জ্ঞান বনাম রসদ: ১০০ জনকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া মিস্টার বিস্টের ২.৫ লাখ ডলারের টিকে থাকার লড়াই
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, জঙ্গলে টিকে থাকার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কী জেতে: অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান, নাকি হাতে থাকা রসদ। মিস্টার বিস্ট ১০০ জনকে দুই দলে ভাগ করে গহীন জঙ্গলে ছেড়ে দেন। নীল পোশাকের ৫০ জন সারভাইভাল এক্সপার্ট, আর লাল পোশাকের ৫০ জন আনাড়ি, যাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেন যে তাঁরা হয়তো জঙ্গলের পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারবেন না। নিয়ম সহজ: উদ্ধার আসার সময় যে দলে সবচেয়ে বেশি মানুষ টিকে থাকবেন, তাঁরা ২.৫ লাখ ডলার ভাগ করে নেবেন। চ্যালেঞ্জ থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে উদ্ধারের অপেক্ষা করা। বিশ দিনের এই খেলার শেষে মিস্টার বিস্ট যে সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তা জ্ঞান বা রসদ কোনোটিই নয়।
অসম সূচনা: প্রস্তুত আনাড়ি, অপ্রস্তুত এক্সপার্ট
ব্লু টিমের সদস্যদের অভিজ্ঞতা ছিল চমকে দেওয়ার মতো। কেউ কেউ জানান, শখের বশে টানা তিন মাস পর্যন্ত জঙ্গলে কাটিয়েছেন। অন্যদিকে রেড টিমকে জিজ্ঞেস করা হলে আগে ক্যাম্পিং করার ব্যাপারে তাঁদের উত্তর ছিল দ্বিধাগ্রস্ত। কতজন এক মাস টিকতে পারবেন, এই প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া দেখে মিস্টার বিস্ট মন্তব্য করেন, ওদের অবস্থা তো এখনই খারাপ।
এক্সপার্টদের বাড়তি সুবিধা পুষিয়ে দিতে মিস্টার বিস্ট খেলা শুরুর আগেই রেড টিমকে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে দেন এবং তাঁদের দোকানে নিয়ে যান, যাতে টিকে থাকার জন্য দরকারি জিনিস কিনতে পারেন। কেউ দড়ি আর টার্প কেনেন, কেউ একবারে ২৪ বোতলের জলের প্যাকেট, কেউ দোকানে ঢুকেই লাইটার তুলে নেন। ব্লু টিমকে শুধু বলা হয়েছিল যে তাঁরা মিস্টার বিস্টের একটি ভিডিওতে অংশ নিচ্ছেন। একজন জানান, কী প্যাক করতে হবে না জেনে যা পেরেছেন নিয়েছেন, ভেবেছিলেন আলাস্কায় নিয়ে যাওয়া হবে।
তবু এক্সপার্টদের পরিকল্পনা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। একজন ব্যাখ্যা করেন, আশ্রয়ের জন্য জঞ্জাল দিয়ে সাধারণ ডেরা বানানো হবে, আর মূল কাজ হলো ইনসুলেশনের একটা ভালো স্তর তৈরি করা। তিনি প্রায় এক দশক ধরে এসব শিখেছেন বলে জানান, এবং উপকরণ জড়ো করতে দশজন লোক চান, কারণ একসাথে বানালে মনোবলও বাড়বে। অন্যদিকে রেড টিমের আত্মবিশ্বাস ছিল অন্যরকম। প্রফেশনালদের হারাতে পারবেন কি না জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন, তাঁরাও নিজেদের মতো প্রফেশনাল। একজন খোলাখুলি স্বীকার করেন, তিনি শুধু সিনেমায় যা দেখেছেন তাই করছেন।
প্রথম রাতের ধাক্কা: এক্সপার্টরাই আগে বাদ পড়লেন
প্রথম রাতেই দেখা যায়, বাড়তি সরঞ্জামের কারণে রেড টিমের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় এক্সপার্টদের ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় দিনে একজন জানান, মাটি এত ঠান্ডা আর ভেজা যে একটুও ঘুমাতে পারেননি।
মিস্টার বিস্টের কাছে অবাক করার মতো বিষয় ছিল যে প্রথম দুজন যাঁরা বাদ পড়লেন, তাঁরা দুজনেই ব্লু টিমের। তাঁদের একজন জানান, তাঁর বয়স ৬৬ বছর এবং দুই হাঁটুই রিপ্লেসমেন্ট করা। অথচ রেড টিম নিজেদের সব রসদ কাজে লাগিয়ে আয়েশে রাত কাটায়। পরের সকালে তাঁদের একজন রোদেলা সকাল উপভোগ করতে করতে বলেন, দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে এমন বিরতি নেওয়া ভালো।
আশ্রয় তৈরি: পাতার স্তর বনাম তাঁবু
এক্সপার্টরা বুঝলেন, ডেরা দ্রুত ঠিক না করলে আরও মানুষ হারাবেন। তাঁদের একজন ব্যাখ্যা করেন, এই ডেরা মানে শুধু কাঠির স্তূপ নয়। প্রায় এক ফুট পুরু পাতার স্তর দিতে হবে, এতে সবার খাটুনি হবে, কিন্তু বৃষ্টি এলে এই পাতাই তাঁদের বাঁচাবে। রেড টিমও একটি বিশাল "ফোর্ট" বানায়, খাবার শুকনো রাখতে ছাদ দেয়। মিস্টার বিস্ট তাঁদের কাজ দেখে ঠাট্টা করে বলেন, পরের সারভাইভাল ভিডিওতে তাঁদের কাছ থেকেই টিপস নিতে হবে।
ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, এক্সপার্টরা যখন সীমিত রসদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছিলেন, আনাড়িরা তখন তাদের সুবিধা দ্রুত নষ্ট করছিলেন। এক ব্লু সদস্য মন্তব্য করেন, রেড টিম সব শক্তি ক্ষয় করছে, তাই বেশিদিন টিকবে না। এক্সপার্টদের পরিশ্রমের ফলও মিলতে শুরু করে। একজন নিজেদের ডেরাকে ফোর সিজনস হোটেলের চেয়েও ভালো বলেন। তৃতীয় দিনে তাঁরা জানান, বাচ্চার মতো ঘুমিয়েছেন। রেড টিমের হয়তো তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগ আছে, কিন্তু তাঁদের আছে এই উষ্ণ ডেরা। না খেয়েও তাঁরা মজা করছেন, কেউ ব্যাকফ্লিপও দেখান।
খাবার সংকট ও লুকানো ভাণ্ডার
তৃতীয় দিনে রেড টিমের সামনে সবচেয়ে কঠিন সমস্যা আসে, খালি পেট। প্রথম দুই দিনেই তাঁরা সব খাবার শেষ করে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে সারভাইভাল এক্সপার্ট সেথের নেতৃত্বে ব্লু টিম, বর্ণনার ভাষায়, পুরো জঙ্গলটাকেই গ্রসারি স্টোরে পরিণত করে। সেথ কোন গাছ তুলে হালকা খাবার হিসেবে খাওয়া যায় তা দেখান, আর কাঠি দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ বানিয়ে পাশের নদীতে পাতেন। রেড টিম মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করেও শেষমেশ শুধু আবর্জনা ধরতে পারে।
চতুর্থ দিনে খাবারের অভাব আর হাসির বিষয় থাকে না। একজন বলেন, মনে হচ্ছে সারারাত কাঠি চিবিয়েই কাটাতে হবে। মিস্টার বিস্ট জানান, তিনি এটার জন্যও পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন, কারণ পার্টি মিক্স বড়জোর ৪৫ মিনিট চলে। বনের চারপাশে তিনি খাবারের ছোট ছোট ভাণ্ডার লুকিয়ে রেখেছিলেন, যাতে বিটরুট, আপেলের মতো খাবার ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঠিকমতো ভাগ করে চললে টিকে থাকার মতো ন্যূনতম খাবার সেখানে রাখা ছিল। দুই দলই খাবার মেপে খরচ করার জন্য নিজেদের প্যান্ট্রি তৈরি করে।
ব্লু টিমের ভেতরের ফাটল
খাবার আসতেই ব্লু টিমে অবিশ্বাস দানা বাঁধে। জুলিয়া খাবার লুকিয়ে রাখার কথা বলেন, কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল অন্যরা খাবারে ঝাঁপিয়ে পড়বে, আর যাঁরা এক সপ্তাহ না খেয়ে থাকতে রাজি, তাঁদের জন্য কিছুই থাকবে না। ভাণ্ডারের খাবার দিয়ে এক্সপার্টরা বড় ভোজের আয়োজন করেন, কিন্তু ঠিক তখনই উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং কয়েকজন রেগে চলে যান।
এরপর র্যান্ডির সন্দেহ থেকে নতুন সমস্যা সামনে আসে। যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের ছাউনিতে আলুসহ খাবারের স্তূপ পাওয়া যায়। র্যান্ডি বলেন, তাঁরা দলের জন্য অবদান রাখেননি, তাই চলে যাওয়ায় তিনি খুশি। তবে তিনি উল্টো দিকটাও মনে করিয়ে দেন: জেতার জন্য লোক ধরে রাখা দরকার, কারণ খেলা শেষে সদস্যসংখ্যাই নির্ধারণ করবে বিজয়ী। ততক্ষণে তাঁরা পাঁচজন হারিয়েছেন। তবু একজন সদস্য বলেন, তিনি এমন কোনো গেমে থাকেননি যেখানে নিজের টিমমেটদেরই বিশ্বাস করা যায় না।
ঝগড়া চলতেই থাকে। কেউ বলেন, অন্যদের খাবার তুমি ঠিক করে দিতে পারো না; এখানে ১১ জন আছে, প্রত্যেকের অন্তত একটা আপেল পাওয়া উচিত। আরেকজন সমস্যাটির মূল চিহ্নিত করেন এভাবে: এখানে ৫০ জন স্বঘোষিত নেতা সারভাইভালিস্ট আছেন, যাঁরা সবাই নেতৃত্ব দিতে চান। পঞ্চম দিনের মধ্যেই এক্সপার্টরা ৯ জন সদস্য হারান।
রেড টিমের ভাগাভাগি ও ক্ষুধার মূল্য
রেড টিমে একজোট হয়ে খাবার ভাগ করার পরিকল্পনা তাঁদের টিকে থাকতে সাহায্য করছিল। "দয়া করে একটাই নাও, আমরা এভাবেই ভাগ করে খাই" ছিল তাঁদের নীতি। তবে সবাই দিনে একটি আপেলে সন্তুষ্ট ছিলেন না। একজন জানান, তিনি সকালে ছয়টি ডিম খেতে অভ্যস্ত, এখন শুধু একটা আপেল খেয়ে আছেন এবং শুধু টাকার জন্যই করছেন। কেউ মাথাব্যথার কথা বলেন, কেউ ওয়াফল হাউসের বুফের কথা তুলে সবার খিদে আরও বাড়িয়ে দেন। এই ক্ষুধায় রেড টিম প্রথম ছয়জন সদস্য হারায়।
সবচেয়ে কঠিন কী, এই প্রশ্নে রেড টিমের উত্তর: খাবার, কড়া রোদ, পোকামাকড়, মানে সবকিছুই। তবু একজন সদস্য নিজের বানানো আশ্রয়কে "ম্যানসন" বলেন, যেখানে চারজন থাকেন। ঘুম দিন দিন ভালো হচ্ছে, তবে তাঁর ধারণা, সেটা হয়তো প্রত্যাশা কমে যাওয়ার কারণে। নিচু জায়গায় বৃষ্টির জল ঢোকার আশঙ্কার কথা উঠলে তিনি স্বীকার করেন, হয়তো তিনি অতিরিক্ত আশাবাদী। আরেক রেড সদস্যের অনুমান ছিল, এক্সপার্টদের বেশিরভাগ বাড়ি চলে গেছেন, কারণ সবাই এক্সপার্ট হওয়ায় কে কী করবে তা নিয়ে রেষারেষি চলছে। বর্ণনায় বলা হয়, তাঁর ধারণা খুব একটা ভুল ছিল না। ব্লু টিমে তখন সিদ্ধান্ত হয় যে আজ খাওয়া হবে না, কারণ এই খাবার ৫০ জনের জন্য বেশিদিন টিকবে না; এটা আরামের জায়গা নয়, টিকে থাকার লড়াই।
