আমাজন, মরুভূমি না অ্যান্টার্কটিকা: মায়ের জন্য এক লক্ষ ডলারের রেসে কোন পরিবেশ সবচেয়ে কঠিন প্রমাণ হলো
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওতে তিনটি দুই সদস্যের দল তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরম পরিবেশে একই সময়ে রেস শুরু করে। একটি দল আমাজনের জঙ্গলে, একটি মরুভূমিতে এবং একটি অ্যান্টার্কটিকার বরফে। ভিডিওতে বরফের দলটিকে কখনো "আর্কটিক" বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেক দলকে নিজের নিজের রেসকিউ হেলিকপ্টারে পৌঁছাতে হবে। যে দল সবার আগে পৌঁছাবে, তারা নিজেদের মায়ের জন্য এক লক্ষ ডলার জিতবে।
জঙ্গলে আছেন জিমি ও তাঁর সঙ্গী থিয়া, সঙ্গে ক্যামেরাম্যান জ্যাক। মরুভূমিতে তারেক ও নোলান, বরফে ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন। ভিডিওর মূল প্রশ্ন হলো, আলাদা পরিবেশের আলাদা সুবিধা-অসুবিধা শেষ পর্যন্ত রেসের ফল কীভাবে বদলে দেয়।
তিন পরিবেশ, তিন রকম বাধা
শুরুতেই প্রতিটি দলের সামনে কী বাধা আছে তা দেখানো হয়। মরুভূমিতে কোনো ছায়া নেই, জল নেই, রোদের তাপ প্রচণ্ড। একজন বলেন, তাঁর নিজেকে ফ্রাইং প্যানে রাখা ডিমের মতো লাগছে। জলের উৎস না থাকায় এই দলের দুজনকেই অন্যদের তুলনায় অতিরিক্ত ৩৫ পাউন্ড জল বহন করতে হচ্ছে।
আমাজনে প্রচণ্ড গরম আর পাহাড়ি জঙ্গল। জিমি একটি তালিকা পড়ে শোনান, যেখানে আছে আমাজনে তাঁদের মেরে ফেলতে পারে এমন সব জিনিস। তালিকায় র্যাটলস্নেক, ওয়ান্ডারিং স্পাইডার, জাগুয়ার, রোগ ছড়ানো বাদুড়, বুলেট অ্যান্টের ঝাঁক, অ্যানাকোন্ডা, পাহাড়ি ঢল, ভিমরুল আর মশাবাহিত রোগ রয়েছে।
অ্যান্টার্কটিকা দলের সমস্যা চোখেই দেখা যায়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় পায়ের আঙুল জমে যাচ্ছে, আর দৃষ্টিসীমা এত কম যে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুরুতেই মরুভূমি দলের নোলান পড়ে যান, যাকে তাঁরা "খুব বাজে শুরু" বলেন।
রেস চলাকালীন প্রতিটি দল একটি ট্র্যাকিং অ্যাপে অন্যদের অগ্রগতি দেখতে পায়। প্রত্যেকে নিজের পথ নিজে পরিকল্পনা করেছে এবং ফোনের কম্পাস ব্যবহার করছে। প্রথম আপডেটে মরুভূমি প্রায় ৬ শতাংশ, জঙ্গল প্রায় ৪ শতাংশ আর অ্যান্টার্কটিকা ২ শতাংশে ছিল।
প্রথম দিন: অ্যান্টার্কটিকার আগাম ক্যাম্প, জঙ্গলের সেতু, মরুভূমির ড্রোন-ফ্যান
অ্যান্টার্কটিকা দলের জন্য প্রথম বড় ধাক্কা ছিল দৃষ্টিসীমা। এত কম দেখা যাচ্ছিল যে তাঁদের খুব আগেই ক্যাম্প করতে হয়। প্রথমে তাঁরা মজা করে বলেন যে তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বিশ্রাম পাবেন। পরে স্বীকার করেন, এত দ্রুত ক্যাম্প করা বড় ক্ষতি। বাকি দলগুলো তখনও হাঁটছে, আর তাঁরা তাঁবুতে দিনের মূল্যবান আলো নষ্ট করছেন।
তাঁবুর ভেতরে অ্যালিসন দেখান যে তাঁর চুল বরফের শলাকার মতো জমে গেছে। একজন বলেন, শুধু তাঁবু খাটাতেই এত শক্তি খরচ হয়েছে যে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কাজটা তাঁর ধারণার চেয়ে অনেক কঠিন। তিনি এমনও বলেন যে এই মুহূর্তে মরুভূমিতে থাকতে পারলে ভালো হতো।
জঙ্গলে জিমি জানান, তিনি জীবনে কখনো এত ঘামেননি, এবং মরুভূমিও এর চেয়ে গরম হতে পারে না বলে তাঁর মনে হচ্ছে। ক্যামেরাম্যানও তাঁদের সাথে পুরো চ্যালেঞ্জে হাঁটছেন এবং দুবার প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন।
একটি ছোট নদী পার হওয়ার সময় জিমি একটি গাছ ফেলে সেতু বানান, যাতে থিয়ার জুতো ভিজে না যায়। তাঁদের যুক্তি ছিল, শুরুতেই জুতো ভিজলে বাকি পুরো যাত্রা কষ্টকর হবে। এরপর খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে তাঁদের নতুন জলের উৎস খুঁজতে হয়। তাঁরা একটি ফিল্টার বোতল ব্যবহার করেন, যেটি তাঁদের ভাষ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছেঁকে আমাজনের জল পানযোগ্য করে। তার সাথে ইলেকট্রোলাইট মিশিয়ে নেন।
মরুভূমির দলের সমস্যা ঠিক উল্টো ছিল, অর্থাৎ ঠান্ডা থাকা। তাঁরা কোনো ফ্যান আনেননি, তাই ড্রোনের বাতাস দিয়ে শরীর ঠান্ডা করেন। পথে তাঁরা একটি কঙ্কাল দেখেন। খুলি দেখে তাঁদের মনে হয় এটি মানুষের নয়। পরে একটি বিশাল গিরিখাদ ঘুরে যেতে হয়, যাকে তাঁরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গিরিখাদ বলে উল্লেখ করেন।
অগ্রগতির হিসাব ধাপে ধাপে এমন ছিল:
| সময় | জঙ্গল | মরুভূমি | অ্যান্টার্কটিকা | |---|---|---|---| | কয়েক ঘণ্টা পর | ১০% | ১১% | ৭% | | পরের আপডেট | ১৫% | ২০% | ৭% |
মরুভূমি দলের জল ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
একসময় জঙ্গল দল পথের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শেষ করে মরুভূমি দলকে ধরে ফেলে। মরুভূমি দল ওয়াকিতে উত্তর দিচ্ছিল না। জিমির ধারণা, তাঁরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বলেই জঙ্গল দল তাঁদের ধরতে পেরেছে।
এরপর মরুভূমির দল প্রথমবারের মতো দেখে যে জিমি তাঁদের পেছনে ফেলেছেন। তাঁরা পরিকল্পনা বদলান। দিন শুরু করেছিলেন চারটি বোতল নিয়ে, যার প্রতিটির ওজন আট পাউন্ড। ওজন কমাতে তাঁরা কিছু জল ফেলে দেন। দলের একজন অস্বস্তি প্রকাশ করেন যে দেখতে খারাপ লাগছে। এরপর বলা হয়, এটি হয়তো ভিডিওর সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে, তবে তা পরেই বোঝা যাবে।
নদীর ধারে প্রথম রাত ও স্টারলিংক কল
বিপজ্জনক জঙ্গলের ভেতর চার ঘণ্টা চলার পর জঙ্গল দল একটি নদীতে পৌঁছায়। পরিকল্পনা হয়, রাতে ক্যাম্প করে সকালে ভেলা বানিয়ে নদী পার হবে। থিয়া মনে করিয়ে দেন, এই নদীতে অ্যানাকোন্ডা, সম্ভবত পিরানহা আর কুমিরজাতীয় প্রাণীও আছে। জিমি স্বীকার করেন, তিনি ভেবেছিলেন আমাজন সবচেয়ে সহজ হবে, কিন্তু এটি সত্যিই খুব কঠিন।
খোলা জায়গায় ক্যাম্প করায় জিমি স্টারলিংক বসাতে পারেন এবং সবার সাথে ফেসটাইমে কথা বলেন। তখন জিমি ও থিয়া ৪০ শতাংশ, তারেক ও নোলান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, আর অ্যান্টার্কটিকা দল তখনও ৭ শতাংশে। অ্যান্টার্কটিকা দল জানায়, পরদিন তাঁরা অনেক দ্রুত এগোবে।
জিমি বলেন, কেউ মিথ্যা বলে রাতে আবার হাঁটা শুরু করছে কি না, তা যাচাই করতে তিনি ট্র্যাকিং লোকেশনের দিকে নজর রাখবেন।
দ্বিতীয় দিনের ভোর: অ্যান্টার্কটিকা দলের সুযোগ
সকালে অ্যান্টার্কটিকা দল দেখে, বাকিরা কেউ এক পা-ও এগোয়নি। আগের দিন হাতের সামনেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু এখন সবকিছু পরিষ্কার। তাঁরা ঠিক করেন, অন্যরা ঘুমিয়ে থাকার এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাবেন।
