প্রাক্তনদের নিয়ে ৩০ দিনের দ্বীপ-চ্যালেঞ্জ: আড়াই লক্ষ ডলার কি ভাগ হবে, নাকি একজনই সব নেবে?
MrBeast ミスタービーストএকটা ট্রপিকাল দ্বীপে অ্যাশলির চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। তার সামনে দাঁড়িয়ে তার ছ'জন প্রাক্তন প্রেমিক। চ্যালেঞ্জের মূল প্রশ্ন একটাই: ৩০ দিনের এই খেলায় যে প্রাক্তন অ্যাশলিকে নতুন করে পটিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, সে কি পুরস্কারের টাকা অ্যাশলির সঙ্গে ভাগ করবে, নাকি পুরোটা নিজেই রেখে দেবে? পুরো ভিডিও জুড়ে আস্থা, বিনোদন আর টাকার হিসাবের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। শেষে অ্যাশলি যে মাপকাঠিতে সিদ্ধান্ত নেন, সেটা "বিশ্বাস আর সম্মান"।
খেলার নিয়ম: টিকে থাকা নয়, মন জয় করা
উপস্থাপক জানান, দ্বীপে প্রয়োজনীয় সবকিছুই দেওয়া আছে। তাই এটা বেঁচে থাকার লড়াই নয়। লড়াইটা অ্যাশলির মন আবার জেতার এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার। প্রতি পাঁচ দিন পরপর অ্যাশলি একজনকে বিদায় করবেন। বিদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিযোগী একটা হার্টের পেছনে দাঁড়ান, আর অ্যাশলি হাতুড়ি দিয়ে সেটা ভেঙে দেন। বাদ পড়া প্রতিযোগী খালি হাতে বাড়ি ফেরেন। শেষে যিনি টিকে থাকবেন, তিনি ঠিক করবেন আড়াই লক্ষ ডলার অ্যাশলির সঙ্গে ভাগ করবেন কি না।
অ্যাশলি ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দা। তিনি বলেন, একটু মজা করতে এবং সম্পর্কগুলো কোন দিকে যায় দেখতে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আলাদা। মিচেলের সঙ্গে "একটা রোমান্টিক ব্যাপার" আছে, কারো সঙ্গে তিনি একটু ফ্লার্ট করেন, আর কেউ কেউ শুধুই বন্ধু। তিনি স্পষ্ট করেন, কাউকে অবিশ্বাস করছেন না, তবে বিশ্বাসটা তাদের অর্জন করে নিতে হবে। শুরুতেই পুরোনো অভিমানও উঠে আসে: অ্যাশলি এক প্রাক্তনকে বলেন, তাঁর জন্মদিনের পার্টিতে না আসায় মন খারাপ হয়েছিল। জবাব আসে, "ব্যস্ত ছিলাম।"
প্রতিযোগীদের প্রথম অবস্থান: কেউ বন্ধু, কেউ লেনদেনে বিশ্বাসী
ছ'জন প্রতিযোগী হলেন মিচেল, ড্যানি, জেক, গ্যারি, লোগান ও ডেরেক। প্রথম দিন থেকেই তাঁরা অ্যাশলিকে "রাজকুমারী"র মতো রাখার প্রতিযোগিতায় নামেন। কেউ তাঁর জন্য দোলনা টাঙানোর কথা তোলেন, কেউ ঠান্ডা জল এনে দেন। একজন বলেন, এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই শেষে কাজে দেবে। ড্যানি তাঁর ত্বকের প্রশংসা করেন এবং দুটো দুল উপহার দেন, যাতে "জেতার দৌড়ে একটু এগিয়ে থাকা" যায়। আরেকজন একটা শঙ্খ দেন, যাতে অ্যাশলি তাঁকে সবসময় মনে রাখেন।
তবে কয়েকজন প্রতিযোগী ক্যামেরার সামনে নিজেদের কৌশল খোলাখুলি বলেন। গ্যারি জানান, তাঁরা খুব ভালো বন্ধু ঠিকই, কিন্তু তিনি জিততে এসেছেন এবং তাঁর কাছে ব্যাপারটা "একটা লেনদেনের মতো"। মিচেল আরও সরাসরি। তিনি আবেগ দিয়ে খেলতে চান না, এবং শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলে পুরো টাকাটাই নিয়ে নেবেন, কারণ "নিজের আখের নিজেকেই গুছিয়ে নিতে হবে"। মিচেল আরও বলেন, অ্যাশলি তাঁকে বিশ্বাস করেন না, কারণ অ্যাশলি জানেন তাঁর মাথায় কী চলে। অ্যাশলিও একান্তে সন্দেহ প্রকাশ করেন যে মিচেল হয়তো পুরো টাকা নিয়ে নেবেন। অথচ এই মিচেলকেই তিনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন বলে মনে হচ্ছিল। এই দ্বন্দ্ব গল্পের প্রথম ভাগ জুড়ে থাকে।
প্রথম এলিমিনেশন: জেক
প্রথম কয়েক দিনে জেক বারবার অ্যাশলিকে খোঁচা দেন, যেমন "আমার জন্য তুমি বয়সে বড়"। অ্যাশলি জিজ্ঞেস করেন তিনি সত্যিই তাঁকে ভালোবাসেন কি না, আর জেকের উত্তর "না"। চতুর্থ দিনে অ্যাশলি বলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। পঞ্চম দিনে উপস্থাপক জিজ্ঞেস করেন, সবাইকে রেখে দেওয়া যায় না? অ্যাশলি স্বীকার করেন, মিচেলের সঙ্গে ফ্লার্ট করলেও তার মানে এই নয় যে বাকিদের ভালোবাসেন না। তবে কাউকে যদি তিনি বিশ্বাস না করেন, সে সম্ভবত জেক। জেক এ কথায় হাততালি দেন, আর অ্যাশলি তাঁর হার্ট ভেঙে দেন। বিদায়ের সময় অ্যাশলি বলেন, "তোমাকে মিস করব। আসলে করব না।"
ছোট ছোট পরীক্ষা, আর মিচেলকে ঘিরে সন্দেহ
পরের সিদ্ধান্তের জন্য অ্যাশলি ছেলেদের মধ্যে দৌড়, আগুন জ্বালানো আর ট্যালেন্ট শো-র আয়োজন করেন। তিনি বলেন, কাকে বিদায় করবেন বুঝতে পারছেন না, তাই পরখ করে নিতে চান। সঙ্গে রসিকতা করেন, হয়তো "হ্যান্ডসাম ছেলেদের কসরত দেখাই" আসল উদ্দেশ্য। দৌড়ে গ্যারি ভালো করেন। আগুন জ্বালানোর পর অ্যাশলি রসিকতা করে বলেন, তাঁর দেখাশোনার জন্য মিচেলকেই থাকতে হবে।
কিন্তু মিচেলের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরে। ওটমিল খাওয়ার সময় অ্যাশলি বলেন, পিনাট বাটার থাকলে আরও ভালো হতো। মিচেল জবাব দেন, তিনি যা-ই বলুন বা করুন, অ্যাশলির মন ভরে না, আর তিনি যা-ই বলবেন অ্যাশলি রেগে যাবেন। আরেকজন প্রতিযোগী মন্তব্য করেন, মিচেল আর অ্যাশলির সম্পর্ক দেখতে আসল মনে হলেও "ফেকও হতে পারে"। পরে মিচেল অ্যাশলিকে মনে করিয়ে দেন, অ্যাশলি জানেন তিনি কেমন মানুষ এবং তাঁর সততা ও নীতিবোধ আছে। এ কথায় অ্যাশলি আবেগে একটু কেঁদে ফেলেন। তবু অ্যাশলি ক্যামেরায় বলেন, মিচেল ভালো করেই জানেন তাঁর প্রতি অ্যাশলির দুর্বলতা আছে। তিনি মিচেলকে বিশ্বাস করতে চান, কিন্তু বাস্তবতা হলো, মিচেল হয়তো বাড়ি চলে যাবেন এবং কয়েক সপ্তাহ তাঁদের মধ্যে কোনো কথাই হবে না।
চ্যালেঞ্জ আইল্যান্ড: গ্যারির একতরফা জয়
নবম দিনে প্রতিযোগীদের নৌকায় করে "চ্যালেঞ্জ আইল্যান্ডে" নেওয়া হয়। বিজয়ী অ্যাশলির সঙ্গে সেখানে ২৪ ঘণ্টা কাটাবেন, সঙ্গে থাকবে বিছানা, মাসাজ আর রাজকীয় খাবার। বাকিরা পরদিনের এলিমিনেশন পর্যন্ত অ্যাশলির সঙ্গে কথাই বলতে পারবেন না। কাজটা ছিল বালি খুঁড়ে চাবি বের করা, সেই চাবিতে হাতুড়ি আনলক করা, পাথর ভাঙা, তারপর একটা ড্রাম ঠেলে ওপরে তোলা।
গ্যারি প্রথমেই চাবি খুঁজে পান এবং পুরো চ্যালেঞ্জে তাঁকে একবারও হিমশিম খেতে দেখা যায়নি। উপস্থাপক জানান, চাবির জায়গা চিহ্ন দিয়ে রাখা ছিল, তবু ডেরেক আর মিচেল তখনো বালি খুঁড়ছিলেন। এটা তাঁর কাছে অবাক লাগে। লোগান প্রায় ধরে ফেলেছিলেন, কিন্তু গ্যারিই জেতেন।
বিলাসী রাতে গ্যারি আর অ্যাশলি পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। অ্যাশলির মতে, গ্র্যান্টের সঙ্গে সম্পর্কে যাওয়ার আগে তাঁদের মধ্যে যা ছিল তা ঠিক শেষ হয়নি, বরং ফিকে হয়ে গিয়েছিল। গ্যারি জানান, মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাই তিনি এতে কিছু মনে করেননি। অন্যদিকে ক্যাম্পে বাকিরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। একজন বলেন, এলিমিনেশনের আগের রাত যে কত কষ্টের, বোঝানো যায় না। মিচেলের নিজের ধারণা ছিল, তিনিই বাদ পড়বেন।
দ্বিতীয় এলিমিনেশন: মিচেল
দশম দিনে অ্যাশলি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, তাঁরা হয়তো জীবনের অনেক কাজ ফেলে এখানে এসেছেন। তারপর মিচেলকে বলেন, এবার "আবার কাজে ফেরার" সময় হয়েছে। বাকিরা অবাক হন। বিদায়ের সময় মিচেল ছেলেদের উদ্দেশে বলেন, "আমার হয়ে তারা গুনো" এবং "সব সমীকরণ মিলিয়ে নিও"। অ্যাশলি এটাকে তাদের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা বলে মনে করেন।
সিদ্ধান্তের পর অ্যাশলি ব্যাখ্যা দেন, তিনি খেলাটা শুধু আবেগ দিয়ে খেলতে চাননি। অন্য সবকিছুর চেয়ে তিনি বেশি ভাবছেন, জেতার পর কে আসলে টাকাটা তাঁর সঙ্গে ভাগ করবে।
ড্যানির পতনের শুরু
মিচেলের হঠাৎ বিদায়ের পর বাকি ছেলেরা বোঝেন, অসাধারণ কিছু করতে হবে। তাঁরা ঘর থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত একটা রাস্তা বানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজে এতটাই ডুবে যান যে অ্যাশলির কথা ভুলে যান। অ্যাশলির অভিযোগ, "আমি তো এখানকার রাজকুমারী", অথচ তাঁকে ভুলে গেছে সবাই। তিনি বোর হচ্ছিলেন এবং সবাইকে তাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করছিল। এরপর তাঁরা সামুদ্রিক মাছের ডিনার দিয়ে তাঁকে খুশি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে ড্যানি অ্যাশলিকে বলেন, তিনি সবসময় অভিযোগ করেন এবং কিছুই তাঁর ভালো লাগে না। উপস্থাপকের মন্তব্য: এখান থেকেই ড্যানির বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি হলো।
পনেরো নম্বর দিনের আগে এক আলোচনায় কেউ মনে করিয়ে দেন, বিশ্বাস অর্জন করতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু ভাঙতে লাগে এক মুহূর্ত। শেষে অ্যাশলি ড্যানিকে নিয়ে বসেন। তিনি বলেন, তিনি জানেন না ড্যানি সত্যিই তাঁকে কেয়ার করেন কি না। বিপদে পড়ে ডেরেক বা গ্যারিকে ডাকলে তাঁরা সব ফেলে ছুটে আসবেন বলে তিনি নিশ্চিত, কিন্তু ড্যানি আসবেন বলে তাঁর মনে হয় না। ড্যানি জবাবে বলেন, তিনি বন্ধু হয়ে থাকতে চান, আরও চেষ্টা করবেন এবং আগে না করার জন্য ক্ষমা চান। ক্যামেরার সামনে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে এমনও হতে পারে যে সব টাকা নিজের কাছে রাখতে ইচ্ছা করবে। তিনি শুধু আশা করছিলেন এমন কিছু ঘটুক যাতে আরও বেশি দিন থাকা যায়।
পাজল রিলে: ড্যানির ইমিউনিটি, লোগানের বিদায়
উপস্থাপক ঠিক সেই সুযোগটাই নিয়ে আসেন। পনেরো নম্বর দিনের চ্যালেঞ্জ ছিল একটা পাজল রিলে, যার লক্ষ্য অ্যাশলির "ভাঙা হৃদয়" জোড়া লাগানো। পাজলের টুকরো আনতে সমুদ্রের অনেক গভীরে সাঁতরে যেতে হবে। যে সবার আগে হৃদয়টা গড়তে পারবেন, তিনি ইমিউনিটি পাবেন, অর্থাৎ সেদিন অ্যাশলি তাঁকে বাড়ি পাঠাতে পারবেন না।
ড্যানি এমনভাবে দৌড়ান যেন জীবন এর ওপর নির্ভর করছে। প্রথম ব্যাগ নিয়ে লোগান সবার আগে ফেরেন। প্রথম টুকরোগুলো পাওয়ার পর চারজনই বোঝেন চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন, আর সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এখানে ড্যানির কৌশল চোখে পড়ে। অন্যরা যখন জলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, ড্যানি পাজল মেলাতে মেলাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে গ্যারিও এই কৌশল নেন। ডেরেক ভুল করে অন্য রঙের টুকরোর দিকে চলে যান, যদিও তাঁর কমলা রঙেরগুলো নেওয়ার কথা ছিল। লোগান সব টুকরো নিয়ে সবার আগে পৌঁছান। কিন্তু ড্যানির পাজলের বেশিরভাগ অংশ আগেই মেলানো ছিল, তাই শেষ পর্যায়ে এগিয়ে থাকেন তিনিই। উপস্থাপকের মতে, পাজলটা সহজ ছিল, কিন্তু অত সাঁতারের পর সবাই "ভাজা ভাজা" হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ড্যানি জেতেন।
