আর্কটিকে সাত দিন: আগের ব্যর্থ সারভাইভাল ভিডিওর পর জিমি ও বন্ধুদের ফিরে আসার চেষ্টা

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর শুরুতেই জিমি স্বীকার করেন, তাঁদের আগের সারভাইভাল ভিডিওটি ফ্লপ হয়েছিল। সেবার একটি দ্বীপে গিয়েও তাঁরা চ্যালেঞ্জ শেষ করতে পারেননি। তাই এবার তিনি পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে আর্কটিকে সাত দিন টিকে থাকার চেষ্টা করেন। সঙ্গে ছিল শুধু পিঠের ব্যাগ, কোনো তাঁবু নয়। ভিডিওর মূল প্রশ্ন দুটি: এই দলটি কি ঠাণ্ডা, খিদে আর হতাশা সামলে সাত দিন পার করতে পারবে, আর জিমি কি আরেকটি ব্যর্থতা এড়াতে পারবেন। জিমি বারবার বলেছেন, ভিডিওর এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো কেউ যেন মারা না যায়।

14 মিনিটে পড়া

চ্যালেঞ্জের নিয়ম: প্লেন, ফ্লেয়ার গান আর ন্যাড়া মাথা

দলে ছিলেন জিমি, চ্যান্ডলার, নোলান, তারেক, হেইজ এবং ক্যামেরাম্যান ড্যারিয়াস। দ্বিতীয় দিন জিমি নিয়মটা জানান। দিনে একবার একটি প্লেন তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে। কেউ বাড়ি ফিরতে চাইলে ফ্লেয়ার গান ছুড়ে সংকেত দিতে পারবে, তবে যাওয়ার আগে তাকে মাথা ন্যাড়া করতে হবে। পুরো ভিডিওতে এই শর্তটি বারবার ফিরে আসে। কষ্ট যত বেড়েছে, ফ্লেয়ার গান ছুড়ে চলে যাওয়ার প্রলোভনও তত বেড়েছে।

প্রথম দিন: বরফের দুর্গ আর প্রথম আগুন

তাঁরা নামেন প্রায় দুই ফুট বরফের ওপর। প্রথম দিনের কাজ ছিল দুটি: আশ্রয় বানানো আর আগুন জ্বালানো। জিমি কাউকে তাঁবু আনতে বলেননি, কারণ পরিকল্পনা ছিল বরফ খুঁড়ে তার ভেতরেই ঘর বানানো। দলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই স্নো-ফোর্টের মূল উদ্দেশ্য আর্কটিকের হাওয়া থেকে বাঁচা এবং সবাই মিলে শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি করা। তাঁদের দাবি, রাতে ঠাণ্ডা এতটাই চরম হয় যে ওই বাতাসে মাত্র দশ মিনিট থাকলেই ফ্রস্টবাইট হতে পারে। সেই রাতে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নামার কথা ছিল, তাই অন্ধকারের আগেই ভেতরে ঢোকার তাড়া ছিল।

কাজটা সহজ হয়নি। যত গভীরে খোঁড়া হচ্ছিল, বরফ তত শক্ত হচ্ছিল। প্রথমে যে আশ্রয়টা দাঁড়াল তাতে সবার জায়গা হলো না। একজন বললেন পা না ছড়ালে আরামেই থাকা যায়, আরেকজন বললেন তাঁর জায়গাই নেই। তখন দিনের আলো ছিল মাত্র দুই ঘণ্টা।

আগুনের দিকে ভাগ্য ভালো ছিল, শুকনো লাকড়ি পাওয়া গেল এবং আগুন জ্বলল। এরপর বরফ গলিয়ে খাওয়ার জল বানানো হলো। কিন্তু বারবার নতুন বরফ দেওয়ায় জলটা ঠাণ্ডাই থেকে গেল। আগুনের পাশে এক মুহূর্তের অসাবধানতায় একজনের জ্যাকেটে, আরেকজনের প্যান্টে আগুন ধরে যায়।

