আমাজন, মরুভূমি না অ্যান্টার্কটিকা: মায়ের জন্য এক লক্ষ ডলারের রেসে কোন পরিবেশ সবচেয়ে কঠিন প্রমাণ হলো

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে তিনটি দুই সদস্যের দল তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরম পরিবেশে একই সময়ে রেস শুরু করে। একটি দল আমাজনের জঙ্গলে, একটি মরুভূমিতে এবং একটি অ্যান্টার্কটিকার বরফে। ভিডিওতে বরফের দলটিকে কখনো "আর্কটিক" বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেক দলকে নিজের নিজের রেসকিউ হেলিকপ্টারে পৌঁছাতে হবে। যে দল সবার আগে পৌঁছাবে, তারা নিজেদের মায়ের জন্য এক লক্ষ ডলার জিতবে।

12 মিনিটে পড়া

জঙ্গলে আছেন জিমি ও তাঁর সঙ্গী থিয়া, সঙ্গে ক্যামেরাম্যান জ্যাক। মরুভূমিতে তারেক ও নোলান, বরফে ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন। ভিডিওর মূল প্রশ্ন হলো, আলাদা পরিবেশের আলাদা সুবিধা-অসুবিধা শেষ পর্যন্ত রেসের ফল কীভাবে বদলে দেয়।

0:12

তিন পরিবেশ, তিন রকম বাধা

শুরুতেই প্রতিটি দলের সামনে কী বাধা আছে তা দেখানো হয়। মরুভূমিতে কোনো ছায়া নেই, জল নেই, রোদের তাপ প্রচণ্ড। একজন বলেন, তাঁর নিজেকে ফ্রাইং প্যানে রাখা ডিমের মতো লাগছে। জলের উৎস না থাকায় এই দলের দুজনকেই অন্যদের তুলনায় অতিরিক্ত ৩৫ পাউন্ড জল বহন করতে হচ্ছে।

আমাজনে প্রচণ্ড গরম আর পাহাড়ি জঙ্গল। জিমি একটি তালিকা পড়ে শোনান, যেখানে আছে আমাজনে তাঁদের মেরে ফেলতে পারে এমন সব জিনিস। তালিকায় র‍্যাটলস্নেক, ওয়ান্ডারিং স্পাইডার, জাগুয়ার, রোগ ছড়ানো বাদুড়, বুলেট অ্যান্টের ঝাঁক, অ্যানাকোন্ডা, পাহাড়ি ঢল, ভিমরুল আর মশাবাহিত রোগ রয়েছে।

অ্যান্টার্কটিকা দলের সমস্যা চোখেই দেখা যায়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় পায়ের আঙুল জমে যাচ্ছে, আর দৃষ্টিসীমা এত কম যে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুরুতেই মরুভূমি দলের নোলান পড়ে যান, যাকে তাঁরা "খুব বাজে শুরু" বলেন।

রেস চলাকালীন প্রতিটি দল একটি ট্র্যাকিং অ্যাপে অন্যদের অগ্রগতি দেখতে পায়। প্রত্যেকে নিজের পথ নিজে পরিকল্পনা করেছে এবং ফোনের কম্পাস ব্যবহার করছে। প্রথম আপডেটে মরুভূমি প্রায় ৬ শতাংশ, জঙ্গল প্রায় ৪ শতাংশ আর অ্যান্টার্কটিকা ২ শতাংশে ছিল।

1:35

প্রথম দিন: অ্যান্টার্কটিকার আগাম ক্যাম্প, জঙ্গলের সেতু, মরুভূমির ড্রোন-ফ্যান

অ্যান্টার্কটিকা দলের জন্য প্রথম বড় ধাক্কা ছিল দৃষ্টিসীমা। এত কম দেখা যাচ্ছিল যে তাঁদের খুব আগেই ক্যাম্প করতে হয়। প্রথমে তাঁরা মজা করে বলেন যে তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বিশ্রাম পাবেন। পরে স্বীকার করেন, এত দ্রুত ক্যাম্প করা বড় ক্ষতি। বাকি দলগুলো তখনও হাঁটছে, আর তাঁরা তাঁবুতে দিনের মূল্যবান আলো নষ্ট করছেন।

তাঁবুর ভেতরে অ্যালিসন দেখান যে তাঁর চুল বরফের শলাকার মতো জমে গেছে। একজন বলেন, শুধু তাঁবু খাটাতেই এত শক্তি খরচ হয়েছে যে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কাজটা তাঁর ধারণার চেয়ে অনেক কঠিন। তিনি এমনও বলেন যে এই মুহূর্তে মরুভূমিতে থাকতে পারলে ভালো হতো।