ড্যানির হার্টের চারপাশে একটা খাঁচা বসানো হয়, যা হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা যাবে না। বাকি তিনজনের একজনকে যেতে হবে। ডেরেক আর গ্যারির মধ্যে আলোচনায় উঠে আসে, লোগান ড্যানির ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে অ্যাশলি হয়তো তাঁকেই টার্গেট করবেন। শেষে লোগান বাদ পড়েন। তাঁর বিদায়ে ক্যাম্পের সবার মন ভেঙে যায়। অ্যাশলি নিজেও বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ড্যানির "মাইন্ড গেম" আর ডেরেকের নীরব কৌশল
ইমিউনিটি পেয়েও ড্যানি পরিস্থিতি আরও খারাপ করেন। তিনি অ্যাশলিকে বলেন, অ্যাশলি এমন বোকা বোকা কথা বলেন যে মাথা ঠিক থাকে না, এবং "মেয়েদের মগজ মাইনক্রাফটের চেয়েও হাজার গুণ জটিল"। অ্যাশলি জানান, ড্যানির আশেপাশেও তাঁর থাকতে ইচ্ছা করছে না, কিছুক্ষণ একা থাকা দরকার। বাকি প্রতিযোগীদের মতে, সমস্যা ড্যানির অসম্মানজনক আচরণ, কারণ কাউকে ছোট না করেও নিজের কথা বোঝানো যায়। সতেরো নম্বর দিনে অ্যাশলি সবার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন।
ডেরেক আর গ্যারি তাঁকে একা থাকতে দেন। ড্যানি উল্টো পথ ধরেন: একটা ছোট "লোগান" বানিয়ে অ্যাশলিকে হাসাতে যান। তিনি দাবি করেন, সেদিন অ্যাশলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে বড় উন্নতি হয়েছে। অ্যাশলির মন ভালো হতেই ক্যাম্প চাঙ্গা হয়। অ্যাশলি সবাইকে নিয়ে ইয়োগা করান এবং বলেন, শ্বাস নেওয়ার সময় তাঁর জন্য ভালোবাসা ভেতরে নিতে, আর ছাড়ার সময় "সব মিথ্যা আর বিষাক্ত স্বভাব" বের করে দিতে। তারপর আলাদা করে জিজ্ঞেস করেন, "ড্যানি, বুঝতে পেরেছ তো?"
ড্যানি ক্যামেরায় নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তিনি দ্বীপের সবার সঙ্গে মাইন্ড গেম খেলছেন। অ্যাশলিকে সারাক্ষণ হাসিয়ে মাতিয়ে রাখছেন বলে অন্য ছেলেরা তাঁর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। ফলে অ্যাশলি ভাবছেন, ওরা কি আদৌ এখানে থাকতে চায়, ওরা কি সত্যিই তাঁর বন্ধু। ড্যানির দাবি, সব তাঁর পরিকল্পনা মতোই হচ্ছে। অ্যাশলিও একসময় বলেন, ড্যানিকে বিনোদনের জন্য রেখে দেবেন, কারণ বাকিরা কোনো চেষ্টাই করছে না।
ডেরেকের ব্যাখ্যা ছিল অন্যরকম। তিনি দু-একদিন চুপচাপ ছিলেন, কারণ তাঁর মতে আড়াই লক্ষ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে মাঝে মাঝে আড়ালে গিয়ে বিশ্লেষণ করে চাল চালতে হয়। কিন্তু উপস্থাপক জানান, ডেরেক এটা অ্যাশলিকে বুঝিয়ে বলেননি, তাই অ্যাশলি তাঁর মনের কথা বুঝতে পারছিলেন না। ড্যানি এই সুযোগে অ্যাশলিকে বলেন, আজ ডেরেককে বাদ না দিলে সেটা অবিচার হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অ্যাশলি কাকে বিশ্বাস করবেন: যে অর্ধেক টাকা দেবে, নাকি যে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে? ডেরেকের পাল্টা মন্তব্য, এখানে এমন একজন আছেন যাঁকে তিনি এক ডলারও বিশ্বাস করে দেবেন না, আড়াই লক্ষ তো দূরের কথা, আর তিনি হলেন ড্যানি। অ্যাশলি নিজে বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর তিনি একটা করে দল ভেঙে দিচ্ছেন।
প্ল্যাটফর্ম চ্যালেঞ্জ ও ৫০ হাজার ডলারের গোপন সিদ্ধান্ত
বিশ নম্বর দিনে প্রথমবার অ্যাশলিও চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। সবাইকে জলের ওপর আলাদা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হবে। যিনি সবার শেষে জলে পড়বেন, তিনি একটা "বড় সিদ্ধান্ত" নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা প্রতিযোগিতায় জিততে সাহায্য করতে পারে। ডেরেক মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে পড়ে যান। উপস্থাপক জানান, বাকিরা তাঁর ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় টিকে ছিলেন। বিশ মিনিট, তারপর এক ঘণ্টা পার হয়। দেড় ঘণ্টা পর চ্যালেঞ্জ কঠিন করতে প্রতিযোগীদের সম্মতি নিয়ে চারপাশে নৌকা চালিয়ে ঢেউ তৈরি করা হয়। প্রথমে গ্যারি পড়ে যান, তারপর অ্যাশলি। ড্যানি তাঁর দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ জেতেন।
পুরস্কার ছিল একটা বাক্স, যার ভেতরে ৫০ হাজার ডলার। ড্যানি চাইলে টাকাটা নিজের কাছে রাখতে পারবেন, অথবা মূল পুরস্কারে যোগ করতে পারবেন। উপস্থাপকের ব্যাখ্যায়, মূল পুরস্কারে যোগ করলে হয়তো অ্যাশলির বিশ্বাস ফিরে পাওয়া যাবে, তবে ঝুঁকিও আছে: অ্যাশলি টাকাটা নিয়েও তাঁকে বাদ দিতে পারেন। আর নিজের কাছে রাখলে বাক্সে কী ছিল কাউকে বলার দরকার নেই। ড্যানি টাকাটা নিজের কাছে রেখে গোপন রাখেন। উপস্থাপক বলেন, তাঁর ভয় ছিল অন্যরা জানলে তাঁকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এলিমিনেশনে ড্যানি শুধু বলেন, তাঁর সিদ্ধান্তে কারো থাকা-না-থাকার ওপর প্রভাব পড়বে না, তাই তিনি এটা গোপন রাখছেন। অ্যাশলি ড্যানিকে রেখে দেন। তাঁর যুক্তি: ড্যানি যেমন বিরক্তিকর, তেমনি সবচেয়ে বেশি হাসিয়েছেন, দিনগুলো সহজ করে দিয়েছেন, আর সব চ্যালেঞ্জে জিতছেন। তাই "নিজের স্বার্থেই" তাঁকে রাখা। এরপর ডেরেক আর গ্যারির মধ্যে সিদ্ধান্ত। অ্যাশলি স্বীকার করেন, ডেরেক সব চ্যালেঞ্জে খারাপ করেছেন আর গ্যারি সবগুলোতে দুর্দান্ত ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ছিল তিনি কাকে বেশি বিশ্বাস করেন, এবং সেই মাপকাঠিতে তিনি গ্যারির হার্ট ভাঙেন। সবাই চমকে যান। গ্যারি শান্তভাবে বিদায় নেন এবং বলেন, এটা এক অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল।
শেষ পাঁচ দিন: হাসি, আবেগের নাটক, আর আস্থা
ফাইনাল এলিমিনেশনের আগে দুজনের দৃষ্টিই আড়াই লক্ষ ডলারের দিকে। ড্যানি বলেন, টাকাটা তাঁর খুব দরকার, এবং জেতার মন্ত্র হলো অ্যাশলিকে যতটা সম্ভব হাসিতে রাখা। অ্যাশলিও মানেন, ড্যানি বেয়াদব হলেও তাঁকে হাসাতে পারেন। ডেরেকের কৌশল ছিল ড্যানিকে বেশি কথা বলতে দেওয়া, কারণ তাঁর ধারণা বেশি কথা বলে ড্যানি নিজেই বিপদে পড়বেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এক শেখানোর মুহূর্তে অ্যাশলি অভিযোগ করেন, যখনই তিনি ড্যানির সঙ্গে সময় কাটাতে চান, ড্যানি তাঁকে বোকার মতো কথা বলেন। বাইশ নম্বর দিনে তাঁদের আবার ঝগড়া হয়।
ডেরেক জানান, এখানে আসার জন্য তিনি চাকরি ছেড়েছেন, তাই টাকাটা তাঁর কাছে অন্যদের ধারণার চেয়েও দামী। একই সঙ্গে তিনি অ্যাশলিকে দেখান যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার যাবে "অ্যাশলি নিকোল মুর"-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অন্যদিকে ড্যানি টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, হয়তো কথার জালে ফাঁসিয়েও জিততে পারেন। তিনি অ্যাশলির কাছে খারাপ ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চান, বলেন তাঁর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা দেখেন। তারপর জানান, তাঁর মনে হয় মায়ের অ্যালজাইমার্স শুরু হয়েছে এবং মায়ের জন্য তাঁর অনেক কিছু করার আছে। উপস্থাপক এটাকে অ্যাশলির সহানুভূতির সুযোগ নেওয়া "আবেগের নাটক" বলেন এবং জানান, অবাক করে দিয়ে সেটা কাজ করতে শুরু করে। অ্যাশলি হাত ধরতে রাজি হন।
ডেরেক মনে করছিলেন তাঁর অবস্থান দুর্বল, কারণ অন্য দুজনের হাতে ক্ষমতা আছে, তাঁর নেই। তাঁর শেষ চাল ছিল অ্যাশলিকে বলা যে অ্যাশলি খালি হাতে ফিরলে তাঁর খুব খারাপ লাগবে, এবং অ্যাশলির অন্তত ছয় অঙ্কের টাকা নিয়ে ফেরা উচিত। চব্বিশ নম্বর দিনে অ্যাশলি দ্বিধার কথা বলেন। ডেরেক হয়তো ভালো প্রতিযোগী নন, কিন্তু সবসময় ভালো ও বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন। ড্যানি হয়তো তাঁর দেখা সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষদের একজন, কিন্তু তাঁকে তিনি খুব পছন্দ করেন এবং তিনি খুব মজার।
গুপ্তধন, শেষ বক্তব্য ও ড্যানির বিদায়
পঁচিশ নম্বর দিনে উপস্থাপক প্রশ্ন তোলেন, আরও ৫০ হাজার ডলার যোগ হলে কাজটা কি সহজ হবে? তিনি একটা গুপ্তধনের ম্যাপ দেন। সৈকতের কোথাও ৫০ হাজার ডলার লুকানো আছে, এক ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে পেলে সেটা মূল পুরস্কারে যোগ হবে। তিনজন মিলে একটা ভেড়ার মূর্তির সূত্র ধরে টাকাটা খুঁজে বের করেন। পুরস্কার দাঁড়ায় তিন লক্ষ ডলারে।
শেষ বক্তব্যে ডেরেক বলেন, অ্যাশলির বন্ধু ও এই যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে তিনি ধন্য। পঁচিশ দিনে অ্যাশলির সুন্দর মনটা কাছ থেকে দেখেছেন, এবং যা-ই ঘটুক তিনি অ্যাশলিকে ভালোবাসেন। ড্যানি চড়াই-উতরাইয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, অ্যাশলি যাকেই বেছে নিন, টাকার অর্ধেক তাঁর পাওয়া উচিত। তারপর রহস্যময়ভাবে যোগ করেন, সঠিক মানুষকে বেছে নিলে হয়তো আরও টাকা আয়ের সুযোগ আসতে পারে। ব্যাখ্যা চাইলে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।
অ্যাশলি ড্যানিকে বলেন, তাঁর মতো আর কেউ এত হাসাতে পারেনি, আবার তাঁর মতো বিরক্তও কেউ করেনি, তবু তিনি ড্যানিকে ভালোবাসেন। ডেরেক সম্পর্কে বলেন, তিনি সব চ্যালেঞ্জ জিততে পারেননি, কিন্তু চার বছর আগে ডেরেকের সঙ্গে দেখা না হলে তিনি আজ এখানে থাকতেন না, এবং ডেরেক সবসময় তাঁকে আগলে রেখেছেন। তাঁর কাছে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় বিশ্বাস আর সম্মান, আর ড্যানিকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য খুব কঠিন। তিনি ড্যানির হার্ট ভাঙেন। ড্যানি বলেন, তিনি মন থেকে জানতেন এমনটাই ঘটবে।
এরপর ড্যানি গোপন কথাটা ফাঁস করেন: প্ল্যাটফর্ম চ্যালেঞ্জের ৫০ হাজার ডলার তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন। অ্যাশলির প্রতিক্রিয়া ছিল অপ্রত্যাশিত। তিনি খুশি যে ড্যানি টাকাটা রেখেছেন, কারণ তাঁর মতে পঁচিশ দিন কষ্ট করার পর ড্যানির খালি হাতে ফেরাটা ঠিক হতো না। ড্যানি জানান, তিনি টাকাটা রেখেছিলেন কারণ মনে হচ্ছিল শেষে ডেরেকই জিতবেন। ড্যানি বলেন, তিনি একদম মন খারাপ করেননি, শেষে কিছু জিতেছেন তাতেই খুশি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ডেরেক কি অ্যাশলির মন ভাঙবেন?
