মিস্টার বিস্টের গ্রোসারি স্টোর চ্যালেঞ্জ: ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি খেয়ে শেষ করে দশ লক্ষ ডলার জেতার দুশো দিনের লড়াই

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন একটাই। চারজন মানুষ কি একটা পুরো গ্রোসারি স্টোরের সব খাবার খেয়ে শেষ করতে পারবেন, নাকি খাবার নষ্ট হয়ে তাঁদের পুরস্কার একটু একটু করে কমে যাবে? মিস্টার বিস্ট (জিমি) স্টোরটি কিনে নিয়ে পুরো মজুত আবার ভরে দেন। তারপর চার প্রতিযোগী জ্যাকসন, রেহান, এলডিন আর হুয়ানকে জানান, ভেতরের সব খাবার খেয়ে শেষ করলে তাঁরা দশ লক্ষ ডলার জিতবেন। জিমির ভাষায় এটা "একটা পুরো শহরের সমান খাবার", আর শুরুতে তিনি নিজেই একে অসম্ভব বলেছিলেন। ভিডিওটি সেই চ্যালেঞ্জের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ঘটনাগুলো দেখায়: কৌশল, ব্যর্থতা, আঘাত, পরিবারকে মিস করা, আর চারজনের বন্ধুত্ব।

23 মিনিটে পড়া

আগের ভিডিও থেকে শুরু, আর নিয়মগুলো

এই চারজন নতুন প্রতিযোগী নন। জিমি জানান, আগের "লাস্ট টু লিভ গ্রোসারি স্টোর" চ্যালেঞ্জে তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শুরু করেছিলেন। ৬৭তম দিনে কেউই হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না। তখন জিমি তাঁদের একটা শর্তে একসাথে খেলা চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রাইজ মানি চারগুণ করার সুযোগ দেন। সেই শর্তই এই ভিডিওর চ্যালেঞ্জ: আবার পুরো ভরে দেওয়া স্টোরের সব খাবার খেতে হবে। জিমির কথায়, আগের ভিডিওর পর এরা "লিটারেলি ওয়ার্ল্ড ফেমাস", স্টোরের বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে শুধু তাঁদের দেখার জন্য।

স্টোরে মোট ৪৩ লক্ষ ক্যালোরির খাবার ছিল। জিমির হিসাব অনুযায়ী চারজন দিনে ২০০০ ক্যালোরি করে খেলে সবকিছু শেষ করতে এক বছরেরও বেশি লাগবে। সবচেয়ে কড়া নিয়ম ছিল খাবার নষ্ট নিয়ে। নষ্ট হওয়া প্রতি ক্যালোরির জন্য প্রাইজ থেকে এক ডলার কাটা যাবে। ফলে স্টোরের এক-চতুর্থাংশ খাবার নষ্ট হলেই পুরো পুরস্কার চলে যাবে। আরেকটা নিয়ম ছিল, মেঝের লাল দাগে বা তার বাইরে পা রাখা যাবে না। নষ্ট বা ফেলে দেওয়া খাবার যাতে নজর এড়িয়ে না যায়, সেজন্য টিম ২৪ ঘণ্টা স্টোরের প্রতিটি কোণ মনিটর করত।

2:54

প্রথম দিনগুলো: হিসাব, ফ্রিজার আর মেঝেতে পড়া ব্লুবেরি

প্রথম দিনে প্রতিযোগীদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাই তাঁরা ঠিক করলেন আগে পুরো স্টোরের ইনভেন্টরি করবেন। গুনে পাওয়া গেল ১০৫ প্যাকেট ব্রেড, ৩৪ ক্যান নাশপাতি, ৯৬টা V8, ২৭১টা টুনা, ৪০০ জার সিজনিং আর ২২ ক্যান সালসা। গোনা শেষে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ছিল, "এটা অনেক বেশি।" যুক্তি সহজ ছিল: কাঁচা জিনিস সবার আগে নষ্ট হবে, তাই আগে ওগুলোই ধরতে হবে। ফল আর সবজি তাক থেকে নামিয়ে ফ্রিজারে রাখা হলো।

শুরুতেই একটা ছোট দুর্ঘটনা নিয়মের চাপটা বুঝিয়ে দিল। মেঝেতে প্রায় ৮০ ক্যালোরির ব্লুবেরি পড়ে যায়, যার মানে ৮০ ডলার। ফেলে না দিয়ে তাঁরা মেঝে থেকে তুলে খেয়ে নেন, আর একজন মন্তব্য করেন যে কয়েক মিনিট মাটিতে পড়ে থাকলেও স্বাদ বেশ ভালো। প্রথম রাতে খাবার ছিল চিজস্টেক। দিনের শেষে জিমি মনে করিয়ে দেন, ৪৩ লক্ষের মধ্যে তাঁরা মাত্র ১০,০০০ ক্যালোরি খেয়েছেন।

দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনা ছিল সবজি ফ্রিজ করা আর ফল দিয়ে জুস বানানো। কাজ ভাগ হলো: জ্যাকসন তাজা অরেঞ্জ জুস বানালেন, রেহান আর হুয়ান ফুলকপি কেটে ফ্রিজ করলেন। ব্রেডে অনেক ক্যালোরি থাকে বলে পুরো ব্রেডের সারিও ফ্রিজারে তোলা হলো। একজন বলেন, দশ লক্ষ ডলার থেকে এক পয়সাও হারাতে চান না। তৃতীয় দিনে জিমি স্বীকার করেন যে পচনশীল খাবার তাঁরা ভালোভাবেই সংরক্ষণ করেছেন। তবে জিজ্ঞেস করলে প্রতিযোগীরা মেনে নেন, তখনো স্টোরের এক শতাংশ খাবারও শেষ হয়নি।

