য ভালো, পরের উইকেটটা আমার হাত সরার আগেই পড়ে গেল!
কী ব্যাপার? এসব কী! ওহ্ গড! আমি কি জেগে আছি? কী ঘটল? ব্যাস, রইল মাত্র ৩ জন!
খালি হাতে না ফিরে এই প্রাইজ মানি নিয়ে ফেরাটাও কম নয়! ম্যানশনটা জিততে পারলাম না ঠিকই, তবে তোমাদের মতো বন্ধু পেয়ে দারুণ লাগছে!
দাঁড়াও কেভিন! বেশি দূরে যাওয়ার আগে সিনটা স্পেশাল বানাতে আমিও তোমার সাথে যোগ দিচ্ছি! ওরে বাপ রে! যার মানে এখন কিন্তু ওদের দুজনের মধ্যে মাত্র একজনই বিজয়ী হয়ে বেরোবে!
আমার মুখ দিয়ে কথা সরছে না ভাই! ক্যাশের ব্যাগগুলো তুলে নিলে তো? এবার যাও! হ্যাঁ! আর আমিও চললাম! জিমি ভাই এটা কেমন হল? ২৪ ঘণ্টাও তো পার হতে দিলে না!
যে-ই জিতুক না কেন, লড়াই হবে একদম হাড্ডাহাড্ডি! এটা আমার নিজের জন্য নয়, আমার বাবার জন্য লড়াই! উদ্দেশ্যটা বেশ মহৎ! তা ঠিক! কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমি অত নরম মনের লোক নই!
তবে ঘুম তো আমাকেও দিতে হবে! সত্যি বলতে… এখনই ঢলে পড়তে পারি!
কিন্তু ও ঘুমালো না! আর অ্যাশার এলিমিনেশন এড়াতে জেগে রইল। অন্যদিকে ইউথি কিন্তু হাত না সরিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিল!
ভাইরা! কী খবর? ব্যাক করেছি! কেমন আছ? ওয়েলকাম! তুমি কেমন আছ? ফার্স্ট ক্লাস আছি!
শুনলাম তুমি এখনও একফোঁটা ঘুমাওনি? না, আমি আসলে… কেমন ফিল করছ? লাস্ট ১ ঘণ্টায় কী হলো কিচ্ছু মনে নেই! চোখে সর্ষে ফুল দেখছি না এখনও অবশ্য! তোমাকে তো একসময় ঘুমাতেই হবে! হ্যাঁ আজ রাতে ঘুমাব!
হাত রেখে শোওয়ার কায়দা ধরে ফেললে গেম তো চলতেই থাকবে! বেশি ওভার-কনফিডেন্ট হয়ে পড়ছ না তো? ধুর একদম না! অ্যাশার আর ওভার-কনফিডেন্ট?
এই তো হয়ে গেছে! কেমন লাগছে এবার? আরাম লাগছে ভাই বেশ! ঘুমানোর সময় হাতটা যেন না সরে খেয়াল রেখো! মনে হচ্ছে এখনই ঢলে পড়বে ও! টানা ৩২ ঘণ্টারও বেশি জেগে আছি জিমি!
অ্যাশারের হাতটা জানালায় একদম আটকে গেছে! অ্যাশার গভীর ঘুমে কাদা হয়ে যায়। হাত সরে যেতে পারে! ঘুমে আমি বিন্দুমাত্র নড়ি না! ওকে!
পুরনো চাকরিতে কত বছর খাটলে এরকম এক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কিনতে পারতে? কম করে হলেও ২০ বছরের বেশি লেগে যেত আমার! ওয়াও! এটা জেতা মানে পুরো লাইফ বদলে যাওয়া! শুধু আমার নয়, ফ্যামিলিরও!
উফ্! বাড়িটা কেমন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে! ভুতুড়ে বাড়ি মনে হচ্ছে পুরো! কোথায় ১৫ জন মিলে চিল্লাচিল্লি করতাম, আর এখন মাত্র দুজন পড়ে আছি!
চার মাস আগে ১৫ জন লোক এই ম্যানশনে ঢুকেছিল। প্রতিটা বন্ধুই শপথ নিয়েছিল যে শেষ অব্দি সেই টিকে থাকবে! এখান থেকে কখনো যাব না! তাদের মধ্যে একমাত্র অ্যাশার আর ইউথিই প্রতিজ্ঞা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে, সব বন্ধুত্ব রক্ষা করে! আর কষ্ট সহ্য করেছে! নিজের কথার দাম রাখতে পারোনি!
জীবনের চার-চারটে মাস বলি দিয়েছে ওরা! বাকিরা ভেঙে পড়লেও এরা হার মানেনি! এখন দুজনের মনের মধ্যে একটাই চিন্তা। অন্যজনের চেয়ে বেশি টিকে থাকা। আর তাই এরপর যা ঘটল, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না!
ইউথি এদিকে এসো! অ্যাশার, জানো কোন ভিডিওটা প্লে করতে চলেছি?
অ্যাশার, জানো কোন ভিডিওটা প্লে করতে চলেছি? না জিমি, একদম না!
ও সোজাসুজি হাত তুলে নিয়েছিল। আশেপাশেই ছিল না! যার মানে হলো, সরি অ্যাশার! আর ইউথি, এই ম্যানশন এখন থেকে তোমার!
ওহ্ মাই গড! অনেক অভিনন্দন ইউথি! এই যে বিল্ডিংটায় দাঁড়িয়ে আছ… এটা অফিশিয়ালি তোমার!
হ্যাঁ! ওহ ঈশ্বর! ওহ্ মাই গড! থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ জিমি ভাই! তুমি এর যোগ্য! থ্যাঙ্ক ইউ! ওয়াও! ইয়েসসস!
টানা ১১৯ দিন ম্যানশনে থাকার পর তুমিই হলে একমাত্র সারভাইভার! আমি চিরকৃতজ্ঞ… এটা তোমার! বেরিয়ে এসো!
ওহ মাই গড! এটা হলো ম্যানশনের দলিল! এই যে তোমার নাম। আর নিচে আমার সই!
১০৫তম দিন।
দেখি একটু!
ওরে বাবারে! ওহ্ মাই গড! সেটাই তো বলছি!
ভাইরা, আমি বাড়িটা জিতে নিয়েছি!
সাবস্ক্রাইব করুন! এটা আমার ভিডিওর চেয়ে সহজ।
নিবন্ধ প্রকাশিত · হালনাগাদ
