১০০ পুলিশের হাত থেকে ১২ ঘণ্টা পালানোর চেষ্টা: মিস্টারবিস্টের দলের লুকোচুরি

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর প্রশ্ন একটাই: পাঁচজন মানুষ কি ১২ ঘণ্টা ধরে ১০০ জন পুলিশকে ফাঁকি দিতে পারে? জিমি (মিস্টারবিস্ট), নোলান, তারেক, ড্যারিয়াস আর অ্যালিসন এই চ্যালেঞ্জে নামেন। জিমির দাবি, তিনি কয়েক মাস ধরে এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। ভিডিওর শেষে পরিষ্কার হয় যে প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না।

11 মিনিটে পড়া

খেলার নিয়ম আর বাজি

শুরুতেই জিমি জানান, তাদের পেছনে ১০০ জন পুলিশ আছে। দিনের শেষে পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারলে তারা ৫ লাখ ডলার জিতবে, আর দল পালিয়ে গেলে পুলিশ কিছুই পাবে না। পুলিশের ব্রিফিংয়ে আরেকটি নিয়ম শোনা যায়: প্রতিটি গ্রেপ্তারের জন্য বিভাগ ১ লাখ ডলার পাবে। পলাতকদের দিকেও প্রণোদনা আছে। ১২ ঘণ্টার এই তাড়া থেকে যারা সফলভাবে বেঁচে যাবে, তারা নিজেদের মায়ের জন্য ১ লাখ ডলার জিতবে।

খেলাটা হয় সম্পূর্ণভাবে ডিজাইন করা একটি শহরে। জিমির ভাষ্যমতে, দলকে জেতার সুযোগ দিতে তিনি কয়েক মাস ধরে সেখানে শত শত ক্যামেরা, ফাঁদ আর গোপন ঘর তৈরি করেছেন। তবে তিনি নিজেই বলেন, এটুকু ধরা পড়া এড়াতে যথেষ্ট হবে বলে তিনি আশা করছেন। কোনো নিশ্চয়তা তিনি দেননি।

0:09

প্রথম দৌড় এবং দশ মিনিটেই প্রথম গ্রেপ্তার

টাইমার চালু হতেই দল গাড়ি নিয়ে ছোটে, পুলিশও ঠিক পেছনে লেগে থাকে। জিমি জানান তার একটা পরিকল্পনা আছে। একটা জিনিস উড়িয়ে দিয়ে তারা কিছুটা সময় বের করে নেন। এরপর সবাই যার যার জায়গায় চলে যায়, যাওয়ার সময় একে অপরকে বলে যায় "গ্রেপ্তার হয়ো না"।

প্রথম লুকানোর জায়গাগুলো সাধারণ ছদ্মবেশ নির্ভর ছিল। ড্যারিয়াস খড়ের গাঁট দিয়ে ঢাকা একটা দুর্গের ভেতরে ঢোকেন। জিমি আর অন্যরা দ্রুত পোশাক বদলে নেন, অ্যালিসন লুকান ময়লার মধ্যে। কিন্তু পুলিশ আগেই পিছু নিয়েছিল। এক অফিসার খড়ের গাঁটগুলোকে "একটু সন্দেহজনক" বলে মন্তব্য করেন, কাছে গিয়ে শব্দ শোনেন, আর ড্যারিয়াসকে হাত তুলে বেরিয়ে আসতে বলেন। খেলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ড্যারিয়াস গ্রেপ্তার হন।

ড্যারিয়াস রেডিওতে জানান, পুলিশ কীভাবে তাকে খুঁজে পেল তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি বাকিদের পালাতে বলেন। দলের অন্যরা তাকে বলে, ক্ষমা যদি চাইতেই হয় তবে মায়ের কাছে চাওয়া উচিত, কারণ তিনি এখন ভিডিওটা দেখছেন। পুলিশ সদর দপ্তরে তখন বলা হয়, এই লোকগুলো ধূর্ত ও চতুর, তাদের চাল বোঝা কঠিন, তাই অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লেই জানাতে হবে।

