আর্কটিকে সাত দিন: আগের ব্যর্থ সারভাইভাল ভিডিওর পর জিমি ও বন্ধুদের ফিরে আসার চেষ্টা
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওর শুরুতেই জিমি স্বীকার করেন, তাঁদের আগের সারভাইভাল ভিডিওটি ফ্লপ হয়েছিল। সেবার একটি দ্বীপে গিয়েও তাঁরা চ্যালেঞ্জ শেষ করতে পারেননি। তাই এবার তিনি পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে আর্কটিকে সাত দিন টিকে থাকার চেষ্টা করেন। সঙ্গে ছিল শুধু পিঠের ব্যাগ, কোনো তাঁবু নয়। ভিডিওর মূল প্রশ্ন দুটি: এই দলটি কি ঠাণ্ডা, খিদে আর হতাশা সামলে সাত দিন পার করতে পারবে, আর জিমি কি আরেকটি ব্যর্থতা এড়াতে পারবেন। জিমি বারবার বলেছেন, ভিডিওর এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো কেউ যেন মারা না যায়।
চ্যালেঞ্জের নিয়ম: প্লেন, ফ্লেয়ার গান আর ন্যাড়া মাথা
দলে ছিলেন জিমি, চ্যান্ডলার, নোলান, তারেক, হেইজ এবং ক্যামেরাম্যান ড্যারিয়াস। দ্বিতীয় দিন জিমি নিয়মটা জানান। দিনে একবার একটি প্লেন তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে। কেউ বাড়ি ফিরতে চাইলে ফ্লেয়ার গান ছুড়ে সংকেত দিতে পারবে, তবে যাওয়ার আগে তাকে মাথা ন্যাড়া করতে হবে। পুরো ভিডিওতে এই শর্তটি বারবার ফিরে আসে। কষ্ট যত বেড়েছে, ফ্লেয়ার গান ছুড়ে চলে যাওয়ার প্রলোভনও তত বেড়েছে।
প্রথম দিন: বরফের দুর্গ আর প্রথম আগুন
তাঁরা নামেন প্রায় দুই ফুট বরফের ওপর। প্রথম দিনের কাজ ছিল দুটি: আশ্রয় বানানো আর আগুন জ্বালানো। জিমি কাউকে তাঁবু আনতে বলেননি, কারণ পরিকল্পনা ছিল বরফ খুঁড়ে তার ভেতরেই ঘর বানানো। দলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই স্নো-ফোর্টের মূল উদ্দেশ্য আর্কটিকের হাওয়া থেকে বাঁচা এবং সবাই মিলে শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি করা। তাঁদের দাবি, রাতে ঠাণ্ডা এতটাই চরম হয় যে ওই বাতাসে মাত্র দশ মিনিট থাকলেই ফ্রস্টবাইট হতে পারে। সেই রাতে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নামার কথা ছিল, তাই অন্ধকারের আগেই ভেতরে ঢোকার তাড়া ছিল।
কাজটা সহজ হয়নি। যত গভীরে খোঁড়া হচ্ছিল, বরফ তত শক্ত হচ্ছিল। প্রথমে যে আশ্রয়টা দাঁড়াল তাতে সবার জায়গা হলো না। একজন বললেন পা না ছড়ালে আরামেই থাকা যায়, আরেকজন বললেন তাঁর জায়গাই নেই। তখন দিনের আলো ছিল মাত্র দুই ঘণ্টা।
আগুনের দিকে ভাগ্য ভালো ছিল, শুকনো লাকড়ি পাওয়া গেল এবং আগুন জ্বলল। এরপর বরফ গলিয়ে খাওয়ার জল বানানো হলো। কিন্তু বারবার নতুন বরফ দেওয়ায় জলটা ঠাণ্ডাই থেকে গেল। আগুনের পাশে এক মুহূর্তের অসাবধানতায় একজনের জ্যাকেটে, আরেকজনের প্যান্টে আগুন ধরে যায়।
মাঝরাত পেরিয়ে গেলেও ঘরটা যথেষ্ট বড় হয়নি। বড়জোর দুই-তিনজন আরামে থাকতে পারতেন। হেইজ আর ক্যামেরাম্যান ড্যারিয়াস জায়গা পাননি, একজন বাইরেই ঘুমানোর কথা বলেন। জিমির ভাষায়, বাকিরা ছোট অস্বস্তিকর গুহায় শুঁটকি মাছের মতো গাদাগাদি করে ঢুকেছিলেন, আর সেটা ছিল জীবনের সবচেয়ে বাজে ঘুমের একটি।
দ্বিতীয় দিন: জমে যাওয়া সরঞ্জাম আর আশ্রয় বড় করার কাজ
সকালে দেখা গেল ব্যাগ আর সবকিছুর ওপর বরফ জমে আছে, ক্যামেরাও প্রায় জমে গেছে। একজনের গ্লাভসই ছিল না, ক্যামেরা ধরতে গিয়ে হাত জমে যাচ্ছিল। আরেকজন জানান, তিনি পায়ের আঙুল অনুভব করতে পারছেন না। এই অবস্থায় প্রথমবার প্লেনটা আসে এবং জিমি ফ্লেয়ার গানের শর্ত জানান। আগের রাতকে সবাই জঘন্য বললেও সেদিন কেউ যাননি। জিমির ভাষায়, আজকের মতো সবাই নিজের চুল বাঁচিয়ে নিল।
সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে আরেকটা এমন রাত কাটানো কঠিন। তাই দ্বিতীয় দিনের লক্ষ্য ঠিক হয় আশ্রয়টা এমনভাবে বড় করা যাতে ছয়জন পাশাপাশি শুতে পারেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁড়া চলে। এর মধ্যে আরেকটি সমস্যা ধরা পড়ে। প্যাকিং লিস্টে আলাদা একটি "পুপ-টেন্ট" ছিল, কিন্তু কেউ আনেননি। যাঁর আনার কথা, তিনি জানান তাঁর ব্যাগে জায়গা ছিল না। একজনকে পায়খানার জায়গা খুঁজতে পাঠানো হয়। তিনি যুক্তি দেন, ক্যাম্পের কাছে পায়খানা করলে ভাল্লুক আসতে পারে। আরও অস্বস্তিকর ছিল তাঁর এই পর্যবেক্ষণ যে চারদিকে পশুর পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কোনো পশু দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ধারণা, এর মানে পশুরাই তাঁদের ওপর নজর রাখছে। তিনি জানান, সেই মুহূর্তে তিনি সিরিয়াসলি ফ্লেয়ার গান ছোড়ার কথা ভাবছিলেন।
জিমির কাছে মনে হচ্ছিল এটা মাত্র দ্বিতীয় দিন হলেও যেন কোনো সাধারণ চ্যালেঞ্জের ষষ্ঠ-সপ্তম দিন চলছে। সবাই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে নিচে খাটতে থাকা বন্ধুদের নিয়ে গর্বের কথাও বলেন। এই দিনেই সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাটি সামনে আসে: তাঁরা মাত্র তিন-চার দিনের খাবার এনেছিলেন। মাছ ধরা বা শিকার শুরু না করলে টিকে থাকা যাবে না। পর্দায় দেখানো হয়, খাবার বাকি দুই দিনের।
তৃতীয় দিন: ১৭° ফারেনহাইট, চ্যান্ডলারের সাদা আঙুল আর আটকে যাওয়া প্লেন
তৃতীয় দিনের শুরুতে জিমি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে নাকে ফ্রস্টবাইট হচ্ছে, কিছু জায়গা বেগুনি হতে শুরু করেছে। অন্ধকার নামার পর তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নামে। জিমির বর্ণনায়, তখন আশ্রয়টিও তাঁদের ফ্রস্টবাইট থেকে পুরোপুরি বাঁচাতে পারছিল না।
চ্যান্ডলারের পায়ের আঙুল অবশ হয়ে যায়, স্পর্শ খুব কম টের পাচ্ছিলেন। আঙুল সাদা, রক্তহীন দেখাচ্ছিল। দলের একজন এটিকে সম্ভবত "ফ্রস্টনিপ" বলে চিহ্নিত করেন এবং বলেন ফ্রস্টবাইট হওয়ার আগে দ্রুত গরম করতে হবে। চ্যান্ডলারের পা একজনের বগলের নিচে রেখে গরম করা হয়।
কেউ চলে যেতে চান কি না জিজ্ঞেস করা হলে একজন জানান তিনি সত্যিই সেটা ভাবছেন। কিন্তু পাইলট জানান, প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে তিনি প্লেন আনতে পারবেন না। জিমি এই বিড়ম্বনার কথা আলাদা করে বলেন: যেদিন বিপদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেদিনই প্লেন আসতে পারছে না।
রাতের তুষারপাতে আবহাওয়া পুরো বদলে যায়। ক্যাম্প চাপা পড়ে যায়, রান্নার জায়গা বরফে ঢেকে যায় এবং খাবার বানানোর বেশিরভাগ গিয়ার হারিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল কাঠ ভিজে যাওয়া। একজন বলেন, সাধারণত আগুন জ্বালানো এত কঠিন হয় না। সমাধান আসে পাখির পালক থেকে। একজন পালক নিয়ে আসেন, বাকিরা মজা করে তাঁকে "পালক বিশেষজ্ঞ" ডাকেন। পালকে স্পার্ক ধরে এবং শেষ পর্যন্ত আগুন জ্বলে।
প্রথম মাছ ধরার চেষ্টা: অতিরিক্ত পুরু বরফ
উষ্ণতার পরের অগ্রাধিকার খাবার। একজন সঙ্গে একটি আইস-অগার এনেছিলেন। ক্যাম্পের কাছেই একটি জমে যাওয়া লেক ছিল, পরিকল্পনা ছিল অগার দিয়ে গর্ত করে মাছ ধরা। যাওয়ার আগে চ্যান্ডলারকে আবার দেখা হয়, তাঁর আঙুলের রং ফিরে আসছিল। জিমি আর হেইজ খাবারের খোঁজে বের হন। ক্যাম্পে নোলান চ্যান্ডলারের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।
লেকে তাঁরা দূরের অন্ধকার জায়গাগুলো বেছে নেন, এই আশায় যে সেখানে বরফ পাতলা হবে। বাতাস এত তীব্র ছিল যে একজন চোখই মেলতে পারছিলেন না। অগার চালানোর কৌশল হিসেবে বলা হয়, বেশি জোরে চাপ দেওয়া যাবে না, ব্লেডকেই কাটতে দিতে হবে। প্রথমে অগ্রগতি ভালো মনে হচ্ছিল। কিন্তু গর্ত আনুমানিক আড়াই ফুট গভীর হওয়ার পরও জল পাওয়া যায়নি, একজন মজা করে মাপটাকে "হাফ-তারেক সাইজ" বলেন। শেষে ড্রিলটাই লম্বায় ছোট পড়ে যায়। বরফ ছিল অগারের চেয়েও পুরু।