শেষ ধাপে ভূমিকা বদলে যায়। এবার অ্যাশলি নিজের হার্টের পেছনে দাঁড়ান। উপস্থাপক ডেরেককে জানান, পরের পাঁচ দিনের যেকোনো সময় তিনি অ্যাশলির হৃদয় ভেঙে দিলে পুরো তিন লক্ষ ডলার একাই পাবেন। না ভাঙলে দুজনে দেড় লক্ষ করে পাবেন।
ডেরেক প্রকাশ্যে দ্বিধার কথা বলেন। হৃদয় ভাঙলে পরিবারের জন্য তিন লক্ষ ডলার নিতে পারবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেড় লক্ষ ডলার কি এখানে ফেলে যাবেন, আর পরিবার কি সেটা মেনে নেবে। অ্যাশলি বলেন, এখন শুধু দেখার বিষয় ডেরেক তাঁর মন ভেঙে সব টাকা একা নেন কি না। পরদিন সকালে ডেরেক ফিরে আসেন। তাঁকে বেছে নিতে হবে: হাতুড়িটা আগুনে ফেলে টাকা ভাগ করবেন, নাকি এক মাস দ্বীপে কাটানোর পর অ্যাশলির মন ভেঙে নিজের টাকা দ্বিগুণ করবেন। হাতুড়ি হাতে তিনি অ্যাশলির কাছে এগিয়ে যান। বলেন, এমন সুযোগ আর কবে আসবে যে একটা মন ভাঙলেই তিন লক্ষ ডলার পাওয়া যাবে, আর তাঁর পরিবারও হয়তো এটাই চাইবে। অ্যাশলি তাঁকে এত কাছে আসতে নিষেধ করেন।
শেষে ডেরেক বলেন, তিনি অ্যাশলিকে মন থেকে ভালোবাসেন, এবং সেই কথা ভেবেই জানান, "আমি ওর মন ভাঙব না।" অ্যাশলি বলেন, ডেরেক তাঁকে সাসপেন্সে রেখেছিলেন। দুজনেই দেড় লক্ষ ডলার করে পান। ছয় প্রাক্তন দিয়ে শুরু হওয়া খেলা এভাবে শেষ হয়। যিনি সবচেয়ে কম চ্যালেঞ্জ জিতেছিলেন কিন্তু যাঁকে অ্যাশলি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন, সেই ডেরেকই শেষে টাকা ভাগ করেন। আর যে ড্যানিকে অ্যাশলি বিশ্বাস করতে পারেননি, তিনি নিজের লুকানো ৫০ হাজার ডলার নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
তোমাদের চোখের বাঁধন খুলে ফেলো! অ্যাশলি, এরা তোমার ছ'জন এক্স বয়ফ্রেন্ড। ওহ! আর যে শেষ পর্যন্ত অ্যাশলিকে নতুন করে পটিয়ে টিকে থাকতে পারবে, সে পাবে ২.৫ লক্ষ ডলার।
ওদের উদ্দেশ্যে তোমার কিছু বলার আছে? কিছু বলার নাই। চলো এবার ক্যাম্পের দিকে যাই।
আমার জন্মদিনের নিমন্ত্রণে আসোনি বলে মন খারাপ ছিল। ব্যস্ত ছিলাম। ও তোমাদের কারো জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছে? আরে, ও তো আমাদের পার্টিতে ছিল!
ওরা যেহেতু একটা ট্রপিকাল দ্বীপে থাকতে যাচ্ছে যেখানে প্রয়োজনীয় সব কিছুই আছে... আমরা সারা জীবন এখানেই কাটিয়ে দিতে পারব। এই চ্যালেঞ্জ কিন্তু টিকে থাকার লড়াই নয়। এটা হলো ওকে আবার নতুন করে জেতার আর শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই।
প্রতি পাঁচ দিন অন্তর অ্যাশলি তোমাদের একজনকে বিদায় করে দেবে, আর শেষে যে টিকে থাকবে তাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রাইজ মানি কি সে অ্যাশলিকে ভাগ দেবে, নাকি পুরোটা নিজেই মেরে দেবে? এটাই কথা ছিল! মজা করো।
আগামী ৩০ দিন মনে হয় না অ্যাশলিকে নিজের আঙুলটা পর্যন্ত নাড়াতে হবে, যদি না সে নিজে চায়। না, আমাদের ওর জন্য দোলনা টাঙাতে হবে। সব কিছুতেই সবার আগে থাকতে হবে। আমি আপাতত এই ছায়ায় গিয়ে বসছি। এই ছেলেরা ওর জন্য সব করবে।
আমি অ্যাশলি। ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে থাকি। এখানে একটু মজা করার সুযোগ পেয়ে চলে এলাম। আমি শুধু দেখতে চাই এই সম্পর্কগুলো কোন দিকে যায়, আর সময়টা ভালো কাটাতে চাই।
এই নিন আমার রাজকুমারী, আমার রাণী।
সত্যি বলতে, এই ছেলেদের প্রত্যেকের সাথে আমার সম্পর্কটা আলাদা। যেমন মিচেলের সাথে একটা রোমান্টিক ব্যাপার আছে।
এখানে এসে খুশি তো? তুমি কি এখনই আমাকে ওভাবে দেখছো নাকি? না!
বাকিদের মধ্যে কারো সাথে আমি একটু ফ্লার্ট করি আবার কেউ কেউ আছে যারা শুধুই বন্ধু। কে আগে যাবে সেটা নিয়ে আমার একটা ধারণা আছে, দেখা যাক কী হয়।
এই এক্সপেরিমেন্টের মূল উদ্দেশ্য বেঁচে থাকা নয়। এটা হলো অ্যাশলির মন জয় করা আর তার বিশ্বাস অর্জন করা।
আমি বলছি না যে কাউকে বিশ্বাস করি না, তবে বিশ্বাসটা তাদের অর্জন করে নিতে হবে।
আমার মতো কেউ হলে খুব শান্ত মাথায় খেলবে আর এমন খাঁটি বন্ধু হয়ে দেখাবে যাতে সে টাকার ভাগ দিতে রাজি হয়।
অথবা হয়তো টাকা ভাগ দেবই না। ওহ! গ্যারি!
দিনশেষে আমরা খুব ভালো বন্ধু ঠিকই, কিন্তু আমি এখানে জিততে এসেছি। এটা আমার কাছে একটা লেনদেনের মতো।
আর সবাই যেহেতু অ্যাশলিকে পটাতে মরিয়া, তাই ওকে ইমপ্রেস করার কোনো সুযোগই তারা ছাড়ছিল না।
দেখো ড্যানি কত কাজ করছে! আমি চারপাশে তাকাচ্ছি আর ভাবছি, এসব সত্যিই ঘটছে তো?
যখন দেখা যাচ্ছে কিছু ছেলে অ্যাশলির মন জিতে নিচ্ছে... অ্যাশলি, তুমি কি সমুদ্রসৈকতে গিয়ে আমাকে ইয়োগা শেখাবে? অবশ্যই। আজকের দিনটা কেমন কাটবে তা ঠিক করার জন্য কিছুটা সময় নাও।
তখন অন্যরা আবার একটু বেশি চেষ্টা করছিল। আমাকে কি সত্যিই ভালোবাসো নাকি না? না। আমার জন্য তুমি বয়সে বড়। জেক, চুপ করো! হা হা! এটা বোধহয় খুব একটা ভালো বুদ্ধি ছিল না।
সবার প্রথম দিন কেমন কাটল? দারুণ! বেশ ভালো, ভালোই।
পাঁচ নম্বর দিনে কে বাড়ি যাবে সেটা কীভাবে ঠিক হবে? কাজটা কিন্তু বেশ কঠিন। কিছুই ঠিক হয়নি। এখনো কারো নাম ডিলিট লিস্টে ওঠেনি? না!