1:56

পুলিশের সার্চ লাইন আর নিচের সুড়ঙ্গ

তারেকের কাছ থেকে ম্যাপ নিয়ে জিমি পুলিশের কৌশলটা বিশ্লেষণ করেন। পুলিশ একটা সোজা লাইন ধরে এগোচ্ছে আর প্রতিটা জায়গা ও আনাচে-কানাচে তল্লাশি চালাচ্ছে। জিমির মতে এই কৌশলের একটাই দুর্বলতা আছে। কোনোভাবে লাইনটা পেরিয়ে পেছনে চলে যেতে পারলে, যেসব বাড়িতে তল্লাশি হয়ে গেছে সেখানে পুলিশ আর তাদের সন্দেহ করবে না।

লাইন পেরোনোর উপায় ছিল শহরের নিচের নিকাশি ব্যবস্থা। জিমির দাবি, এই সুড়ঙ্গের কথা পুলিশ জানত না। তারা নর্দমার ভেতর দিয়ে এগোন। ওপরে উঠে জিমি নিজের যুক্তি ব্যাখ্যা করেন: তারা যখন নর্দমায় ছিলেন, পুলিশের দলটা সম্ভবত তাদের মাথার ওপর দিয়েই হেঁটে চলে গেছে, ফলে এখন তারা লাইনের পেছনে। খোলা মাঠ পেরোনোর সময় আশেপাশে কোনো পুলিশ দেখা যায়নি, আর জিমি সেটা দর্শকদের খেয়াল করতে বলেন। এই পর্যায়ে দলের একজনের কাছে ১ লাখ ডলারের একটা ব্যাগও ছিল। জিমি আরও জানান, শহরে একটা নিরাপদ ঘর (সেফ হাউস) আছে যেখানে একটা ডিটোনেটর রাখা।

তিন ঘণ্টা পর দলটা আলাদা হয়ে যায়। একজন সাবওয়েতে যেতে রাজি হন, আরেকজন যেতে চান না। জিমি নোলানকে নিয়ে "লাইন থেকে যত দূরে সম্ভব" যান, তারপর তাকেও ছেড়ে চলে যান। বিদায়ের সময় তারা মজা করে বলেন, হয়তো এটাই চিরদিনের মতো শেষ দেখা। সাবওয়ের দিকে পুলিশ আবার কাছে চলে আসে। তারেককে পেছনের বাঁ কোনায় দেয়াল টেনে একটা গোপন জায়গা খুলতে বলা হয়, কিন্তু পুলিশও সেখানে পৌঁছে হাত দেখাতে বলে। একজন অংশগ্রহণকারী সেই মুহূর্তকে জীবনের সবচেয়ে লজ্জাজনক অভিজ্ঞতা বলেন। ভিডিওতে কে ঠিক কোন অবস্থায় পড়েছিলেন তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে তারেক পরের অংশেও খেলায় ছিলেন।

3:40

ফাঁস হওয়া গোপন ঘর আর জিমির "ব্যাকআপ মাস্টার প্ল্যান"

জিমি একটা স্কুলে যান, যেখানে তার গোপন ঘরের পরিকল্পনা ছিল। তার বিশ্বাস ছিল এই ঘর পুলিশ কখনো খুঁজে পাবে না। কিন্তু গিয়ে দেখেন পুলিশ সেটা পেয়ে গেছে। তবে তারা ডিটোনেটরটা নেয়নি। জিমি সেটা ১ লাখ ডলারের ব্যাগে রেখে দেন এবং বলেন পরে এটা লাগবে। ঘরে একটা রিমোটও ছিল, যেটা দিয়ে টিভিতে শহরের প্রত্যেকটা ক্যামেরার ছবি বদলানো যায়। জিমির ভাষায়, ভাগ্যিস পুলিশ সেটা বুঝতে পারেনি। পুলিশ আবার স্কুলে ফিরে আসবে বলে তার সন্দেহ হয়, তাই তিনি সরে যান।

এখানে জিমি পরিস্থিতির হিসাব দেন। চ্যালেঞ্জ মাঝপথে, বেশিরভাগ লুকানোর জায়গা ফাঁস হয়ে গেছে, ড্যারিয়াস গ্রেপ্তার। তাই এবার তিনি তার "ব্যাকআপ মাস্টার প্ল্যান" চালু করছেন এবং আশা করছেন সেটা পরিকল্পনামতো এগোবে। এর শুরুটা নোলানকে দিয়ে। জিমি এটাকে ভিডিওর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বলেন, কারণ তার চিন্তাটা বাস্তবায়ন করতে তাকে খুব উঁচু একটা বিল্ডিংয়ে উঠতে হবে।

