মিস্টার বিস্টের গ্রোসারি স্টোর চ্যালেঞ্জ: ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি খেয়ে শেষ করে দশ লক্ষ ডলার জেতার দুশো দিনের লড়াই
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন একটাই। চারজন মানুষ কি একটা পুরো গ্রোসারি স্টোরের সব খাবার খেয়ে শেষ করতে পারবেন, নাকি খাবার নষ্ট হয়ে তাঁদের পুরস্কার একটু একটু করে কমে যাবে? মিস্টার বিস্ট (জিমি) স্টোরটি কিনে নিয়ে পুরো মজুত আবার ভরে দেন। তারপর চার প্রতিযোগী জ্যাকসন, রেহান, এলডিন আর হুয়ানকে জানান, ভেতরের সব খাবার খেয়ে শেষ করলে তাঁরা দশ লক্ষ ডলার জিতবেন। জিমির ভাষায় এটা "একটা পুরো শহরের সমান খাবার", আর শুরুতে তিনি নিজেই একে অসম্ভব বলেছিলেন। ভিডিওটি সেই চ্যালেঞ্জের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ঘটনাগুলো দেখায়: কৌশল, ব্যর্থতা, আঘাত, পরিবারকে মিস করা, আর চারজনের বন্ধুত্ব।
আগের ভিডিও থেকে শুরু, আর নিয়মগুলো
এই চারজন নতুন প্রতিযোগী নন। জিমি জানান, আগের "লাস্ট টু লিভ গ্রোসারি স্টোর" চ্যালেঞ্জে তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শুরু করেছিলেন। ৬৭তম দিনে কেউই হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না। তখন জিমি তাঁদের একটা শর্তে একসাথে খেলা চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রাইজ মানি চারগুণ করার সুযোগ দেন। সেই শর্তই এই ভিডিওর চ্যালেঞ্জ: আবার পুরো ভরে দেওয়া স্টোরের সব খাবার খেতে হবে। জিমির কথায়, আগের ভিডিওর পর এরা "লিটারেলি ওয়ার্ল্ড ফেমাস", স্টোরের বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে শুধু তাঁদের দেখার জন্য।
স্টোরে মোট ৪৩ লক্ষ ক্যালোরির খাবার ছিল। জিমির হিসাব অনুযায়ী চারজন দিনে ২০০০ ক্যালোরি করে খেলে সবকিছু শেষ করতে এক বছরেরও বেশি লাগবে। সবচেয়ে কড়া নিয়ম ছিল খাবার নষ্ট নিয়ে। নষ্ট হওয়া প্রতি ক্যালোরির জন্য প্রাইজ থেকে এক ডলার কাটা যাবে। ফলে স্টোরের এক-চতুর্থাংশ খাবার নষ্ট হলেই পুরো পুরস্কার চলে যাবে। আরেকটা নিয়ম ছিল, মেঝের লাল দাগে বা তার বাইরে পা রাখা যাবে না। নষ্ট বা ফেলে দেওয়া খাবার যাতে নজর এড়িয়ে না যায়, সেজন্য টিম ২৪ ঘণ্টা স্টোরের প্রতিটি কোণ মনিটর করত।
প্রথম দিনগুলো: হিসাব, ফ্রিজার আর মেঝেতে পড়া ব্লুবেরি
প্রথম দিনে প্রতিযোগীদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাই তাঁরা ঠিক করলেন আগে পুরো স্টোরের ইনভেন্টরি করবেন। গুনে পাওয়া গেল ১০৫ প্যাকেট ব্রেড, ৩৪ ক্যান নাশপাতি, ৯৬টা V8, ২৭১টা টুনা, ৪০০ জার সিজনিং আর ২২ ক্যান সালসা। গোনা শেষে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ছিল, "এটা অনেক বেশি।" যুক্তি সহজ ছিল: কাঁচা জিনিস সবার আগে নষ্ট হবে, তাই আগে ওগুলোই ধরতে হবে। ফল আর সবজি তাক থেকে নামিয়ে ফ্রিজারে রাখা হলো।
শুরুতেই একটা ছোট দুর্ঘটনা নিয়মের চাপটা বুঝিয়ে দিল। মেঝেতে প্রায় ৮০ ক্যালোরির ব্লুবেরি পড়ে যায়, যার মানে ৮০ ডলার। ফেলে না দিয়ে তাঁরা মেঝে থেকে তুলে খেয়ে নেন, আর একজন মন্তব্য করেন যে কয়েক মিনিট মাটিতে পড়ে থাকলেও স্বাদ বেশ ভালো। প্রথম রাতে খাবার ছিল চিজস্টেক। দিনের শেষে জিমি মনে করিয়ে দেন, ৪৩ লক্ষের মধ্যে তাঁরা মাত্র ১০,০০০ ক্যালোরি খেয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনা ছিল সবজি ফ্রিজ করা আর ফল দিয়ে জুস বানানো। কাজ ভাগ হলো: জ্যাকসন তাজা অরেঞ্জ জুস বানালেন, রেহান আর হুয়ান ফুলকপি কেটে ফ্রিজ করলেন। ব্রেডে অনেক ক্যালোরি থাকে বলে পুরো ব্রেডের সারিও ফ্রিজারে তোলা হলো। একজন বলেন, দশ লক্ষ ডলার থেকে এক পয়সাও হারাতে চান না। তৃতীয় দিনে জিমি স্বীকার করেন যে পচনশীল খাবার তাঁরা ভালোভাবেই সংরক্ষণ করেছেন। তবে জিজ্ঞেস করলে প্রতিযোগীরা মেনে নেন, তখনো স্টোরের এক শতাংশ খাবারও শেষ হয়নি।
কৌশল: অপছন্দের খাবার আগে, ব্যায়াম আর স্বাস্থ্যকর বিকল্প
চতুর্থ দিন নাগাদ একটা কৌশল তৈরি হলো। পরের দিকে মোটিভেশন ধরে রাখতে অপছন্দের খাবারগুলো আগে শেষ করা হবে। চতুর্থ দিনের শেষে মোট খাওয়া হয়েছিল ৬৫,৯৪১ ক্যালোরি। প্রতিযোগীদের কাছে ব্যায়ামও সমান জরুরি ছিল। একজন বলেন, ওয়ার্কআউট না করলে "আমরা শেষ"। যত বেশি ক্যালোরি বার্ন হবে, তত বেশি খাওয়া যাবে।
তাঁদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে জিমির টিম স্টোরের অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলো বদলে স্বাস্থ্যকর সংস্করণ রাখে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রুট লুপস সরিয়ে প্রোটিন সিরিয়াল আনা হয়। প্রতিদিন প্রশিক্ষণের জন্য একজন পার্সোনাল ট্রেইনারও আনা হয়, পরে যাঁর নাম জানা যায় জন।
পঞ্চম দিনের মধ্যে প্রত্যেকের একটা নিজস্ব রুটিন দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। হুয়ান প্রতিদিন ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন শুরু করতেন। জ্যাকসন খাবার দিয়ে জুস আর স্মুদি বানাতেন। রেহান রাতে কুকবুক পড়তেন, যাতে এত খাবারকে সুস্বাদু করা যায়।
এলডিনের মন্দা সময়
ধারাভাষ্য অনুযায়ী, পুরো দল ভালো কাজ করছিল, একজন ছাড়া। এলডিন বলেন, অনেকদিন এখানে থাকার পর তাঁর খারাপ লাগছে, চারজনের সামনে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি, আর তিনি আবার লাস্ট টু লিভ-এ ফিরে যেতে চান। তিনি মন খারাপ করে ঘুমাতেন, ওয়ার্কআউট মিস করতেন, কখনো খেতেও চাইতেন না। অষ্টম দিনে জিমি এসে তাঁদের সঙ্গে ওয়ার্কআউট করেন, এলডিনকে মোটিভেট করার উদ্দেশ্যে। তারপর এলডিন বলেন তাঁর ভালো লাগছে, নিজেকে শক্তিশালী মনে হচ্ছে, আর যত তাড়াতাড়ি খাওয়া যাবে তত তাড়াতাড়ি বেরোনো যাবে।
এক সপ্তাহের বেশি পেরিয়ে গেলেও তখন পর্যন্ত এক ক্যালোরিও নষ্ট হয়নি। জিমি বলেন, তাঁরা তাঁর ধারণার চেয়েও ভালো করছেন, আর দশ লক্ষ ডলার তখনো অক্ষত।
চোখ বাঁধা শপিং আর বডিবিল্ডারদের হতাশাজনক সাহায্য
দশম দিনে জিমি একটা খেলার আয়োজন করেন। তিনি আর তাঁর টিম চোখ বেঁধে স্টোরে ঘুরবেন। প্রতিযোগীরা উপর থেকে এক মিনিট ধরে নির্দেশ দেবেন কী কী কার্টে তুলতে হবে। জিমি বলেছিলেন, "আমরা যা নেব, সেগুলো খেতে সাহায্য করব।" ঠিকমতো নির্দেশ দিলে হয়তো এক লক্ষ ক্যালোরির খাবার তোলা যেত।
বাস্তবে পুরো ব্যাপারটা বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। কেউ অন্যের কার্ট নিয়ে চলে যান, "আমার রাইট না তোমার রাইট" নিয়ে বিভ্রান্তি হয়, নোলান নামের একজন ভুল দিকে চলে যান, কেউ দেয়ালে ধাক্কা খান। সময় শেষ হলে দেখা যায় কার্টে বেশি কিছু ওঠেনি। এরপর জিমি খোলাসা করেন, "আমরা" বলতে তিনি দশজন বডিবিল্ডারকে বুঝিয়েছিলেন, যাঁরা কার্টের সবকিছু খেয়ে ফেলবেন। কিন্তু কার্ট প্রায় খালি থাকায় এর প্রভাব খুব সামান্য হয়। ধারাভাষ্যেও বলা হয়, ছেলেরা যতটা আশা করেছিলেন বডিবিল্ডাররা ততটা প্রভাব ফেলতে পারেননি।
দশম দিন পর্যন্ত তাঁরা প্রায় ২ লক্ষ ক্যালোরি খেয়েছিলেন, যার বেশিরভাগ কাঁচা খাবার, আর সেগুলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। তবু স্টোরের ৫ শতাংশ ক্যালোরিও তখন শেষ হয়নি। একজন বলেন, তিনি এক বছর এখানে থাকতে চান না।
একশো দিনের মাইলফলক আর পরিবারের জন্য টাকা
এই চ্যালেঞ্জের ১১তম দিন ছিল স্টোরে তাঁদের থাকার ১০০তম দিন, অর্থাৎ আগের চ্যালেঞ্জসহ গোনা হলে। ঘটনাচক্রে সেদিন একজনের জন্মদিনও ছিল। উদযাপন হিসেবে জিমি একটা শপিং কার্টে চল্লিশ হাজার ডলার নিয়ে আসেন। পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে প্রত্যেক প্রতিযোগীর পরিবারকে দশ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। একজন টাকাটা স্ত্রীকে দিতে চান, যাঁর জন্মদিন পরের দিন, আর তাঁকে "পৃথিবীর সেরা স্ত্রী, সেরা মা" বলেন। আরেকজন বাবা-মাকে উদ্দেশ করে বলেন, কোথাও ছুটিতে গিয়ে আনন্দ করো।
ধারাভাষ্যের ভাষায়, এতদিন একসঙ্গে আলাদা হয়ে থাকার ফলে চারজন নিজেরাই একটা পরিবার হয়ে উঠেছিলেন। হুয়ান মাদার্স ডে-র জন্য স্ত্রী, বোন আর মায়ের উদ্দেশে একটা সাইন বানান। রেহান পুরো দলের রান্নার দায়িত্ব নেন। এলডিন নাপিত হয়ে সবার চুল কাটেন।
ক্যালোরি বার্ন চ্যালেঞ্জ, প্রথম লোকসান, আর অ্যালিসনের আগমন
২০তম দিনে জিমি নতুন প্রস্তাব দেন। পরের দশ দিনে প্রতিযোগীরা যত ক্যালোরি বার্ন করবেন, ঠিক তত ক্যালোরির খাবার স্টোর থেকে সরিয়ে রান্না করে অভাবী মানুষদের দেওয়া হবে। প্রত্যেকে ফিটবিট এয়ার ট্র্যাকার পরে ছিলেন, তাতেই হিসাব রাখা হবে। জিমি ট্রেইনার জনকে দায়িত্ব দেন কেউ যেন অতিরিক্ত চাপ না নেন, আর প্রতিযোগীদের বলেন জন বিরতি নিতে বললে সেটা মানতে হবে।
পরদিন ভোর ৬টা থেকে সবাই দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম করছিলেন, এলডিন ছাড়া। তিনি সাড়ে ৯টা-১০টার দিকে ওঠেন। একজন জানান, এলডিন প্রায় পাঁচ হাজার ক্যালোরি পিছিয়ে আছেন। ট্রেইনার জন ব্যাখ্যা দেন যে বাকিরা প্রতিদিন তাঁর চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি দিচ্ছেন। এলডিন স্বীকার করেন তিনি প্রায় হার মেনে নিয়েছেন, তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। বাকিরা দিনে চার হাজারের বেশি ক্যালোরি বার্ন করছিলেন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী অবাক করার মতো ব্যাপার ছিল দলের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য হুয়ানের এগিয়ে থাকা। তিনি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাফাচ্ছিলেন, আর বিরতি নিতে রাজি হননি।
এর মধ্যে প্রথম বড় ধাক্কা আসে। প্রতিযোগীরা দাবি করছিলেন কোনো খাবার নষ্ট হয়নি। তখন জিমি ফুড সেফটি বিশেষজ্ঞ কুইনকে নিয়ে আসেন। কুইন জানান, অনেকদিন ফ্রিজে থাকা কিছু সবজি আর খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। কিছু জিনিস নিয়ে প্রতিযোগীরা আপত্তি তোলেন যে দেখতে তো ঠিক আছে, তবে জিমি কুইনের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং বলেন কেউ অসুস্থ হোক তিনি চান না। নষ্ট খাবারের ক্যালোরি গুনে দাঁড়ায় ৬,৬১৪, অর্থাৎ প্রাইজ পুল থেকে ৬,৬১৪ ডলার কাটা যায়। একজন অন্যজনকে দোষ দিতে গেলে আরেকজন থামিয়ে বলেন, "আমরা টিম। কাউকে দোষ দিই না।" তবু মনোবল নেমে যায়।
মন ভালো করতে জিমি অ্যালিসনকে নিয়ে আসেন, যিনি আরেকটি ভিডিওতে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে শিকলে বাঁধা থাকছিলেন। এই পাঁচ দিনের জন্য সেই মানুষটি ছিলেন হুয়ান। ফলে অ্যালিসনও স্টোরে থেকে তাঁদের মতোই খাচ্ছিলেন। তবু একজন বলেন, ছয় হাজার ডলার হারানো নিয়ে তিনি এখনো মন খারাপ করে আছেন, আর এমন আর হতে দেবেন না।
৩০তম দিন: দুই লক্ষ ক্যালোরি দান
৩০তম দিনে জিমি জানান, দশ দিনে মোট বার্ন হয়েছে ২,০১,৭৬৮ ক্যালোরি। সঙ্গে সঙ্গে রান্না শুরু হয়: প্যান ফ্রাই, স্টির ফ্রাই, সেদ্ধ, এয়ার ফ্রাই, টোস্ট। একজন প্রতিযোগী জানান, তিনি আর তাঁর ভাই এলডিন ইউরোপ থেকে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন। তখন তাঁদের খাবার ছিল না, টাকাও খুব একটা ছিল না। এখন যে কমিউনিটি তাঁদের এত দিয়েছে, তাকে ফিরিয়ে দিতে পারছেন। প্রতিযোগীরা দূর থেকে বিতরণ দেখেন। দরজার বাইরে লম্বা লাইন পড়ে, আর তিনশোর বেশি মানুষকে খাওয়ানো হয়। এরপর অ্যালিসনকে নতুন একজন অপরিচিতের সঙ্গে বাঁধার সময় হয়ে যায়। তিনি চলে গেলে স্টোর হঠাৎ চুপচাপ হয়ে পড়ে।
ঘরে ফেরার তাড়া, রেহানের "শুধু খেতে থাকো" নীতি আর উত্তেজনা
৩২তম দিনে একজন প্রতিযোগীর ছেলে জিজ্ঞেস করে, "বাবা, তুমি কি লাল দাগটা পার হবে?" তাঁকে বলতে হয় যে পারবেন না, তবে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবেন। তিনি বলেন, আইলগুলোর মধ্য দিয়ে হাঁটার সময় এই কথা বারবার মনে পড়ে, আর তাঁর আর তর সইছে না।
রেহানের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও বেশি রান্না। তিনি দিনে চারবার খাবার আর চারটে স্মুদির ব্যবস্থা করেন, আর গত কয়েকদিন ধরে সবার মাথায় একটাই কথা ঢোকাচ্ছিলেন: "খাও, খাও, খাও।" তাঁর হিসাবে দিনে ৩৭,০০০ ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছিল। বাকিরা জানান তাঁদের পেট পুরোপুরি ভর্তি। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এই অবসেশনের কারণে তাঁরা নিজেদের সাধ্যের বাইরে খাবার নিয়ে ফেলেন। একজন বলেন, রেহান "দশ হাজার আলু" রান্না করছেন অথচ কেউ খেতে পারছে না। রেহান আর এলডিনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রেহান বলেন, না খেলে প্রাইজ পুল থেকে টাকা যাবে, কাঁদা আর বাচ্চামি বন্ধ করো। খাবারটা ফ্রিজে রাখা হবে কিনা, তা নিয়েও তর্ক হয়। ধারাভাষ্যে বলা হয়, বাস্তবতা ছিল এখনো লক্ষ লক্ষ ক্যালোরি বাকি, এত তাড়াতাড়ি বেরোনো সম্ভব নয়।
মন শান্ত করার জন্য রেহান স্টোরের বীজ দিয়ে একটা বার্ড ফিডার বানান। তিনি প্রতিদিন সকালে ডকের কাছে বসে পাখির ডাক শুনতেন, আর বলেন সেটা তাঁর কাছে "স্পা ডে"-র মতো। পুরো দিন অপেক্ষা করেও কোনো পাখি আসেনি।
হুয়ানের চিঠি: পড়তে-লিখতে শেখা