তবে আমি খেয়াল করেছি মিচেলকে তোমার বেশ পছন্দ। জানি না কেন, তবে ওকে ভালো লাগে। এখানে আসলে অনেক সমীকরণ আছে। হ্যাঁ, অনেক কিছু আছে। ভাগ্য ভালো, ওর কাছে ২৯ দিন আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
আজ তিন নম্বর দিন। আমার এখনো বিশ্বাসই হচ্ছে না যে এসব সত্যি সত্যিই ঘটছে। সব সত্যি। আমি শুধু এখানকার সময়টা এনজয় করছি।
আর ওর প্রাক্তনরাও সেটা বজায় রাখতে চাইছিল, কারণ ওরা জানত ওকে রাজকন্যার মতো রাখলেই তারা টিকে থাকতে পারবে।
অ্যাশলির জন্য একটু ঠান্ডা জল নিয়ে আসি। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই শেষে কাজে দেবে।
অ্যাশলির যেন কিছু না হয়। কোনো ভাল্লুক সামনে এলে আগে আমার সাথে লড়তে হবে।
তুমি কি এখানেই মেকআপ আর সাজগোজ করো? ওসবের দরকার নেই। তোমার স্কিন নিখুঁত। ধন্যবাদ, ড্যানি।
ড্যানি আর মিচেল যেন এই ক্যাম্পের রাজা। আমি মুগ্ধ। এখানে বেশ ঠান্ডা। ভালো করেছ ড্যানি।
অ্যাশ, এই শঙ্খটা তোমার জন্য এনেছি, যাতে আমাকে তোমার সব সময় মনে থাকে। ধন্যবাদ। এটা সত্যিই সুন্দর।
অ্যাশলিকে আমি এই ছোট দুল দুটো দেব যাতে জেতার দৌড়ে আমি একটু এগিয়ে থাকতে পারি। অ্যাশ, একদম অরিজিনাল দুল তোমার জন্য। ড্যানি! এগুলো দারুণ সুন্দর। তোমরা তো শেষ! আমার মনটা ভরে গেল।
অ্যাশলিকে এবার প্রথম কাউকে বাদ দিতে হবে আর এখন পর্যন্ত আমি জানি না ও কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নেবে। বিদায় ঘণ্টা বাজতে চলেছে।
আমার মনে হয় আজ কয়েকজনের সাথে কথা বলে একটু যাচাই করে নেওয়া দরকার যে কাকে...
আচ্ছা, তোমাকে যদি শেষ পর্যন্ত কাউকে বেছে নিতে বলা হয়, তুমি কাকে বেছে নেবে? তোমাকেই নেব, অ্যাশলি। ওহ। কেন ভাবিনি!
মনে হয় অ্যাশলি এখন অনেক বেশি সিরিয়াস। ও বোধহয় বুঝতে পারছে যে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আসলে কাকে বিশ্বাস করা যায়।
তোমার কি সত্যিই মনে হয় যে এখানকার কোনো ছেলে তোমার সাথে টাকা ভাগ করবে না? আমার মনে হয় মিচেল হয়তো পুরোটা মেরে দেবে। হ্যাঁ। আমি আবেগ দিয়ে খেলতে চাই না।
ও আমাকে বিশ্বাস করে না। ও জানে আমার মাথায় কী চলে। সত্যি বলতে, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমাদের মধ্যে বনিবনা হলে হবে, না হলে নেই। আমরা হয়তো দূরে সরে যাব। ওই আড়াই লাখ ডলার জেতার সুযোগ চাই। কারণ আমি যদি অতদূর পৌঁছাতে পারি, তবে পুরো টাকাটাই নিয়ে নেব। কারণ নিজের আখের তো নিজেকেই গুছিয়ে নিতে হবে।
শুভ রাত্রি। তোমাকে অনেক ভালোবাসি। ও আচ্ছা, আমি ভেবেছি আমিই তোমার জীবনের ভালোবাসা। সত্যি বলতে, এটা কখনো ভাবিনি। হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি আমার চেয়ে বড়।
চার নম্বর দিন শেষ হতে চলল। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, তাই এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।
পঞ্চম দিন। অ্যাশলি, তুমি ঐ হাতুড়ির পেছনে দাঁড়াও। আর তোমরা এক জন করে হার্টের পেছনে দাঁড়াও। প্রতি পাঁচ দিন পরপর অ্যাশলি তোমাদের একজনের হার্ট ভেঙে দেবে, আর তাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, সে ঠিক করবে পুরো টাকাটাই মেরে দেবে, নাকি অ্যাশলির সাথে ভাগ করে নেবে?
কী ভাবছো তুমি? ওরা সবাই খুব ভালো। সময়টা বেশ ভালোই কাটছে। সবাইকে রেখে দেওয়া যায় না?
আমি দেখলাম তুমি মিচেলকে একটু বেশিই পছন্দ করছো। ওর সাথে ফ্লার্ট করি ঠিকই, কিন্তু মানে এই নয় যে বাকিদের ভালোবাসি না।
আর অন্যদিকে দেখলাম জেকের সাথে তোমার ব্যাপারটা ঠিক জমছে না। তাই না? সত্যি বলতে, আমি যদি কাউকে বিশ্বাস না করি, তবে সে সম্ভবত জেক। ইয়াহ! আরে হাততালি দিচ্ছ কেন? তার মানে ও হয়তো তোমাকেই বাদ দিতে চলেছে। ধ্যাত! দুঃখিত।
অ্যাশলি, হাতুড়িটা হাতে নেবে? আমি খুব নার্ভাস। ঠিকমতো টিপ করতে পারব কি না কে জানে! ও হয়তো জেককেই মারবে।
বন্ধুরা, সময়টা দারুণ কেটেছে। বিদায়, জেক! তোমাকে মিস করব। আসলে করব না, তাও...
তাহলে এখন আর পাঁচজন। এটা কি আগেই বুঝেছিলে? না! অনেক আগে বুঝেছিলাম। কী বললে?
তোমরা তো জানো যে ৫ দিন পর আবারও একজন বাদ যাবে? হ্যাঁ। হ্যাঁ, উনি বোধহয় ওরকমই বলেছিলেন। আড়াই লাখ ডলারের আরও এক ধাপ কাছে।
অ্যাশলি যাতে পরের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাই ও ছেলেদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করল।
আমি তোমাদের রেস করাব। তা, সেকেন্ড হচ্ছে কে? রেডি... গেট সেট... গো!
সাবাশ! গ্যারি ফাটিয়ে দিচ্ছে।
এরপরে কাকে বিদায় করব সেটা এখনো বুঝতে পারছি না, তাই ভাবলাম এই চ্যালেঞ্জগুলো দিয়ে একটু পরখ করে নিই। নাকি হ্যান্ডসাম ছেলেদের কসরত দেখাটাই আমার আসল উদ্দেশ্য? কে জানে!
তবে আমার দেখা দরকার যে সবাই আগুন জ্বালাতে পারে কি না। ঠিক আছে। তৈরি? শুরু করো!
লোগান, তুমি কী ভাবছো এসব নিয়ে? ওর এখন কথা বলার সময় নেই।
আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছি।
মনে হচ্ছে মিচেলকেই এখানে থাকতে হবে আমার দেখাশোনা করার জন্য।
আমরা একটা ট্যালেন্ট শো করব। চুপ করো!
তুমি কি ওটমিল খাবে? না, লাগবে না। আমি আরেকটা বাটি আনতে যাচ্ছি। আমি একটু খাব, মিচেল। ধন্যবাদ।
আমার মনে হয়, রান্নাবান্না মেয়েদেরই করা উচিত।
আমি পরিষ্কার করছি।
এই নাও। ধন্যবাদ। এটা খেতে দারুণ হয়েছে। এর সাথে পিনাট বাটার থাকলে আরও ভালো হতো।
তুমি পারোও বটে সব আনন্দ মাটি করে দিতে!
আমি যাই বলি বা করি, কিছুই মিস অ্যাশলির মনঃপূত হয় না। এটাই বড় সমস্যা।
তুমি কি এখন ঝগড়া করতে চাইছো? আমি যাই বলি না কেন, তুমি রেগেই যাবে। তাই... কী?
জানি না কেন, আমার খুব অদ্ভুত লাগছে। মিচেল আর ওর সম্পর্কটা দেখতে আসল মনে হলেও আমার মনে হয় এটা ফেকও হতে পারে।
তোমার মাথায় কী চলছে? কী ভাবছো তুমি?
তুমি তো জানো আমি কেমন। আমি কেমন মানুষ তোমার জানা। তুমি জানো আমার সততা আর নীতিবোধ আছে।
আমি একদম ছিঁচকাঁদুনে মেয়ে। তুমি কি কাঁদছো? হ্যাঁ, অল্প একটু।
আমি কৃতজ্ঞ যে তুমি এখানে আছো। কাছে এসো। আমি খুশি যে এটা করতে পেরেছি।
মিচেল ভালো করেই জানে যে ওর জন্য আমার মনে একটা দুর্বলতা আছে। আমি ওকে বিশ্বাস করতে চাই, কিন্তু আসল সত্যিটা হলো ও হয়তো বাড়ি চলে যাবে আর আমাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ কোনো কথাই হবে না... আসলে সবটাই নির্ভর করছে ওর চিন্তাভাবনার ওপর।
আমি এই দ্বীপে যত বেশি দিন থাকছি, ততই যেন বাইরের জগত থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।
কী অবস্থা সবার? কী খবর তোমাদের? আজ নয় নম্বর দিন। তোমাদের জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। কাল দশ নম্বর দিন। আর অ্যাশলি, এই সারপ্রাইজটা তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
আচ্ছা! দারুণ তো। ছোট একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা তৈরি। চলো নৌকায় ওঠা যাক! আমরা নৌকায় যাচ্ছি!
ঠিক কোথায় এসেছি বলো তো? তোমাদের স্বাগত চ্যালেঞ্জ আইল্যান্ডে!
এই যে বড় জিনিসটা দেখছো এখানে? ইয়েস স্যার।
অ্যাশলির সাথে একটা বিশেষ রাত কাটানোর জন্য তোমরা একটা চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে যাচ্ছ। সাথে থাকছে আরও কিছু আরাম।
দারুণ তো! বিজয়ী অ্যাশলির সাথে ২৪ ঘণ্টা এখানে থাকবে। তোমরা পাবে বিছানা, মাসাজ আর রাজকীয় খাবার। আর বাকিরা কালকের এলিমিনেশন পর্যন্ত অ্যাশলির সাথে কোনো কথা বলতে পারবে না।
ধ্যাত। ঘাবড়ে যাচ্ছি। তা খেলাটা কী? আমাদের কী করতে হবে?
বালি খুঁড়ে সবার আগে যে চাবি বের করবে, হাতুড়ি আনলক করে পাথর ভাঙবে আর ড্রাম ঠেলে ওপরে তুলবে—সে-ই অ্যাশলির সাথে রাত কাটানোর সুযোগ পাবে। আর এর মাধ্যমেই হয়তো কালকের এলিমিনেশন থেকে সে বেঁচে যেতে পারে।
শুরু করা যাক! যে বেস্ট সেই জিতুক। তিন... দুই... এক... শুরু!
এটা অনেক গভীরে। খোঁড়ো। জলদি খোঁড়ো! আমি পেয়েছি।
গ্যারি সফলভাবে বালির নিচ থেকে চাবি বের করে ফেলেছে। ও জিততে চায়! তবে লোগানও খুব একটা পিছিয়ে নেই। হাতুড়িটা বের করো।
সত্যি বলতে, আমি ভেবেছিলাম চাবি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে অত সহজ নয়। এটা ভালো হচ্ছে না।
গ্যারি সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জে গ্যারিকে একবারও হিমশিম খেতে দেখা যায়নি।
এটা বড্ড সহজ!
আরে, এটাও না?
আরে, এটাও না? কী হচ্ছেটা কী...
গ্যারির ধারে কাছেও কেউ নেই। ও তো হাসতে হাসতে জিতে যাচ্ছে! কোনোভাবে ডেরেক আর মিচেল এখনো বালি খুঁড়েই যাচ্ছে।
আমি কনফিউজড!
এটা ভাবতেই অবাক লাগছে কারণ আমরা ঠিক কোথায় চাবি আছে সেটা চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলাম। ছেলেরা, তোমাদের দেখে কষ্ট হচ্ছে।
লোগান প্রায় ধরে ফেলেছে। তুমি প্রায় চলে এসেছ। একদম ঠিকঠাক করো। ঠিক করে বসাও।
গ্যারি জিতে গেছে! হ্যাঁ লোগান, তুমি এবার থামতে পারো।
অভিনন্দন। ধন্যবাদ। চলো এবার যাওয়া যাক। চলো যাই। আর বাকিরা, চলো নৌকায় ফিরে যাই।
আমাদের জন্য ফিস্টেবলস রেখো কিন্তু! ওদের কাছে খাবারের গুরুত্বই বেশি।
বিদায় বন্ধুরা। বিদায়।
আমার মনে হচ্ছে এই পরিবেশটা আমার সাথে ঠিক মানাচ্ছে না। হ্যাঁ, এতদিন কষ্ট করার পর এমনটাই স্বাভাবিক।
গ্র্যান্টের সাথে সম্পর্কের আগে আমাদের মধ্যে একটা ব্যাপার ছিল। হ্যাঁ। আমার মনে হয় সম্পর্কটা ঠিক শেষ হয়নি, বরং ফিকে হয়ে গিয়েছিল। তখন অন্যজনের সাথে মেলামেশা শুরু করি।
মানুষ তো ব্যস্ত হয়েই পড়ে, তাই আমি এটাতে কিছু মনে করিনি। আমার সম্মানে লাগেনি।
কাণ্ড দেখো!