মাঝরাত পেরিয়ে গেলেও ঘরটা যথেষ্ট বড় হয়নি। বড়জোর দুই-তিনজন আরামে থাকতে পারতেন। হেইজ আর ক্যামেরাম্যান ড্যারিয়াস জায়গা পাননি, একজন বাইরেই ঘুমানোর কথা বলেন। জিমির ভাষায়, বাকিরা ছোট অস্বস্তিকর গুহায় শুঁটকি মাছের মতো গাদাগাদি করে ঢুকেছিলেন, আর সেটা ছিল জীবনের সবচেয়ে বাজে ঘুমের একটি।

দ্বিতীয় দিন: জমে যাওয়া সরঞ্জাম আর আশ্রয় বড় করার কাজ

সকালে দেখা গেল ব্যাগ আর সবকিছুর ওপর বরফ জমে আছে, ক্যামেরাও প্রায় জমে গেছে। একজনের গ্লাভসই ছিল না, ক্যামেরা ধরতে গিয়ে হাত জমে যাচ্ছিল। আরেকজন জানান, তিনি পায়ের আঙুল অনুভব করতে পারছেন না। এই অবস্থায় প্রথমবার প্লেনটা আসে এবং জিমি ফ্লেয়ার গানের শর্ত জানান। আগের রাতকে সবাই জঘন্য বললেও সেদিন কেউ যাননি। জিমির ভাষায়, আজকের মতো সবাই নিজের চুল বাঁচিয়ে নিল।

সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে আরেকটা এমন রাত কাটানো কঠিন। তাই দ্বিতীয় দিনের লক্ষ্য ঠিক হয় আশ্রয়টা এমনভাবে বড় করা যাতে ছয়জন পাশাপাশি শুতে পারেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁড়া চলে। এর মধ্যে আরেকটি সমস্যা ধরা পড়ে। প্যাকিং লিস্টে আলাদা একটি "পুপ-টেন্ট" ছিল, কিন্তু কেউ আনেননি। যাঁর আনার কথা, তিনি জানান তাঁর ব্যাগে জায়গা ছিল না। একজনকে পায়খানার জায়গা খুঁজতে পাঠানো হয়। তিনি যুক্তি দেন, ক্যাম্পের কাছে পায়খানা করলে ভাল্লুক আসতে পারে। আরও অস্বস্তিকর ছিল তাঁর এই পর্যবেক্ষণ যে চারদিকে পশুর পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কোনো পশু দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ধারণা, এর মানে পশুরাই তাঁদের ওপর নজর রাখছে। তিনি জানান, সেই মুহূর্তে তিনি সিরিয়াসলি ফ্লেয়ার গান ছোড়ার কথা ভাবছিলেন।

জিমির কাছে মনে হচ্ছিল এটা মাত্র দ্বিতীয় দিন হলেও যেন কোনো সাধারণ চ্যালেঞ্জের ষষ্ঠ-সপ্তম দিন চলছে। সবাই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে নিচে খাটতে থাকা বন্ধুদের নিয়ে গর্বের কথাও বলেন। এই দিনেই সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাটি সামনে আসে: তাঁরা মাত্র তিন-চার দিনের খাবার এনেছিলেন। মাছ ধরা বা শিকার শুরু না করলে টিকে থাকা যাবে না। পর্দায় দেখানো হয়, খাবার বাকি দুই দিনের।

তৃতীয় দিন: ১৭° ফারেনহাইট, চ্যান্ডলারের সাদা আঙুল আর আটকে যাওয়া প্লেন

তৃতীয় দিনের শুরুতে জিমি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে নাকে ফ্রস্টবাইট হচ্ছে, কিছু জায়গা বেগুনি হতে শুরু করেছে। অন্ধকার নামার পর তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নামে। জিমির বর্ণনায়, তখন আশ্রয়টিও তাঁদের ফ্রস্টবাইট থেকে পুরোপুরি বাঁচাতে পারছিল না।

