প্রাক্তনদের নিয়ে ৩০ দিনের দ্বীপ-চ্যালেঞ্জ: আড়াই লক্ষ ডলার কি ভাগ হবে, নাকি একজনই সব নেবে?

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

একটা ট্রপিকাল দ্বীপে অ্যাশলির চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। তার সামনে দাঁড়িয়ে তার ছ'জন প্রাক্তন প্রেমিক। চ্যালেঞ্জের মূল প্রশ্ন একটাই: ৩০ দিনের এই খেলায় যে প্রাক্তন অ্যাশলিকে নতুন করে পটিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, সে কি পুরস্কারের টাকা অ্যাশলির সঙ্গে ভাগ করবে, নাকি পুরোটা নিজেই রেখে দেবে? পুরো ভিডিও জুড়ে আস্থা, বিনোদন আর টাকার হিসাবের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। শেষে অ্যাশলি যে মাপকাঠিতে সিদ্ধান্ত নেন, সেটা "বিশ্বাস আর সম্মান"।

16 মিনিটে পড়া

খেলার নিয়ম: টিকে থাকা নয়, মন জয় করা

উপস্থাপক জানান, দ্বীপে প্রয়োজনীয় সবকিছুই দেওয়া আছে। তাই এটা বেঁচে থাকার লড়াই নয়। লড়াইটা অ্যাশলির মন আবার জেতার এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার। প্রতি পাঁচ দিন পরপর অ্যাশলি একজনকে বিদায় করবেন। বিদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিযোগী একটা হার্টের পেছনে দাঁড়ান, আর অ্যাশলি হাতুড়ি দিয়ে সেটা ভেঙে দেন। বাদ পড়া প্রতিযোগী খালি হাতে বাড়ি ফেরেন। শেষে যিনি টিকে থাকবেন, তিনি ঠিক করবেন আড়াই লক্ষ ডলার অ্যাশলির সঙ্গে ভাগ করবেন কি না।

অ্যাশলি ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দা। তিনি বলেন, একটু মজা করতে এবং সম্পর্কগুলো কোন দিকে যায় দেখতে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আলাদা। মিচেলের সঙ্গে "একটা রোমান্টিক ব্যাপার" আছে, কারো সঙ্গে তিনি একটু ফ্লার্ট করেন, আর কেউ কেউ শুধুই বন্ধু। তিনি স্পষ্ট করেন, কাউকে অবিশ্বাস করছেন না, তবে বিশ্বাসটা তাদের অর্জন করে নিতে হবে। শুরুতেই পুরোনো অভিমানও উঠে আসে: অ্যাশলি এক প্রাক্তনকে বলেন, তাঁর জন্মদিনের পার্টিতে না আসায় মন খারাপ হয়েছিল। জবাব আসে, "ব্যস্ত ছিলাম।"

প্রতিযোগীদের প্রথম অবস্থান: কেউ বন্ধু, কেউ লেনদেনে বিশ্বাসী

ছ'জন প্রতিযোগী হলেন মিচেল, ড্যানি, জেক, গ্যারি, লোগান ও ডেরেক। প্রথম দিন থেকেই তাঁরা অ্যাশলিকে "রাজকুমারী"র মতো রাখার প্রতিযোগিতায় নামেন। কেউ তাঁর জন্য দোলনা টাঙানোর কথা তোলেন, কেউ ঠান্ডা জল এনে দেন। একজন বলেন, এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই শেষে কাজে দেবে। ড্যানি তাঁর ত্বকের প্রশংসা করেন এবং দুটো দুল উপহার দেন, যাতে "জেতার দৌড়ে একটু এগিয়ে থাকা" যায়। আরেকজন একটা শঙ্খ দেন, যাতে অ্যাশলি তাঁকে সবসময় মনে রাখেন।