কৌশল: অপছন্দের খাবার আগে, ব্যায়াম আর স্বাস্থ্যকর বিকল্প

চতুর্থ দিন নাগাদ একটা কৌশল তৈরি হলো। পরের দিকে মোটিভেশন ধরে রাখতে অপছন্দের খাবারগুলো আগে শেষ করা হবে। চতুর্থ দিনের শেষে মোট খাওয়া হয়েছিল ৬৫,৯৪১ ক্যালোরি। প্রতিযোগীদের কাছে ব্যায়ামও সমান জরুরি ছিল। একজন বলেন, ওয়ার্কআউট না করলে "আমরা শেষ"। যত বেশি ক্যালোরি বার্ন হবে, তত বেশি খাওয়া যাবে।

তাঁদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে জিমির টিম স্টোরের অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলো বদলে স্বাস্থ্যকর সংস্করণ রাখে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রুট লুপস সরিয়ে প্রোটিন সিরিয়াল আনা হয়। প্রতিদিন প্রশিক্ষণের জন্য একজন পার্সোনাল ট্রেইনারও আনা হয়, পরে যাঁর নাম জানা যায় জন।

পঞ্চম দিনের মধ্যে প্রত্যেকের একটা নিজস্ব রুটিন দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। হুয়ান প্রতিদিন ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন শুরু করতেন। জ্যাকসন খাবার দিয়ে জুস আর স্মুদি বানাতেন। রেহান রাতে কুকবুক পড়তেন, যাতে এত খাবারকে সুস্বাদু করা যায়।

এলডিনের মন্দা সময়

ধারাভাষ্য অনুযায়ী, পুরো দল ভালো কাজ করছিল, একজন ছাড়া। এলডিন বলেন, অনেকদিন এখানে থাকার পর তাঁর খারাপ লাগছে, চারজনের সামনে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি, আর তিনি আবার লাস্ট টু লিভ-এ ফিরে যেতে চান। তিনি মন খারাপ করে ঘুমাতেন, ওয়ার্কআউট মিস করতেন, কখনো খেতেও চাইতেন না। অষ্টম দিনে জিমি এসে তাঁদের সঙ্গে ওয়ার্কআউট করেন, এলডিনকে মোটিভেট করার উদ্দেশ্যে। তারপর এলডিন বলেন তাঁর ভালো লাগছে, নিজেকে শক্তিশালী মনে হচ্ছে, আর যত তাড়াতাড়ি খাওয়া যাবে তত তাড়াতাড়ি বেরোনো যাবে।

এক সপ্তাহের বেশি পেরিয়ে গেলেও তখন পর্যন্ত এক ক্যালোরিও নষ্ট হয়নি। জিমি বলেন, তাঁরা তাঁর ধারণার চেয়েও ভালো করছেন, আর দশ লক্ষ ডলার তখনো অক্ষত।

চোখ বাঁধা শপিং আর বডিবিল্ডারদের হতাশাজনক সাহায্য

দশম দিনে জিমি একটা খেলার আয়োজন করেন। তিনি আর তাঁর টিম চোখ বেঁধে স্টোরে ঘুরবেন। প্রতিযোগীরা উপর থেকে এক মিনিট ধরে নির্দেশ দেবেন কী কী কার্টে তুলতে হবে। জিমি বলেছিলেন, "আমরা যা নেব, সেগুলো খেতে সাহায্য করব।" ঠিকমতো নির্দেশ দিলে হয়তো এক লক্ষ ক্যালোরির খাবার তোলা যেত।

বাস্তবে পুরো ব্যাপারটা বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। কেউ অন্যের কার্ট নিয়ে চলে যান, "আমার রাইট না তোমার রাইট" নিয়ে বিভ্রান্তি হয়, নোলান নামের একজন ভুল দিকে চলে যান, কেউ দেয়ালে ধাক্কা খান। সময় শেষ হলে দেখা যায় কার্টে বেশি কিছু ওঠেনি। এরপর জিমি খোলাসা করেন, "আমরা" বলতে তিনি দশজন বডিবিল্ডারকে বুঝিয়েছিলেন, যাঁরা কার্টের সবকিছু খেয়ে ফেলবেন। কিন্তু কার্ট প্রায় খালি থাকায় এর প্রভাব খুব সামান্য হয়। ধারাভাষ্যেও বলা হয়, ছেলেরা যতটা আশা করেছিলেন বডিবিল্ডাররা ততটা প্রভাব ফেলতে পারেননি।

দশম দিন পর্যন্ত তাঁরা প্রায় ২ লক্ষ ক্যালোরি খেয়েছিলেন, যার বেশিরভাগ কাঁচা খাবার, আর সেগুলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। তবু স্টোরের ৫ শতাংশ ক্যালোরিও তখন শেষ হয়নি। একজন বলেন, তিনি এক বছর এখানে থাকতে চান না।

একশো দিনের মাইলফলক আর পরিবারের জন্য টাকা

এই চ্যালেঞ্জের ১১তম দিন ছিল স্টোরে তাঁদের থাকার ১০০তম দিন, অর্থাৎ আগের চ্যালেঞ্জসহ গোনা হলে। ঘটনাচক্রে সেদিন একজনের জন্মদিনও ছিল। উদযাপন হিসেবে জিমি একটা শপিং কার্টে চল্লিশ হাজার ডলার নিয়ে আসেন। পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে প্রত্যেক প্রতিযোগীর পরিবারকে দশ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। একজন টাকাটা স্ত্রীকে দিতে চান, যাঁর জন্মদিন পরের দিন, আর তাঁকে "পৃথিবীর সেরা স্ত্রী, সেরা মা" বলেন। আরেকজন বাবা-মাকে উদ্দেশ করে বলেন, কোথাও ছুটিতে গিয়ে আনন্দ করো।