চ্যান্ডলারের পায়ের আঙুল অবশ হয়ে যায়, স্পর্শ খুব কম টের পাচ্ছিলেন। আঙুল সাদা, রক্তহীন দেখাচ্ছিল। দলের একজন এটিকে সম্ভবত "ফ্রস্টনিপ" বলে চিহ্নিত করেন এবং বলেন ফ্রস্টবাইট হওয়ার আগে দ্রুত গরম করতে হবে। চ্যান্ডলারের পা একজনের বগলের নিচে রেখে গরম করা হয়।

কেউ চলে যেতে চান কি না জিজ্ঞেস করা হলে একজন জানান তিনি সত্যিই সেটা ভাবছেন। কিন্তু পাইলট জানান, প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে তিনি প্লেন আনতে পারবেন না। জিমি এই বিড়ম্বনার কথা আলাদা করে বলেন: যেদিন বিপদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেদিনই প্লেন আসতে পারছে না।

রাতের তুষারপাতে আবহাওয়া পুরো বদলে যায়। ক্যাম্প চাপা পড়ে যায়, রান্নার জায়গা বরফে ঢেকে যায় এবং খাবার বানানোর বেশিরভাগ গিয়ার হারিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল কাঠ ভিজে যাওয়া। একজন বলেন, সাধারণত আগুন জ্বালানো এত কঠিন হয় না। সমাধান আসে পাখির পালক থেকে। একজন পালক নিয়ে আসেন, বাকিরা মজা করে তাঁকে "পালক বিশেষজ্ঞ" ডাকেন। পালকে স্পার্ক ধরে এবং শেষ পর্যন্ত আগুন জ্বলে।

প্রথম মাছ ধরার চেষ্টা: অতিরিক্ত পুরু বরফ

উষ্ণতার পরের অগ্রাধিকার খাবার। একজন সঙ্গে একটি আইস-অগার এনেছিলেন। ক্যাম্পের কাছেই একটি জমে যাওয়া লেক ছিল, পরিকল্পনা ছিল অগার দিয়ে গর্ত করে মাছ ধরা। যাওয়ার আগে চ্যান্ডলারকে আবার দেখা হয়, তাঁর আঙুলের রং ফিরে আসছিল। জিমি আর হেইজ খাবারের খোঁজে বের হন। ক্যাম্পে নোলান চ্যান্ডলারের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।

লেকে তাঁরা দূরের অন্ধকার জায়গাগুলো বেছে নেন, এই আশায় যে সেখানে বরফ পাতলা হবে। বাতাস এত তীব্র ছিল যে একজন চোখই মেলতে পারছিলেন না। অগার চালানোর কৌশল হিসেবে বলা হয়, বেশি জোরে চাপ দেওয়া যাবে না, ব্লেডকেই কাটতে দিতে হবে। প্রথমে অগ্রগতি ভালো মনে হচ্ছিল। কিন্তু গর্ত আনুমানিক আড়াই ফুট গভীর হওয়ার পরও জল পাওয়া যায়নি, একজন মজা করে মাপটাকে "হাফ-তারেক সাইজ" বলেন। শেষে ড্রিলটাই লম্বায় ছোট পড়ে যায়। বরফ ছিল অগারের চেয়েও পুরু।

এর মধ্যে তাঁদের জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছিল এবং হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি বাড়ছিল, তাই খালি হাতে ফিরতে হয়। জিমি জানান, এই ব্যর্থতা তাঁকে আগের ব্যর্থ সারভাইভাল ভিডিওর কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি দর্শকদের কথা দেন, পরের চ্যালেঞ্জে তিনি আর ফেল করবেন না। ক্যাম্পে ফিরে দেখা যায় সবার মনোবল ভেঙে পড়েছে। একজন মজা করে বলেন, কেউ যেন তাঁকে মেরে সাত দিন পর্যন্ত অজ্ঞান করে রাখে, কারণ তখনও চার দিন বাকি।