রেড টিমের শেফ ব্রিটানির ব্রেকফাস্ট তৈরির চেষ্টা বিপর্যয়ে শেষ হয়। খাবারের রিভিউ ছিল "জঘন্য", একজনের পেট খারাপ হয়ে যায়। ফল শেষ হয়ে যাওয়ায় আরও দুজন চলে যান। ব্লু টিম সকালে গান-বাজনা করে মন হালকা করার চেষ্টা করে, কিন্তু রান্নার আগে কাউন্টার মোছার মতো ছোট বিষয় নিয়েও ঝগড়া থামে না। একজন স্বীকার করেন, স্বভাবগতভাবেই তিনি কারো কথা মেনে নিতে পারেন না, তাই দলের অংশ হয়ে থাকা তাঁর জন্য কঠিন। এর ফলেও আরও কয়েকজন বাদ পড়েন। মিস্টার বিস্ট জানান, প্রতিযোগীরা যেমন প্রতিপক্ষের সংখ্যা জানেন না, দর্শকও ভিডিওর শেষ পর্যন্ত তা জানতে পারবেন না।
৫০ ক্যানের চ্যালেঞ্জ: শৃঙ্খলার পরীক্ষা
সপ্তম দিনে মিস্টার বিস্ট গাড়ি চালিয়ে এসে দুই দলের দিকে ব্যাগ ছুড়ে দেন। প্রতিটি দল পায় ৫০টি খাবারের ক্যান। নিয়ম: ৭২ ঘণ্টা পর যে দল বেশি না খোলা ক্যান ফেরত দেবে, তারা পুরস্কার পাবে। সমান হলে কেউই কিছু পাবে না।
রেড টিম প্রথমে সব খেয়ে ফেলার পক্ষে উল্লাস করে। কিন্তু পরে তাঁরা যুক্তি দেন, ব্লু টিম ভাববে রেড টিম ক্ষুধার্ত বলে ক্যান খুলবে; তাই তাঁরা ক্যানগুলো মাটিতে পুঁতে রাখেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ ৭২ ঘণ্টা চলার মতো খাবার তাঁদের আছে। ব্লু টিম ক্যানগুলো জঙ্গলে এমনভাবে লুকায় যাতে মাত্র কয়েকজন নাগাল পান। তাঁদের একজন আশঙ্কা করেন, ক্যান খোলা হবে না জানলে আজ অনেকে চলে যেতে পারেন।
অষ্টম দিনে রেড টিম জঙ্গলে একটি পুরনো কয়লার গ্রিল খুঁজে পায়, যা তাঁদের মন ফুরফুরে রাখে। মিস্টার বিস্ট মন্তব্য করেন, সামান্য খাবার আর আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের ইচ্ছাশক্তি কতটা বাড়াতে পারে তা অবাক করার মতো। ব্লু টিমের অবস্থা তখন খারাপ: পয়জন আইভির চুলকানি ছড়াচ্ছে, আট দিনেও ফাঁদে কিছু ধরা পড়েনি, একজন বলেন খিদেয় টুথপেস্ট খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। মাংস, মটরশুঁটি আর ভুট্টার ৫০টি ক্যানের কথা ভাবলেই তাঁদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। কাঁকড়া খুঁজতে গিয়ে একজন সাপের মুখোমুখিও হন।
ঝড়, বরফ আর গণবিদায়
দিনের শেষে বিশাল ঝড় আসে; কেউ টর্নেডোর আশঙ্কা করেন। একজন জানান, ১০ মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি কমে গেছে। ব্লু টিম ডেরার ভেতর গুটিসুটি মেরে বসে থাকে এবং বিশ্বাস করে রেড টিম তাঁদের মতো সামলাতে পারবে না। বাস্তবে রেড টিমের কারো তাঁবু বাতাসে উড়ে যায়, কারো ধসে পড়ে, অনেককে এলাকায় থাকা একটি প্লেনে আশ্রয় নিতে হয়।
পরের সকালকে তাঁরা এখানকার সবচেয়ে ঠান্ডা রাত বলে বর্ণনা করেন: পাতায়, গাছে, এমনকি প্লেনের সিটেও বরফ জমেছিল। রেড টিমের আগুন পোহানোর জায়গা বন্যায় ভেসে যায়। ব্লু টিমের সান্ত্বনা ছিল, তাঁদের যদি এত ঠান্ডা লাগে, রেড টিমেরও একই দশা। এই ঝড়ে রেড টিমের ছয়জন আর ব্লু টিমের দুজন বাড়ি ফিরে যান। রেড টিমের একজন ঘোষণা দেন, তাঁরা আর কোনোদিন ক্যাম্পিং করতে আসবেন না।
ক্যান চ্যালেঞ্জের ফল ঘোষণার সময় দেখা যায়, দুই দলই ৫০টি করে ক্যান ফেরত দিয়েছে। ব্লু টিমের দুটো ক্যান হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সংখ্যা ৫০-ই ছিল। ফলে কেউ পুরস্কার পেল না। রেড টিম ক্ষুব্ধ হয়; ফল জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই তিনজন খেলা ছেড়ে দেন, আর একজন মা হিসেবে মন চলে যেতে বলছে জানিয়ে যোগ দেন। মোট পাঁচজন চলে যান। ক্যান না খাওয়ার জন্য আফসোস হচ্ছে কি না জিজ্ঞেস করলে তাঁরা হ্যাঁ বলেন।
সেথের বিদায় ও টাকার হিসাব
ব্লু টিমের মনোবলও এক ধাক্কায় তলানিতে নামে; রাতেই তিনজন চলে যান। ঘুমের অভাব আর খিদে দুটোই কষ্ট দিচ্ছিল। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল সেথের চলে যাওয়া। তিনি জানান, সবাইকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় টেকার মতো আশ্রয় বানাতে শিখিয়েছেন, জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছেন, এবং বিশ্বাস করেন ব্লু টিম জিতবে; কিন্তু ব্যবসা ফেলে এর বেশি সময় দিতে পারবেন না। সতীর্থরা তাঁকে "আসল সারভাইভালিস্ট" বলে বিদায় জানান। আরেক সদস্য জানান, প্রতিদিন তাঁর ওজন কমছে, শুধু চালের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না। কোমরে ব্যথা নিয়ে মায়মোনাও চলে যান।
এই পর্যায়ে একটি নতুন হিসাব সামনে আসে। ব্লু টিমের কয়েকজন খোলাখুলি বলেন, যত মানুষ কমবে, জিতলে টাকার ভাগ তত বড় হবে। মিস্টার বিস্টও জানান, মানুষ চলে যাওয়ায় প্রতিটি ভাগ এখন হাজার হাজার ডলারে পৌঁছেছে। বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রিন নিজের ভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন, আর তাঁর আচরণে অন্যরা বিরক্ত হতে থাকেন।
রেড টিমে লোক কমায় অবশিষ্টদের দায়িত্ব বাড়ে। একজন জানান, শেফ ব্রিটানি চলে যাওয়ার পর তাঁকে তাঁর অর্ধেক দায়িত্ব নিতে হচ্ছে; অন্যরা পেঁয়াজ পাতা আর গাজর কেটে দেন, আর রান্না ভালোই হয়েছে। তাঁর ভাষায়, তিনি প্রমাণ করেছেন যে যতটা ভেবেছিলেন, তার চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা তাঁর আছে।
দ্বিতীয় ঝড় ও ত্রিপল-বিবাদ
আরেকটি বড় ঝড়ের আগে রেড টিম নিজেদের আশ্রয়কে "এয়ারবিএন-বিস্ট" নাম দিয়ে দেখায়, যার প্রবেশপথ বাতাস আটকায়; একজন লতা দিয়ে দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করেন। ব্লু টিমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিতে সবার জুতা, মোজা, জামাকাপড়, এমনকি শোয়ার জায়গাও ভিজে যায়; একজনের কুঁড়েতে জল ঢোকে। তখন একমাত্র ত্রিপল নিয়ে বিবাদ বাধে। কিছু সদস্য বলেন, ত্রিপলের নিচে শুধু চাল আর বিনস শুকনো রাখা হবে; অন্যরা প্রতিবাদ করেন যে ওটা সবার আশ্রয়ের জন্যই ছিল। একজন বলেন, সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। একই সময়ে রেড টিমের এক সদস্য জল ভরে তাঁবুতে বই পড়তে আর ঘুমাতে যান এবং বলেন, এই দিনগুলোই সবচেয়ে সহজ, স্রেফ সময় কাটানোর দিন।
১৪তম দিনের বাক্স চ্যালেঞ্জ: সহযোগিতা না প্রতিদ্বন্দ্বিতা
১৪তম দিনে দুই দলের সামনে একই রকম পাঁচটি বাক্স রাখা হয়। নিয়ম: বাক্স একে একে খোলা হবে; যে দল আগে বাটন টিপবে, সে জিনিসটি পাবে এবং অন্য দল কিছু পাবে না। কোনো দল না নিলে পরের বাক্স খোলা হবে। আর যদি দুই দলই সব বাক্স প্রত্যাখ্যান করে, তবে দুই দলই পাঁচটি বাক্সই পাবে।
প্রথম বাক্সে মাছ ধরার সরঞ্জাম; রেড টিম বলে নদীতে মাছই নেই, তাই কোনো কাজের না। দ্বিতীয়টিতে লোহার হাঁড়ি-পাতিল; রেড টিমের শেফ মনে করেন বাকি সব আছে, আর সদস্যরা সব বাক্স পাওয়ার আশায় বাটন না টেপার পক্ষে থাকেন। তৃতীয়টিতে ফিস্টেবলস পিনাট বাটার কাপস; প্রলোভন ছিল প্রবল, কেউ কেউ বাটন টেপার জন্য অনুনয় করেন, কিন্তু সেটাও ছেড়ে দেওয়া হয়। চতুর্থটিতে ঘর বানানোর সরঞ্জাম, যা ব্লু টিম সহজেই ছেড়ে দেয় কারণ ডেরা তাদের আগেই বানানো।
শেষ বাক্সের আগে দুই দলই আলোচনায় বসে। রেড টিমের কেউ মনে করেন ব্লু টিম টিপবে না, কেউ বলেন টিপবে, কারণ না টিপলে দুই দল আবার সমান হয়ে যায়। ব্লু টিমের একজন যুক্তি দেন, যাদের কাছে খুব বেশি কিছু নেই তারা কেন অন্যকে সব পেতে সাহায্য করবে; প্রতিপক্ষকে কাজে লাগার মতো কিছু না দেওয়াই আসল বুদ্ধি। শেষ বাক্সে ছিল পুরো দলের জন্য স্টেক, জ্যাক লিংকস আর মশলা। বাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ব্লু টিমের প্যাট্রিক বাটন টিপে দেন, আর রেড টিম কিছুই পায় না।
এই সিদ্ধান্ত ব্লু টিমকে দুই সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বাড়তি সুবিধা দেয়, তবে অন্যদের মতামত না নেওয়ায় দলে তৎক্ষণাৎ ফাটল ধরে। একজন চিৎকার করে জানান তিনি নিরামিষাশী, উত্তরে শোনেন "তাতে কার কী যায় আসে"। দুই দলই কয়েকজন খেলোয়াড় হারায়। ব্লু টিমের বাকিরা স্টেক খেয়ে বলেন, এটা বড়দিন আর থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের চেয়েও ভালো, প্রোটিন খেয়ে শক্তি ফিরে এসেছে। রেড টিমে ক্ষোভ দেখা দেয়; একজন বলেন তাঁর হাঁড়িগুলো খুব দরকার ছিল, কেউ বাটন না টেপায় এখন খাবারে কালো জঞ্জাল মিশে থাকে।
দুই দলের উল্টো যাত্রা
মাংস ফুরিয়ে যেতেই ব্লু টিমে আবার বিবাদ শুরু হয়। ত্রিপল নিয়ে একজন আরেকজনকে স্বার্থপর বলেন। একজন নিজেকে ইতিবাচক থাকা আর সবাইকে চাঙ্গা রাখার লোক হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি মনমরা সতীর্থদের হাসাতে ব্যাকফ্লিপ করেন। ১৭তম দিনে এক সদস্য মিষ্টি আলু দিয়ে দুপুরের খাবার খেলে অভিযোগ ওঠে যে অন্যরা কিছু পায়নি; তিনি বলেন খিদে পেলে খাবেনই, কারো কাছে জবাবদিহি করবেন না। চাল নেওয়ার বিষয়ে আগের দিনের মীমাংসা নিয়েও বিরোধ দেখা দেয়, একজন বলেন তিনি সেই আলোচনা শোনেননি, তাতে অংশও নেননি। প্যাট্রিকও চলে যান। এক সদস্য আশঙ্কা করেন, এভাবে একে একে আলাদা হতে থাকলে যা হওয়ার তাই হবে।
রেড টিম দূর থেকে চিৎকার আর তালির শব্দ শুনে অনুমান করে যে ব্লু টিমে কেউ ফ্লেয়ার জ্বালিয়েছে, এবং স্টেক পাওয়ার পরও তাদের দল ভেঙে পড়ছে বলে ধারণা করে। বর্ণনায় বলা হয়, রেড টিমের সদস্যরা সত্যিই একে অপরকে পছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন, মিলেমিশে কাজ করলে এখনো জেতা সম্ভব। তবে রেড টিমেও সবকিছু মসৃণ ছিল না। একজন আরেকজনকে ভণ্ড বলেন এবং বিস্বাদ খাবার রান্না ছাড়া দলের জন্য কিছু না করার অভিযোগ তোলেন। অন্যরা এটাকে বুলিং বলে বর্ণনা করেন, আর ভুক্তভোগী জানান তিনি আজই চলে যেতে চান, কারণ এখানে তিনি মনে শান্তি পাচ্ছেন না। সেই সময় রেড টিমের একজন নদী থেকে একটি বড় মাছ ধরেন, যা তাঁরা একসাথে পরিষ্কার করে রান্না করেন।
