পুলিশ আর অপরাধীকে ১০০ দিন একসঙ্গে কারাগারে রাখার পরীক্ষা: $৫,০০,০০০ পুরস্কার কি টিকল?

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে উপস্থাপক জিমি (MrBeast) একটি প্রশ্ন সামনে রাখেন: সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন থেকে আসা একজন পুলিশ কর্মকর্তা আর একজন সাবেক অপরাধী কি একটি নকল সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে ১০০ দিন একসঙ্গে টিকে থাকতে পারবেন? দুজনই শেষ পর্যন্ত থাকলে তাঁরা অর্ধেক মিলিয়ন ডলার পাবেন। কিন্তু যে কেউ মাঝপথে চলে গেলে দুজনের কেউই কিছু পাবেন না। প্রতি দশ দিন পরপর জিমি একটি করে "অফার" দেন। প্রায় প্রতিটি অফার এমনভাবে সাজানো যে আরাম, টাকা আর পারস্পরিক আস্থার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

16 মিনিটে পড়া

অংশগ্রহণকারী, নিয়ম আর কারাগারের নকশা

প্রতিযোগী দুজন হলেন লেনি আর ইয়ান। লেনি ১৭ বছর পুলিশে কাজ করেছেন। ইয়ান ৩ বছর ফেডারেল কারাগারে ছিলেন। ইয়ান জানান, তাঁর সাজা হয়েছিল প্রতারণা ও অর্থ পাচারের দায়ে। তাঁর ভাষায়, তিনি একজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে আরেকজনকে দিতেন, সবার টাকা হারান, এবং ক্ষতির ব্যাপারে মিথ্যা বলেছিলেন। জেল থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর প্রায় $৫,০০,০০০ দেনা ছিল। জিমি মন্তব্য করেন, অঙ্কটা কাকতালীয়ভাবে এই চ্যালেঞ্জের পুরস্কারের সমান।

জিমির দাবি, কারাগারটি একটি আসল কারাগারের ১:১ অনুকরণ। এখানে আসল কারাগারের টয়লেট আছে, বসার জায়গা ঠান্ডা আর শক্ত। পার্থক্য একটাই: এখানে বালিশ আছে। ইয়ান জানান, আসল জেলে বালিশ দেওয়া হতো না। দিনে তিনবার খাবার দেওয়া হয়, প্রতি রাতে একই সময়ে আলো নেভে, প্রতিদিন সকালে জাগানোর ঘণ্টা বাজে। সব সময় অসংখ্য ক্যামেরা তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখে, আর প্রযোজকরা তাঁদের সব কথা শোনেন। পরে এই কথোপকথন থেকেই অফার বানানো হয়।

প্রথম দিনগুলো: বাঙ্ক, নাক ডাকা আর মানিয়ে নেওয়া

প্রথম রাতেই ছোট একটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। নিচের বাঙ্ক কে নেবেন, তা নিয়ে কথা ওঠে। লেনি যুক্তি দেন, জেলে বয়স্কদের সম্মান করার নিয়ম চলে, তাই বড়জন আগে বাছবেন। সকালে ইয়ান অভিযোগ করেন, লেনির নাক ডাকার জন্য তিনি সারারাত জেগে ছিলেন। লেনি নিজে বিষয়টা পুরোপুরি মানেননি। শেষে ইয়ান নিজের বিছানা সরিয়ে নেন, এই আশায় যে আওয়াজ একটু কম শোনা যাবে।