এর মধ্যে তাঁদের জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছিল এবং হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি বাড়ছিল, তাই খালি হাতে ফিরতে হয়। জিমি জানান, এই ব্যর্থতা তাঁকে আগের ব্যর্থ সারভাইভাল ভিডিওর কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি দর্শকদের কথা দেন, পরের চ্যালেঞ্জে তিনি আর ফেল করবেন না। ক্যাম্পে ফিরে দেখা যায় সবার মনোবল ভেঙে পড়েছে। একজন মজা করে বলেন, কেউ যেন তাঁকে মেরে সাত দিন পর্যন্ত অজ্ঞান করে রাখে, কারণ তখনও চার দিন বাকি।
ভেজা কাপড় নিয়ে দলটি গুরুতর বিপদের কথা বলে। একজনের মতে, শরীরে লেগে থাকা জল জমে গেলে সেটা প্রাণঘাতী হতে পারে। সমাধান হিসেবে তাঁরা স্প্রুস গাছের ডাল কেটে বিছানা বানান, কারণ তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী রাতে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা আসে মাটি থেকে, আর ইনসুলেশন ছাড়া ঘুমানো যাবে না। হেইজ ডালপালা নিয়ে ফিরলে জিমির মনে হয় যেন ক্রিসমাসের উপহার পেয়েছেন। সেই রাতে উষ্ণতার আশা জাগে।
চতুর্থ দিন: ড্রোন, ক্রস-কান্ট্রি স্কি আর দূরের নদী
চতুর্থ দিনের সকাল রোদেলা ছিল, প্রথমে মনে হচ্ছিল সবকিছু ঠিক হবে। কিন্তু দূরে অন্ধকার দেখে একজন সতর্ক করেন যে তুষারঝড় আসছে। খাবার তখন মাত্র এক দিনের। মাছ না পেলে সেদিনই খাবার শেষ।
ভালো স্পট খুঁজতে তাঁরা ড্যারিয়াসের ড্রোন ব্যবহার করেন। যুক্তি ছিল, যে বরফের নিচে জল চলমান সেখানে বরফ পাতলা হবে। ড্রোনে একটি বড় নদীর বাঁক দেখা যায়। দলের ধারণা ছিল, বড় নদী মানে বেশি মাছ। কিন্তু নদীটি ছিল অনেক দূরে, একটি লেক আর জঙ্গল পার হয়ে যেতে হবে।
লেক পার হতে ক্রস-কান্ট্রি স্কি আনা হয়েছিল। জিমি আগে কখনো স্কি করেননি, ড্যারিয়াসের অবস্থাও ভালো ছিল না। "পা ঘষো, ঘষো, স্লাইড করো" কৌশল শিখে কিছুটা এগোনো যায়, যদিও ড্যারিয়াস বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন। জঙ্গলে তাঁরা স্নো-শু পরেন, যাতে বরফে দেবে না যায়। পথে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা যায়, হেইজ সেগুলোকে মুজের ছাপ বলে চিনিয়ে দেন। দল সিদ্ধান্ত নেয় মুজ যেদিকে যায়নি সেদিকে যাবে। নদীর পাড়ে পৌঁছে একজনের পা গর্তে আটকে যায়, একটি ডালের সাহায্যে তিনি কোনোমতে রক্ষা পান।
একই সময়ে ক্যাম্পে চ্যান্ডলার ও নোলানরা জিমির অনুরোধে আশ্রয় বড় করছিলেন। তাঁরা বলেন জিমিকে "পুরো ম্যানশন" বানিয়ে দেবেন। বিশাল বরফের চাঁই কেটে ছাদ তৈরির নতুন কৌশলও দেখা যায়। ছাদ যাতে ধসে না পড়ে, তা নিয়ে একজন সতর্ক করেন। এর মধ্যে প্লেন আসে। ক্যাম্পের দল ফ্লেয়ার গান হাতে নিয়ে প্রায় ছুড়ে দিচ্ছিল। একজন জানান তাঁর আঙুল ট্রিগারেই ছিল, আরেকজন প্রস্তাব দেন সবাই মিলে চলে যাওয়ার। শেষ পর্যন্ত কেউ ফ্লেয়ার ছোড়েননি। দূরে থাকা জিমি জানান, ক্যাম্প এত দূরে যে কেউ ফ্লেয়ার ছুড়লেও তিনি জানতে পারবেন না।
নদীতেও হতাশা আসে। গর্ত পুরো হাতের সমান গভীর হলেও জলের দেখা মেলেনি। জিমি বলেন, "বিজ্ঞান" অনুযায়ী নদীর বরফ পাতলা হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা মনে হচ্ছিল না। নদীর পাড়ে পড়ে গিয়ে তাঁর জুতোয় বরফজল ঢুকেছিল, পা লাল হয়ে আঙুল বেগুনি হতে শুরু করে। মোজা চিপে পা ড্যারিয়াসের বগলে রেখে তিনি গরম করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ঠাণ্ডায় কাটানোর পর জিমি সিদ্ধান্ত নেন ফিরতে হবে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, না ফিরলে কেউ গুরুতর বিপদে পড়বে। তিনি স্বীকার করেন, তাঁদের মেনে নেওয়া উচিত যে এবারও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।
ক্যাম্পে ফিরে জানা যায় নদীর গর্ত প্রায় ছয় ফুট খোঁড়া হয়েছিল, টানা চার ঘণ্টার খাটুনি, তারপর সূর্য ডুবে যায়। কেউ কেউ আক্ষেপ করেন যে তখনই ফ্লেয়ার ছুড়ে দেওয়া উচিত ছিল। মনোবল ফেরাতে বড় হওয়া গুহাটি দেখানো হয়। এবার সবাই এমন দূরত্বে শুতে পারছিলেন যে কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগবে না। জিমি ঘোষণা দেন, পরদিন আবার গিয়ে মাছ না পাওয়া পর্যন্ত খুঁড়বেন।
পঞ্চম দিন: শেষ খাবার, তুষারঝড় আর "নিজেদের ভরসায়"
পঞ্চম দিনে শেষ খাবারও ফুরিয়ে আসে। জরুরি অবস্থার জন্য রাখা কিছু স্ন্যাক্স (বিফ স্টিক) ছিল, সেগুলো শেষ হলে আর কিছুই থাকবে না। এর মধ্যে তুষারঝড় শুরু হয়ে যায়। জিমি জানান, কোনো প্লেন বা রেসকিউ দল আসবে না, তাঁরা এখন পুরোপুরি নিজেদের ভরসায়।
তুষার ছিল খুব ভেজা, বাইরে গেলেই শরীর ভিজে যাবে। জিমির আশঙ্কা ছিল, মাছ পেলেও ফেরাটা জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ধরে নিতে হবে ফেরার পর কারও না কারও হাইপোথার্মিয়া হবে। তাই ক্যাম্পের দলকে গরম জল তৈরি রেখে "ইমার্জেন্সি মেডিকেল স্টেশনের" মতো প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। এই ঝুঁকি নেওয়ার কারণও জিমি খোলাখুলি বলেন। তিনি বন্ধুদের ভালো করে চেনেন। সেদিন মাছ না পেলে পরদিন সবাই ফ্লেয়ার গান ছুড়ে হাল ছেড়ে দেবেন। আগের ভিডিও ফ্লপ হওয়ায় তিনি আর কোনো ভিডিও নষ্ট করতে চান না। তাই সিদ্ধান্ত হয়: মাছ নিয়েই ফিরবেন।
তুষারঝড়ের কারণে এবার স্কি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যাতে বয়ে নেওয়ার মতো গিয়ার কম থাকে। এতে পথ চলতে সময় বেশি লাগবে। আগের দিনের তৈরি ট্র্যাকও তুষারে মুছে গিয়েছিল। এক-তৃতীয়াংশ পথ পেরোনোর পর পুরোনো রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়, আগের দিন যেখানে আটকে গিয়েছিলেন সেখানে জিমি আবার পড়ে যান।
ক্যাম্পে থাকা দলের সামনে ছিল আরেক সমস্যা: সব কাঠ ভেজা। একজন বলেন, যাঁরা বুদ্ধি দিতে পারতেন তাঁরা সবাই চলে গেছেন, তাই নিজেদেরই কিছু করতে হবে। চ্যান্ডলারের নেতৃত্বে তাঁরা একটি মরা গাছ ভাঙেন, কারণ এর ভেতরটা শুকনো ছিল। শুকনো ছাল আর কাঠ কুচি কুচি করে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা চলে।
নদীতে সাত ঘণ্টা: আট ইঞ্চি বরফ আর দুটি মাছ
নদীতে পৌঁছে দেখা যায় আগের দিন গাছের পাশে রেখে যাওয়া ড্রিলটি জমে গেছে, তবে গর্তটা তখনও আছে। পরিকল্পনা ছিল প্রথমে গর্তের চারপাশ চওড়া করা, যাতে ড্রিল আরও গভীরে যেতে পারে। পাশাপাশি জিমি অন্য জায়গায় পাতলা বরফ খোঁজেন। তাঁর ধারণা ছিল, যেখানে নদী মিলেছে সেখানে স্রোত বেশি, তাই বরফ পাতলা হতে পারে। একসময় একটি গর্ত দিয়ে বরফ ফুটো হয়ে যায়। সেখানে বরফ ছিল মাত্র আট ইঞ্চি। এই প্রথম মাছ ধরার গর্ত তৈরি হয়। টোপ হিসেবে কিছু ফ্রোজেন খাবার ব্যবহার করা হয় এবং আরও কয়েকটি গর্ত করা হয়। দলের একজন সতর্ক করেন, ঠিক জায়গায় থাকলেও মাছ ধরতে এক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।
অপেক্ষার এক পর্যায়ে জিমি ক্যামেরার সামনে আবেগঘন কথা বলেন। তিনি মারাত্মক ঠাণ্ডা অনুভব করছিলেন এবং ভরসা হারাচ্ছিলেন। তাঁর ভয় ছিল, মাছ না পেলে ক্যালোরির অভাবে রাতে বা পরদিন তাঁরা জমে যাবেন, আর তুষারপাত বাড়লে চ্যালেঞ্জ ছেড়ে দিতে হতে পারে। একজন ব্যাখ্যা দেন, শরীর গরম রাখতে খাবার জরুরি, না খেলে শরীর ঠাণ্ডা হবে আর তা থেকেই হাইপোথার্মিয়া। তবে জিমি বলেন, তিনি পরপর দুটি চ্যালেঞ্জে হারতে চান না, হার জিনিসটা সহ্য করতে পারেন না, তাই যত সময়ই লাগুক বসে থেকে মাছ ধরবেন।