ব্লু টিমের এক সদস্যের মন্তব্যে পরিস্থিতির সারকথা উঠে আসে: একা জঙ্গলে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ থাকলেই যে দল হয়ে টিকে থাকা যাবে, তার কোনো মানে নেই। এরপর টানা পাঁচ দিন কেউ ফ্লেয়ার জ্বালাননি। তবু ব্লু টিমে অ্যামেলিয়ার চলে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছিল, আর একজন সতীর্থদের মনে করিয়ে দেন, রেড টিম যদি মাত্র একজনের ব্যবধানে জেতে, তাহলে যাঁরা অন্যদের বিদায়ে আনন্দ করছেন তাঁরাও টাকা হারাবেন।
শেষ চ্যালেঞ্জ: ফ্লেয়ার গানের খোঁজ
তিন সপ্তাহ পর মিস্টার বিস্ট শেষ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসেন: একটি ক্যাম্পের ম্যাপ আর একটি ফ্লেয়ার গান। দলগুলো ঠিক করে দেয় ফ্লেয়ার গানটি কোথায় লুকানো হবে। যে দল সেটি আগে খুঁজে পাবে, তারাই জ্বালিয়ে ঠিক করবে ভিডিও কখন শেষ হবে, আজ, পাঁচ দিন বা দশ দিন পরে, যখন খুশি; অন্য দলের এতে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। রেড টিম প্রতিপক্ষকে খাটিয়ে ক্যালোরি খরচ করাতে সেটি দূরে রাখার পক্ষে মত দেয়।
চোখের বাঁধন খোলার পর দুই দলের প্রস্তুতির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। ব্লু টিম আগে থেকেই এলাকা ছক কেটে ভাগ করে নিয়েছিল এবং কে কোন দিকে যাবে ঠিক করে রেখেছিল। রেড টিম চোখ বাঁধা অবস্থায় কোনো পরিকল্পনা করেনি, ফলে শুরুতে তাদের অবস্থা ছিল জগাখিচুড়ি; পরে তাঁরা ডকের দিকে আর উল্টো দিকে ভাগ হন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর হর্ন বাজে: ব্লু টিমের টেলর ফ্লেয়ার গানটি খুঁজে পান।
রেড টিমে কজন বাকি আছেন, এই প্রশ্নে ব্লু টিমের অনুমান ছিল নয় বা আটজন। পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রস্তাবে তাঁরা বলেন, ২০ দিন অপেক্ষা করেছেন, আর নয়। "ফ্লেয়ার জ্বালাও" স্লোগানের মধ্যে সেটি জ্বালানো হয়।
ফল: ১১ বনাম ৯
চোখের বাঁধন খোলার পর ঘোষণা আসে: ব্লু টিমে ১১ জন, রেড টিমে ৯ জন বাকি। ব্লু টিম ২.৫ লাখ ডলার জেতে, মিস্টার বিস্টের হিসাবে প্রত্যেকে প্রায় ২২ হাজার ডলার নিয়ে বাড়ি ফেরেন। রেড টিমের এক সদস্য জানান, এতদূর আসতে পেরে তিনি গর্বিত। মিস্টার বিস্ট রেড টিমের প্রত্যেককে সময় দেওয়ার জন্য ৪ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যাতে তাঁরা খালি হাতে না ফেরেন।
মাত্র দুজনের ব্যবধানে নির্ধারিত এই ফলের পর মিস্টার বিস্ট তাঁর মূল প্রশ্নের উত্তর দেন এভাবে: দক্ষতা থাকুক বা এক গাদা সরঞ্জাম, দিনশেষে সবচেয়ে জরুরি হলো একজোট হয়ে কাজ করা।
আমি এই ১০০ জন মানুষকে গহীন জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি। আর সাহায্য আসার সময় যে টিমের সবচেয়ে বেশি মানুষ টিকে থাকবে, তারা ২.৫ লাখ ডলার ভাগ করে নেবে। নীল পোশাক পরা মানুষগুলো হলো সারভাইভাল এক্সপার্ট আর লাল পোশাক পরা মানুষগুলো আনাড়ি, যারা হয়তো জঙ্গলের পরিবেশের সাথে মানাতে পারবে না।
ব্লু টিম, তোমাদের ব্যাগ নাও আর আমাকে ফলো করো। তোমরা টানা কতদিন জঙ্গলে ছিলে? সবচেয়ে বেশি? তিন মাস! মানে শখ করে? হ্যাঁ। ওরে বাবা।
তোমাদের মধ্যে কতজন আগে ক্যাম্পিং করেছো? তোমাদের কতজন এখানে এক মাস টিকতে পারবে? বাপ রে, ওদের অবস্থা তো এখনই খারাপ!
আমি জানতাম ব্লু টিম বাড়তি সুবিধা পাবে। তাই খেলা শুরুর আগে আমি রেড টিমকে চ্যালেঞ্জের কথা জানাই, এমনকি তাদের দোকানেও নিয়ে যাই যাতে টিকে থাকার জন্য সব দরকারি জিনিস কিনতে পারে।
ঠিক আছে, দেখাও তো কী কী নিয়েছো? আমার কাছে দড়ি আছে, আর এই যে ফ্লোরে একটা টার্প আছে। তুমি কি একবারে ২৪ বোতল জলের প্যাকেট কিনে এনেছো? একদম ঠিক। আমি গিয়েই লাইটার নিয়ে নিয়েছি। স্মার্ট। ঠিক আছে!
কিন্তু ব্লু টিমকে শুধু বলা হয়েছিল, তারা মিস্টার বিস্টের একটা ভিডিওতে অংশ নিচ্ছে। আমি জানতাম না কী প্যাক করতে হবে, তাই যা পেরেছি প্যাক করেছি। ভেবেছিলাম আলাস্কায় নিয়ে যাবে।
আশ্রয়ের জন্য আমরা জঞ্জাল দিয়ে সাধারণ ডেরা বানাবো। আমাদের শুধু ইনসুলেশনের একটা ভালো লেয়ার তৈরি করতে হবে। প্রায় এক দশক ধরে আমি এসব শিখেছি। তবে জিনিসপত্র জড়ো করতে আমার ১০ জন লোক লাগবে।
তোমরা এটা বানাবে, এতে সবার মনোবল বাড়বে। শেষমেশ একটা বাচ্চাদের তাঁবু পেয়েছি। ভাগ্য ভালো যে আমার উচ্চতা মাত্র পাঁচ ফুট পাঁচ।
তোমাদের কাছে এত সুযোগ-সুবিধা আছে। মনে হচ্ছে ব্লু টিমকে হারাতে পারবে? হ্যাঁ। যদিও ওরা প্রফেশনাল? আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা আমাদের মতো প্রফেশনাল। আচ্ছা… হ্যাঁ।
কিছু একটা পেয়েছি! অ্যারে! আমি শুধু সেটাই করছি যা সিনেমায় দেখেছি। ওরা কি শখ করে এসব করে?
কত রাত থাকবে? সবগুলো রাত। বড়দিন পর্যন্ত পারবো। যতক্ষণ না চলে যেতে বলা হচ্ছে। জঙ্গলে কষ্ট করাই ওদের শখ। শুভ রাত্রি।
প্রথম রাতেই পরিষ্কার বোঝা গেল যে বাড়তি সুবিধার কারণে রেড টিমের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় এক্সপার্টদের ঘুমানো দায় হয়ে পড়ল।
আমি একদম ক্লান্ত আর তৃষ্ণার্ত। ভাবছি আমি এখানে কেন আসলাম!
২য় দিন। আমি একটুও ঘুমাতে পারিনি। মাটিটা খুব ঠান্ডা। আর সব কেমন ভিজে ভিজে।
আর এই চ্যালেঞ্জ থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো ফ্লেয়ার জ্বালানো আর উদ্ধারের অপেক্ষা করা। আমাদের প্রথম একজন হাল ছেড়ে দিল। একজন গেল। আরও ৪৯ জন বাকি।
তবে শুধু একজনই নয়। মাফ করো বন্ধুরা। আমার বয়স ৬৬ বছর, আমার দুই হাঁটুই রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে। আমি সত্যিই দুঃখিত।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রথম যে দুইজন বাদ পড়ল তারা ব্লু টিমের এক্সপার্ট। অন্যদিকে, রেড টিম তাদের সব রিসোর্স ব্যবহার করে বেশ আয়েশেই বাইরে রাত কাটিয়েছে।
কী চমৎকার একটা সকাল! রোদ উঠেছে। এখানে আসতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেকে মাঝে মাঝে এমন বিরতি নেওয়া ভালো।
এর মধ্যেই এক্সপার্টরা বুঝতে পারল যে তাদের ডেরাগুলো দ্রুত ঠিক করতে হবে, নাহলে তারা আরও মানুষ হারাবে।
এই ডেরাগুলো মানে শুধু এক গাদা কাঠি নয়। প্রায় এক ফুট পুরু করে পাতার স্তর দিতে হবে। এতে সবার খাটুনি হবে। যখন বৃষ্টি শুরু হবে, এই পাতাগুলোই আমাদের বাঁচাবে।
তোমরা তিনজনই ওখানে ঘুমাও? হ্যাঁ। ভাই, ওদের ফোর্টটা তো বিশাল! তোমার কি মনে হয় এটা বৃষ্টিতে টিকবে? সেটা জানার একটাই উপায় আছে।
আমরা আমাদের ডেরা বানাবো। যাতে আমাদের বৃষ্টির মধ্যে ঘুমাতে না হয়, তাই আমরা ছাদ তৈরি করছি, শুধু খাবারগুলো নিরাপদ আর শুকনো রাখতে হবে।
এটা তোমরা বানিয়েছো? হ্যাঁ। পরের সারভাইভাল ভিডিও বানানোর সময় তোমাদের থেকে টিপস নিতে হবে। আমাকে শুধু একটা কল করবে। হয়তো দরকার হবে।
এক্সপার্টরা যখন তাদের লিমিটেড রিসোর্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছিল, আনাড়িরা তখন তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো দ্রুত নষ্ট করে ফেলছিল।
তোমরা শুধু এটুকুই করেছো? কথা দাও যে তোমাদের কেউ মরবে না। কথা দিচ্ছি। আমরা ঠিক আছি। কথা দিলাম।
দিন গড়িয়ে রাত হতেই আনাড়িরা বেহিসাবির মতো সব নষ্ট করতে থাকল। আমি জানি ওরা এখনও অনেক পরিশ্রম করছে, সব শক্তি ক্ষয় করছে। কারণ ওরা বেশি টিকবে না।
কিন্তু এক্সপার্টদের পরিশ্রমের ফল পাওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখো! এটা ফোর সিজনস হোটেলের চেয়েও ভালো। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আমাদের রাতটা অনেক আরামে কাটবে।
তৃতীয় দিন। আমরা এই জঙ্গলের মধ্যে একদম বাচ্চার মতো ঘুমিয়েছি। দারুণ তো! আমরা একটা দারুণ ডেরা বানাই, যেটা গরম।
রেড টিমের হয়তো তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগ আছে, কিন্তু আমাদের কাছে এটা আছে। জানো তো, আমরা না খেয়েও এখানে খুব মজা করছি। ব্যাকফ্লিপ ভাই।
এক্সপার্টরা যখন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে দিন শুরু করল। এটাই তো আমি বলছিলাম! আনাড়িরা তখন দিন শুরু করল টিকে থাকার সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে—খালি পেট।
তোমার কাছে কোনো খাবার আছে? থাকলে তো খুব ভালোই হত! রেড টিম তাদের প্রথম দুই দিনেই সব খাবার শেষ করে ফেলেছে।
আর এখন… আমাদের সবার খুব খিদে পেয়েছে। আজ খিদেটা ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমরা এখন খাবার আর জলের সন্ধানে বের হচ্ছি।
এদিকে। খাবার খোঁজার ক্লাস এখন শুরু হচ্ছে! সারভাইভাল এক্সপার্ট সেথের বুদ্ধিতে ব্লু টিম পুরো জঙ্গলটাকেই একটা গ্রসারি স্টোরে পরিণত করল। এটা তুলে যেকোনো সময় হালকা খাবার হিসেবে খেতে পারো।
সে এমনকি কাঠি দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ বানিয়ে পাশের নদীতে পেতে রাখল। এদিকে, আনাড়িরা তাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করেও শেষমেশ শুধু আবর্জনাই ধরতে পারল।
কিন্তু চতুর্থ দিনে এসে এই খাবারের অভাব আর হাসির পর্যায়ে থাকল না। হ্যালো! আমাদের সব খাবার শেষ। আমাদের কতটুকু খাবার আছে? আমাদের কোনো খাবার নেই। মনে হচ্ছে সারারাত আমাকে এই কাঠি চিবিয়েই কাটাতে হবে।
এখন খাবারের খোঁজে বের হচ্ছি। যেহেতু পার্টি মিক্স বড়জোর ৪৫ মিনিট চলে… এটা কী?