যখন অ্যাশলি আর গ্যারি এই বিলাসিতা উপভোগ করছে... তখন ক্যাম্পে বাকি ছেলেরা দুশ্চিন্তায় মরছে যে কাল অ্যাশলি কাকে বাদ দেবে।
এলিমিনেশনের আগের রাতটা যে কত কষ্টের হতে পারে, বলে বোঝানো যাবে না ভাই।
আমার মনে হয় তুমি নিরাপদ। বিপদ ড্যানি, লোগান অথবা আমার ওপর আছে।
সত্যি বলতে, আমার জেতার চান্স ফিফটি-ফিফটি। আমাদের মধ্যে থেকেই কেউ একজন যাচ্ছে।
তুমি কী ভাবছো? আমার মনে হয় আজ আমিই বাদ পড়ে যাব। ধন্যবাদ।
আজ দশ নম্বর দিন। বড় দিন। এলিমিনেশনের দিন। যা হওয়ার তা তো হবেই। তাই...
এবার একজনকে বিদায় করার সময় এসেছে। চলো দেখা যাক।
কী খবর সবার? কী অবস্থা? ধন্যবাদ সবাইকে। গ্যারি আর অ্যাশলি, তোমাদের রাতটা কেমন কাটল?
বেশ ভালো ছিল। ভালো খাওয়া-দাওয়া, দারুণ মাসাজ—সব মিলিয়ে বেশ ভালো।
তোমরা কি আমাকে মিস করেছো? অবশ্যই। খুব বেশি। হ্যাঁ, ভীষণভাবে।
তুমি কি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছ? মনে তো হয়।
আমি যাচ্ছি। আমার মনে হয় আমিই যাচ্ছি।
তোমরা সবাই এখানে এসেছ বলে আমার খুব ভালো লেগেছে, কিন্তু আমাকে তো এক এক করে তোমাদের বিদায় দিতেই হবে।
"বিদায় দেওয়া" কথাটা বড্ড নিষ্ঠুর শোনাল। একদম।
ঠিক আছে অ্যাশলি। তুমি তৈরি থাকলে বলো। কাকে বাদ দিতে চাও? হাতুড়িটা তুলে নাও আর ওর হৃদয় ভেঙে দাও।
আমি আগেই বলেছি, তোমরা সবাই এখানে আছো দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। তোমরা হয়তো তোমাদের জীবনের অনেক কাজ ফেলে এখানে এসেছ। তাই আমার খুব খারাপ লাগছে বলতে যে, এখন সময় হয়েছে তোমার... আবার কাজে ফেরার।
অসম্ভব!
মিচেল, বাকিদের জন্য কোনো উপদেশ?
মিচেল, বাকিদের জন্য কোনো উপদেশ? বন্ধুরা, আমার হয়ে তারা গুনো। ঠিক আছে ওস্তাদ। সব সমীকরণ মিলিয়ে নিও। যেন সব কিছু ঠিকঠাক থাকে। কোন সাংকেতিক ভাষায় কথা বলছে? আমি তোমাকে মিস করব। জানি না ভাই, ওদের গ্রুপ কোড হবে। আমাকে বেশি মিস করো না। আমি সামলে নিব।
ছেলেরা, তোমরা ক্যাম্পে ফিরে যেতে পারো। তোমরা নিরাপদ। ঠিক আছে। ভালো হলো। আপাতত। আপাতত।
আগের জীবনে ফেরা। গত দশটা দিনের কী দারুণ এক অভিজ্ঞতা হলো ভাই!
আমাকে একটু বসতে হবে। হ্যাঁ, আমারও। আমি তো একদম বাকরুদ্ধ। আমার মনে এখন অনেক কিছু চলছে। হ্যাঁ।
তোমার কেমন লাগছে? আমি এই খেলাটা শুধু আবেগ দিয়ে খেলতে চাইনি। বুদ্ধিমতী। অবশ্যই। অন্য সব কিছুর চেয়ে আমি বেশি ভাবছি যে কে আসলে জেতার পর টাকাটা আমার সাথে ভাগ করে নেবে।
যখন ওরা আড়াই লক্ষ ডলারের জন্য লড়ছে, তখন আমি আপনাদেরও কিছু টাকা দিতে চাই। কারণ আমরা ৫০ কোটি সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলকের কাছে পৌঁছে গেছি, যা আমি কোনোদিন ভাবিনি। গত কয়েক বছরে আপনাদের এই অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর এই খুশিতে আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত আমি প্রতিদিন একজন সাবস্ক্রাইবারকে ১০০০ ডলার করে দেব। তাই দেরি করবেন না। এখনই সাবস্ক্রাইব করুন!
মিচেল এভাবে হুট করে বাদ পড়ায় বাকি ছেলেরা বুঝতে পারল অ্যাশলির মন পেতে হলে তাদের অসাধারণ কিছু একটা করতেই হবে।
তাই আমরা বানানো ঘর থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত রাস্তা বানানোর চেষ্টা করব। অ্যাশ, তুমি এটা দেখে সত্যিই খুব খুশি হবে।
কিন্তু ওরা বোধহয় আবেগে একটু বেশিই ভেসে গিয়েছিল।
ছেলেরা? ভাই, পুরো জমে যাবে! তোমরা কি ভুলে গেলে নাকি... তিন, দুই, এক... ফেলো ফেলো। যে আমি এখানে আছি? জলদি। পরেরবার এটা মাথায় রেখো... তুমি কি সাহায্য করতে চাও? না। ওকে। আমি বলছি এখন ওটা এভাবে সাজানোর দরকার নেই...
আমার মনে হয় ওরা সব কিছু ভুলে গেছে, ভুলেই গেছে যে আমি এখানে আছি। আমি তো এখানকার রাজকুমারী! আর এখন আমি বোর হচ্ছি। আমার সবাইকে তাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করছে। ছেলেমানুষ।
অ্যাশলি কোথায়?
সব চেষ্টা যখন বিফলে গেল, তখন ওরা সামুদ্রিক মাছের ডিনার দিয়ে খুশি করার চেষ্টা করল।
ওহ, লোগান। জলদি করো! লোগান! লোগান! জলদি লোগান! এসো লোগান! অ্যাশলি, এটা খেতে কিন্তু দারুণ হবে। আমরা এতক্ষণে এই পেলাম?
অ্যাশলি, মনে হয় তুমি সব সময় অভিযোগ করো। আসলেই মনে হয়। আমি কি ভুল? ভুল হলে বলো। মনে হয় সব কিছুতেই তুমি... তোমার ভালো লাগে না! আর আমার খারাপ লাগে। কারণ আমি চাই তুমি খুশি হও।
ঠিক আছে। দুঃখিত।
মিস্টার বিস্ট ব্যাকগ্রাউন্ডে: "আর এখান থেকেই ড্যানির বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি হলো।"
১৫ নম্বর দিন। কাগজে-কলমে ড্যানির হাতে আরও কয়েক দিন সময় ছিল অবস্থাটা আরও শোচনীয় করার জন্য।
হ্যারি পটার খুব প্রিয়। আমি কয়েকটা পার্ট দেখেছি। আমি তো সব বই পড়ে ফেলেছি। আমার কাছে ওগুলো কোনোদিনই তেমন মজার মনে হয়নি।
ওকে বন্ধুরা, দেখা হবে। ১৫তম দিনে যাচ্ছি। ওই কমেন্টটার জন্য। আমি তোমাদের খুব মিস করব। তুমি কী বোঝাতে চাইছ? হয়তো ১৫ নম্বর দিনেই আমি এলিমিনেট হয়ে যাব।
মাথা ঠান্ডা রাখো ভাই। বিশ্বাস অর্জন করতে অনেক সময় লাগে, আর সেটা ভাঙতে লাগে মাত্র এক মুহূর্ত। বুঝলে? ঠিক বলেছ। তোমরা একদম ঠিক কথা বলেছ। দেখা যাক কী হয়।
শেষ পর্যন্ত অ্যাশলি ওকে নিয়ে বসল আর বুঝিয়ে বলল কেন ওদের মধ্যে আর কিছু হওয়া সম্ভব নয়।
আমি জানি না যে তুমি সত্যিই আমাকে কেয়ার করো কি না। আমার কোনো বিপদ হলে আমি যদি ডেরেক বা গ্যারিকে ডাকি, আমি নিশ্চিত ওরা সব কাজ ফেলে ছুটে আসবে। কিন্তু আমার মনে হয় না যে তুমি সেটা করবে।
দেখো অ্যাশলি, আমি শুধু এটাই বলতে চাই—আমি তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে চাই। আমার মনে তুমি সব সময় বন্ধুই থাকবে। এখন থেকে আরও চেষ্টা করব। আরও আগে থেকে না করার জন্য ক্ষমা চাইছি।
আমি খুব ইমোশনাল হয়ে পড়েছি।
বন্ধুরা, ভবিষ্যতে কী হবে আমি জানি না। তবে এটুকু জানি যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য আমি জানপ্রাণ দিয়ে লড়ব। হয়তো আমার চিন্তা আরও পরিষ্কার হবে। এমনও হতে পারে, ওর সব টাকা নিতে ইচ্ছা করবে। আসলে কিছুই বলা যায় না। আমি শুধু আশা করছি এমন কিছু একটা ঘটুক যাতে আমি আরও বেশি দিন এখানে থাকার সুযোগ পাই।
ড্যানি জানত না, তবে আমি ঠিক সেই সুযোগটাই নিয়ে আসছিলাম। আজকের খেলাটা বেশ মজার হতে যাচ্ছে।
আমি কি এখানে দর্শক? হ্যাঁ। তুমি অবশ্যই একজন দর্শক। চমৎকার। হ্যাঁ। আমি অলসতা ভালোবাসি। দারুণ। চলো শুরু করা যাক।
যেহেতু আড়াই লক্ষ ডলারের ব্যাপার, তাই তোমাদের সুযোগ দিতে চেয়েছি অ্যাশলির প্রতি তোমাদের ভালোবাসা প্রমাণ করার। আজ বাড়ি যাবে কি না, সেটা তোমাদের হাতেই।
পরের এই চ্যালেঞ্জটা হলো পাজল রিলে... যেখানে অ্যাশলির ভেঙে যাওয়া হৃদয় জোড়া লাগাতে হবে। পাজলের টুকরোগুলো আনার জন্য তোমাদের সমুদ্রের অনেক গভীরে সাঁতরে যেতে হবে। যে সবার আগে ফিরে এসে অ্যাশলির হৃদয়টা আবার নতুন করে গড়তে পারবে... সে আজকে ইমিউনিটি পাবে। অ্যাশলি তাকে বাড়ি পাঠাতে পারবে না। চলো শুরু করি।
এটা হলো অ্যাশলির হৃদয়। অন্যদের আগে এটা তোমাকে ঠিক করতে হবে। নতুবা তোমাকে আজ যেতে হবে। সম্ভবত। কোনোমতেই ওকে জিততে দিও না।
বন্ধুরা, তোমরা কি তৈরি? হ্যাঁ। তিন... দুই... এক...
ড্যানি এমনভাবে দৌড়াচ্ছে যেন এই খেলায় জেতার ওপরই ওর জীবন নির্ভর করছে। ওর আসলেই ঐ অতিরিক্ত পাঁচ দিন দরকার অ্যাশলিকে শেষ পর্যন্ত পটিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু ড্যানি তো অনেক দূর চলে যাচ্ছে! ওদের মধ্যে দুজন সবচেয়ে দূরেরগুলো আর বাকি দুজন নিল সবচেয়ে কাছের। দেখা যাক কী হয়।
আর লোগান সবার আগে বেরিয়ে এসেছে! চলো চলো! লোগান পাজলের প্রথম টুকরোগুলো আনলো। ডেরেকও নিয়ে এসেছে। ড্যানি চেষ্টা করো। এখনই বাদ পড়ে যেও না। চলো।
চারজনই যখন তাদের প্রথম ব্যাগের টুকরোগুলো পেল, তখন তারা বুঝতে পারল চ্যালেঞ্জটা আসলে কতটা কঠিন।
ওরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। হ্যাঁ, ওদের দম ফুরিয়ে এসেছে। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। লোগান, তুমি দারুণ করছো। তুমিই পারবে!