জিমি দুজনের অভিজ্ঞতার পার্থক্যটা তুলে ধরেন। ইয়ান বলেন, জায়গাটা আসলে বেশ আরামদায়ক, আর প্রথম খাবার আসল জেলের চেয়ে ভালো দেখাচ্ছে। লেনির কাছে ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগে। সারাজীবন তিনি মানুষকে বন্দী করেছেন, এখন অন্য পাশে বসে আছেন, আর অন্যরা ঠিক করে দিচ্ছে কখন ঘুমাবেন, কখন উঠবেন, কখন খাবেন। একঘেয়েমি কাটাতে দুজন মিলে বিছানার ফ্রেম দিয়ে একটা বাস্কেটবল হুপ বানান এবং সেটাকে পুল-আপ বার হিসেবেও ব্যবহার করেন। ইয়ান মজা করে বলেন, প্রথমবার জেলে তিনি খুব একটা অ্যাথলেটিক ছিলেন না, তাই এবার সেটা পুষিয়ে নিচ্ছেন।

দিন ১০: আঙিনার জন্য "প্রিজনার্স ডিলেমা"

তাঁদের ব্যায়ামের আগ্রহ দেখে জিমি দশম দিনে একটা খোলা আঙিনা দেখান। সেখানে পুল-আপ বার আর বাস্কেটবল গোল আছে, প্রতিদিন এক ঘণ্টার জন্য। এর দাম পুরস্কার থেকে $৫০,০০০। শর্তটা ছিল এরকম: দুজনকে আলাদা ঘরে বসিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। দুজনেই রাজি হলে দুজনেই $৫০,০০০-এ আঙিনা পাবেন। একজন রাজি হলে আর অন্যজন না হলেও পুরস্কার থেকে $৫০,০০০ কাটা যাবে, কিন্তু আঙিনায় যেতে পারবেন শুধু রাজি হওয়া জন। জিমি প্রশ্নটা এভাবে রাখেন: দশ দিন একসঙ্গে থেকে তোমরা কি বলতে পারো অন্যজন কী বাছবে?

দুজনের ভাবনায় দ্বিধা স্পষ্ট ছিল। একজন বলেন, জীবনে খারাপ চরিত্রের মতো দেখাতে দেখাতে তিনি ক্লান্ত, কিন্তু ৯০ দিন ধরে "ভালো চরিত্র" হয়ে থাকাও কষ্টের। শেষে দুজনেই "হ্যাঁ" বলেন। ইয়ান জানান, টাকা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলেছে। সময়টা পার করার জন্য তিনি আরামে থাকতে টাকা খরচ করতে প্রস্তুত, কারণ আরামের জিনিসগুলো বাদ দিলে হয়তো শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোই যাবে না। তাঁর হিসাবে, কিছু টাকা থাকা না থাকার চেয়ে ভালো। আঙিনায় প্রথম দিন তাঁরা একে "স্বাধীনতা" বলে উদযাপন করেন এবং বলেন, $৫০,০০০ ভালোভাবে খরচ হয়েছে। জিমির পর্যবেক্ষণ ছিল, অন্তত তখনকার মতো আঙিনাই তাঁদের একে অপরকে সহ্য করার মতো ধৈর্য দিচ্ছিল।

দিন ২০: রান্নাঘর বনাম আঙিনা, সিদ্ধান্ত একজনের হাতে

জিমি বলেন, কারাগারটা আসলের মতো বানানো, তাই খাবারও আসলের মতোই খারাপ। "ওয়ার্ডেন জিমির মিটলোফ" দেখে একজন বলেন, এটা সম্ভবত গ্রেভিতে গলানো একটা জমাট বার্গার। লেনি স্বীকার করেন, তিনি জানতেন না যাদের গ্রেপ্তার করেছেন তারা এই খাবার খায়।

বিশতম দিনের অফার ছিল উপকরণ আর রান্নার সরঞ্জামে ভরা একটা রান্নাঘর, যেখানে তিন বেলা ইচ্ছেমতো রান্না করা যাবে। বদলে প্রতিদিনের আঙিনার সময় ছেড়ে দিতে হবে। এবার দুজনের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন একজন। ইয়ান সেই ভার লেনিকে দেন এবং বলেন, তাঁরা অনেক কথা বলেন, তাই তাঁর ওপর বিশ্বাস আছে। লেনি আঙিনা রাখেন। জিমি অবাক হয়ে বলেন, তাঁরা তো প্রতিদিন খাবার নিয়ে অভিযোগ করেন, তিনি ভেবেছিলেন রান্নাঘরই নেবেন। পরদিন দুজনেই জানান, তাঁদের কোনো আফসোস নেই। সারাদিন বন্দী হয়ে না থাকতে পেরেই তাঁরা খুশি।