৩৮তম দিনের একটা ঘটনা ভিডিওর সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি। হুয়ান জানান, একদিন ক্যাশিয়ারের জায়গায় বসে থাকার সময় রেহান তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি ইংরেজি পড়তে পারেন কিনা। হুয়ান পারতেন না, লিখতেও পারতেন না। রেহান তাঁকে কলম দিয়ে ছোট ছোট শব্দের পরীক্ষা নিতে শুরু করেন। যেসব শব্দে সমস্যা হচ্ছিল সেগুলো নিয়ে কাজ করেন, আর ভুল হলে হতাশ হতে মানা করেন। হুয়ান বলেন, এখন তিনি ছোট বাক্য তৈরি করতে পারেন, যদিও পারফেক্ট নয়।
যে মানুষটা একসময় বাক্য লিখতে পারতেন না, তিনি রেহানকে একটা বড় ধন্যবাদ-পত্র লেখেন। রেহান বলেন, এটা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত, চিঠিটা তিনি সারাজীবন রেখে দেবেন। ধারাভাষ্যের ব্যাখ্যায়, গত কয়েকদিন রেহান শুধু নিজের আর নিজের পরিবারের ওপর ফোকাস করছিলেন। হুয়ানের চিঠি তাঁকে মনে করিয়ে দেয় যে অন্য কাউকে সাহায্য করাও সবচেয়ে বড় পুরস্কার হতে পারে।
এর সূত্র ধরে জিমি একটা ঘোষণা দেন। প্রথম ভিডিওর পর অনেক দর্শক জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে প্রতিযোগীদের বাড়তি টাকা পেতে সাহায্য করা যায়। তাই চারজনের ছবি দিয়ে টি-শার্ট বানানো হয়েছে, আর প্রতিটি শার্টের লাভের অর্ধেক সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগী পাবেন। বাইরে জড়ো হওয়া ভক্তদের মধ্যে শার্ট ছুড়ে দেওয়া হয়। জিমি বলেন, প্রতিদিন এত মানুষ শুধু এদের দেখতেই আসে, আর তাঁর মতে এরা তাঁদের ভিডিওর ইতিহাসে সেরা কয়েকজন প্রতিযোগী।
ফুটবল চ্যালেঞ্জ: শপিং কার্টে বল লুফে খেলোয়াড় জেতা
৪০তম দিনে জিমি স্টোরে ঘাস নিয়ে আসেন, কারণ প্রতিযোগীরা প্রায় একশো দিন ঘাস দেখেননি। ঘাসের ওপর বানানো হয় একটা মিনি ফুটবল মাঠ। খেলার নিয়ম ছিল এরকম: টেন ইয়ার্ড লাইন থেকে শুরু করে একজন প্রতিযোগী মাঠে নামবেন, আর তাঁর দিকে বল ছোড়া হবে। শপিং কার্ট দিয়ে বলটা লুফে নিতে পারলে পরের ২৪ ঘণ্টার জন্য একজন ফুটবল খেলোয়াড় দলে যোগ দেবেন। প্রতি দশ গজ দূরত্বে আরও একজন করে খেলোয়াড় যোগ হবে, সর্বোচ্চ দশজন। খেলোয়াড়দের একজন দাবি করেন তিনি দিনে কুড়ি হাজার ক্যালোরি খেতে পারবেন। জিমির হিসাবে এমন দশজন পেলে প্রতিযোগীরা এক সপ্তাহ আগে বাড়ি যেতে পারতেন।
হুয়ান জীবনে কখনো ফুটবল খেলেননি, খুব চাপ অনুভব করছিলেন, তবু সহজেই প্রথম খেলোয়াড়টি জিতে নেন। পরের দফাতেও সফল হয়ে দলের খেলোয়াড় সংখ্যা তিনে পৌঁছায়। এলডিনের সামনে সুযোগ ছিল ছয়জন খেলোয়াড় পাওয়ার। এবার বল ছোড়েন ইসিইউ কোয়ার্টারব্যাক মিচ, কিন্তু এলডিন বল ফসকে ফেলেন। শেষ সুযোগ ছিল জ্যাকসনের। তিনি দীর্ঘ দূরত্বের বলটা ধরে ফেলেন, ফলে দল সাতজন খেলোয়াড় পায়।
প্রতিযোগীরা দলের সবচেয়ে বড় আর ক্ষুধার্ত খেলোয়াড়দের বেছে নেন, আর ২৪ ঘণ্টা ধরে তাঁদের যতটা সম্ভব খাওয়ান। তবে খুব দ্রুত হাজার হাজার ক্যালোরি খাওয়ার ফলে খেলোয়াড়দের সবার ঘুম পেয়ে যায়। জিমির নিয়মে ২৪ ঘণ্টা মানে ২৪ ঘণ্টাই, খাওয়া হোক বা ঘুম। সময় শেষে কোচ এসে তাঁদের নিয়ে যান, আর খেলোয়াড়রা যাওয়ার আগে "আর একটা রাত" থাকার আবদার করেন।
এর পরপরই আরেকটা ধাক্কা আসে। অ্যালিসনের সঙ্গে শিকলে বাঁধা ভিডিওটা শেষ করার জন্য হুয়ানকে কয়েকদিনের জন্য স্টোরের পেছনে নিয়ে যেতে হয়। তাঁর ফেরাকে প্রতিযোগীরা দলের জন্য "পজিটিভ এনার্জি" বলে বর্ণনা করেন, যা তাঁদের আবার খাওয়ায় মন দিতে সাহায্য করে।
পরিবার দিবস: ২৪ ঘণ্টার মিলন
৫০তম দিনে জিমি প্রতিযোগীদের পরিবারকে স্টোরে নিয়ে আসেন, আর পরিবারগুলো ২৪ ঘণ্টা তাঁদের সঙ্গে কাটায়। কয়েক মাস পর দেখা হওয়ার আনন্দ ছিল, তবে কাজও চলছিল: প্রতি ঘণ্টায় একটা করে স্মুদি, আর একজনের স্ত্রী রান্না করেন, যেটাকে তিনি গত চার মাসের সেরা খাবার বলেন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী, ক্যালোরি কমানোর ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে পরিবারগুলো বেশি সাহায্য করেছে।
২৪ ঘণ্টা খুব দ্রুত কেটে যায়, আর স্টোর আবার চুপচাপ হয়ে পড়ে। ধারাভাষ্যের বর্ণনায়, পরিবারকে দেখার পর তাঁদের মধ্যে নতুন জেদ তৈরি হয়। একজন বলেন, তিনি এখনো বাচ্চাদের "ড্যাডি" ডাক শুনতে পাচ্ছেন, আর সেটাই পৃথিবীর সেরা শব্দ। তিনি আরও বলেন, একশো চল্লিশ দিন আগে এসেছিলেন এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে যে পরিবারকে গর্বিত না করে ফিরবেন না।
হুয়ানের আঘাত আর "অপারেশন হিল হুয়ান"
দ্রুত বেরোনোর জন্য প্রতিযোগীরা পাগলের মতো ট্রেডমিলে দৌড়াচ্ছিলেন। ধারাভাষ্যের ভাষায়, একজনের ক্ষেত্রে পরিশ্রমটা বেশিই হয়ে গিয়েছিল। দৌড়াতে গিয়ে হুয়ানের গোড়ালিতে চোট লাগে, পা ফুলে যায়। একজন বলেন, পা দেখতে আনারসের মতো লাগছে। তবু হুয়ান জেদ ধরে থাকেন যে তাঁর জন্য কেউ পিছিয়ে পড়বে না। বাকিরা তাঁকে বরফ দিতে আর শুয়ে থাকতে বলছিলেন, তিনি শুনছিলেন না। হুয়ান নিজেই স্বীকার করেন, তাঁকে দু-তিন দিন ভারী কিছু তুলতে মানা করা হয়েছিল, আর তিনি শোনেননি। ক্রাচ পছন্দ না হওয়ায় সঙ্গীরা তাঁকে শপিং কার্টে বসিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে যান।
এই সময় তাঁদের প্রিয় জায়গা, ডকটা, তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এটাই ছিল বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁদের একমাত্র সংযোগ, তাই এতে তাঁরা খুব কষ্ট পান। পরে জিমি কারণটা দেখান। লাল দাগ সরিয়ে বাইরে একটা প্যাটিও বানানো হয়েছে, যেখানে একটা ব্ল্যাকস্টোন গ্রিলও আছে, যাতে তাঁরা রোদ পেতে পারেন। একই সঙ্গে জিমি সতর্ক করেন, ৬০তম দিনে জিনিস কঠিন হতে পারে। প্রতিযোগীদের একজন অনুমান করেন, সেটা হয়তো তাঁদের করা সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে।
হুয়ান ঠিক করেন চার দিন বিশ্রাম নেবেন। পরের দিন বাকিরা "অপারেশন হিল হুয়ান" শুরু করেন। হুয়ানকে নড়াচড়া না করিয়ে বসিয়ে রাখার উপায় হিসেবে তাঁর সঙ্গে ইংরেজি অনুশীলন করা হয়, স্মুদি বানিয়ে দেওয়া হয়, আর একটা ছোট সুইমিং পুল সেট করে পায়ে "ওয়াটার থেরাপি" দেওয়া হয়। ধারাভাষ্যের ভাষায়, আশ্চর্যজনকভাবে এটা কাজ করতে শুরু করে। কিছুদিন পর হুয়ান স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন, আর বলেন যা-ই আসুক তিনি থামতে চান না।
গোল্ডেন ট্রেডমিল: চব্বিশ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার
৬০তম দিনের চ্যালেঞ্জ ছিল "গোল্ডেন ট্রেডমিল"। তখন স্টোরে ২৪ লক্ষ ক্যালোরি বাকি ছিল। শর্তগুলো ছিল এরকম:
- টাইমার চালু হলে ২৪ লক্ষ থেকে একটা কাউন্টার ক্রমাগত কমতে থাকবে।
- চারজন মিলে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দৌড়ানো শেষ করলে কাউন্টার যেখানে থামবে, ঠিক তত ক্যালোরির খাবার স্টোর থেকে বের করে অভাবী মানুষদের দেওয়া হবে।
- চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১৬০ কিলোমিটার শেষ করতে না পারলে কোনো ক্যালোরিই বের করা হবে না।
হুয়ান শুরু করেন ঘণ্টায় সাতের গতিতে। জিমির মতে পুরো সময় এই গতি ধরে রাখা পাগলামি হবে, আর হুয়ানের পেশিতে টান লাগলে দলের একজন সদস্য কমে যাবে। শুরুতে তাঁদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রথম দেড় কিলোমিটারের মধ্যে একটা পরিকল্পনা দাঁড়ায়: প্রত্যেকে দেড় কিলোমিটার করে দৌড়াবেন, বাকিরা বিশ্রাম নেবেন। পাশাপাশি জল আর স্ন্যাকস দিয়ে একটা রিফুয়েল স্টেশন বানানো হয়।
ট্রেইনার জনের পূর্বাভাস ছিল, এই গতি হয়তো চল্লিশ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরে রাখা যাবে, কিন্তু এটা একসঙ্গে চারটে ম্যারাথন। তাঁর অনুমানে আশি কিলোমিটারের কাছে গতি কমবে। ধারাভাষ্য অনুযায়ী ঠিক তা-ই হয়। অর্ধেক পথের পর ক্লান্তি আসে আর গতি কমে যায়। হুয়ান বলেন তিনি ক্লান্ত নন, শুধু হাঁটুতে ব্যথা করছে। একজন স্বীকার করেন, তিনি জীবনে কখনো এত দৌড়াননি, প্রথম দেড় কিলোমিটার দৌড়েছেন মাত্র কয়েকদিন আগে। কারও ক্র্যাম্প হয়। জিমি ব্যাখ্যা করেন, এটা শুধু স্ট্যামিনার পরীক্ষা নয়, সময়ের সঙ্গে দৌড়ও। যত সময় লাগবে, কাউন্টার তত কমবে, আর শরীরও তত ভাঙবে। একসময় কাউন্টার দশ লক্ষের নিচে নেমে যায়। গতি ধরে রাখতে না পারলে কাউন্টার শূন্যে নেমে সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে যেতে পারত।
শেষ ধাপে প্রতিযোগীরা পরিবারের কাছ থেকে শক্তি খোঁজেন। একজনের সন্তানের বার্তা আসে, "বাবার জন্য গর্বিত।" কেউ বাবা-মাকে দেখতে চান। কেউ বাড়িতে সেরা বন্ধু কেসির কাছে যাওয়ার কথা বলেন। একজন প্রতিশ্রুতি দেন, "আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরছি।" শেষ কিলোমিটারে জিমি মাসাজ থেরাপিস্ট আনেন। অবশেষে ১০০ মাইল সম্পন্ন হয়। জিমি জানান, এর চেয়ে বেশি অ্যাথলেটিক একটা দলকে দিয়ে এটা চেষ্টা করানো হয়েছিল, তাদের সংখ্যা ছিল তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার। তাঁর ভাষায় প্রতিযোগীরা "সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছ"। ফল দাঁড়ায় ছয় লক্ষ ক্যালোরি, যা স্টোর থেকে বের করে অভাবীদের দেওয়া হয়। একজন বলেন, এটা খেতে অন্তত দুই মাস লাগত।
অতিথি, পুরনো ঐতিহ্য আর অপছন্দের খাবার
এরপর জিমি আরও দুজন অতিথি পাঠান: জিম আর মনিকা। তাঁরা একটা ভিডিওতে ল্যাম্বরগিনি চালিয়ে পৃথিবী ঘুরছেন, আর গাড়ি নিয়েই স্টোরে ঢোকেন। দুজনকেই অন্তত দশ হাজার ক্যালোরি খেয়ে তবে বেরোতে হবে। প্রতিযোগীরা তাঁদের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার ক্যালোরির স্মুদি আর পাস্তা বানান। এই ফাঁকে এলডিন ল্যাম্বরগিনি নিয়ে স্টোরের ভেতরে জয়রাইড করেন। জিম আর মনিকা চলে যাওয়ার পর ধারাভাষ্যে বলা হয়, এটা প্রতিযোগীদের মনে করিয়ে দেয় যে বাইরের জীবন এগিয়ে চলেছে।
হুয়ানের জন্য এই অনুভূতি ছিল বিশেষভাবে ভারী। তিনি জানান, তাঁর জন্মভূমির মানুষদের সঙ্গে প্রতি বছর ৪ঠা জুলাই তিনি ফুটবল খেলেন। পঁচিশ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সেটা মিস করলেন। হুয়ান জানান তিনি বাড়ি যেতে চান। এরপর জিমি হুয়ানের ফুটবল টুর্নামেন্টটাই স্টোরে নিয়ে আসেন। ৭০তম দিনে হুয়ানের বন্ধু আর পরিবার সারা সন্ধ্যা খেয়ে ৫৫ হাজার ক্যালোরি কমান। হুয়ান কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন তিনি সত্যিই খুব খুশি। তবু অনেক খাবার বাকি ছিল।
এই পর্যায়ে প্রতিযোগীরা এমন সব খাবার খেতে শুরু করেন যা তাঁরা খেতে চান না। দানের পরেও প্রচুর বিনস বাকি থাকে, আর পেঁয়াজের জুস পর্যন্ত চেষ্টা করা হয়। একজন তার গন্ধকে হাইস্কুলের জিমের লকার রুমের সঙ্গে তুলনা করেন। ৭৪তম দিনে তাঁরা জিমিকে পাম্পকিন প্রোটিন পাউডার, রাইস কেক, পাঁচ সার্ভিং মেপল সিরাপ আর চকোলেট বার দিয়ে বানানো একটা স্মুদি খাওয়ান। ক্যামেরা টিমকেও ভাগ দেওয়া হয়।
জোয়ি চেস্টনাটের বিরুদ্ধে বিনস খাওয়া আর নতুন গাড়ি
প্রতিযোগীরা নিজেদের মধ্যে গাড়ি নিয়ে কথা বলছিলেন। কেউ স্পোর্টস কার চান, কেউ কাজের জন্য ট্রাক। রেহান বলেন তিনি আরও সন্তান চান, তাই এসইউভি দরকার। জিমি সেই কথা শুনে নির্দিষ্ট গাড়িগুলো এনে দেখান। শর্ত ছিল, এগুলো জিততে হলে প্রতিযোগিতামূলক খাওয়ার জগতের তারকা জোয়ি চেস্টনাটের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। জিমি নিজেও প্রতিযোগীদের দলে যোগ দেন। পাঁচজন মিলে খাবেন ৮ পাউন্ড বিনস, জোয়ি একা ১৬ পাউন্ড। জোয়ি শেষ করার সময় দলের দিকে একটা বিনও বাকি থাকলে দল হেরে যাবে। জিমির কথায় ১৬ পাউন্ড বিনস নিজেই একটা বিশ্বরেকর্ড।
প্রতিযোগিতায় জ্যাকসন আর হুয়ান দ্রুত খাচ্ছিলেন, কিন্তু জোয়ি আগে ১০০ শতাংশে পৌঁছে যান, আর দলটি হেরে যায়। জোয়ি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তবু জিমি ঘোষণা করেন, প্রত্যেকে একটা করে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি জিতেছেন। এই পর্যায়ে স্টোরে দশ লক্ষের কম ক্যালোরি বাকি ছিল, অর্থাৎ তাঁরা প্রায় ৭৫ শতাংশ খেয়ে ফেলেছিলেন। একজন বলেন তাঁর স্ত্রীর একটা গাড়ি দরকার ছিল। জিমি বলেন তিনি জানতেন গাড়ি পছন্দ হবে, কিন্তু এতটা হবে বুঝতে পারেননি।
এরপর কয়েকটা হালকা মুহূর্ত আসে। নতুন গাড়ি নিয়ে মজার "পুলিশ তাড়া" অভিনয় হয়, যেখানে কুকিজ আর ফিস্টেবলস নিয়ে ধরা পড়ার নাটক করা হয়। গাড়ির জায়গা করতে ৮৫ থেকে ৯০তম দিন পর্যন্ত তাক সরিয়ে স্টোরটা নতুন করে সাজানো হয়। ধারাভাষ্যের মতে, গাড়ি জেতা শুধু মজা ছিল না, দলটা যে কতটা ভালো, তারও প্রমাণ ছিল। প্রতিযোগীরা একে অপরের ভূমিকার কথা বলেন: হুয়ান সবসময় পরিষ্কার করেন আর সক্রিয় থাকেন, জ্যাকসন জিমের অনুপ্রেরণা আর ওয়েট লিফটিংয়ে দক্ষ, এলডিন সবাইকে হাসান।
প্রথম ভিডিওর প্রতিযোগীদের প্রত্যাবর্তন আর লুকোনো ২২ দিন
১০০তম দিনে জিমি প্রথম গ্রোসারি স্টোর ভিডিওর সব প্রতিযোগীকে ফিরিয়ে আনেন, যাঁরা এক ঘণ্টা খাবার খেতে সাহায্য করবেন। জিমির বর্ণনায়, ১৮৯ দিন আগে কয়েকজন অচেনা মানুষ এই স্টোরে ঢুকে অজান্তেই আড়াই লক্ষ ডলারের একটা প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন, যা দ্রুত তাঁদের বানানো সবচেয়ে বিশৃঙ্খল ভিডিওতে পরিণত হয়। পুরনো প্রতিযোগীরা দেখেন, প্রথম ভিডিওর "ফোর্ট ফ্রিজি" এখন জিম হয়ে গেছে। একজন হুয়ানের জন্য নতুন হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে আসেন। পুরনোরা মন্তব্য করেন, শরীর দেখে মনে হচ্ছে চারজন অবশেষে বডি বানিয়েছেন। হুয়ান বলেন, এই মুখগুলো আবার দেখে তিনি খুব খুশি। আরেকজন জানান, ছয় মাসের বেশি এখানে থেকে তাঁরা ক্লান্ত।