ঠিক এই কথার মাঝেই বড়শিতে মাছ লাগে। সঙ্গীরা অবাক হয়ে বলেন, ইমোশনাল স্পিচ দেওয়ার মধ্যেই তিনি মাছ ধরে ফেলেছেন, আর দর্শকরা হয়তো এটাকে ফেক ভাববে। কিন্তু হাতে ধরতে গিয়ে মাছটি ফসকে যায়। জিমি পরে বলেন, আগে কখনো খালি হাতে জীবন্ত মাছ ধরেননি, তাই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। এরপর আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে একজনের কাছে এক্সট্রা গ্লাভস থাকায় সমস্যা হয়নি। দলের একজনের যুক্তি ছিল, এই মাছগুলোর স্বভাব হলো একটা পাওয়া গেলে আশেপাশে আরও থাকে, তাই দ্রুত আবার বড়শি ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ পর আবার মাছ লাগে। এবার "আস্তে আস্তে, আলতো করে" টেনে গর্ত দিয়ে তোলা হয়। পরে হেইজের বড়শিতেও টান পড়ে এবং দ্বিতীয় মাছটি ওঠে। জিমির হিসাবে, টানা সাত ঘণ্টা মাছ ধরার পর তাঁরা দুটি মাছ পান। তিনি জানান, বহু ঘণ্টা জল না খাওয়ায় তাঁর মাথাব্যথা করছিল।
ক্যাম্পে ততক্ষণে চ্যান্ডলাররা আগুন জ্বালিয়ে জল তৈরি রেখেছিলেন। মাছ দেখে তাঁরা প্রথমে প্র্যাঙ্ক ভেবে সন্দেহ করেন। প্রথম মাছটি ভেজে খাওয়া হয়, দ্বিতীয়টি রাখা হয় ষষ্ঠ দিনের জন্য। একজন বলেন, জীবনে এত টাটকা মাছ খাননি। বাকিরা বলেন দুর্গম আর্কটিকের মাঝে বসে মাছ খাওয়াটা স্বপ্নের মতো লাগছে।
ষষ্ঠ দিন: বিশ্রাম, স্মৃতি আর এক দশকের সারভাইভাল ভিডিও
ষষ্ঠ দিন প্লেন এলে একজন মজা করে ফ্লেয়ার ছোড়ার কথা বলেন, কারণ তাঁর "ভয়" হচ্ছিল বেশি মজা হয়ে যাবে। জিমির মতে, টানা পাঁচ দিনের খাটুনির পর বন্ধুরা একটু আনন্দ পাওয়ার যোগ্য। সাত দিন টিকলে তাঁদের জন্য একটি বড় সারপ্রাইজ আছে বলেও জানান। একজন স্বীকার করেন, মাছ না পেলে তিনি চলেই যাচ্ছিলেন। আরেকজন এটিকে নিজের করা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলেন, আরেকজন বলেন জীবনের দ্বিতীয় কঠিন চ্যালেঞ্জ। সাত বছর আগে জোর করে আচার খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জের সঙ্গেও মজা করে তুলনা হয়।
এই দিনে জিমি পেছন ফিরে দেখেন। তিনি জানান, প্রায় এক দশক ধরে তাঁরা এ ধরনের সারভাইভাল ভিডিও বানাচ্ছেন। পুরোনো ভিডিওর কিছু অংশ দেখানো হয়, যেমন টানা ২৪ ঘণ্টা জলের নিচে থাকার চ্যালেঞ্জ এবং একটি ভেসে থাকা নৌকা। তাঁর ভাষায়, এগুলোতে জীবনের কিছু সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত ছিল, যেমন কয়েক দিন আগের তুষারঝড়, আবার কিছু সবচেয়ে ভালো মুহূর্তও ছিল। তিনি বলেন, বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গুহার ভেতর আড্ডা আর জোকস করা যেকোনো ভিডিওর শুটিংয়ে তাঁর সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ। যে ভিডিওটি "যুক্তি অনুযায়ী পুরো জঘন্য হওয়ার কথা ছিল", তা বন্ধুদের কারণেই দারুণ স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে বলে তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ছোটবেলায় তিনি ঠিক এমন জীবনের স্বপ্ন দেখতেন, যা এখন সত্যি হয়েছে। ভবিষ্যতের নিজেকে উদ্দেশ করে বলেন, আশা করেন দশ বছর পরও তিনি ইউটিউব করছেন।
দিনটা কাটে স্নোবল ছোড়াছুড়ি আর খেলাধুলায়। তারেকের ধাক্কায় পিছলে গিয়ে জিমি পুরো ভিজে যান। একজন ষষ্ঠ দিনকে দশে দশ দেন। রাতে হেইজ শেষ রাতের জন্য লুকিয়ে রাখা স্মোরস বের করেন এবং সবাই মিলে চকলেট খান। ঘুমাতে যাওয়ার আগে জিমি শুধু জানান, পরদিন তাঁরা হেলিকপ্টারে ফিরছেন না। ফিরছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন "ডিপেন্ড করছে"।
সপ্তম দিন: স্লেজ ডগে ফেরা
সপ্তম দিনে জিমি প্রথমে মজা করে "মেইন টুইস্ট" হিসেবে ঘোষণা দেন যে আরও এক সপ্তাহ থাকতে হবে। বন্ধুরা সেটা উড়িয়ে দেন। আসল সারপ্রাইজের আগে শর্ত ছিল গুহা থেকে বের হয়ে জিনিসপত্র গুছিয়ে ময়লার ছোট টুকরোটাও পরিষ্কার করা। পরিষ্কারের পর ছোড়া ফ্লেয়ারটি ছিল সারপ্রাইজের সংকেত, আর ফেরার বাহন ছিল একদল আর্কটিক স্লেজ ডগ। একজন বলেন, এটাই আসল আর্কটিকের অনুভূতি এনে দিল।
এভাবে আর্কটিকে তাঁদের সাত দিন শেষ হয়। সবাই সাত দিন টিকে থাকেন এবং কেউ ফ্লেয়ার গান ছুড়ে মাথা ন্যাড়া করে আগে চলে যাননি। শেষ মুহূর্তে কারও মুখে ছিল বাড়ি গিয়ে গরম জলে স্নানের অপেক্ষা, আর দলের সম্মিলিত মত ছিল যে এটি ছিল এক "ক্রেজি অভিজ্ঞতা"।
আমরা আগামী সাত দিনের জন্য আর্কটিকে আটকা পড়েছি। টিকে থাকার জন্য আমাদের সাথে শুধু এই পিঠের ব্যাগগুলোই আছে।
ওহ, ভাই! ওকে, অলরাইট! আমরা এখন প্রায় দুই ফুট বরফের ওপর আছি। জলদি শেল্টার বানাতে হবে, কারণ রাতে অনেক ঠাণ্ডা পড়বে।
হেই, আমরা যাচ্ছি কোথায়? ফলো করো। আর এই ঠাণ্ডা তো মাত্র শুরু!
সব ঝামেলা একসাথে! কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না। তোমার তো হাইপোথার্মিয়া হয়ে যাবে! পায়ের আঙুলগুলো কেমন পার্পল কালার হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কোনো মিরাকল দরকার।
আমাদের লাস্ট সারভাইভাল ভিডিওটা ফ্লপ হয়েছিল। তাই এবার আমি আর আমার পাঁচ বন্ধু মিলে কামব্যাক করার ট্রাই করছি। আমি কাউকেই টেন্ট আনতে বলিনি, কারণ…
ও কী করছে? ওটা কী? এটাই হবে আমাদের ঘর। আমরা বরফের ভেতর থাকব? হ্যাঁ।
আজকে আমাদের দুইটা কাজ। শেল্টার বানানো আর আগুন জ্বালানো। আরও গভীরে যাও, গাইস। তুমি কি শুধু নির্দেশই দিচ্ছ? আমরা আরও কোদাল নিয়ে আসছি।
কারণ আর্কটিকে সূর্য ডোবার সাথে সাথেই… গাইস, অন্ধকার হওয়ার আগে ভেতরে না ঢুকলে আমরা জমে মরে যাব। নো প্রেশার!
রাতে এত চরম ঠাণ্ডা পড়ে যে, মাত্র দশ মিনিট এই বাতাসে থাকলে ফ্রস্টবাইট হয়ে যেতে পারে। জলদি গিয়ে কিছু লাকড়ি জোগাড় করতে হবে। যত গভীরে যাচ্ছি, বরফ তত শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
ছেলেরা পুরো দমে ওই বরফের দুর্গ বানাচ্ছে। এই স্নো-ফোর্টের মেইন পারপাস হলো আর্কটিকের হাওয়া থেকে বাঁচা আর সবাই মিলে শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি করা।
ওহ মাই গড, গাইস! আজ রাতে টেম্পারেচার জিরোর নিচে নেমে যাবে। আমাদের এটা লাগবেই, নাহলে ফ্রস্টবাইটে আঙুল হারাতে হবে। আরও দ্রুত কাজ করতে হবে।
সব শুকনো কাঠ! কপাল ভালো। লাকড়ি পেয়ে গেছি, ব্রো! গাইস, হেইজ এসে গেছে। হেইজ যেহেতু ফিরেছে, দেখি দুর্গে সবার জায়গা হয় নাকি।
ভেতরটা একটু বেশিই টাইট লাগছে। আজ রাতে ঘুমানোর জায়গা তো হলো। আর এটা বেশ কম্ফোর্টেবল। হ্যাঁ, যদি পা ছড়াতে না চাই… তবে! আমার জায়গাই নেই। আর মাত্র দুই ঘণ্টা রোদ আছে, এভাবে থাকলে একটুও ঘুমাতে পারব না।
এই নবাবজাদাদের কাছে এটা কম্ফোর্টেবল না হলেও, এটুকু শিওর যে আমরা মরব না। আর এই ভিডিওর নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি হলো—কেউ যেন না মরে। তাই রাত হওয়ার আগেই এই ছোটখাটো শেল্টারটার সাইজ বড় করতে আর আগুন জ্বালাতে আমরা জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করতে লাগলাম।
আজ রাতে আগুনটাই আমাদের বাঁচাবে। আমি বেশ এক্সাইটেড! এটা শুরু করতে হবে। ভাই, মনে হচ্ছে না এখানে সবাই থাকতে পারবো। খুঁড়তেই থাকতে হবে।
এই তো জ্বলেছে! যাক, এবার গ্লাভসগুলো একটু গরম করতে পারব। আগুন যখন জ্বলেই গেছে, বুঝতেই পারছ এখন কী হবে? এটা ধরো। অলরাইট। কী রান্না করছি?
