জ্ঞান বনাম রসদ: ১০০ জনকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া মিস্টার বিস্টের ২.৫ লাখ ডলারের টিকে থাকার লড়াই

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, জঙ্গলে টিকে থাকার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কী জেতে: অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান, নাকি হাতে থাকা রসদ। মিস্টার বিস্ট ১০০ জনকে দুই দলে ভাগ করে গহীন জঙ্গলে ছেড়ে দেন। নীল পোশাকের ৫০ জন সারভাইভাল এক্সপার্ট, আর লাল পোশাকের ৫০ জন আনাড়ি, যাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেন যে তাঁরা হয়তো জঙ্গলের পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারবেন না। নিয়ম সহজ: উদ্ধার আসার সময় যে দলে সবচেয়ে বেশি মানুষ টিকে থাকবেন, তাঁরা ২.৫ লাখ ডলার ভাগ করে নেবেন। চ্যালেঞ্জ থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে উদ্ধারের অপেক্ষা করা। বিশ দিনের এই খেলার শেষে মিস্টার বিস্ট যে সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তা জ্ঞান বা রসদ কোনোটিই নয়।

16 মিনিটে পড়া

অসম সূচনা: প্রস্তুত আনাড়ি, অপ্রস্তুত এক্সপার্ট

ব্লু টিমের সদস্যদের অভিজ্ঞতা ছিল চমকে দেওয়ার মতো। কেউ কেউ জানান, শখের বশে টানা তিন মাস পর্যন্ত জঙ্গলে কাটিয়েছেন। অন্যদিকে রেড টিমকে জিজ্ঞেস করা হলে আগে ক্যাম্পিং করার ব্যাপারে তাঁদের উত্তর ছিল দ্বিধাগ্রস্ত। কতজন এক মাস টিকতে পারবেন, এই প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া দেখে মিস্টার বিস্ট মন্তব্য করেন, ওদের অবস্থা তো এখনই খারাপ।

এক্সপার্টদের বাড়তি সুবিধা পুষিয়ে দিতে মিস্টার বিস্ট খেলা শুরুর আগেই রেড টিমকে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে দেন এবং তাঁদের দোকানে নিয়ে যান, যাতে টিকে থাকার জন্য দরকারি জিনিস কিনতে পারেন। কেউ দড়ি আর টার্প কেনেন, কেউ একবারে ২৪ বোতলের জলের প্যাকেট, কেউ দোকানে ঢুকেই লাইটার তুলে নেন। ব্লু টিমকে শুধু বলা হয়েছিল যে তাঁরা মিস্টার বিস্টের একটি ভিডিওতে অংশ নিচ্ছেন। একজন জানান, কী প্যাক করতে হবে না জেনে যা পেরেছেন নিয়েছেন, ভেবেছিলেন আলাস্কায় নিয়ে যাওয়া হবে।

তবু এক্সপার্টদের পরিকল্পনা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। একজন ব্যাখ্যা করেন, আশ্রয়ের জন্য জঞ্জাল দিয়ে সাধারণ ডেরা বানানো হবে, আর মূল কাজ হলো ইনসুলেশনের একটা ভালো স্তর তৈরি করা। তিনি প্রায় এক দশক ধরে এসব শিখেছেন বলে জানান, এবং উপকরণ জড়ো করতে দশজন লোক চান, কারণ একসাথে বানালে মনোবলও বাড়বে। অন্যদিকে রেড টিমের আত্মবিশ্বাস ছিল অন্যরকম। প্রফেশনালদের হারাতে পারবেন কি না জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন, তাঁরাও নিজেদের মতো প্রফেশনাল। একজন খোলাখুলি স্বীকার করেন, তিনি শুধু সিনেমায় যা দেখেছেন তাই করছেন।