আমার কাছে সেটারও প্ল্যান ছিল। বিটরুট! আপেল! বনের চারপাশেই খাবারের ছোট ছোট ভাণ্ডার লুকিয়ে রেখেছিলাম। আরে ভাই! কী! ঠিকমতো ভাগ করে চললে এখানে টিকে থাকার জন্য ন্যূনতম খাবার রাখা ছিল।
আমি বাজি ধরতে পারি এই বনে আরও অনেক কিছু আছে। আমাদের শুধু একটু ঘুরে দেখতে হবে। আমি জঙ্গলে এক গাদা খাবার খুঁজে পেয়েছি। রাতে জম্পেশ খাওয়া হবে।
খাবার মেপে খরচ করার জন্য দুই দলই নিজেদের প্যান্ট্রি তৈরি করল। আমার মনে হয় আমরা কিছুদিন ঠিক থাকতে পারব। যদি আমরা একসাথে কাজ করি। খেয়াল রাখতে হবে কেউ যেন একে অপরের বিরুদ্ধে না যায়।
বন্ধ। কিন্তু ব্লু টিমের জুলিয়া মতলব করছিল। এটা লুকিয়ে রাখা দরকার। চাই না এগুলোর নিয়ন্ত্রণ ওদের হাতে থাকুক। ওরা খাবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তখন আমাদের মতো যারা এক সপ্তাহ না খেয়ে থাকতে রাজি তাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
ওই ভাণ্ডারের খাবার দিয়ে এক্সপার্টরা এক বিশাল ভোজের আয়োজন করল। আমরা রাতের খাবার বানাচ্ছি? অবিশ্বাস্য! আর ঠিক তখনই উত্তেজনা চরমে পৌঁছাল।
আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। সবাই হয়তো খুশি হবে না, কিন্তু যদি আমাদের সাথে কথাই না বলো, তবে আমরা তোমাদের খুশি করব কী করে?
ধুর ছাই! আমরা গেলাম!
শুভ রাত্রি! চেলসি, ওদের ছাউনিটা কোথায়?
র্যান্ডির সন্দেহের ফলে এই চ্যালেঞ্জে এক নতুন বাধা সামনে এল।
অসম্ভব। সিরিয়াসলি? আলু!
সেটা হলো ওদেরই টিমমেটরা।
এই দেখো। ওরা চলে যাওয়ার পর ওদের ছাউনিতে এই খাবারের স্তূপ পাওয়া গেছে। ওরা দলের জন্য অবদান রাখেনি। তাই সত্যি বলতে আমি খুশি যে ওরা চলে গেছে। তবে উল্টো দিকটাও ভাবতে হবে—জেতার জন্য আমাদের লোকেদের ধরে রাখা দরকার।
র্যান্ডি ঠিকই বলেছে। খেলা শেষে যে দলে সবচেয়ে বেশি সদস্য থাকবে, তারাই জিতবে এবং ২.৫ লাখ ডলার ভাগ করে নেবে।
আমরা পাঁচজন লোক হারিয়েছি। তাই শোনো, আগামীকাল আমাদের কেউ যেন বাদ না পড়ে। ঠিক আছে?
কিন্তু র্যান্ডির উৎসাহমূলক কথাবার্তা সত্ত্বেও
এমন কোনো গেমে কখনো থাকিনি যেখানে নিজের টিমমেটদেরই বিশ্বাস করা যায় না।
মার্কো, এটা করো না!
একের পর এক মানুষ নিজেরাই বাদ পড়তে থাকল।
ক্লিয়ার।
সেই সাথে চলতে থাকল ঝগড়া।
অন্যদের খাবার তুমি ঠিক করতে পারো না। এখানে ১১ জন আছে, তাই প্রত্যেকের অন্তত একটা আপেল তো পাওয়াই উচিত। বিরক্তিকর!
এখানে ৫০ জন সারভাইভালিস্ট স্বঘোষিত নেতা আছে যারা সবাই নেতৃত্ব দিতে চায়।
আমার পক্ষে এটা সম্ভব না। আমি চলে যাচ্ছি। আমি আউট।
মাত্র পঞ্চম দিনেই এক্সপার্টরা ৯ জন সদস্য হারিয়েছে; টিকে থাকতে হলে তাদের এখন মিলেমিশে থাকা শিখতে হবে।
এসো খেয়ে নাও! আমি জানি তুমি এখনো আপেল পাওনি।
রেড টিমের একজোট হয়ে খাবার ভাগ করে খাওয়ার পরিকল্পনা তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করছিল।
দয়া করে একটাই নাও। আমরা ভাগ করে খাচ্ছি, এখানে এভাবেই চলে। ধন্যবাদ।
আমি সকালে ছয়টা করে ডিম খেতে অভ্যস্ত, আর এখন শুধু একটা আপেল খেয়ে আছি। শুধু টাকার জন্যই করছি এটা।
কিন্তু সবাই দিনে একটা মাত্র আপেল খেয়ে থাকতে রাজি ছিল না।
খুব একটা খাবার নেই। একদমই লো লাগছে। একদমই লো।
আজ আমার শরীরটা ভালো লাগছে না, খুব মাথা ব্যথা করছে।
আমার ওয়াফল হাউসের বুফে খেতে ইচ্ছে করছে। ভাই, তুমি এসব কথা কেন তুললে? বন্ধু, এখন আমিও ওটাই ভাবছি।
আর এই খিদের জ্বালায় রেড টিম তাদের প্রথম ছয়জন সদস্য হারালো।
ওয়াফল হাউস যেন তৈরি থাকে, আমি আসছি!
তোমাদের সবার জন্য সবচেয়ে কঠিন কোন বিষয়? খাবার। আর এই কড়া রোদ। আর পোকামাকড়। এক কথায় সবকিছুই।
এখানে কী বানানো হচ্ছে? এখানে আমি একটা ম্যানশন বানিয়েছি। আমরা চারজন এখানে থাকি।
ঘুম কেমন হচ্ছে? দিন দিন ঘুম ভালো হচ্ছে। তবে মনে হয় সেটা আমাদের প্রত্যাশা কমে গেছে বলেই।
প্রফেশনালদের তুলনায় তোমাদের ডেরা কেমন হয়েছে বলে মনে করো? ওরে বাবা, ১০০ ভাগ ভালো।
তোমাদের কি চিন্তা হয় না যে বৃষ্টি হলে নিচু জায়গা হওয়ার কারণে যদি জল ঢুকে যায়—
আমার মনে হয় আমি আকাশকুসুম পজিটিভ চিন্তা করছি।
ওদের জন্য ভিডিওটা বোধহয় খুব সহজ হবে। সেটার ব্যাপারে আমি ঠিক নিশ্চিত নই, জিমি! জিমি!
প্রফেশনালদের তুলনায় তোমাদের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে দেখছো?
আমার মনে হয় ওদের বেশিরভাগই বাড়ি চলে গেছে। সবাই যেহেতু এক্সপার্ট তাই কে কী করবে তা নিয়ে হয়তো সবার মধ্যে রেষারেষি চলছে কারণ সবাই ভাবে তার উপায়টাই সেরা।
আর তার ধারণা খুব একটা ভুল ছিল না।
আমাদের আজ খাওয়া উচিত নয়। এই খাবার ৫০ জন মানুষের জন্য বেশিদিন টিকবে না। এটা সবার সিদ্ধান্ত। আমরা যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চাই, তবে আমাদের আরও কঠোর নিয়ম মানতে হবে। এটা আরাম করার জায়গা নয়, এটা টিকে থাকার লড়াই।
আর দুই দল থেকেই সদস্য বাদ পড়ার ঘটনা চলতেই থাকল।
আমি তোমাদের সবার ভাগের খাবার খেয়ে নেব।
তাই দলছুট হওয়া আটকাতে পরের দিন সকালে রেড টিমের শেফ ব্রিটানি ব্রেকফাস্ট বানানোর চেষ্টা করল।
সবাই চলে এসো! ওহ না… ওহ! ধুর, মাফ করো বন্ধুরা।
আর সেই খাবারের রিভিউ ছিল…
জঘন্য। ভালো না। এখন আমার পেট খারাপ লাগছে, আর কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না।
আমি বাড়ি যেতে চাই!
ঠিক বলেছো বন্ধু।
বাঁচাও।
কয়েকদিনের উত্তেজনার পর ব্লু টিম সকালে একটু আড্ডা দিয়ে মন হালকা করার চেষ্টা করল। কিন্তু গান-বাজনা করেও তাদের নিজেদের মধ্যকার ঝগড়া থামানো গেল না।
বুঝতে পারছি, কিন্তু রান্নার আগে যদি কাউন্টার মুছে নিতে…
আচ্ছা, এক সেকেন্ড থামো। আর কথা না বাড়িয়ে এখানেই মিটিয়ে ফেলি। আমি হেঁটে আসছি। না, তোমার এখানে থেকে শোনা উচিত। আমাকে কী করতে হবে সেটা না বললেই ভালো। ওহ!
আমার জন্য একটা টিমের অংশ হয়ে থাকা খুব কঠিন। আমি আসলে স্বভাবগত কারণেই কারো কথা মেনে নিতে পারি না।
আর আবারও, এর ফলে আরও অনেক মানুষ খেলা থেকে বাদ পড়ে গেল।
ওদের আপেলই খেতে দাও!
আমার আর মন সায় দিচ্ছে না।
আর অন্যদিকে রেড টিমে,
আমাদের সব ফল শেষ, তাই সকালের ব্রেকফাস্ট করার মতো কিছুই নেই।
আর এই ব্রেকফাস্ট না থাকাটা রেড টিমের আরও দুই সদস্যের জন্য অসহ্য হয়ে গেল।
না, এমনটা করো না, প্লিজ করো না। না না না না না। নাআআ!
আমি মিল্কশেক খুব মিস করছি। আমার খুব মিল্কশেক খেতে ইচ্ছে করছে।
আর ঠিক যেমন ওরা জানে না প্রতিপক্ষ দলে কে কে বাকি আছে, এই ভিডিওর শেষ পর্যন্ত আপনারাও তা জানতে পারবেন না।
ষষ্ঠ দিন। সপ্তম দিন। আমরা এখন যা করতে যাচ্ছি, তা এই ভিডিওর মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেবে।
ওরে বাবা! কী হচ্ছে? তোমরা কী দেখতে পাচ্ছো? ওটা কি জিমি? ওহ, যাক বাঁচা গেল!