এরপর ড্যারিয়াস একটি ঝুঁকিপূর্ণ শর্টকাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর হিসাবে, এটি দূরত্ব কমাতে বা এমনকি লিড নিতেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু পথ বেশি খাড়া হলে পুরো চ্যালেঞ্জই হারতে হতে পারে। তিনি জানান, এই ঝুঁকি নিতে তিনি পুরোপুরি রাজি।
মরুভূমির শুকনো নদী আর হাঙরের দাঁত
মরুভূমি দল একটি নদী দেখে মরুদ্যানে পৌঁছায়। পরে তাঁরা এমন এক জায়গা দিয়ে হাঁটেন যেখানে নদী পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। পথে তাঁরা একটি বড় হাঙরের দাঁত খুঁজে পান। ভিডিওর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পেরুর এই মরুভূমি একসময় একটি সমৃদ্ধ ও অগভীর সমুদ্র ছিল।
এই সময় তাঁরা জেমিনাইকে স্লিপ নট বাঁধার নিয়ম জিজ্ঞেস করেন। জিমি একে "কম কাজের" প্রশ্ন বলে মজা করেন। এক পর্যায়ে মরুভূমি দল জঙ্গল দলকে আবার পেছনে ফেলে লিড নেয়।
আমাজনের নদী পার হওয়া: সাত ঘণ্টার ভেলা
সাঁতরে পার হওয়া কেন সম্ভব নয়, তা জঙ্গল দল ব্যাখ্যা করে। তাঁদের মতে, পিঠে ব্যাগ নিয়ে ওই স্রোতে নামলে তীব্র টান তাঁদের ভাসিয়ে নিত, জীবনের ঝুঁকি হতো, আর রেসে নিশ্চিতভাবেই হারতেন। শুধু বাতাস-ভরা ম্যাট্রেসও দুজনের ওজন নিতে পারবে না।
তাঁরা বাঁশ খুঁজে পান, আর এমন একটি কাঠামোও দেখেন যা দেখে মনে হয় কেউ ভেলা বানাতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু পার হতে পারেনি। জিমি জানান, তিনি আগেও বহুবার ভেলা বানিয়েছেন। তবে গতবার প্রতিটি ধাপে একজন সারভাইভাল এক্সপার্ট সাহায্য করেছিলেন। এবার তিনি জেমিনাইকে জিজ্ঞেস করেন, ম্যাট্রেস, বাঁশ আর দড়ি দিয়ে কীভাবে ভেলা বানানো যায়। পাওয়া নির্দেশনা ছিল এরকম:
- দুটি মোটা বাঁশ সমান্তরালভাবে পাশাপাশি রাখা।
- তার ওপর দুটি কাঠের ডাল আড়াআড়ি রাখা।
- দুটি স্লিপিং প্যাড একটির ওপর আরেকটি রেখে শক্ত করে বাঁধা।
বাঁধার জন্য তাঁরা গাছে ক্যামেরা আটকাতে আনা জিপ টাই ব্যবহার করেন। জিমি স্বীকার করেন, ভেলাটি আগের ভেলা বানানোর ভিডিওর মতো হয়নি, কারণ এবার এক সপ্তাহ নয়, হাতে ছিল মাত্র সাত ঘণ্টা। ভেলাটি তিনজনের জন্য যথেষ্ট বড় ছিল না। তাই থিয়া ব্যাগগুলো নিয়ে ভেলায় বসেন এবং দাঁড় চালান, আর জিমি ও জ্যাক জলে নেমে পা চালিয়ে ঠেলতে থাকেন।
স্রোত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। তাঁদের যেখানে নামার কথা, সেখান থেকে অনেক দূরে ভেসে যান। জিমির প্রথম আন্দাজ ছিল প্রায় এক মাইল, পরে তিনি জানান প্রায় দুই মাইল। একটি জায়গা দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন এটিই শেষ সুযোগ। এটি মিস করলে আরও পাঁচ ঘণ্টা হাঁটতে হতো। শেষ মুহূর্তে জিমি তল খুঁজে দাঁড়াতে পারেন এবং তীরে পৌঁছান।
তবে নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে না পারায় তাঁদের শর্টকাট আসলে আরও লম্বা পথে পরিণত হয়।
মাঝপথের অবস্থা ও মরুভূমি দলের রাতভর হাঁটার পরিকল্পনা
নদী পার হওয়ার পর আপডেট ছিল এরকম:
| দল | অগ্রগতি | |---|---| | তারেক ও নোলান (মরুভূমি) | ৫৮% | | জিমি ও থিয়া (জঙ্গল) | ৪৭% | | ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন (অ্যান্টার্কটিকা), শর্টকাটের পর | ৪০% |
জিমির মতে তখন যে কেউ জিততে পারত। তিনি মজা করে অন্যদের বিশ্রাম নিতে বলেন, কিন্তু নিজেরা থামেননি।
মরুভূমি দল সিদ্ধান্ত নেয় তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগ রেখে শুধু দরকারি জিনিস নিয়ে সারা রাত হাঁটবে, যাতে জিমির আগে হেলিকপ্টারে পৌঁছানো যায়। একটি পুরো পাহাড় বেয়ে ওঠার পর ভিউ দেখে তাঁরা বলেন, কষ্ট সার্থক। কিন্তু নামার সময় হাঁটুতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। একজন বলেন, এই প্রথম মনে হচ্ছে শরীর আর মনের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। আরেকজন নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ার কৌশলের কথা বলেন।
ঝড়, পাহাড় আর বমি
জঙ্গলে থিয়া একটি গাছের ফল খাওয়া যায় কি না জিজ্ঞেস করেন। উত্তর আসে যে ফলটি খাওয়া যায়, তবে এর ভেতরের শক্ত কালো বীজে সহজেই দাঁত ভেঙে যেতে পারে। তাই তিনি ফলটি খাননি।
অ্যান্টার্কটিকায় ঝড় এগিয়ে আসে, বাতাস বাড়তে থাকে, আর দৃষ্টিসীমা আবার প্রায় শূন্যে নামে। দলটি বলে, তাঁরা হয়তো নিজেদের ওপর বেশি চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু মায়ের জন্য সবটুকু দেবেন। মরুভূমিতে চারপাশে শুধু বালি, তার মধ্যে লাল পিঁপড়ের ঝাঁকও দেখা যায়।
জঙ্গল দল তখন মরুভূমি দলের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ পিছিয়ে। তাঁরা দেখেন সামনে আরও পাঁচটি পাহাড় বাকি, অথচ আগেরটিকেই শেষ বড় পাহাড় ভেবেছিলেন। একটানা এক ঘণ্টা হাঁটার পর জিমি বমি করেন। থিয়া তখন তাঁর ব্যাগ নিয়ে নেন, আর জিমি নিজেকে মজা করে "প্যাসেঞ্জার প্রিন্সেস" বলেন।
এর মধ্যে কয়েকজনের মা ভিডিও কলে উৎসাহ দেন। নোলানের মা পর্যাপ্ত জল খেতে আর সাবধানে থাকতে বলেন, তবে পুরো শক্তি দিয়ে জিততেও বলেন।
অ্যান্টার্কটিকা দলের থেমে যাওয়া
অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসের দমকা প্রায় ঘণ্টায় ৫০ মাইলে পৌঁছায়। দলটি বলে, সামান্য একটি ভুলও এমন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে যেখান থেকে বের হওয়া যাবে না। এক পর্যায়ে একজনের গগলস কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।
দৃষ্টিসীমা এতটা কমে যায় যে ঝড়ের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। ড্যারিয়াস অ্যালিসনকে বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে তাঁরা হেরে গেছেন। পরে তাঁরা বলেন, প্রকৃতি তাঁদের বড় ধাক্কা দিয়েছে।
আপডেট বন্ধের প্রস্তাব
জিমি জানান, নদী পার হওয়ার পর দেড় ঘণ্টায় মরুভূমি দল ৫৯ থেকে ৭২ শতাংশে চলে গেছে। তাঁর ধারণা ছিল, তাঁরা এই গতি ধরে রাখতে পারবেন না। অন্যদিকে মরুভূমি দল প্রায় ৬০ পাউন্ড ওজন পিঠে নিয়ে বালির পাহাড়ে উঠছিল, যেখানে প্রতিটি পা বালিতে দেবে যাচ্ছিল।
তখন জিমি একটি প্রস্তাব দেন। জঙ্গল ৬৬ শতাংশে, মরুভূমি ৭৩ শতাংশে, আর অ্যান্টার্কটিকা অর্ধেকের একটু বেশি পথ এসেছে। এই অবস্থায় কেউ না জেতা পর্যন্ত আর কোনো আপডেট দেওয়া হবে না। সবাই রাজি হয়, এবং দর্শকদের জন্যও এরপর অগ্রগতির তথ্য দেখানো বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর মরুভূমি দল একটি উঁচু জায়গা থেকে দেখতে পায় কোন দিকে তাঁদের উদ্ধার করা হবে। তবু তখনও আড়াই মাইল বাকি, পায়ে শক্তি প্রায় শূন্য। এর মধ্যে একজনের জলের বোতল পড়ে যায়, আর তাঁরা আশঙ্কা করেন দ্রুত শেষ না করলে পিপাসায় বিপদে পড়বেন।