প্রথম রাতের ধাক্কা: এক্সপার্টরাই আগে বাদ পড়লেন

প্রথম রাতেই দেখা যায়, বাড়তি সরঞ্জামের কারণে রেড টিমের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় এক্সপার্টদের ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় দিনে একজন জানান, মাটি এত ঠান্ডা আর ভেজা যে একটুও ঘুমাতে পারেননি।

মিস্টার বিস্টের কাছে অবাক করার মতো বিষয় ছিল যে প্রথম দুজন যাঁরা বাদ পড়লেন, তাঁরা দুজনেই ব্লু টিমের। তাঁদের একজন জানান, তাঁর বয়স ৬৬ বছর এবং দুই হাঁটুই রিপ্লেসমেন্ট করা। অথচ রেড টিম নিজেদের সব রসদ কাজে লাগিয়ে আয়েশে রাত কাটায়। পরের সকালে তাঁদের একজন রোদেলা সকাল উপভোগ করতে করতে বলেন, দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে এমন বিরতি নেওয়া ভালো।

আশ্রয় তৈরি: পাতার স্তর বনাম তাঁবু

এক্সপার্টরা বুঝলেন, ডেরা দ্রুত ঠিক না করলে আরও মানুষ হারাবেন। তাঁদের একজন ব্যাখ্যা করেন, এই ডেরা মানে শুধু কাঠির স্তূপ নয়। প্রায় এক ফুট পুরু পাতার স্তর দিতে হবে, এতে সবার খাটুনি হবে, কিন্তু বৃষ্টি এলে এই পাতাই তাঁদের বাঁচাবে। রেড টিমও একটি বিশাল "ফোর্ট" বানায়, খাবার শুকনো রাখতে ছাদ দেয়। মিস্টার বিস্ট তাঁদের কাজ দেখে ঠাট্টা করে বলেন, পরের সারভাইভাল ভিডিওতে তাঁদের কাছ থেকেই টিপস নিতে হবে।

ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, এক্সপার্টরা যখন সীমিত রসদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছিলেন, আনাড়িরা তখন তাদের সুবিধা দ্রুত নষ্ট করছিলেন। এক ব্লু সদস্য মন্তব্য করেন, রেড টিম সব শক্তি ক্ষয় করছে, তাই বেশিদিন টিকবে না। এক্সপার্টদের পরিশ্রমের ফলও মিলতে শুরু করে। একজন নিজেদের ডেরাকে ফোর সিজনস হোটেলের চেয়েও ভালো বলেন। তৃতীয় দিনে তাঁরা জানান, বাচ্চার মতো ঘুমিয়েছেন। রেড টিমের হয়তো তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগ আছে, কিন্তু তাঁদের আছে এই উষ্ণ ডেরা। না খেয়েও তাঁরা মজা করছেন, কেউ ব্যাকফ্লিপও দেখান।

খাবার সংকট ও লুকানো ভাণ্ডার

তৃতীয় দিনে রেড টিমের সামনে সবচেয়ে কঠিন সমস্যা আসে, খালি পেট। প্রথম দুই দিনেই তাঁরা সব খাবার শেষ করে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে সারভাইভাল এক্সপার্ট সেথের নেতৃত্বে ব্লু টিম, বর্ণনার ভাষায়, পুরো জঙ্গলটাকেই গ্রসারি স্টোরে পরিণত করে। সেথ কোন গাছ তুলে হালকা খাবার হিসেবে খাওয়া যায় তা দেখান, আর কাঠি দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ বানিয়ে পাশের নদীতে পাতেন। রেড টিম মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করেও শেষমেশ শুধু আবর্জনা ধরতে পারে।

চতুর্থ দিনে খাবারের অভাব আর হাসির বিষয় থাকে না। একজন বলেন, মনে হচ্ছে সারারাত কাঠি চিবিয়েই কাটাতে হবে। মিস্টার বিস্ট জানান, তিনি এটার জন্যও পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন, কারণ পার্টি মিক্স বড়জোর ৪৫ মিনিট চলে। বনের চারপাশে তিনি খাবারের ছোট ছোট ভাণ্ডার লুকিয়ে রেখেছিলেন, যাতে বিটরুট, আপেলের মতো খাবার ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঠিকমতো ভাগ করে চললে টিকে থাকার মতো ন্যূনতম খাবার সেখানে রাখা ছিল। দুই দলই খাবার মেপে খরচ করার জন্য নিজেদের প্যান্ট্রি তৈরি করে।