জঙ্গলে জিমি জানান, তিনি জীবনে কখনো এত ঘামেননি, এবং মরুভূমিও এর চেয়ে গরম হতে পারে না বলে তাঁর মনে হচ্ছে। ক্যামেরাম্যানও তাঁদের সাথে পুরো চ্যালেঞ্জে হাঁটছেন এবং দুবার প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন।

একটি ছোট নদী পার হওয়ার সময় জিমি একটি গাছ ফেলে সেতু বানান, যাতে থিয়ার জুতো ভিজে না যায়। তাঁদের যুক্তি ছিল, শুরুতেই জুতো ভিজলে বাকি পুরো যাত্রা কষ্টকর হবে। এরপর খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে তাঁদের নতুন জলের উৎস খুঁজতে হয়। তাঁরা একটি ফিল্টার বোতল ব্যবহার করেন, যেটি তাঁদের ভাষ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছেঁকে আমাজনের জল পানযোগ্য করে। তার সাথে ইলেকট্রোলাইট মিশিয়ে নেন।

মরুভূমির দলের সমস্যা ঠিক উল্টো ছিল, অর্থাৎ ঠান্ডা থাকা। তাঁরা কোনো ফ্যান আনেননি, তাই ড্রোনের বাতাস দিয়ে শরীর ঠান্ডা করেন। পথে তাঁরা একটি কঙ্কাল দেখেন। খুলি দেখে তাঁদের মনে হয় এটি মানুষের নয়। পরে একটি বিশাল গিরিখাদ ঘুরে যেতে হয়, যাকে তাঁরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গিরিখাদ বলে উল্লেখ করেন।

অগ্রগতির হিসাব ধাপে ধাপে এমন ছিল:

| সময় | জঙ্গল | মরুভূমি | অ্যান্টার্কটিকা | |---|---|---|---| | কয়েক ঘণ্টা পর | ১০% | ১১% | ৭% | | পরের আপডেট | ১৫% | ২০% | ৭% |

4:49

মরুভূমি দলের জল ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

একসময় জঙ্গল দল পথের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শেষ করে মরুভূমি দলকে ধরে ফেলে। মরুভূমি দল ওয়াকিতে উত্তর দিচ্ছিল না। জিমির ধারণা, তাঁরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বলেই জঙ্গল দল তাঁদের ধরতে পেরেছে।

এরপর মরুভূমির দল প্রথমবারের মতো দেখে যে জিমি তাঁদের পেছনে ফেলেছেন। তাঁরা পরিকল্পনা বদলান। দিন শুরু করেছিলেন চারটি বোতল নিয়ে, যার প্রতিটির ওজন আট পাউন্ড। ওজন কমাতে তাঁরা কিছু জল ফেলে দেন। দলের একজন অস্বস্তি প্রকাশ করেন যে দেখতে খারাপ লাগছে। এরপর বলা হয়, এটি হয়তো ভিডিওর সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে, তবে তা পরেই বোঝা যাবে।

6:09

নদীর ধারে প্রথম রাত ও স্টারলিংক কল

বিপজ্জনক জঙ্গলের ভেতর চার ঘণ্টা চলার পর জঙ্গল দল একটি নদীতে পৌঁছায়। পরিকল্পনা হয়, রাতে ক্যাম্প করে সকালে ভেলা বানিয়ে নদী পার হবে। থিয়া মনে করিয়ে দেন, এই নদীতে অ্যানাকোন্ডা, সম্ভবত পিরানহা আর কুমিরজাতীয় প্রাণীও আছে। জিমি স্বীকার করেন, তিনি ভেবেছিলেন আমাজন সবচেয়ে সহজ হবে, কিন্তু এটি সত্যিই খুব কঠিন।

খোলা জায়গায় ক্যাম্প করায় জিমি স্টারলিংক বসাতে পারেন এবং সবার সাথে ফেসটাইমে কথা বলেন। তখন জিমি ও থিয়া ৪০ শতাংশ, তারেক ও নোলান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, আর অ্যান্টার্কটিকা দল তখনও ৭ শতাংশে। অ্যান্টার্কটিকা দল জানায়, পরদিন তাঁরা অনেক দ্রুত এগোবে।

জিমি বলেন, কেউ মিথ্যা বলে রাতে আবার হাঁটা শুরু করছে কি না, তা যাচাই করতে তিনি ট্র্যাকিং লোকেশনের দিকে নজর রাখবেন।