তবে কয়েকজন প্রতিযোগী ক্যামেরার সামনে নিজেদের কৌশল খোলাখুলি বলেন। গ্যারি জানান, তাঁরা খুব ভালো বন্ধু ঠিকই, কিন্তু তিনি জিততে এসেছেন এবং তাঁর কাছে ব্যাপারটা "একটা লেনদেনের মতো"। মিচেল আরও সরাসরি। তিনি আবেগ দিয়ে খেলতে চান না, এবং শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলে পুরো টাকাটাই নিয়ে নেবেন, কারণ "নিজের আখের নিজেকেই গুছিয়ে নিতে হবে"। মিচেল আরও বলেন, অ্যাশলি তাঁকে বিশ্বাস করেন না, কারণ অ্যাশলি জানেন তাঁর মাথায় কী চলে। অ্যাশলিও একান্তে সন্দেহ প্রকাশ করেন যে মিচেল হয়তো পুরো টাকা নিয়ে নেবেন। অথচ এই মিচেলকেই তিনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন বলে মনে হচ্ছিল। এই দ্বন্দ্ব গল্পের প্রথম ভাগ জুড়ে থাকে।

প্রথম এলিমিনেশন: জেক

প্রথম কয়েক দিনে জেক বারবার অ্যাশলিকে খোঁচা দেন, যেমন "আমার জন্য তুমি বয়সে বড়"। অ্যাশলি জিজ্ঞেস করেন তিনি সত্যিই তাঁকে ভালোবাসেন কি না, আর জেকের উত্তর "না"। চতুর্থ দিনে অ্যাশলি বলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। পঞ্চম দিনে উপস্থাপক জিজ্ঞেস করেন, সবাইকে রেখে দেওয়া যায় না? অ্যাশলি স্বীকার করেন, মিচেলের সঙ্গে ফ্লার্ট করলেও তার মানে এই নয় যে বাকিদের ভালোবাসেন না। তবে কাউকে যদি তিনি বিশ্বাস না করেন, সে সম্ভবত জেক। জেক এ কথায় হাততালি দেন, আর অ্যাশলি তাঁর হার্ট ভেঙে দেন। বিদায়ের সময় অ্যাশলি বলেন, "তোমাকে মিস করব। আসলে করব না।"

ছোট ছোট পরীক্ষা, আর মিচেলকে ঘিরে সন্দেহ

পরের সিদ্ধান্তের জন্য অ্যাশলি ছেলেদের মধ্যে দৌড়, আগুন জ্বালানো আর ট্যালেন্ট শো-র আয়োজন করেন। তিনি বলেন, কাকে বিদায় করবেন বুঝতে পারছেন না, তাই পরখ করে নিতে চান। সঙ্গে রসিকতা করেন, হয়তো "হ্যান্ডসাম ছেলেদের কসরত দেখাই" আসল উদ্দেশ্য। দৌড়ে গ্যারি ভালো করেন। আগুন জ্বালানোর পর অ্যাশলি রসিকতা করে বলেন, তাঁর দেখাশোনার জন্য মিচেলকেই থাকতে হবে।

কিন্তু মিচেলের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরে। ওটমিল খাওয়ার সময় অ্যাশলি বলেন, পিনাট বাটার থাকলে আরও ভালো হতো। মিচেল জবাব দেন, তিনি যা-ই বলুন বা করুন, অ্যাশলির মন ভরে না, আর তিনি যা-ই বলবেন অ্যাশলি রেগে যাবেন। আরেকজন প্রতিযোগী মন্তব্য করেন, মিচেল আর অ্যাশলির সম্পর্ক দেখতে আসল মনে হলেও "ফেকও হতে পারে"। পরে মিচেল অ্যাশলিকে মনে করিয়ে দেন, অ্যাশলি জানেন তিনি কেমন মানুষ এবং তাঁর সততা ও নীতিবোধ আছে। এ কথায় অ্যাশলি আবেগে একটু কেঁদে ফেলেন। তবু অ্যাশলি ক্যামেরায় বলেন, মিচেল ভালো করেই জানেন তাঁর প্রতি অ্যাশলির দুর্বলতা আছে। তিনি মিচেলকে বিশ্বাস করতে চান, কিন্তু বাস্তবতা হলো, মিচেল হয়তো বাড়ি চলে যাবেন এবং কয়েক সপ্তাহ তাঁদের মধ্যে কোনো কথাই হবে না।