এই সময়ে দুজনের মনে বাইরের জীবন ভিড় করতে থাকে। লেনি বলেন, পরিবারের জন্য টাকা জেতাই চূড়ান্ত লক্ষ্য, তাঁর স্ত্রী ও পরিবার তাঁর ওপর নির্ভর করছে। ইয়ান জানান, আগের সাজার সময় এক বছর পরিবার ছাড়া ছিলেন। সেই বছরে বাবাকে একবার মাত্র দুই দিনের জন্য দেখেছিলেন, ভাই বা মায়ের সঙ্গে দেখাই হয়নি। দিনে মাত্র এক ঘণ্টা আঙিনার সময় থাকায় দুজন অস্থির হয়ে পড়েন এবং সময় কাটানোর নতুন উপায় বের করেন, যেমন "কেচাপ ডজবল"।

দিন ৩০: বিনামূল্যের লাইব্রেরি, কিন্তু শুধু একজনের জন্য

এক মাস পূর্ণ হলে জিমি একটা লাইব্রেরি খোলেন। সেখানে শত শত বই, ম্যাগাজিন আর একটা কম্পিউটার আছে। প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, কিন্তু পরের ৭০ দিন প্রতিদিন এক ঘণ্টার জন্য ঢুকতে পারবেন মাত্র একজন। বই বাইরে আনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। লেনি একটা বাইবেল তুলে নিয়ে বলেন, এটাই তাঁর একমাত্র দরকারি বই। ইয়ান কম্পিউটারের দিকে যান, আর জিমি সেটা ফেরত রাখতে বলেন। সিদ্ধান্ত নিতে জিমি দুজনকে দুই ঘণ্টা সময় দেন।

এই অফার নিয়েই প্রথম বড় কথা কাটাকাটি হয়। ইয়ান মনে করেন, লাইব্রেরিটা স্পষ্টতই তাঁদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর জন্য বানানো, তবে বিনামূল্যের জিনিস ছেড়ে দেওয়ার মানে হয় না। প্রশ্ন শুধু, কে নেবেন। লেনি বলেন, পরের ৭০ দিন পার করতে বাইবেলই তাঁর একমাত্র ভরসা, এটা শুধু বিনোদন নয়। ইয়ান পাল্টা বলেন, তিনি ধার্মিক নন বলে কি এটা সমস্যা? লেনি জবাব দেন, তিনি সেরকম কিছু বলেননি। উত্তেজনায় এক পর্যায়ে কথা ওঠে যে তাহলে কেউই বই নেবেন না।

শেষ পর্যন্ত লাইব্রেরি পান ইয়ান। জিমি জিজ্ঞেস করলে কারণ হিসেবে বলা হয়, আঙিনার অফারে অন্যজন দ্বিধা ছাড়াই রাজি হয়েছিলেন এবং টাকা হারাতে প্রস্তুত ছিলেন, তাই এবার তাঁকে ন্যায্য প্রাপ্য দেওয়া উচিত। ইয়ান স্বীকার করেন, পুলিশের কাছ থেকে এমনটা আশা করেননি, এবং তিনি ভুল ছিলেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি লেনির জন্য বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি লিখে আনতে শুরু করেন। লেনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, ইয়ানের মাধ্যমেই তিনি অভিজ্ঞতাটা পাচ্ছেন।