হাইড্রেশন হেলিকপ্টার
এই পর্যায়ে জিমি সবাইকে থামতে বলেন। সবাই একটি হেলিকপ্টার দেখে, তবে সেটি রেসকিউ হেলিকপ্টার নয়। জিমির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সবাই সম্ভবত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েছে, তাই তিনি তিন দলের কাছে পিডিয়ালাইট ও বরফের পপ পাঠিয়েছেন। মরুভূমি দল বলে, এটিই দিনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা।
এর পরপরই জঙ্গল দল শেষ ধাপে দ্রুত যাওয়ার জন্য ব্যাগগুলো রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অ্যান্টার্কটিকায় ড্যারিয়াস ও অ্যালিসনের মায়েরা ফোনে তাঁদের উৎসাহ দেন। ড্যারিয়াসের মা বলেন, তিনি বিজয়ী এবং এই বাধা পার হবেন। অ্যালিসনের মা বলেন, তিনি চান মেয়ে মন খারাপ করে নয়, দারুণ একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরুক। অ্যালিসন জানান, এরপর তাঁর অনেক ভালো লাগছে।
শেষ ধাপ: আট মিনিটের ব্যবধান
শেষ ধাপে মরুভূমি দল পিডিয়ালাইট বা জল কিছুই না নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। তাঁদের মনে হচ্ছিল জিমির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। চড়াই পথে বুকের ধুকপুকানি টের পাওয়ার কথা বলেন তাঁরা। একজন বলেন, শরীর থামার আগেই মন হাল ছেড়ে দেয়, তাই তাঁরা থামবেন না। জিমিও আবার বমি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জঙ্গলে ক্যামেরাম্যান পড়ে যান। জিমি ক্যামেরা নিজের হাতে নিয়ে এগিয়ে যান। কেউই জানতেন না অন্য দল ঠিক কতটা পেছনে বা সামনে।
ফলাফল ছিল খুবই কাছাকাছি:
| স্থান | দল | সময় | |---|---|---| | প্রথম | জঙ্গল (জিমি ও থিয়া) | ২৮ ঘণ্টা ১৫ মিনিট | | দ্বিতীয় | মরুভূমি (তারেক ও নোলান) | ২৮ ঘণ্টা ২৩ মিনিট |
পৌঁছানোর পর মরুভূমি দলের একজন বলেন পায়ে কোনো সাড় পাচ্ছেন না। অন্যজন বলেন তাঁর সমস্যা ঠিক উল্টো, তিনি পা টের পাচ্ছেন এবং তাতে প্রচণ্ড ব্যথা।
জঙ্গল দল তাঁদের মায়েদের হাতে পুরস্কারের টাকা তুলে দেয়। অ্যান্টার্কটিকা দল যখন নিজেদের হেলিকপ্টারের জায়গায় পৌঁছায়, তখন সেখানে কিছুই ছিল না। ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন বুঝতে পারেন, তাঁরা হেরে গেছেন এবং পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেছে।
এভাবে রেসটি শেষ হয়। শুরুতে যে আমাজনকে জিমি সবচেয়ে সহজ ভেবেছিলেন এবং পরে সবচেয়ে কঠিন মনে করেছিলেন, সেই জঙ্গল দলই মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে জেতে। আর প্রথম দিনের দৃষ্টিসীমা ও শেষ দিকের ঝড়ে দুবার থামতে বাধ্য হওয়া অ্যান্টার্কটিকা দল শেষ পর্যন্ত পিছিয়েই থাকে।
আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক জঙ্গলের ঠিক মাঝখানে আছি। আর আমরা আছি মরুভূমিতে। আর আমরা আর্কটিকে। আর সম্পূর্ণ ভিন্ন এই পরিবেশগুলোতে আমরা একে অপরের সাথে রেস করব।
আমাদের সবাইকে নিজেদের রেসকিউ হেলিকপ্টারে পৌঁছাতে হবে, আর যে টিম সবার আগে পৌঁছাবে সে তার মায়ের জন্য জিতে নেবে এক লক্ষ ডলার। 100000।
তোমাদের জেতার বিন্দুমাত্র চান্স নেই। গাইস, আমি সত্যি নিজের সামনে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। শুরু হচ্ছে তিন, দুই, এক। গুড লাক!
শুরু করলাম। লেটস গো! চলো যাই, কাম অন। ওদের হারাতেই হবে। আমি এটা আমার মায়ের জন্য করছি। আমাদের যা-ই করতে হোক না কেন, আমরাই জিতব।
আমাদের জিততেই হবে। ওহ! সামলে, সোজা দাঁড়াও, সোজা দাঁড়াও! ওহ নোলান! নোলান না! বাজে শুরু, খুব বাজে শুরু হলো।
প্রতিটা টিমের কিছু সুবিধা আর অসুবিধা আছে। যেমন ধরুন মরুভূমি। কোনো ছায়া নেই, জল নেই, প্রচণ্ড রোদের তাপ। এখানে নিজেকে ফ্রাইং প্যানের ওপর রাখা ডিমের মতো লাগছে। আর এর মানে অন্যদের তুলনায় ওদের দুজনকেই অতিরিক্ত 35 পাউন্ড ওজনের জল বহন করতে হচ্ছে।
আর এখানে আমাজনে প্রচণ্ড গরম, পাহাড়-জঙ্গল আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা… এক সেকেন্ড থামুন… এই যে এটা। এটা হলো এমন সব জিনিসের লিস্ট যা আমাজনে আমাদের মেরে ফেলতে পারে।
ওকে, লিস্টে কী কী আছে? র্যাটলস্নেক, ওয়ান্ডারিং স্পাইডার, জাগুয়ার, রোগ ছড়ানো বাদুড়, বুলেট অ্যান্টসের ঝাঁক, অ্যানাকোন্ডা, পাহাড়ি ঢল, ভিমরুলের দল, মশার মাধ্যমে ছড়ানো রোগ। বুঝতেই পারছেন, আমাদের ক্ষেত্রে আসল বিপদ হলো মৃত্যু। ওকে। উউউ!
আর অ্যান্টার্কটিকা? সে তো নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছেন। আমার পায়ের আঙুল বরফ হয়ে যাচ্ছে। বাইরে অসম্ভব ঠান্ডা। আমি সত্যি নিজের সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
এখন যদিও আমাদের তুলনায় ওদের অবস্থা খুবই খারাপ,
আসছে…
কিন্তু এই পুরো ভিডিও জুড়ে আমরা এমন সব বাধার মুখে পড়ব যা পুরো রেসের গতিপথই ঘুরিয়ে দিতে পারে।
হে বয়েজ, মরুভূমি কেমন লাগছে তোমাদের? বেশি গরম? ভাই, এখানে একদম ঝলসানো রোদ। এই ব্যাগগুলো ভীষণ ভারী।
আমি ট্র্যাকিং অ্যাপে তোমাদের দেখতে পাচ্ছি। তোমরা প্রায় ছয় পারসেন্ট কমপ্লিট করেছ। আমরা চার পারসেন্টের মতো করেছি। আর অ্যান্টার্কটিকা টিম এখনো দুই পারসেন্টে পড়ে আছে। আমাদের পেছনে থাকতে কেমন লাগছে? একদম সত্যি।
ঠিক আছে। সত্যি বলতে, সামনের পথটা বেশ বিপজ্জনক দেখাচ্ছে। হ্যাঁ, কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের কি ন্যাভিগেশন দেখা উচিত? হ্যাঁ, দেখাই যায়।
যদি আপনারা জানতে চান, আমরা প্রত্যেকেই নিজের পথ নিজে প্ল্যান করেছি, আর ফোনে আমাদের একটা করে কম্পাস আছে। আমার কম্পাস অনুযায়ী, আমাদের এই পথে যেতে হবে। শুধু জিপিএস ফলো করব? শুধু জিপিএস ট্র্যাক করো।
কিন্তু দৃষ্টিসীমা এতটাই কম যে আমাদের হয়তো এখনই ক্যাম্প সেটআপ করে ফেলতে হবে। কিন্তু জানো তো? আমরাই কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিশ্রাম পাব।
আর আর্কটিক টিম যখন তাদের অঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথে লড়ছিল, আমরা তখন আমাদের নিজেদের চ্যালেঞ্জ ফেস করছিলাম।
ওহ, তুমি ঠিক আছ? ক্যামেরাম্যানও আমাদের সাথে পুরো চ্যালেঞ্জটা করছে। ওহ, ও তো দুবার প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। ঠিক আছ তুমি? হ্যাঁ, হ্যাঁ। আমি ঠিক আছি।
মরুভূমিও এর চেয়ে বেশি গরম কোনোভাবেই হতে পারে না। আমি লাইফে কখনো এত ঘামিনি।
তুমি হয়তো ভাবছ, বেব, এই জলে নামলে আমাদের জুতো একদম ভিজে যাবে আর বাকি পুরো ভিডিওতে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। হ্যাঁ। পার হব কীভাবে? আমি ব্যবস্থা করছি।
আরে, এটা একদম পারফেক্ট হয়েছে। গাছ পড়ছে, সামলে!