চ্যালেঞ্জ আইল্যান্ড: গ্যারির একতরফা জয়

নবম দিনে প্রতিযোগীদের নৌকায় করে "চ্যালেঞ্জ আইল্যান্ডে" নেওয়া হয়। বিজয়ী অ্যাশলির সঙ্গে সেখানে ২৪ ঘণ্টা কাটাবেন, সঙ্গে থাকবে বিছানা, মাসাজ আর রাজকীয় খাবার। বাকিরা পরদিনের এলিমিনেশন পর্যন্ত অ্যাশলির সঙ্গে কথাই বলতে পারবেন না। কাজটা ছিল বালি খুঁড়ে চাবি বের করা, সেই চাবিতে হাতুড়ি আনলক করা, পাথর ভাঙা, তারপর একটা ড্রাম ঠেলে ওপরে তোলা।

গ্যারি প্রথমেই চাবি খুঁজে পান এবং পুরো চ্যালেঞ্জে তাঁকে একবারও হিমশিম খেতে দেখা যায়নি। উপস্থাপক জানান, চাবির জায়গা চিহ্ন দিয়ে রাখা ছিল, তবু ডেরেক আর মিচেল তখনো বালি খুঁড়ছিলেন। এটা তাঁর কাছে অবাক লাগে। লোগান প্রায় ধরে ফেলেছিলেন, কিন্তু গ্যারিই জেতেন।

বিলাসী রাতে গ্যারি আর অ্যাশলি পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। অ্যাশলির মতে, গ্র্যান্টের সঙ্গে সম্পর্কে যাওয়ার আগে তাঁদের মধ্যে যা ছিল তা ঠিক শেষ হয়নি, বরং ফিকে হয়ে গিয়েছিল। গ্যারি জানান, মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাই তিনি এতে কিছু মনে করেননি। অন্যদিকে ক্যাম্পে বাকিরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। একজন বলেন, এলিমিনেশনের আগের রাত যে কত কষ্টের, বোঝানো যায় না। মিচেলের নিজের ধারণা ছিল, তিনিই বাদ পড়বেন।

দ্বিতীয় এলিমিনেশন: মিচেল

দশম দিনে অ্যাশলি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, তাঁরা হয়তো জীবনের অনেক কাজ ফেলে এখানে এসেছেন। তারপর মিচেলকে বলেন, এবার "আবার কাজে ফেরার" সময় হয়েছে। বাকিরা অবাক হন। বিদায়ের সময় মিচেল ছেলেদের উদ্দেশে বলেন, "আমার হয়ে তারা গুনো" এবং "সব সমীকরণ মিলিয়ে নিও"। অ্যাশলি এটাকে তাদের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা বলে মনে করেন।

সিদ্ধান্তের পর অ্যাশলি ব্যাখ্যা দেন, তিনি খেলাটা শুধু আবেগ দিয়ে খেলতে চাননি। অন্য সবকিছুর চেয়ে তিনি বেশি ভাবছেন, জেতার পর কে আসলে টাকাটা তাঁর সঙ্গে ভাগ করবে।

ড্যানির পতনের শুরু

মিচেলের হঠাৎ বিদায়ের পর বাকি ছেলেরা বোঝেন, অসাধারণ কিছু করতে হবে। তাঁরা ঘর থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত একটা রাস্তা বানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজে এতটাই ডুবে যান যে অ্যাশলির কথা ভুলে যান। অ্যাশলির অভিযোগ, "আমি তো এখানকার রাজকুমারী", অথচ তাঁকে ভুলে গেছে সবাই। তিনি বোর হচ্ছিলেন এবং সবাইকে তাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করছিল। এরপর তাঁরা সামুদ্রিক মাছের ডিনার দিয়ে তাঁকে খুশি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে ড্যানি অ্যাশলিকে বলেন, তিনি সবসময় অভিযোগ করেন এবং কিছুই তাঁর ভালো লাগে না। উপস্থাপকের মন্তব্য: এখান থেকেই ড্যানির বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি হলো।