ভেজা কাপড় নিয়ে দলটি গুরুতর বিপদের কথা বলে। একজনের মতে, শরীরে লেগে থাকা জল জমে গেলে সেটা প্রাণঘাতী হতে পারে। সমাধান হিসেবে তাঁরা স্প্রুস গাছের ডাল কেটে বিছানা বানান, কারণ তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী রাতে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা আসে মাটি থেকে, আর ইনসুলেশন ছাড়া ঘুমানো যাবে না। হেইজ ডালপালা নিয়ে ফিরলে জিমির মনে হয় যেন ক্রিসমাসের উপহার পেয়েছেন। সেই রাতে উষ্ণতার আশা জাগে।

চতুর্থ দিন: ড্রোন, ক্রস-কান্ট্রি স্কি আর দূরের নদী

চতুর্থ দিনের সকাল রোদেলা ছিল, প্রথমে মনে হচ্ছিল সবকিছু ঠিক হবে। কিন্তু দূরে অন্ধকার দেখে একজন সতর্ক করেন যে তুষারঝড় আসছে। খাবার তখন মাত্র এক দিনের। মাছ না পেলে সেদিনই খাবার শেষ।

ভালো স্পট খুঁজতে তাঁরা ড্যারিয়াসের ড্রোন ব্যবহার করেন। যুক্তি ছিল, যে বরফের নিচে জল চলমান সেখানে বরফ পাতলা হবে। ড্রোনে একটি বড় নদীর বাঁক দেখা যায়। দলের ধারণা ছিল, বড় নদী মানে বেশি মাছ। কিন্তু নদীটি ছিল অনেক দূরে, একটি লেক আর জঙ্গল পার হয়ে যেতে হবে।

লেক পার হতে ক্রস-কান্ট্রি স্কি আনা হয়েছিল। জিমি আগে কখনো স্কি করেননি, ড্যারিয়াসের অবস্থাও ভালো ছিল না। "পা ঘষো, ঘষো, স্লাইড করো" কৌশল শিখে কিছুটা এগোনো যায়, যদিও ড্যারিয়াস বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন। জঙ্গলে তাঁরা স্নো-শু পরেন, যাতে বরফে দেবে না যায়। পথে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা যায়, হেইজ সেগুলোকে মুজের ছাপ বলে চিনিয়ে দেন। দল সিদ্ধান্ত নেয় মুজ যেদিকে যায়নি সেদিকে যাবে। নদীর পাড়ে পৌঁছে একজনের পা গর্তে আটকে যায়, একটি ডালের সাহায্যে তিনি কোনোমতে রক্ষা পান।

একই সময়ে ক্যাম্পে চ্যান্ডলার ও নোলানরা জিমির অনুরোধে আশ্রয় বড় করছিলেন। তাঁরা বলেন জিমিকে "পুরো ম্যানশন" বানিয়ে দেবেন। বিশাল বরফের চাঁই কেটে ছাদ তৈরির নতুন কৌশলও দেখা যায়। ছাদ যাতে ধসে না পড়ে, তা নিয়ে একজন সতর্ক করেন। এর মধ্যে প্লেন আসে। ক্যাম্পের দল ফ্লেয়ার গান হাতে নিয়ে প্রায় ছুড়ে দিচ্ছিল। একজন জানান তাঁর আঙুল ট্রিগারেই ছিল, আরেকজন প্রস্তাব দেন সবাই মিলে চলে যাওয়ার। শেষ পর্যন্ত কেউ ফ্লেয়ার ছোড়েননি। দূরে থাকা জিমি জানান, ক্যাম্প এত দূরে যে কেউ ফ্লেয়ার ছুড়লেও তিনি জানতে পারবেন না।

নদীতেও হতাশা আসে। গর্ত পুরো হাতের সমান গভীর হলেও জলের দেখা মেলেনি। জিমি বলেন, "বিজ্ঞান" অনুযায়ী নদীর বরফ পাতলা হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা মনে হচ্ছিল না। নদীর পাড়ে পড়ে গিয়ে তাঁর জুতোয় বরফজল ঢুকেছিল, পা লাল হয়ে আঙুল বেগুনি হতে শুরু করে। মোজা চিপে পা ড্যারিয়াসের বগলে রেখে তিনি গরম করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ঠাণ্ডায় কাটানোর পর জিমি সিদ্ধান্ত নেন ফিরতে হবে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, না ফিরলে কেউ গুরুতর বিপদে পড়বে। তিনি স্বীকার করেন, তাঁদের মেনে নেওয়া উচিত যে এবারও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।