"পাচারকারী বন্দী": নিয়ম ভাঙার শুরু

পরদিন সকাল থেকেই ইয়ান সীমা পরীক্ষা করতে শুরু করেন। প্রথমে বইয়ের পাতা ছিঁড়ে এনে ছোট শিল্পকর্ম বানিয়ে দেয়ালে ঝোলান। তারপর পুরো বইই লুকিয়ে আনতে থাকেন। নিজেকে নাম দেন "Smuggler Vic"। বাথরুমসহ সব জায়গায় বই লুকিয়ে রাখেন এবং জানান, যতটা পারেন আরও সংগ্রহ করবেন। জিমির বর্ণনায়, সব সময় ক্যামেরা তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকলেও দুজন এমনভাবে চলছিলেন যেন কখনো ধরা পড়বেন না। এই সময়ে লেনিও উপকরণগুলো উপভোগ করছিলেন।

দিন ৪০: সবকিছুর দাম $১০,০০০

চল্লিশতম দিনে একটা দোকান খোলা হয়। জিমি জানান, বন্দীদের কথোপকথন ঘেঁটে তাঁদের চাওয়া জিনিসপত্র দিয়ে দোকানটা সাজানো হয়েছে। বাইরে $১-এর হ্যান্ডবল থেকে শুরু করে একটা রহস্য বাক্স পর্যন্ত, এখানে প্রতিটি জিনিসের দাম $১০,০০০। টাকা কাটা যাবে তাঁদের জেতা পুরস্কার থেকে। একবারে একজন ঢুকতে পারবেন। পাথর-কাগজ-কাঁচি খেলে লেনি আগে যান এবং শুধু রহস্য বাক্সটা কেনেন।

ইয়ান নিজেই জানতেন, বেশি খরচ করলে লেনি রেগে যাবেন। তবু তিনি $৩০,০০০ খরচ করেন। মেলাটোনিন, হেয়ার ক্লিপার, স্লিপ মাস্ক, চকলেট, রঙিন পেন্সিল আর কাগজ কেনেন। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, অনেক টাকা খরচ করার জন্যই তিনি জেলে গিয়েছিলেন, আর চারপাশে শুধু ডলারের চিহ্ন দেখছিলেন, লোভ সামলাতে পারেননি। লেনি বলেন, জিনিসগুলো সত্যিই দরকারি মনে হলে তিনিও $১০K খরচ করতেন। তবে রহস্য বাক্স খুলে দেখা যায় ভেতরে $২০,০০০। জিমি মজা করে বলেন, লেনি টাকা কামাচ্ছেন। লেনির মনে হয়, এখন যথেষ্ট আছে, আর কিছু কেনার দরকার নেই।

কেনা জিনিসগুলো সময় কাটাতে সত্যিই কাজে আসে। তাঁরা রঙিন পেন্সিলে ছবি আঁকেন, কাগজে বিমান বানান, আর লেনি ইয়ানকে "জীবনের সবচেয়ে দামী হেয়ারকাট" দেন। শেষে লেনি স্বীকার করেন, ইয়ানের এনে দেওয়া ইয়ারপ্লাগ আর মেলাটোনিন তাঁকে বাড়তি বিশ্রাম দিচ্ছে।

দিন ৫০: পরিবারের সাক্ষাৎ এবং সলিটারির শাস্তি

দুজনই সবচেয়ে বেশি চাইছিলেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, যা দোকানে কেনা যায় না। পঞ্চাশতম দিনে জিমি প্রথমে ক্লিপ দেখান: ইয়ান প্যান্টে বই লুকাচ্ছেন, এক সময় বই ফেলে দিচ্ছেন, শেষে খোলাখুলি বই হাতে বেরিয়ে আসছেন। এরপর জিমি জানান, দুজনের পরিবারই বাইরে একটা কারাগারের বাসে বসে আছে এবং বিনামূল্যে দেখা করতে পারত। কিন্তু নিয়ম ভাঙা হয়েছে বলে মাত্র একজন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন, আর ১০০ দিন শেষ হওয়ার আগে এটাই একমাত্র সুযোগ।