8:29

দ্বিতীয় দিনের ভোর: অ্যান্টার্কটিকা দলের সুযোগ

সকালে অ্যান্টার্কটিকা দল দেখে, বাকিরা কেউ এক পা-ও এগোয়নি। আগের দিন হাতের সামনেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু এখন সবকিছু পরিষ্কার। তাঁরা ঠিক করেন, অন্যরা ঘুমিয়ে থাকার এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাবেন।

এরপর ড্যারিয়াস একটি ঝুঁকিপূর্ণ শর্টকাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর হিসাবে, এটি দূরত্ব কমাতে বা এমনকি লিড নিতেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু পথ বেশি খাড়া হলে পুরো চ্যালেঞ্জই হারতে হতে পারে। তিনি জানান, এই ঝুঁকি নিতে তিনি পুরোপুরি রাজি।

10:03

মরুভূমির শুকনো নদী আর হাঙরের দাঁত

মরুভূমি দল একটি নদী দেখে মরুদ্যানে পৌঁছায়। পরে তাঁরা এমন এক জায়গা দিয়ে হাঁটেন যেখানে নদী পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। পথে তাঁরা একটি বড় হাঙরের দাঁত খুঁজে পান। ভিডিওর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পেরুর এই মরুভূমি একসময় একটি সমৃদ্ধ ও অগভীর সমুদ্র ছিল।

এই সময় তাঁরা জেমিনাইকে স্লিপ নট বাঁধার নিয়ম জিজ্ঞেস করেন। জিমি একে "কম কাজের" প্রশ্ন বলে মজা করেন। এক পর্যায়ে মরুভূমি দল জঙ্গল দলকে আবার পেছনে ফেলে লিড নেয়।

9:15

আমাজনের নদী পার হওয়া: সাত ঘণ্টার ভেলা

সাঁতরে পার হওয়া কেন সম্ভব নয়, তা জঙ্গল দল ব্যাখ্যা করে। তাঁদের মতে, পিঠে ব্যাগ নিয়ে ওই স্রোতে নামলে তীব্র টান তাঁদের ভাসিয়ে নিত, জীবনের ঝুঁকি হতো, আর রেসে নিশ্চিতভাবেই হারতেন। শুধু বাতাস-ভরা ম্যাট্রেসও দুজনের ওজন নিতে পারবে না।

তাঁরা বাঁশ খুঁজে পান, আর এমন একটি কাঠামোও দেখেন যা দেখে মনে হয় কেউ ভেলা বানাতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু পার হতে পারেনি। জিমি জানান, তিনি আগেও বহুবার ভেলা বানিয়েছেন। তবে গতবার প্রতিটি ধাপে একজন সারভাইভাল এক্সপার্ট সাহায্য করেছিলেন। এবার তিনি জেমিনাইকে জিজ্ঞেস করেন, ম্যাট্রেস, বাঁশ আর দড়ি দিয়ে কীভাবে ভেলা বানানো যায়। পাওয়া নির্দেশনা ছিল এরকম:

  1. দুটি মোটা বাঁশ সমান্তরালভাবে পাশাপাশি রাখা।
  2. তার ওপর দুটি কাঠের ডাল আড়াআড়ি রাখা।
  3. দুটি স্লিপিং প্যাড একটির ওপর আরেকটি রেখে শক্ত করে বাঁধা।

বাঁধার জন্য তাঁরা গাছে ক্যামেরা আটকাতে আনা জিপ টাই ব্যবহার করেন। জিমি স্বীকার করেন, ভেলাটি আগের ভেলা বানানোর ভিডিওর মতো হয়নি, কারণ এবার এক সপ্তাহ নয়, হাতে ছিল মাত্র সাত ঘণ্টা। ভেলাটি তিনজনের জন্য যথেষ্ট বড় ছিল না। তাই থিয়া ব্যাগগুলো নিয়ে ভেলায় বসেন এবং দাঁড় চালান, আর জিমি ও জ্যাক জলে নেমে পা চালিয়ে ঠেলতে থাকেন।

স্রোত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। তাঁদের যেখানে নামার কথা, সেখান থেকে অনেক দূরে ভেসে যান। জিমির প্রথম আন্দাজ ছিল প্রায় এক মাইল, পরে তিনি জানান প্রায় দুই মাইল। একটি জায়গা দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন এটিই শেষ সুযোগ। এটি মিস করলে আরও পাঁচ ঘণ্টা হাঁটতে হতো। শেষ মুহূর্তে জিমি তল খুঁজে দাঁড়াতে পারেন এবং তীরে পৌঁছান।