পুলিশ নোলানকে দেখে ফেলে তাড়া করে। তখন একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জিমি অকপটে স্বীকার করেন, এই মনোযোগ ঘোরানোর কৌশলের পেছনে তিনি আসলে শুধু অনেকগুলো বিস্ফোরণ ঘটাতে চেয়েছিলেন। এটা হয়তো খুব একটা কাজের নয়, তবে দেখতে দারুণ। ধোঁয়ার মধ্যে পুলিশ কিছু দেখতে পায় না, নোলানকে আর ধরা যায় না।

5:39

৫০ জন ডপেলগ্যাঙ্গার আর সিনেমা হলের ফাঁদ

জিমি তার পরের পরিকল্পনাকে "আরেকটু বেশি কাজের" বলেন। তিনি নিজের একজন ডপেলগ্যাঙ্গারের (দেখতে হুবহু একই রকম মানুষ) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, তারপর জানান শহরে এমন ৫০ জনেরও বেশি আছে। পরিকল্পনা ছিল ডপেলগ্যাঙ্গারদের একটা মুভি থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া, পুলিশকে ফুসলিয়ে ভেতরে আনা, তারপর পেছন থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া।

কাজটা হয়। পুলিশ দেখে সবার কাঁধে ব্যাকপ্যাক, সবার পরনে কালো পোশাক, আর সবাই সিনেমা হলে ঢুকছে। তারা সাহায্য চেয়ে ভেতরে যায়। জিমির ব্যাখ্যায়, হলটায় ঢোকার একটাই রাস্তা আর বেরোনোর কোনো রাস্তা নেই। দরজা বন্ধ হয়ে যায়। জিমির হিসাবে পুলিশ পরের কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকবে, তাই তিনি পর্দায় নিজের "সর্বকালের সেরা ক্লাসিক" চালিয়ে দেন: ১,০০,০০০ পর্যন্ত গোনার ভিডিও।

7:44

নিরাপদ ঘরে আটকা নোলান আর নতুন সরঞ্জাম

নোলান সেফ হাউসে পৌঁছান, কিন্তু ভেতরে ঢুকে দেখেন কোনো দরজাই খুলছে না। জিমি জানান, ওই শেড থেকে বেরোতে নোলানকে ভিডিওর স্পনসর গেম Call of Duty: Mobile-এ একটা 2v2 ম্যাচ জিততে হবে, আর জিতলে কিছু বিশেষ জিনিস আনলক হবে যা বাকি চ্যালেঞ্জ সহজ করবে। নোলান অনেক কল অফ ডিউটি খেলেছেন বলে জানান এবং ম্যাচটা জেতেন। এরপর দেখা যায় তালার কোডটা কাছেই লেখা ছিল, "০০০"। নোলান মজা করে বলেন, এটা হয়তো এমনিতেই আন্দাজ করা উচিত ছিল।

ভেতরে ছিল নাইট ভিশন গগলস, ঘিলি স্যুট (যেটা পরে নোলান বলেন "যেখানে খুশি মিশে যেতে পারব"), স্মোক গ্রেনেড আর একটা ইউএভি। ইউএভি দিয়ে সবাই ঠিক কোথায় আছে দেখা যায়। নোলান সেখানেই দেখেন, তারেক আর ড্যারিয়াস তখন জেলে।

8:26

ক্যাফেতে তারেকের গ্রেপ্তার

এর মধ্যে তারেক একটা "সুন্দর শান্ত ক্যাফে"তে গিয়ে লুকান। পুলিশ দুই দিক থেকে ঢোকে এবং কেউ লুকিয়ে আছে বুঝতে পারে। ক্যাফেতে একটা চোরা দরজা ছিল, কিন্তু সেটা তালাবদ্ধ, কিছুতেই খোলে না। পুলিশ সেই দরজার ওপর একজনকে দাঁড় করিয়ে দেয় যাতে তারেক বেরোতে না পারেন, তারপর তাকে গ্রেপ্তার করে। তারেক জানতে চান তাকে ধরতে কতজন লেগেছে, বাইরে কি ১০০ জনই আছে কিনা। ১ লাখ ডলারের ব্যাগটা তার কাছে পাওয়া যায়। পুলিশ বলে, "এটা এখন আমাদের।"