ও একটু জিরিয়ে নিয়ে পাজল বানাচ্ছে। ড্যানি সবাইকে টেক্কা দিয়েছে। ওরা যখন জলে বিশ্রাম নিচ্ছে, ড্যানি তখন পাজল মেলাতে মেলাতে বিশ্রাম নিচ্ছে। আমি এটা আশাই করিনি। এই মুহূর্ত পর্যন্ত ড্যানিই সবার আগে আছে।
বন্ধুরা, ড্যানি যদি জিতে যায় তবে আমি কী করব সত্যিই বুঝতে পারছি না।
গ্যারিও ড্যানির কৌশল ধরেছে—পাজল মেলানোর ফাঁকে বিশ্রাম নিচ্ছে। লোগান ওখানে বেশ হিমশিম খাচ্ছে। লোগান কেবল ভেসে আছে। দাঁড়াও, ডেরেক বোধহয় ভুল রঙের দিকে চলে গেছে। ওর তো কমলা রঙের টুকরোগুলো নেওয়ার কথা ছিল।
লোগান সব টুকরো নিয়ে সবার আগে পৌঁছে গেছে। ড্যানি এখনো তার তৃতীয় ব্যাগটা পায়নি। লোগান, তুমি কিন্তু জিতে যেতে পারো। আমি এখানে। ঠিক আছে, ড্যানি ফিরে যাচ্ছে। ড্যানি দৌড়াচ্ছে। পাজলটা এখন মেলাতে পারলেই তুমি জিতে যাবে। চালাও ড্যানি, তুমি প্রায় পৌঁছে গেছ।
১ থেকে ১০-এর মধ্যে কতটা হাঁপিয়ে গেছো? এগারো। লোগান, খুব ভালো করছো। তোমার কি সব টুকরো এখানে চলে এসেছে?
যেহেতু ওর পাজলের বেশিরভাগ অংশ মেলানো হয়ে গেছে... ড্যানিই এগিয়ে আছে।
ও হয়তো এখনই খেলাটা শেষ করে দেবে। এই পর্যায়ে এসে যে আগে পাজলটা মেলাতে পারবে, সে-ই হবে বিজয়ী।
আমার খুব টেনশন হচ্ছে। চালাও গ্যারি, তুমিই পারবে। দাঁড়াও, ও কিন্তু দারুণভাবে ফিরে আসছে। চলো গ্যারি, চলো! এগিয়ে যাও! যে কেউ এখনো জিততে পারে।
আমি আগে কখনো হার্ট গড়িনি। আর আমি তো শুধু ভেঙেছি।
আমি খুব কনফিউজড। ভাবিনি পাজল মেলানো এত কঠিন হবে। তবে ওরা সবাই বড্ড ক্লান্ত। লোগান, তুমি চাইলে একটা ঘুম দিয়ে নিতে পারো।
বন্ধুরা, এটা বাঁচা-মরার লড়াই। এটা ওভাবে হবে। চলো চলো।
ডেরেক তো এখানে উল্টোপাল্টা হার্ট বানাচ্ছে। পাজলটা খুব সহজ, কিন্তু অত সাঁতার কাটার পর ওরা পুরো ভাজা ভাজা হয়ে গেছে। এবার বড় কিছু হতে চলেছে।
ও কি পেরেছে? এটা ওপরে না তোলা পর্যন্ত নয়।
ড্যানি জিতে গেছে! ও পেরেছে! ও পেরেছে!
আহ্! না মাজদ, ওদের মেরো না। এটা তোমার জন্য ছিল অ্যাশলি। ধন্যবাদ সোনা।
ড্যানির হার্টের বাইরে খাঁচাটা কেমন? ওর পছন্দ নয়। তবে আমার ভালো লেগেছে। হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা যাবে না। সত্যিই? না, তোমার পরীক্ষা করার দরকার নেই।
এবার আসর তোমার। অ্যাশলি, আমি তোমার কথা শুনতে চাই। আমার মাথায় এখন কিছুই আসছে না। কারো কিছু বলার আছে? তোমাদের তিনজনের মধ্যে একজনকে আজ চলে যেতে হবে।
আমি নিশ্চিত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। যাই হোক, ভালোবাসি।
কাজটা সত্যিই কঠিন। তোমার কি মনে হয় ড্যানির হয়ে ও তোমাকেই টার্গেট করবে? কারণ তোমরা তো খুব ভালো বন্ধু। একটা সুযোগ তো আছেই। হ্যাঁ, ১০০ ভাগ।
ড্যানির বাদ পড়ার কথা ছিল, কিন্তু ও আরও পাঁচটা দিন এখানে থেকে যাচ্ছে। বড়জোর ওই পাঁচ দিনই।
আমি এটা করতে পারছি না। ও কী করতে যাচ্ছে আমার কোনো ধারণাই নেই। মনে হয় অ্যাশলি নিজেও জানে না ও কী করতে চলেছে।
এটা খুব কঠিন।
ভালোবাসি ভাই। আমিও।
আমি এটা একেবারেই ভাবিনি। ১৫ নম্বর দিনটা তো এভাবেই কাটল। ভাবো ২৫ নম্বর দিনের কথা যখন মাত্র দুজন বাকি থাকবে। তখন ব্যাপারটা পুরো পাগলাটে হবে।
লোগান বিদায় নেওয়ার পর ক্যাম্পের সবার মন একদম ভেঙে গেল।
লোগানকে খুব মিস করছি। খুব মন খারাপ। মনে হচ্ছে আমি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।
এই চ্যালেঞ্জে জেতার কোনো সুযোগ পেতে হলে ড্যানির এখন মরণপণ চেষ্টা করা দরকার যাতে অ্যাশলি ওকে পছন্দ করে।
আমি জানি অ্যাশ, তুমি চাও আমি থাকি। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ভাবি তোমার ওপর রাগ করব না কিন্তু তুমি এমন সব বোকা বোকা কথা বলো যে মাথা ঠিক থাকে না।
মেয়েদের মগজ মাইনক্রাফট গেমের চেয়েও হাজার গুণ বেশি জটিল। কী বললে?
কিন্তু ও পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলছে।
আমার এখন ড্যানির আশেপাশে থাকতেই ইচ্ছে করছে না। আমার মনে হয় কিছুক্ষণ একা থাকা দরকার।
তুমিই এই ক্যাম্পের প্রাণ। আমাদের তোমাকে দরকার। যতটা সময় লাগে নাও, কিন্তু তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।
না ভাই, অ্যাশলি কোনোভাবেই ড্যানিকে নিয়ে ২৫ নম্বর দিন পর্যন্ত যেতে পারবে না। একদম, ও তো ওর গলা টিপে ধরবে!
আমার সমস্যা হলো ওর এই অসম্মানজনক আচরণ নিয়ে। আমি একমত। একটা মেয়ের কাছে নিজের কথা বুঝিয়ে বলা যায়, তাকে ছোট না করেও। সময় হলে ও ঠিকই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ওকে আজকের দিনটা একা ছাড়ো।
১৭ নম্বর দিনে অ্যাশলি সবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিল। কিন্তু আড়াই লক্ষ ডলার জিততে ওকে মানিয়ে রাখা ছাড়া ছেলেদের আর কোনো উপায় ছিল না।
আমি শুধু চেষ্টা করছি যেভাবেই হোক কিছু টাকা সাথে নিয়ে ফিরতে। অ্যাশলির সাথে ওই আড়াই লক্ষ ডলার ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ। সত্যি বলতে, আমার মনে হচ্ছে টাকাটা আমি জিতেই গেছি।
ডেরেক আর গ্যারি অ্যাশলিকে একা থাকতে দিল, কিন্তু ড্যানি ভাবল এই সুযোগে ওকে একটু হাসিয়ে পটিয়ে নেওয়া যাক।
ও হয়তো মনস্থির করে ফেলেছে যে আমি এখানে থাকব না, কিন্তু বলা তো যায় না!
কী করছো তুমি? মন খারাপ করে পড়ে আছি। মজার একটা জিনিস দেখাব? আমি এই ছোট লোগানটাকে বানিয়েছি। আমার খুব মন খারাপ। ঠিক হয়ে যাবে অ্যাশ। সব ঠিক হয়ে যাবে।
আজ অ্যাশলির সাথে আমার সম্পর্ক আর আবেগের ক্ষেত্রে একটা বড় উন্নতি হলো।
অ্যাশলির মন ভালো হতেই ক্যাম্পের সবার উৎসাহ আবার বেড়ে গেল।
চলো সবাই মিলে ইয়োগা করি, চোখ বন্ধ করো। নিঃশ্বাসের সাথে আমার জন্য তোমাদের ভালোবাসা ভেতরে নাও। আর প্রশ্বাসের সাথে তোমাদের সব মিথ্যা আর বিষাক্ত স্বভাব বের করে দাও।
ড্যানি, এটা বুঝতে পেরেছ তো? এখনো দম ছাড়ছি। ওগুলো বের করছি।
তোমার সাথে থেকে আমার বুদ্ধি কমছে, আর এটা বেশ ভালোই লাগছে। এটাই তো আমার টেকনিক।
ড্যানি যেমন সবাইকে মাতিয়ে রাখছে, অন্যদিকে গ্যারি আর ডেরেক যেন নিজেদের জগতেই ব্যস্ত। পার্থক্যটা খুব স্পষ্ট।
হয়তো দু-একদিন আমি একটু চুপচাপ ছিলাম, কিন্তু আড়াই লক্ষ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে মাঝে মাঝে একটু আড়ালে গিয়ে সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে চাল চালতে হয়।
কিন্তু ডেরেক সেটা অ্যাশলিকে বুঝিয়ে বলেনি, তাই অ্যাশলিও বুঝতে পারছিল না ডেরেকের মনে কী চলছে।
ডেরেক কী করছে? ও তো শুধু বাইরে চক্কর কাটছে। ওকে যদি আজ বাদ না দাও অ্যাশ, তবে সেটা ওর প্রতি অবিচার হবে।
আমি আসলে এই দ্বীপের সবার সাথে মাইন্ড গেম খেলছি। যেমন অ্যাশলিকে সারাক্ষণ হাসাচ্ছি। আমি ওকে সারাক্ষণ মাতিয়ে রাখছি বলে অন্য ছেলেরা ওর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যার ফলে অ্যাশলি ভাবছে—ওরা কি আদৌ এখানে থাকতে চায়? ওরা কি সত্যিই আমার বন্ধু? ওরা কি আমার সাথে থাকতে চায়? সব কিছু আমার পরিকল্পনা মতোই হচ্ছে।
আমি ভাবছি তোমাকেই এখানে রেখে দেব, বিনোদনের জন্য। বাকিরা তো কোনো চেষ্টাই করছে না।
তুমি কি বোর হতে চাও নাকি মজা করতে চাও? তুমি কি এমন কাউকে বিশ্বাস করবে যে তোমাকে অর্ধেক টাকা দিবে নাকি এমন কাউকে যে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে?
আমি নিশ্চিত যে ডেরেক আমাকে একদমই সহ্য করে না।
এখানে এমন একজন আছে যাকে আমি এক ডলারও বিশ্বাস করে দেব না, আড়াই লক্ষ তো দূরের কথা। আর সে হলো ড্যানি। পরিস্থিতি এখন জমে ক্ষীর হতে চলেছে, আর আমি সেটারই অপেক্ষায় আছি।
কালকের দিনটা নিয়ে আমার খুব টেনশন হচ্ছে। মনে হচ্ছে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর আমি একটা করে দল ভেঙে দিচ্ছি।
ভালোভাবে ঘুমিয়ে নাও ড্যানি। তুমিও অ্যাশ।
আজ ২০ নম্বর দিন। চ্যালেঞ্জের জন্য তোমরা তৈরি? আমরা তৈরি। ওকে, চলো নৌকায় ওঠা যাক।
সাধারণত সব চ্যালেঞ্জেই আমরা জানতাম আমাদের ঠিক কী করতে হবে।
দেখছো এখানে চারটে আর একটা বড় প্ল্যাটফর্ম আছে। অ্যাশলি, তুমিও এই চ্যালেঞ্জে আছো। কেমন লাগছে? আমি খেলতে চাই, খুব এক্সাইটেড আমি।
নিয়ম খুব সহজ। তোমরা সবাই এই প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়াবে। আর যে সবার শেষে জলে পড়বে, সে একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাকে প্রতিযোগিতায় জিততে সাহায্য করতে পারে।
তিন... দুই... এক... শুরু! চলো!