আমি হর্ন দিলেই ব্যাগটা ছুঁড়ে দেবে।
ও বেশ জোরেই গাড়ি চালাচ্ছে। আমার তো ভয় লাগছে।
ডেলিভারি! স্পেশাল ডেলিভারি। আহ! ওরে বাবা! যাও, যাও, জলদি যাও! আরে বাহ্! কী এটা? ওহ্ গড!
এবার প্রফেশনালদের কিছু দেওয়া যাক।
মনে হচ্ছে ওটা জিমির টুপি। ওটা কি—হ্যাঁ। ওদের কাছে এক বস্তা খাবার আছে।
হ্যালো সবাইকে! হেই!
এবার দেখা যাবে ওরা কি টিম হিসেবে একজোট থাকতে পারে, নাকি এটা ওদের একে অপরের থেকে আলাদা করে দেয়।
ওটাতে কী লেখা আছে? ঠিক আছে।
দুই দলের কাছেই ৫০ ক্যান করে খাবার আছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে দল সবচেয়ে বেশি না খোলা ক্যান ফেরত দিতে পারবে, তারা পুরস্কার পাবে। যদি দুই দলের মধ্যেই টাই হয়, তবে কেউই কিছু পাবে না। কোনো দলই জিতবে না।
আমার মতে আমাদের সব খেয়ে ফেলা উচিত! একদম!
কিন্তু আসল কথা হলো, ওরা ভাববে যে আমরা ক্ষুধার্ত বলে খাবারের ক্যানগুলো খুলবো। ওরা ভাবছে আমরা ক্ষুধার্ত। আমরা এগুলো মাটির নিচে পুঁতে রাখতে পারি। হ্যাঁ, চলো সব পুঁতে ফেলি।
আমাদের ডিসিপ্লিনড হতে হবে। কেউ খাবারে হাত দেবে না। এই ব্যাপারে কেউ কোনো চালাকি করবে না।
শোনো সবাই, আমরা ওগুলোতে হাত দেব না কারণ আগামী ৭২ ঘণ্টা চলার মতো যথেষ্ট খাবার আমাদের কাছে আছে।
আমি কি একটা পেতে পারি? একদমই না।
তাই আমরা ক্যানগুলো জঙ্গলে লুকিয়ে রাখছি যাতে আমাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনই সেগুলোর নাগাল পায়।
খাবার আর মাছ ধরার অবস্থা নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
খাবার আর মাছ ধরার অবস্থা নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আমার মনে হয় আমাদের শুধু ধৈর্য ধরতে হবে।
আমার কি মনে হয় যে আজ অনেকে চলে যেতে পারে? যদি তারা জানতে পারে যে আমরা ক্যানগুলো খুলব না? অবশ্যই।
সূর্য উঠছে। আজ অষ্টম দিন। আকাশটা বেশ মেঘলা। দেখাচ্ছি তোমাদের। অবশেষে রোদের হাত থেকে বাঁচা গেল।
আমরা জঙ্গলে এই পুরনো একটা কয়লার গ্রিল পেয়েছি। যেটা আপাতত সবার মন বেশ ফুরফুরে রাখল। সামান্য খাবার আর আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে কতটা বাড়াতে পারে তা সত্যিই অবাক করার মতো।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ব্লু টিমের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিল না।
পয়জন আইভির জন্য চুলকানি হচ্ছে আর তা ছড়িয়ে পড়ছে।
খিদের জ্বালা খুব কষ্টকর! আট দিন হয়ে গেল অথচ ফাঁদে এখনো কিছুই ধরা পড়ল না। এত খিদে মনে হচ্ছে টুথপেস্ট খেয়ে দেই!
এখন ওই ক্যানের খাবারগুলো যে কত টেস্টি লাগত! সত্যি বলছি, একটা মিটের ক্যান পেলে আমি এখনই ঝাঁপিয়ে পড়তাম।
ঠিক বলেছো। যখন ভাবি ওখানে ৫০ ক্যান ভর্তি মিট, মটরশুটি আর ভুট্টা আছে… ভাবলেই মাথা খারাপ হয়ে যায়।
নিচে যখন কাঁকড়া খুঁজছিলাম, হঠাৎ বাম দিকে তাকালাম। দেখলাম একটা কাঠি পড়ে আছে, কিন্তু আড়চোখে দেখলাম ওটা নড়ছে। ঘুরে তাকিয়েই দেখি—আরে! সাপ!
কিন্তু দিনের শেষ দিকে, দুই দলের জন্য হাওয়া পাল্টাতে শুরু করল।
দিনের পরিস্থিতি বদলে গেছে। একটা বিশাল ঝড় আসছে। মনে হচ্ছে টর্নেডো হতে পারে।
এখনই বের হতে হবে। আমাকে ডেরায় ফিরতে হবে।
ওরে বাবা, আমরা তো ভিজতে চলেছি… নির্ঘাত ঝড় আসছে। ভয়ংকর লাগছে দেখতে।
১০ মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি কমে গেছে। হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হলো। মনে হচ্ছে আমাদের ডেরাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে।
আমার রেইনকোটটা—ওটা কি বাজ পড়ল?
এই যে বৃষ্টি শুরু হলো। অবশেষে বৃষ্টি নামল। সবাই নিজ নিজ ডেরার দিকে ছুটছে।
ঝড়টা বেশ ভালোই হচ্ছে। তার মানে এখন একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার সময়।
আমার যদি আন্দাজ করতে হয়, তবে বলব এই বৃষ্টি অনেকের জন্যই খেলা ছাড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এখন বেশ বড় ঝড় হচ্ছে। আমরা সবাই ডেরার ভেতর গুটিসুটি মেরে বসে আছি। রেড টিম আমাদের মতো করে এই পরিস্থিতি সামলাতে পারবে বলে মনে হয় না। এটা চ্যালেঞ্জটাকে আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলল।
আমাদের প্লেনে ফিরে আসতে হয়েছে। আমার পুরো তাঁবু বাতাসে উড়ে গেছে। হচ্ছেটা কী এসব!
ভাবছি প্লেনে যাব কি না, তবে মনে হচ্ছে বাকি সবাই ওখানেই আছে। আমাদের তাঁবুটা ধসে পড়েছে। আমার বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে।
এখন আশা করা যায় যে ২.৫ লক্ষ ডলারের লোভ তাদের এই কষ্ট সয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করবে।
খুব বাজে অবস্থা। আমি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি।
যখনই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়, আমি শুধু নিজেকে বলি, “আমি মিস্টার বিস্টের ভিডিওতে আছি আর অনেক টাকার জন্য লড়াই করছি। এটার জন্য তোমাকে থাকতে হবে।”
ঠিক আছে। বৃষ্টির শব্দ আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাপমাত্রা প্রচুর কমে গেছে। বেশ ঠান্ডা পড়েছে। এবার বাইরে বেরিয়ে দেখা দরকার সবার কী অবস্থা।
গত রাতটা ছিল এখানে কাটানো আমাদের সবচেয়ে ঠান্ডা রাত। এই যে পাতা, টাকার বাক্স আর গাছের ওপর বরফ জমেছে দেখছেন—হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ছিল।
রাতে জঘন্য ঠান্ডা ছিল। আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো।
কখনো ভেবেছিলেন বাইরে একটা প্লেনের সিট এভাবে জমে বরফ হয়ে থাকবে? পাগল করা ব্যাপার, না?
আমার অবস্থা খুব খারাপ। খিদে পেয়েছে। মনে হয় না আমি আর একটা রাতও এভাবে কাটাতে পারব। কিন্তু সুখবর হলো, আমাদের যদি এত ঠান্ডা লাগে, তার মানে রেড টিমেরও একই দশা হচ্ছে।
এখানে তো রীতিমতো বন্যা বয়ে গেছে। এটা ছিল আগুন পোহানোর জায়গা। গতকাল কী প্রচণ্ড গরম ছিল! আর আজ এসব কী হচ্ছে!
এই বৃষ্টি চ্যালেঞ্জটাকে আরও কয়েক গুণ কঠিন করে তুলল…
আমি মুক্ত!
…যার ফলে রেড টিমের ছয়জন সদস্য…
মিস্টার বিস্ট, আমরা আর কোনোদিন ক্যাম্পিং করতে আসব না।
…এবং ব্লু টিমের দুইজন…
তোমরাই জেতো কিন্তু।
…বাড়ি ফিরে গেল। এখন দেখা যাক এই ঝড়ের মধ্যেও ওরা ক্যানের খাবারগুলো না খেয়ে থাকতে পেরেছে কি না।
আজ পুরস্কার পাওয়ার দিন, আশা করছি আমাদের এই ৫০টা ক্যান আমাদের জিতিয়ে দেবে। আজ রাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এটা জানার জন্য যে আমরা চ্যালেঞ্জটা জিতলাম কি না। আমাদের প্রত্যেকেরই ওই খাবারগুলো খেতে খুব ইচ্ছে করছে।
আজ আমাদের কী প্ল্যান আছে বন্ধুরা? আমি কয়েকজনের সাথে পটারি করতে পারি।
যদি আমরা এটা না জিতি, তবে রেড টিমের জন্য দিনটা একদমই ভালো যাবে না।
ব্যাগ সুরক্ষিত আছে।
হ্যালো সবাই! ইয়েই!
তোমাদের আর খুব বেশি লোক বাকি নেই! তোমাদের না খোলা ক্যানগুলো কি পেতে পারি? যেমন বলা হয়েছিল।
ঠিক আছে। ক্যানগুলোর জন্য ধন্যবাদ। এই নাও ওয়াকিটকি। ওদের ক্যান পাওয়ার পর আমি তোমাদের রেজাল্ট জানিয়ে দেব।
এবার চলো প্রফেশনালদের একটু দেখে আসি। চলো যাওয়া যাক। চলো।
ওরা কি এখনো মাটির নিচে? হ্যাঁ। আচ্ছা, ঠিক আছে।
প্যাট্রিক, তুমি কি এটা বইতে সাহায্য করবে? তুমি বেশ শক্তিশালী। হ্যাঁ, এই তো, ধরো।
ব্লু টিম, তোমরা কি রেড টিমকে কিছু বলতে চাও?
ঠিক আছে। তোমরা কয়টা ক্যান খেয়েছ?
সেটা জানতে খুব ইচ্ছে করছে, তাই না? তার মানে… হ্যাঁ। দেখলে? ওরা ভাবছে অনেক কিছু করে ফেলেছে।
এ কারণেই আমি জিজ্ঞেস করেছি, ব্লু টিম। তোমাদের খুব ক্ষুধার্ত আর খিটখিটে মনে হচ্ছে।
রেড টিম আর ব্লু টিম, ৫০ ক্যান চ্যালেঞ্জের রেজাল্ট তৈরি। আমার সামনে দুটো ব্যাগ আছে। আমার মনে হয় ব্লু টিমের রেজাল্ট দিয়েই শুরু করা যাক। ব্লু টিম আমাকে ফেরত দিয়েছে…
খিদের জ্বালা কী অসহ্য। এখন একটা ক্যান পেলে যে কী দারুণ লাগত! সত্যি বলতে ওখানে ৫০টা ক্যান আছে… ভাবতেই পারছি না।
৫০টা ক্যানই ফেরত দিয়েছে। হাত থেকে দুটো পড়ে গেছে, তবে ৫০টাই। আর রেড টিম, মানে আনাড়িরাও… ৫০টা ক্যানই ফেরত দিয়েছে। তার মানে কোনো দলই পুরস্কার পাচ্ছে না।
নাআআ! এ কী! ফ্লেয়ার। ফ্লেয়ার। ফ্লেয়ার। না আসলেই, ফ্লেয়ার।
ব্লু টিমকে দেখে ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে। তবে রেড টিম এই রেজাল্টে খুব খেপেছে।
ওরে বাবা! দাঁড়াও। আমি কেবল রেজাল্ট জানালাম আর এখনই তিনজন খেলা ছেড়ে দিল!