তারেককে ধরার পর পুলিশ উল্লাস শুরু করলে দলের একজন সেই সুযোগে দূরে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। জেলে পৌঁছে তারেক দেখেন তার সেলে আগে থেকেই তার নাম লেখা।

10:39

অন্ধকারে লুকোচুরি: ইউএভি আর নাইট ভিশন

রাত নামলে পুলিশ রেডিওতে জানায় চারপাশে "ভুতুড়ে নীরবতা"। তাদের সিদ্ধান্ত হলো পলাতকদের ভুল করার জন্য অপেক্ষা করা। একই সময়ে জিমির দল একটা নতুন লক্ষ্য ঠিক করে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে জেলে ঢোকার একটা গোপন রাস্তা আছে, সেটা ব্যবহার করে তারেক ও ড্যারিয়াসকে বের করে আনা। পুলিশও এমন কিছু আঁচ করে। তারা ধরে নেয় পলাতকরা সম্ভবত জেল ভাঙার চেষ্টা করবে, তাই জেল পাহারায় রাখে এবং বাকিরা আবার সব জায়গা তল্লাশি করতে যায়।

নোলান ইউএভি থেকে বাকিদের পথ দেখান। অ্যালিসনকে জানান তার কাছে পুলিশ নেই, এগোনো যায়। জিমিকে সতর্ক করেন যে ঠিক সামনেই পুলিশ। জিমি গাড়িগুলোর পাশে শুয়ে পড়েন, সব আলো নিভিয়ে দেন, এমনকি ক্যামেরার আলোও, আর ছায়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকেন। পুলিশ চলে যাওয়ার পর জিমি বলেন, বেঁচে গেছেন বিশ্বাস হচ্ছে না, আর এর কৃতিত্ব নোলানের।

পুলিশ কেন তাদের খুঁজে পাচ্ছে না, সেটা ব্যাখ্যা করতে জিমি দর্শকদের নাইট ভিশন বন্ধ করে দেখান। দর্শকরা ফুটেজে সব স্পষ্ট দেখছেন, কিন্তু খালি চোখে টর্চ ছাড়া দেখা খুব কঠিন। জিমি, অ্যালিসন আর নোলান মুভি থিয়েটারের কাছে আবার মিলিত হন। ভেতরে তখনো গোনা চলছে, ২২৭৫, ২২৭৬...। নোলান সেখানে একটা ডোনাট নিয়ে খুনসুটি শুরু করেন, যা বাকিদের পছন্দ হয়নি। এর মধ্যে পুলিশ খবর পায় যে সন্দেহভাজনদের একজন সম্ভবত ঘিলি স্যুট পরে আছেন।

13:22

জেল ভাঙার চেষ্টা: "সবচেয়ে বোকার মতো কাজ"

জিমি পরিকল্পনাটা ব্যাখ্যা করেন। একটা বিল্ডিং থেকে একটা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ সোজা জেল পর্যন্ত গেছে, আর জেলটাই আবার পুলিশ সদর দপ্তর। ধরা পড়লে ওই সুড়ঙ্গই পালানোর একমাত্র পথ। জিমি নিজেই স্বীকার করেন, তারা ঠিক সেই জায়গাতেই যাচ্ছেন যেটা এতক্ষণ এড়িয়ে চলছিলেন। কাজটা হয় দারুণ কিছু হবে, নয়তো তাদের সবচেয়ে বড় বোকামি, আর তখন তিনজনই ধরা পড়বেন। তবু তার যুক্তি ছিল, তিনি তারেক আর ড্যারিয়াসকে মায়েদের জন্য কিছু না নিয়ে বাড়ি ফিরতে দিতে পারেন না।

পুলিশের মনোযোগ সরাতে জিমি তার এক ডপেলগ্যাঙ্গারকে সদর দপ্তরে পাঠান। সে ক্রিসপি ক্রিম ডোনাট নিয়ে হাজির হয়। কিছু অফিসার ডোনাট দেখতে এগোন, তবে অন্যরা বলেন এটা নিশ্চিতভাবে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা, আসল লোক কোথাও আছে, সতর্ক থাকতে হবে।