ব্লু টিমের ভেতরের ফাটল

খাবার আসতেই ব্লু টিমে অবিশ্বাস দানা বাঁধে। জুলিয়া খাবার লুকিয়ে রাখার কথা বলেন, কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল অন্যরা খাবারে ঝাঁপিয়ে পড়বে, আর যাঁরা এক সপ্তাহ না খেয়ে থাকতে রাজি, তাঁদের জন্য কিছুই থাকবে না। ভাণ্ডারের খাবার দিয়ে এক্সপার্টরা বড় ভোজের আয়োজন করেন, কিন্তু ঠিক তখনই উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং কয়েকজন রেগে চলে যান।

এরপর র‍্যান্ডির সন্দেহ থেকে নতুন সমস্যা সামনে আসে। যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের ছাউনিতে আলুসহ খাবারের স্তূপ পাওয়া যায়। র‍্যান্ডি বলেন, তাঁরা দলের জন্য অবদান রাখেননি, তাই চলে যাওয়ায় তিনি খুশি। তবে তিনি উল্টো দিকটাও মনে করিয়ে দেন: জেতার জন্য লোক ধরে রাখা দরকার, কারণ খেলা শেষে সদস্যসংখ্যাই নির্ধারণ করবে বিজয়ী। ততক্ষণে তাঁরা পাঁচজন হারিয়েছেন। তবু একজন সদস্য বলেন, তিনি এমন কোনো গেমে থাকেননি যেখানে নিজের টিমমেটদেরই বিশ্বাস করা যায় না।

ঝগড়া চলতেই থাকে। কেউ বলেন, অন্যদের খাবার তুমি ঠিক করে দিতে পারো না; এখানে ১১ জন আছে, প্রত্যেকের অন্তত একটা আপেল পাওয়া উচিত। আরেকজন সমস্যাটির মূল চিহ্নিত করেন এভাবে: এখানে ৫০ জন স্বঘোষিত নেতা সারভাইভালিস্ট আছেন, যাঁরা সবাই নেতৃত্ব দিতে চান। পঞ্চম দিনের মধ্যেই এক্সপার্টরা ৯ জন সদস্য হারান।

রেড টিমের ভাগাভাগি ও ক্ষুধার মূল্য

রেড টিমে একজোট হয়ে খাবার ভাগ করার পরিকল্পনা তাঁদের টিকে থাকতে সাহায্য করছিল। "দয়া করে একটাই নাও, আমরা এভাবেই ভাগ করে খাই" ছিল তাঁদের নীতি। তবে সবাই দিনে একটি আপেলে সন্তুষ্ট ছিলেন না। একজন জানান, তিনি সকালে ছয়টি ডিম খেতে অভ্যস্ত, এখন শুধু একটা আপেল খেয়ে আছেন এবং শুধু টাকার জন্যই করছেন। কেউ মাথাব্যথার কথা বলেন, কেউ ওয়াফল হাউসের বুফের কথা তুলে সবার খিদে আরও বাড়িয়ে দেন। এই ক্ষুধায় রেড টিম প্রথম ছয়জন সদস্য হারায়।