এই সময় জিমি একটা তথ্য সামনে আনেন। পুরনো প্রতিযোগীদের দেখে বোঝা যায়, চারজন আসলে স্টোরে ১০০ দিন নয়, ১৮৮ দিন ধরে আছেন। কারণ স্টোর আবার ভরার সময় তাঁদের আরও ২২ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এতে তাঁরা বুঝে যান যে খুব দ্রুত বেরোতে হবে।
শেষের দিকে খাদ্য তালিকা ছোট হয়ে আসে। ব্লেন্ডারের শেষ দিন আসে, ফ্রোজেন ডিম খেতে হয়, শেষ চিংড়িও খাওয়া হয়, যদিও একজনের চিংড়ি পছন্দ নয়। চার মাস আগে তাঁরা বলেছিলেন, স্টেকে পৌঁছালে বুঝবেন জিতে গেছেন। সেই দিন আসে, আর স্টেক হয় রাতের খাবার।
জ্যাকসনের প্রস্তাব আর হুয়ানের আংটি
শেষ পর্বে জ্যাকসন জানান, দীর্ঘ চিন্তার পর তিনি গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার আগে মেয়ের বাবা-মায়ের অনুমতি চাইতে চান। নার্ভাস হওয়ায় তিনি কাজটা পিছিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই জিমি এসে তাঁকে সাহস দেন। ফোনে জ্যাকসন বাবা-মাকে বলেন, তাঁদের মেয়ে তাঁর কাছে "পুরো পৃথিবী", আর বিয়ের অনুমতি চান। উত্তর আসে "ইয়েস"। এরপর আংটি বাছাই করা হয়। মেয়েটি অনন্য জিনিস পছন্দ করেন বলে জ্যাকসন একটা ওভাল আংটি বেছে নেন। জিমি তখন হুয়ানকে জিজ্ঞেস করেন তিনি আংটি পরেন কিনা। হুয়ানের আংটি নেই জেনে তাঁকেও স্ত্রীর জন্য একটা আংটি বেছে নিতে দেওয়া হয়।
ট্র্যাকারের তথ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণ
চ্যালেঞ্জের শেষ দিকে জিমি জানান, গত ১১০ দিন প্রতিযোগীরা যে ফিটবিট এয়ার ট্র্যাকার পরেছিলেন, তার তথ্য দিয়ে কে কোন ক্ষেত্রে সেরা তা দেখা হবে। ফলাফল ছিল এরকম:
- সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন: জ্যাকসন, ৪,৫১,২৯৯ ক্যালোরি।
- সবচেয়ে বেশি ঘুম: এলডিন, ১,০৫৪ ঘণ্টা ৪ মিনিট।
- সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি রান্না: রেহান, ২০,১১,৫৫৫ ক্যালোরি।
- সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ: হুয়ান, ২৭,৩৫,০০০ স্টেপ।
এর সঙ্গে জিমি জানান, প্রত্যেকে একটা হেলথ অ্যাপের আজীবন প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন পেয়েছেন, যাতে স্টোরে অর্জিত অভ্যাস বাইরের জীবনেও ধরে রাখা যায়।
শেষ দিন: ৩,৮৮২ ক্যালোরি আর দশ লক্ষ ডলার
১৯৮তম দিনে ৫০ হাজারের কম ক্যালোরি বাকি ছিল, আর হাতে দুই দিন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি খেয়েছেন, আর পুরো সময়ে হারিয়েছেন মাত্র ৬,৬১৪ ডলার। শেষ খাবারের জন্য রেহান পাউরুটি বানান। তিনি বলেন, তাঁর মা সবচেয়ে ভালো যে কাজটা করেছেন তা হলো তাঁকে পাউরুটি বানানো শেখানো। শেষ রাতে তাঁরা জমিয়ে রাখা টয়লেট পেপার দিয়ে স্টোর সাজান, যেমনটা আগেরবার বাড়ি যাওয়ার কথা ভেবে করেছিলেন। ধারাভাষ্যের ব্যাখ্যায়, এটা ছিল তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন আর কী পার করেছেন তার স্মৃতিচারণ।
শেষ দিনে বাইরে বৃষ্টির মধ্যে শত শত ভক্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাকি ছিল ৩,৮৮২ ক্যালোরি। জিমি বলেন, ২০২ দিন আগে এই চারজন খাবার কিনতে স্টোরে ঢুকেছিলেন, আর ৯০ জনেরও বেশি মানুষকে পেছনে ফেলে এখন শেষ খাবার তাঁদের সামনে। পরিবার আর অর্ধেক শহরের সামনে তাঁরা শেষ কামড় খান। একজন বলেন, উত্তেজনায় তিনি কাঁপছেন। আরেকজন বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মুখ ভর্তি করে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
জিমির পর্যালোচনায়, তিনি একটা সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন অচেনা মানুষেরা গ্রোসারি স্টোরে একে অপরকে টেক্কা দিতে গেলে কী হয়। তারপর চারজন থেকে যান এবং খেয়ে বেরোনোর পথ নেন। শেষ রাতে প্রতিযোগীরা বলেন, এখানে আসার সময় কেউ কাউকে চিনতেন না, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে ছিলেন, আর অন্য কাউকে নিয়ে এটা করা সম্ভব হতো না। তাঁদের ভাষায়, এখন তাঁরা "বেস্ট ফ্রেন্ডস ফরএভার"।
শেষ কামড়ের পর জিমি ঘোষণা করেন, তাঁরা দশ লক্ষ ডলার জিতেছেন। হুয়ান স্ত্রীকে মনে করিয়ে দেন, একসময় টাকার অভাবে তাঁর আংটি ফেরত দিতে হয়েছিল, আর এখন তিনি নতুন আংটি দিচ্ছেন। জ্যাকসন গার্লফ্রেন্ডকে বলেন, তাঁরা একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছেন, আর একটা কাজই বাকি আছে। তিনি প্রস্তাব দেন, উত্তর আসে "হ্যাঁ, আমি রাজি"। দুশো দিনের বেশি সময়ের চ্যালেঞ্জ এভাবেই শেষ হয়: পুরো স্টোর খালি, পুরস্কার থেকে কাটা গেছে শুধু সেই একবারের নষ্ট সবজির দাম, আর চারজন অচেনা মানুষ বাড়ি ফিরছেন বন্ধু হয়ে।
আমি এই পুরো গ্রোসারি স্টোর কিনে নিয়েছি। মজা করছি না। এটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু এই চারজন প্রতিযোগীর মধ্যে যারা ভেতরের সব খাবার খাবে, তারা জিতবে দশ লক্ষ ডলার।
ওহ মাই গড। ওয়াও! মানে সত্যি সবকিছু? সবকিছু।
তোমরা চারজন এমন কিছু ট্রাই করছো, যা কখনো হয়নি। একটা পুরো শহরের সমান খাবার খাওয়া। লক্ষ লক্ষ ক্যালোরি। আর এই স্টোর থেকে বের না হওয়া। এটা অসম্ভব।
ওয়াও। একটা সারি বেছে নাও। চলো শুরু করি বয়েজ। এতে হয়তো এক বছর লাগবে, কে জানে। চলো এখান থেকেই শুরু করি। এগুলো সব ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভালো থাকবে, তাই এটা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে না।
তোমাদের এখানে অনেক সিউইড আছে। এটা নিয়ে কী ভাবছো? প্রথম দিন। আমি এটা কখনো খাইনি, তবে এবার খেতে হবে। এবার খেতে হবে, হ্যাঁ। হ্যাঁ।
তাহলে এখানে প্ল্যানটা কী, বয়েজ? কোনো আইডিয়া নেই। এখানে অনেক খাবার আছে। আমাদের পুরো স্টোরের ইনভেন্টরি করতে হবে। চলো এখানকার সব ক্যালোরি গুনে ফেলি।
১০৫ প্যাকেট ব্রেড। ৩৪ ক্যান নাশপাতি। ৯৬টা ভি-এইট। যেহেতু এটা নতুন সারি। ২৭১টা টুনা। ৪০০ জার সিজনিং। ২২ ক্যান সালসা। চলো যাই। আমাদের গোনা শেষ।
এটা অনেক বেশি। এটা প্রচুর খাবার। এটা অনেক বেশি। অনেক বেশি। কাঁচা জিনিসগুলোই সবার আগে নষ্ট হবে। হ্যাঁ। চলো ওগুলোর দিকে যাই। হুয়ান, এদিকে আসো। একটা কলা নাও।
চিয়ার্স। চিয়ার্স। খাবারের প্রথম বাইট। এক বাইট দেয়া শেষ। আরও লক্ষ লক্ষ বাকি।
তোমরা দেখছো ৪৩ লক্ষ ক্যালোরির খাবার। তার মানে? এরা চারজন যদি দিনে ২০০০ ক্যালোরি করেও খায়, এই গ্রোসারি স্টোরের সবকিছু খেতে ওদের এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে।
কাঁচা জিনিস তো সবার আগেই নষ্ট হবে, তাই না? আমাদের ওগুলোকেই টার্গেট করতে হবে। এই সব ফল আর সবজি শেলফ থেকে নামিয়ে ফ্রিজারে রাখতে হবে।
খাবার নষ্ট হতে দেওয়াটা ওদের জন্য সবচেয়ে খারাপ হবে, কারণ নষ্ট হওয়া প্রতি ক্যালোরির জন্য ওদের প্রাইজ থেকে এক ডলার কাটা যাবে। তাই এই স্টোরের এক-চতুর্থাংশ খাবারও নষ্ট হলে, ওদের পুরো প্রাইজ মানি চলে যাবে।
প্রথম দিন। তাহলে এই বেরিগুলো। ওহ! আরে না। মেঝেতে প্রায় ৮০ ক্যালোরির ব্লুবেরি পড়ে আছে। মানে ৮০ ডলার।
বয়েজ, চলো এগুলো ফেলেই দিই। না না না না। ঠিক আছে। ওগুলো একটা ২০ ডলার দাম। ঠিক আছি। এগুলো খেতে পারবো। বেশ কয়েক মিনিট মাটিতে পড়ে থাকলেও এগুলোর স্বাদ বেশ ভালোই।
খাবারগুলো যাতে নষ্ট না হয়, তাই আমরা সব ফ্রিজারে সরিয়ে ফেলেছি। আজ ডিনারে আমরা কী খাচ্ছি?
প্রথম খাবারে চিজস্টেক বানাচ্ছি। এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজের একটা। আর তাছাড়া আমরা অনেক গোলমরিচও ব্যবহার করতে পারবো।
গ্রোসারি স্টোরের প্রথম মিল। চিয়ার্স। দারুণ বানিয়েছো। এই স্টোরে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি খাবার আছে। আর এখনো পর্যন্ত, তোমরা মাত্র ১০,০০০ ক্যালোরি খেয়েছো। সারাজীবন লেগে যাবে।
শেষ একটা কথা। তোমরা ওই লাল লাইনে বা তার বাইরে পা রাখতে পারবে না। এক, দুই, তিন। টিম। ওহ মাই গড। দেখা যাক এটা কেমন হয়।
ওহ মাই গড। একটা ক্যামেরা আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। লাইট অফ করে দাও। শুভরাত্রি এলডিন। গুড নাইট জিমি। গুড নাইট রেহান। গুড নাইট জ্যাকসন। গুড নাইট হুয়ান। গুড নাইট জিমি।
দ্বিতীয় দিন। চলো দিনটা শুরু করা যাক। ওয়াও। আমাদের সামনে প্রচুর খাবার রাখা আছে।
কী খবর সবার? গ্রোসারি স্টোরে আজ দ্বিতীয় দিন। গেম প্ল্যান হলো সবজিগুলো ফ্রিজ করা আর ফলগুলোর জুস বানানো। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সবজি আর ফলগুলো শেষ করার ট্রাই করছি, যাতে কোনো কিছু নষ্ট না হয়।
জানো তো, এখানে সবার কাজ আলাদা। জ্যাকসন ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস বানাচ্ছে। আর রেহান আর হুয়ান ফুলকপিগুলোর কাজ সারছে। ফুলকপি ফ্রিজ করছে। আর তারা খেয়াল রাখছে যেন এগুলো নষ্ট না হয়।
চলো ব্রেডগুলোকে ভালো জায়গায় রাখি। এটা ব্রেডের পুরো সারি। আর আমরা এখানকার প্রায় সবকিছুই ফ্রিজ করতে চাই, যাতে কিছু নষ্ট না হয়। কারণ ব্রেডে অনেক ক্যালোরি থাকে। আমরা সবকিছু বাঁচানোর চেষ্টা করছি। এই দশ লক্ষ ডলার থেকে এক পয়সাও হারাতে চাই না।
প্রচুর মনোবল আমাদের। আমরা সবাই খুব খুশি। আমরা ক্যালোরি এমনভাবে সামলাচ্ছি যেন এটা কিছুই না। আমরা কেবল একটু ক্লান্ত। শুধু এগিয়ে যেতে হবে।
হ্যাপি ডে থ্রি। তোমাদের কী অবস্থা? হেই! অসাম। এখনও কেউ চলে যায়নি! এটা ভালো ইঙ্গিত।
আমরা যদি এটা এখানে রাখি? তৃতীয় দিন। দেখি এটা কেমন কাজ করে? হ্যাঁ। এইতো হয়ে গেলো। বাড়ির বাইরে আরেকটা বাড়ি, না? ওহ, এটা দেখতে সত্যিই সুন্দর।
ফ্যানেরা যে সারাদিন তাকিয়ে থাকে, অদ্ভুত লাগে না? না, এটা আসলে বেশ মোটিভেটিং, তাই…
আর তার কারণ হলো এটা ওদের প্রথম ভিডিও না। আমাদের লাস্ট টু লিভ গ্রোসারি স্টোর চ্যালেঞ্জে এরা চারজন শত্রু হিসেবে শুরু করেছিল। কিন্তু ৬৭তম দিনে, যখন ওদের কেউই কুইট করতে রাজি ছিল না, আমি ওদের একটা শর্তে একসাথে খেলা চালিয়ে যাওয়ার, প্রাইজ মানি চারগুণ করার একটা সুযোগ দিয়েছিলাম। আমি স্টোরটা আবার পুরো রিস্টক করেছি, এখন ওদের ভেতরের সব খাবার খেতে হবে।
আর এখন তোমরা লিটারেলি ওয়ার্ল্ড ফেমাস। মানুষজন গ্রোসারি স্টোরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে শুধু তোমাদের দেখার জন্য। হ্যাঁ! আমারই খারাপ লাগছে!
আজ তৃতীয় দিন। গেম প্ল্যানটা কী? কাঁচা জিনিসগুলো আমরা বেশি করে নিয়ে কেটে ফেলেছি। আর এখন ওগুলো ফ্রিজারে। সব ব্রেড এখন ফ্রিজারে।
নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো খাবারগুলো তোমরা ভালোভাবেই প্রিজার্ভ করেছো। কিন্তু… কী মনে হয়, এখনও পর্যন্ত স্টোরের এক পার্সেন্ট খাবারও খেয়েছো? না। আসলে না। ওহ, বয়।
এই সারিগুলোতে প্রচুর খাবার আছে। এটা সত্যিই অনেক। অনেক সময় লাগবে। দেখতেই পাচ্ছো, ফ্রিজার ভর্তি খাবার এখনো বাকি, তাই… এটা সত্যিই অনেক খাবার। ঠিকমতো ভেবে দেখলে, এটা প্রচুর।
চতুর্থ দিন। চ্যালেঞ্জের পরের দিনগুলোতে মোটিভেশন ধরে রাখতে তারা অপছন্দের খাবারগুলো আগে শেষ করবে ভাবল।
ওহ, আমি এই পেঁয়াজগুলো খেতে চাই না। ঠিক আছে। ভাই, চিন্তা কোরো না। ঠিক আছে। কেঁদো না। আমি এখনই থেমে যাব কারণ। মেঝেতে রেখো না, বন্ধু। পাঁচ ডলার, আমার বন্ধু।
অবশ্যই, ওরা যেন আমাদের অজান্তে কোনো ক্যালোরি ফেলে না দেয়, সেটা খেয়াল রাখতে আমাদের লোকজন ২৪ ঘণ্টা এই স্টোরের প্রতিটি কোণা মনিটর করছে। তবে বোঝাই যাচ্ছে এরা সবাই ব্যাপারটাকে বেশ সিরিয়াসলি নিয়েছে।
প্লাস ৩২০, প্লাস ৯০। ২২০, ৩০০। চতুর্থ দিন। ১৭,৪০৪। আমরা এখনও পর্যন্ত ৬৫,৯৪১ ক্যালোরি খেয়েছি।
আমাদের ওয়ার্কআউট করাটা এই শোয়ের একটা বড় অংশ। তা না হলে আমরা শেষ। স্ট্র্যাটেজি হলো যত বেশি ক্যালোরি বার্ন করা, যাতে আরও বেশি খেতে পারি।
তবে তারা যাতে আরও হেলদি থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে। এটা প্রোটিন সিরিয়াল। এটা হেলদি সিরিয়াল। ফ্রুট লুপসগুলো সরিয়ে দিয়েছি। ওগুলোর বদলে আরও হাই কোয়ালিটি জিনিস এনেছি। আর পুরো স্টোর জুড়েই আমরা সব আনহেলদি খাবারের বদলে হেলদি ভার্সনগুলো রেখেছি।
শুধু তাই নয়। তোমাদের জন্য একজন পার্সোনাল ট্রেইনারও এনেছি, যে তোমাদের প্রতিদিন ট্রেইন করবে। দেখি হুয়ান। দেখাও তো দেখি। ওহ, হ্যাঁ। হ্যাঁ।
হুয়ান, ভিডিওর শেষে তোমার বডি ফিট হয়ে ফ্যামিলির রিঅ্যাকশন কী হবে? খুবই অবাক হবে কারণ অনেক… তোমার ওয়াইফ হয়তো বলবে, ওহ মাই গড। হ্যাঁ।
এক্সারসাইজ শেষ। ছেলেরা করে দেখিয়েছে। অ্যামিগোস।
পঞ্চম দিন। এই পর্যায়ে, ওরা একটা রুটিন তৈরি করেছে।
হুয়ান প্রতিদিন তার ফ্যানদের গ্রিট করে দিন শুরু করে। গুড মর্নিং, আমার বন্ধু।
জ্যাকসন খাবারগুলো দিয়ে জুস বা স্মুদি বানাতো। জ্যাকি স্মুথ। জ্যাকি স্মুথ।
আর রেহান শিখছিল কীভাবে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরির খাবারকে টেস্টি করা যায়। আমি রাতে কুকবুক পড়ছিলাম এটা দেখতে যে কী কী বানাতে পারি। বুঝতে পারছো কী বলছি?