এ কী করছ তুমি? এটা আগুনে বসিয়ে দাও। ব্যস, আমাদের খাওয়ার জল রেডি!
এটা সেলিব্রেট করার মতো হলেও… সূর্য ডুবে যাচ্ছে। হ্যাঁ, ঠিক। ঘর বানানো শেষ? না। শেষের ধারে কাছেও না। এখন বড়জোর দুই থেকে তিনজন আরামে থাকতে পারবে।
দেখা যাক জলটার টেস্ট কেমন। টেস্ট করে বলো। তোমরা ভাবছ জলটা গরম, কিন্তু বারবার বরফ দেওয়ায় এটা ঠাণ্ডাই রয়ে গেছে।
সাবধানে! আমার জ্যাকেটে আগুন লেগে গেছে! তোমার প্যান্টে আগুন! আমার প্যান্টে সত্যিই আগুন ধরে গিয়েছিল।
মাঝরাত পার হয়ে গেছে, সো টেকনিক্যালি এখন দ্বিতীয় দিন। জানি সবাই ঘুমাতে চায়, কিন্তু ঘরটা এখনো যথেষ্ট বড় না। হেইজের তো হচ্ছেই না, আমাদের ক্যামেরাম্যান ড্যারিয়াসও বাদ পড়েছে। আমি বাইরেই ঘুমাবো।
প্রথম দিনে আমরা সফলভাবে আগুন জ্বালিয়েছিলাম। আর ওই ছোট অস্বস্তিকর গুহায় শুঁটকি মাছের মতো গাদাগাদি করে ঢুকেছিলাম। কিন্তু ভাই, ওটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বাজে ঘুমের একটা ছিল।
ভাই, ক্যামেরা তো পুরো… প্রায় জমে গেছে। ঘুমটা খুব বাজে হয়েছে। গত রাতে যা ঠাণ্ডা ছিল! ব্যাগ আর সবকিছুর ওপর বরফ জমে গেছে।
ক্যামেরাটা ধরতে গিয়ে হাত জমে যাচ্ছে… এই নাও। আমার তো গ্লাভসই নেই, ব্রো! আমার কাছে গ্লাভস নেই। ধরার মতো অবস্থা নেই, এত ঠান্ডা!
ভাই, আমার পা জমে যাচ্ছে। আঙুলগুলো ফিল করতে পারছি না। সবাই এদিকে দেখো! ওই প্লেনটা দেখছ? ঠিক ওখানে তাকাও, বয়েজ! ব্রো, এখনো সাতদিন হয়নি, আমরা কী করছি?
দিনে একবার এই প্লেনটা আমাদের ওপর দিয়ে যাবে। তোমাদের কেউ যদি ফ্লেয়ার গান শুট করে চলে যেতে চাও, যেতে পারো। যাওয়ার আগে কেবল মাথা ন্যাড়া করতে হবে।
তুমি বলতে চাচ্ছ এখনই এই ফ্লেয়ার শুট করে বাড়ি যেতে পারি? তোমার মাথা ন্যাড়া করে। এখনও সুযোগ আছে। তুমি কি যেতে চাও? গত রাতটা জঘন্য কেটেছে, ভাই! কেউ যাচ্ছ না? কালকে দেখা হবে।
আজকের মতো সবাই নিজের চুল বাঁচিয়ে নিল। এটা ক্লিয়ার ছিল যে, আর্কটিকে এই সাত দিন সারভাইভ করতে হলে… গত রাতের মতো যদি আরও একটা রাত কাটাতে হয়, আর টিকতে পারব কি না জানি না। আমাদের শেল্টারটা বড় করতেই হবে।
ড্যারিয়াস, ভিডিও না করে হেল্প করো। আমাকে যেটা করতে বলা হয়েছে, সেটাই করছি।
আমরা এখানে মোট ছয়জন আছি। আজকের লক্ষ্য হলো—আমরা যেন এমনভাবে শুতে পারি যাতে এপাশ থেকে ওপাশে আর পাশাপাশি শোয়া যায়। আর সেটা না হলে, আমাকে ন্যাড়া মাথা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হবে। এটা দেখতে দারুণ লাগছে! জাস্ট অসাধারণ!
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আমরা শেল্টারটা খুঁড়তে লাগলাম, ঠিক তখনই একটা রিয়েলিটি চেক পেলাম।
পটি করার প্ল্যানটা কী শুনি? ভেবেছি একটা আলাদা পুপ-টেন্ট থাকবে। কিন্তু ওটা আনোনি? ওটা তো প্যাকিং লিস্টেই ছিল। প্যাক করেনি কে তাহলে? আমার ব্যাগে তো আর জায়গা ছিল না। আমরা পটি করবো কীভাবে? করবো না! সব কিছু গড়বড় হয়ে গেছে! কোনো কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না!
আমাকে পটি করার এরিয়া খুঁজতে পাঠিয়েছে। হ্যাঁ, ক্যাম্পের আশেপাশে পটি করলে স্বাভাবিকভাবেই ভাল্লুক চলে আসবে। সবচেয়ে ক্রিপি ব্যাপার হলো, আমি শুধু পশুপাখির পায়ের ছাপই দেখছি, কিন্তু কোনো পশুকে দেখছি না। এর মানে ওরাই আমাদের ওপর নজর রাখছে, যা ভালো লাগছে না।
মাথায় এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা আসছে না। আমি তো সিরিয়াসলি ওই ফ্লেয়ার গানটা শুট করার কথা ভাবছি। দেখা যাক কী হয়। আমি জাস্ট… বিশ্বাসই করতে পারছি না এটা মাত্র দ্বিতীয় দিন! মনে হচ্ছে কোনো নরমাল চ্যালেঞ্জের ছয় বা সাত নাম্বার দিন চলছে। সন্দেহ হচ্ছে সবাই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারব কি না।
ছেলেরা নিচে জান লড়িয়ে খাটছে আর আমি শুধু বলতে চাই—আমি সত্যি ওদের নিয়ে গর্বিত। আশা করি আজ রাতে ঘরের ভেতর সবাই একটু ভালোভাবে ঘুমাব। তবে বড় সমস্যা হলো, আমরা মাত্র তিন-চার দিনের খাবার এনেছি। তাই আমরা যদি মাছ ধরা বা শিকার করা শুরু না করি, তবে আমরা টিকতে পারবো না। ফুড সাপ্লাই বাকি দুই দিনের।
তৃতীয় দিন শুরু হয়ে গেছে, আর আমার মনে হয় নাকে ফ্রস্টবাইট হচ্ছে। কিছু জায়গায় বেগুনি রঙ হতে শুরু করেছে। তাই, এই ভিডিওটা বেশ ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে!
অন্ধকার নামতেই, ১৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাপমাত্রা এত মারাত্মক কমে গেল যে, ফ্রস্টবাইটের হাত থেকে আমাদের ওই আশ্রয়ও বাঁচাতে পারছিল না।
তৃতীয় দিন। আমার আঙুলগুলো অবশ হয়ে গেছে। আমার স্পর্শ বুঝতে পারছ? অনেক কম। তোমার পা খুব ঠান্ডা! উফ! দেখো, সাদা হয়ে গেছে? রক্তহীন দেখাচ্ছে।
দেখো, সাদা হয়ে গেছে? রক্তহীন দেখাচ্ছে। এটা ভালো বিষয় না। আমার বগলের নিচে পা দাও। আমার বুড়ো আঙুলটা ওপর থেকে এত ফ্ল্যাট লাগে না।
চ্যান্ডলারের আঙুল সাদা হয়ে গেছে। সম্ভবত ফ্রস্টনিপ। তাই ফ্রস্টবাইট হওয়ার আগে এগুলো জলদি গরম করতে হবে। চ্যান্ডলারের কপাল খারাপ।
প্রকৃতি আমাদের জন্য আরও চমক নিয়ে রেখেছিল। কেউ কি মাথা ন্যাড়া করে চলে যেতে চাও? আমি আসলেই সেটা ভাবছি। ব্যাডলাক! কারণ পাইলট জানালো প্রচণ্ড তুষারপাতের জন্য সে প্লেন নিয়ে আসতে পারবে না।
হ্যাঁ, একটু কষ্ট করে টিকে থাকো আর আজকে সেফ থাকার ট্রাই করো। তার মানে এই চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে খারাপ দিনে আমরা এখান থেকে ইভাকুয়েট করতে পারব। আমি জাস্ট বলছি—যেদিন বিপদের চান্স সবচেয়ে বেশি, সেদিনই প্লেন আসতে পারবে না।
ওহ, না! ভাই, গত রাতে কী পরিমাণ স্নো-ফল হয়েছে দেখেছ? ওয়েদার পুরো চেঞ্জ হয়ে গেছে। বেশ ডেঞ্জারাস লাগছে। এক সময় ওটা আমাদের ক্যাম্প ছিল! আজকে জমে যাবো।
এখন আমাদের মেইন প্রায়োরিটি হচ্ছে আগুন জ্বালিয়ে একটু গরম হওয়া। ধুর! এটা তো নরমালি এত কঠিন হয় না। কিন্তু রাতের স্নো-ফলের কারণে একটা নতুন প্রবলেম দেখা দিল। সব ভেজা! সব কাঠ ভিজে গেছে। এটা খুবই খারাপ হলো।
আমার একটা আইডিয়া আছে। ওহ, ও তো পাখির পালক নিয়ে এসেছে! এই তো হচ্ছে। এবার হবে! পালক বিশেষজ্ঞ! এই আগুনটা না জ্বললে আজকে আর রক্ষা নেই।
ওহ, এই তো! স্পার্ক দেখছি। পালকগুলো কাজ করেছে! আমাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও এটা বাঁচাতে হবে। প্লিজ, প্লিজ এবার যেন জ্বলে ওঠে! গরম! আগুন জ্বলে গেছে!