তবে নির্দিষ্ট জায়গায় নামতে না পারায় তাঁদের শর্টকাট আসলে আরও লম্বা পথে পরিণত হয়।

11:48

মাঝপথের অবস্থা ও মরুভূমি দলের রাতভর হাঁটার পরিকল্পনা

নদী পার হওয়ার পর আপডেট ছিল এরকম:

| দল | অগ্রগতি | |---|---| | তারেক ও নোলান (মরুভূমি) | ৫৮% | | জিমি ও থিয়া (জঙ্গল) | ৪৭% | | ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন (অ্যান্টার্কটিকা), শর্টকাটের পর | ৪০% |

জিমির মতে তখন যে কেউ জিততে পারত। তিনি মজা করে অন্যদের বিশ্রাম নিতে বলেন, কিন্তু নিজেরা থামেননি।

মরুভূমি দল সিদ্ধান্ত নেয় তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগ রেখে শুধু দরকারি জিনিস নিয়ে সারা রাত হাঁটবে, যাতে জিমির আগে হেলিকপ্টারে পৌঁছানো যায়। একটি পুরো পাহাড় বেয়ে ওঠার পর ভিউ দেখে তাঁরা বলেন, কষ্ট সার্থক। কিন্তু নামার সময় হাঁটুতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। একজন বলেন, এই প্রথম মনে হচ্ছে শরীর আর মনের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। আরেকজন নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ার কৌশলের কথা বলেন।

14:16

ঝড়, পাহাড় আর বমি

জঙ্গলে থিয়া একটি গাছের ফল খাওয়া যায় কি না জিজ্ঞেস করেন। উত্তর আসে যে ফলটি খাওয়া যায়, তবে এর ভেতরের শক্ত কালো বীজে সহজেই দাঁত ভেঙে যেতে পারে। তাই তিনি ফলটি খাননি।

অ্যান্টার্কটিকায় ঝড় এগিয়ে আসে, বাতাস বাড়তে থাকে, আর দৃষ্টিসীমা আবার প্রায় শূন্যে নামে। দলটি বলে, তাঁরা হয়তো নিজেদের ওপর বেশি চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু মায়ের জন্য সবটুকু দেবেন। মরুভূমিতে চারপাশে শুধু বালি, তার মধ্যে লাল পিঁপড়ের ঝাঁকও দেখা যায়।

জঙ্গল দল তখন মরুভূমি দলের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ পিছিয়ে। তাঁরা দেখেন সামনে আরও পাঁচটি পাহাড় বাকি, অথচ আগেরটিকেই শেষ বড় পাহাড় ভেবেছিলেন। একটানা এক ঘণ্টা হাঁটার পর জিমি বমি করেন। থিয়া তখন তাঁর ব্যাগ নিয়ে নেন, আর জিমি নিজেকে মজা করে "প্যাসেঞ্জার প্রিন্সেস" বলেন।

এর মধ্যে কয়েকজনের মা ভিডিও কলে উৎসাহ দেন। নোলানের মা পর্যাপ্ত জল খেতে আর সাবধানে থাকতে বলেন, তবে পুরো শক্তি দিয়ে জিততেও বলেন।

অ্যান্টার্কটিকা দলের থেমে যাওয়া

অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসের দমকা প্রায় ঘণ্টায় ৫০ মাইলে পৌঁছায়। দলটি বলে, সামান্য একটি ভুলও এমন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে যেখান থেকে বের হওয়া যাবে না। এক পর্যায়ে একজনের গগলস কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।

দৃষ্টিসীমা এতটা কমে যায় যে ঝড়ের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। ড্যারিয়াস অ্যালিসনকে বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে তাঁরা হেরে গেছেন। পরে তাঁরা বলেন, প্রকৃতি তাঁদের বড় ধাক্কা দিয়েছে।

আপডেট বন্ধের প্রস্তাব

জিমি জানান, নদী পার হওয়ার পর দেড় ঘণ্টায় মরুভূমি দল ৫৯ থেকে ৭২ শতাংশে চলে গেছে। তাঁর ধারণা ছিল, তাঁরা এই গতি ধরে রাখতে পারবেন না। অন্যদিকে মরুভূমি দল প্রায় ৬০ পাউন্ড ওজন পিঠে নিয়ে বালির পাহাড়ে উঠছিল, যেখানে প্রতিটি পা বালিতে দেবে যাচ্ছিল।