ইয়ান সুযোগটা লেনিকে দেন। কারণ হিসেবে বলেন, লেনি যেমন তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তিনিও তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এরপর জিমি আরেকটা মোড় আনেন। লেনির পরিবার যতক্ষণ খুশি থাকতে পারবে, কিন্তু যতক্ষণ তারা থাকবে, ইয়ান ততক্ষণ সলিটারি কনফাইনমেন্টে থাকবেন। লেনির সন্তানরা বাবাকে জড়িয়ে ধরে। তাদের কাছে বাবাকে নীল পুলিশের পোশাকের বদলে কমলা পোশাকে দেখা "খুব অদ্ভুত" লাগে। লেনি বলেন, সাক্ষাৎটা তাঁর জন্য রিচার্জের মতো, এবং দিন ১০০ পর্যন্ত যেতে তাঁকে আরও উদ্বুদ্ধ করছে। অন্যদিকে ইয়ান বলেন, তিনি কুকুরের মতো বন্দী হয়ে আছেন। প্রতি মিনিটে তাঁর রাগ বাড়ছিল, আর তিনি বলেন অভিজ্ঞতাটা তাঁকে PTSD দিচ্ছে।

সলিটারি থেকে বেরিয়ে ইয়ান লেনিকে "লেনি দ্য স্নিচ" বলে ডাকেন। তাঁর অভিযোগ, লেনিই বই পাচারের কথা ফাঁস করেছেন এবং চোরাচালানটা ইয়ানের আইডিয়া বলে তাঁকে "বাসের নিচে ফেলে দিয়েছেন"। লেনি জবাব দেন, তিনি কিছু ফাঁস করেননি, সবকিছু ক্যামেরায় ছিল। বিছানার নিচে লুকানো বই নিয়েও দুজনের কথা মেলে না। লেনি আরও বলেন, ইয়ান স্বেচ্ছায় সুযোগটা দিয়েছিলেন, তাহলে অভিযোগ কেন। লেনি শেষে বলেন, ইয়ানের উচিত নিজের কথার দিকে খেয়াল রাখা। এরপর দুজনের কথাবার্তা অনেক কমে যায়। লেনির ভাষায়, ইয়ান দাবা বা বাস্কেটবল কিছুই খেলতে চাইছিলেন না, যে যার রুটিনে চলছিলেন। ইয়ান জানান, তিনি বিষণ্ণ, যথেষ্ট হয়েছে, বাড়ি যেতে চান। জিমি মনে করিয়ে দেন, চ্যালেঞ্জের তখন মাত্র অর্ধেক পার হয়েছে, আর ইয়ান চলে গেলে দুজনেই সব হারাবেন।

দিন ৬০ ও ৭০: বিভেদ গভীর হওয়া

ষাটতম দিনে জিমি বলেন, তাঁর অফার দুজনকে আবার কাছে আনবে। অফারটা ছিল একটা পুরনো টিভি, ভিসিআর, কিছু পুরনো সিনেমা আর বোর্ড গেম। পরের ৪০ দিন প্রতিদিন এক ঘণ্টা, দাম $৩০,০০০। একটা সিনেমা এক ঘণ্টায় শেষ হয় না, তাই অর্ধেক আজ, বাকিটা কাল দেখতে হবে। ইয়ান এটাকে "terrible deal" বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সিনেমার নির্বাচনও তাঁর পছন্দ হয়নি। এরপর জিমি ইয়ানকে তল্লাশির নির্দেশ দেন, এবং অন্তর্বাস থেকে লুকানো জিনিস বেরোয়। জিমি বলেন, আগেরবার নিয়ম ভেঙে এখন সহানুভূতি খুঁজছেন, আর টিভি সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইয়ানের অনুভূতি ছিল, প্রতি দশ দিনে তাঁকে "brutalize" করা হচ্ছে। পরিবার নেই, একটা ফোন কলও নেই, আর তিনি দ্বিতীয়বার বাসের নিচে পড়েছেন। লেনি স্বীকার করেন, ইয়ানের সবসময় কিছু না কিছু নিয়ে অভিযোগে তিনি বিরক্ত, আর চিন্তিত যে ইয়ান ছেড়ে দিতে পারেন। আশি দিনের "সবচেয়ে বড়" অফারের পরিকল্পনা থাকায় জিমি সত্তরতম দিনে কিছু দেননি, যাতে তাঁরা নিজেরা বিভেদ মেরামত করতে পারেন।

কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। দুজনেই বলেন, পড়া, ব্যায়াম, দাবা ছাড়া কিছু নেই, এবং ব্যাপারটা মানসিকভাবে কঠিন। ইয়ান লেনিকে "দ্য স্নিচিং কনভিক্ট" বলে খোঁচা দিতে থাকেন। জিমির মতে, ইয়ান কিছু বিষয় ছাড়তে রাজি ছিলেন না, কারণ একবারের সাক্ষাতের সুযোগটা শুধু লেনিই পেয়েছিলেন। এক পর্যায়ে লেনি নিজেও বলেন, ইয়ানের সঙ্গে সারাক্ষণ নেতিবাচক পরিবেশে থেকে তিনি হতাশ। কম টাকার প্রস্তাব পেলেও তিনি নিয়ে চলে যাবেন। জিমি বলেন, মাত্র ২০ দিন বাকি থাকতে মনে হচ্ছিল তাঁরা ব্যর্থ হতে চলেছেন।

দিন ৮০: ২,০০০ পাউন্ডের পাথর আর $১,০০,০০০-এর চাবি

জিমির পরের অফারকে তিনি নিজেই বর্ণনা করেন বন্ধুত্ব ফেরানোর সুযোগ হিসেবে, আবার পুরো ভিডিও শেষ করে দেওয়ার কারণ হিসেবেও। সামনে রাখা হয় ২,০০০ পাউন্ডের একটা পাথর। ভেতরে একটা চাবি, যা দিয়ে $১,০০,০০০ ভরা একটা বাক্স খোলা যাবে। পরের ১০ দিন প্রতিদিন এক ঘণ্টা পাথর ভাঙার সময় পাবেন। ঝুঁকি নিতে হলে এখনই $৫০,০০০ দিতে হবে, আর কাজটা করতে হবে একসঙ্গে। দুজনেই রাজি হন।

প্রথম ঘণ্টায় অবিরাম আঘাত করেও তেমন কিছু হয় না। একজন বলেন, মনে হচ্ছে $৫০,০০০ গেল। দ্বিতীয় দিন ইয়ান মূলত পাশ থেকে উৎসাহ দেন: "চল, লেনি!" চতুর্থ দিনে লেনি ক্লান্ত আর হতাশ হয়ে পড়েন। জিমির ধারণা, ইয়ান সেটা টের পেয়েছিলেন, কারণ পরদিন সকালে তাঁর মানসিকতা বদলে যায়। লেনি বিশ্রাম নিলে তিনি নিজে হাতুড়ি তুলে নেন। এরপর দুজন মিলে কাজ করেন এবং পাথরে বড় ফাটল ধরে।

তবু ষষ্ঠ ঘণ্টা শেষে আবার কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিদিন শত শত আঘাতেও পাথর নড়ছিল না। একজন বলেন, ৫০ হাজার হারালে তিনি ছেড়ে দেবেন। জিমির বর্ণনায়, ইয়ান তখন বুঝলেন শুধু শক্তিতে হবে না, জ্ঞান দরকার। লাইব্রেরিতে পাথর নিয়ে একটা বই পেয়ে প্রাসঙ্গিক পাতাগুলো ছিঁড়ে আনেন। প্রথম কৌশল ছিল লিভারেজ, অর্থাৎ পাথরের নিচে কিছু ঢুকিয়ে চাড় দেওয়া। কিন্তু পাথর এত ভারী যে তোলা যায়নি, একটা দাগও পড়েনি। দুই দিন বাকি থাকতে ইয়ান আবার বইয়ে ফেরেন। এবার একটা ছবি থেকে বোঝেন, পাথরের দুর্বল জায়গায় চিসেল চালাতে হবে। এতে পুরো পাথরটা দুই টুকরো হয়ে যায়।