আমরা এখন শুধু গরম নিয়ে ভাবছি, আমাদের আসলে খাবারের ব্যবস্থা করার দিকে ফোকাস করা দরকার। আমি একটা জিনিস এনেছি যা কাজে লাগতে পারে। একটা আইস-অগার। ফান ফ্যাক্ট হলো আমাদের ক্যাম্পের কাছেই একটা জমে যাওয়া লেক আছে। সো আমরা এই অগার দিয়ে গর্ত করে মাছ ধরার ট্রাই করব।
তবে যাওয়ার আগে চ্যান্ডলারকে একবার চেক করতে হবে। এখন বেটার লাগছে। কালার ফিরে আসছে। আমি আর হেইজ খাবার খুঁজতে যাচ্ছি। সো আমাদের অনুপস্থিতিতে ডক্টর ডিউটি কে নেবে? আমি ওর খেয়াল রাখতে পারব। থ্যাংকস নোলান, পাশে থাকার জন্য। ইটস ওকে, বাডি।
চলো দেখি কিছু মাছ ধরতে পারি কি না। গুড লাক! পরে দেখা হবে। হেই নোলান, চ্যান্ডলারের খেয়াল রেখো। আমরা শেল্টারের কাজটা দেখব। গাইস, সাবধানে থেকো। মরে যেও না যেন আবার!
চলো দূরের ডার্ক স্পটগুলোর একটাতে যাই। ওকে। মেবি ওখানকার বরফটা একটু পাতলা হবে। চরম ঠাণ্ডা। বাতাসটা খুব জোরালো! ফেরার সময় মুখের ওপর এই বাতাস লাগলে অবস্থা টাইট হয়ে যাবে।
অলরাইট, একদম এই জায়গাটাতেই করি। ওয়েট, ড্যারিয়াস এটার শট নাও। লোকে বুঝুক যে আমি মজা করছি না, আমরা আসলেই বরফের ওপর ক্যাম্পিং করছি। আমরা নিচে পড়ে যাব না তো? কোনো চান্স নেই। এটা খুব মোটা আর ঠাণ্ডা।
আমি একবার ট্রাই করব? হ্যাঁ। হ্যাঁ। আইডিয়াটা হলো বেশি জোরে চাপ দেবে না, ব্লেডটাকেই কাটতে দাও। হেই তারেক, এদিকে এসো। আমি তো চোখই মেলতে পারছি না বাতাসে!
এই বরফটা কতটা থিক? আশা করি বেশি থিক না। তবে এখনই জানা যাবে। ওহ, এটা আসলেই জঘন্য! জোর লাগাও! করতে থাকো।
দেখা যাক কত গভীরে গেলাম? হ্যাঁ, চলো দেখি। ওহ ভাই! আমরা বেশ উন্নতি করেছি! ওটা দেখো একবার! কাজ হচ্ছে আমাদের! ওহ আমার চোখ!
এখানকার ওয়েদার আমাদের ইমাজিনেশনের চেয়েও খারাপ। আমাদের সিচুয়েশন তো পুরো ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানোর’ মতো! পুরো কিচেন স্নো-তে ঢেকে গেছে। আর খাবার বানানোর বেশির ভাগ গিয়ার আমরা হারিয়ে ফেলেছি। দেখি কিছু খুঁজে পাই কি না।
হ্যাঁ, বাইরে এখন মারাত্মক স্নো-ফল হচ্ছে। বাকিরা মাছ ধরছে, হোপফুলি রাতে আমাদের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা হবে।
তোমাদের কী মনে হয়? প্রায় আড়াই ফুট হবে? নাকি তিন? এটা প্রায় হাফ-তারেক সাইজ! সো আড়াই ফুট হবে। ওহ, আচ্ছা! আমাদের যেকোনো মূল্যে মাছ পেতেই হবে কারণ যদি না পাই, পাঁচ আর ছয় নাম্বার দিনে ছেলেরা খেপে যাবে।
দেখ কতটা গভীর! আমার পুরো হাত ঢুকে যাচ্ছে। ওহ মাই গড। আর মাত্র এক ইঞ্চি বাকি, নাহলে এই ড্রিল আর ঘুরবেই না। জোর লাগাও! আরেকটু! প্রায় হয়ে এসেছে। কাম অন, সবাই প্রে করো!
আহহ! উফ! খিদে পেয়েছে! আমারও! না না না না! আমরা আর এক চুলও ড্রিল করতে পারছি না। আমাদের ড্রিলটা লম্বায় ছোট পড়ছে। বরফটা যে কতটা থিক, জাস্ট ভাবো! তার মানে আমরা কোনো মাছই পাব না? মেবি এখানে না।
বরফটা যে বড্ড বেশি থিক সেটা বুঝতে পারলাম। আর জামাকাপড় ভিজে যাওয়ায় হাইপোথার্মিয়ার রিস্ক বাড়ছিল, তাই আমাদের ব্যাক করতে হলো। খালি হাতে ফিরে আসাটা আমাকে খুব ভাবিয়ে তুলল। মনে পড়ে গেল আমাদের লাস্ট সারভাইভাল ভিডিওটার কথা, যেখানে আমরা আসলেই ফেল করেছিলাম।
তোমাদের কথা দিচ্ছি, আমাদের নেক্সট চ্যালেঞ্জ ভিডিওতে আমি হারব না। আর ফেল করব না! আর ফেল করব না। কিছুতেই না।
হেই, বয়েজ। কিছু ধরতে পারলে? ধুর না। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। হ্যাঁ। আজকের দিনটা পুরো ফালতু গেল। সবার মোরাল একদম ডাউন। কেউ একটা বাড়ি মেরে সাতদিন পর্যন্ত অজ্ঞান করে দাও।
ভাবা যায়? এটা মাত্র তিন নাম্বার দিন। আরও চারটে দিন বাকি! হ্যাঁ, আর আমার হাতসহ সবকিছু পুরো ভিজে গেছে। আজ রাতে মারাত্মক ঠাণ্ডা পড়বে।
এটা খুবই ডেঞ্জারাস। ওই জল যদি গায়ের সাথে জমে যায়, তবে অবধারিত মৃত্যু। ওকে, আমাদের জামাকাপড় ভেতর পর্যন্ত পুরো ভিজে গেছে। আজ রাতে চরম ঠাণ্ডা পড়বে। এখনই কিছু না করলে আমাদের যে কারও হাইপোথার্মিয়া হয়ে যাবে।
ওই স্প্রুস গাছটা দেখছ? চলো ওটার ডালপালা কেটে বিছানা বানাই। একটু ইনসুলেশন না হলে ঘুমানো যাবে না। রাতে মাটি থেকে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা লাগে। এগুলো একদম পারফেক্ট। বিছানার জন্য দারুণ জিনিস।
হেই, হেইজ এসে গেছে। হেইজ! কার কার লাগবে? আমার লাগবে, দাও। আমার আরও আছে, গাইস।
হেইজ যখন ওই ডালপালাগুলো নিয়ে হাজির হলো, মনে হলো ক্রিসমাসের গিফট পেলাম! ফাইনালি রাতে একটু উষ্ণতা পাওয়ার আশা জাগল। ওহ, এটা আমাদের বাঁচিয়ে দিল ভাই! থ্যাংক ইউ। আমরা ঠিক আছি, সবাই সেফ। এটাই আসল কথা। ভাই, আজ রাতে দারুণ ঘুম হবে!
চতুর্থ দিন।
ওহ ম্যান! জায়গাটা জাস্ট বিউটিফুল! থ্যাংক গড, আজকের ওয়েদারটা অনেক বেটার! ওহ ওয়াও! রোদটা কী মিষ্টি লাগছে! আজকে ফাইনালি সবকিছু ঠিকঠাক হবে মনে হচ্ছে।
দেখে মনে হচ্ছে ঝড়-তুফান আসছে। কী বললে? ওয়েদার। ওই দূরে অন্ধকার দেখছ? তার মানে তুষারঝড়। তুষারঝড়? হ্যাঁ তুষারঝড়। আমাদের জলদি মুভ করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো… আজ আমাদের খাবার পুরো শেষ হবে, যদি না কোনো মাছ ধরতে পারি।
ফুড সাপ্লাই বাকি এক দিনের। আমাদের আর বেশি খাবার নেই।
হ্যাঁ, একটু দাঁড়াও তো। ওহ না!
আজকে মাছ ধরার ভালো স্পট খুঁজতে আমরা ড্যারিয়াসের ড্রোনের সাহায্য নিচ্ছি। লেফট স্টিক ওপরে প্রেস করো। ওকে।
আমরা এমন বরফ খুঁজব যেটার নিচে জল সচল আছে। কারণ রানিং ওয়াটার মানেই বরফ সেখানে পাতলা।
হ্যাঁ হ্যাঁ, ওটা নির্ঘাত একটা নদী। ওই বাঁকটা দেখতে পাচ্ছ? ওহ! ওটা বেশ বড় নদী। আর বড় নদী মানেই বেশি মাছ।
গাইস, ওটা তো অনেক দূরে! একটা লেক আর জঙ্গল পার হয়ে ওই নদীতে যেতে হবে। তোমরা অতটা হাঁটতে পারবে তো? হ্যাঁ। তারপর মাছ ধরে ওগুলো টেনে নিয়ে আসতে হবে। তাই আমাদের জলদি বের হওয়া উচিত।
টেনশন নিও না গাইস, আমার একটা সিক্রেট ওয়েপন আছে।
জিমি, তুমি কি স্কি করতে পারো? না। আমি নিজেই জানি না কী করছি! হ্যাঁ, দেখেই বুঝেছি।
ওরে বাপরে। লেক পার করতে ক্রস-কান্ট্রি স্কি এনেছিলাম। আমার আর ড্যারিয়াসের জন্য সহজ ছিল না। আমার অসহ্য লাগছে!
এটা অনেকটা—পা ঘষো, ঘষো, স্লাইড করো। মানে জাস্ট পা ঘষব? হ্যাঁ, ঘষো, ঘষো আর স্লাইড। এই তো ভালো হচ্ছে। এটা কেমন যেন অদ্ভুত মজার! চলো এবার মাছ ধরা যাক!
জলদি করো বন্ধুরা, আমরা পারব। সাবাশ বয়েজ, আই এম প্রাউড অফ ইউ!
হেই ড্যারিয়াস? হ্যাঁ। তুমি কি একটু কম আছাড় খাবে প্লিজ?
চলো এবার স্কিগুলো একসাথে বেঁধে ফেলি। জঙ্গল পার হওয়ার জন্য আমরা স্নো-শুজ পরে নিচ্ছি, যাতে বরফের ওপর দেবে না গিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়। ড্রোনের হিসাব অনুযায়ী, নদীটা এই দিকে। চলো কম বরফওয়ালা জায়গা দিয়ে হাঁটি।
ওই দিকটায় তাকালে… ওহ মাই গশ! তুমি মাঝপথে কী যেন বলছিলে? পারফেক্ট টাইমিং। কই, কোথায় বরফ? উফ!