ক্যাম্পে ফিরে জানা যায় নদীর গর্ত প্রায় ছয় ফুট খোঁড়া হয়েছিল, টানা চার ঘণ্টার খাটুনি, তারপর সূর্য ডুবে যায়। কেউ কেউ আক্ষেপ করেন যে তখনই ফ্লেয়ার ছুড়ে দেওয়া উচিত ছিল। মনোবল ফেরাতে বড় হওয়া গুহাটি দেখানো হয়। এবার সবাই এমন দূরত্বে শুতে পারছিলেন যে কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগবে না। জিমি ঘোষণা দেন, পরদিন আবার গিয়ে মাছ না পাওয়া পর্যন্ত খুঁড়বেন।

পঞ্চম দিন: শেষ খাবার, তুষারঝড় আর "নিজেদের ভরসায়"

পঞ্চম দিনে শেষ খাবারও ফুরিয়ে আসে। জরুরি অবস্থার জন্য রাখা কিছু স্ন্যাক্স (বিফ স্টিক) ছিল, সেগুলো শেষ হলে আর কিছুই থাকবে না। এর মধ্যে তুষারঝড় শুরু হয়ে যায়। জিমি জানান, কোনো প্লেন বা রেসকিউ দল আসবে না, তাঁরা এখন পুরোপুরি নিজেদের ভরসায়।

তুষার ছিল খুব ভেজা, বাইরে গেলেই শরীর ভিজে যাবে। জিমির আশঙ্কা ছিল, মাছ পেলেও ফেরাটা জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ধরে নিতে হবে ফেরার পর কারও না কারও হাইপোথার্মিয়া হবে। তাই ক্যাম্পের দলকে গরম জল তৈরি রেখে "ইমার্জেন্সি মেডিকেল স্টেশনের" মতো প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। এই ঝুঁকি নেওয়ার কারণও জিমি খোলাখুলি বলেন। তিনি বন্ধুদের ভালো করে চেনেন। সেদিন মাছ না পেলে পরদিন সবাই ফ্লেয়ার গান ছুড়ে হাল ছেড়ে দেবেন। আগের ভিডিও ফ্লপ হওয়ায় তিনি আর কোনো ভিডিও নষ্ট করতে চান না। তাই সিদ্ধান্ত হয়: মাছ নিয়েই ফিরবেন।

তুষারঝড়ের কারণে এবার স্কি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যাতে বয়ে নেওয়ার মতো গিয়ার কম থাকে। এতে পথ চলতে সময় বেশি লাগবে। আগের দিনের তৈরি ট্র্যাকও তুষারে মুছে গিয়েছিল। এক-তৃতীয়াংশ পথ পেরোনোর পর পুরোনো রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়, আগের দিন যেখানে আটকে গিয়েছিলেন সেখানে জিমি আবার পড়ে যান।

ক্যাম্পে থাকা দলের সামনে ছিল আরেক সমস্যা: সব কাঠ ভেজা। একজন বলেন, যাঁরা বুদ্ধি দিতে পারতেন তাঁরা সবাই চলে গেছেন, তাই নিজেদেরই কিছু করতে হবে। চ্যান্ডলারের নেতৃত্বে তাঁরা একটি মরা গাছ ভাঙেন, কারণ এর ভেতরটা শুকনো ছিল। শুকনো ছাল আর কাঠ কুচি কুচি করে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা চলে।