অনেক হয়েছে আর না।
ওদের টিম ভেঙে পড়ছে। ওখানে যেতে হবে। এটা কী হলো হুট করে? দাঁড়াও, তুমি ওটা জ্বালাবে?
মা হিসেবে আমার মন বলছে চলে যেতে।
ওরে বাবা! এই নিয়ে পাঁচজন হলো। তোমরা শেষমেশ কোনো খাবারই পেলে না। ক্যানগুলো না খাওয়ার জন্য আফসোস হচ্ছে? হ্যাঁ।
এটা একদম মরণ কামড় ছিল। ব্লু টিমের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেল। মনে হয় আজ রাতে আরও অনেকে ফ্লেয়ার জ্বালাবে।
আমি তোমাদের সবাইকে খুব পছন্দ করি, কিন্তু আমি… বাড়ি যেতে তৈরি।
পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
আজ সকালে ব্লু টিমের মনোবল বেশ তলানিতে। গত রাতে তিনজন সদস্য হারিয়েছি। ঘুমের অভাব কষ্ট দিচ্ছে আর খিদের জ্বালা—দুটোই টের পাচ্ছি। আমরা খাবারের সমস্যায় বেশ ভুগছি।
আমি বহু জন্ম ধরে ক্ষুধার্ত।
সেথ যখন সবাইকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছিল, তখন সবার মেজাজ খুব একটা ভালো ছিল না।
সত্যি বলতে বন্ধুরা, ওসব শোনার চেয়ে তোমাদের কারো লাথি খাওয়াও অনেক ভালো ছিল।
আমরা এখানে আরও সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাটিয়ে দিতে পারি।
আমার স্ত্রী আর মেয়ে আছে, ওদের কাছে ফিরতে হবে।
প্যাট্রিক আর মালিক যেভাবে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছে,
আমি শুধু আশা করছি এটা যেন চলে যাওয়ার কোনো বিদায় পর্ব না হয়। ওহ্ হো! আমি তোমাদের খুব মিস করব। ইস্ ভাই!
শোনো সবাই, আমি আজ চলে যাচ্ছি। জানো এই টিমের জন্য কতটা মূল্যবান ছিলে? আমি জানি।
আমি সবাইকে শিখিয়েছি কীভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার মতো আশ্রয় বানাতে হয়। আমি জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি যাতে সবাই সফল হয়। আমার বিশ্বাস ব্লু টিম জিতবে। আমি আমার ব্যবসা ফেলে এর চেয়ে বেশি সময় দিতে পারব না। চলে যেতে আমারও খারাপ লাগছে, কিন্তু ব্যবসাকে আগে দেখতে হবে।
আমরা তোমাকে ভালোবাসি সেথ। ভালোবাসা নিও সেথ। তুমিই সেরা! ভাই, তুমিই আসল সারভাইভালিস্ট।
সেথ মাত্র ফ্লেয়ার জ্বালাল। ও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে।
অনেকে এটা নিয়ে কথা বলতে চায় না, কিন্তু এটাই সত্যি। অনেককেই এখন চলে যেতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা জানি না অন্যপাশে কী হচ্ছে।
আমি বুঝতে পারছি প্রতিদিন আমার ওজন কমছে, আর এভাবে চলতে থাকলে শরীর যেকোনো সময় জবাব দিয়ে দেবে। আমাদের কাছে যেটুকু চাল আছে শুধু সেটার ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না, তাই আমরা স্রেফ ভাগ্যের পরীক্ষা দিচ্ছি।
আমার শরীরে এখন প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে কোমরে। আমি অসুস্থ।
তুমি কি যাওয়ার জন্য তৈরি? হ্যাঁ, আমি তৈরি। শান্তিতে থেকো, মায়মোনা। তুমি সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবে। ও তো মরে যায়নি! ওর ভাগের বিনসগুলো আমিই খেয়ে নেব।
যত বেশি মানুষ কমবে ততই ভালো, কারণ টাকার ভাগটা বড় হবে। প্রতিবার যখন কেউ চলে যায়… পুরস্কারের ভাগটা আরও বেড়ে যায়।
আর লোকসংখ্যা কমে যাওয়ায় রেড টিমকে এখন আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। আমাদের দলের সবার মনে জেদ চেপেছে কিছু প্রমাণ করার। ওরা শক্ত হাতে হাল ধরবে।
আমাদের শেফ ব্রিটানি চলে যাওয়ার পর থেকে ওর অর্ধেক দায়িত্ব এখন আমাকেই সামলাতে হচ্ছে। মেয়েরা পেঁয়াজ পাতা আর গাজর কেটে দিল। আর আমার মনে হয় রান্নাটা বেশ ভালোই হয়েছে। চালিয়ে নিতে পারব। সামলে নেব। আমি প্রমাণ করে দিয়েছি যে যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমার আছে।
আজ আমার জন্মদিন, তাই যারা সাবস্ক্রাইব করবে তাদের মধ্যে লটারি করে ইচ্ছামতো কিনে দেব। সেটা গাড়ি হতে পারে, স্বপ্নের কোনো ভ্রমণ হতে পারে, এমনকি আপনার বাড়ির ভাড়াও আমি দিয়ে দিতে পারি। শুধু সাবস্ক্রাইব বাটনে ক্লিক করতে হবে আর কমেন্টে জানাতে হবে কী চান। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আমি বিজয়ীদের বেছে নেব। শুভকামনা রইল!
একটা বড় ঝড় আসছে, আজ রাতে হয়তো অনেক মানুষই চলে যেতে পারে।
এটা হলো আমাদের 'এয়ারবিএন-বিস্ট'। হ্যাঁ, এটাই প্রবেশপথ। এটা বাতাস আটকে দেয়।
ওরে বাবা! বৃষ্টি তো বাড়তে শুরু করেছে। তোমাদের মনে হয় এটা রেইনপ্রুফ? আমার মনে হয় এটা বৃষ্টি আটকাতে পারবে।
বৃষ্টি আসছে, তাই আমি দরজাটা আরও মজবুত করছি। আমার এই লতাগুলো দরকার ফাঁকফোকর বন্ধ করার জন্য।
কিন্তু আমি চলে যাওয়ার পরপরই প্রচণ্ড বৃষ্টি হতে শুরু করল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে টানা বৃষ্টির সাথে লড়ছি আমরা। সবার জুতো, মোজা এমনকি জামা কাপড় পর্যন্ত ভিজে একাকার। যেখানে শোয়ার কথা ছিল, সেই জায়গাটুকুও ভিজে গেছে।
আমার কুঁড়ের ভেতর জল ঢুকে গেছে। এটা ওয়াটারপ্রুফ না মনে হয়।
আমি ত্রিপলটার নিচে একটু দাঁড়াতে এসেছি। এই ত্রিপলের নিচে শুধু চাল আর বিনসগুলোই রাখা যাবে। তার মানে তোমরা এখন কাউকে এখানে দাঁড়াতে দেবে না? এটাই আমাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই। ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই।
ওরা একমাত্র ত্রিপলটা দখল করে নিয়েছে আর এখন কাউকে সেটা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। আমাদের কাছে ওই একটা মাত্র ত্রিপল আছে, অথচ আমি ওটার নিচে দাঁড়াতেও পারব না? এটা ঠিক হচ্ছে না।
ওই ত্রিপলটা ওখানে নির্দিষ্ট করেই রাখা হয়েছিল যাতে আমরা— ওটা কি সবার আশ্রয়ের জন্য না? না, যাতে আমরা আমাদের চাল আর বিনস শুকনো রাখতে পারি। কিন্তু ওটা তো সবার থাকার জন্য ছিল।
ঠিক আছে, আমার কথাটা শোনো। ওরা সবকিছু গোছানোর চেষ্টা করছে যাতে জিনিসগুলো সরিয়ে জায়গা দেওয়া যায়। ওরা এখন সেটাই করছে। কিন্তু ওটা তো সবার আশ্রয়ের জন্যই ছিল।
আমার মনে হয় আমাদের সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের পুরো ক্যাম্প ভিজে গেছে। এটা এখন শেষ হওয়া দরকার। আমি শুধু আশা করছি রেড টিমেরও যেন একই দশা হয়।
জলটা ভরে নিয়েছি। এবার তাঁবুতে গিয়ে একটু বই পড়ব আর ঘুমাব। এই দিনগুলোই সবচেয়ে সহজ। এগুলো স্রেফ সময় কাটানোর দিন।
রেড টিম যখন বেশ আয়েশেই বৃষ্টির দিনের মজা নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৪তম দিনের চ্যালেঞ্জটা ঠিক করে দেবে কে টিকে থাকবে আর কে হার মানবে।
সবাই গোল হয়ে দাঁড়াও। বাক্সগুলোর চারপাশে জড়ো হও। ব্লু টিম, কী অবস্থা? ইয়েই! ঠিক আছে।
ঠিক একই রকম এক সেট বাক্স দুই দলের সামনেই রাখা হয়েছে। আমরা একে একে বাক্সগুলো খুলব আর সেগুলোর ভেতর টিকে থাকার জরুরি সব জিনিস থাকবে। যদি দুই দলই সেটা নিতে না চায়, তবেই পরের বাক্সটা খোলা হবে। আর যে দল আগে বাটন টিপবে, তারাই জিনিসটা পাবে। তোমরা যদি কোনো বাক্স নেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও, তবে অন্য দল কিছুই পাবে না। বুঝতে পেরেছো? হ্যাঁ।
মাজদ, তারেক, প্রথম বাক্সটা খোলো! এক নম্বর বাক্স। মাছ ধরার সরঞ্জাম।
ওই নদীতে তো কোনো মাছই নেই। আমরা মাছ ধরতে পারি না। এটা একদমই কোনো কাজের না। তোমরা কি এটা নিতে চাচ্ছো না? একদমই না। কেউ কি বাটনটা টিপবে? কেউ যদি বাটনটা টিপতে যায়, তবে তাকে জাপটে ধরব। তোমরা কি নিশ্চিত? হ্যাঁ।
তোমরা প্রথম বাক্সটা নিলে না। তারেক, এবার দ্বিতীয়টা দেখাও। লোহার তৈরি হাঁড়ি-পাতিল।
লোহার পাত্রে রান্না! শেফ, তোমার কী মনে হয়? মনে হয় আমাদের বাকি সব আছে, তাই না? বাটনটা কি টিপে দেওয়া উচিত যাতে ওরা কিছু না পায়?
মনে রেখো, অন্য দল যদি এটা নিয়ে নেয়, তবে তোমরা কিন্তু কিছুই পাবে না। আর যদি দুই দলই সব বাক্স নিতে না চায়, তবে দুই দলই সব কটি বাক্স পেয়ে যাবে।
আমরা সব পেতে পারি। বাটন টিপো না। আমরা পাঁচটা বাক্সই পেয়ে যেতে পারি। তার মানে ওরাও পাঁচটা বাক্স পাবে। হ্যাঁ নাকি না? না। নেবে না?
ওরা দুই নম্বর বাক্সটাও ছেড়ে দিল। এটা বোকামি হলো। আমাদের আর কিছুর দরকার নেই।
তিন নম্বর বাক্সটা খোলো। ফিস্টেবলস পিনাট বাটার কাপস। ওহ্! আরে দেখো কতগুলো ফিস্টেবলস! ওই দেখো!
এটা অন্যায়। এটা একদমই বড় অন্যায়! পিনাট বাটার কাপস, না! সেই পিনাট বাটার আর মিল্ক চকলেট! এটা দেখে আমার জিভে জল চলে আসছে।
অন্য দল কিন্তু বাটন টিপে দিতে পারে। ওরা এটা নিয়ে নেবে বন্ধুরা। কার্লোস, এমনটা করো না। হাত নামাও। প্লিজ বাটনটা টেপো। আমি বলছি এটা নেব না।
তিন! দুই! এক! বাক্সটা বন্ধ করো। হাতছাড়া হয়ে গেল। এটা খুব কঠিন ছিল। কাজটা সত্যিই কঠিন ছিল।
চার নম্বর বাক্সটা খোলো। ঘর বানানোর সরঞ্জাম। না না না না। তোমরা আরও ভালো ডেরা বানাতে পারবে। আমরা তো বানিয়েই ফেলেছি। এটা একদম সহজেই ছেড়ে দেওয়া যায়।
এখন পর্যন্ত দুই দলই সব কটি বাক্স প্রত্যাখ্যান করেছে। পরের বাক্সটা নিয়ে কিন্তু ভালোভাবে ভাবা দরকার। যদি কোনো দলই বাটন না টিপে, তবে তোমরা সবকিছু পাবে। কিন্তু ওরা যদি এই শেষ বাক্সের জন্য বাটন টিপে দেয়, তবে তোমরা কিছুই পাবে না।
আমার মনে হয় না ওরা বাটন টিপবে। মনে হয় ওরা টিপবে। ভাবছ ওরা টিপবে? হ্যাঁ। তোমার কেন এমন মনে হচ্ছে? যদি না টিপে, তবে আমরা আবার সমান। এটা সত্যি। যাদের কাছে খুব বেশি কিছু নেই, তারা কেন অন্য কাউকে সব জিনিস পেতে সাহায্য করতে যাবে?