দেখো, চারদিকে কত পশুপাখির পায়ের ছাপ! হ্যাঁ তো। জঙ্গলের ভেতরের এই পায়ের ছাপগুলো কিন্তু আমাদের না। ওটা কীসের ছাপ, হেইজ? মুজ। ব্রো, মুজের পা এত বড় হয়? কত লম্বা হয়? বিশাল সাইজের হয়। পায়ের ছাপ দেখে যা বুঝলাম… ওহ মাই গড!
আমার মনে হয় আমাদের ওদিকে যাওয়া উচিত যেদিকে মুজটা যায়নি।
মাছগুলো যেন ড্রিল করা গর্ত থেকে লাফিয়ে বাইরে আসে। খালি হাতে ফিরলে এতক্ষণ ধরে খাওয়া আছাড়গুলো পুরোই বৃথা যাবে।
চ্যান্ডলার! কী হয়েছে? ধুর ভাই, প্যান্টটা ওপরে তোলো। দেখেই ঘাম ছুটছে!
জিমি এই জায়গাটা বড় করতে বলেছিল। আমরা ওকে পুরো ম্যানশন বানিয়ে দেব!
মারাত্মক ঠাণ্ডা। আমরা টায়ার্ড, কাহিল হয়ে গেছি। ধুর, উফ! এই ঘন জঙ্গলটা জাস্ট কোনোমতে পার হতে হবে। আমি জানি, নদীটা ওখানেই আছে। প্রায় চলে এসেছি, বয়েজ, জোর লাগাও!
তোমার ধৈর্য হারাতে আর কতক্ষণ? অলরেডি হারিয়েছি!
গাইস, আমি নদীটা দেখতে পাচ্ছি! বলছ কী! ওহ মাই গশ! ভিউটা অসাধারণ, তাই না? পুরো ক্রেজি ব্যাপার। এবার মাছ ধরা শুরু করা যাক।
ওয়াও! আমার পা তো গর্তে আটকে গেছে! আমি আছি তো, ব্রো! এই ডালটার জন্যই কোনোমতে বেঁচে গেলাম!
ক্যাম্পে বাকিদের কী অবস্থা কে জানে! আশা করি ওরা কিছু একটা করছে।
ওহ! ওহ ওহ ওহ! বাপরে! হেই! জোর লাগাও। ইয়ো! বরফের টুকরোটা একটু বেশি বড় না? ওহ! চ্যান্ডলারের ছাদ তৈরির নিউ টেকনিক! ভাই, ওটা সুন্দর ছিল!
ওহ! দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বরফের চাঁই ওটা! গাইস, বুঝলাম তোমরা নতুন স্ট্র্যাটেজি পেয়েছ… কিন্তু প্লিজ ছাদটা যেন আবার ধসে না পড়ে। ওটা কিন্তু বিশাল বড় টুকরো! সত্যি বলতে, জানি না কী করছি!
মনে হয় এই জায়গাই হবে। হ্যাঁ, এখানেই। ওকে!
এতক্ষণ যে জার্নিটা দেখলে তা এই আশায় করা যে এখানকার বরফ পাতলা হবে। দেখা যাক কপালে কী আছে!
কাম অন জিমি, জোর সে লাগাও! কাম অন জিমি, জোর সে লাগাও! কাম অন জিমি। তুমি কি আমার চিয়ারলিডার? তবে শুনতে বেশ লাগছে!
ওহ। এত এনার্জি থাকলে, তাহলে এসে এটা চালাও। বেশি এনার্জি দেখাচ্ছ! ওকে, এবার নামো। হ্যাঁ ভাই, এই তো হচ্ছে।
আমরা মাছ পাবই। আজকে, কালকে, পরশু—ভিডিওর বাকি দিনগুলো আমার ছেলেগুলো সবাই রাজভোগ খাবে! আসলে আমি নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছি। কারণ এত টাইম, এনার্জি, ক্যালোরি লস করে আমি মারাত্মক টায়ার্ড, আর খুব ভয়ও লাগছে।
গাইস, প্লেন এসেছে! হ্যাঁ, প্লেন এসে গেছে। ফ্লেয়ার গানটা কোথায়? আমরা শেল্টার বানিয়েছি, অনেক খাটলাম। আমরা চাইলে… জাস্ট এটা শুট করতে পারি। আমরা এটা শুট করে বাড়ি যেতে পারি। এটা কি লোডেড?
হাহা। হেই! ওটাই প্লেনটা। হ্যালো! সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে অফারটা কিন্তু বেশ লোভনীয় লাগছে!
আমার আঙুল ট্রিগারেই ছিল ভাই, প্রায় দিয়ে ফেলেছি! আমারও ইচ্ছা হচ্ছিল। ধুর ভাই, চলো শুট করেই দিই! এই কষ্টটা আমরা এখনই শেষ করতে পারি। চলো সবাই চলে যাই। জিমির শর্তমতে জাস্ট ন্যাড়া হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে, এই যা!
আশা করি ওদিকে কেউ মাথা ন্যাড়া করে প্লেনে ওঠার প্রিপারেশন নিচ্ছে না! সত্যি বলতে, ক্যাম্প এখান থেকে অনেক দূরে। ওরা ফ্লেয়ার শুট করলেও আমি জানতে পারব না।
চোখ সাবধানে রেখো। গর্তটা আমার পুরো হাতের সমান গভীর হয়ে গেছে, তাও জলের দেখা নেই। মেবি কালকের মতোই অবস্থা হবে। সায়েন্স বলে এটা নদী তাই বরফ পাতলা হওয়ার কথা। কিন্তু দেখে তো মোটেও পাতলা মনে হচ্ছে না।
ভাই, আমার জুতো পুরো ভিজে গেছে! নদীর পাড়ে যখন আছাড় খেয়েছিলাম, আমার জুতোর ভেতর বরফ জল ঢুকে গিয়েছিল। আর এখন… আমি জমে যাচ্ছি! এক কাজ করো, মোজা খুলে চিপে নাও। হ্যাঁ, পা পুরো লাল হয়ে গেছে।
আমার পা-টা তোমার বগলে চেপে ধরবে প্লিজ? হ্যাঁ। পায়ের আঙুলগুলো পার্পল কালার হতে শুরু করেছে। একটু উষ্ণতা পাওয়ার জন্য ওগুলো ড্যারিয়াসের বগলে ঢুকিয়ে দিয়েছি। থ্যাংক ইউ ড্যারিয়াস! হেই ম্যান, স্বপ্নেও ভাবিনি যে তোমার পা এই জায়গায় দেখব!
আমি এখন কী চাই জানো? ক্যাম্পে আগুন জ্বলছে আর সাথে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ হট কোকো! হ্যাঁ, কিন্তু যাদের ওপর ভরসা করছ, তাদের তো চেনো!
কিন্তু এই কনকনে ঠাণ্ডায় তিন ঘণ্টা কাটানোর পর… হেইজ দোস্ত… আমি বুঝলাম যে আমাদের এবার ব্যাক করতে হবে।
হেই, আমরা যদি এখন না ফিরি, তাহলে সিরিয়াসলি কেউ বড় কোনো বিপদে পড়বে। আই থিংক আমাদের মেনে নেওয়া উচিত যে আমরা এবারও ফেল করেছি।
আহ! মেঘ দেখে মনে হচ্ছে মারাত্মক ঝড় উঠবে। জাস্ট চারদিকটা দেখো! আমরা পুরো জনমানবহীন একটা জায়গায় আছি। জলদি ক্যাম্পে ফিরতে হবে। আশা করি বাকিদের কপাল আমাদের চেয়ে ভালো!
আজ রাতেও না খেয়ে থাকতে হবে শুনলে নোলান আর চ্যান্ডলারের মুখের অবস্থা কেমন হবে, আমি জাস্ট সেটাই ভাবছি।
কেমন হলো? তোমরা ঠিক আছ তো? আমরা প্রায় ছয় ফুট খুঁড়েছি! টানা চার ঘণ্টার হাড়ভাঙা খাটুনি। তারপর তো সূর্যই ডুবে গেল। তার মানে আজকেও মাছ পাওনি?
তারমানে আজকেও মাছ পাওনি? আমি বলছি—আমরা কালকে আবার যাব আর মাছ না পাওয়া পর্যন্ত খুঁড়ব! আমি এখন একটু শুতে গেলাম।
উদ্দেশ্য: মাছ ধরা।
তখনই ফ্লেয়ার শুট করা উচিত ছিল। এখন আমাদের কাছে খাবার নেই। চার নাম্বার দিনেও খাবার নেই।
সবাই একটু শান্ত হও তো। জানি সবার মন খারাপ, কোনো মাছ পাওয়া যায়নি। চলো গুহাটা দেখে নিজেদের মোরাল একটু বুস্ট আপ করি!
ওয়াও! দেখতে পাচ্ছ এটা? পুরো অসাম! ব্রো, এই কোণটা আগের চেয়ে অনেক বড় এখন! আজকের গোল হলো—রাতে কেউ যেন কারও ঘুমে ডিস্টার্ব না করে। ধন্যবাদ। সবাই এত সুন্দর দূরত্বে আছি যে কারও সাথে কারও ধাক্কা লাগবে না।
আজকের দিনটা বড্ড কঠিন ছিল। এবার একটা সাকসেস দরকার ভাই! একের পর এক বাঁশ খেয়ে যাচ্ছি। আজকে একটা চরম জার্নি গেল।
ফোর্টটা বড় করার জন্য থ্যাংক ইউ সো মাচ। এখন আমার আর নোলানের মাঝে বেশ ভালো জায়গা আছে। হ্যাঁ, আর ধাক্কাধাক্কি হবে না। এবার ঘুমাই, কালকে আবার সেই একই খাটুনি করতে হবে। কী চমৎকার!