সবচেয়ে কঠিন কী, এই প্রশ্নে রেড টিমের উত্তর: খাবার, কড়া রোদ, পোকামাকড়, মানে সবকিছুই। তবু একজন সদস্য নিজের বানানো আশ্রয়কে "ম্যানসন" বলেন, যেখানে চারজন থাকেন। ঘুম দিন দিন ভালো হচ্ছে, তবে তাঁর ধারণা, সেটা হয়তো প্রত্যাশা কমে যাওয়ার কারণে। নিচু জায়গায় বৃষ্টির জল ঢোকার আশঙ্কার কথা উঠলে তিনি স্বীকার করেন, হয়তো তিনি অতিরিক্ত আশাবাদী। আরেক রেড সদস্যের অনুমান ছিল, এক্সপার্টদের বেশিরভাগ বাড়ি চলে গেছেন, কারণ সবাই এক্সপার্ট হওয়ায় কে কী করবে তা নিয়ে রেষারেষি চলছে। বর্ণনায় বলা হয়, তাঁর ধারণা খুব একটা ভুল ছিল না। ব্লু টিমে তখন সিদ্ধান্ত হয় যে আজ খাওয়া হবে না, কারণ এই খাবার ৫০ জনের জন্য বেশিদিন টিকবে না; এটা আরামের জায়গা নয়, টিকে থাকার লড়াই।

রেড টিমের শেফ ব্রিটানির ব্রেকফাস্ট তৈরির চেষ্টা বিপর্যয়ে শেষ হয়। খাবারের রিভিউ ছিল "জঘন্য", একজনের পেট খারাপ হয়ে যায়। ফল শেষ হয়ে যাওয়ায় আরও দুজন চলে যান। ব্লু টিম সকালে গান-বাজনা করে মন হালকা করার চেষ্টা করে, কিন্তু রান্নার আগে কাউন্টার মোছার মতো ছোট বিষয় নিয়েও ঝগড়া থামে না। একজন স্বীকার করেন, স্বভাবগতভাবেই তিনি কারো কথা মেনে নিতে পারেন না, তাই দলের অংশ হয়ে থাকা তাঁর জন্য কঠিন। এর ফলেও আরও কয়েকজন বাদ পড়েন। মিস্টার বিস্ট জানান, প্রতিযোগীরা যেমন প্রতিপক্ষের সংখ্যা জানেন না, দর্শকও ভিডিওর শেষ পর্যন্ত তা জানতে পারবেন না।

৫০ ক্যানের চ্যালেঞ্জ: শৃঙ্খলার পরীক্ষা

সপ্তম দিনে মিস্টার বিস্ট গাড়ি চালিয়ে এসে দুই দলের দিকে ব্যাগ ছুড়ে দেন। প্রতিটি দল পায় ৫০টি খাবারের ক্যান। নিয়ম: ৭২ ঘণ্টা পর যে দল বেশি না খোলা ক্যান ফেরত দেবে, তারা পুরস্কার পাবে। সমান হলে কেউই কিছু পাবে না।

রেড টিম প্রথমে সব খেয়ে ফেলার পক্ষে উল্লাস করে। কিন্তু পরে তাঁরা যুক্তি দেন, ব্লু টিম ভাববে রেড টিম ক্ষুধার্ত বলে ক্যান খুলবে; তাই তাঁরা ক্যানগুলো মাটিতে পুঁতে রাখেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ ৭২ ঘণ্টা চলার মতো খাবার তাঁদের আছে। ব্লু টিম ক্যানগুলো জঙ্গলে এমনভাবে লুকায় যাতে মাত্র কয়েকজন নাগাল পান। তাঁদের একজন আশঙ্কা করেন, ক্যান খোলা হবে না জানলে আজ অনেকে চলে যেতে পারেন।

অষ্টম দিনে রেড টিম জঙ্গলে একটি পুরনো কয়লার গ্রিল খুঁজে পায়, যা তাঁদের মন ফুরফুরে রাখে। মিস্টার বিস্ট মন্তব্য করেন, সামান্য খাবার আর আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের ইচ্ছাশক্তি কতটা বাড়াতে পারে তা অবাক করার মতো। ব্লু টিমের অবস্থা তখন খারাপ: পয়জন আইভির চুলকানি ছড়াচ্ছে, আট দিনেও ফাঁদে কিছু ধরা পড়েনি, একজন বলেন খিদেয় টুথপেস্ট খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। মাংস, মটরশুঁটি আর ভুট্টার ৫০টি ক্যানের কথা ভাবলেই তাঁদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। কাঁকড়া খুঁজতে গিয়ে একজন সাপের মুখোমুখিও হন।