ধারাভাষ্যের ভাষায়, এতদিন একসঙ্গে আলাদা হয়ে থাকার ফলে চারজন নিজেরাই একটা পরিবার হয়ে উঠেছিলেন। হুয়ান মাদার্স ডে-র জন্য স্ত্রী, বোন আর মায়ের উদ্দেশে একটা সাইন বানান। রেহান পুরো দলের রান্নার দায়িত্ব নেন। এলডিন নাপিত হয়ে সবার চুল কাটেন।

12:02

ক্যালোরি বার্ন চ্যালেঞ্জ, প্রথম লোকসান, আর অ্যালিসনের আগমন

২০তম দিনে জিমি নতুন প্রস্তাব দেন। পরের দশ দিনে প্রতিযোগীরা যত ক্যালোরি বার্ন করবেন, ঠিক তত ক্যালোরির খাবার স্টোর থেকে সরিয়ে রান্না করে অভাবী মানুষদের দেওয়া হবে। প্রত্যেকে ফিটবিট এয়ার ট্র্যাকার পরে ছিলেন, তাতেই হিসাব রাখা হবে। জিমি ট্রেইনার জনকে দায়িত্ব দেন কেউ যেন অতিরিক্ত চাপ না নেন, আর প্রতিযোগীদের বলেন জন বিরতি নিতে বললে সেটা মানতে হবে।

পরদিন ভোর ৬টা থেকে সবাই দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম করছিলেন, এলডিন ছাড়া। তিনি সাড়ে ৯টা-১০টার দিকে ওঠেন। একজন জানান, এলডিন প্রায় পাঁচ হাজার ক্যালোরি পিছিয়ে আছেন। ট্রেইনার জন ব্যাখ্যা দেন যে বাকিরা প্রতিদিন তাঁর চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি দিচ্ছেন। এলডিন স্বীকার করেন তিনি প্রায় হার মেনে নিয়েছেন, তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। বাকিরা দিনে চার হাজারের বেশি ক্যালোরি বার্ন করছিলেন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী অবাক করার মতো ব্যাপার ছিল দলের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য হুয়ানের এগিয়ে থাকা। তিনি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাফাচ্ছিলেন, আর বিরতি নিতে রাজি হননি।

এর মধ্যে প্রথম বড় ধাক্কা আসে। প্রতিযোগীরা দাবি করছিলেন কোনো খাবার নষ্ট হয়নি। তখন জিমি ফুড সেফটি বিশেষজ্ঞ কুইনকে নিয়ে আসেন। কুইন জানান, অনেকদিন ফ্রিজে থাকা কিছু সবজি আর খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। কিছু জিনিস নিয়ে প্রতিযোগীরা আপত্তি তোলেন যে দেখতে তো ঠিক আছে, তবে জিমি কুইনের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং বলেন কেউ অসুস্থ হোক তিনি চান না। নষ্ট খাবারের ক্যালোরি গুনে দাঁড়ায় ৬,৬১৪, অর্থাৎ প্রাইজ পুল থেকে ৬,৬১৪ ডলার কাটা যায়। একজন অন্যজনকে দোষ দিতে গেলে আরেকজন থামিয়ে বলেন, "আমরা টিম। কাউকে দোষ দিই না।" তবু মনোবল নেমে যায়।

মন ভালো করতে জিমি অ্যালিসনকে নিয়ে আসেন, যিনি আরেকটি ভিডিওতে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে শিকলে বাঁধা থাকছিলেন। এই পাঁচ দিনের জন্য সেই মানুষটি ছিলেন হুয়ান। ফলে অ্যালিসনও স্টোরে থেকে তাঁদের মতোই খাচ্ছিলেন। তবু একজন বলেন, ছয় হাজার ডলার হারানো নিয়ে তিনি এখনো মন খারাপ করে আছেন, আর এমন আর হতে দেবেন না।

৩০তম দিন: দুই লক্ষ ক্যালোরি দান

৩০তম দিনে জিমি জানান, দশ দিনে মোট বার্ন হয়েছে ২,০১,৭৬৮ ক্যালোরি। সঙ্গে সঙ্গে রান্না শুরু হয়: প্যান ফ্রাই, স্টির ফ্রাই, সেদ্ধ, এয়ার ফ্রাই, টোস্ট। একজন প্রতিযোগী জানান, তিনি আর তাঁর ভাই এলডিন ইউরোপ থেকে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন। তখন তাঁদের খাবার ছিল না, টাকাও খুব একটা ছিল না। এখন যে কমিউনিটি তাঁদের এত দিয়েছে, তাকে ফিরিয়ে দিতে পারছেন। প্রতিযোগীরা দূর থেকে বিতরণ দেখেন। দরজার বাইরে লম্বা লাইন পড়ে, আর তিনশোর বেশি মানুষকে খাওয়ানো হয়। এরপর অ্যালিসনকে নতুন একজন অপরিচিতের সঙ্গে বাঁধার সময় হয়ে যায়। তিনি চলে গেলে স্টোর হঠাৎ চুপচাপ হয়ে পড়ে।

ঘরে ফেরার তাড়া, রেহানের "শুধু খেতে থাকো" নীতি আর উত্তেজনা

৩২তম দিনে একজন প্রতিযোগীর ছেলে জিজ্ঞেস করে, "বাবা, তুমি কি লাল দাগটা পার হবে?" তাঁকে বলতে হয় যে পারবেন না, তবে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবেন। তিনি বলেন, আইলগুলোর মধ্য দিয়ে হাঁটার সময় এই কথা বারবার মনে পড়ে, আর তাঁর আর তর সইছে না।