পেইন্ট: ০১১
দেখতে দেখতে পাঁচ নাম্বার দিন চলে এলো আর আমাদের শেষ খাবারও ফুরিয়ে এসেছে। তবে এই সিচুয়েশনের জন্য আমাদের কাছে কিছু স্ন্যাক্স ছিল, যেমন—‘জ্যাক লিঙ্কস বিফ স্টিকস’। এতে আছে ছয় গ্রাম প্রোটিন, সারাদিনের এনার্জি বুস্ট করার জন্য একদম পারফেক্ট। ড্যারিয়াস, আমারটা নিতে পারো।
আর আমরা যদি এই বরফাবৃত আর্কটিকে না থাকতাম, তাহলে সোজা ওয়ালমার্টে গিয়ে তোমাদের জন্যও এটা নিয়ে আসতে বলতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই বিফ স্টিক শেষ হওয়ার পর, আমাদের কাছে আর কোনো খাবারই নেই। আর ওদিকে, তুষারঝড় শুরু হয়ে গেছে।
কোনো প্লেন আসবে না, কোনো রেসকিউ টিমও আসবে না। আমরা এখন পুরোপুরি নিজেদের ভরসায়।
আমাদের মাছ ধরতেই হবে। কিন্তু প্রবলেম হলো, এই তুষারগুলো খুব ভেজা। বাইরে গেলেই শরীর ভিজে যাবে। এই অবস্থায় মাছ পেলেও জীবন বাঁচানো চরম রিস্কি হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের আবার কষ্ট করে সেই আগের ফিশিং হোলে যেতে হবে। আর এটা ধরে রাখো যে, ফেরার পর আমাদের মধ্যে কারও না কারও হাইপোথার্মিয়া হবেই।
কী বলছ? তার মানে তোমরা এখানে গরম জল রেডি রাখবে। একদম ইমার্জেন্সি মেডিকেল স্টেশনের মতো প্রিপারেশন নাও। এটা খুবই রিস্কি। অলরাইট, চলো যাই!
ইয়ার্কি বাদ দিলে, আমি ছেলেদের ভালো করেই চিনি। আজকে যদি মাছ না পাই, কালকে ওরা সবাই ফ্লেয়ার গান শুট করে রণে ভঙ্গ দেবে। আর আমাদের লাস্ট ভিডিওটা ফ্লপ হয়েছিল, আইল্যান্ডের কাছে গিয়েও পারিনি। আমি আর কোনো ভিডিও নষ্ট করতে চাই না। আমরা মাছ নিয়ে তবেই ফিরব। হ্যাঁ, একদম।
আমরা এখন কী করতে যাচ্ছি? মাছ ধরতে যাচ্ছি। মন থেকে বলো! আমরা এখন কী করতে যাচ্ছি?! মাছ ধরতে যাচ্ছি! তাহলে চলো মাছ ধরা যাক! চলো জলদি।
পরে দেখা হবে বয়েজ। সাবধানে থেকো। ভাই, এই ঝড়ের মধ্যে আমরা আগুন জ্বালাব কীভাবে?
তুষারঝড়ের কারণে আমরা স্কি না করার ডিসিশন নিয়েছি, যাতে বয়ে নেওয়ার মতো গিয়ার কম থাকে। তবে এর মানে হলো পথ চলতে টাইম বেশি লাগবে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়!
নদীতে যাওয়ার জন্য আগে আমরা যে ট্র্যাকটা তৈরি করেছিলাম, অতিরিক্ত তুষারপাতে সেটা পুরোই মুছে গেছে। আমরা পারব, টেনশন নিও না। আমাদের ওই দিকে অনেক দূর হাঁটতে হবে।
কিন্তু আগুন জ্বালাবো কীভাবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সব কাঠ তো পুরো ভিজে গেছে। ভেজা কাঠে তো আগুন ধরানো পসিবল না! ওরা ফেরার পর গরম জল লাগবে, কিন্তু আমরা কীভাবে… কী করব? যারা বুদ্ধি দিতে পারত, তারা সবাই তো চলে গেছে। বয়েজ, আমাদের নিজেদেরই কিছু একটা করতে হবে।
এক-তৃতীয়াংশ রাস্তা শেষ! তিন ভাগের এক ভাগ পার হলাম। তাহলে আগের রাস্তাটা কই গেল? রাস্তা পুরো উধাও হয়ে গেছে! ওহ, এই তো পাওয়া গেছে। হ্যাঁ, দেখছি। হ্যাঁ। এই সেই জায়গা, যেখানে গতকাল আমি আটকে গিয়েছিলাম।
জিমি ঠিক আছো তো? ঠিক আছি। আজকেও প্রথমবারেই ফেল করলাম! চলো চলো, বয়েজ। এবার করে দেখাব। আজকে মাছ আমরা পাবই! উউ!
আমরা এই মরা গাছটা ইউজ করব, কারণ এটার ভেতরটা শুকনো আছে। ওয়েট, চ্যান্ডলার আমরা আসলে কী খুঁজছি? শুকনো কিছু ছাল।
জোর লাগাও। এই তো হচ্ছে। হেই এটা ভেঙে গেছে। আমরা পেরেছি। অলরাইট, চলো ভেতরে যাই।
শুকনো কাঠ যখন পেয়েই গেছি, এবার ওগুলো কুচি কুচি করে আগুন জ্বালানোর ট্রাই করব। আমাদের কাছে শুকনো বলতে জাস্ট এটাই আছে।
এই তো সেই জায়গা। ওহ ম্যান! ফাইনালি এসে গেলাম। আয় আয়, মাছেরা জলদি চলে আয়! আমরা আসছি তোদের ধরতে!
ওটা কি সেই ড্রিলটা? এটা সেই গাছ, যেখানে রেখেছিলাম। দেখতে এক্সক্যালিবারের মতো না? অলরাইট।
ওহ শিট! এটা মেবি জমে গেছে। উহুহু! ওকে, গর্তটা এখনো আছে। চলো কাজে লেগে পড়ি।
আমাদের প্রথমে চারপাশটা একটু চওড়া করতে হবে যাতে ড্রিলটা আরও গভীরে যেতে পারে। তুমি বরফ খুঁড়তে থাকো, আমি ততক্ষণে দেখি কোথাও পাতলা বরফ পাওয়া যায় কি না। আমি ভাবছি যেখানে নদীগুলো মিশেছে, সেখানে জলের স্রোত বেশি থাকে। তাই বরফ মেবি পাতলা হবে। আশা তো এটাই।
এই মুহূর্তে আমাদের একটা মিরাকল দরকার। আমাদের কিছু মাছ ধরতেই হবে। বডি গরম রাখতে খাবার জরুরি। না খেলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, আর শরীর ঠাণ্ডা হলেই হাইপোথার্মিয়া। ব্যস, তাহলেই সব শেষ! উফ! জাস্ট একটা সাকসেস দরকার।
ওহ! ওহ! জিমি! কী? বরফ ফুটো হয়েছে। সত্যি। এখানকার বরফ মাত্র আট ইঞ্চি! হাহাহাহা! দেখি দেখি। নিজের চোখে দেখবো। ওহ ইয়েস!
ফাইনালি আমাদের প্রথম ফিশিং হোল রেডি। আশা করি আরও হবে। আমাদের টোপ হিসেবে কিছু ফ্রোজেন ফুড আছে। দেখি কোনো মাছ টোপ গেলে কি না। ভালো হয় যদি আমরা মাছ ধরার জন্য আরও কয়েকটা গর্ত করে রাখি। আমরা যা খাটুনি খেটেছি, মাছ না পেয়ে উপায় নেই!
আর এখন কেবল অপেক্ষা। কারণ পারফেক্ট স্পটে থাকলেও এক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। এক ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে।
আমার একটা মাছ চাই!
কোনো নড়াচড়া দেখছ ড্যারিয়াস? না।
গাইস, সত্যি বলতে কী, আমার এখন মারাত্মক ঠাণ্ডা লাগছে। বড় আশা করে বড়শিতে টোপ ফেলেছিলাম, এখন ভরসা হারিয়ে ফেলছি। ভয় হচ্ছে এখন মাছ না পেলে ক্যালোরির অভাবে আজ রাতে বা কালকে আমরা পুরো জমে যাব। আর স্নো-ফল বাড়লে হয়তো চ্যালেঞ্জটাই কুইট করতে হবে।
আমি জানি না কী হবে, তবে পরপর দুটো চ্যালেঞ্জে আমি হারতে চাই না। আমি ওমন ছেলেই নই। হার জিনিসটা আমি জাস্ট সহ্য করতে পারি না। তাই যত সময়ই লাগুক আমি এখানেই বসে থাকব, আর মাছ ধরেই ছাড়ব। কারণ তোমাদের জন্য আমাকে সাকসেসফুল হতেই হবে।
ওহ! দাঁড়াও! কিছু একটা এখানে। ওয়াও ক্রেজি তো! দর্শকরা তো ভাববে এটা ফেক! বেশ অদ্ভুত তো!
আরে, মাছ আটকেছে বড়শিতে! ওহ! মাছ ধরেছ তুমি। মাছ এসেছে?! একশ পার্সেন্ট মাছ এটা! জিমি।
তুমি ওই ইমোশনাল স্পিচ দেওয়ার মাঝেই মাছ ধরে ফেলেছ! ওহ! অবিশ্বাস্য। জিমি। না। না না, ওটা ঠিক ওখানেই আছে। আমি হাত দিয়ে ধরে ফেলেছি। ধুর, মজা করছ নাকি! না মানে, ওটা ফসকে দিলে?! না ওটা… ওহ নো! না! না না!
আমি ওটা প্রায় হাতেই পেয়েছিলাম। ঠোঁটের কাছে আটকে ছিল। হ্যাঁ, আড়াআড়ি ওপরে উঠছিল। হ্যাঁ। ওকে, ট্রাই কর, ফিশিং করে যাও। শোনো, এই মাছগুলোর নেচার হলো—একটা পাওয়া গেছে মানে আশেপাশে এমন অনেক আছে। জলদি বড়শি জলে ফেলো। একটা যখন এসেছে, আরও আসবে। সত্যি জিমি, আমরা এবার মাছ পাবই। কিছুতেই হারব না, কসম।
ওহ না! এটা তো খারাপ হলো। ইটস ওকে, আমার কাছে এক্সট্রা গ্লাভস আছে। ওহ, আচ্ছা। ওকে, ওকে। তুমি মাছ ধরায় ফোকাস করো। আমি খুব সরি ভাই। এমনটা হতেই পারে।
সত্যি বলতে, আমিও প্রায় গর্তে হাত ঢুকিয়েই দিচ্ছিলাম। আমি আগে কখনো এভাবে খালি হাতে জীবন্ত মাছ ধরিনি তো, তাই ঘাবড়ে যাই।
জিমি, নড়ো না। পেয়ে গেছ তুমি! হ্যাঁ। ওকে জিমি, একদম রিল্যাক্সে আস্তে আস্তে টানো। আলতো করে গর্ত দিয়ে ওপরে তোলো। ওহ! সাবাশ জিমি।
আমরা একটা পেয়ে গেছি। ওহ মাই গড! এটা জাস্ট… এটা… আমরা মাছ পেয়েছি। ওহ ভাইরে! আবার গর্তে ফেলে দিচ্ছিলাম প্রায়। অলরাইট, অলরাইট। আবার বড়শি ফেলি, পেয়েছি যখন, আশেপাশে আরও আছে। ঠিক আছে। অলরাইট। চলো এটা বরফের ওপর রাখি।
আশা করি জিমিরা সেফ আছে। ওরা আসার আগেই আমরা সবকিছু রেডি করার ট্রাই করছি। হোপফুলি ওরা মাছ পেয়েছে। চ্যান্ডলার, তুমি কি আগুন জ্বালাতে রেডি? হয়ে এসেছে। করতে থাকো, করতে থাকো… এই তো! আগুন ধরে গেছে! আমরা আগুন জ্বালিয়েছি। অলরাইট, হালকা একটু আগুন ধরেছে। এটাকে বড় করতে হবে। আমাদের জাস্ট এতে কাঠ দিয়ে যেতে হবে।
ওহ! হেইজ, আবার টান দিয়েছে! সুতো টানটান রাখো। আস্তে আস্তে টানো। লুজ দিও না। টানতে থাক, টানতে থাক। কিছু একটা আছে! কিছু একটা আটকেছে! ওপরে তোলো! ইয়েস! উইউ! আরেকটা পেয়ে গেছি! আহহহ! ওহ মাই গড! আজ রাতে ভোজ হবে! একদম।
কত ঘণ্টা ধরে যে জল খাইনি! মাথাব্যথা করছে। কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে যাক, মাছ তো পেয়েছি। টানা সাত ঘণ্টা ফিশিং করার পর আমরা দুটো মাছ পেয়েছি! চলো ছেলেদের সাথে সেলিব্রেট করা যাক! উইউই! চলো জলদি।
এবার বরফ দেওয়ার পালা। হেইজ আমাদের দেখে খুব প্রাউড ফিল করবে! ও ক্যাম্পে ফিরে বলবে ‘আরে, এটা আমাকে করতে হলো না?!’ আগুন জ্বলে গেছে, জলও রেডি। এখন আমাদের জাস্ট একটা মাছ দরকার! আগুনটা আরও জ্বালাও!