পনেরো নম্বর দিনের আগে এক আলোচনায় কেউ মনে করিয়ে দেন, বিশ্বাস অর্জন করতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু ভাঙতে লাগে এক মুহূর্ত। শেষে অ্যাশলি ড্যানিকে নিয়ে বসেন। তিনি বলেন, তিনি জানেন না ড্যানি সত্যিই তাঁকে কেয়ার করেন কি না। বিপদে পড়ে ডেরেক বা গ্যারিকে ডাকলে তাঁরা সব ফেলে ছুটে আসবেন বলে তিনি নিশ্চিত, কিন্তু ড্যানি আসবেন বলে তাঁর মনে হয় না। ড্যানি জবাবে বলেন, তিনি বন্ধু হয়ে থাকতে চান, আরও চেষ্টা করবেন এবং আগে না করার জন্য ক্ষমা চান। ক্যামেরার সামনে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে এমনও হতে পারে যে সব টাকা নিজের কাছে রাখতে ইচ্ছা করবে। তিনি শুধু আশা করছিলেন এমন কিছু ঘটুক যাতে আরও বেশি দিন থাকা যায়।

পাজল রিলে: ড্যানির ইমিউনিটি, লোগানের বিদায়

উপস্থাপক ঠিক সেই সুযোগটাই নিয়ে আসেন। পনেরো নম্বর দিনের চ্যালেঞ্জ ছিল একটা পাজল রিলে, যার লক্ষ্য অ্যাশলির "ভাঙা হৃদয়" জোড়া লাগানো। পাজলের টুকরো আনতে সমুদ্রের অনেক গভীরে সাঁতরে যেতে হবে। যে সবার আগে হৃদয়টা গড়তে পারবেন, তিনি ইমিউনিটি পাবেন, অর্থাৎ সেদিন অ্যাশলি তাঁকে বাড়ি পাঠাতে পারবেন না।

ড্যানি এমনভাবে দৌড়ান যেন জীবন এর ওপর নির্ভর করছে। প্রথম ব্যাগ নিয়ে লোগান সবার আগে ফেরেন। প্রথম টুকরোগুলো পাওয়ার পর চারজনই বোঝেন চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন, আর সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এখানে ড্যানির কৌশল চোখে পড়ে। অন্যরা যখন জলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, ড্যানি পাজল মেলাতে মেলাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে গ্যারিও এই কৌশল নেন। ডেরেক ভুল করে অন্য রঙের টুকরোর দিকে চলে যান, যদিও তাঁর কমলা রঙেরগুলো নেওয়ার কথা ছিল। লোগান সব টুকরো নিয়ে সবার আগে পৌঁছান। কিন্তু ড্যানির পাজলের বেশিরভাগ অংশ আগেই মেলানো ছিল, তাই শেষ পর্যায়ে এগিয়ে থাকেন তিনিই। উপস্থাপকের মতে, পাজলটা সহজ ছিল, কিন্তু অত সাঁতারের পর সবাই "ভাজা ভাজা" হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ড্যানি জেতেন।

ড্যানির হার্টের চারপাশে একটা খাঁচা বসানো হয়, যা হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা যাবে না। বাকি তিনজনের একজনকে যেতে হবে। ডেরেক আর গ্যারির মধ্যে আলোচনায় উঠে আসে, লোগান ড্যানির ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে অ্যাশলি হয়তো তাঁকেই টার্গেট করবেন। শেষে লোগান বাদ পড়েন। তাঁর বিদায়ে ক্যাম্পের সবার মন ভেঙে যায়। অ্যাশলি নিজেও বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ড্যানির "মাইন্ড গেম" আর ডেরেকের নীরব কৌশল