অ্যাশলিকে দেখো, একদম শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই কিন্তু বেশ ভালোই পাল্লা দিচ্ছে। খুব শান্ত কিন্তু টানটান উত্তেজনা।
ওহ ওহ! ওহ, না! না!
ডেরেক মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই পড়ে গেল। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই ও আউট। বাকি প্রতিযোগীরা আমার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় টিকে ছিল।
ঠিক আছে বন্ধুরা, ২০ মিনিট পার হয়ে গেছে। আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার পায়ের মাংসপেশিগুলো কাঁপছে। আমার সাথে কথা বলবে না।
প্ল্যাটফর্মের ওপর এক ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে। টানা দেড় ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকার লড়াইয়ের পর, এবার সময় হলো চ্যালেঞ্জটাকে
এবার সময় হলো চ্যালেঞ্জটাকে আরও কঠিন করে তোলার। আমরা যদি চারপাশে নৌকা চালিয়ে ঢেউ তৈরি করি, তোমাদের সমস্যা নেই তো? সবাই একটু থাম্বস-আপ দেখাও। নৌকাটা নিয়ে এসো!
আমরা প্রথম রাউন্ডের ঢেউ শুরু করছি, দেখা যাক কে প্ল্যাটফর্ম থেকে আগে পড়ে যায়।
ওহ্! ড্যানি তো প্রায় পড়েই যাচ্ছিল! দেখা যাক কে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
গ্যারি আউট হয়ে গেল! এখন মাত্র দুজন বাকি। দেখা যাক কে জেতে। ওহ্, এবার কী হবে? ড্যানি ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলছিল।
ওহ্ অ্যাশলি! অ্যাশলি জলে পড়ে গেছে। ড্যানিই আমাদের বিজয়ী। ড্যানি এই নিয়ে তার দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ জিতল। এটা ওর জন্য একটা বড় সুযোগ হতে পারে। সাবাশ!
অ্যাশলি, এটা ছিল তোমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। অংশগ্রহণকারী হিসেবে কেমন লাগছে?
বেশ ভালো লাগছে। আমি তো রীতিমতো মুগ্ধ।
অ্যাশলি, ডেরেক আর গ্যারি—তোমরা দ্বীপে ফিরে যাও। ড্যানি, তুমি এখানে থাকো তোমার পুরস্কার আর সিদ্ধান্তের জন্য। বিদায়।
জানতে চাও এই বাক্সের ভেতর কী? এই চ্যালেঞ্জ জেতার জন্য তুমি ৫০ হাজার ডলার পেয়েছ। তুমি চাইলে এই ৫০ হাজার ডলার নিজের কাছে রাখতে পারো, অথবা মূল পুরস্কারের সাথে যোগ করে দিতে পারো। এটা হয়তো তোমাকে অ্যাশলির বিশ্বাস ফিরে পেতে আর টিকে থাকতে সাহায্য করবে।
তবে একটা ঝুঁকি আছে—ও হয়তো টাকাটা মূল পুরস্কারে যোগ করে নেবে কিন্তু তারপরও তোমাকে বাদ দিয়ে দিতে পারে। যদি ৫০ হাজার ডলার নিজের কাছে রাখো, কাউকে বলার দরকার নেই বক্সে কী ছিল। সিদ্ধান্ত তোমার হাতে।
বাপরে, এটা নিয়ে তো অনেক রকম চাল চালা যায়!
তা ঠিক। তো তুমি কি অ্যাশলির মন জয় করতে চাও নাকি এই নগদ টাকাটা নিতে চাও?
টাকা নিজের কাছে রাখব।
অভিনন্দন ড্যানি। এই ৫০ হাজার ডলার এখন তোমার।
উহু! চলো!
ড্যানি ৫০ হাজার ডলার নিজের কাছে রেখে লুকিয়ে ফেলল। ও ভয় পাচ্ছিল যে অন্যেরা জানতে পারলে ওকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
২০ নম্বর দিনের এলিমিনেশনে স্বাগত। বলাই বাহুল্য, এই চ্যালেঞ্জের বিজয়ী একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ড্যানি, তুমি কি আমাদের বলবে ওখানে কী কী অপশন ছিল?
আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাতে কারো এখানে থাকা বা না থাকাতে কোনো প্রভাব পড়বে না। তাই আমি এটা গোপন রাখাই শ্রেয় মনে করছি।
তুমি কি আজ টিকে গেলে আমাকে সব সত্যি বলবে?
হ্যাঁ। হয়তো পরের এলিমিনেশনের সময়ও বলব।
অ্যাশলি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তোমরা কি তাকে শেষ কিছু বলতে চাও?
এই সুযোগের জন্য ধন্যবাদ। শারীরিক আর মানসিক—উভয় দিক থেকেই খুব কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। রসিকতা নয়। এটা প্রমাণ করে যে তোমার মানসিক শক্তি কতটা বেশি।
গত এলিমিনেশনের পর থেকে এই পর্যন্ত আমাদের সম্পর্কের যে উন্নতি আর বোঝাপড়া হয়েছে, তাতেই আমি সবচেয়ে বেশি খুশি। অনেক চড়াই-উতরাই ছিল, কিন্তু এখন পরিষ্কার বুঝতে পারছি এই সম্পর্কে আমার অবস্থান কোথায় আর আমার কী করা উচিত।
আমরা ছয়জন নিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন সেরা দুজন বাকি। অ্যাশলি, তুমি তৈরি থাকলে শুরু করো।
খুব কঠিন কাজ। এসব ভালো লাগে না।
একদম আমার দিকে আসছে।
ড্যানি, তুমি যেমন বিরক্তিকর, তেমনি তুমিই আমাকে সবচেয়ে বেশি হাসিয়েছো আর এখানে আমার দিনগুলো সহজ করে দিয়েছ। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো তুমি সব চ্যালেঞ্জে জিতছো। তাই নিজের স্বার্থেই আমি তোমাকে রেখে দিচ্ছি।
তোমার সিদ্ধান্ত সঠিক।
কিন্তু আপাতত লড়াইটা তোমাদের দুজনের মধ্যে। ডেরেক, তুমি সব চ্যালেঞ্জে খুব খারাপ করেছ। আর গ্যারি, তুমি তো সব চ্যালেঞ্জে ফাটিয়েছ। পুরো সময়টায় তুমি খুব জেদি ছিলে। কিন্তু আমি ভাবছি আমি কাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি, তাই আমি দুঃখিত...
ওহ্! কী?! গ্যারি?!
এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারত না।
আসল কথা হলো, আমি ডেরেককে বেশি বিশ্বাস করি।
সব ঠিক আছে ভাই। এটা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল। সবাইকে কুর্নিশ জানাই। আগামী কয়েক সপ্তাহে কী হয় দেখার অপেক্ষায় রইলাম। সবাইকে ভালোবাসা। সবাইকে ভালোবাসা।
ধন্যবাদ গ্যারি। বিদায় গ্যারি।
ফাইনাল এলিমিনেশনের মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতে সবার নজর এখন ওই আড়াই লক্ষ ডলারের দিকে।
আমি এখানে এসেছিলাম কারণ জানতাম টাকা জেতার সুযোগ আছে। আড়াই লক্ষ ডলার আমার খুব দরকার। জেতার আসল মন্ত্র হলো—অ্যাশলিকে যতটা সম্ভব হাসিতে রাখা।
ওকে! আর দেখা গেল ওর পুরনো কৌশলটা আবারো দারুণভাবে কাজ করছে।
ড্যানি খুব বেয়াদব ঠিকই, কিন্তু ও আমাকে হাসাতে পারে।
কাতুকুতু দিয়েই যাবো।
মনে হচ্ছিল ডেরেক পিছিয়ে পড়ছে, কিন্তু ওর নিজের একটা পরিকল্পনা ছিল।
অনেক সময় অ্যাশলি আর ড্যানি কথা বলে, আমি ওদের বলতে দিই... কারণ ড্যানি বেশি কথা বলে নিজেই বিপদে পড়বে, আর তাতে লাভ হবে আমারই।
আর সেই কৌশলের ফল পেতে খুব একটা দেরি হলো না।
বুম! একবার এখানে পৌঁছে গেলেই কেল্লাফতে।
না, ওটা তো... তারপর শরীর ছেড়ে দাও।
আচ্ছা, এটা আমার দ্বারা সম্ভব না।
অবশ্যই সম্ভব। এটাই জীবনের শিক্ষা।
যখনই তোমার সাথে মিশতে চাই বা সময় কাটাতে চাই, তখনই তুমি আমাকে বোকার মতো কথা বলো। আমার তো মনে হয় না তুমি খুব একটা ভালো শেখাতে পারো।
না, আমি ভালো শেখাতে পারি। আচ্ছা, বেশ। আমার অন্তত তাই মনে হয়। হুম।
বেশি কথা বললে এমনটাই হয়।
ড্যানির সাথে ঝামেলা ছাড়াই ২২ নম্বর দিনটা প্রায় কেটেই যাচ্ছিল। কিন্তু ভয় নেই, আমরা আবারও ঝগড়া শুরু করে দিয়েছি।
এই ভাই, অ্যাশলি আবারও আমার ওপর চটেছে।
ড্যানির ভুলগুলো ডেরেককে নিজের মতো করে চাল চালতে আরও উৎসাহ দিল।
নতুন দিন, নতুন সুযোগ!
ওটা এখনো নিশ্চিত নয়।
ঠিক বলেছ। এখানে আসার জন্য আমি চাকরি ছেড়েছি। তাই এই আড়াই লক্ষ ডলার তোমাদের ভাবনার চেয়েও আমার কাছে অনেক বেশি দামী।
১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার যাবে অ্যাশলি নিকোল মুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
আমি খুব হিসেবী, সারাদিন ওর সাথে কথা বলি।
এটা সত্যিই সুন্দর। এটাই বোঝায় যে টাকাটা অ্যাশলি নিকোল মুরের!
আমি একজন বিশেষ নারীর কথা ভাবছি।
আর রাতে জমিয়ে আড্ডা দিই, পরিবেশটা ঠিক রাখার চেষ্টা করি, আশা করি এর একটা দাম আমি পাব।
ওকে একটা ছোট ক্যামেরা দাও।
কিন্তু ড্যানি যেভাবেই হোক টাকাটা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল।
আমি হয়তো কথার জালে ফাঁসিয়েও জিতে যেতে পারি। জানি না কী হবে।
আমি শুধু একবার দেখা করতে এলাম। তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলাম যত খারাপ ব্যবহার করেছি তার জন্য। তোমার মধ্যে অনেক সম্ভাবনা দেখি, আর যাদের মধ্যে প্রতিভা আছে তাদের আমি উৎসাহ দিতে ভালোবাসি।
এমনকি ও অ্যাশলির দয়া বা সহানুভূতির সুযোগ নিতেও ছাড়ল না।
আমার মনে হয় মার অ্যালজাইমার্স শুরু হয়েছে। উনি আজকাল সব কিছু ভুলে যাচ্ছেন। হ্যাঁ, মার জন্য আমার অনেক কিছু করার আছে।
আর অবাক করার মতো বিষয় হলো, ড্যানির এই আবেগের নাটক কাজ করতে শুরু করল।
আমার হাত ধরতে চাও?