ঝড়, বরফ আর গণবিদায়

দিনের শেষে বিশাল ঝড় আসে; কেউ টর্নেডোর আশঙ্কা করেন। একজন জানান, ১০ মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি কমে গেছে। ব্লু টিম ডেরার ভেতর গুটিসুটি মেরে বসে থাকে এবং বিশ্বাস করে রেড টিম তাঁদের মতো সামলাতে পারবে না। বাস্তবে রেড টিমের কারো তাঁবু বাতাসে উড়ে যায়, কারো ধসে পড়ে, অনেককে এলাকায় থাকা একটি প্লেনে আশ্রয় নিতে হয়।

পরের সকালকে তাঁরা এখানকার সবচেয়ে ঠান্ডা রাত বলে বর্ণনা করেন: পাতায়, গাছে, এমনকি প্লেনের সিটেও বরফ জমেছিল। রেড টিমের আগুন পোহানোর জায়গা বন্যায় ভেসে যায়। ব্লু টিমের সান্ত্বনা ছিল, তাঁদের যদি এত ঠান্ডা লাগে, রেড টিমেরও একই দশা। এই ঝড়ে রেড টিমের ছয়জন আর ব্লু টিমের দুজন বাড়ি ফিরে যান। রেড টিমের একজন ঘোষণা দেন, তাঁরা আর কোনোদিন ক্যাম্পিং করতে আসবেন না।

ক্যান চ্যালেঞ্জের ফল ঘোষণার সময় দেখা যায়, দুই দলই ৫০টি করে ক্যান ফেরত দিয়েছে। ব্লু টিমের দুটো ক্যান হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সংখ্যা ৫০-ই ছিল। ফলে কেউ পুরস্কার পেল না। রেড টিম ক্ষুব্ধ হয়; ফল জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই তিনজন খেলা ছেড়ে দেন, আর একজন মা হিসেবে মন চলে যেতে বলছে জানিয়ে যোগ দেন। মোট পাঁচজন চলে যান। ক্যান না খাওয়ার জন্য আফসোস হচ্ছে কি না জিজ্ঞেস করলে তাঁরা হ্যাঁ বলেন।

সেথের বিদায় ও টাকার হিসাব

ব্লু টিমের মনোবলও এক ধাক্কায় তলানিতে নামে; রাতেই তিনজন চলে যান। ঘুমের অভাব আর খিদে দুটোই কষ্ট দিচ্ছিল। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল সেথের চলে যাওয়া। তিনি জানান, সবাইকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় টেকার মতো আশ্রয় বানাতে শিখিয়েছেন, জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছেন, এবং বিশ্বাস করেন ব্লু টিম জিতবে; কিন্তু ব্যবসা ফেলে এর বেশি সময় দিতে পারবেন না। সতীর্থরা তাঁকে "আসল সারভাইভালিস্ট" বলে বিদায় জানান। আরেক সদস্য জানান, প্রতিদিন তাঁর ওজন কমছে, শুধু চালের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না। কোমরে ব্যথা নিয়ে মায়মোনাও চলে যান।

এই পর্যায়ে একটি নতুন হিসাব সামনে আসে। ব্লু টিমের কয়েকজন খোলাখুলি বলেন, যত মানুষ কমবে, জিতলে টাকার ভাগ তত বড় হবে। মিস্টার বিস্টও জানান, মানুষ চলে যাওয়ায় প্রতিটি ভাগ এখন হাজার হাজার ডলারে পৌঁছেছে। বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রিন নিজের ভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন, আর তাঁর আচরণে অন্যরা বিরক্ত হতে থাকেন।