ইমিউনিটি পেয়েও ড্যানি পরিস্থিতি আরও খারাপ করেন। তিনি অ্যাশলিকে বলেন, অ্যাশলি এমন বোকা বোকা কথা বলেন যে মাথা ঠিক থাকে না, এবং "মেয়েদের মগজ মাইনক্রাফটের চেয়েও হাজার গুণ জটিল"। অ্যাশলি জানান, ড্যানির আশেপাশেও তাঁর থাকতে ইচ্ছা করছে না, কিছুক্ষণ একা থাকা দরকার। বাকি প্রতিযোগীদের মতে, সমস্যা ড্যানির অসম্মানজনক আচরণ, কারণ কাউকে ছোট না করেও নিজের কথা বোঝানো যায়। সতেরো নম্বর দিনে অ্যাশলি সবার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন।

ডেরেক আর গ্যারি তাঁকে একা থাকতে দেন। ড্যানি উল্টো পথ ধরেন: একটা ছোট "লোগান" বানিয়ে অ্যাশলিকে হাসাতে যান। তিনি দাবি করেন, সেদিন অ্যাশলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে বড় উন্নতি হয়েছে। অ্যাশলির মন ভালো হতেই ক্যাম্প চাঙ্গা হয়। অ্যাশলি সবাইকে নিয়ে ইয়োগা করান এবং বলেন, শ্বাস নেওয়ার সময় তাঁর জন্য ভালোবাসা ভেতরে নিতে, আর ছাড়ার সময় "সব মিথ্যা আর বিষাক্ত স্বভাব" বের করে দিতে। তারপর আলাদা করে জিজ্ঞেস করেন, "ড্যানি, বুঝতে পেরেছ তো?"

ড্যানি ক্যামেরায় নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তিনি দ্বীপের সবার সঙ্গে মাইন্ড গেম খেলছেন। অ্যাশলিকে সারাক্ষণ হাসিয়ে মাতিয়ে রাখছেন বলে অন্য ছেলেরা তাঁর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। ফলে অ্যাশলি ভাবছেন, ওরা কি আদৌ এখানে থাকতে চায়, ওরা কি সত্যিই তাঁর বন্ধু। ড্যানির দাবি, সব তাঁর পরিকল্পনা মতোই হচ্ছে। অ্যাশলিও একসময় বলেন, ড্যানিকে বিনোদনের জন্য রেখে দেবেন, কারণ বাকিরা কোনো চেষ্টাই করছে না।

ডেরেকের ব্যাখ্যা ছিল অন্যরকম। তিনি দু-একদিন চুপচাপ ছিলেন, কারণ তাঁর মতে আড়াই লক্ষ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে মাঝে মাঝে আড়ালে গিয়ে বিশ্লেষণ করে চাল চালতে হয়। কিন্তু উপস্থাপক জানান, ডেরেক এটা অ্যাশলিকে বুঝিয়ে বলেননি, তাই অ্যাশলি তাঁর মনের কথা বুঝতে পারছিলেন না। ড্যানি এই সুযোগে অ্যাশলিকে বলেন, আজ ডেরেককে বাদ না দিলে সেটা অবিচার হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অ্যাশলি কাকে বিশ্বাস করবেন: যে অর্ধেক টাকা দেবে, নাকি যে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে? ডেরেকের পাল্টা মন্তব্য, এখানে এমন একজন আছেন যাঁকে তিনি এক ডলারও বিশ্বাস করে দেবেন না, আড়াই লক্ষ তো দূরের কথা, আর তিনি হলেন ড্যানি। অ্যাশলি নিজে বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর তিনি একটা করে দল ভেঙে দিচ্ছেন।