চিয়ার্স গাইজ। হুয়ান? এত আস্তে আস্তে খাচ্ছো কেন?
পুরো গ্রুপটা দারুণভাবে কাজ করছিল। একজন ছাড়া।
এখন একটু খারাপ লাগছে। আমরা অনেকদিন ধরে এখানে আছি। আর আমরা চারজনের বিপরীতে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি। আমার আবার লাস্ট টু লিভ-এ ফিরতে ইচ্ছে করছে।
কাম অন, ম্যান। চলো কাজে লাগি। কাম অন, ওঠো, বন্ধু। তোমরা এখনো টায়ার্ড হওনি? হুয়ান, তুমি আমার সাথে একটু রেস্ট নেবে? না।
এলডিন মন খারাপ করে ঘুমাতো, আর ওয়ার্কআউট মিস করতো। গুড মর্নিং, আমার বন্ধু। আর কখনো কখনো সে খেতেও চাইত না। তোমার খিদে পেয়েছে?
অষ্টম দিন। একসাথে খেতে হবে। তাই ঠিক করলাম ওর সাথে দেখা করে যদি ওকে একটু মোটিভেশন দেওয়া যায়।
ছেলেদের সাথে ওয়ার্কআউট করতে যাচ্ছি কারণ ক্যালোরি বার্ন করতে হবে যাতে ক্যালোরি নিতে পারি। শুরু করি। চলো পুরো স্টোর শেষ করি। চলো করি। চলো। কাম অন, ডুড, কাম অন। ওকে পাম্প আপ করো। পাম্প করো। চলো চলো এখনই।
জিমি আমাদের সাথে দারুণ ওয়ার্কআউট করলো। আমার ভালো লাগছে। নিজেকে স্ট্রং লাগছে। আমাদের টিমটা চমৎকার। আমি লাইফ এনজয় করছি। আমি অবশ্যই এখান থেকে বাইরে যেতে চাই। তবে আমরা যত তাড়াতাড়ি খাব, তত তাড়াতাড়ি এখান থেকে বের হতে পারব।
এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেছে আর তোমরা এখনো এক ক্যালোরিও ফেলে দাওনি। সত্যি বলতে, ওরা আমার ধারণার চেয়েও ভালো করছে। ওই দশ লক্ষ ডলার প্রাইজ মানি এখনো দশ লক্ষ ডলারই আছে। দেখা যাক পরের সপ্তাহে কিছু পাল্টায় কিনা। টেক কেয়ার বয়েজ।
গ্রোসারি স্টোর—গ্র্যান্ড ওপেনিং। দশম দিন।
জিমি! হেই। এগুলো কীসের জন্য? ভালো করেছো জিজ্ঞেস করে। আমি ও বয়েজ সবার কাছেই ব্লাইন্ডফোল্ড আছে। ওহ। আমি দেখতে পাচ্ছি না।
একটু পরেই, আমি আর বয়েজ টিম চোখ বেঁধে পুরো স্টোরে ঘুরবো। আর কার্টে কী কী নিতে হবে সেটা বলার জন্য তোমরা এক মিনিট সময় পাবে। আমরা যা যা নেব, সেগুলো খেতে সাহায্য করবো।
জিমি, আমি ঠিক এখানেই। আমাকে দেখছো? ওকে। তোমাকে কন্ট্রোল করছি। ওহ, না। কিন্তু তোমরা তো ওখানে থাকবে না। তোমরা সবাই আসলে উপরে থাকবে। আর ঠিকমতো ডিরেকশন দিলে, আমরা হয়তো ১ লক্ষ ক্যালোরির খাবার নিয়ে নিতে পারি। ওহ মাই গড।
কন্টেস্ট্যান্টস, তোমরা কি রেডি? ইয়েস স্যার। আমরা রেডি। গো।
জিমি, রাইটে গিয়ে ঘোরো… শুধু সোজা যাও। দাঁড়াও, দাঁড়াও, দাঁড়াও। ওয়েট। ও কার্টটা নিয়ে নিলো। কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। ডুড, দাঁড়াও! ব্রো আমার কার্ট নিয়ে নিলো। কেন?
জিমি, শুধু সোজা যেতে থাকো। আমার ভয় লাগছে। এটা কী? আউ! যাও, রাইট, রাইট। আমার রাইট না তোমার রাইট? লেফটে যাও। লেফটে যাও। যাও! সোজা যেতে থাকো। লেফটে যাও। এই দিকে।
ওহ, তুমি চাও এখান থেকে জিনিসপত্র নিই? সবকিছু। ওই সব কটা ব্যাগ।
নোলান, নোলান, ফিরে এসো! জানি না কোথায় যেতে হবে। দেখতে পাচ্ছি না। নোলান কোথায় যাচ্ছো? এটা ভালো? এটা কি ভালো? শেলফ থেকে জাস্ট জিনিস নেয়া শুরু করো।
হেল্প করো! কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। ধাক্কা খাচ্ছি! নোলান। নোলান! নোলান, নোলান। জাস্ট ওগুলো সব নিয়ে তোমার কার্টে রাখো। ঠিক ওখানে। সবকিছু কার্টে নাও। সব তোমার কার্টে নাও।
পুরো বক্সটা! পুরো বক্সটা নোলান! পুরো বক্সটা। নোলান! পুরো বক্স নাও। সবকিছু নাও। সবকিছু নাও। কী?
টাইম আপ। টাইম আপ। টাইম আপ। টাইম আপ। সময় শেষ? কথা শোনার ব্যাপারে তোমরা জঘন্য। কী? আমি ভেবেছিলাম ওরা আরেকটু ভালোভাবে ডিরেকশন দেবে।
আমি যখন বলেছিলাম আমরা খেতে সাহায্য করবো, আমরা বলতে আমি বুঝিয়েছিলাম—ভেতরে আসো। আমি দশজন বডিবিল্ডার এনেছি তোমাদের কার্টে থাকা সবকিছু খেতে সাহায্য করার জন্য। তোমাদের কার্টের সবকিছু। অবশ্য, এগুলোতে বেশি কিছু ছিল না।
ওহ মাই গড। তুমি আরও জিনিস নাওনি কেন, ব্রো? ভাই, ট্রাই করেছিলাম। এটা কী? কী করলে? এটা কী? আমি দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছিলাম। আমরা হলে এই পুরো স্টোরটা খালি করে দিতাম।
আমি জানি না এটা আসলেই কতটা হেল্প করবে। হয়তো সামান্য, তবে আমাদের জন্য ভালো মনে হচ্ছে না।
ছেলেরা যেমনটা আশা করেছিল বডিবিল্ডাররা ততটা ইম্প্যাক্ট ফেলতে পারেনি, আর এভাবেই ওরা আবার আগের জায়গায় ফিরে এলো। আর চ্যালেঞ্জের ১০ম দিনে, ওরা ২ লক্ষ ক্যালোরি খেয়েছে যার বেশিরভাগই এসেছে কাঁচা জিনিস থেকে, যেটা ওরা প্রায় শেষ করে এনেছে। কিন্তু এখনো ওরা এই স্টোরের ৫ পার্সেন্ট ক্যালোরিও শেষ করতে পারেনি।
দেখতেই পাচ্ছ সারিগুলো এখনো ভর্তি। আমি এক বছর এখানে থাকতে চাই না।
চ্যালেঞ্জের ১১তম দিন ওদের এই গ্রোসারি স্টোরে থাকার একশতম দিনও বটে, আর ঘটনাচক্রে এদিন আমার বার্থডেও। হ্যাপি বার্থডে টু ইউ! থ্যাংক ইউ গাইস। থ্যাংক ইউ। কেমন চলছে সব? কী অবস্থা?
এই গ্রোসারি স্টোরে একশো দিন থাকাটা সেলিব্রেট করতে, এ শপিং কার্টে চল্লিশ হাজার ডলার রাখা আছে। ওয়াও! আর যেহেতু তোমরা গত একশো দিন ধরে ফ্যামিলির থেকে দূরে আছো, তাই প্রত্যেকের ফ্যামিলিকে হেল্প করতে তোমরা এই গ্রোসারি স্টোরে থাকাকালীন দশ হাজার ডলার করে দেব।
তোমার ফ্যামিলির কাকে দশ হাজার দিচ্ছি? আমার স্ত্রীকে। আগামীকাল আমার স্ত্রীর বার্থডে। ও পৃথিবীর সেরা স্ত্রী। দুনিয়ার সেরা মা।
মা, বাবা। আশা করি তোমরা খুশি। আমি জানি এটা তোমাদের কারো কাছে যাওয়া মানে দুইজনের কাজে লাগা। কোথাও ভ্যাকেশনে যাও, নিজেদের মতো এনজয় করো। মজা করো।
হ্যাপি বার্থডে মা। লাভ ইউ। তোমার প্রতি থ্যাংকফুল।
আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি কারণ সে বাচ্চাদের জন্য অনেক হেল্প করেছে।
আমি এই টাকাগুলো দিয়ে আসছি। টেক কেয়ার বয়েজ।
শুধু একে অপরের সাথে এত সময় আইসোলেটেড থাকায় এই চারজন মিলেই একটা ফ্যামিলি হয়ে গেছে।
একটা সাইন বানাচ্ছি। মাদার্স ডের জন্য। নাইস। গুড জব। থ্যাংক ইউ। এটা তোমার স্ত্রী, বোন, আর মায়ের জন্য? হ্যাঁ। আর এটা স্প্যানিশদের জন্য। এটা শেষ করবো। লেটস গো।
বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছায়, রেহান দায়িত্ব নিয়ে পুরো গ্রুপের জন্য রান্না শুরু করলো।
চিকেন রান্না করার সময় হয়েছে, হুয়ান। এলডিন! তুমি না দেখলে আমি রান্না করতে চাই না। এই ছেলেটা খুব ঘুমকাতুরে।
আর যখন তার ভাই বেশি করে ঘুমাচ্ছিল না।
এলডিন্স ব্যাকইয়ার্ড গ্রোসারি স্টোর কাটস। হুয়ান এখন চেয়ারে বসে আছে। দেখতেই পাচ্ছ আমি আমারটাও কেটেছি। আমি এখন নাপিতের দায়িত্ব নিয়েছি। তোমায় বিশ্বাস করি। হয়তো তুমি ভালো কাজই করবে বন্ধু।
আর বেশিরভাগ সময়ই গ্রুপের বাকিরা বেশ মোটিভেটেড ছিল।
ভাই, আমি জানি না তোমরা এখন কীভাবে হাঁটছো। তুমি এই মেশিনগুলোর একটাও ছুঁয়ে দেখোনি। এখন হাঁটলে বমি হয়ে যাবে।
বয়েজ! হেই! বয়েজ, বয়েজ! বয়েজ, মনে হয় ২০তম দিনের চ্যালেঞ্জটা তোমাদের ভালো লাগবে। তোমাদের সবার কাছেই ফিটবিট এয়ার আছে, তাই না?
আগামী দশ দিনে, তোমরা যত ক্যালোরি বার্ন করবে… সেগুলো এই গ্রোসারি স্টোর থেকে সরিয়ে অভাবী মানুষদের দিয়ে দেওয়া হবে। আগামী দশ দিনে, তোমরা যদি এক লক্ষ ক্যালোরি বার্ন করতে পারো, তাহলে ৩০তম দিনে… আমরা এক লক্ষ ক্যালোরি নেবো, এখানে নিয়ে রান্না করবো।
আমরা এক লক্ষ ক্যালোরি নেবো, এখানে নিয়ে রান্না করবো আর তারপর অভাবী মানুষদের দিয়ে আসবো। লেটস গো। শুরু করি। এটা অসাম। আর দশ দিনের কাউন্টার এখনই শুরু হচ্ছে।
জন, চলো কাজে নামি। হিয়ার উই গো। লেটস গো। শুরু করো। ট্রেইনার যার সাথে ওয়ার্কআউট করছো। তুমি দেখবে ওরা যেন বেশি প্রেসার না নেয়। ক্যালোরি বার্নের জন্য ওদের বড় ইনসেনটিভ দেওয়া হয়েছে। তোমাদের এগুলো সেফলি করতে হবে। আর সে যদি বলে তোমরা আর ওয়ার্কআউট করতে পারবে না, ব্রেক নিতে হবে, তাহলে তার কথা শুনতে হবে, ওকে?
এই মুহূর্তে তোমরা স্ক্রিনের টপ রাইট কর্নারে দেখতে পাচ্ছো ওরা কতটা ক্যালোরি বার্ন করেছে। ওদের কাছে ৩০তম দিন পর্যন্ত সময় আছে সেফলি যতটা সম্ভব ক্যালোরি বার্ন করার জন্য। আর এরপর ঠিক তত ক্যালোরি পরিমাণ খাবারই আমরা অভাবী মানুষদের দেওয়ার জন্য তৈরি করবো।
পরদিন সকাল ৬টায় সবাই উঠে অনেকক্ষণ ওয়ার্কআউট করছিল। উঠে পড়ো, উঠে পড়ো, উঠে পড়ো। এলডিন ছাড়া। গুড মর্নিং, স্লিপিং কিউটি। আজ লেট। অনেক লেট হয়ে গেছে বন্ধু।
সকাল সাড়ে ৯টা, ১০টার দিকে উঠেছিলাম আর সত্যি বলছি, এরপর একবারও বসিনি। এখনো বসে আছো, ব্রো। কাম অন। কিছু ক্যালোরি বার্ন করো ভাই! আমরা তোমার কয়েক ঘণ্টা আগে উঠেছি আর অলরেডি কিছু ক্যালোরি বার্ন করে ফেলেছি। তুমি শুধু তাল মেলাচ্ছ।
যদিও এলডিন ওয়ার্কআউটে চেষ্টা করেছিল। আমি পারবো না। না, পারবে, কাম অন, কেন? এটা জাস্ট শুরু। লেটস গো। কাম অন। পারবো না বলে কিছু নেই, জানি তুমি পারবে। পারবো না ব্রো। এলডিন একটা রেস্ট ব্রেক নিচ্ছে।
আমি ক্লান্ত। এটা মজার কিছু না। এখন আমি প্রায় হার মেনে নিয়েছি, কারণ এই ছেলেরা সবাই আমার চেয়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন করছে। কিন্তু ভাই, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।
জন, আরও ক্যালোরি কীভাবে বার্ন করবো? কীভাবে আরও ক্যালোরি বার্ন করবে? ওরা সবাই প্রতিদিন তোমার চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি সময় দিচ্ছে। এটাই ব্যাপার, এটাই। হ্যাঁ। হ্যাঁ, সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।
দেখো তুমি শুয়ে আছো। দেখো ও আবার শুয়ে পড়েছে, ব্রো। আরে না! আমার ভাই প্রায় পাঁচ হাজার ক্যালোরি পিছিয়ে আর এখনো শুয়ে থাকতে পারছে। শাট আপ ব্রো। এটা ক্রেজি।
যেখানে এলডিন ক্যালোরি বার্ন করতে হিমশিম খাচ্ছিল। আমি ওঠার পর থেকে ও এখানেই আছে। বাকিরা দিনে চার হাজারেরও বেশি ক্যালোরি বার্ন করছিল। আর আশ্চর্যভাবে, গ্রুপের সবচেয়ে বয়স্ক, হুয়ান, সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল।
হুয়ান, তুমি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জাম্প করছো ব্রো। একটু বসছো না কেন? একটু ব্রেক নাও। না, এখন না।
আর চ্যালেঞ্জে এলডিন পিছিয়ে পড়লেও, সে তার লক্ষ্যের প্রতি ফোকাসড ছিল। দশ লক্ষ ডলার এখনো দশ লক্ষ ডলার প্রাইজই আছে। আমরা কিছুই ফেলে দিইনি। আমরা কোনো খাবার নষ্ট হতে দিচ্ছি না।
বয়েজ, বয়েজ, বয়েজ, তোমাদের মিস করছিলাম। কোনো খাবার নষ্ট হয়েছে? না। জিরো। না। সবকিছু ভালোই চলছে। কিছু না। এখনো দশ লক্ষ ডলারে আছি। ধন্যবাদ। কোনো খাবার এখনো নষ্ট হয়নি। কোনো খাবার নষ্ট হয়নি।
ফুড সেফটি এক্সপার্ট তো আমাকে এমনটা বলেনি। তুমি মজা করছো। সাথে এসো, ছেলেরা। ওহ, না… ওহ মাই গড। ও হলো কুইন, আমাদের ফুড সেফটি স্পেশালিস্ট। একটু বুঝিয়ে বলবে?