নদীতে সাত ঘণ্টা: আট ইঞ্চি বরফ আর দুটি মাছ

নদীতে পৌঁছে দেখা যায় আগের দিন গাছের পাশে রেখে যাওয়া ড্রিলটি জমে গেছে, তবে গর্তটা তখনও আছে। পরিকল্পনা ছিল প্রথমে গর্তের চারপাশ চওড়া করা, যাতে ড্রিল আরও গভীরে যেতে পারে। পাশাপাশি জিমি অন্য জায়গায় পাতলা বরফ খোঁজেন। তাঁর ধারণা ছিল, যেখানে নদী মিলেছে সেখানে স্রোত বেশি, তাই বরফ পাতলা হতে পারে। একসময় একটি গর্ত দিয়ে বরফ ফুটো হয়ে যায়। সেখানে বরফ ছিল মাত্র আট ইঞ্চি। এই প্রথম মাছ ধরার গর্ত তৈরি হয়। টোপ হিসেবে কিছু ফ্রোজেন খাবার ব্যবহার করা হয় এবং আরও কয়েকটি গর্ত করা হয়। দলের একজন সতর্ক করেন, ঠিক জায়গায় থাকলেও মাছ ধরতে এক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।

অপেক্ষার এক পর্যায়ে জিমি ক্যামেরার সামনে আবেগঘন কথা বলেন। তিনি মারাত্মক ঠাণ্ডা অনুভব করছিলেন এবং ভরসা হারাচ্ছিলেন। তাঁর ভয় ছিল, মাছ না পেলে ক্যালোরির অভাবে রাতে বা পরদিন তাঁরা জমে যাবেন, আর তুষারপাত বাড়লে চ্যালেঞ্জ ছেড়ে দিতে হতে পারে। একজন ব্যাখ্যা দেন, শরীর গরম রাখতে খাবার জরুরি, না খেলে শরীর ঠাণ্ডা হবে আর তা থেকেই হাইপোথার্মিয়া। তবে জিমি বলেন, তিনি পরপর দুটি চ্যালেঞ্জে হারতে চান না, হার জিনিসটা সহ্য করতে পারেন না, তাই যত সময়ই লাগুক বসে থেকে মাছ ধরবেন।

ঠিক এই কথার মাঝেই বড়শিতে মাছ লাগে। সঙ্গীরা অবাক হয়ে বলেন, ইমোশনাল স্পিচ দেওয়ার মধ্যেই তিনি মাছ ধরে ফেলেছেন, আর দর্শকরা হয়তো এটাকে ফেক ভাববে। কিন্তু হাতে ধরতে গিয়ে মাছটি ফসকে যায়। জিমি পরে বলেন, আগে কখনো খালি হাতে জীবন্ত মাছ ধরেননি, তাই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। এরপর আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে একজনের কাছে এক্সট্রা গ্লাভস থাকায় সমস্যা হয়নি। দলের একজনের যুক্তি ছিল, এই মাছগুলোর স্বভাব হলো একটা পাওয়া গেলে আশেপাশে আরও থাকে, তাই দ্রুত আবার বড়শি ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ পর আবার মাছ লাগে। এবার "আস্তে আস্তে, আলতো করে" টেনে গর্ত দিয়ে তোলা হয়। পরে হেইজের বড়শিতেও টান পড়ে এবং দ্বিতীয় মাছটি ওঠে। জিমির হিসাবে, টানা সাত ঘণ্টা মাছ ধরার পর তাঁরা দুটি মাছ পান। তিনি জানান, বহু ঘণ্টা জল না খাওয়ায় তাঁর মাথাব্যথা করছিল।

ক্যাম্পে ততক্ষণে চ্যান্ডলাররা আগুন জ্বালিয়ে জল তৈরি রেখেছিলেন। মাছ দেখে তাঁরা প্রথমে প্র্যাঙ্ক ভেবে সন্দেহ করেন। প্রথম মাছটি ভেজে খাওয়া হয়, দ্বিতীয়টি রাখা হয় ষষ্ঠ দিনের জন্য। একজন বলেন, জীবনে এত টাটকা মাছ খাননি। বাকিরা বলেন দুর্গম আর্কটিকের মাঝে বসে মাছ খাওয়াটা স্বপ্নের মতো লাগছে।