রেহানের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও বেশি রান্না। তিনি দিনে চারবার খাবার আর চারটে স্মুদির ব্যবস্থা করেন, আর গত কয়েকদিন ধরে সবার মাথায় একটাই কথা ঢোকাচ্ছিলেন: "খাও, খাও, খাও।" তাঁর হিসাবে দিনে ৩৭,০০০ ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছিল। বাকিরা জানান তাঁদের পেট পুরোপুরি ভর্তি। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এই অবসেশনের কারণে তাঁরা নিজেদের সাধ্যের বাইরে খাবার নিয়ে ফেলেন। একজন বলেন, রেহান "দশ হাজার আলু" রান্না করছেন অথচ কেউ খেতে পারছে না। রেহান আর এলডিনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রেহান বলেন, না খেলে প্রাইজ পুল থেকে টাকা যাবে, কাঁদা আর বাচ্চামি বন্ধ করো। খাবারটা ফ্রিজে রাখা হবে কিনা, তা নিয়েও তর্ক হয়। ধারাভাষ্যে বলা হয়, বাস্তবতা ছিল এখনো লক্ষ লক্ষ ক্যালোরি বাকি, এত তাড়াতাড়ি বেরোনো সম্ভব নয়।

মন শান্ত করার জন্য রেহান স্টোরের বীজ দিয়ে একটা বার্ড ফিডার বানান। তিনি প্রতিদিন সকালে ডকের কাছে বসে পাখির ডাক শুনতেন, আর বলেন সেটা তাঁর কাছে "স্পা ডে"-র মতো। পুরো দিন অপেক্ষা করেও কোনো পাখি আসেনি।

21:23

হুয়ানের চিঠি: পড়তে-লিখতে শেখা

৩৮তম দিনের একটা ঘটনা ভিডিওর সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি। হুয়ান জানান, একদিন ক্যাশিয়ারের জায়গায় বসে থাকার সময় রেহান তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি ইংরেজি পড়তে পারেন কিনা। হুয়ান পারতেন না, লিখতেও পারতেন না। রেহান তাঁকে কলম দিয়ে ছোট ছোট শব্দের পরীক্ষা নিতে শুরু করেন। যেসব শব্দে সমস্যা হচ্ছিল সেগুলো নিয়ে কাজ করেন, আর ভুল হলে হতাশ হতে মানা করেন। হুয়ান বলেন, এখন তিনি ছোট বাক্য তৈরি করতে পারেন, যদিও পারফেক্ট নয়।

যে মানুষটা একসময় বাক্য লিখতে পারতেন না, তিনি রেহানকে একটা বড় ধন্যবাদ-পত্র লেখেন। রেহান বলেন, এটা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত, চিঠিটা তিনি সারাজীবন রেখে দেবেন। ধারাভাষ্যের ব্যাখ্যায়, গত কয়েকদিন রেহান শুধু নিজের আর নিজের পরিবারের ওপর ফোকাস করছিলেন। হুয়ানের চিঠি তাঁকে মনে করিয়ে দেয় যে অন্য কাউকে সাহায্য করাও সবচেয়ে বড় পুরস্কার হতে পারে।

এর সূত্র ধরে জিমি একটা ঘোষণা দেন। প্রথম ভিডিওর পর অনেক দর্শক জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে প্রতিযোগীদের বাড়তি টাকা পেতে সাহায্য করা যায়। তাই চারজনের ছবি দিয়ে টি-শার্ট বানানো হয়েছে, আর প্রতিটি শার্টের লাভের অর্ধেক সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগী পাবেন। বাইরে জড়ো হওয়া ভক্তদের মধ্যে শার্ট ছুড়ে দেওয়া হয়। জিমি বলেন, প্রতিদিন এত মানুষ শুধু এদের দেখতেই আসে, আর তাঁর মতে এরা তাঁদের ভিডিওর ইতিহাসে সেরা কয়েকজন প্রতিযোগী।

23:59

ফুটবল চ্যালেঞ্জ: শপিং কার্টে বল লুফে খেলোয়াড় জেতা

৪০তম দিনে জিমি স্টোরে ঘাস নিয়ে আসেন, কারণ প্রতিযোগীরা প্রায় একশো দিন ঘাস দেখেননি। ঘাসের ওপর বানানো হয় একটা মিনি ফুটবল মাঠ। খেলার নিয়ম ছিল এরকম: টেন ইয়ার্ড লাইন থেকে শুরু করে একজন প্রতিযোগী মাঠে নামবেন, আর তাঁর দিকে বল ছোড়া হবে। শপিং কার্ট দিয়ে বলটা লুফে নিতে পারলে পরের ২৪ ঘণ্টার জন্য একজন ফুটবল খেলোয়াড় দলে যোগ দেবেন। প্রতি দশ গজ দূরত্বে আরও একজন করে খেলোয়াড় যোগ হবে, সর্বোচ্চ দশজন। খেলোয়াড়দের একজন দাবি করেন তিনি দিনে কুড়ি হাজার ক্যালোরি খেতে পারবেন। জিমির হিসাবে এমন দশজন পেলে প্রতিযোগীরা এক সপ্তাহ আগে বাড়ি যেতে পারতেন।

হুয়ান জীবনে কখনো ফুটবল খেলেননি, খুব চাপ অনুভব করছিলেন, তবু সহজেই প্রথম খেলোয়াড়টি জিতে নেন। পরের দফাতেও সফল হয়ে দলের খেলোয়াড় সংখ্যা তিনে পৌঁছায়। এলডিনের সামনে সুযোগ ছিল ছয়জন খেলোয়াড় পাওয়ার। এবার বল ছোড়েন ইসিইউ কোয়ার্টারব্যাক মিচ, কিন্তু এলডিন বল ফসকে ফেলেন। শেষ সুযোগ ছিল জ্যাকসনের। তিনি দীর্ঘ দূরত্বের বলটা ধরে ফেলেন, ফলে দল সাতজন খেলোয়াড় পায়।