এখানে কিছু সবজি আছে, যেগুলো ফ্রিজে অনেক দিন ধরে ছিল, এগুলো এখন খাওয়ার জন্য সেফ না। তো এগুলো আর খাওয়া যাবে না? তো এগুলো আর খাওয়া যাবে না? ওগুলো ঠিক আছে। এটা ভালোই আছে। আনফরচুনেটলি, এগুলো আর খেতে পারবে না।
এই জন্যেই আমি ওকে টাকা দিই। কেউ অসুস্থ হোক সেটা চাই না। মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে নষ্ট হচ্ছে। পাতা বাদামি হয়ে গেছে। ওটা দেখতে পারফেক্ট লাগছে। জানি না ভাই, ওটা দেখতে ভালোই লাগছে। পারফেক্ট? ভাই, আমি এটা কখনো খাবো না।
যে খাবারগুলো নষ্ট হয়েছে, আমরা তার প্রতিটা ক্যালোরি গুনলাম, এটা দেখতে যে ওরা কত টাকা হারালো। এটা ভালো না। একদমই ভালো না।
এই কার্টের ভেতর ৬৬১৪ ক্যালোরি আছে। যার মানে প্রাইজ পুল থেকে আমার ৬৬১৪ ডলার লাগবে। ধুর। হেই! ওটা কী? প্রাইজ পুল এখন আপডেট হয়ে গেছে। এটা মজার বিষয় না। ধুর।
ভেবেছি তুমি এক্সপায়ারির কাজ করছ। কী হলো? ওর ওপর দোষ চাপিয়ো না। আমরা টিম। কাউকে দোষ দিই না। মোরাল এখন ডাউন। এত কষ্ট করে টাকা বাঁচানোর পর যখন সেটা হারাতে হয়, তখন খুব খারাপ লাগে।
আমি জানি সময়টা ভালো না, কিন্তু মনে হয় এখন আমি যা দেখাবো তাতে তোমাদের মন ভালো হয়ে যাবে। ওই ছয় হাজার? কী হতে পারে? হয়তো পরিবার? বা আমাদের সাহায্য করবে কেউ। বলা তো যায় না। হয়তো।
আমি ওদের জন্য সাহায্য নিয়ে এসেছি। অ্যালিসন, যে আমাদের অন্য একটা ভিডিওতে ছিল, যেখানে তাকে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর একজন অপরিচিতের সাথে চেইনে বাঁধা থাকতে হবে। আর এ পাঁচ দিন সেই ব্যক্তিটি হুয়ান। আমি খেতে পারি। আমি তোমাদের সাহায্য করব!
আমার প্রথম দিন শেষ। দেখো এটা কী দারুণ। এখানে পূর্ণবয়স্কের মতো খাচ্ছি। অ্যালিসনের কাছে কৃতজ্ঞ। ও ঠিক আমাদের মতোই খাচ্ছে। সত্যি বলতে, ছয় হাজার ডলার হারানোর জন্য আমি এখনও আপসেট। আর আমরা জানি যে আমরা এটা আর হতে দেব না।
আজ ৩০তম দিন! জিমি! জানতে চাও কত ক্যালোরি শেষ করেছ? বলো। আমাদের জানাও। খুব জানতে চাই, বলো। গত দশ দিনে ২,০১,৭৬৮ ক্যালোরি। চলো, চলো! চলো, চলো! আর অ্যালিসনকে ধরে… আর এখন যেহেতু আমরা টোটালটা জানি… চলো সোজা রান্নাঘরে।
৩০তম দিন। রান্না শুরু করা যাক! ওহোহো, চলো! এখান থেকে বের হওয়ার আরও, আরও, আরও কাছে চলে আসছি। এটা শুধু আমাদের জয় না, এটা পুরো কমিউনিটির জয়। এই টেবিলে ২,০১,৭০০ ক্যালোরি আছে। চলো কিছু অসহায় মানুষকে সাহায্য করি। চলো!
আমরা রান্নার জন্য রেডি! আমরা প্যান ফ্রাই করছি, স্টির ফ্রাই করছি, বয়েল করছি, আবার প্যান ফ্রাই করছি। এয়ার ফ্রাই, এয়ার ফ্রাই, এয়ার ফ্রাই, এয়ার ফ্রাই, এয়ার ফ্রাই, টোস্টিং, টোস্টিং। পাগলের মতো রান্না করছি।
আমি আর আমার ভাই এলডিন, আমরা ইউরোপ থেকে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এখানে এসেছি। সেই সময় খাবার ছিল না। আমাদের কাছে খুব একটা টাকাও ছিল না। কিন্তু এখন সেই একই কমিউনিটিকে ফিরিয়ে দিতে পারছি যারা আমাদের এত দিয়েছে। এটা খুব ভালো অভিজ্ঞতা, আমরা এখানে যেটা করছি। আমাদের শুধু আরও বেশি বেশি মানুষকে খাইয়ে যেতে হবে।
আর এটা হলো ২ লক্ষ ক্যালোরির খাবার। চলো! চলো এগুলো ডেলিভারি করি! ওকে, এই নিন। এই হলো ড্রিঙ্কস। হেই, যত খুশি ফিস্টেবলস আর মিট জার্কি নাও!
এই যে, ছেলেরা। তোমরা শুনতে পাচ্ছ? হ্যাঁ স্যার। তোমাদের সব খাবার একটা ভালো কাজে লাগছে। চলো! ইয়ে! দরজার বাইরে লম্বা লাইন পড়ে গেছে। একদম, হ্যাঁ। ইশ, তোমরা যদি এখানে থাকতে। দারুণ কাজ করেছ। ঠিক আছে, দেখা হবে। সাবধানে থেকো ভাই। ধন্যবাদ!
তিনশোর বেশি মানুষকে খাওয়ানো হয়েছে। ২ লক্ষ ক্যালোরি ডোনেট করা হয়েছে। ভাই, আমরা এটা পেরেছি। ইয়ে!
কিন্তু সেলিব্রেশনটা একটু দুঃখেরও ছিল, কারণ এখন অ্যালিসনকে নতুন এক অপরিচিতের সাথে বাঁধার আর গ্রোসারি স্টোর থেকে বের করার সময় হয়ে গেছে। শেষ কোনো কথা, জেন্টলম্যান? বাই! বাই অ্যালিসন। লাভ ইউ হুয়ান!
ধ্যাত। এখানে হঠাৎ সব শান্ত হয়ে গেল। এটা খুব কষ্টের। অ্যালিসন, তোমাকে মিস করব। এখন আমরা আবার সেই বোরিং রুটিনে ফিরে এসেছি। আমরা এখনও এখানেই আছি। এই গ্রোসারি স্টোরের সবকিছু খেতে যতদিন সময় লাগে আমরা এখানেই থাকব।
যতদিন সময় লাগে আমরা এখানেই থাকব।
৩২তম দিন। ৩২তম দিন।
বাবা, তুমি কি প্লিজ ওই লাল দাগটা পার হবে? না বাবু, পারব না। কেন?
আমার ছেলে বলল, বাবা, তুমি কি লাল দাগটা পার হতে পারবে? আর আমাকে সেখানে বসে বলতে হলো, বাবু, আমি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরব। আর তারপর যখন আমি এই আইলগুলোর মধ্যে দিয়ে হাঁটি, তখন বারবার মনে পড়ে যে আমি জানি এখনই বেরোতে পারব না, কিন্তু আমার তর সইছে না।
রান্নার সময় হয়ে গেছে। আর রেহান ঠিক সেটাই করল।
একটার পর একটা মিল। পর পর। পর পর। ওদের দেখাতে হবে যে আমি হার মানি না।
আমরা দিনে চারবার খাবার খেয়েছি, চারটে স্মুদি। আমার প্লেটের সব শেষ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পেট পুরো ভর্তি।
ইয়ো, এলডিন। ইয়ো। কী করছ ভাই? পেট ভরে গেছে। আমাদের পেট ভরে গেছে। রেহান বাড়ি যাওয়ার জন্য রেডি।
রেহান গত কয়েকদিন ধরে সবার মাথায় এই আইডিয়াটা ঢোকাচ্ছে। শুধু খেতে থাকো। খাও খাও, খাও। ব্যাস।
প্রচুর খাবার রান্না হচ্ছে। আর আমাদের পেট ভীষণ ভর্তি। এত খাবার খাচ্ছি। পেটে ফুড বেবি আছে। জিমি, যেকোনো দিন ডেলিভারি হবে।
আর প্রোগ্রেসের কথা বলতে গেলে, রেহানের সাথে ওর টিমের মত মিলছিল না।
দিনে ৩৭,০০০ ক্যালোরি শেষ করেছি। আমরা একটা ড্রিঙ্ক খেলে, ৪০ হাজারে পৌঁছাতাম। ফ্রিজগুলো ক্লিয়ার লাগছে। ওটা পুরো ভর্তি। ফ্রিজারগুলো সব সাফ মনে হচ্ছে। ওটা পুরো ভর্তি। দ্রুত আমরা এখান থেকে বেরোব। আরও অনেক দিন থাকব।
ওর এই অবসেশনের জন্য ওরা শেষে নিজেদের ক্ষমতার বাইরে খাবার নিয়ে ফেলল।
তোমাকে বলি, এতগুলো আলু খাচ্ছি না। এলডি, না খাওয়া নিয়ে রোজ কেঁদো না। আমার কাছে এয়ার ফ্রায়ারে আরও আছে। ভাই এখানে দশ হাজার আলু রান্না করছে আর খেতে পারছে না।
বসো আর শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাও। নিজেকে সময় দাও আর এসে খাওয়া শুরু করো। কিছু যায় আসে না, ওটা তোমার এলডিন। তুমি কী করবে আমি কেয়ার করি না। ওগুলো শেষ হলেই হলো। প্রাইজ পুল থেকে টাকা যাবে।
৩৬তম দিন।
তুমি যদি এটা নিয়ে কাঁদো আর না খাও এলডিন, তাহলে রেখে দাও। বাচ্চামি বন্ধ করো। এটা ফ্রিজে রাখতে হবে। ফ্রিজে রাখলে কেউ খাবে না। ওটা ওখানে রাখো। আমি ওটা খাব। বাচ্চামোটা বন্ধ করো। হাহা, হিহি।
ক্র্যানবেরি। ক্র্যানবেরি।
সত্যিটা হলো এখনও লক্ষ লক্ষ ক্যালোরি খাওয়া বাকি ছিল। ওরা এত তাড়াতাড়ি বেরোতে পারবে না, আর রেহান তার মনকে শান্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
যখন তোমার কাছে পুরো একটা গ্রোসারি স্টোর আছে, তখন যা ইচ্ছে করতে পারো।
আমার একটা আইডিয়া আছে। স্টোরে আমাদের কাছে যে বীজগুলো আছে সেগুলো দিয়ে একটা বার্ড ফিডার বানাই না কেন? প্রতিদিন সকালে আমি ডকের কাছে যাই আর সবসময় পাখিদের ডাক শুনি। কোনো আইডিয়া নেই এটা কাজ করবে নাকি।
৩৭তম দিন।
যদি এটা কাজ করে, তবে আমরা সব পাখিদের খাওয়াতে পারব। হয়তো পাগলের মনে হচ্ছে কিন্তু মনে হয় এটা ভালো কাজ করবে। এলডিন হয়তো বলবে, তুমি এগুলো কী করছ, ভাই?
আজ ঘুম থেকে উঠে পাখিদের খাওয়ানোর কথা ভাবলে তুমি? না, আমি রোজ সকালে ওখানে বসি। আমার পাখিদের ডাক শুনতে খুব ভালো লাগে। এটা অনেকটা স্পা ডে-এর মতো। তুমি এখনও ব্যাকগ্রাউন্ডে ওদের ডাক শুনতে পাবে। আশা করি এটা কাজে লাগবে।
৩৭তম দিন।
আর সে তার দিনের বেশিরভাগ সময়টাই শুধু অপেক্ষা করে কাটাল। শুধু অপেক্ষা। আর অপেক্ষা। যতক্ষণ না শেষে…
কোনো পাখি নেই, কোনো পাখি নেই, কিচ্ছু নেই। না… কোনো পাখি নেই? না। তুমি চুপ করো।
৩৮তম দিন।
রেহান ভালো মানুষ। আর আজ একটা ছোট্ট সারপ্রাইজ বানাব। আমি এটা ওকে দেব।
এটা কী?
রেহান, ও খুব ভালো একটা ছেলে। একদিন আমরা ক্যাশিয়ারের জায়গায় ছিলাম আর ও আমাকে একটা প্রশ্ন করে। আর ও আমায় জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি কি ইংলিশ পড়তে পারো?
তুমি ওটা পড়তে পারবে? না। লিখতে পারো? না। দাঁড়াও। এই নাও পেন। আমি বানান পারব না। চেষ্টা করো।
আর ও আমাকে ছোট ছোট শব্দের পরীক্ষা নেওয়া শুরু করল। এগুলো হলো সেই শব্দগুলো যেগুলো নিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছিল।
আমি জানি, বানান পারব না। তুমি ঠিক আছ। না না। তুমি ঠিক আছ। পারি না! ভুল হলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
আমি ছোট ছোট বাক্য তৈরি করতে পারি। এটা পারফেক্ট না, তবে আগের চেয়ে আমি ভালো করছি।
হ্যাঁ। দারুণ কাজ। তুমি খুব ভালো শেখাও! দারুণ ভাই। তুমি পড়তে জানো। আমাকে হেল্প করার জন্য থ্যাঙ্ক ইউ রেহান। এখন আমি লিখতে পারি।
যে মানুষটা একসময় বাক্য লিখতে পারত না, সেই এখন একটা বড় থ্যাংক ইউ লেটার লিখে ফেলল।
এই চিঠিটা পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এটা আমি সারাজীবন নিজের কাছে রেখে দেব। অনেক অনেক ধন্যবাদ, রেহান।
গত কয়েকদিন ধরে, রেহান শুধু নিজের আর নিজের পরিবারের ওপরই ফোকাস করছিল। কিন্তু হুয়ানের সাধারণ একটা চিঠি ওকে মনে করিয়ে দিল যে, অন্য কাউকে, কখনও কখনও কোনো অচেনা মানুষকে সাহায্য করাটাও সবচেয়ে বড় পুরস্কার হতে পারে। এমনকি যদি আমরা সেটা সাথে সাথে দেখতে নাও পাই।
ঠিক এই ভাবনা থেকে আমি অন্যরকম কিছু করতে চেয়েছি শুধু কন্টেস্ট্যান্টদের জন্য না, বরং যারা দেখছেন সবার জন্যও।
ছেলেরা! জিমি! ইয়েহ, জিমি!
প্রথম গ্রোসারি স্টোর ভিডিওর পর, তোমরা অনেকেই জিজ্ঞেস করেছ, আমি কীভাবে ওদের আরও কিছু এক্সট্রা টাকা জেতায় সাহায্য করতে পারি? আর আমরা ভাবলাম যদি ওদের ছবি দিয়ে টি-শার্ট বানাই, যেটা তোমরা যতবার কিনবে আমরা লাভটা ওদের সাথে ভাগ করব।
ওহ এটা দারুণ ব্যাপার। যদি শার্টগুলো দেখতে চাও, ছেলেরা, ভেতরে এসো! হেই! দাঁড়াও! দাঁড়াও!
এটা জ্যাকসনের শার্ট, রেহানের শার্ট, এলডিনের শার্ট, আর হুয়ানের শার্ট। তোমরা মাজেদকে পরতে দেখেছ টিম গ্রিন!
মিস্টার বিস্টের শার্টে আমার ছবি আছে। এই শার্টটা কিনে নাও। জিমি এটা পরে আছে।
হুয়ান, ওরা যতবার এই শার্টটা কিনবে, তুমি তার অর্ধেক লাভ পাবে। আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি।
নতুন শার্টগুলোর সেলিব্রেট করতে আমার কাছে একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ আছে।
হেই! ওয়াও! ওয়াও। চলো! ওয়াও! ওহ মাই গড। কার কার শার্ট চাই? আমার! আহা! চলো!
তোমাদের আসার জন্য আর এই টি-শার্টটাকে সাপোর্ট করার জন্য ধন্যবাদ।
প্রতিদিন ঠিক এত মানুষই শুধু এদের দেখতে এই গ্রোসারি স্টোরে আসে। আমাদের ভিডিওর ইতিহাসে এরা সেরা কয়েকজন কন্টেস্ট্যান্ট। তুমি যদি এদের সাপোর্ট করতে চাও, তবে সোজা চলে যাও মিস্টার বিস্ট স্টোরে। ওদের মুখের ছবি দেওয়া যত শার্ট কিনবে, লাভের অর্ধেক টাকা ওদের কাছে যাবে। এখনই কিনো। এখনই গিয়ে কেনো! উউ!
ওটা দারুণ ছিল। ক্লিপ করো। ঠিক আছে। এটা তোমার জন্য। ওটা দিয়ে দাও। ওটা দিয়ে দাও। হ্যাঁ চলতে থাকো। ঠিক আছো। একদম ক্লিয়ার। কী অবস্থা! চিন্তা কোরো না। ওহ! ওহ! কিছু মনে কোরো না। হ্যাঁ এগিয়ে যাও, ঠিক আছো।
আজ চল্লিশতম দিন ছেলেরা! চলো! সাবধান, ও আসছে!
আজ ৪০তম দিন আর আমি তোমাদের জন্য ঘাস এনেছি। তোমাদের কী মনে হয়, কেন? কারণ একশ দিন হয়ে গেল আমরা ঘাস দেখিনি। যেন মনে হয় আমরা আবার বাইরে এসেছি? না। তোমরা কেউই ধারেকাছেও যাওনি। এক। দুই। তিন। কাম অন।
হেই হেই হেই হেই হেই হেই হেই! হেই!
ইয়াহাহা! ইয়াহাহাহা!
আমাদের কাছে যখন একটা মিনি ফুটবল ফিল্ড আছে, এখন গেইমটা এক্সপ্লেইন করছি। টেন ইয়ার্ড লাইন থেকে শুরু করে একজন কন্টেস্ট্যান্টকে ফিল্ডে পাঠানো হবে আর একটা ফুটবল ছোঁড়া হবে। আর যদি তারা নিজেদের শপিং কার্ট দিয়ে ওটা লুফে নিতে পারে, তাহলে আগামী ২৪ ঘণ্টার
আর যদি তারা নিজেদের শপিং কার্ট দিয়ে ওটা লুফে নিতে পারে, তাহলে আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য, ওদের দলে একজন ফুটবল প্লেয়ার যোগ হবে। আর প্রতি দশ গজের জন্য আরও একজন করে ফুটবল প্লেয়ার যোগ হবে। যদি তোমরা এই গেমটা ঠিকঠাক খেলো, তাহলে তোমরা দশজন ফুটবল প্লেয়ার নিতে পারবে, যারা আগামী ২৪ ঘণ্টা এই স্টোরের খাবার খেতে তোমাদের সাহায্য করবে।
দিনে ঠিক কত ক্যালোরি খেতে পারবে? অনেক। ২০ হাজার। ওই বড়সড় ছেলেটা বলল যে ও কুড়ি হাজার ক্যালোরি খেতে পারবে, তোমরা যদি এমন ১০ জন পাও, ওরা এতটাই খাবার খেতে পারবে যে এক সপ্তাহ আগেই বাড়ি চলে যেতে পারবে।
কিন্তু প্রথমে কে যাবে? হুয়ান, শুরুটা ভালো করো। যাও হুয়ান! ইয়েহ!