এমন একটা পুরুষকে লাইফ পার্টনার বানাও যে আমাজনে তোমার জন্য ব্রিজ বানিয়ে দেবে। এখন আমার ওয়াইফ পা না ভিজিয়েই ছোট্ট নদীটা পার হতে পারবে। একেই বলে বুদ্ধি! সাবাশ, এগিয়ে চলো।
ওহ মাই গড, খুব ভয়ের ছিল ওটা। দারুণ। চলো এবার এগোনো যাক।
জঙ্গল কেটে দুর্গম পাহাড়ি পথ বেয়ে ওঠার পর… এটা ভীষণ খাড়া একটা ঢাল। আমাদের খাবার জলের নতুন একটা উৎস খুব দরকার ছিল। বেব, আমাদের জল খুঁজে বের করতে হবে।
ওহ, এই জায়গাটা দেখতে তো বেশ সুন্দর। ওকে, তো এই বোতলটা সব ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাস ফিল্টার করে দেয়, যাতে আমরা আমাজনের এই জল খেতে পারি। ব্যাস হয়ে গেল। এটা ধরো। একটু ঝাঁকিয়ে নাও। আর এখন আমাদের কাছে টেস্টি ইলেকট্রোলাইটস তৈরি।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াইয়ের পর, হেলিকপ্টার পর্যন্ত দূরত্বের আমরা মাত্র দশ পারসেন্ট পথ শেষ করতে পেরেছি। মরুভূমি ছিল এগারো পারসেন্টে আর আর্কটিক তখনও সাত পারসেন্টে। আমরা মাত্র দশ পারসেন্ট পথ এসেছি। কেঁদো না।
ঠিক আছে, ছেলেদের সাথে আমাদের ব্যবধান কমাতেই হবে। জানো তো, বালির প্রতিটা ঢিবি পার হওয়া আমাকে আরও বেশি মোটিভেট করছে। কাম অন। আমরাই জিতব। আমরাই জিততে যাচ্ছি। দারুণ হচ্ছে। ওহ, আমরাই জিতব! আমার জল, জলটা পড়ে গেল। ওহ হ্যাঁ, ওটা লাগবেই।
আমার পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা করছে। আমি নিচ্ছি। তুমি রেস্ট নাও। ওকে। ব্যাগটা নেওয়ার জন্য থ্যাংকস। ব্যাগগুলো ছাড়া হাঁটা এখন কত সহজ লাগছে। চলো মরুভূমি টিমকে হারিয়ে দিয়ে আসি।
আমরা তো ফাটিয়ে দিচ্ছি এখন। ফার্স্ট পজিশনে আছি আমরা। সামনে রাস্তা চেঞ্জ হতে চলেছে, আশা করি এবার পথটা সহজ হবে।
ওয়াও, ওটা দেখো! সত্যি অবিশ্বাস্য! ওটা দেখতে ভীষণ সুন্দর। আর এখন আমাদের কোনোভাবে এই পাহাড় বেয়ে ওই সমতলে নামতে হবে। জিমি, একবার নিচে নেমে গেলে কিন্তু তোমার কোনো সুযোগই থাকবে না। তোমার খেলা শেষ।
সত্যি বলতে, এত দ্রুত ক্যাম্প করাটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ক্ষতি, কারণ বাকি দলগুলো কিন্তু এখনো হেঁটেই যাচ্ছে। তাঁবুতে ঢুকে আমরা দিনের মূল্যবান আলো নষ্ট করছি, তাই রেসে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ব।
গ্রিন টিম যখন গা গরম রাখতে লড়ছিল, আমাদের সমস্যা ছিল ঠিক তার উল্টো। আমরা কোনো ফ্যান আনিনি, তাই ড্রোন দিয়েই শরীর ঠান্ডা করছি। অসম্ভব ভালো লাগছে। ওহ মাই গড!
ব্যাঙটা পাতার ওপর একদম আয়েশ করে বসে আছে। কী কিউট একটা ফ্রগ! আমাদের ওর নাম টড দ্য টোড রাখা উচিত। ওকে ডিস্টার্ব করার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না।
এখনকার বর্তমান অবস্থা হলো… আমরা পনেরো পারসেন্ট। মরুভূমি বিশ পারসেন্ট। আর্কটিক টিম কী করছে কে জানে, ওরা এখনও মাত্র সাত পারসেন্টে আছে। ওরা অনেক পিছিয়ে পড়ছে।
আরে, ওটা তো পুরো একটা কঙ্কাল! ওটা কোনো মানুষের নাকি অন্য কিছুর, আমি তো তাও বুঝতে পারছি না। মাথার খুলি দেখে তো মনে হচ্ছে না মানুষের। খুলি দেখে বোঝা যাচ্ছে, প্রাণীটা মরে গেছে। আমরা দুই লক্ষ ডলার নিয়েই ফিরব, নয়তো চেষ্টা করতে করতেই মরব!
নোলান, আমরা কিন্তু এখনো এগিয়ে আছি। তবে ব্যবধান খুবই কম। আমাদের সামনে এগোতেই হবে। আমরা যদি এক সেকেন্ডের জন্যও থামি, জিমি কিন্তু ধরে ফেলবে।
ওটা দেখো! ভাই, মারাত্মক একটা দৃশ্য! মনে হয় আমাদের হেঁটেই যেতে হবে। যদি না তুমি ওপর থেকে লাফ দিতে চাও। এই পরিস্থিতিতে আমাদের খুব দ্রুত এটা ঘুরে যেতে হবে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গিরিখাদেই কেন যে আমরা আটকে পড়লাম! জানি না। ভাবছি জিমি আর থিয়ার এখন কী অবস্থা হচ্ছে!
মনে হচ্ছে কত যুগ ধরে যেন এই জঙ্গলের ভেতর হাঁটছি। আমাজন জাস্ট পাগল করা জায়গা ভাই, সত্যিই পাগল করা!
আমাদের পথের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ শেষ হয়েছে আর মরুভূমি টিমেরও তাই। পথটা অসম্ভব কঠিন ছিল, কিন্তু ফাইনালি আমরা ওদের ছুঁয়ে ফেলেছি। ওরা ওয়াকিতে কোনো রিপ্লাই দিচ্ছে না, তবে আমার ধারণা ওরা রেস্ট নিয়েছে। আর সেই কারণেই আমরা ওদের ধরে ফেলতে পেরেছি।
আর সেই কারণেই আমরা ওদের ধরে ফেলতে পেরেছি।
এই পুরো ভিডিওতে প্রথমবার জিমি আমাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল। এটা আমাদের অনেক সময় নষ্ট করে দিল। আমাদের প্ল্যানে বদল আনতে হবে। আমরা চারটে এই ধরনের বোতল নিয়ে দিন শুরু করেছিলাম, যার প্রতিটার ওজন আট পাউন্ড। ওজন কিছুটা কমাতেই হবে।
ধুর, ভালো লাগছে না। সত্যি বলতে, দেখতে খারাপ লাগছে। এটা হয়তো এই ভিডিওর সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে, কিন্তু সেটা আমরা পরেই বুঝতে পারব।
বিপজ্জনক জঙ্গলের ভেতর চার ঘণ্টা পথ চলার পর অবশেষে আমরা নদীর কাছে পৌঁছালাম।
এটা ভালো হলো না। ঠিক আছে, ব্যাপার না। আমার ওজন তো তোমার মতো অত বেশি নয়। ডালটা আমার ভার ঠিকই ধরে রেখেছে।
আমাদের বেশ ভালো অগ্রগতি হচ্ছে। আমরা এখনো মরুভূমির ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছি। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা করছে। আমরা এখানে দশ মিনিটের ছোট্ট একটা ব্রেক নেব।
বেব, আমরা খুব ভালো এগোচ্ছি। হ্যাঁ! আমি তোমাকে নিয়ে খুব গর্বিত। আমিও তোমাকে নিয়ে খুব গর্বিত। জায়গাটা ভীষণ আরামদায়ক। একদম তাই।
বাকিদের কী অবস্থা কে জানে! অ্যালিসন, ভেতরে কেমন লাগছে?