বেশ লাগছে।
২৫ নম্বর দিনটা খুব আকর্ষণীয় হতে চলেছে। আমার অবস্থা খুব একটা ভালো নয় কারণ বাকি দুজনের হাতে ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমার নেই।
তবে ডেরেকের মাথায় একটা শেষ বুদ্ধি ছিল যা হয়তো অ্যাশলিকে ওর দিকে টেনে নেবে।
তুমি যদি এখান থেকে খালি হাতে ফিরে যাও, তবে আমার খুব খারাপ লাগবে। এমনটা হওয়া উচিত নয় যাতে তুমি এখান থেকে অন্তত ছয় অঙ্কের টাকা নিয়ে না ফেরো।
২৪তম দিন। কাজটা খুব কঠিন। সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বড্ড জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেরেক হয়তো ভালো প্রতিযোগী নয়, কিন্তু ও সব সময় আমার খুব ভালো আর বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল। আমি ড্যানিকে খুব ভালোবাসি।
ও হয়তো আমার দেখা সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষদের একজন, কিন্তু ওকে আমার খুব ভালো লাগে আর ও খুব মজার। এটাই আমার মাথায় ঘুরছে। তবে জিমির মনে কী আছে কে জানে!
এই দ্বীপে কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর আজই সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত। এই ভিডিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
ফিরে এসে কেমন লাগছে? আমার পা কাঁপছে। আমারও কাঁপত, কারণ ৫০ ভাগ সম্ভাবনা আছে যে তুমি এখনই খালি হাতে বাড়ি ফিরবে। এই অবস্থায় থাকাটা খুব একটা মজার না।
পুরস্কারের সাথে আরও ৫০ হাজার ডলার যোগ করলে কি কাজটা একটু সহজ হবে? আমি না তো আর বলব না।
তারেক, এদিকে এসো। একজনকে বাদ দেওয়ার আগে একটা কাজ আছে। এই নাও একটা গুপ্তধনের ম্যাপ। সৈকতের কোথায় ৫০ হাজার ডলার আছে, সেটা এখানে আছে। এক ঘণ্টার মধ্যে যদি ওটা পাও, তবে আমি ওটা মূল পুরস্কারের সাথে যোগ করে দেব। তোমাদের সময় শুরু হচ্ছে এখন থেকে।
এই গুপ্তধন খোঁজার খেলাটি একদম নতুন সিনেমা "দ্য শিপ ডিটেকটিভস" থেকে অনুপ্রাণিত।
ভেড়াটা দেখছো? হ্যাঁ। হ্যাঁ, ওটার কাছে যাও। আরে করছোটা কী?! চলো খুঁজে বের করি!
দ্য শিপ ডিটেকটিভস নিয়ে বলছি। ছেলেরা, এটাই তোমাদের শেষ সুযোগ ওর মন জয় করার।
আমরা ঠিক কী খুঁজছি?! একটা ভেড়া! ওরে বাবা, ওরা তো খুব দ্রুত ছুটছে! এটা কি এখানে? বাঁ দিকে? এটাই হবে। হ্যাঁ। এটাই কি সেই জায়গা?! ওটা নিশ্চয়ই ওই গলিটা হবে। দাঁড়াও একটু।
যেমন সবাই মিলে ওই লুকানো ৫০ হাজার ডলার খুঁজছে, তেমনি দ্য শিপ ডিটেকটিভস সিনেমায় একদল ভেড়া মিলে একটা খুনের রহস্য সমাধান করে। এটা যেমন মজার আর অদ্ভুত, তেমনি হৃদয়স্পর্শী। সত্যি বলতে, আগে কখনো ভাবিনি যে অপরাধ দমনে ভেড়াদেরও দরকার হতে পারে!
আমার মনে হয় এটাই সেই জায়গা। ওহ্! ওটা দেখে তো বেশ সন্দেহজনক মনে হচ্ছে! ওহ্! তোমার পা কীসের সাথে লাগলো?!
কারো হিউ জ্যাকম্যানকে পছন্দ? হ্যাঁ, আমার! অবশ্যই! কী বললে? তো, সেই এই সিনেমার হিরো যাকে খুন করা হয়। আর একদল ভেড়া মিলে সেই রহস্যের সমাধান করে। বাহ্! দেখতে হবে।
দেখো, মনে হয় এখানে কিছু একটা আছে! ওটা কী? এটাই সেটা। চলো ওটা টেনে বের করো!
এই উইকেন্ডে মজার কিছু করতে চাইলে সিনেমাটা দেখে ফেল। এখন থিয়েটারে চলছে।
চলো সবাই! অভিনন্দন! ৫০ হাজার ডলার তোমাদের! আরও ৫০ হাজার, বেবি!
এই বইয়ের গল্প নিয়ে সিনেমাটা বানানো। এখন থিয়েটারে চলছে। যাও দেখে আসো। যাই হোক, যেহেতু তোমরা টাকাটা পেয়েছ, এবার অ্যাশলির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়।
আমি যদি অ্যাশলির জায়গায় থাকতাম, তবে সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতাম। কী যে সিদ্ধান্ত নিতাম! এটা ঠিক যে ওরা দুজনেই তোমার পছন্দের, কারণ একসময় তুমি ওদের সাথে ডেট করেছ। সবাইকে ভালো লাগেনি, কিন্তু এরা পছন্দের।
তো, এখন তিন লক্ষ ডলারের ব্যাপার। তোমরা কি কেউ কিছু বলতে চাও?
তোমার বন্ধু আর এই যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে আমি ধন্য। এই ২৫ দিনে তোমার সুন্দর মনটাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, এটা বড় ভাগ্যের ব্যাপার। আমি খুশি বাকিরাও সেটা দেখতে পেলো। আর তুমি তো জানো, যাই ঘটুক না কেন আমি তোমাকে ভালোবাসি।
বাহ্! এর জন্য হাততালি পাওয়াই উচিত। ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা, ড্যানি।
আমি শুধু বলতে চাই, আমি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ আমাদের এই চড়াই-উতরাই ভরা মুহূর্তগুলোর জন্য। আমরা এই দ্বীপে একসাথে যে সময় কাটিয়েছি আর আমাদের সম্পর্ক এখন যেখানে আছে, সেটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। তুমি যাকেই বেছে নাও না কেন, এই টাকার অর্ধেক তোমার পাওয়া উচিত। যদি সঠিক মানুষকে বেছে নাও, তবে হয়তো আরও টাকা আয়ের সুযোগ আসতে পারে।
ওহ্। ওহ্। এটার মানে কী? আমি শুধু এইটুকুই বলব। হাতুড়ি তোলার আগে কি আর কিছু বুঝিয়ে বলবে না? না, আর কিছু বলব না। এইটুকুই থাক। নিশ্চিত তো?
ড্যানি, তোমার মতো আমাকে আর কেউ এত হাসাতে পারেনি। তুমি পুরো সময়টাকে খুব আনন্দময় করে তুলেছিলে। কিন্তু তোমার মতো বিরক্তও আমাকে কেউ করেনি। তাও, সবকিছুর পরও আমি তোমাকে ভালোবাসি।
ও এই দিকেই আসছে।
ডেরেক হয়তো সব চ্যালেঞ্জে জিততে পারেনি, কিন্তু আমি কোনোদিন ভুলব না যে চার বছর আগে তোমার সাথে দেখা না হলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। আমরা এগুলো কিছু করতাম না।
বাহ্। সব সময় আমাকে আগলে রেখেছ, পাশে থেকেছ। শেষ পর্যন্ত আমার কাছে সবচেয়ে বড় হলো বিশ্বাস আর সম্মান। ড্যানি, আমাদের মধ্যে যাই হয়ে থাকুক না কেন, তোমাকে বিশ্বাস করা আমার জন্য খুব কঠিন। তাই আমি দুঃখিত।
তোমাকে সম্মান করি, অ্যাশ। একদম সম্মান করি। ড্যানি। হ্যাঁ। আমি জানতাম ঠিক এমনটাই ঘটবে। মন থেকে জানতাম।
এখন গোপন কথাটা ওকে বলবে?
শোনো, গত চ্যালেঞ্জের পর আমার কাছে সুযোগ ছিল ৫০ হাজার ডলার মূল পুরস্কারে যোগ করার অথবা নিজের কাছে রাখার। আর ওটা নিজে রেখে দিলে। হ্যাঁ, ওটা রেখে দিয়েছিলাম।
অ্যাশলি, এটা জানার পর এখন তোমার কেমন লাগছে? ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! আমি খুব খুশি তুমি ওটা নিজের কাছে রেখেছ। আর আমি তোমার জন্য খুশি। ও তাই? তুমি খুশি কেন? আমার মনে হয় ২৫টা দিন ও এখানে অনেক কষ্ট করেছে। তাই ওর খালি হাতে ফিরে যাওয়াটা ঠিক হতো না। ওহ!
ধন্যবাদ। জানতাম টাকাটা আমারই রাখতে হবে, কারণ মনে হচ্ছিল ও-ই শেষে বিজয়ী হতে যাচ্ছে। আর ও-ই বিজয়ী হলো। যদি সেলিব্রেট করতে চাও, তবে অভিনন্দন।
আহ্হ্! এই নাও তোমার ৫০ হাজার ডলার! সাবাশ!
আমি জানি তুমি খুব খুশি, কিন্তু অ্যাশলি—এখন তোমাকে তোমার মঞ্চে দাঁড়াতে হবে। ওকে! কারণ এটা এখন অ্যাশলির।
আর এখন থেকে আগামী পাঁচ দিনের যেকোনো সময়... যদি তুমি ওই হৃদয়টা ভেঙে দাও, তবে পুরো টাকাটাই তুমি পাবে, আর কাউকে ভাগ দিতে হবে না। কিন্তু যদি ওর মন না ভাঙার সিদ্ধান্ত নাও... তবে আমি তোমাদের দুজনকেই দেড় লক্ষ ডলার করে দেব। এখন সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তোমার। অবশ্যই।
বন্ধু, খুব খারাপ লাগছে। তবে অন্তত ৫০ হাজার ডলার তো পেলে! তা, এখন কেমন লাগছে? আমি একদমই মন খারাপ করিনি। শেষে কিছু জিতেছি, এতেই খুশি।
এখন শুধু দেখার বিষয় যে ডেরেক আমার মন ভেঙে সব টাকা একা নিয়ে নেয় কি না।
আমি যদি এই মন ভেঙে দিই, তবে ৩ লক্ষ ডলার পরিবারের জন্য নিতে পারবো। ক্ষমা করো, কিন্তু ওই দেড় লক্ষ ডলার কি আমি এখানে ফেলে যাব? ওরা কি সেটা মেনে নেবে?
আর পরের দিন সকালেই ডেরেক তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেল।
ফেরার জন্য স্বাগতম। হ্যালো। রাত কি খুব লম্বা ছিল? হ্যাঁ, সত্যিই তাই।
ডেরেক, এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। তুমি কি হাতুড়িটা আগুনে ফেলে দিয়ে টাকাটা ভাগ করে নেবে? নাকি এই দ্বীপে এক মাস কাটানোর পর অ্যাশলির মন ভেঙে দিয়ে নিজের টাকা দ্বিগুণ করে নেবে?
শোনো, তুমি যদি মজা করারও চিন্তা করো, তাও অত কাছে আসার দরকার নেই। ওহ্, তোমার কি মনে হচ্ছে এটা মজা? আমি আসলে জানি না এটা কী।
এই টাকাটা সশরীরে চোখের সামনে দেখছি আর ভাবছি এটা সত্যিই আমার হতে পারে! তুমি কি এই অংকটা তোমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেখতে চাও?
এমন সুযোগ আর কবে পাব যে একটা মন ভেঙে দিলেই ৩ লক্ষ ডলার পাওয়া যাবে? তা ঠিক। আমার পরিবারও হয়তো এটাই চাইবে। আর তুমি তো জানো, আমি তোমাকে মন থেকে ভালোবাসি। আর আমার বিশ্বাস তুমি আমার সিদ্ধান্তটা বুঝবে।
সেই কথা ভেবেই বলছি, জিমি, আমি ওর মন ভাঙব না। তুমি সাসপেন্সে রেখেছিলে!
ঠিক আছে, ও যে একা টাকাটা নেয়নি তাতে আমরা সবাই খুশি।
ঠিক আছে, ও যে একা টাকাটা নেয়নি তাতে আমরা সবাই খুশি।
সাবাশ! আমরা দুজনেই দেড় লক্ষ করে পাচ্ছি!
আমি ওদের দুজনকেই দেড় লক্ষ ডলার পাঠিয়ে দিচ্ছি। আশা করি তোমাদের ভালো লাগলো যে অ্যাশলিও কিছু টাকা জিততে পারল।
বাঁচা গেল।
আইফোন পেতে সাবস্ক্রাইব করো।
নিবন্ধ প্রকাশিত