সত্যি বলতে, বড় হওয়ার সময় আমি কখনও ফুটবল খেলিনি। আমি খুব প্রেশার ফিল করছি।
রেডি হুয়ান? জিমি। জিমি। জিমি। চলো!
সহজেই একজন ফুটবল প্লেয়ার নিয়ে নিল। কিন্তু দেখি ওরা আরও দুজন পায় কিনা।
জিমি! ঠিক এখানে। লেটস গো জিমি। লেটস গো জিমি। ওহ, বয়। লেটস গো জিমি!
ওহ, লেটস গো! লেটস গো! লেটস গো!
এলডিন, এটা ধরতে পারলে তুমি ছ’জন ফুটবল প্লেয়ার পেয়ে যাবে। আর এবার, ইসিইউ কোয়ার্টারব্যাক মিচ বল ছুঁড়বে।
মিচ। মিচ। মিচ। মিচ। মিচ। মিচ।
ওহ! না, এলডিন! ধ্যাত।
বাকি শুধু জ্যাকসন। ইয়েহ! তোমাদের তিনজন ফুটবল প্লেয়ার আছে। এটা ধরলে সাতজন হয়ে যাবে। তুমি এটা ধরলে, তোমরা এক সপ্তাহ আগেই এখান থেকে বেরোতে পারবে।
এটা বেশ দূরে মিচ। ঠিক এখানে। ঠিক এখানে। ঠিক আছে, শুরু করা যাক। হিয়ার উই গো!
ইয়ে!
এই ইসিইউ কোয়ার্টারব্যাক দারুণ সময়ে কাজে এল। আর জেতার চান্স বাড়াতে, ওরা টিমের সবচেয়ে ক্ষিদে পাওয়া বড় প্লেয়ারদের বেছে নিল। আর আগামী ২৪ ঘণ্টা ধরে, ওরা ওদের সম্ভাব্য সবরকম ক্যালোরি খাওয়ালো।
কিছু ফিস্টেবলস খুঁজতে যাচ্ছি। ভাই!
আর ওদের ২৪ ঘণ্টার শুরুটা দারুণ হলেও, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাজার হাজার ক্যালোরি খাওয়ার ফলে ওদের সবার খুব ঘুম পাচ্ছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা মানে ২৪ ঘণ্টাই, তুমি খাও, ঘুমাও বা কোনোটিই না করো।
তো ওদের সময় শেষ হলে প্লেয়ারদের ওখান থেকে বের করার জন্য কোচকে পাঠালাম।
তোমরা কোথায় ছিলে সবাই? চলো। এখানে একটু তাড়া আছে। ঠিক আছে ছেলেরা, বেরোনোর সময় হয়েছে। চলো! ইয়ে ইয়ে!
থেকে যাও, থেকে যাও, থেকে যাও। বাই, গাইজ। কাম অন। আর একটা রাত, কোচ। এখন আমরা কী করব? আমি জানি না।
ফুটবল প্লেয়াররা চলে যাওয়ার জন্য ওরা যতটা হতাশ হয়েছিল, এরপর আমাকে যা করতে হতো সেটা মানা ছিল আরও কঠিন।
তুমি ওকে আবার নিয়ে যাচ্ছ? কোনোভাবেই না। হুয়ানকে নিয়ে যাচ্ছ। না! না হুয়ান!
ঠিক তাই। আমাকে হুয়ানকে স্টোরের পিছন দিকে নিয়ে যেতে হলো, ওই অপরিচিতের সাথে বেঁধে রাখার ভিডিও কমপ্লিট করতে।
হুয়ান কয়েকদিন থাকবে না। ব্যাপারটা খুব খারাপ।
তো আগামী কয়েকদিন হুয়ানের টিম ওকে কমপিট করতে দেখবে। আর আমি শেষটা নষ্ট করব না।
ওহ! না!
কিন্তু যখন ওটা শেষ হলো। বয়েজ, আমি হুয়ানকে ফিরিয়ে দিচ্ছি। ওয়েলকাম ব্যাক! তোমায় মিস করেছি!
হুয়ানকে ফিরে পাওয়াটা আমাদের জন্য একটা দারুণ পজিটিভ এনার্জি ছিল।
যাও হুয়ান! যাও! গন্ডগোল লাগছে। ওহ। ওহ!
যা তাদের আবার গ্রোসারি স্টোরের খাবার শেষ করার কাজে ফিরতে সাহায্য করেছিল।
মনে হচ্ছে স্টোরটা পুরো খালি হয়ে গেছে। আমরা আবার ট্র্যাকে ফিরে এসেছি। হুয়ান সত্যিই অসাধারণ। এই লোকটাকে তোমার ভালো লাগতেই হবে।
৫০তম দিনে, আমি ওদের রিইউনিয়নটা আরও স্পেশাল করতে চেয়েছিলাম। ফ্যামিলিদের নিয়ে এসো! ইয়েয়!
কয়েক মাসের দূরত্বের পর ওদের ফ্যামিলি পরের ২৪ ঘণ্টা ওদের সাথে স্টোরে কাটাবে।
কার্স্টি আমার জন্য একটা ছোট্ট পেইন্টিং বানাচ্ছে। হ্যালো। ও আমাকে ভালোবাসে। আমি মিস্টার বিস্টের ভিডিওতে আছি। আমরা মিস্টার বিস্টের ভিডিওতে আছি!
তার মানে ওরা ফ্যামিলি ভিজিটের চেয়েও বেশি কিছু করছিল।
প্রতি ঘণ্টা খাওয়ার সময়! প্রতি ঘণ্টায়। প্রতি ঘণ্টায় একটা করে স্মুদি। ভাগ্যিস, আমার স্ত্রী এখানে আছে। আমি খেতে আর হেল্প করতে এসেছি ব্রো। এটা আমার স্ত্রীর রান্না, তাই সম্ভবত এটা আমাদের গত চার মাসের সেরা খাবার হতে চলেছে।
ওদের ফ্যামিলিকে পেটপুরে খাওয়া থেকে কেউ আটকাচ্ছিল না, আর সেখানে খাওয়ার মতো অনেক খাবার ছিল।
হ্যাঁ, ও চায় ওর বর বাড়ি ফিরুক। হ্যাঁ!
৫০তম দিন। অন্য যে কোনো গ্রুপের থেকে, ওদের ফ্যামিলি ক্যালোরি কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাহায্য করেছে। এটা প্রমাণ করে, যারা তোমাকে সত্যি ভালোবাসে তারা সবসময় তোমার পাশে থাকবে।
বাই বাচ্চারা। ৫০তম দিন। ৫০তম দিন।
আর এভাবেই, আবার সব শান্ত হয়ে গেল।
অন্তত আমরা একে অপরের সাথে আছি, ব্রো। নাহ, আমি জানি সেটা।
২৪টা ঘণ্টা খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল।
ফ্যামিলিকে দেখে ওদের মধ্যে নতুন জেদ চেপেছে, এখন ওরা এই স্টোর খালি করে বাড়ি ফেরার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
ফ্যামিলি ডের পর থেকে, ফ্যামিলি নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছি। আমি এখনও শুনতে পাচ্ছি, ড্যাডি, ড্যাডি। আমি এখনও ওদের গলা শুনতে পাচ্ছি। আর এটাই পৃথিবীর সেরা শব্দ।
একশ চল্লিশ দিন আগে, আমি এখানে এসেছিলাম। ফ্যামিলিকে গর্বিত না করা পর্যন্ত এখান থেকে যাবো না। দশ লক্ষ ডলারের প্রাইজ। এটা বাড়ি নিয়ে যাব।
তাড়াতাড়ি বেরোনোর জন্য, ওরা পাগলের মতো ওয়ার্কআউট করছিল।
আমি আর জ্যাক্স সবে ট্রেডমিল থেকে নামলাম। এখন এলডিন আর হুয়ান ট্রেডমিলে আছে। আমরা থামব না।
প্ল্যান খুব সোজা ছিল। বেশি খাওয়ার জন্য অনেক ক্যালোরি বার্ন করো।
পেট ভরে আছে, এটা পাগলামো।
স্টোর থেকে বেরোতে ছেলেরা খুব পরিশ্রম করছিল। কিন্তু একজন প্রতিযোগীর ক্ষেত্রে, মনে হয় পরিশ্রমটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল।
চলো হাঁটি। না, হাঁটতে পারব না। চলে এসো টুইন! না।
আমি একটু থেমেছি, বেশি হাঁটব না কারণ আমার গোড়ালিতে একটু চোট লেগেছে, কিন্তু ঠিক আছে। আমি যতটা পারি খাওয়ার চেষ্টা করবো কারণ আমাদের ফ্যামিলির কাছে যেতে হবে।
নতুন চোট পাওয়া সত্ত্বেও হুয়ান জেদ ধরেছিল যে ওর গোড়ালির জন্য সে নিজে বা অন্য কেউ পিছিয়ে পড়বে না।
হুয়ানের পা ফুলে গেছে আর ব্যথা করছে, তাই আমরা ওকে চাপ দিচ্ছি না। আমরা ওকে বরফ দিতে বলছি কিন্তু ও শুনছে না।
হুয়ান, তোমার বিছানায় যাওয়া দরকার, ব্রো। তোমার পায়ে রেস্ট দরকার। হুয়ান। না।
আর দুর্ভাগ্যবশত হুয়ানের জন্য, সেটা অবস্থা আরও খারাপ করে দিল।
আজ মজা করে একটা বেসলাইন টেস্ট নেব। দেখতে কে কোন পর্যায়ে আছি।
ওর পা আনারসের মতো লাগছে। না। এখন বেটার। এটা বেটার নয়। হ্যাঁ, আমাকে দেখতে দাও। এই যে।
৫৩তম দিন। এটা ফুলে গেছে, দৌড়াতে গিয়ে লেগেছে? হ্যাঁ। আজ তোমাকে ট্রেডমিলে উঠতে দেব না। আমি চাই না তুমি আহত হও।
আজকের সারপ্রাইজ কারণ আজকে আমার এটা হয়েছে, দেখতে পাচ্ছ? আমাকে দু-তিন দিন বেশি ওজন নিতে আর কিছু করতে বারণ করেছে, আর আমি শুনিনি।
সবাই হুয়ানকে রেস্ট নিতে বলার পরেও ও শান্ত হয়ে বসতে পারছিল না।
ঠিক আছে, হুয়ান এবার মুভ করছে। ওকে সুস্থ হতে হবে। হুয়ান! ঘোরাঘুরি করা বন্ধ করো! কিন্তু লোকটা থামেই না।
৫৪তম দিন। আচ্ছা ওর শুয়ে পড়া দরকার। জানি না ও ক্রাচগুলো পছন্দ করছে নাকি, তাই ভাবছি ওকে নিয়ে আসব।
তাই ভাবছি ওকে নিয়ে আসব, হয়তো গ্রসারি কার্টে করে।
যাও রান্নাঘরে। রান্নাঘরে? হ্যাঁ। রেড লাইট। গ্রিন লাইট। হুয়ান! হুয়ান!
৫৪তম দিন।
চলো টুইন! চলো! টুইনস।
এখানে যাদের সাথে দেখা হলো, তারা সারা জীবনের বন্ধু হয়ে গেছে। ক্লোজ হয়ে গেছি। হুয়ানের মধ্যে একজন আঙ্কেল পেয়েছি। আর রেহান ও এলডিনের মধ্যে দুটো ভাই পেয়েছি।
ছেলেরা হুয়ানকে চিয়ার আপ করতে এতই ব্যস্ত ছিল যে তারা বুঝতেই পারেনি তাদের একটা প্রিয় জিনিস কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ডকটা লক করা আছে। আমরা জানি না কেন। আমার একটু রোদ চাই। রোদ হলে ভালো হতো না? বাইরের একটু সময় খুব ভালো হতো।
বাইরের জগতের সাথে ওদের একমাত্র কানেকশন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ওদের খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই ভাবলাম এবার ওদের কারণটা বলা দরকার।
শুনলাম তুমি পায়ে চোট পেয়েছ। হ্যাঁ। খুব বেশি চোট লাগেনি, তবে আমি খেলছিলাম।
হুয়ানকে কষ্ট পেতে দেখে ভাবলাম ওদের জন্য কিছু ভালো করি।
মনে আছে দুদিন আগে তোমরা বলেছিলে যে তোমরা বাইরে গিয়ে ট্যান হতে চাও, সরাসরি রোদ পেতে চাও? অসম্ভব ব্যাপার। ডারিয়াস, এটা টানো! শান্ত হও। কোনোভাবেই না। না, না। রোদ!
তোমরা যদি এদিকে আসো, দেখবে যে রেড লাইনটা আসলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ওহ, একটা ব্ল্যাকস্টোন! ওয়াও। বসে পড়ো ছেলেরা। ওয়াও, এটা জাস্ট ক্রেজি! হে, চলো হ্যাংআউট করি।
সত্যি বলতে, জেন্টলম্যান, এটা নতুন রেড লাইন। তাই আমি যেমন ছুঁলাম, সেভাবে ছুঁলে তোমরা আউট। প্যাটিওটা তোমাদের কেমন লাগলো? এটা অসাধারণ। কুড়িতে কুড়ি, ব্রো।
আমি চাই তোমরা এই রিচার্জটা এনজয় করো। রিল্যাক্স করো, কারণ ষাট দিনের চেকিংয়ের সময় জিনিসগুলো একটু কঠিন হতে পারে।
কেন? কী হচ্ছে? জাস্ট রিল্যাক্স। রিল্যাক্স। চিন্তা কোরো না।
হয়তো ষাটতম দিনটা আমাদের করা সবচেয়ে কঠিন জিনিস হতে চলেছে। ব্রো, ও কথা বলছে।
হ্যাঁ, কিন্তু আপাতত শুধু মজা করো। এনজয় করতে দিচ্ছি। গিয়ে বসো। এতটা সিরিয়াস হয়ো না। তোমার পা আমাদের কেন দরকার হুয়ান? কী হচ্ছে?
আমি চার দিন প্রচুর রেস্ট নেব, তারপর দেখি কী হয়।
তাই পরের দিন ছেলেরা একসাথে মিলে অপারেশন হিল হুয়ান শুরু করল।
নো নো নো নো নো (আই)। নো (আই)? নো (আই), না। কারণ (মি) মানে মাই হবে। তোমরা কী করছ?
বেশি নড়াচড়া না করিয়ে ওকে এখানে বসিয়ে রাখার এটাই একটা উপায়। ছেলেরা যখন ইংলিশ প্র্যাকটিস করছে, আমি ওর জন্য একটা স্মুদি বানাই। চলো! ব্রেনকে খাবার দিই।
আর ছেলেরা হুয়ানের জন্য একটা সুইমিং পুলও সেট আপ করেছিল। ছেলেরা শুধু ভাইব করছে। ছোট্ট বিচ ডে। আমি আসছি বন্ধু। ওদের স্পেশাল ওয়াটার থেরাপির জন্য।
ওহ, আমার দারুণ লাগছে! আমার পা জলের মধ্যে আছে।
আশ্চর্যের ব্যাপার, এটা সত্যিই কাজ করতে শুরু করল।
সাবধানে হুয়ান, প্লিজ গড পড়ে যেও না। তোমার গোড়ালি। আর টেনশন দিও না।
ক্যানড বিনস। তেষট্টি হাজার ক্যানড বিনস। এটা খারাপ না।
হুয়ান একদম নর্মালভাবে হাঁটছিল।
আমি খুব খুশি। আমার পা এখন অনেকটা ভালো। যাই আসুক না কেন, আমি করার চেষ্টা করব। আমি থামতে চাই না।
আজ ৬০তম দিন। আর হুয়ান সুস্থ হয়ে যাওয়ায়, এবার একটা চ্যালেঞ্জের সময়।
জেন্টলম্যান, এই স্টোর থেকে বের হতে তোমরা কতটা মরিয়া হয়ে আছো? খুব মরিয়া! চোখের বাঁধন খোলো। গোল্ডেন ট্রেডমিলের সাথে তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেই। ওহ! এটা কঠিন।
এখন, ডিলটা হলো। তোমরা রেডি হলে, একটা চব্বিশ ঘণ্টার কাউন্টার শুরু হবে। এই স্টোরে এখন ২৪ লক্ষ ক্যালোরি আছে, আর তোমরা টাইমার শুরু করলে, নম্বরটা কমতেই থাকবে। আর ১৬০ কিলোমিটার পার করার পর নম্বরটা যেখানে থাকবে, আমি স্টোর থেকে ঠিক তত ক্যালোরি বের করে অভাবী মানুষদের দিয়ে দেব। চলো!
কিন্তু তোমরা যদি চব্বিশ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার দৌড়াতে না পারো, স্টোর থেকে কোনো ক্যালোরি বের করব না। কে শুরু করবে?
দাঁড়াও, আমার জুতো লাগবে। ভালো হলো তুমি বললে। ছেলেরা, জুতো আনো! ওহ, ম্যান! ওহ ইয়ে! আমরা জুতো পেয়ে গেছি!
এটি সাধারণ জুতো নয়। এগুলো কিজিক, পৃথিবীর সবচেয়ে আরামদায়ক জুতোগুলোর মধ্যে একটা। আমি সত্যিই প্রতিদিন কিজিক পরি। আমি জানতে চাই তোমাদের কেমন লাগছে। খুব হালকা। পরে দারুণ লাগছে!
কিজিকের সবচেয়ে ভালো দিক হলো পা খুব সহজেই ঢুকে যায়। কী মনে হয় এগুলো পরে ১৬০ কিলোমিটার করতে পারবে? ওহ, হ্যাঁ। জুতো বাঁধার ঝামেলা নেই। এখন কে জুতো বাঁধে?
Kizik.com/MrBeast এ গিয়ে আমার ফেভারিট স্টাইলগুলোর ওপর ১৫ পারসেন্ট ছাড় পেতে পারো।
আমি বলি এবার শুরু করা যাক। কুল লাইটিংয়ে ফিরে আসি। জেন্টলম্যান, কে শুরু করছো?