দলটা পুরো শহরের নিচ দিয়ে হাঁটে। সুড়ঙ্গ কত লম্বা তা বোঝাতে জিমি একটা আনকাট শট দেখান, তারপর আরেকটা লম্বা সুড়ঙ্গ পার হন। জেলের কাছে পৌঁছে তারা ফাঁকা করিডোরের শেষে সেলগুলো দেখতে পান এবং ড্যারিয়াসের গলা শোনেন। চ্যালেঞ্জ শেষ হতে তখন মাত্র দুই ঘণ্টা বাকি। ভেতরে ঢোকার সময় জিমি আবার বলেন, এটা তার জীবনের সবচেয়ে বোকার মতো কাজ।

তখনই একজন পুলিশ তাদের দেখে ফেলেন। দলটা ছুটে পালায়। পেছনে সেল থেকে জিমির উদ্দেশে চিৎকার আসে, "বাঁচাও!" নোলান স্মোক গ্রেনেড ফেলেন। পুলিশ ধোঁয়ার মধ্যে পিছু ধাওয়া করা নিরাপদ মনে করেনি। পালানোর সময় অ্যালিসন থেমে যান, আর বাকিরা ধরে নেন তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। আসলে অ্যালিসন দেয়ালের ভেতরের একটা গর্তে লুকিয়ে আলো নিভিয়ে বসে ছিলেন। পরে রেডিওতে তার খবর পেয়ে জিমি একে "অসাধারণ" বলেন।

16:39

শেষ ঘণ্টা: কন্টেইনার, জঙ্গল আর চারদিক থেকে ঘেরাও

পুলিশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। একটা ইউনিট সুড়ঙ্গের দক্ষিণ প্রান্তে, আরেকটা উত্তরে পাঠানো হয়। তারা জানত সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার একটাই পথ, তাই সেটা ঘিরে পেরিমিটার তৈরি করে। এরপর সারি বেঁধে, নাইট ভিশন চালু করে আর সব আলো জ্বালিয়ে তারা বিল্ডিংগুলোর দিকে এগোয়।

পলাতকরা কন্টেইনারগুলোর কাছে শেষবারের মতো একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করে। পুলিশ কাছে আসতে থাকলে একজন জঙ্গলে লুকানোর সিদ্ধান্ত নেন, যদিও নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেন কাজটা ঠিক হচ্ছে কিনা। পুলিশ জঙ্গলের ধারে আলো ফেলে, আর একজন অফিসার গাছের ফাঁকে "চোখ দেখতে পাচ্ছি" বলে চিৎকার করেন। ধারাভাষ্যে জিমি স্মরণ করান, এগারো ঘণ্টা আগে তারা বেরিয়েছিলেন একটা সম্পূর্ণ ডিজাইন করা শহরে ১০০ পুলিশকে টেক্কা দিতে, আর সেটা কঠিন পরীক্ষা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এরপর আরও একজন ধরা পড়েন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশকে বলেন, "তোমরা জিমিকে কখনও ধরতে পারবে না।"

পুলিশ কন্টেইনার এলাকাকে লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করে চারদিকে নজর রাখে। জিমি আর তার সঙ্গী আরও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু রাস্তাটা বন্ধ। জিমি স্বীকার করেন, "আমি একটা ভুল করে ফেলেছি।" পুলিশ রাস্তার উত্তর দিকসহ চারপাশে পেরিমিটার তৈরি করে, ছড়িয়ে পড়ে, আর শেষে জিমিকে মাটিতে শুইয়ে হাতকড়া পরায়। জিমির প্রতিক্রিয়া: "আমরা কত কাছে ছিলাম।"

ফলাফল

চ্যালেঞ্জ শেষ হতে তখনো দেড় ঘণ্টা বাকি। ওই অবস্থায় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার করে এবং ৫ লাখ ডলার জিতে নেয়। জিমি তাদের অভিনন্দন জানান। ১২ ঘণ্টা টিকে থাকতে পারলে মায়েদের জন্য যে ১ লাখ ডলার পাওয়ার কথা ছিল, দলের কেউ তা পাননি। গোপন সুড়ঙ্গ, ৫০ জনের বেশি ডপেলগ্যাঙ্গার, সিনেমা হলের ফাঁদ, ইউএভি আর নাইট ভিশন কিছু সময়ের জন্য কাজে লেগেছিল। কিন্তু পুলিশের সারিবদ্ধ তল্লাশি, একমাত্র প্রস্থানপথ ঘিরে ফেলার কৌশল আর জিমির নিজের স্বীকার করা শেষ মুহূর্তের ভুলের কাছে শেষ পর্যন্ত পুরো দলই ধরা পড়ে।