প্রতিযোগীরা দলের সবচেয়ে বড় আর ক্ষুধার্ত খেলোয়াড়দের বেছে নেন, আর ২৪ ঘণ্টা ধরে তাঁদের যতটা সম্ভব খাওয়ান। তবে খুব দ্রুত হাজার হাজার ক্যালোরি খাওয়ার ফলে খেলোয়াড়দের সবার ঘুম পেয়ে যায়। জিমির নিয়মে ২৪ ঘণ্টা মানে ২৪ ঘণ্টাই, খাওয়া হোক বা ঘুম। সময় শেষে কোচ এসে তাঁদের নিয়ে যান, আর খেলোয়াড়রা যাওয়ার আগে "আর একটা রাত" থাকার আবদার করেন।

এর পরপরই আরেকটা ধাক্কা আসে। অ্যালিসনের সঙ্গে শিকলে বাঁধা ভিডিওটা শেষ করার জন্য হুয়ানকে কয়েকদিনের জন্য স্টোরের পেছনে নিয়ে যেতে হয়। তাঁর ফেরাকে প্রতিযোগীরা দলের জন্য "পজিটিভ এনার্জি" বলে বর্ণনা করেন, যা তাঁদের আবার খাওয়ায় মন দিতে সাহায্য করে।

পরিবার দিবস: ২৪ ঘণ্টার মিলন

৫০তম দিনে জিমি প্রতিযোগীদের পরিবারকে স্টোরে নিয়ে আসেন, আর পরিবারগুলো ২৪ ঘণ্টা তাঁদের সঙ্গে কাটায়। কয়েক মাস পর দেখা হওয়ার আনন্দ ছিল, তবে কাজও চলছিল: প্রতি ঘণ্টায় একটা করে স্মুদি, আর একজনের স্ত্রী রান্না করেন, যেটাকে তিনি গত চার মাসের সেরা খাবার বলেন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী, ক্যালোরি কমানোর ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে পরিবারগুলো বেশি সাহায্য করেছে।

২৪ ঘণ্টা খুব দ্রুত কেটে যায়, আর স্টোর আবার চুপচাপ হয়ে পড়ে। ধারাভাষ্যের বর্ণনায়, পরিবারকে দেখার পর তাঁদের মধ্যে নতুন জেদ তৈরি হয়। একজন বলেন, তিনি এখনো বাচ্চাদের "ড্যাডি" ডাক শুনতে পাচ্ছেন, আর সেটাই পৃথিবীর সেরা শব্দ। তিনি আরও বলেন, একশো চল্লিশ দিন আগে এসেছিলেন এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে যে পরিবারকে গর্বিত না করে ফিরবেন না।

30:27

হুয়ানের আঘাত আর "অপারেশন হিল হুয়ান"

দ্রুত বেরোনোর জন্য প্রতিযোগীরা পাগলের মতো ট্রেডমিলে দৌড়াচ্ছিলেন। ধারাভাষ্যের ভাষায়, একজনের ক্ষেত্রে পরিশ্রমটা বেশিই হয়ে গিয়েছিল। দৌড়াতে গিয়ে হুয়ানের গোড়ালিতে চোট লাগে, পা ফুলে যায়। একজন বলেন, পা দেখতে আনারসের মতো লাগছে। তবু হুয়ান জেদ ধরে থাকেন যে তাঁর জন্য কেউ পিছিয়ে পড়বে না। বাকিরা তাঁকে বরফ দিতে আর শুয়ে থাকতে বলছিলেন, তিনি শুনছিলেন না। হুয়ান নিজেই স্বীকার করেন, তাঁকে দু-তিন দিন ভারী কিছু তুলতে মানা করা হয়েছিল, আর তিনি শোনেননি। ক্রাচ পছন্দ না হওয়ায় সঙ্গীরা তাঁকে শপিং কার্টে বসিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে যান।

এই সময় তাঁদের প্রিয় জায়গা, ডকটা, তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এটাই ছিল বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁদের একমাত্র সংযোগ, তাই এতে তাঁরা খুব কষ্ট পান। পরে জিমি কারণটা দেখান। লাল দাগ সরিয়ে বাইরে একটা প্যাটিও বানানো হয়েছে, যেখানে একটা ব্ল্যাকস্টোন গ্রিলও আছে, যাতে তাঁরা রোদ পেতে পারেন। একই সঙ্গে জিমি সতর্ক করেন, ৬০তম দিনে জিনিস কঠিন হতে পারে। প্রতিযোগীদের একজন অনুমান করেন, সেটা হয়তো তাঁদের করা সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে।

হুয়ান ঠিক করেন চার দিন বিশ্রাম নেবেন। পরের দিন বাকিরা "অপারেশন হিল হুয়ান" শুরু করেন। হুয়ানকে নড়াচড়া না করিয়ে বসিয়ে রাখার উপায় হিসেবে তাঁর সঙ্গে ইংরেজি অনুশীলন করা হয়, স্মুদি বানিয়ে দেওয়া হয়, আর একটা ছোট সুইমিং পুল সেট করে পায়ে "ওয়াটার থেরাপি" দেওয়া হয়। ধারাভাষ্যের ভাষায়, আশ্চর্যজনকভাবে এটা কাজ করতে শুরু করে। কিছুদিন পর হুয়ান স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন, আর বলেন যা-ই আসুক তিনি থামতে চান না।