ওহ গড, ড্যারিয়াস! আমার চুল দেখো! দেখতে সত্যিই অদ্ভুত লাগছে এখন। চুলগুলো পুরো বরফের শলাকা হয়ে গেছে। আমি ভেতরে আসছি!
খুব ক্লান্ত লাগছে। আমি যেমনটা ভেবেছিলাম, এটা তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। শুধু তাঁবুটা খাটাতেই এত বেশি শক্তি খরচ হয়ে গেল! এটুকুই তো করেছি। আমি একদম ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমি যদি এই মুহূর্তে মরুভূমিতে থাকতে পারতাম!
অন্ধকার হয়ে আসছে। দিনের আলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ক্যাম্প করতে হবে। তাঁবুর জন্য এটা বেশ ভালো একটা জায়গা। আমার মনে হয় আমাদের এখন কিছুটা বিশ্রাম দরকার।
আমরা নদীতে পৌঁছে গেছি! ঠিক আছে, আমাদের প্ল্যানটা শোনো। আমরা আজ ক্যাম্প করব… ওকে। কাল সকালে… হ্যাঁ। আমরা একটা ভেলা বানাব… ওকে। আর ভেলায় ভেসে এই নদী পার হব।
তুমি সেই নদীর কথা বলছ যেটা অ্যানাকোন্ডায় ভরা? সাথে হয়তো পিরানহা আর কুমির জাতীয় প্রাণীও আছে? হ্যাঁ, ঠিক সেটাই। ওকে, ওকে।
আমি ভেবেছিলাম আমাজনই সবচেয়ে সহজ হবে, কিন্তু ওহ গড, এটা সত্যিই খুব কঠিন। কাল আমাদের ভেলা বানাতে হবে। কাজটা খুব কঠিন হতে চলেছে। তাই ক্যাম্প করার মতো ভালো জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা নদীর পাশ ঘেঁষে হাঁটব।
এই জায়গাটা কেমন? এটা কিন্তু খারাপ না। ক্যাম্প খাটানোর সময় হয়ে গেছে! পিঠে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে, কাঁধেও ব্যথা করছে, তবে আমাদের একটা তাঁবু আছে। চলো এটা টাঙিয়ে ফেলা যাক।
এগুলো বাতাস দিয়ে ফোলানোর ম্যাট্রেস। শুধু ফুঁ দিলেই ফুলে উঠবে। ঠিক আছে।
যেহেতু এখন চারপাশ গাছে ঘেরা নেই, তাই আমি স্টারলিংক সেটআপ করতে পেরেছি। চলো ওদের সাথে ফেসটাইমে কথা বলি।
ইয়ো! ইয়ো! কী খবর সবার?! আমি আর থিয়া চল্লিশ পারসেন্ট শেষ করেছি। তারেক আর নোলান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমপ্লিট করেছে। আর তোমরা দুজন এখনো মাত্র সাত পারসেন্টে?
চিন্তা কোরো না! কাল আমরা আবার ট্র্যাকে ফিরব এবং অনেক বেশি স্পিডে যাব। ভালো করে ঘুমাও সবাই। গুড নাইট, সাবধানে থেকো।
এখনো পর্যন্ত আমরা সেকেন্ড পজিশনে আছি। তাই কাল আমাদের পুরো ফোকাস ধরে রাখতে হবে। তাঁবুর ভেতরটা বেশ উষ্ণ আর আরামদায়ক। ওরা আমাদের মিথ্যা কথা বলে আবার হাঁটতে শুরু করেছে কি না তা নিশ্চিত করতে আমি ওদের ট্র্যাকিং লোকেশনের ওপর নজর রাখব। তারপর হয়তো কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেব। সকালে দেখা হচ্ছে সবার সাথে।
মনে হচ্ছে সবাই এখনো ঘুমাচ্ছে। কেউ কিন্তু এক চুলও নড়েনি। হ্যাঁ, কেউ এখনো এক পা-ও এগোয়নি। আমরা ঘুম থেকে উঠে পড়েছি আর পরের কয়েক মিনিটের মধ্যেই রওনা দিচ্ছি। এবার আমরা ফুল স্পিডে এগোব। পেছনের দূরত্বটা আমাদের কমাতেই হবে।
তবে জায়গাটা কিন্তু দারুণ সুন্দর। ভালো লাগছে যে এখন অন্তত দেখতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, কাল তো নিজের হাতের সামনেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না।
ছেলেরা ঘুমাচ্ছে আর এখন সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে… এই সুযোগটা আমাদের পুরোপুরি কাজে লাগানো দরকার। হ্যাঁ, একদমই তাই। ওরা ঘুম থেকে উঠে চরম অবাক হয়ে যাবে।
রোদ উঠে গেছে। চলো এবার বের হওয়া যাক। সে আর থিয়া হয়তো একটা ভালো কাপল হতে পারে, কিন্তু… একদম লুজারদের একটা কাপল।
ভাই দেখো, একটা নদী! আমরা তো মরুদ্যানে চলে এসেছি! অবিশ্বাস্য দৃশ্য! তোমার কি মনে হয় জিমির নদীটাও দেখতে এমন?
আমাদের নদীটা অবশ্য এর চেয়ে কিছুটা বড়ই ছিল। আর আপনারা যারা কমেন্ট করবেন যে ‘তোমরা সাঁতরে পার হচ্ছ না কেন?’… তারা একবার জলের স্রোতের টানটা দেখুন! পিঠের ব্যাগ নিয়ে ওই স্রোতে নামলে তীব্র টান আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যেত, যাতে আমাদের লাইফ রিস্ক হতো। আর সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো… আমরা নিশ্চিতভাবেই হেরে যেতাম। আর ঠিক এই কারণেই আমাদের একটা ভেলা বানাতে হবে।
শুধু ম্যাট্রেস আমাদের দুজনের ওজন নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না। ওগুলো শক্ত করে বাঁধার জন্য কিছু লাগবে। বাঁশ পাওয়া গেলে দারুণ হতো। এই পাশের এগুলো বাঁশের মতো লাগছে। আরে, দারুণ! এটা তো অন্য কারো বানিয়ে যাওয়া ভেলার মতো লাগছে, যা দিয়ে তারা পার হতে পারেনি।
আমি এর আগেও বহুবার ভেলা বানিয়েছি। তবে গতবার যেখানে প্রতিটা ধাপে আমাদের একজন সারভাইভাল এক্সপার্ট হেল্প করেছিল, এবার আমাদের সাথে আছে এমন একজন এক্সপার্ট… যে কিনা সবকিছুতেই ওস্তাদ। হে জেমিনাই, ম্যাট্রেস, বাঁশ আর কিছুটা দড়ি দিয়ে কীভাবে একটা ভেলা তৈরি করব?
ভেলা তৈরির সহজ গাইড: মোটা দুটি বাঁশ সমান্তরালভাবে পাশাপাশি রাখুন। কাঠের ডাল দুটি তার ওপর আড়াআড়িভাবে রাখুন। দুটি ইনফ্লেটেবল স্লিপিং প্যাড একের ওপর অপরটি সাজিয়ে ভালো করে বেঁধে নিন।
ঠিক আছে অ্যালিসন, মনে হচ্ছে এখান দিয়ে গেলে এই পথ ধরে আমরা সোজা শর্টকাট মারতে পারব। তাহলে তো অনেক দ্রুত যাওয়া যাবে। তবে রিস্কি কিন্তু। আমি জিততেই এসেছি… তাহলে অন্ধের মতো চলে যাই। তাই আমি ঝুঁকি নেবই।
এই বাজিটা আমাদের পেছনের দূরত্ব কমাতে বা লিড নিতে হেল্প করতে পারে। কিন্তু পথটা যদি খুব বেশি খাড়া হয়, আমরা পুরো চ্যালেঞ্জটাই হেরে যাব। এই রিস্কটা আমি নিতে পুরোপুরি রাজি।
এই মরুভূমি এত শুষ্ক যে নদীটা পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। আর আমরা এখন হাঁটছি যেখানে একসময় নদী ছিল। বিশ্বাসই হচ্ছে না। জিমি, আমরা তোমাদের ধরে ফেলছি!