ষষ্ঠ দিন: বিশ্রাম, স্মৃতি আর এক দশকের সারভাইভাল ভিডিও

ষষ্ঠ দিন প্লেন এলে একজন মজা করে ফ্লেয়ার ছোড়ার কথা বলেন, কারণ তাঁর "ভয়" হচ্ছিল বেশি মজা হয়ে যাবে। জিমির মতে, টানা পাঁচ দিনের খাটুনির পর বন্ধুরা একটু আনন্দ পাওয়ার যোগ্য। সাত দিন টিকলে তাঁদের জন্য একটি বড় সারপ্রাইজ আছে বলেও জানান। একজন স্বীকার করেন, মাছ না পেলে তিনি চলেই যাচ্ছিলেন। আরেকজন এটিকে নিজের করা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলেন, আরেকজন বলেন জীবনের দ্বিতীয় কঠিন চ্যালেঞ্জ। সাত বছর আগে জোর করে আচার খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জের সঙ্গেও মজা করে তুলনা হয়।

এই দিনে জিমি পেছন ফিরে দেখেন। তিনি জানান, প্রায় এক দশক ধরে তাঁরা এ ধরনের সারভাইভাল ভিডিও বানাচ্ছেন। পুরোনো ভিডিওর কিছু অংশ দেখানো হয়, যেমন টানা ২৪ ঘণ্টা জলের নিচে থাকার চ্যালেঞ্জ এবং একটি ভেসে থাকা নৌকা। তাঁর ভাষায়, এগুলোতে জীবনের কিছু সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত ছিল, যেমন কয়েক দিন আগের তুষারঝড়, আবার কিছু সবচেয়ে ভালো মুহূর্তও ছিল। তিনি বলেন, বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গুহার ভেতর আড্ডা আর জোকস করা যেকোনো ভিডিওর শুটিংয়ে তাঁর সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ। যে ভিডিওটি "যুক্তি অনুযায়ী পুরো জঘন্য হওয়ার কথা ছিল", তা বন্ধুদের কারণেই দারুণ স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে বলে তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ছোটবেলায় তিনি ঠিক এমন জীবনের স্বপ্ন দেখতেন, যা এখন সত্যি হয়েছে। ভবিষ্যতের নিজেকে উদ্দেশ করে বলেন, আশা করেন দশ বছর পরও তিনি ইউটিউব করছেন।

দিনটা কাটে স্নোবল ছোড়াছুড়ি আর খেলাধুলায়। তারেকের ধাক্কায় পিছলে গিয়ে জিমি পুরো ভিজে যান। একজন ষষ্ঠ দিনকে দশে দশ দেন। রাতে হেইজ শেষ রাতের জন্য লুকিয়ে রাখা স্মোরস বের করেন এবং সবাই মিলে চকলেট খান। ঘুমাতে যাওয়ার আগে জিমি শুধু জানান, পরদিন তাঁরা হেলিকপ্টারে ফিরছেন না। ফিরছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন "ডিপেন্ড করছে"।

সপ্তম দিন: স্লেজ ডগে ফেরা

সপ্তম দিনে জিমি প্রথমে মজা করে "মেইন টুইস্ট" হিসেবে ঘোষণা দেন যে আরও এক সপ্তাহ থাকতে হবে। বন্ধুরা সেটা উড়িয়ে দেন। আসল সারপ্রাইজের আগে শর্ত ছিল গুহা থেকে বের হয়ে জিনিসপত্র গুছিয়ে ময়লার ছোট টুকরোটাও পরিষ্কার করা। পরিষ্কারের পর ছোড়া ফ্লেয়ারটি ছিল সারপ্রাইজের সংকেত, আর ফেরার বাহন ছিল একদল আর্কটিক স্লেজ ডগ। একজন বলেন, এটাই আসল আর্কটিকের অনুভূতি এনে দিল।

এভাবে আর্কটিকে তাঁদের সাত দিন শেষ হয়। সবাই সাত দিন টিকে থাকেন এবং কেউ ফ্লেয়ার গান ছুড়ে মাথা ন্যাড়া করে আগে চলে যাননি। শেষ মুহূর্তে কারও মুখে ছিল বাড়ি গিয়ে গরম জলে স্নানের অপেক্ষা, আর দলের সম্মিলিত মত ছিল যে এটি ছিল এক "ক্রেজি অভিজ্ঞতা"।