34:18

গোল্ডেন ট্রেডমিল: চব্বিশ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার

৬০তম দিনের চ্যালেঞ্জ ছিল "গোল্ডেন ট্রেডমিল"। তখন স্টোরে ২৪ লক্ষ ক্যালোরি বাকি ছিল। শর্তগুলো ছিল এরকম:

  • টাইমার চালু হলে ২৪ লক্ষ থেকে একটা কাউন্টার ক্রমাগত কমতে থাকবে।
  • চারজন মিলে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দৌড়ানো শেষ করলে কাউন্টার যেখানে থামবে, ঠিক তত ক্যালোরির খাবার স্টোর থেকে বের করে অভাবী মানুষদের দেওয়া হবে।
  • চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১৬০ কিলোমিটার শেষ করতে না পারলে কোনো ক্যালোরিই বের করা হবে না।

হুয়ান শুরু করেন ঘণ্টায় সাতের গতিতে। জিমির মতে পুরো সময় এই গতি ধরে রাখা পাগলামি হবে, আর হুয়ানের পেশিতে টান লাগলে দলের একজন সদস্য কমে যাবে। শুরুতে তাঁদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। প্রথম দেড় কিলোমিটারের মধ্যে একটা পরিকল্পনা দাঁড়ায়: প্রত্যেকে দেড় কিলোমিটার করে দৌড়াবেন, বাকিরা বিশ্রাম নেবেন। পাশাপাশি জল আর স্ন্যাকস দিয়ে একটা রিফুয়েল স্টেশন বানানো হয়।

ট্রেইনার জনের পূর্বাভাস ছিল, এই গতি হয়তো চল্লিশ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরে রাখা যাবে, কিন্তু এটা একসঙ্গে চারটে ম্যারাথন। তাঁর অনুমানে আশি কিলোমিটারের কাছে গতি কমবে। ধারাভাষ্য অনুযায়ী ঠিক তা-ই হয়। অর্ধেক পথের পর ক্লান্তি আসে আর গতি কমে যায়। হুয়ান বলেন তিনি ক্লান্ত নন, শুধু হাঁটুতে ব্যথা করছে। একজন স্বীকার করেন, তিনি জীবনে কখনো এত দৌড়াননি, প্রথম দেড় কিলোমিটার দৌড়েছেন মাত্র কয়েকদিন আগে। কারও ক্র্যাম্প হয়। জিমি ব্যাখ্যা করেন, এটা শুধু স্ট্যামিনার পরীক্ষা নয়, সময়ের সঙ্গে দৌড়ও। যত সময় লাগবে, কাউন্টার তত কমবে, আর শরীরও তত ভাঙবে। একসময় কাউন্টার দশ লক্ষের নিচে নেমে যায়। গতি ধরে রাখতে না পারলে কাউন্টার শূন্যে নেমে সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে যেতে পারত।

শেষ ধাপে প্রতিযোগীরা পরিবারের কাছ থেকে শক্তি খোঁজেন। একজনের সন্তানের বার্তা আসে, "বাবার জন্য গর্বিত।" কেউ বাবা-মাকে দেখতে চান। কেউ বাড়িতে সেরা বন্ধু কেসির কাছে যাওয়ার কথা বলেন। একজন প্রতিশ্রুতি দেন, "আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরছি।" শেষ কিলোমিটারে জিমি মাসাজ থেরাপিস্ট আনেন। অবশেষে ১০০ মাইল সম্পন্ন হয়। জিমি জানান, এর চেয়ে বেশি অ্যাথলেটিক একটা দলকে দিয়ে এটা চেষ্টা করানো হয়েছিল, তাদের সংখ্যা ছিল তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার। তাঁর ভাষায় প্রতিযোগীরা "সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছ"। ফল দাঁড়ায় ছয় লক্ষ ক্যালোরি, যা স্টোর থেকে বের করে অভাবীদের দেওয়া হয়। একজন বলেন, এটা খেতে অন্তত দুই মাস লাগত।

39:24

অতিথি, পুরনো ঐতিহ্য আর অপছন্দের খাবার

এরপর জিমি আরও দুজন অতিথি পাঠান: জিম আর মনিকা। তাঁরা একটা ভিডিওতে ল্যাম্বরগিনি চালিয়ে পৃথিবী ঘুরছেন, আর গাড়ি নিয়েই স্টোরে ঢোকেন। দুজনকেই অন্তত দশ হাজার ক্যালোরি খেয়ে তবে বেরোতে হবে। প্রতিযোগীরা তাঁদের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার ক্যালোরির স্মুদি আর পাস্তা বানান। এই ফাঁকে এলডিন ল্যাম্বরগিনি নিয়ে স্টোরের ভেতরে জয়রাইড করেন। জিম আর মনিকা চলে যাওয়ার পর ধারাভাষ্যে বলা হয়, এটা প্রতিযোগীদের মনে করিয়ে দেয় যে বাইরের জীবন এগিয়ে চলেছে।

হুয়ানের জন্য এই অনুভূতি ছিল বিশেষভাবে ভারী। তিনি জানান, তাঁর জন্মভূমির মানুষদের সঙ্গে প্রতি বছর ৪ঠা জুলাই তিনি ফুটবল খেলেন। পঁচিশ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সেটা মিস করলেন। হুয়ান জানান তিনি বাড়ি যেতে চান। এরপর জিমি হুয়ানের ফুটবল টুর্নামেন্টটাই স্টোরে নিয়ে আসেন। ৭০তম দিনে হুয়ানের বন্ধু আর পরিবার সারা সন্ধ্যা খেয়ে ৫৫ হাজার ক্যালোরি কমান। হুয়ান কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন তিনি সত্যিই খুব খুশি। তবু অনেক খাবার বাকি ছিল।