ওহ গড! ছেলেরা এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক আছে। হে জেমিনাই, স্লিপ নট কীভাবে বাঁধে?
দড়ি দিয়ে একটি লুপ তৈরি করুন, দড়ির শেষ প্রান্তটি মূল অংশের ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে আনুন। এবার তৈরি করা লুপটির ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে প্রান্তটি টেনে নিন।
ভাগ্যিস, ছেলেরা তাদের জেমিনাই দিয়ে একটু কম কাজের জিনিস সার্চ করছিল।
এটা তো বিরাট এক হাঙরের দাঁত! এখানে হাঙরের দাঁত এল কীভাবে? সহজ উত্তর হলো, পেরুর এই মরুভূমি একসময় একটি সমৃদ্ধ ও অগভীর সমুদ্র ছিল। ভাই, এটা দেখে আমি ভীষণ এক্সাইটেড।
আমরা সঠিক পথেই আছি। শুধু এটা মোটেও সহজ নয়। আমার একটু ঠান্ডা লাগছে আবার ঘামও হচ্ছে। নতুন প্ল্যানটা নিয়ে আমার খুব ভালো ফিল হচ্ছে। আর আমরা ওদের ধরেই ফেলব।
অ্যান্টার্কটিকা। ওরা অনেক পথ কভার করে ফেলেছে। দাঁড়াও। নোলান, আমরা এগিয়ে গেছি! আমরা লিডে আছি। আমরা ওদের ধরে ফেলেছি দেখলে জিমির মুখের এক্সপ্রেশনটা দেখার মতো হবে।
বয়েজ! দাঁড়াও, ওয়াও! তোমরা তো আমাদের ক্রস করে গেলে। তোমরা আমাদের পেছনে ফেলে দিলে। ওকে, আমাদের তাড়াতাড়ি ভেলাটা বানাতে হবে। হ্যাঁ!
এই নাও। লাইফ হ্যাক! গাছে ক্যামেরা আটকাতে যে জিপ টাইগুলো ব্যবহার করেছিলে, সেগুলো বাঁশ শক্ত করে বাঁধতে কাজে লাগাও।
এটা একসাথে ধরে রাখো। হ্যাঁ। ঠিক আছে। আমাদের ভেলাটা তোমাদের কেমন লাগছে? এটা থিয়া-সাইজড। এটা আগের ভেলা বানানোর ভিডিওর মতো হয়নি। আসলে আমার হাতে এক সপ্তাহ সময় ছিল না, ছিল মাত্র সাত ঘণ্টা।
আশা করি অ্যানাকোন্ডাগুলো আমাদের বড় কোনো শিকারী ভেবে ছেড়ে দেবে। হ্যাঁ, আমরা স্নান করিনি। তোমরা নিশ্চয়ই আমাদের খেতে চাইবে না। আমাদের স্বাদ একদমই ভালো হবে না।
এই ভেলাটা নিশ্চিতভাবেই আমাদের তিনজনের জন্য যথেষ্ট বড় নয়, তাই আমরা থিয়ার সাথে ব্যাগগুলো তুলে দেব, আর আমি আর জ্যাক পুরো ভিজে যাব।
ওকে, আমি এখনো ভাসছি। চলো, চলো! আমরা এগোচ্ছি! হ্যাঁ! স্রোতের টানটা তো। আমিও কি পা চালাব? না! থিয়া! তুমি দাঁড় চালাও! ওকে, ওকে। আমি হলাম প্রপেলার! আমরা এগোচ্ছি। আমরা ভালোই এগোচ্ছি। তীর ওই দিকে! পা চালাতে থাকো।
এটা হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে পাগলামি কাজ! এটা হয়তো আমার করা সবচেয়ে বড় বোকামি! ওকে, আমি তীর দেখতে পাচ্ছি! সাবাশ ছেলেরা! স্রোতটা বুঝতে পারছি। ওহ মাই গড। স্রোতটা ভীষণ তীব্র। আমাদের তো অনেক পেছনে নামার কথা ছিল।
আমরা নদীর মাঝখানে আছি। এই স্রোত আমাদের কোনোভাবেই থামতে দিচ্ছে না। এটা খুবই শক্তিশালী। যত জোরে পারো দাঁড় চালাও বেব। আমি চেষ্টা করছি। আমাদের আরও জোরে পা চালাতে হবে। আমরা সম্ভবত এক মাইল দূরে ভেসে এসেছি। এই স্রোত আমাদের থামতেই দিচ্ছে না।
ওটা দেখো! আমাদের সম্ভবত ওই জায়গাটার দিকে যাওয়া উচিত। ওকে! আমাদের ওখানে পৌঁছাতেই হবে। আমাদের বাঁ দিকে পুরো শক্তি দিয়ে পুশ করতে হবে। এখন যদি বৈঠা না চালাও, আরও পাঁচ ঘণ্টা হাঁটতে হবে। আমি সাধ্যমতো পুরো জোর দিচ্ছি!
জল আরও গভীর হচ্ছে। হ্যাঁ। পা চালাতে থাকো। আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি। ওই তো ওখানে। ঠিক আছে। চলে এসো। আর কতটা বাকি? এটা আমাদের লাস্ট চান্স। এটা মিস করলে খেলা শেষ। একদম কাছে এসে গেছি। আমরা পৌঁছাতে পারব না।
জ্যাক, আমি দাঁড়াতে পারছি! টানো! টানো, টানো! আমরা পেরেছি! আমরা পৌঁছে গেছি! বসে পড়ো, জিমি। পা দুটো যেন অবশ হয়ে গেছে। আমরা পেরেছি!
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে না পারায় আমাদের শর্টকাটটা আরও লম্বা পথ হয়ে গেল।
গাইস, আমরা মাত্র নদী পার হয়ে এলাম। মারাত্মক ব্যাপার। নদী পার হতে তোমাদের এত সময় লাগল? আমরা স্রোতে ভেসে প্রায় দুই মাইল দূরে চলে গিয়েছিলাম। অবস্থা খুব খারাপ ছিল। অ্যান্টার্কটিকা, কী খবর তোমাদের?
আমারও ওদের মতো একটা শর্টকাট চাই। হে, শোনো সবাই। ব্রো। ওরা তো উড়ছে। তোমরা জিমিকে হারিয়ে দিতে চলেছ। আমার মনে হয় না ওদের কাছে আর কোনো শর্টকাট আছে।
ঠিক আছে, এখন পর্যন্ত তারেক আর নোলান 58 পারসেন্টে আছে। আমরা 47 পারসেন্ট, আর ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন বড় একটা শর্টকাট নিয়ে 40 পারসেন্টে পৌঁছেছে। মনে হচ্ছে খেলাটা যে কেউ জিততে পারে।
হে গাইস, তোমরা একটু রেস্ট নাও, চিল করো। ঠিক আছে, আমরা থামছি না বেব। চলো এগিয়ে যাই! ও একদমই থামছে না। না, ও সত্যি এগিয়ে চলেছে।
আমার মতে তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগ এখানেই রেখে দেওয়া উচিত। শুধু দরকারি জিনিসটুকু নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়ব। সারা রাত হেঁটে ছেলেদের আগেই আমরা হেলিকপ্টারে পৌঁছাব। ওকে, প্ল্যানটা দারুণ। জিমি একদম আমাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।
এটা খুবই কঠিন। আমার সারা শরীরে ঘাম দেখতেই পাচ্ছ। চলতে থাকো। থেমো না। কিন্তু যতই টায়ার্ড হই না কেন, আমরা পাত্তা দিচ্ছি না। আমি জিমিকে জেতার কোনো সুযোগই দেব না। আমরা একাই ওদের লাস্ট পজিশনে ঠেলে দিতে যাচ্ছি।
আমাদের এই পথে সোজা আর কিছুটা সময় এগিয়ে যেতে হবে। হেলিকপ্টারে উঠতে আমাদের পুরো পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে। এত ওপরে ওঠা অনেক কষ্টের ছিল, তবে ভিউটা দেখে মনে হচ্ছে সব কষ্ট সার্থক। হ্যাঁ। জায়গাটা সত্যিই অনেক সুন্দর।
সাবধানে ধীরে ধীরে পাহাড় থেকে নামতে হবে। এত বড় পাহাড় বেয়ে নামা। আমার হাঁটুতে ভীষণ প্রেশার পড়ছে। তুমি ঠিক আছো? এই প্রথমবার ফিল হচ্ছে যে আমাদের শরীর আর মনের সাথে তাল মেলাতে পারছে না।
পুরো খেলাটাই নিঃশ্বাসের, ভাই। নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে হবে, একদম সঠিক গতিতে। না। তুমি তো বেশি হাঁপিয়ে ফেলছ।
আমাজন আসলে ভীষণ সুন্দর। ওই ফলটা দেখো! ওটা কী? দেখতে খুব সুস্বাদু লাগছে। এই গাছের ফল কি খাওয়া যায়? যদিও এটি খাওয়া যায়, তবে ফলটি শক্ত ও কালো বীজে ভরা থাকে যা খেলে সহজেই দাঁত ভেঙে যেতে পারে। সরি বেব। তুমি এটা খেতে পারবে না।
ঝড় একদম চলেই এসেছে। হ্যাঁ, আমি জানি। আমি মুখে ঝড়ের বাতাস ফিল করতে পারছি। কিছুই দেখা যাচ্ছে না প্রায়। এগিয়ে যাও ভাই, তুমি পারবে।
আমরা হয়তো নিজেদের ওপর বেশি চাপ দিচ্ছি, কিন্তু আমি পরোয়া করি না। চারিদিকে শুধু মরুভূমি। এখন শুধু কষ্ট ছাড়া কিছুই নেই, ভাই।
লাল পিঁপড়ে। ওহ মাই গড! ওদের তাড়া দেখেছ কেমন! আমরা মরুভূমি টিমের চেয়ে প্রায় 12 পারসেন্ট পিছিয়ে আছি, তাই আমরা ফুল স্পিডে এগোচ্ছি। আমি শুধু হাঁটার দিকেই ফোকাস রাখছি। ছেলেরা এখন কী করছে কে জানে।
সামনে তো এখনো পাঁচটা পাহাড় বাকি! এর চেয়ে খারাপ আর কিছুই হতে পারে না। সত্যি বলতে, পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ হতে পারে না। আমি ভেবেছিলাম এটাই লাস্ট বড় পাহাড়।
বাতাস এখনই বাড়তে শুরু করেছে, যা সত্যিই চিন্তার বিষয়। মায়ের জন্য জিততে এখানে আমরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে দেব। একদম ঠিক! থামা যাবে না! তবে সত্যি বলতে, আমি এখন সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না! আমি কোথায় যাচ্ছি নিজেও জানি না। না, অবস্থা খুব খারাপ!