নবম ঘণ্টা শেষ হয় চাবি ছাড়াই। একজনের হিসাবে তখন সফল হওয়ার সম্ভাবনা ৫০/৫০। শেষ ঘণ্টায় তাঁরা ভেতরের মোটা কংক্রিটের অংশ খুঁড়তে থাকেন। বাকি ৩০, ১৫, ১০ মিনিটের ঘোষণার মধ্যেই চাবি বেরিয়ে আসে, এবং $১,০০,০০০ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হয়। দুজনে মিলে চিৎকার করেন: "পুলিশ এবং অপরাধী, সারাজীবন।"

শেষ দশ দিন: চুরি যখন বন্ধনের উপলক্ষ

নব্বইতম দিনে জিমি জানান, কোনো অফার নেই, কারণ দিন ৯৯-এর জন্য "বিশেষভাবে নির্মম" কিছু পরিকল্পনা আছে। সেদিন ইয়ান পুরো পুরস্কার চুরি করার সুযোগ পাবেন। একানব্বইতম দিন ইয়ানের জন্মদিন। লেনি একটা সারপ্রাইজ দিয়ে তাঁর ঘুম ভাঙান। ইয়ান বলেন, তৃতীয়বারের মতো জেলে জন্মদিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু অন্তত একজন ভালো বাঙ্কমেট পেয়েছেন।

জিমির মতে, শেষ দশ দিন ছিল সবচেয়ে কঠিন, কারণ করার কিছুই বাকি ছিল না। ইয়ান প্রস্তাব দেন লাইব্রেরি খালি করে আনার। লেনি বলেন, কম্পিউটারটা বের করে আনলে হাস্যকর হবে। "অপারেশন কম্পিউটার" সফল হয়, তাঁরা কম্পিউটারের সামনে চেয়ার পেতে "দোকান খোলেন", এবং ঘোষণা করেন এই সপ্তাহে ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে যা পারেন করবেন। তাঁরা অতিরিক্ত আঙিনার সময়ও নিয়ে নেন। জিমি বলেন, সাধারণত তিনি চুরির শাস্তি দিতেন, কিন্তু দিন ৯৯ কাছে বলে অপেক্ষা করছেন। তিনি স্বীকার করেন, এটাই একমাত্র জেল যেখানে খারাপ আচরণে সাজা বাড়ে না, তাই তিনি তাঁদের দোষ দেন না। জিমি এটাকে "কিছুটা কবিতাময়" বলেন, যে পুরো ভিডিওতে পুলিশ আর অপরাধীকে কাছাকাছি এনেছে চুরিই। ইয়ান মজা করে বলেন, এবার লেনিই তাঁকে নিয়ম ভাঙতে উৎসাহ দিচ্ছেন। লেনি জানান, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বেড়ার অন্য পাশের অনুভূতি বুঝতে পেরে তিনি খুশি, তাঁর কোনো আফসোস নেই।

দিন ৯৯: লাল বোতাম আর $৪,৮০,০০০

শেষ পরীক্ষার আগে জিমি জিজ্ঞেস করেন, ৯৯ দিন আগে অপরিচিত দুজন কি জেল থেকে বেরিয়ে বন্ধু থাকবেন? দুজনেই বলেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে ঘনিষ্ঠ। এরপর দুজনকে ২৪ ঘণ্টার জন্য আলাদা দুটি সলিটারি সেলে রাখা হয়, আর প্রতিটি সেলে একটা বোতাম থাকে। ২৪ ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে যে বোতাম চাপবেন, তিনি সেল থেকে বেরিয়ে পুরো $৪,৮০,০০০ নিয়ে যাবেন এবং সঙ্গীর অংশ কেড়ে নেবেন। টাইমার শূন্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত কেউ জানবেন না অন্যজন চলে গেছেন কিনা।