প্ল্যাটফর্ম চ্যালেঞ্জ ও ৫০ হাজার ডলারের গোপন সিদ্ধান্ত

বিশ নম্বর দিনে প্রথমবার অ্যাশলিও চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। সবাইকে জলের ওপর আলাদা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হবে। যিনি সবার শেষে জলে পড়বেন, তিনি একটা "বড় সিদ্ধান্ত" নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা প্রতিযোগিতায় জিততে সাহায্য করতে পারে। ডেরেক মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে পড়ে যান। উপস্থাপক জানান, বাকিরা তাঁর ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় টিকে ছিলেন। বিশ মিনিট, তারপর এক ঘণ্টা পার হয়। দেড় ঘণ্টা পর চ্যালেঞ্জ কঠিন করতে প্রতিযোগীদের সম্মতি নিয়ে চারপাশে নৌকা চালিয়ে ঢেউ তৈরি করা হয়। প্রথমে গ্যারি পড়ে যান, তারপর অ্যাশলি। ড্যানি তাঁর দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ জেতেন।

পুরস্কার ছিল একটা বাক্স, যার ভেতরে ৫০ হাজার ডলার। ড্যানি চাইলে টাকাটা নিজের কাছে রাখতে পারবেন, অথবা মূল পুরস্কারে যোগ করতে পারবেন। উপস্থাপকের ব্যাখ্যায়, মূল পুরস্কারে যোগ করলে হয়তো অ্যাশলির বিশ্বাস ফিরে পাওয়া যাবে, তবে ঝুঁকিও আছে: অ্যাশলি টাকাটা নিয়েও তাঁকে বাদ দিতে পারেন। আর নিজের কাছে রাখলে বাক্সে কী ছিল কাউকে বলার দরকার নেই। ড্যানি টাকাটা নিজের কাছে রেখে গোপন রাখেন। উপস্থাপক বলেন, তাঁর ভয় ছিল অন্যরা জানলে তাঁকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবে।

এলিমিনেশনে ড্যানি শুধু বলেন, তাঁর সিদ্ধান্তে কারো থাকা-না-থাকার ওপর প্রভাব পড়বে না, তাই তিনি এটা গোপন রাখছেন। অ্যাশলি ড্যানিকে রেখে দেন। তাঁর যুক্তি: ড্যানি যেমন বিরক্তিকর, তেমনি সবচেয়ে বেশি হাসিয়েছেন, দিনগুলো সহজ করে দিয়েছেন, আর সব চ্যালেঞ্জে জিতছেন। তাই "নিজের স্বার্থেই" তাঁকে রাখা। এরপর ডেরেক আর গ্যারির মধ্যে সিদ্ধান্ত। অ্যাশলি স্বীকার করেন, ডেরেক সব চ্যালেঞ্জে খারাপ করেছেন আর গ্যারি সবগুলোতে দুর্দান্ত ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ছিল তিনি কাকে বেশি বিশ্বাস করেন, এবং সেই মাপকাঠিতে তিনি গ্যারির হার্ট ভাঙেন। সবাই চমকে যান। গ্যারি শান্তভাবে বিদায় নেন এবং বলেন, এটা এক অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল।

শেষ পাঁচ দিন: হাসি, আবেগের নাটক, আর আস্থা

ফাইনাল এলিমিনেশনের আগে দুজনের দৃষ্টিই আড়াই লক্ষ ডলারের দিকে। ড্যানি বলেন, টাকাটা তাঁর খুব দরকার, এবং জেতার মন্ত্র হলো অ্যাশলিকে যতটা সম্ভব হাসিতে রাখা। অ্যাশলিও মানেন, ড্যানি বেয়াদব হলেও তাঁকে হাসাতে পারেন। ডেরেকের কৌশল ছিল ড্যানিকে বেশি কথা বলতে দেওয়া, কারণ তাঁর ধারণা বেশি কথা বলে ড্যানি নিজেই বিপদে পড়বেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক শেখানোর মুহূর্তে অ্যাশলি অভিযোগ করেন, যখনই তিনি ড্যানির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, ড্যানি তাঁকে বোকার মতো কথা বলেন। বাইশ নম্বর দিনে তাঁদের আবার ঝগড়া হয়।