আর খারাপ আবহাওয়া ওদের যখন তুষারঝড়ের ভেতর হাঁটতে বাধ্য করছিল, একনাগাড়ে এক ঘণ্টা হাঁটা আমাদের শরীরকে চরম ক্লান্তির শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছিল।
জিমি বমি করছে। আমি নিচ্ছি। এবার আমার পালা। চলে এসো। ঠিক আছে। ওহ মাই গড! ব্যাগটা নামানোর পর পিঠটা কত হালকা লাগছে! এখন আমি একদম প্যাসেঞ্জার প্রিন্সেস। এসো আমার সাথে প্রিন্সেস, আমি দেখছি। তোমাকে দেখে স্কুলে যাওয়া ছোট্ট বাচ্চার মতো লাগছে। আমারও নিজেকে স্কুলে যাওয়া ছোট বাচ্চার মতো মনে হচ্ছে।
পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, নোলান, আমরাই জিতব ভাই। আজকেই আমরা এটা শেষ করব। এর জন্য যা-ই করতে হোক, করব। চলো।
ওকে। ওই যে আমার মা। হ্যালো, হাই! পর্যাপ্ত জল খাবে আর সাবধানে থাকবে। তবে পুরো শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো আর এটা জেতো। আজকেই আমরা এটা শেষ করব! দারুণ কথা! লেটস গো! চলো, চলো, চলো… আজকে, আজকে, আজকে…
বাতাসের গতিবেগ বেড়ে প্রায় ঘণ্টায় 50 মাইল বেগে দমকা হাওয়া দিচ্ছে। আরে না না না। ওহ না! আমরা নিজেদের আগের চেয়েও আরও খারাপ বিপদে ফেলে দিতে পারি। ওহ মাই গড! আর সামান্য একটা ভুল সহজেই তোমাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলবে যেখান থেকে বের হওয়া যাবে না।
আমার গগলস কাজ করছে না। আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। এটা কীভাবে হলো? আমি জানি না! ওহ না! অ্যালিসন, আমার মনে হয় আমরা হেরে গেছি! ধুর!
দৃষ্টিসীমা এতটাই কমে গেছে যে আমাদের থামতে হচ্ছে। এই ঝড়ের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। শুধু আশা আর প্রার্থনা করছিলাম ঝড়টা যেন থেমে যায়। প্রকৃতি আমাদের একদম বড় ধাক্কা দিয়ে দিল।
থিয়া ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে পিঠে ব্যাগ আছে। আমরা ফুল স্পিডে এগোচ্ছি।
দেড় ঘণ্টা আগে আমরা নদী পার হওয়া শেষ করেছি। এর মধ্যে ওরা 59 পারসেন্ট থেকে 72 পারসেন্টে চলে গেছে। মারাত্মক ব্যাপার। কোনো চান্সই নেই। ওরা এই গতি ধরে রাখতে পারবে না। ওদের খুব তাড়াতাড়ি ব্রেক নিতেই হবে।
প্রচণ্ড গরম। খুব জলের পিপাসা পেয়েছে। ব্যাগটাও অনেক ভারী।
এই সমতল ভূমিতে আমরা শুধু হেঁটেই চলেছি, হেঁটেই চলেছি। এই মরুভূমি চরম নিষ্ঠুর। ওহ মাই গড।
এই মুহূর্তে এক টুকরো বরফ পাওয়ার জন্য আমি সবকিছু দিতে রাজি আছি। শারীরিক কষ্টের একদম চরম সীমার মতো অবস্থা। হ্যাঁ।
নোলান। মা! কেমন আছ তোমরা? কেমন আছ সবাই? আমি তোমাদের কথাই ভাবছিলাম। এখানে তোমার মা তোমাকে বাঁচাতে পারবে না, নোলান।
পিঠে প্রায় 60 পাউন্ড ওজন নিয়ে পাহাড়ে ওঠা। প্রতিটা স্টেপে বালিতে পা দেবে যাচ্ছে। ভাই, আমাদের জন্য এর চেয়ে কঠিন আর কিছু হতে পারে না।
ঠিক আছে বয়েজ, আমার একটা প্রস্তাব আছে। আমরা 66 পারসেন্টে আছি। তোমরা 73 পারসেন্টে। অ্যান্টার্কটিকা অর্ধেকের একটু বেশি গেছে। কেমন হয় যদি এখন থেকে কেউ না জেতা পর্যন্ত আর কোনো আপডেট না দেওয়া হয়?
আমার পছন্দ হয়েছে। আমার মতে এটা দারুণ আইডিয়া। আমরা রাজি। হ্যাঁ, আমরাও একমত। সবাই যদি একমত হও, তবে গুড লাক গাইস। ওটা তোমাদের সত্যি লাগবে।
আর ওদের মতোই আপনারাও এখন আর জানতে পারবেন না কে ফিনিশিং লাইনের কতটা কাছে আছে। চলো আবার শুরু করি!
বাকিরা এখন কত দ্রুত এগোচ্ছে আমাদের কোনো আইডিয়া নেই, তাই আমরা একদমই থামব না। আমাদের দ্রুত দৌড়াতে হবে। আমাদের এগোতে হবে। আমরা হারব না! মা, এটা তোমার জন্য!
আমি জেতার মিশনে নেমেছি। এখানে ফ্রেন্ডশিপ করতে আসিনি। একেই বলে একদম ফোকাসড মানুষ। আমি এটা আমার মায়ের জন্য করছি।
ওহ মাই গড, কী প্রচণ্ড বাতাস! ওপর থেকে সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ওহ মাই গড। ঠিক ওই দিকটাতেই আমাদের উদ্ধার করতে আসবে। কাম অন। চলো ওখানে পৌঁছাই।
চলো মায়ের জন্য এই জয়টা ছিনিয়ে আনি, আর তার চেয়েও বড় কথা যাতে নোলান আমাদের হারাতে না পারে। ভাবছি মরুভূমির ছেলেরা আমাদের মতো এতটা কষ্ট করছে কি না।
আমার মনে হয় পায়ের এনার্জি একদম জিরোতে নেমে এসেছে। সত্যি? হ্যাঁ ভাই। দুর্বল লাগছে। আমাদের এখনো আড়াই মাইল বাকি আছে। আমাদের এটা শেষ করতেই হবে।
এটা অনেক বেশি সহজ। এটাই হলো আসল ট্রিক। আমার জলের বোতলটা পড়ে গেল। না! আমাদের খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে, নয়তো পিপাসায় মারা যাব।
আমার একটা জরুরি কথা আছে। সবাই হাঁটা বন্ধ করো। ওকে। ওপরের দিকে তাকাও।
আমি একটা গাছ দেখতে পাচ্ছি। এক সেকেন্ড, আমি এখান থেকে একটু দূরে যাই। ওটা কি আমাদের ঘরে ফেরার হেলিকপ্টার? ওটা রেসকিউ হেলিকপ্টার নয়। ওটা হলো হাইড্রেশন কপ্টার।
তোমরা সবাই জানপ্রাণ দিয়ে খাটছ, আর হিসেব অনুযায়ী তোমরা সবাই সম্ভবত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েছ। ওহ হ্যাঁ ভাই। তাই সবার জন্য পিডিয়ালাইট পাঠাতে আমি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছি যাতে আমরা রিহাইড্রেটেড হতে পারি।
একটা বাক্স ড্রপ করেছে! ওহ ড্যারিয়াস, দেখো! এটা কী?