এই পর্যায়ে প্রতিযোগীরা এমন সব খাবার খেতে শুরু করেন যা তাঁরা খেতে চান না। দানের পরেও প্রচুর বিনস বাকি থাকে, আর পেঁয়াজের জুস পর্যন্ত চেষ্টা করা হয়। একজন তার গন্ধকে হাইস্কুলের জিমের লকার রুমের সঙ্গে তুলনা করেন। ৭৪তম দিনে তাঁরা জিমিকে পাম্পকিন প্রোটিন পাউডার, রাইস কেক, পাঁচ সার্ভিং মেপল সিরাপ আর চকোলেট বার দিয়ে বানানো একটা স্মুদি খাওয়ান। ক্যামেরা টিমকেও ভাগ দেওয়া হয়।

43:25

জোয়ি চেস্টনাটের বিরুদ্ধে বিনস খাওয়া আর নতুন গাড়ি

প্রতিযোগীরা নিজেদের মধ্যে গাড়ি নিয়ে কথা বলছিলেন। কেউ স্পোর্টস কার চান, কেউ কাজের জন্য ট্রাক। রেহান বলেন তিনি আরও সন্তান চান, তাই এসইউভি দরকার। জিমি সেই কথা শুনে নির্দিষ্ট গাড়িগুলো এনে দেখান। শর্ত ছিল, এগুলো জিততে হলে প্রতিযোগিতামূলক খাওয়ার জগতের তারকা জোয়ি চেস্টনাটের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। জিমি নিজেও প্রতিযোগীদের দলে যোগ দেন। পাঁচজন মিলে খাবেন ৮ পাউন্ড বিনস, জোয়ি একা ১৬ পাউন্ড। জোয়ি শেষ করার সময় দলের দিকে একটা বিনও বাকি থাকলে দল হেরে যাবে। জিমির কথায় ১৬ পাউন্ড বিনস নিজেই একটা বিশ্বরেকর্ড।

প্রতিযোগিতায় জ্যাকসন আর হুয়ান দ্রুত খাচ্ছিলেন, কিন্তু জোয়ি আগে ১০০ শতাংশে পৌঁছে যান, আর দলটি হেরে যায়। জোয়ি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তবু জিমি ঘোষণা করেন, প্রত্যেকে একটা করে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি জিতেছেন। এই পর্যায়ে স্টোরে দশ লক্ষের কম ক্যালোরি বাকি ছিল, অর্থাৎ তাঁরা প্রায় ৭৫ শতাংশ খেয়ে ফেলেছিলেন। একজন বলেন তাঁর স্ত্রীর একটা গাড়ি দরকার ছিল। জিমি বলেন তিনি জানতেন গাড়ি পছন্দ হবে, কিন্তু এতটা হবে বুঝতে পারেননি।

এরপর কয়েকটা হালকা মুহূর্ত আসে। নতুন গাড়ি নিয়ে মজার "পুলিশ তাড়া" অভিনয় হয়, যেখানে কুকিজ আর ফিস্টেবলস নিয়ে ধরা পড়ার নাটক করা হয়। গাড়ির জায়গা করতে ৮৫ থেকে ৯০তম দিন পর্যন্ত তাক সরিয়ে স্টোরটা নতুন করে সাজানো হয়। ধারাভাষ্যের মতে, গাড়ি জেতা শুধু মজা ছিল না, দলটা যে কতটা ভালো, তারও প্রমাণ ছিল। প্রতিযোগীরা একে অপরের ভূমিকার কথা বলেন: হুয়ান সবসময় পরিষ্কার করেন আর সক্রিয় থাকেন, জ্যাকসন জিমের অনুপ্রেরণা আর ওয়েট লিফটিংয়ে দক্ষ, এলডিন সবাইকে হাসান।

প্রথম ভিডিওর প্রতিযোগীদের প্রত্যাবর্তন আর লুকোনো ২২ দিন

১০০তম দিনে জিমি প্রথম গ্রোসারি স্টোর ভিডিওর সব প্রতিযোগীকে ফিরিয়ে আনেন, যাঁরা এক ঘণ্টা খাবার খেতে সাহায্য করবেন। জিমির বর্ণনায়, ১৮৯ দিন আগে কয়েকজন অচেনা মানুষ এই স্টোরে ঢুকে অজান্তেই আড়াই লক্ষ ডলারের একটা প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন, যা দ্রুত তাঁদের বানানো সবচেয়ে বিশৃঙ্খল ভিডিওতে পরিণত হয়। পুরনো প্রতিযোগীরা দেখেন, প্রথম ভিডিওর "ফোর্ট ফ্রিজি" এখন জিম হয়ে গেছে। একজন হুয়ানের জন্য নতুন হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে আসেন। পুরনোরা মন্তব্য করেন, শরীর দেখে মনে হচ্ছে চারজন অবশেষে বডি বানিয়েছেন। হুয়ান বলেন, এই মুখগুলো আবার দেখে তিনি খুব খুশি। আরেকজন জানান, ছয় মাসের বেশি এখানে থেকে তাঁরা ক্লান্ত।

এই সময় জিমি একটা তথ্য সামনে আনেন। পুরনো প্রতিযোগীদের দেখে বোঝা যায়, চারজন আসলে স্টোরে ১০০ দিন নয়, ১৮৮ দিন ধরে আছেন। কারণ স্টোর আবার ভরার সময় তাঁদের আরও ২২ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এতে তাঁরা বুঝে যান যে খুব দ্রুত বেরোতে হবে।

শেষের দিকে খাদ্য তালিকা ছোট হয়ে আসে। ব্লেন্ডারের শেষ দিন আসে, ফ্রোজেন ডিম খেতে হয়, শেষ চিংড়িও খাওয়া হয়, যদিও একজনের চিংড়ি পছন্দ নয়। চার মাস আগে তাঁরা বলেছিলেন, স্টেকে পৌঁছালে বুঝবেন জিতে গেছেন। সেই দিন আসে, আর স্টেক হয় রাতের খাবার।