ডেরেক জানান, এখানে আসার জন্য তিনি চাকরি ছেড়েছেন, তাই টাকাটা তাঁর কাছে অন্যদের ধারণার চেয়েও দামী। একই সঙ্গে তিনি অ্যাশলিকে দেখান যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার যাবে "অ্যাশলি নিকোল মুর"-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অন্যদিকে ড্যানি টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, হয়তো কথার জালে ফাঁসিয়েও জিততে পারেন। তিনি অ্যাশলির কাছে খারাপ ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চান, বলেন তাঁর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা দেখেন। তারপর জানান, তাঁর মনে হয় মায়ের অ্যালজাইমার্স শুরু হয়েছে এবং মায়ের জন্য তাঁর অনেক কিছু করার আছে। উপস্থাপক এটাকে অ্যাশলির সহানুভূতির সুযোগ নেওয়া "আবেগের নাটক" বলেন এবং জানান, অবাক করে দিয়ে সেটা কাজ করতে শুরু করে। অ্যাশলি হাত ধরতে রাজি হন।

ডেরেক মনে করছিলেন তাঁর অবস্থান দুর্বল, কারণ অন্য দুজনের হাতে ক্ষমতা আছে, তাঁর নেই। তাঁর শেষ চাল ছিল অ্যাশলিকে বলা যে অ্যাশলি খালি হাতে ফিরলে তাঁর খুব খারাপ লাগবে, এবং অ্যাশলির অন্তত ছয় অঙ্কের টাকা নিয়ে ফেরা উচিত। চব্বিশ নম্বর দিনে অ্যাশলি দ্বিধার কথা বলেন। ডেরেক হয়তো ভালো প্রতিযোগী নন, কিন্তু সবসময় ভালো ও বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন। ড্যানি হয়তো তাঁর দেখা সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষদের একজন, কিন্তু তাঁকে তিনি খুব পছন্দ করেন এবং তিনি খুব মজার।

গুপ্তধন, শেষ বক্তব্য ও ড্যানির বিদায়

পঁচিশ নম্বর দিনে উপস্থাপক প্রশ্ন তোলেন, আরও ৫০ হাজার ডলার যোগ হলে কাজটা কি সহজ হবে? তিনি একটা গুপ্তধনের ম্যাপ দেন। সৈকতের কোথাও ৫০ হাজার ডলার লুকানো আছে, এক ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে পেলে সেটা মূল পুরস্কারে যোগ হবে। তিনজন মিলে একটা ভেড়ার মূর্তির সূত্র ধরে টাকাটা খুঁজে বের করেন। পুরস্কার দাঁড়ায় তিন লক্ষ ডলারে।

শেষ বক্তব্যে ডেরেক বলেন, অ্যাশলির বন্ধু ও এই যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে তিনি ধন্য। পঁচিশ দিনে অ্যাশলির সুন্দর মনটা কাছ থেকে দেখেছেন, এবং যা-ই ঘটুক তিনি অ্যাশলিকে ভালোবাসেন। ড্যানি চড়াই-উতরাইয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, অ্যাশলি যাকেই বেছে নিন, টাকার অর্ধেক তাঁর পাওয়া উচিত। তারপর রহস্যময়ভাবে যোগ করেন, সঠিক মানুষকে বেছে নিলে হয়তো আরও টাকা আয়ের সুযোগ আসতে পারে। ব্যাখ্যা চাইলে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