পিডিয়ালাইট শরীরে জল আর ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে, যাতে বাকি ট্র্যাকটা শেষ করতে আমরা সবাই আবার রেডি হয়ে যাই। অল রাইট!
বরফ অনেক গভীর। হ্যালো সবাই, ওখানে পৌঁছাতে আমাদের দশ মিনিট লাগবে, দুঃখিত। আরে না! আমি তো পড়ে যাচ্ছি অ্যালিসন! থ্যাংক ইউ! থ্যাংক ইউ!
ওহ হ্যাঁ। লেটস গো। আরে অসম্ভব! এটা দেখতে দারুণ লাগছে! আমি দেখতে পাচ্ছি! এটা এত দূরে কেন? দেখতে পেয়েছি! আইস পপস।
আমিও কি একটা পেতে পারি? অবশ্যই। ওহ হ্যাঁ! ক্যামেরাম্যানের জন্য একটা। ওহ হ্যাঁ, ক্যামেরাম্যানের জন্য তো অবশ্যই একটা আছে। এই তো পাওয়া গেছে! আমার ওই ড্রিংকটা লাগবে! চিয়ার্স। চিয়ার্স।
ব্রো, এটা দেখো। লেটস গো! কত পিডিয়ালাইট এখানে দেখো! ওহ মাই গড। শরীর রিহাইড্রেট করতে আর ভালো ফিল করতে পিডিয়ালাইট কিন্তু দারুণ কাজে দেয়। ওয়াও, এর মধ্যে অনেক ভালো উপাদান আছে।
এই ফ্রিজার পপগুলো সত্যিই খুব টেস্টি। এটা সত্যিই অনেক ভালো। খেয়ে নাও! বাকি পথের জন্য এটা আমাদের খুব কাজে লাগবে ভাই। সত্যি বলতে, আজকের দিনে এটাই সবচেয়ে সেরা ব্যাপার ঘটেছে। একদম ঠিক।
পিডিয়ালাইট এখন কৃত্রিম রঙমুক্ত, কিন্তু স্বাদ আগের মতোই দুর্দান্ত। আপনিও কি এটা ট্রাই করতে চান? এই কিউআর কোড স্ক্যান করুন বা ডেসক্রিপশনের লিঙ্কে ক্লিক করুন। আমাজনে এখনই এটা পেয়ে যাবেন। আর "BEAST40" কোডটি ব্যবহার করলে পাবেন পুরো 40 পারসেন্ট ছাড়। এখনই গিয়ে কিনে নিন।
আমার মনে হয় আমি ট্র্যাকটা শেষ করতে পুরো রেডি ভাই। শরীরটা একদম হাইড্রেটেড হয়ে গেছে। হ্যাঁ। আমার মতে শেষ পর্যন্ত পুরো জোর লাগানো উচিত।
আমরা ব্যাগগুলো এখানেই রেখে যাচ্ছি। আমরা এগুলো পরে নিয়ে যাব না। খেয়াল রেখো কিছু যেন ফেলে না যাই। তুমি রেডি তো? হ্যাঁ। চলো করা যাক। ঠিক আছে, চলো শুরু করি।
আমি শুধু তোমাকে ফোন করে এখানকার মারাত্মক খারাপ অবস্থাটা দেখাতে চেয়েছিলাম। পরিস্থিতির কারণে নিজেকে একটু পরাজিত মনে হচ্ছে।
তুমি জানো তুমি একজন বিজয়ী। তুমি ঠিকই এই বাধা পার হয়ে যাবে।
ডারিয়াসের মা
আমি চাই না তুমি মন খারাপ করে ফিরে আসো, আমি চাই দারুণ একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে তুমি ফেরো।
অ্যালিসনের মা
জানো তো? এখন আমার দশ গুণ বেশি ভালো লাগছে, কারণ আগে মনটা একটু খারাপ ছিল। প্রকৃতি এই মুহূর্তে আমাদের কোথাও এগোতেই দিচ্ছে না।
ওকে, আমরা পুরো ফোকাসড। এটা সত্যি আমাদের একদম শেষ ধাপ। আমার মন বলছে, মরুভূমির ছেলেদের সাথে আমাদের অদ্ভুত রকমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তাই কষ্ট সহ্য করে আমাদের এগিয়ে যেতেই হবে।
আমরা পিডিয়ালাইট বা জল কিছুই না নিয়ে বের হয়ে এসেছি। মা, এটা আমরা তোমার জন্য করছি! লড়াইটা এখন শুধু আমাদের আর জিমির মধ্যে। ওকে জিততে দেওয়া যাবে না।
আহ্! এটা চড়াই পথ। জ্বলে যাচ্ছে! বুকের ধুকপুকানি পরিষ্কার ফিল করতে পারছি।
বিজয়ী একজনই হবে। আর ঠিক এই পাহাড়টার ওপারেই আমাদের হেলিকপ্টার। সেটা আমরাই হব।
শরীরের সবকিছু ক্লান্ত হয়ে থামতে চাইছে। কিন্তু শরীর থামার আগেই মন হাল ছেড়ে দেয়। তাই আমরা থামব না। হয়তো আমার আবার বমি হতে পারে।
নোলান! ওই তো ওটা! ঠিক ওখানেই আছে! ইয়েস! লেটস গো! এদিকে এসো! চলে এসো!
আমাদের নোলান আর তারেককে হারাতেই হবে। বিশেষ করে নোলানকে।
ক্যামেরাটা আমাকে দাও, আমি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ক্যামেরাম্যান পড়ে গেছে। আমরা কিন্তু থামছি না! ঠিক আছ? আমি ঠিক আছি। ওকে।
জিমি আমাদের পেছনেই আছে কি না সে বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই। জিমিও হয়তো ওর হেলিকপ্টার দেখতে পাচ্ছে। আমাদের পৌঁছাতেই হবে! জিমিকে কিছুতেই জিততে দেওয়া যাবে না।
গাইস, আমার মনে হয় আমরা পৌঁছে গেছি। মনে হয় আমরা এসে গেছি। ওটা সত্যিই চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে। মা, তুমি যদি এটা দেখে থাকো, আমি তোমার জন্য ওই এক লক্ষ ডলার জিতে আনছি।
আমি দেখতে পাচ্ছি! টাকাটা দেখতে পাচ্ছি! আমাদের মায়ের জন্য এক লক্ষ ডলার, ঠিক ওখানেই আছে! ভাই, আমার সত্যি কান্না পেয়ে যাচ্ছে।
1. জঙ্গল 28 ঘণ্টা 15 মিনিট
শেষ! আমি ছুঁয়ে ফেলেছি। শেষ।
2. মরুভূমি 28 ঘণ্টা 23 মিনিট
ভাই, আমার সত্যিই কান্না পাচ্ছে। আমি পায়ে কোনো সাড় পাচ্ছি না। আমার সমস্যা ঠিক উল্টো, আমি পা ফিল করতে পারছি… আর পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা করছে। চলো এবার আমাদের মায়েদের টাকাটা দিয়ে আসি!
এই নিন আপনাদের উপহার!
এই নিন আপনাদের উপহার! অনেক অভিনন্দন। বিশ্বাসই হচ্ছে না! সত্যি অবিশ্বাস্য… আমরা জিতে গেছি! ইয়েই! থ্যাংক ইউ থিয়া! থ্যাংকস জিমি!
আমাদের মায়েরা হলেন পৃথিবীর সেরা মা। দেখার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।
ড্যারিয়াস! ওখানে কিছুই নেই। মনে হয় আমরা হেরে গেছি…
সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপনার মাকে জড়িয়ে ধরুন!
মনে হয় আমাদের পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়ে গেছে।
সাবস্ক্রাইব করুন, আর আপনার মাকে ভালোবেসে একবার জড়িয়ে ধরুন!
নিবন্ধ প্রকাশিত · হালনাগাদ