জিমি দুজনকেই আলাদাভাবে প্ররোচিত করেন। লেনিকে মনে করিয়ে দেন, ইয়ান বই আর সিনেমা চুরি করেছেন, তাই তিনি কি আগে নেবেন? ইয়ানকে মনে করিয়ে দেন, পরিবারের সাক্ষাতের সময় সলিটারি নিয়ে তিনি কত কেঁদেছিলেন আর বলেছিলেন টাকা দিয়েও তাঁকে সেখানে ফেরানো যাবে না। এখন সেই ঘর ছাড়ার জন্যই $৪,৮০,০০০ দেওয়া হচ্ছে। লেনির কাছে এটা ইয়ানের দ্বিতীয় সলিটারি আর নিজের প্রথম। তিনি জানেন ইয়ান আবদ্ধ জায়গা ভয় পান। ইয়ান নিজেও বলেন, এমন সংকীর্ণ জায়গা তাঁর জন্য নয়। টাইমার দেখলে উদ্বেগ হয় বলে লেনি একটা গার্বেজ ব্যাগ দিয়ে ঘড়ি ঢেকে দেন। লেনি প্রশ্ন তোলেন, যে মানুষ প্রতারণার জন্য জেলে গেছেন, তাঁর হাতে এমন বোতাম দিয়ে বিশ্বাস করা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ।

সময় যত গড়ায়, টাকার চিন্তা তত চেপে বসে। ইয়ান বলেন, বোতাম চাপলে একবারে সব ক্ষতিপূরণ মেটাতে পারবেন। জেল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর আধা মিলিয়ন দেনা ছিল, এক চাপেই অতীত ঠিক করে ফেলা যাবে। আরেকজন সন্তানদের পড়াশোনা, স্ত্রীর জন্য নতুন গাড়ি, হয়তো আরেকটা বাড়ির কথা কল্পনা করেন। জিমির বর্ণনায়, ইয়ান যত ভাবছিলেন, তত মনে হচ্ছিল তিনি বেশি পাওয়ার যোগ্য। ইয়ানের যুক্তি ছিল, ১০০ দিনে তাঁর সময় লেনির চেয়ে অনেক খারাপ গেছে। তিনি পরিবারকে দেখতে পাননি, আর লেনির চেয়ে দ্বিগুণ সময় সলিটারিতে কাটিয়েছেন। লেনি বলেন, ইয়ান বেরিয়ে গেলে সেটা হৃদয়বিদারক হবে, কারণ তিনিও সমান পরিশ্রম করেছেন। লেনির মতে, ইয়ান যদি ২৪ ঘণ্টাও শক্ত থাকতে না পারেন, তাহলে প্রমাণ হবে তাঁর অপরাধী স্বভাব বদলায়নি।

ফলাফল

২৪ ঘণ্টা শেষে দুজনকে কারাগারের মাঝখানে আসতে বলা হয়। দুই অংশে কালো পর্দা ঝুলছিল। দুজনেই দাঁড়িয়ে থাকলে পুরস্কার সমান ভাগ হবে। একজন থাকলে তিনি ১০০ দিন কাটিয়েও কিছু পাবেন না। গণনা শেষে পর্দা নামানো হয়, এবং দেখা যায় দুজনেই সেখানে আছেন। কেউ বোতাম চাপেননি। প্রত্যেকে $২,৪০,০০০ পান, এবং উদযাপনের জন্য দুজনের পরিবারকেই নিয়ে আসা হয়। জিমি তাঁদের "মুক্ত পুরুষ" ঘোষণা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তাঁরা আর কখনো জেলে যাবেন না।