অ্যাশলি ড্যানিকে বলেন, তাঁর মতো আর কেউ এত হাসাতে পারেনি, আবার তাঁর মতো বিরক্তও কেউ করেনি, তবু তিনি ড্যানিকে ভালোবাসেন। ডেরেক সম্পর্কে বলেন, তিনি সব চ্যালেঞ্জ জিততে পারেননি, কিন্তু চার বছর আগে ডেরেকের সঙ্গে দেখা না হলে তিনি আজ এখানে থাকতেন না, এবং ডেরেক সবসময় তাঁকে আগলে রেখেছেন। তাঁর কাছে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় বিশ্বাস আর সম্মান, আর ড্যানিকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য খুব কঠিন। তিনি ড্যানির হার্ট ভাঙেন। ড্যানি বলেন, তিনি মন থেকে জানতেন এমনটাই ঘটবে।

এরপর ড্যানি গোপন কথাটা ফাঁস করেন: প্ল্যাটফর্ম চ্যালেঞ্জের ৫০ হাজার ডলার তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন। অ্যাশলির প্রতিক্রিয়া ছিল অপ্রত্যাশিত। তিনি খুশি যে ড্যানি টাকাটা রেখেছেন, কারণ তাঁর মতে পঁচিশ দিন কষ্ট করার পর ড্যানির খালি হাতে ফেরাটা ঠিক হতো না। ড্যানি জানান, তিনি টাকাটা রেখেছিলেন কারণ মনে হচ্ছিল শেষে ডেরেকই জিতবেন। ড্যানি বলেন, তিনি একদম মন খারাপ করেননি, শেষে কিছু জিতেছেন তাতেই খুশি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ডেরেক কি অ্যাশলির মন ভাঙবেন?

শেষ ধাপে ভূমিকা বদলে যায়। এবার অ্যাশলি নিজের হার্টের পেছনে দাঁড়ান। উপস্থাপক ডেরেককে জানান, পরের পাঁচ দিনের যেকোনো সময় তিনি অ্যাশলির হৃদয় ভেঙে দিলে পুরো তিন লক্ষ ডলার একাই পাবেন। না ভাঙলে দুজনে দেড় লক্ষ করে পাবেন।

ডেরেক প্রকাশ্যে দ্বিধার কথা বলেন। হৃদয় ভাঙলে পরিবারের জন্য তিন লক্ষ ডলার নিতে পারবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেড় লক্ষ ডলার কি এখানে ফেলে যাবেন, আর পরিবার কি সেটা মেনে নেবে। অ্যাশলি বলেন, এখন শুধু দেখার বিষয় ডেরেক তাঁর মন ভেঙে সব টাকা একা নেন কি না। পরদিন সকালে ডেরেক ফিরে আসেন। তাঁকে বেছে নিতে হবে: হাতুড়িটা আগুনে ফেলে টাকা ভাগ করবেন, নাকি এক মাস দ্বীপে কাটানোর পর অ্যাশলির মন ভেঙে নিজের টাকা দ্বিগুণ করবেন। হাতুড়ি হাতে তিনি অ্যাশলির কাছে এগিয়ে যান। বলেন, এমন সুযোগ আর কবে আসবে যে একটা মন ভাঙলেই তিন লক্ষ ডলার পাওয়া যাবে, আর তাঁর পরিবারও হয়তো এটাই চাইবে। অ্যাশলি তাঁকে এত কাছে আসতে নিষেধ করেন।

শেষে ডেরেক বলেন, তিনি অ্যাশলিকে মন থেকে ভালোবাসেন, এবং সেই কথা ভেবেই জানান, "আমি ওর মন ভাঙব না।" অ্যাশলি বলেন, ডেরেক তাঁকে সাসপেন্সে রেখেছিলেন। দুজনেই দেড় লক্ষ ডলার করে পান। ছয় প্রাক্তন দিয়ে শুরু হওয়া খেলা এভাবে শেষ হয়। যিনি সবচেয়ে কম চ্যালেঞ্জ জিতেছিলেন কিন্তু যাঁকে অ্যাশলি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন, সেই ডেরেকই শেষে টাকা ভাগ করেন। আর যে ড্যানিকে অ্যাশলি বিশ্বাস করতে পারেননি, তিনি নিজের লুকানো ৫০ হাজার ডলার নিয়ে বাড়ি ফেরেন।