তারা কেন অন্য কাউকে সব জিনিস পেতে সাহায্য করতে যাবে? তাই আমার মনে হয় আসল বুদ্ধি হলো, ওদের এমন কিছু না দেওয়া যা ওদের কাজে লাগতে পারে।
প্রশ্ন, এমন সম্ভাবনা আছে যে তোমরা করবে? না। আমাদের আগে দেখতে হবে বাক্সের ভেতর কী আছে। হ্যাঁ, কিন্তু তাহলে তো আমরা দুজনেই ওটা পেয়ে যাব।
ওরা চায় না আমরা এটা পাই। তাই ওরা শেষ বাটনটা ঠিকই টিপে দেবে। আমারও তাই মনে হয়। টিপবে কারণ ওরা চায় না আমরা পাই। সমস্যা নেই, আমাদের কিছুরই দরকার নেই। ব্যাপার না।
এটা হয়তো ওদের জেতার জন্য অনেক বেশি সুবিধা করে দেবে। সেজন্যই আমাদের পরের বাক্সটার জন্য বাটনটা ক্লিক করা উচিত।
মাজদ, তারেক, শেষ বাক্সটা খোলো। তোমাদের পুরো টিমের জন্য স্টেক, জ্যাক লিঙ্কস আর রান্নার মশলা।
ওরে বাবা! আহ্! আমি বাটন টিপছি। দাঁড়াও, দাঁড়াও, দাঁড়াও। একটু দাঁড়াও। না! না! না! না! তোমরা কি এটা নিচ্ছ না?
কী—! ও কি—? না! তুমি কি ওটা টিপলে? ও সাথে সাথে বাটন টিপে দিয়েছে। ব্লু টিম বাটন টিপে দিয়েছে। কী? ব্লু টিম একদম সাথে সাথে বাটন টিপলো। দাঁড়াও, কী বললে? তুমি এটা কী করছো? ব্লু টিম বাটন টিপে দিয়েছে, আর তোমরা কিছুই পেলে না।
কারো বাটন টিপার সাহস হলো না? কারণ এটা নিয়ে আগে কথা বলতে হচ্ছিল। তোমরাই তো বললে না। এখনই বাটন টিপো না! আমি আর এখানে থাকতে চাই না।
যদিও প্যাট্রিকের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে ব্লু টিম সুবিধা পেয়ে গেল, কিন্তু অন্যদের মতামতকে পাত্তা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে তৎক্ষণাৎ ফাটল তৈরি হলো।
তুমি সত্যি কথা কানে নিচ্ছ না, তাই তো?! আমি নিরামিষাশী! তাতে কার কী যায় আসে?
চ্যালেঞ্জ হারার কারণে মনোবল ভেঙে যাওয়াই হোক…
হারাটা সত্যিই খুব কষ্টের। আমরা বাটনটা টিপিনি।
অথবা স্রেফ গুরুত্ব না পাওয়ার কারণেই হোক।
আমার চেয়ে তোমার দলের মানুষই বেশি কমবে। তাহলে এখান থেকে বিদেয় হও!
রেড টিম আর ব্লু টিম উভয় দলই বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় হারালো। তবে যারা ব্লু টিমে রয়ে গেল, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে বাড়তি কোনো সুযোগ পেল। আর এভাবেই দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর ব্লু টিম একটু স্বর্গসুখের দেখা পেল।
কে কে এখনই স্টেক রান্না করতে চাও? স্টেকগুলো দেখতে কিন্তু দারুণ লাগছে। এটা বড়দিনের চেয়েও ভালো! থ্যাঙ্কসগিভিং-এর চেয়েও সেরা। ইয়াম্মি!
প্রোটিন খাওয়ার পর আমার শরীরে শক্তি ফিরে এসেছে। আমাদের যেমন দরকার ছিল, তেমনভাবেই সব হচ্ছে।
কিন্তু রেড টিমের অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না।
আমার ওই হাঁড়িগুলো খুব দরকার ছিল! হাঁড়িগুলো পেলে ভালোই হতো। আইজ্যাককে বলছিলাম, দয়া করে আমার ওপর একটু ভরসা করো। সত্যি বলছি, কড়াই নেওয়ার জন্য কেউ বাটন টিপলো না বলে এখন আমাদের খাবারের মধ্যে কালো জঞ্জাল মিশে আছে। আমার আর ভালো লাগছে না। আমি খুব রেগে আছি।
কিন্তু মাংস ফুরিয়ে যেতেই ব্লু টিম নতুন এক সমস্যায় পড়ল।
এটা টাকার ব্যাপার! আমি খুব একটা মিশুক নই… আমরা শুধু আরও বেশি টাকা চাই! কিন্তু এখন অনেক মানুষ চলে গেছে, তাই টাকার পরিমাণটা অনেক বেড়ে গেছে।
আর এখন যেহেতু একের পর এক মানুষ চলে যাচ্ছে, তাই তারা জিতলে ২.৫ লক্ষ ডলারের ভাগের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
আপনি জানেন না এটা কত টাকা হতে পারে, কারণ আপনি জানেন না আর কয়জন বাকি আছে। তবে বিশ্বাস করুন, এটা এখন অনেক বড় একটা অংকের টাকা হতে শুরু করেছে। হাজার হাজার ডলার।
তাই নিজের ভাগের টাকা বাড়ানোর জন্য ট্রিন একটা পরিকল্পনা করল।
আমরা কি কোনোদিন এই জায়গা থেকে বের হতে পারব? হা… হা…
ট্রিন সত্যি আমাকে এখন বিরক্ত করে মারছে।
আমি মিস্টার বিস্টের ভিডিওতে আছি!
আমার মনে হয় টিকে থাকার লড়াইটা এখন আর সবচেয়ে কঠিন কাজ নয়।
ত্রিপলটা নিয়ে নিলে স্বার্থপর! আমি নেইনি, সানি কি নিয়েছে? ওকে, সবার ব্যবহারের জন্য ডেরা বানাতে চলো ত্রিপলটা নিই। ডেরাটা ছিঁড়ে ফেলবে যেটা অন্য কেউ বানিয়েছিল আর আমরা এসে উঠেছি? ভাই, তুমি এখন পাগলামি করছো। বিশ্বাসই হচ্ছে না, তোমার মতো মানুষ আমাকে স্বার্থপর বলছে। তুমি আমার কথার ওপর কথা বলেই যেতে পারো।
হ্যাঁ, আমার পেশাই হলো ইতিবাচক থাকা আর সবাইকে চাঙ্গা রাখা। আমার খারাপ দিনে বিশ্বাস নেই; যখনই দেখি টিমমেটরা মনমরা হয়ে আছে, ওদের হাসানোর চেষ্টা করি, ব্যাকফ্লিপ করি। আমি জেতার জন্য মনে হয় অনেক কিছু করেছি।
আমারই ভুল ছিল ভাইসব।
কেউ একজন ফ্লেয়ার জ্বালিয়েছে কারণ আমরা চিৎকার আর সাথে সাথে তালি দেওয়ার শব্দ শুনেছি। ওটা ঠিক চিৎকার আর তালির মতোই ছিল। কেউ ফ্লেয়ার জ্বালিয়েছে। বিশেষ করে ওই স্টেক পাওয়ার পর ওদের টিম হয়তো এখন ভেঙে যাওয়ার মুখে, আর এখন এটা গেছে… না। আমরা নিশ্চিত জিততে পারব।
১৭তম দিন।
আমার কিছু মিষ্টি আলু চাই। তুমি দুপুরের খাবার খেয়েছো, কিন্তু কেউ কিছু পায়নি। আমার খিদে পেলে আমি খাবই। তোমাকে জবাবদিহি করার কোনো দরকার নেই। কাউকেই জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।
ও একদমই টিম প্লেয়ার নয়।
এই যে শেষে তিক্ততা ছড়িয়ে দিলে, তার জন্য ধন্যবাদ; ঠিক এটারই দরকার ছিল আর এখন আমরা বিদেয় হতে পারি।
আমি ওকে পছন্দ করতাম না।
কিন্তু রেড টিমের সদস্যরা একে অপরকে সত্যি পছন্দ করত।
আমরা যদি সবাই মিলেমিশে কাজ করি, তবে আমরা এখনো এটা জিততে পারব! আমরা ব্লু টিমকে হারিয়ে দেব! আশা করি। ধন্যবাদ। কোনো ব্যাপার না।
ওহ্ মাই গড! না! আমি কাঁদতে চাই।
তোমাদের দল হয়ে কাজ করতে হবে এবং নিঃস্বার্থ হতে হবে। সবাই লড়াই করতে প্রস্তুত। আমরা এখনো জেতার জন্যই এখানে আছি। আমাদের টিমটা সত্যিই খুব শক্তিশালী।
কিন্তু ব্লু টিমের মনোভাব হয়তো তেমনটা ছিল না।
যদি আমরা একে একে আলাদা হতে শুরু করি, যেমন প্যাট্রিককে হারালাম—তাহলে যা হওয়ার তাই হবে।
আমরা সবাই মিলে একমত হয়েছিলাম যে ও অল্প চাল নিতে পারে। আমি এমন কোনো কথা শুনিনি। আমরা গতকালকেই চাল নিয়ে এই আলোচনাটা করেছিলাম। আমি শুনিনি আর এতে অংশও নেইনি।
আমি শুধু জিতে ফিরতে চাই, কিন্তু মনে হচ্ছে মনে একটা তিক্ততা নিয়েই আমাকে যেতে হবে। এটা সত্যিই খুব বাজে ব্যাপার আর আমি কোনো তিক্ততা রাখতে চাই না।
দুঃখিত জোয়েল।
ওরা চলে গেছে বলে আমি মনে মনে বেশ খুশিই হয়েছি।
তোমরা কি শব্দটা শুনলে? আমার মনে হয় আমি ব্লু টিমের উল্লাসের শব্দ শুনেছি। হ্যাঁ, মনে হলো হাতেগোনা কয়েকজন লোক চিৎকার করছে। ঠিক ওই মুহূর্তেই আমিও শুনেছি। দুজন ফ্লেয়ার জ্বালিয়েছে?
মনে হচ্ছে আমরা সারা জীবনের জন্য এখানে আটকে গেছি। জানি আটকে নেই কারণ আমাদের ফ্লেয়ার আছে, কিন্তু ওটা জ্বালালে তো আমরা হেরে যাব। আর আমি হারতে শিখিনি। আমরাই জিতব। জানি না কীভাবে বা জানি না কখন। কিন্তু আমরাই জিতব।
আমাদের লোকসংখ্যা যত কমবে, জেতার সম্ভাবনাও তত কমে যাবে। টিকে থাকাটা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম যে কাজটা হয়তো সহজ হচ্ছে। কিন্তু একদমই তা নয়।
ব্লু টিম যখন ভেঙে পড়ছিল, রেড টিম তখন একজোট হয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারা শুধু টিকেই ছিল না, বরং বেশ আয়েশেই ছিল।
এখন একটু আরাম করার সময় বন্ধুরা। চলো নদী থেকে একটু ঘুরে আসা যাক। মাঝেমধ্যে খারাপের মধ্যেও ভালোটা খুঁজে নিতে হয়।
তুমি একটা আস্ত ভণ্ড, এত বড় ভণ্ড যে ভাবাই যায় না। তুমি সত্যিই জঘন্য, ভাবা যায় না যে… আমাকে তুমি কথা বলতে দেবে? দলের জন্য তুমি কিছুই করো না বিস্বাদ খাবার রান্না করা ছাড়া। সত্যি বলতে ওগুলো একদম জঘন্য খাবার। দুঃখিত, কিন্তু আমাকে এটা বলতেই হতো।
দুঃখিত, কিন্তু আমাকে এটা বলতেই হতো।
তুমি ঠিক আছো তো? না, আমি ঠিক নেই। তুমি কি একটু ঘুরে আসতে চাও? হ্যাঁ। ওরা সত্যিই খুব বাজে ব্যবহার করছে।
ও কি কিছু ধরেছে? ওহ্! ওটা তো বেশ বড় মনে হচ্ছে! সাবাশ!