তখন জিমি একটি প্রস্তাব দেন। জঙ্গল ৬৬ শতাংশে, মরুভূমি ৭৩ শতাংশে, আর অ্যান্টার্কটিকা অর্ধেকের একটু বেশি পথ এসেছে। এই অবস্থায় কেউ না জেতা পর্যন্ত আর কোনো আপডেট দেওয়া হবে না। সবাই রাজি হয়, এবং দর্শকদের জন্যও এরপর অগ্রগতির তথ্য দেখানো বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর মরুভূমি দল একটি উঁচু জায়গা থেকে দেখতে পায় কোন দিকে তাঁদের উদ্ধার করা হবে। তবু তখনও আড়াই মাইল বাকি, পায়ে শক্তি প্রায় শূন্য। এর মধ্যে একজনের জলের বোতল পড়ে যায়, আর তাঁরা আশঙ্কা করেন দ্রুত শেষ না করলে পিপাসায় বিপদে পড়বেন।

18:41

হাইড্রেশন হেলিকপ্টার

এই পর্যায়ে জিমি সবাইকে থামতে বলেন। সবাই একটি হেলিকপ্টার দেখে, তবে সেটি রেসকিউ হেলিকপ্টার নয়। জিমির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সবাই সম্ভবত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েছে, তাই তিনি তিন দলের কাছে পিডিয়ালাইট ও বরফের পপ পাঠিয়েছেন। মরুভূমি দল বলে, এটিই দিনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা।

এর পরপরই জঙ্গল দল শেষ ধাপে দ্রুত যাওয়ার জন্য ব্যাগগুলো রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অ্যান্টার্কটিকায় ড্যারিয়াস ও অ্যালিসনের মায়েরা ফোনে তাঁদের উৎসাহ দেন। ড্যারিয়াসের মা বলেন, তিনি বিজয়ী এবং এই বাধা পার হবেন। অ্যালিসনের মা বলেন, তিনি চান মেয়ে মন খারাপ করে নয়, দারুণ একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরুক। অ্যালিসন জানান, এরপর তাঁর অনেক ভালো লাগছে।

শেষ ধাপ: আট মিনিটের ব্যবধান

শেষ ধাপে মরুভূমি দল পিডিয়ালাইট বা জল কিছুই না নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। তাঁদের মনে হচ্ছিল জিমির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। চড়াই পথে বুকের ধুকপুকানি টের পাওয়ার কথা বলেন তাঁরা। একজন বলেন, শরীর থামার আগেই মন হাল ছেড়ে দেয়, তাই তাঁরা থামবেন না। জিমিও আবার বমি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জঙ্গলে ক্যামেরাম্যান পড়ে যান। জিমি ক্যামেরা নিজের হাতে নিয়ে এগিয়ে যান। কেউই জানতেন না অন্য দল ঠিক কতটা পেছনে বা সামনে।

ফলাফল ছিল খুবই কাছাকাছি:

| স্থান | দল | সময় | |---|---|---| | প্রথম | জঙ্গল (জিমি ও থিয়া) | ২৮ ঘণ্টা ১৫ মিনিট | | দ্বিতীয় | মরুভূমি (তারেক ও নোলান) | ২৮ ঘণ্টা ২৩ মিনিট |

পৌঁছানোর পর মরুভূমি দলের একজন বলেন পায়ে কোনো সাড় পাচ্ছেন না। অন্যজন বলেন তাঁর সমস্যা ঠিক উল্টো, তিনি পা টের পাচ্ছেন এবং তাতে প্রচণ্ড ব্যথা।

জঙ্গল দল তাঁদের মায়েদের হাতে পুরস্কারের টাকা তুলে দেয়। অ্যান্টার্কটিকা দল যখন নিজেদের হেলিকপ্টারের জায়গায় পৌঁছায়, তখন সেখানে কিছুই ছিল না। ড্যারিয়াস ও অ্যালিসন বুঝতে পারেন, তাঁরা হেরে গেছেন এবং পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেছে।

এভাবে রেসটি শেষ হয়। শুরুতে যে আমাজনকে জিমি সবচেয়ে সহজ ভেবেছিলেন এবং পরে সবচেয়ে কঠিন মনে করেছিলেন, সেই জঙ্গল দলই মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে জেতে। আর প্রথম দিনের দৃষ্টিসীমা ও শেষ দিকের ঝড়ে দুবার থামতে বাধ্য হওয়া অ্যান্টার্কটিকা দল শেষ পর্যন্ত পিছিয়েই থাকে।