জ্যাকসনের প্রস্তাব আর হুয়ানের আংটি

শেষ পর্বে জ্যাকসন জানান, দীর্ঘ চিন্তার পর তিনি গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার আগে মেয়ের বাবা-মায়ের অনুমতি চাইতে চান। নার্ভাস হওয়ায় তিনি কাজটা পিছিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই জিমি এসে তাঁকে সাহস দেন। ফোনে জ্যাকসন বাবা-মাকে বলেন, তাঁদের মেয়ে তাঁর কাছে "পুরো পৃথিবী", আর বিয়ের অনুমতি চান। উত্তর আসে "ইয়েস"। এরপর আংটি বাছাই করা হয়। মেয়েটি অনন্য জিনিস পছন্দ করেন বলে জ্যাকসন একটা ওভাল আংটি বেছে নেন। জিমি তখন হুয়ানকে জিজ্ঞেস করেন তিনি আংটি পরেন কিনা। হুয়ানের আংটি নেই জেনে তাঁকেও স্ত্রীর জন্য একটা আংটি বেছে নিতে দেওয়া হয়।

ট্র্যাকারের তথ্য দিয়ে পুরস্কার বিতরণ

চ্যালেঞ্জের শেষ দিকে জিমি জানান, গত ১১০ দিন প্রতিযোগীরা যে ফিটবিট এয়ার ট্র্যাকার পরেছিলেন, তার তথ্য দিয়ে কে কোন ক্ষেত্রে সেরা তা দেখা হবে। ফলাফল ছিল এরকম:

  • সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন: জ্যাকসন, ৪,৫১,২৯৯ ক্যালোরি।
  • সবচেয়ে বেশি ঘুম: এলডিন, ১,০৫৪ ঘণ্টা ৪ মিনিট।
  • সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি রান্না: রেহান, ২০,১১,৫৫৫ ক্যালোরি।
  • সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ: হুয়ান, ২৭,৩৫,০০০ স্টেপ।

এর সঙ্গে জিমি জানান, প্রত্যেকে একটা হেলথ অ্যাপের আজীবন প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন পেয়েছেন, যাতে স্টোরে অর্জিত অভ্যাস বাইরের জীবনেও ধরে রাখা যায়।

শেষ দিন: ৩,৮৮২ ক্যালোরি আর দশ লক্ষ ডলার

১৯৮তম দিনে ৫০ হাজারের কম ক্যালোরি বাকি ছিল, আর হাতে দুই দিন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩ লক্ষ ক্যালোরি খেয়েছেন, আর পুরো সময়ে হারিয়েছেন মাত্র ৬,৬১৪ ডলার। শেষ খাবারের জন্য রেহান পাউরুটি বানান। তিনি বলেন, তাঁর মা সবচেয়ে ভালো যে কাজটা করেছেন তা হলো তাঁকে পাউরুটি বানানো শেখানো। শেষ রাতে তাঁরা জমিয়ে রাখা টয়লেট পেপার দিয়ে স্টোর সাজান, যেমনটা আগেরবার বাড়ি যাওয়ার কথা ভেবে করেছিলেন। ধারাভাষ্যের ব্যাখ্যায়, এটা ছিল তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন আর কী পার করেছেন তার স্মৃতিচারণ।

শেষ দিনে বাইরে বৃষ্টির মধ্যে শত শত ভক্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাকি ছিল ৩,৮৮২ ক্যালোরি। জিমি বলেন, ২০২ দিন আগে এই চারজন খাবার কিনতে স্টোরে ঢুকেছিলেন, আর ৯০ জনেরও বেশি মানুষকে পেছনে ফেলে এখন শেষ খাবার তাঁদের সামনে। পরিবার আর অর্ধেক শহরের সামনে তাঁরা শেষ কামড় খান। একজন বলেন, উত্তেজনায় তিনি কাঁপছেন। আরেকজন বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মুখ ভর্তি করে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

জিমির পর্যালোচনায়, তিনি একটা সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন অচেনা মানুষেরা গ্রোসারি স্টোরে একে অপরকে টেক্কা দিতে গেলে কী হয়। তারপর চারজন থেকে যান এবং খেয়ে বেরোনোর পথ নেন। শেষ রাতে প্রতিযোগীরা বলেন, এখানে আসার সময় কেউ কাউকে চিনতেন না, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে ছিলেন, আর অন্য কাউকে নিয়ে এটা করা সম্ভব হতো না। তাঁদের ভাষায়, এখন তাঁরা "বেস্ট ফ্রেন্ডস ফরএভার"।

শেষ কামড়ের পর জিমি ঘোষণা করেন, তাঁরা দশ লক্ষ ডলার জিতেছেন। হুয়ান স্ত্রীকে মনে করিয়ে দেন, একসময় টাকার অভাবে তাঁর আংটি ফেরত দিতে হয়েছিল, আর এখন তিনি নতুন আংটি দিচ্ছেন। জ্যাকসন গার্লফ্রেন্ডকে বলেন, তাঁরা একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছেন, আর একটা কাজই বাকি আছে। তিনি প্রস্তাব দেন, উত্তর আসে "হ্যাঁ, আমি রাজি"। দুশো দিনের বেশি সময়ের চ্যালেঞ্জ এভাবেই শেষ হয়: পুরো স্টোর খালি, পুরস্কার থেকে কাটা গেছে শুধু সেই একবারের নষ্ট সবজির দাম, আর চারজন অচেনা মানুষ বাড়ি ফিরছেন বন্ধু হয়ে।