ওহ্, দুঃখিত।
ওহ্! একসাথে ওটা পরিষ্কার করেছি আর এখন রান্না করছি। ওহো!
ওরা সত্যিই খুব বুলি করছে। মেয়েটা খুব নিচু মনের। আমি আজই চলে যেতে চাই।
দিনশেষে আমি হয়তো মিস্টার বিস্টের চ্যালেঞ্জটা জিততে পারিনি, কিন্তু চেষ্টা করেছি। ব্যাপার না, তুমি অনেকদিন ছিলে।
কারো কি কাঁটাচামচ লাগবে? এটা কিন্তু খেতে দারুণ। বেশ স্বাদ হয়েছে তো! সত্যি? হ্যাঁ, দারুণ।
কোনো জিনিস যদি তোমার জন্য সঠিক হয়, তবে তুমি মনে শান্তি পাবে। আর এখানে থেকে আমি একটুও শান্তি পাচ্ছি না।
ওহ্! আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো!
একা একা জঙ্গলে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ থাকলেই যে একটা দল হয়ে টিকে থাকা যাবে, তার কোনো মানে নেই।
আমরা পেরেছি। ইয়েই!
গত পাঁচ দিন ধরে টানা কেউ আর ফ্লেয়ার জ্বালায়নি।
অ্যামেলিয়া চলে গেছে, আর আমার মনে হয় ট্রিন খুব স্বার্থপর। যদি রেড টিম মাত্র একজনের ব্যবধানে আমাদের হারিয়ে দেয় আর তুমি এখানে আনন্দ করো—তবে মনে রেখো তুমিও কিন্তু টাকা হারাচ্ছো।
এখানে এখন অনেক কম লোক আছে। অথচ এক সময় এখানে ৫০ জন সারভাইভালিস্ট ছিল। আশা করছি আগামীকাল চ্যালেঞ্জের দিন অথবা উদ্ধারের দিন হবে। আমাদের এখন কিছু একটা হওয়া খুব দরকার।
তিন সপ্তাহ হয়ে গেল এই বনে, চলো দেখা যাক ওদের কী অবস্থা।
ওহ্, রেড টিম! হচ্ছেটা কী এসব?! হ্যালো সবাইকে! একটা চ্যালেঞ্জ নিতে চাও? হ্যাঁ!
আনাড়ি দল, তোমাদের কী মনে হয় আমার কাছে এটা কেন? ওখানেই কি উদ্ধারের জায়গা?
এটা হলো রেড ক্যাম্পের একটা ম্যাপ। আর এটা হলো একটা ফ্লেয়ার গান। তোমরা ঠিক করে দাও যে এই ফ্লেয়ার গানটা ওদের ক্যাম্পের কোথায় লুকিয়ে রাখতে চাও।
ওহ্! যে পক্ষ আগে এই ফ্লেয়ার গানটা খুঁজে পাবে, তারা ওটা জ্বালিয়ে ঠিক করবে যে ভিডিওটা কখন শেষ হবে। তোমরা চাইলে আজই খেলা শেষ করতে পারো, চাইলে পাঁচ দিন বা দশ দিন পরেও করতে পারো—যখন তোমাদের ইচ্ছে। আর অন্য দলের এটার উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
আমার তো কাঁটা দিচ্ছে।
যদি ফ্লেয়ারটা জ্বালাও আর বাইরে থেকে কেউ দেখে, তোমরা হারবে। তাই এটা মাথায় রেখো।
যদি ওরা ওটা দুই সপ্তাহ ধরে রেখে দেয়? তবে বলতে হবে ওদের মাথায় সমস্যা আছে।
ওরা ওটা নিয়ে সীমানার কাছে ঘুরঘুর করবে। আমরা ওটা এখানেই নিয়ে আসব। চলো ওদের একটু খাটিয়ে নেওয়া যাক যাতে ওদের বেশ কিছু ক্যালোরি খরচ হয়। হ্যাঁ। তাহলে নির্ঘাত দূরে কোথাও রাখতে হবে।
ওরে বাবা। এই এক্স চিহ্নের স্থানে রাখা হবে। ঠিক আছে তো? শুরু হয়ে গেল। এটাই সেই সময়।
ম্যাপে ওরা ঠিক যে জায়গাটা চিহ্নিত করেছিল, ফ্লেয়ারটা এখন ওখানেই আছে। দেখি, ওরা আগে খুঁজে পায় কি না।
যে টিম আগে ফ্লেয়ার খুঁজে পাবে, তারাই ঠিক করবে ভিডিওটা কখন শেষ হবে। তোমরা কি তৈরি? হ্যাঁ! তিন! দুই! এক! চোখের বাঁধন খুলে ফেলো, সবার জন্য শুভকামনা!
এবার যাওয়ার সময়! যাওয়ার সময় হয়ে গেছে! যাও গিয়ে খুঁজে বের করো! ওরে বাবা!
ঠিক আছে, আনাড়ি দল—তোমাদের পরিকল্পনা কী? কী প্ল্যান করেছো? আমি দেখতে পাচ্ছি না! হেই, শোনো—পরিকল্পনাটা আসলে কী? আমরা এলাকাটাকে ছক কেটে ভাগ করে নিয়েছি। তাহলে আগে থেকেই কথা বলে নিয়েছো যে কে কোন দিকে যাবে? আমি বনের একদম শেষ প্রান্তের দিকে যাচ্ছি।
হেই, শোনো সবাই। দাঁড়াও! আচ্ছা, আমরা কোন দিকে যাচ্ছি? দাঁড়াও, তোমরা কি চোখ বাঁধা থাকা অবস্থায় কোনো প্ল্যান করোনি? এ তো জগাখিচুড়ি অবস্থা! দাঁড়াও! রেড টিমের সব এলোমেলো।
ওদের সবার একটা প্ল্যান আছে। ওরা মনেপ্রাণে চাইছে ওরাই যেন ফ্লেয়ারটা খুঁজে পায়।
আমি একদম দূরের কোণটায় যাচ্ছি। তুমি ডকের দিকে যাও, আমি উল্টো দিকে যাচ্ছি। যাও, ফ্লেয়ারটা খুঁজে বের করো!
এখান থেকেই জল নিতে হবে। জল নেওয়ার সময় ব্লু টিম খুঁজে পেলে কী হবে?
ও বেশ সময় নিচ্ছে, যা ঠিক আছে। নিশ্চিতভাবেই ব্লু টিম এখনো এর ধারে কাছেও নেই।
পোডিয়ামের চারপাশে ব্লু টিমের জড়ো হওয়ার থ্রিডি ম্যাপ।
এই মুহূর্তে আমি সীমান্তের কাছাকাছি আছি। আমি সীমান্তের নিচেই আছি। ঠিক আছে। আমি এখানে ফ্লেয়ার খুঁজছি। আমি ওটা খুঁজে পাবই। আমি পাবই।
উফ্ ভাই! আমরা বনের অনেক গভীরে চলে এসেছি! যাক, ও টিমমেটকে খুঁজে পেয়েছে।
পিছনের ওই কোণটায় কেউ যায়নি। ওরা ডান দিকে গেছে। তাই তুমি যদি ওদিকে যাও, তবে আমি এদিকে যাচ্ছি।
পোডিয়ামের চারপাশে রেড টিমের জড়ো হওয়ার থ্রিডি ম্যাপ।
আমি ডকের দিকে যাচ্ছি। এখান থেকে চারপাশটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এখন শুধু নজর রাখতে হবে। ভেতরটা দেখেছ?
ভাই, আমি সত্যিই ফ্লেয়ারটা খুঁজে পেতে চাই। আমরা সবাই এই ফ্লেয়ার গানটা খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে আছি।
কোনো ক্যামেরাম্যান আমার পিছু নেয়নি, হয়তো এটাই লক্ষণ যে আমি ঠিক জায়গায় নেই। তবে আশা করি ফ্লেয়ারটা আমরাই আগে পাব।
আমি এখান থেকে প্রায় পুরো জায়গাটা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু ওটা কোথাও নেই। এখানেও নেই। কিছু দেখতে পাচ্ছো? না। এখানে নেই। আমিও দেখছি না! তাহলে ওদিকে দেখো।
মনে হয় আমি দেখেছি! ইয়ার্কি করো না। আমি তো মজা করছি। ধুর!
মনে হয় প্রায় সব জায়গায় খুঁজেছি। পাইনি, থাকলে তো দেখতেই পেতাম। দাঁড়াও। ওটা কী?
কেউ ফ্লেয়ার পেয়েছে। তোমরা কি ওটা পেয়ে গেছো? হর্ন বাজছে। আমাদের দল হয়তো পেয়েছে। আশা করি তার মানে আমরাই ওটা পেয়েছি।
এই প্রতিযোগীরা গত ২০ দিন ধরে জঙ্গলে সময় কাটিয়েছে। টিমমেটদের হারিয়েছে।
আমাকে নিয়ে চলো। চলে যাওয়ায় কোনো আনন্দ নেই।
একে অপরের সাথে জোট বেঁধে ধৈর্যের শেষ সীমা পর্যন্ত লড়াই করেছে…
ওটা কি মেঘের ডাক? এই যে বৃষ্টি শুরু হলো!
ঠিক এই মুহূর্তটার জন্য।
আমি পেয়েছি, আমি পেয়েছি! আমি ওটা পেয়ে গেছি! আমি ওটা পেয়ে গেছি! এই তো আমি টেলর, আমি ওটা পেয়ে গেছি! আমি ওটা পেয়ে গেছি! পেয়ে গেছি। ওহো!
পেয়ে গেছে, ওরাই আগে পেয়েছে। তোমাদের কী মনে হয়, আনাড়ি দলে আর কয়জন বাকি আছে? নয়জন! বা আটজন!
আমি আশা করছি ওরা যেন ভাবে—“যাক, জয় আমাদের পকেটে।” আমি চাই ওরা ফ্লেয়ারটা জ্বালাক আর দেখা যাক আমাদের লোকই বেশি।
সম্ভাবনা আছে, তোমাদের চেয়ে ওরা বেশি? হতে পারে, তবে আমাদের মনে হয় না। যদি আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে? না না, আমরা ২০ দিন অপেক্ষা করেছি! হ্যাঁ।
না না, আমরা ২০ দিন অপেক্ষা করেছি! হ্যাঁ। ফ্লেয়ার জ্বালাও! ফ্লেয়ার জ্বালাও!
২০ দিন পর সবকিছু এখন এই এক মুহূর্তের ওপর দাঁড়িয়ে। যে দলে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেশি থাকবে, তারাই এই টাকা জিতবে।
তিন! দুই! এক! চোখের বাঁধন খুলে ফেলো!
একদম ঠিক। ব্লু টিমে ১১ জন বাকি আছে আর রেড টিমে আছে মাত্র ৯ জন। ব্লু টিম, তোমরা জিতে নিলে ২.৫০ লক্ষ ডলার!
ওরে বাবা, ওরা তো পুরো পাগল হয়ে গেছে! এটা ইমোশনাল একটা মুহূর্ত, তবে কী আর বলব—ওরা তো সারভাইভাল এক্সপার্ট।
আমি গর্বিত যে আমরা অন্তত এতদূর আসতে পেরেছি।
এখানে সময় কাটানোর জন্য আমরা তোমাদের প্রত্যেককে ৪ হাজার ডলার করে দেব। ওরা খালি হাতে বাড়ি ফিরছে না।
ওরা প্রত্যেকে ২২ হাজার ডলার নিয়ে বাড়ি ফিরছে!
তোমাদের দক্ষতা থাকুক বা এক গাদা সরঞ্জাম, আমার মনে হয় দিনশেষে সবচেয়ে জরুরি হলো—একজোট হয়ে কাজ করা!
ভিডিওটি দেখার জন্য ধন্যবাদ। সাবস্ক্রাইব!!!
নিবন্ধ প্রকাশিত