আমি করতে পারি। হুয়ান, তুমি কি চাও আমি যাই? ঠিক আছে হুয়ান, কুইক স্টার্ট প্রেস করো। আর আমরা শুরু করলাম।
ঠিক আছে। দেখতেই পাচ্ছ, ক্যালোরি এখন কমছে আর তোমাদের ১৬০ কিলোমিটারের পর এটা বাড়তে শুরু করবে। তোমরা যদি এখনই ১৬০ কিলোমিটার শেষ করো, তাহলে আমি স্টোর থেকে ২৪ লক্ষ ক্যালোরি বের করে নেব।
এখন, তুমি কত স্পিডে দৌড়াচ্ছ? ওহ, ও সাতে দৌড়াচ্ছে। যদি পুরোটা সময় সাত স্পিড মেইনটেইন করো, সেটা ক্রেজি হবে। মনে হয় না তুমি পারবে। ও ঠিক আছে। ও কমফোর্টেবল।
কিন্তু হুয়ানের মাসলে যদি টান লাগে বা কিছু হয়, তাহলে তোমাদের একজন প্রতিযোগী কমে যাবে। ব্রো, একজন করে করতে হবে। তোমার হলে জানাবে। লাফিয়ে উঠব আর শুরু করব। শিওর। ঠিক এভাবেই।
কেউ যাতে বেশি চাপ না নেয়, সেটা খেয়াল রাখতে ওদের ট্রেনার জনকে আনি।
কেমন লাগছে? ভালো। হ্যাঁ। তুমি কত কিলোমিটার যেতে পারবে? আমি আর আট কিলোমিটার যেতে পারব। আট। তোমার গোড়ালি ঠিক আছে? হ্যাঁ, হয়তো। পাঁচ কিলোমিটার।
তোমরা হিসেব করেছ? কীভাবে ভাগ করবে? না। আমাদের ওটা প্ল্যান করতে হবে।
হুয়ান প্রথম দেড় কিলোমিটারে একটা প্ল্যান তৈরি হয়ে গেছিল।
১ পারসেন্ট শেষ। আর শুধু নিরানব্বই বাকি। এলডিন, উঠে পড়ো। উঠে পড়ো। সাবধানে। ওহ হো!
প্রত্যেকে দেড় কিলোমিটার দৌড়াবে আর বাকিরা রেস্ট নেবে। একজনকে নামতে হবে। একজনকে উঠতে হবে। ইয়ে! চলো!
স্ট্যামিনা ধরে রাখার জন্য, ওরা কেবল প্রতি দেড় কিলোমিটারে রানার পাল্টাবে না, ওরা জল আর স্ন্যাকস নিয়ে রিফুয়েল স্টেশনও বানাবে, আর মাঝে প্রচুর রেস্ট নেবে।
ওরা একটা ক্রেজি স্পিডে দৌড়াচ্ছে। তোমার মনে হয় ওরা ধরে রাখতে পারবে? চল্লিশ কিলোমিটার পর্যন্ত এই স্পিড ধরে রাখা যেতে পারে। কিন্তু এটা একসাথে চারটে ম্যারাথন। ওরা একসময় আটকে যাবে। আমি বলব আশি কিলোমিটার। আমরা দেখব ওরা স্লো হতে শুরু করবে।
আর জন যেমন আন্দাজ করেছিল। অর্ধেক শেষ করেছি। ক্লান্তি আসতে শুরু করল আর স্পিড কমে গেল।
সাবধানে। এটা তোমার জীবনের কঠিনতম চ্যালেঞ্জ হুয়ান? ঠিক আছে। শুধু আমার হাঁটুটা। হ্যাঁ।
আমি জীবনে কখনো এত দৌড়াইনি। জীবনের প্রথম দেড় কিলোমিটার সত্যি বলতে কয়েকদিন আগেই দৌড়েছিলাম।
কিন্তু বেশি স্লো হওয়া যাবে না, কারণ এটা স্ট্যামিনার টেস্ট হলেও এটা সময়ের সাথেও একটা রেস। ওরা যত বেশি সময় নেবে, ক্যালোরি কাউন্টার তত দ্রুত কমবে আর ওদের শরীর তত বেশি ভাঙবে।
ওহ, এইমাত্র একটা ক্র্যাম্প হলো। ওহ আও!
খারাপ লাগছে আমি একটুও ক্লান্ত হইনি। তুমি ক্লান্ত নও? একদম না। শুধু হাঁটু ব্যথা করছে।
আর আমরা অফিসিয়ালি ১০ লক্ষ ক্যালোরির নিচে এসেছি। মোটেও ভালো না। যদি ওরা স্পিড ধরে রাখতে না পারে, কাউন্টার জিরো হয়ে যেতে পারে। আর ওদের এত কষ্ট করে দৌড়ানো সব বেকার হয়ে যাবে।
কোনো মাসাজ বা রানিং সাপোর্ট
ওদের ফিনিশ লাইন পার করাতে পারবে না। ওদের প্রত্যেককে ভিতর থেকে জোর আনতে হবে আর মনে করতে হবে ওরা এটা কেন করছে।
আমি বাবার জন্য গর্বিত। আমি জানি সে আমাদের জন্যই এটা করছে।
আমি বাবা-মাকে দেখতে চাই। আমি যদি আরেকটু দৌড়াই, তত তাড়াতাড়ি ওদের দেখতে পাব।
আমি বাড়িতে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কেসির কাছে যাওয়ার এক ধাপ কাছে।
ড্যাডি। দেখো! টারজান এগিয়ে গেলো।
আমি প্রমিস করছি। আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরছি।
৯৫.০৬ মাইল সম্পন্ন।
যেহেতু সবাই শেষ কিলোমিটারে আছো, তোমাদের জন্য মাসাজ থেরাপিস্ট নিয়ে এসেছি। চলো! চলো! চলো!
হ্যাঁ। ওদের মাসল রিল্যাক্স করো।
এলডিন, গেট রেডি। যাও! পাল্টাও। থ্যাঙ্ক গড। এবার শুয়ে পড়তে পারো। মাসাজ নাও। তোমার হয়েছে, চ্যাম্প।
মাইল সম্পন্ন ৯৮.৯৯।
মাইল সম্পন্ন ৯৯.০০।
চলো। ফাইনাল কিলোমিটার।
মাইল সম্পন্ন ৯৯.১৮।
মাইল সম্পন্ন ১০০.০০।
আমরা এর চেয়েও অ্যাথলেটিক একটা গ্রুপকে দিয়ে এটা ট্রাই করি আর তাদের নম্বর ছিল তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার। সবদিক থেকে, তোমরা সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছ। সব পরীক্ষা, সব কিছু! তোমরা ফাটিয়ে দিয়েছো!
একটুও সময় নষ্ট না করে ছেলেরা ছয় লক্ষ ক্যালোরি একসাথে করল যা শুধু অভাবীদের খাবারই জোগাবে না, বরং ওদের নিজেদের ঘাড় থেকেও একটু বোঝা কমাবে।
আর এটা হলো ছয় লক্ষ ক্যালোরির খাবার! চলো!
এটা খেতে সারাজীবন লাগতো। অন্তত দুমাস। ব্রো, এটা দারুণ। মানুষের পেট ভরছে, আর আমরাও স্টোর খালি করার কাছে এলাম।
অনেক ধন্যবাদ, মিস্টার বিস্ট! সত্যিই খুব খুশি। থ্যাঙ্ক ইউ!
পুরো ছয় লক্ষ ক্যালোরি স্টোর থেকে বাইরে। আমরা এই শপিং কার্ট ভর্তি টাকা জেতার আরও অনেক কাছে চলে আসছি।
যেহেতু ওরা এত খাবার অভাবীদের দিতে পেরেছে, আমি ভাবলাম ওদের খাওয়ানোর জন্য আরও দুটো মুখ বাড়িয়ে দিই।
এরা আমার বন্ধু, জিম আর মনিকা। ওরা এমন একটা ভিডিওতে প্রতিযোগিতা করছে যেখানে তারা এই ল্যাম্বরগিনি করে সারাবিশ্ব ঘুরবে, যেটা ওরা রেখে দেবে। এই ভিডিওটা এই বছরের শেষের দিকে আসবে।
গ্রোসারি স্টোরে ওয়েলকাম! তবে গাড়ি থেকে বের হয়ো না। তোমরা এটা ভেতরে নিয়ে যাচ্ছ।
হ্যাঁ। আমরা ভেতরে। হতেই পারে না। হে!
৬৪তম দিন।
ঠিক আছে, তোমরা গিয়ে খাও। আমাকে একটু ওটায় বসতে দাও।
জিম আর মনিকা অন্তত দশ হাজার ক্যালোরি না খাওয়া পর্যন্ত গ্রোসারি স্টোর থেকে বেরোতে পারবে না।
ওরা কি সাহায্য করতে পারবে? না। তোমাদের দুজনকেই দশ হাজার ক্যালোরি খেতে হবে। মনিকাকে দুঃখী মনে হচ্ছে।
দেখি ল্যাম্বোতে বসলে কেমন লাগে।
একটা স্মুদি বানাতে পারি, প্রায় পাঁচ হাজার ক্যালোরির। ওহ! এর ভেতর কী আছে? সবকিছু।
ওহ মাই গড! স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।
৬৪তম দিন।
ও কী করছে? ও কী করছে? কী করছে? ও আসলে কী করছে? ও কী করছে?
এলডিন যখন জয়রাইডে মেতে আছে, ছেলেরা জিম আর মনিকার জন্য দারুণ খাবার বানাল।
প্রথম গ্রোসারি স্টোর স্মুদি। কেমন লাগলো? এটা দারুণ। হ্যাঁ। আর আরও একটা।
জিম আর মনিকা গ্রোসারি স্টোরের রান্না খায়নি।
আর একটা। আর একটা। ওহ মাই গড, ব্রো, আমার পেট ফুল। এবার আরও খাওয়ার পালা। হয়তো আমরা একটা গোটা পাস্তা, স্প্যাগেটি কিছু করতে পারি। তোমাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে, বন্ধু।
চলে এসো, বন্ধু! ওহ মাই গড, ব্রো! আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।
এই ছেলেরা শুধু খায়, ওয়ার্কআউট করে আর পটি করে। ব্যাস এইটুকুই। এখানে শুধু এটাই করে।
দশ হাজার ক্যালোরি খাওয়ার পর, জিম আর মনিকা যেতে পারবে। যেটা ছেলেদের মনে করিয়ে দেয় যে গ্রোসারি স্টোরের বাইরের জীবন এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হুয়ানের জন্য, যাকে মনের একটা ভার হালকা করতে হতো।
আমার দেশে যেখানে আমি জন্মেছিলাম, প্রতি বছর ৪ঠা জুলাই আমরা ফুটবল খেলি। আর আমি ভাবছি… কালকে প্রথমবার আমি সেটা মিস করলাম।
তুমি কতদিন ধরে এটা করছ? কত বছর? পঁচিশ বছর। তুমি পঁচিশ বছর ধরে প্রতি বছর যাচ্ছ আর এখন সেটা মিস করছ?
এটা আমার জন্য খুব… খুব কষ্টের। কিন্তু এখন আমি আমার বন্ধুদের মিস করছি।
হুয়ান গত কয়েকদিন গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে কাটিয়েছে, এক ক্যালোরিও খায়নি কারণ একশ পঞ্চাশ দিনের বেশি কম্পিটিশনের পর হুয়ান বুঝতে পেরেছে সে কতটা মিস করেছে।
হুয়ান, তুমি কি বাইরে যেতে চাও?
৬৯তম দিন।
আমি বাড়ি যেতে চাই।
কিন্তু খেয়াল রেখেছি হুয়ান ওর ট্র্যাডিশন মিস না করে। ওদের ভেতরে আনো!
হুয়ান! ব্রো! এ আমার লোক।
আমি হুয়ানের ফুটবল টুর্নামেন্ট ওর কাছে নিয়ে এসেছি।
৭০তম দিন।
৭০তম দিন।
আর অবশ্যই, আমি ওদের সারা সন্ধ্যা খেতে দিয়েছি যেখানে হুয়ানের বন্ধু আর ফ্যামিলি ৫৫ হাজার ক্যালোরি কমায়।
ওদের সব শেষ করতে হবে, তাই সাহায্য করছি।
মিস্টার বিস্ট, সুযোগ দিয়ে যাতে আমার বন্ধুরা আসতে পারে যে দেশে আমি জন্মেছিলাম। আমি অনেক ধন্যবাদ জানাই এই মুহূর্তের জন্য। আমি খুব খুশি। আমি সত্যিই খুব খুশি।
কিন্তু হুয়ানের বন্ধুদের সাহায্য পাওয়ার পরেও ওদের এখনও অনেকটা পথ বাকি ছিল।
এখনও অনেক খাবার বাকি আছে। যা হওয়ার হবে, আমাকে এটা খেতেই হবে।
৭১তম দিন।
আমরা এত বিনস দান করলাম তাও এখনও আমাদের কাছে এত বিনস আছে।
এমন সবকিছু খেতে শুরু করেছি যা খেতে চাই না কারণ ওগুলো খুব বাজে।
পেঁয়াজের জুস ট্রাই করতে চলেছি। এই গন্ধ হাইস্কুলের জিমের লকার রুমের মতো। হুয়ান, কী মনে হয়, এটা ভালো আইডিয়া? দেখা যাক। ঠিক আছে, ছেলেরা।
৭৪তম দিন।
জিমি! ছেলেরা, দাঁড়াও। ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্মুদি খাব। কিছু পাম্পকিন প্রোটিন পাউডার, রাইস কেক আর পাঁচটা সার্ভিং মেপল সিরাপ।
জিমির মনে হচ্ছে, কোথায় ফাঁসলাম? এটা অর্গানিক তাই এটা তোমার জন্য ভালো।
চকোলেট বার দিলে ভালো হবে? ওহ, হ্যাঁ। এটা দিলে তো কোনো ক্ষতি নেই।
আমরা আমাদের ক্যামেরা টিমকেও একটু দিচ্ছি। এই নাও। চিয়ার্স। আমরা সবাইকে নিচ্ছি। চিয়ার্স। চিয়ার্স।
৭৭তম দিন।
এটা খুব খারাপ না। তাই না?
আমি ল্যাম্বোটাকে খুব মিস করছি। ল্যাম্বো দিয়ে স্কিড মার্কটা দেখো, এটা দারুণ!
কী ধরনের গাড়ি পছন্দ? স্পোর্টস কার হলে দারুণ হয়।
কাজের জন্য একটা ট্রাক চাই।
ভাবছি একটা স্পোর্টস কার নেব।
রেহান, তোমার কী মনে হয়? আমি আরও বাচ্চা চাই তাই আমার একটা এসইউভি দরকার। রেহান যত বাচ্চা চায়, ওর একটা লিমো নেওয়া উচিত।
৭৯তম দিন।
ঠিক আছে, জেন্টলম্যান। তোমাদের গাড়ি নিয়ে কথা বলতে শুনলাম। বয়েজ, এদিকে নিয়ে এসো।
জ্যাকসন, তুমি কি এই গাড়িটার কথাই বলছিলে? হ্যাঁ, ভাই! এটাই। ওহ মাই গড!
রেহান, এই গাড়িটা কেমন লাগছে?
৮০তম দিন।
৮০তম দিন।
৮০তম দিন।
আমার পছন্দ… হ্যাঁ! ইয়েস! তোমার জন্য এটা ভালো হবে!
এই গাড়িগুলো জিততে হলে, তোমাদের লড়তে হবে এই ব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাসের এক নম্বর কম্পিটিটিভ ইটারের সাথে। জোয়ি চেস্টনাট। ইয়েস!
জিমি, ওর সাথে কীভাবে পারব?
আমি তোমাদের টিমে থাকবো। আমরা পাঁচজন খাবো ৮ পাউন্ড বিনস। আর জোয়ি একা খাবে ১৬ পাউন্ড। ও শেষ করার পর আমাদের দিকে একটা বিনও পড়ে থাকলে আমরা হেরে যাবো। বলে রাখি, ১৬ পাউন্ড বিনস একটা ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।
থ্রি বললে গ্রোসারি বয়েজ। ওয়ান, টু, থ্রি। গ্রোসারি বয়েজ!
ওকে। ফ্যান্টাস্টিক। স্লার্প। ওয়াও। সে শব্দ করে খাচ্ছে।
০% ০%।
ওকে, জোয়ির একটা বাটি শেষ। এক বাটি শেষ, এক বাটি শেষ!
২৫% ১০% ৩৮% ১০%।
জ্যাকসন দারুণভাবে বিনস খাচ্ছে।
কার সাহায্য দরকার? কার সাহায্য চাই? জিমি, এদিকে। সাবধানে।
আমি একটাও শেষ করতে পারিনি। ওই বিন জুস খেয়ে নাও।
হুয়ান থামছে না! জোয়ি, কীভাবে করছ ভাই? ৬৩% ৬০%। জিমি, থামো! জিমি! জিমি! জ্যাকসন! জ্যাকসন! জ্যাকসন, হেল্প! জ্যাকসন! হেল্প!
৬৯% ১০০%। শেষ। আমরা কি জিতেছি?
এই হার জোয়িকে একটুও ভাবায়নি, কারণ সে অন্য লেভেলে প্রতিযোগিতা করছিল। জোয়ি নতুন ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ল আর তোমরা প্রত্যেকে জিতলে একটা ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি।
ওরা এখন অফিশিয়ালি ১০ লক্ষ ক্যালোরির নিচে আছে। ওরা এই গ্রোসারি স্টোর থেকে প্রায় বেরিয়ে এসেছে। যার মানে ওরা এখন এই স্টোরের ৭৫ শতাংশ ক্যালোরি খেয়ে ফেলেছে।
আমি খুব খুশি। স্বপ্নেও ভাবিনি গ্রোসারি স্টোরে থাকব, আর গাড়ি পাব তো দূরের কথা, এটা দারুণ। আমার স্ত্রীর একটা গাড়ি দরকার ছিল আর বুম!
আর আমি জানতাম ছেলেদের গাড়িগুলো পছন্দ হবে, কিন্তু বুঝতে পারিনি এতটা পছন্দ হবে।
চলো জিমে যাই। লেটস গো, বয়েজ। লেটস গো। চলো কাজ শুরু করি। আমরা এসে গেছি।
আমরা ১০১৫ প্রোগ্রেসে আছি। আমরা এখন তাড়া করছি। আমাদের সামনে একটা ব্লু সিলভেরাডো আছে। লাইসেন্স প্লেট জে-ইউ-এ-এন। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসুন।
এখানে কী আছে? ১৫টা কুকিজ আর ক্রিম ফিস্টেবলস। তো আমরা এই ছেলেদের কাউন্টি জেলে নিয়ে যাব।
আমরা কীভাবে ধরা পড়লাম, ভাই। তুমি খুব বেশি খাও, তাই। নিয়ম ভাঙার চরম উদাহরণ। ওহ মাই গড। ওরা পালাচ্ছে! ওরা পালাচ্ছে!