ওটা কি মাছ দেখছি নাকি?! আমাদের তো পোয়াবারো, সব রেডি! হ্যাঁ, ভাই। বয়েজ, জানি তোমরা কী ভাবছ। হেইজ, ওই ব্লু ব্যাগটা ধরো তো। এটা যেন কোনো প্র্যাঙ্ক না হয় আবার! বয়েজ! আজ রাতে আমাদের গ্র্যান্ড ডিনার হবে! ইয়েসস! সাবাশ! চলো শুরু করা যাক। ভিক্টরি।
অলরাইট। প্রথম মাছ রান্না হচ্ছে। দারুণ! ওয়াও! হেই, গুড জব। সাবাশ। অলরাইট, আমাদের ফিশ ফ্রাই রেডি। কার খিদে পেয়েছে, বয়েজ? আমার, আমার। শুরু করা যাক। ওহ হো!
টেনশন করো না। আমাদের আরেকটা মাছ আছে। ছয় নম্বর দিনের জন্য। ওহ হ্যাঁ! চমৎকার ভাই। আমি লাইফে কখনো এত ফ্রেশ মাছ খাইনি, টেস্টটা জাস্ট ডিলিশিয়াস! তোমরা কি বিশ্বাস করতে পারছ যে আমরা এই দুর্গম আর্কটিকের মাঝে বসে মাছ খাচ্ছি? ওহ, আমি বিশ্বাস করছি আর এনজয় করছি। আমি এনজয় করছি, বিশ্বাস করছি। নিজের চোখে দেখছি। যেন স্বপ্ন দেখছি।
তো জেন্টলম্যান, আমাদের মাছটা কেমন লাগল? জাস্ট ফাটাফাটি ছিল। অসাধারণ টেস্ট। খুব ভালো। কালকে আমাদের গ্যাং-এর জন্য খুব মজার একটা প্ল্যান আছে। তবে সেটা বলার আগে চ্যান্ডলার, একটু বলবে—‘কিউ দ্য টাইম ল্যাপস’? কিউ দ্য… কিউ দ্য টাই— কিউ দ্য টাই— আরে না, এডিটিং-এ তোমাকে কেটে দেবে, তুমি একবারে পুরোটা বলো। কিউ দ্য টাইম…
ষষ্ঠ দিন। ওহ, হেই গাইস! প্লেন এসে গেছে! কাউকে ভয় দেখাচ্ছি না, মনে হয় আমি ফ্লেয়ার গান শুট করব। ওরে বাপরে! কারণ ভয় হচ্ছে বেশি মজা না করে ফেলি।
টানা পাঁচ দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ছেলেরা একটু ফান ডিসার্ভ করেই। আর ওরা যদি সাত নম্বর দিন পর্যন্ত টিকে, তবে ওদের জন্য একটা বড় সারপ্রাইজ আছে।
ভালোই হলো মাছটা পেয়ে গেলাম, সত্যি বলতে মাছ না নিয়েই চলে যাচ্ছিলাম। আমার করা চ্যালেঞ্জের মধ্যে এটা সবচেয়ে কঠিন। সাত বছর আগে তোমাকে জোর করে আচার খাওয়ানোর ওই চ্যালেঞ্জটার চেয়েও কঠিন? এই তো হচ্ছে। ওহ! ওটা ওখানেই আছে। ঠিক আছে। ওহ! ওহ। স্মুথ ছিল! এটা আমার লাইফের দ্বিতীয় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
আমরা প্রায় এক দশক ধরে এই ধরনের সারভাইভাল ভিডিও বানিয়ে আসছি। আমি টানা ২৪ ঘণ্টা জলের নিচে বসে থাকব। এগুলোতে লাইফের কিছু লোয়েস্ট মোমেন্টসও ছিল। আমরা এসব কী করছি?! আমার কেমন বমি বমি পাচ্ছে। যেমন কয়েক দিন আগের ওই তুষারঝড়ের সময়টা। অবস্থা তো আরও খারাপ হচ্ছে, গাইস। তবে এগুলো আমার লাইফের কিছু হায়েস্ট মোমেন্টও বটে। আরে, নৌকাটা তো আসলেই ভাসছে! ইয়েসস!
বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে, বন্ধুদের সাথে গুহার ভেতর আড্ডা, জোকস ক্র্যাক করা—যেকোনো ভিডিওর শুটিংয়ে এটাই আমার সবচেয়ে বেশি এনজয়েবল পার্ট। আমি এই বন্ধুদের একটা বড় শাউটআউট দিতে চাই, কারণ ওদের জন্যই এমন একটা ভিডিও, যা লজিক্যালি পুরো জঘন্য হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এত দারুণ সব স্মৃতি তৈরি হয়েছে। আমি ওদের কাছে আসলেই খুব গ্রেটফুল।
এটা হয়তো আলাদা করে বলার মতো না, তবে আমি অবভিয়াসলি তোমাদের সবার কাছেও খুব গ্রেটফুল। ছোটবেলায় আমি ঠিক এমন একটা লাইফ লিভ করার স্বপ্ন দেখতাম, যা এখন সত্যি হয়েছে। হ্যালো ফিউচার জিমি, আশা করি দশ বছর পরও তুমি ইউটিউব করছো। সবাইকে থ্যাংক ইউ সো মাচ।
ওদের একটা স্নো-বল ছুঁড়ে মারবো! তারেক! আমাকে ধাক্কা দাও! ওরে বাপরে! আহহ! চালিয়ে যাও জিমি! ওহ গড! ওহ গড! অলরাইট। এবার পুরো ভিজে গেলাম! ছয় নম্বর দিনটা দশে দশ ছিল।
আমি শেষ রাতের জন্য এই স্মোরস লুকিয়ে রেখেছিলাম। আর এখন ওটার সময়। বয়েজ! একটা উপহার আছে! দেখতে তো দারুণ! এটা আমার চাই! নোলান, ভাই একটু শেয়ার দাও। চিয়ার্স বয়েজ। চিয়ার্স। চিয়ার্স! এই প্ল্যানেটের বেস্ট চকলেট খেয়ে শেষ করার আইডিয়াটা জাস্ট গ্রেট!
হেইজ আসলেই গ্রেট। এবার ঘুমানোর পালা। সকালে সারপ্রাইজের সময় দেখা হবে। সারপ্রাইজ? জাস্ট এটুকু জেনে রাখো—কাল আমরা কোনো হেলিকপ্টারে করে ফিরছি না। মানে কী? আমরা ফিরছি তো, নাকি? ডিপেন্ড করছে। কালকেই দেখতে পাবে। কী বলছ এসব?
সপ্তম দিন। ফাইনালি আজ সাত নম্বর দিন! ইয়েসস! আমাদের এখান থেকে বের করো! আর এবার ভিডিওর মেইন টুইস্ট—আমাদের এখানে আরও এক সপ্তাহ থাকতে হবে! ইয়ার্কি বন্ধ করো! চললাম। আসল সারপ্রাইজ কী বলো? এই গুহা থেকে বের হয়ে জিনিসপত্র প্যাক করলেই দেখাচ্ছি।
এই গুহা থেকে বের হয়ে জিনিসপত্র প্যাক করলেই দেখাচ্ছি। তাহলে ওটাই করি, একদম এখনই! তবে ময়লার একটা ছোট টুকরোও পরিষ্কার না করা পর্যন্ত যাওয়া বারণ। ওকে।
কিউ দ্য টাইম ল্যাপস। তারেক, টাইম ল্যাপস বলার পাওয়ার তোমার নেই! কিউ দ্য টাইম ল্যাপস।
ওহ হো! ইয়েস! অলরাইট! চলো এবার। এবার বাড়ি ফেরার পালা। ওহ মাই গড।
ওই ফ্লেয়ারটা জাস্ট আমাদের সিক্রেটের সিগন্যাল ছিল, যা কোনো হেলিকপ্টার না। ওটা হলো একদল আর্কটিক স্লেজ ডগ!
ওহ, দারুণ তো! একি কাণ্ড! এটাই আসল আর্কটিক ফিল এনে দিল! ভাই, কতগুলো কুকুর দেখেছ! ওহ মাই গড, আমি বাড়ি যাওয়ার জন্য পুরো রেডি!
ডগোজ! হ্যালো ডগোজ। কী খবর বাডি?
চলো মুভ করি। ওটাই আমার গাড়ি! এবার সোজা বাড়ি নিয়ে চলো ভাই!
আর এভাবেই শেষ হলো আর্কটিকে আমাদের সাত দিন। আমরা এখন বিদায় নিচ্ছি! উফ, কখন যে বাড়ি গিয়ে গরম জলে স্নান করব!
হেই গাইস, ভিডিওটা ভালো লাগলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করবে। শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ! ক্রেজি একটা এক্সপেরিয়েন্স ছিল! ভিডিওর এন্ডিংটা ফাটাফাটি হলো!
নিবন্ধ প্রকাশিত