আর এলডিন জেল থেকে বেরোনোর পর, ছেলেরা নতুন গাড়ির জন্য আরও বেশি জায়গা বানানোর উপায় ভাবল।
আমরা ঠিক করেছি ওদিকের সবকিছু এখানে নিয়ে আসব। চলো শুরু করি। আমরা রেডি? চলো করি।
৮৫তম দিন। ৮৫তম দিন। ৮৭তম দিন। ৮৮তম দিন। ৮৯তম দিন।
শেলফটা সরানো হলো। একদম নতুন স্টোর। লেটস গো।
৯০তম দিন। ৯০তম দিন।
এই গাড়ি জেতা শুধু মজা বা খেলার মধ্যে আটকে ছিল না। এটা ছিল গ্রোসারি স্টোরের এই চারজনের দুর্দান্ত টিমের একটা প্রমাণ। আর এটা তাদের বুঝতে সাহায্য করেছিল যে তারা একে অপরের জন্য কতটা জরুরি।
হুয়ানকে ছাড়া, আমি জানি না, হুয়ান সবসময় পরিষ্কার করছে। ও সবসময় অ্যাক্টিভ। ওকে ছাড়া এই জায়গাটা ঠিক থাকত না। জ্যাক, ও আমাদের জিমে অনুপ্রেরণা। ও ওয়েট লিফটিংয়ে দারুণ। এলডিন, আমাকে সবসময় হাসানোর জন্য থ্যাংক ইউ। এখানে সবার একটা ভূমিকা আছে আর এটা দারুণ।
আর এটাই ছিল আমার সুযোগ এই বন্ধুদের মনে করিয়ে দেওয়ার যে সবকিছু কোথা থেকে শুরু হয়েছিল।
বয়েজ, আজ ১০০তম দিন। ১০০তম দিন। ১০০তম দিন। লেটস গো, লেটস গো। তো কী মনে হয় এবার কী হবে?
আশা করছি স্টোর থেকে কিছু ক্যালোরি কমানোর উপায় বেরোবে। ভিতরে চলে এসো।
১০০তম দিন। এরা ফার্স্ট গ্রোসারি স্টোর ভিডিওর প্রতিযোগী।
১৮৯ দিন আগে, একদম অচেনা কয়েকজন মানুষ এই গ্রোসারি স্টোরে ঢুকেছিল আর অজান্তেই আড়াই লক্ষ ডলারের একটা প্রতিযোগিতায় নাম লিখেছিল, আর সেটা দ্রুত আমাদের বানানো সবচেয়ে বিশৃঙ্খল ভিডিওতে পরিণত হয়। ওহ নো।
হেই গাইজ, গানার হুয়ানের জন্য কিছু এনেছে। প্রোডিউস। ওহ, লেটস গো। হুয়ান, এটা খোলো। ওকে। টি-ফ্যাল।
তো তুমি ওর জন্য নতুনগুলো আনলে কেন? ওটা করো না, বন্ধু। মনে হলো ওর কিছু হাঁড়ি-পাতিল দরকার।
আর আমি প্রথম ভিডিওর সব প্রতিযোগীকে ফিরিয়ে এনেছি। কারণ এখন থেকে এক ঘণ্টার টাইমার শুরু হলো। ওরা আগামী এক ঘণ্টা খাবার খেতে সাহায্য করবে। বয়েজ, ওদের কাজে লাগাও।
তোমরা যারা রান্না করতে চাও, এখানেই থাকো। আর বাকিরা, আমরা ওদিকে গিয়ে স্টোর থেকে জিনিস খুঁজে একটা বড় টেবিল বানাব।
প্রথম ভিডিওতে, এটা ছিল ফোর্ট ফ্রিজিং। ফোর্ট ফ্রিজি। এটা এখন জিম। ইশ, এটা যদি আগে থাকত।
জেভিয়ান, এই আইলেই তুমি অরিজিনাল ভিডিওর সময় থাকতে। হ্যাঁ! এটা আর আগের মতো আইল মনে হচ্ছে না। হ্যাঁ। এটা মিস করো? আমি ওদের জ্বালানোটা মিস করি। চলো আমরা বাস্তবতায় ফিরি।
হেই সবাই, এখন খাওয়ার সময়। তোমাদের খুব মিস করেছি। তোমাদের নিয়ে অনেক কথা বলি। আর সাহায্যের জন্য খুব কৃতজ্ঞ কারণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি যেতে চাই। এখানে ছয় মাসের বেশি আছি আর আমরা ক্লান্ত।
সত্যি বলো, তোমাদের প্রথম ভিডিওর কথা মনে পড়ছে? একসাথে খাওয়া… ও এখনো আগের মতোই আছে। হ্যাঁ, আমরা প্রতিদিন একসাথে খেতাম। হ্যাঁ, সেটা আবার করি। কারণ তোমাদের সাহায্য দরকার।
ইয়ো, আমাদের কি অন্যরকম দেখতে লাগছে? হ্যাঁ। শরীর দেখে মনে হচ্ছে তোমরা ওয়ার্কআউট করছ। হ্যাঁ। তোমরা অবশেষে বডি বানিয়েছ।
হুয়ান, সবাইকে দেখে কেমন লাগছে? এই মুখগুলো আবার দেখতে পেয়ে আর গ্রোসারি স্টোরে একসাথে থাকতে পেরে আমি খুব খুশি। ইয়েস। চলো খাওয়া শুরু করি।
তোমরা সবাই এখানে গ্রোসারি কিনতে এসেছিলে। আর তোমাদের মধ্যে চারজন কখনো ফিরেনি। স্টোরটা রিস্টক করো। আর এখন তোমরা যে এক এক কামড় খাবে সেটা ওদের এখান থেকে দ্রুত বের হতে সাহায্য করবে। গ্রোসারি বয়েজদের নামে।
আর এর সাথে, সবার সময় শেষ। বাই গাইজ।
ছেলেরা যাদের সাথে এসেছিল, তাদের দেখে আমি বুঝতে পারলাম ওরা এই গ্রোসারি স্টোরে ১০০ দিন নেই। এটা আসলে ১৮৮ দিন। কারণ আমরা যখন স্টোরটা রিস্টক করছিলাম ওদের আরও ২২ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আর এতে ওরা বুঝল যে ওদের খুব জলদি এখান থেকে বেরোতে হবে।
তো, এডিটরস, তোমরা কি এটা জ্যাকসনের বুকে লাগাতে পারবে? আমাদের এত ক্যালোরি বাকি। এখান থেকে ওঠো।
আজ ব্লেন্ডারের শেষ দিন ছিল। আর না। আমাদের হয়ে গেছে। আমরা শেষ করেছি।
ফ্রোজেন ডিম। তোমার পছন্দ হবে না কিন্তু খেতে হবে।
যখন ডে জিরো চলে আসবে, আমি বাড়ি যাওয়ার জন্য তৈরি।
এটাই শেষ চিংড়ি। আমি জানি একজন খুব খুশি। কেন হবে না? আমার চিংড়ি পছন্দ না।
আমরা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। একদম কাছাকাছি, জিমি, তাড়াতাড়ি দেখা হবে ভাই।
চার মাস আগে আমরা বলেছিলাম যখন স্টেকে পৌঁছাব, আমরা বুঝে যাব আমরা জিতে গেছি। আর এখন স্টেকে পৌঁছে গেছি। আজ রাতে এটাই ডিনার।
আর ছেলেরা যখন শেষ দেখার আনন্দে মেতে ছিল, জ্যাকসনের ভাবনা একটা নতুন শুরুর দিকে যাচ্ছিল।
এখানে অনেক দিন থাকার পর, দীর্ঘ চিন্তার পর আমার মনে হয় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার গার্লফ্রেন্ডকে প্রপোজ করতে চাই। মনে হয় ও-ই পারফেক্ট।
আর ও ওর প্ল্যান সবার সাথে শেয়ার করতে খুব এক্সাইটেড ছিল।
আমার গার্লফ্রেন্ডকে প্রপোজ করব। তোমার জন্য খুব খুশি ভাই।
তবে দুজন খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছাড়া।
আমার গার্লফ্রেন্ডের বাবা-মায়ের কাছে পারমিশন নিতে হবে ওকে প্রপোজ করতে। আমি খুব নার্ভাস।
আর খুব নার্ভাস থাকার কারণে ও এটা শুধু পিছিয়েই যাচ্ছিল।
ওরা কী বলবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বয়েজ। জিমি! জিম্বো!
তাই ভাবলাম ওকে একটু সাহস দিই।
হাই। কেমন চলছে গাইজ? আমি জ্যাকসনকে দিচ্ছি। ও আপনাদের কিছু জিজ্ঞেস করতে চায়। হেই, গাইজ। হাই।
আপনাদের কাছে একটা জরুরি প্রশ্ন আছে। আমি একটু নার্ভাস, তবে আপনারা খুব সুন্দর একজন মেয়ে বড় করেছেন। ও আমার কাছে পুরো পৃথিবী। আর আমি জানতে চাইছি যে আমি কি আপনাদের মেয়ের কাছে… আমি আপনাদের মেয়েকে বিয়ে করার পারমিশন পেতে পারি?
ওহ। ওহ মাই। ইয়েস! ইয়েস। লেটস গো!
যেহেতু আমরা হ্যাঁ পেয়ে গেছি, রিংটা নিয়ে এসো।
ও ইউনিক জিনিস পছন্দ করে। হ্যাঁ। মনে হয় ওভালটাই বেস্ট। অনেক বড় সিদ্ধান্ত। এটাই নেব।
ওকে হুয়ান, তোমার আংটি পরা আছে, না? না, না। কোনো আংটি নেই। তুমি কি তোমার স্ত্রীর জন্যও একটা আংটি কিনতে চাও? এখানেই আছে। হ্যাঁ। আমি পারি? হ্যাঁ। চলো তোমার স্ত্রীর জন্য একটা আংটি নিই। ওয়েট, কী? শুধু এটা দেখো।
ওয়েট, কী? শুধু এটা দেখো। দেখছ? দেখো তোমার কেমন লাগে। আমার মনে হয় এটা… এটা খুব সুন্দর। পছন্দ হয়েছে। হ্যাঁ। ওকে।
অনেক ধন্যবাদ জিমি। আমার খুব পছন্দ হয়েছে, আর ওরও পছন্দ হবে। আমি জানি এটাই বেস্ট, তাই আমি জানি ও-ই বেস্ট। তো থ্যাংক ইউ জিমি।
ছেলেদের একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে আসার পর, ওদের সেরা সাফল্যগুলো উদযাপন করার সময় চলে এসেছিল।
গত ১১০ দিনে, তোমরা গুগল হেলথ অ্যাপের সাথে পেয়ার করা গুগল ফিটবিট এয়ার ট্র্যাকার পরেছিলে আর তারা আমাদের সাথে ডেটা শেয়ার করতে রাজি হয়েছে যাতে আমরা দেখতে পারি তোমরা কে কোনটায় সেরা।
শুরুতে কে সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন করেছে। ড্রামরোল প্লিজ! এটা ড্রামরোল না, তবে চলবে। আর বিজয়ী হলো… জ্যাকসন! ইয়েস! লেটস গো! সে পুড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৫১ হাজার ২৯৯ ক্যালোরি। থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ।
এর পরেরটা, ফিটবিট এয়ার শুধু এক্সারসাইজে বার্নড ক্যালোরিই ট্র্যাক করে না, রিকভারিও ট্র্যাক করে। আর তাই আমাদের পরের অ্যাওয়ার্ড ‘সবচেয়ে বেশি ঘণ্টা ঘুমানো’, এলডিন! ওহ! ১০৫৪ ঘণ্টা আর ৪ মিনিট ঘুমিয়েছে। ওহ মাই গড।
আমাদের পরের ট্রফির জন্য আছে, ‘সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি রান্না করা’। আর গুগল হেলথ অ্যাপ দিয়ে, তুমি যেকোনো খাবারের ছবি তুলতে বা স্ক্যান করতে পারো। আর এটা তুমি যা খাচ্ছো তার সব পুষ্টিগত ডেটা বলে দেবে।
রেহান! লেটস গো! থ্যাংক ইউ জিমি। সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি রান্নার জন্য, ২০ লক্ষ ১১ হাজার ৫৫৫ ক্যালোরি।
আমাদের শেষ ট্রফি ‘সবচেয়ে বেশি পা ফেলার’ জন্য। আর বিজয়ী হলো হুয়ান! হুয়ান! ২৭ লক্ষ ৩৫ হাজার স্টেপস। হুয়ান, অভিনন্দন। থ্যাংক ইউ। অভিনন্দন।
আর আমি এটাও বলতে চাই যে, তোমরা প্রত্যেকে গুগল হেলথ প্রিমিয়ামের লাইফটাইম সাবস্ক্রিপশন জিতেছো। তোমাদের নিজস্ব পার্সোনাল হেলথ কোচের সাথে। আয়! যাতে গ্রোসারি স্টোরের সমস্ত অর্জন তোমরা বাইরের আসল দুনিয়াতেও ধরে রাখতে পারো। এটা কখনোই খুলব না।
১৯৮তম দিন।
আবার বড় নম্বরের সময়। ৫০ হাজারের নিচে ক্যালোরি বাকি। আর দুই দিন বাকি।
ছেলেরা অফিশিয়ালি ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি খেয়ে ফেলেছে। আর মাত্র ৬,৬১৪ ডলার হারিয়েছে। একদিনের মতো খাবার বাকি আছে জেনে, রেহান তাদের শেষ মিলের প্রস্তুতি নিল।
আমার মা সবচেয়ে ভালো যে কাজটা করেছে তা হলো আমাকে পাউরুটি বানানো শেখানো। এটা সত্যিই খুব স্পেশাল একটা লাস্ট মিল হতে চলেছে।
ওর কাছে একটা শেষ সারপ্রাইজও ছিল। এই দিনের জন্যই বাঁচিয়ে রেখেছি। কী? জায়গাটা টিপি করতে রেডি? ঠিক আছে, একটা দাও। এগুলো জমিয়ে রেখেছিলাম। লেটস গো।
১৯৯তম দিন।
শেষবার যখন আমরা এটা করেছিলাম, ভেবেছিলাম আমরা বাড়ি যাচ্ছি।
জানি এক নজরে এটা একঘেয়েমি বা বোকামি মনে হতে পারে। কিন্তু এটা ছিল একটা সম্মান জানানো। ওরা আসলে স্মৃতি মনে করছিল ওরা কোথা থেকে এসেছে আর কী কী পার করেছে।
লেটস গো! বয়েজ, আমরা কাল বাড়ি যাচ্ছি! ইয়েস! গ্রোসারি স্টোরে শেষ রাত! আমরা বাড়ি যাচ্ছি!
২০০ দিনের বেশি পার করার পর, এটা গ্রোসারি স্টোরে ওদের শেষ দিন। আর ওদের গল্প স্টোরের দেওয়াল পেরিয়ে অনেক দূর পৌঁছে গেছে কারণ শত শত ফ্যান বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ওদের শেষ খাবার খাওয়া দেখতে এসেছে। ওহ ম্যান।
অল রাইট বয়েজ! আমাকে স্টোরে বাকি সব ক্যালোরি দেখাও। লেটস গো। কত ক্যালোরি বাকি? ৩৮৮২ ক্যালোরি। এরপর আমরা বাড়ি যাচ্ছি! তোমাদের কাজ শেষ। তোমাদের চেনা আর প্রিয় সবার সামনে। আর আমাদের অর্ধেক শহরের সামনে।
২০২ দিন আগে, এই চারজন মানুষ খাবার কিনতে এই গ্রোসারি স্টোরে পা রেখেছিল। আর এখন ৯০ জনেরও বেশি মানুষকে পেছনে ফেলে, শেষ খাওয়াটা আমাদের সামনে।
খাও! খাও! খাও! খাও! খাও! শেষ মিলের নামে। চিয়ার্স, চিয়ার্স।
তো এটা শুধু খাবার খাওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। উউউউ! বের হওয়ার উত্তেজনায় আমি আসলেই কাঁপছি। আমি আসলেই বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মুখ ভর্তি করে খাওয়ার চেষ্টা করছি।
আর এখন শেষ কামড়। এরপর তোমাদের কাজ শেষ। চলো বাড়ি যাই! খেয়ে নাও! ইয়েস! লেটস গো!
তোমরা এখন যেতে পারো! শিওর তুমি রেডি? থ্রি, টু, ওয়ান…
২০০ দিন আগে আমি ইতিহাসের অন্যতম ক্রেজি সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিই, এটা দেখতে যে সম্পূর্ণ অচেনা মানুষেরা যদি একটা গ্রোসারি স্টোরে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে কী হবে। তারপর তাদের মধ্যে চারজন থেকে যায় আর খাবার খেয়ে বেরোনোর পথ নেয়। আর শেষমেশ যা হলো, সত্যি বলতে, আমি জানি না কেন আমি তোমাদের এটা বলছি।
১৭৯তম দিন।
তোমাদের মিস করব, বয়েজ। এটা আমাদের শেষ রাত, ভাই। এটা দুর্দান্ত হবে।
জানিও না, কাল কেমন লাগবে। বাইরে পা রাখব। আমরা এতদিন এখানে ছিলাম, আর এখন আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যাব। বুঝতে পারছো? এই যে আমরা একে অপরের সাথে প্রতিদিন একটানা ২৪ ঘণ্টা ছিলাম। অন্য কেউ নেই। সত্যি বলতে, অন্য কাউকে নিয়ে আমি এটা করতে পারতাম না।
আর ভেবে দেখো আমরা যখন এখানে এসেছিলাম কেউ কাউকে চিনতাম না। আর এখন আমাদের দিকে দেখো। বেস্ট বাডিস। বেস্ট ফ্রেন্ডস ফরএভার। ইয়েস।
তোমরা এইমাত্র ১০ লক্ষ ডলার জিতেছো!
ওহ, আমি তো কী হচ্ছে এসব? লেটস গো বেবি! ড্যাডি! এখন বাড়ি যাব? হ্যাঁ।
তোমার মনে আছে, তোমার আংটিটা আমাকে ফেরত দিতে হয়েছিল? আমাদের কাছে টাকা ছিল না, কিন্তু এখন আমি তোমার জন্য এই আংটিটা পেয়েছি। আই লাভ ইউ। তুমি খুব সুন্দরী একজন মানুষ। আই লাভ ইউ টু।
আমরা একসাথে বড় হয়েছি। একসাথে থাকতে শুরু করেছি। শুধু একটা কাজই বাকি আছে। আওও। হ্যাঁ বলো। হ্যাঁ, আমি রাজি।
ভিডিও শেষ করার কী ক্রেজি একটা উপায়। এটা পাগলামি।
দেখার জন্য ধন্যবাদ। দেখার জন্য ধন্যবাদ। দেখার জন্য ধন্যবাদ। দেখার জন্য ধন্যবাদ। দেখার জন্য ধন্যবাদ।
নিবন্ধ প্রকাশিত · হালনাগাদ