রেড টিমে লোক কমায় অবশিষ্টদের দায়িত্ব বাড়ে। একজন জানান, শেফ ব্রিটানি চলে যাওয়ার পর তাঁকে তাঁর অর্ধেক দায়িত্ব নিতে হচ্ছে; অন্যরা পেঁয়াজ পাতা আর গাজর কেটে দেন, আর রান্না ভালোই হয়েছে। তাঁর ভাষায়, তিনি প্রমাণ করেছেন যে যতটা ভেবেছিলেন, তার চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা তাঁর আছে।

দ্বিতীয় ঝড় ও ত্রিপল-বিবাদ

আরেকটি বড় ঝড়ের আগে রেড টিম নিজেদের আশ্রয়কে "এয়ারবিএন-বিস্ট" নাম দিয়ে দেখায়, যার প্রবেশপথ বাতাস আটকায়; একজন লতা দিয়ে দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করেন। ব্লু টিমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিতে সবার জুতা, মোজা, জামাকাপড়, এমনকি শোয়ার জায়গাও ভিজে যায়; একজনের কুঁড়েতে জল ঢোকে। তখন একমাত্র ত্রিপল নিয়ে বিবাদ বাধে। কিছু সদস্য বলেন, ত্রিপলের নিচে শুধু চাল আর বিনস শুকনো রাখা হবে; অন্যরা প্রতিবাদ করেন যে ওটা সবার আশ্রয়ের জন্যই ছিল। একজন বলেন, সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। একই সময়ে রেড টিমের এক সদস্য জল ভরে তাঁবুতে বই পড়তে আর ঘুমাতে যান এবং বলেন, এই দিনগুলোই সবচেয়ে সহজ, স্রেফ সময় কাটানোর দিন।

১৪তম দিনের বাক্স চ্যালেঞ্জ: সহযোগিতা না প্রতিদ্বন্দ্বিতা

১৪তম দিনে দুই দলের সামনে একই রকম পাঁচটি বাক্স রাখা হয়। নিয়ম: বাক্স একে একে খোলা হবে; যে দল আগে বাটন টিপবে, সে জিনিসটি পাবে এবং অন্য দল কিছু পাবে না। কোনো দল না নিলে পরের বাক্স খোলা হবে। আর যদি দুই দলই সব বাক্স প্রত্যাখ্যান করে, তবে দুই দলই পাঁচটি বাক্সই পাবে।

প্রথম বাক্সে মাছ ধরার সরঞ্জাম; রেড টিম বলে নদীতে মাছই নেই, তাই কোনো কাজের না। দ্বিতীয়টিতে লোহার হাঁড়ি-পাতিল; রেড টিমের শেফ মনে করেন বাকি সব আছে, আর সদস্যরা সব বাক্স পাওয়ার আশায় বাটন না টেপার পক্ষে থাকেন। তৃতীয়টিতে ফিস্টেবলস পিনাট বাটার কাপস; প্রলোভন ছিল প্রবল, কেউ কেউ বাটন টেপার জন্য অনুনয় করেন, কিন্তু সেটাও ছেড়ে দেওয়া হয়। চতুর্থটিতে ঘর বানানোর সরঞ্জাম, যা ব্লু টিম সহজেই ছেড়ে দেয় কারণ ডেরা তাদের আগেই বানানো।

শেষ বাক্সের আগে দুই দলই আলোচনায় বসে। রেড টিমের কেউ মনে করেন ব্লু টিম টিপবে না, কেউ বলেন টিপবে, কারণ না টিপলে দুই দল আবার সমান হয়ে যায়। ব্লু টিমের একজন যুক্তি দেন, যাদের কাছে খুব বেশি কিছু নেই তারা কেন অন্যকে সব পেতে সাহায্য করবে; প্রতিপক্ষকে কাজে লাগার মতো কিছু না দেওয়াই আসল বুদ্ধি। শেষ বাক্সে ছিল পুরো দলের জন্য স্টেক, জ্যাক লিংকস আর মশলা। বাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ব্লু টিমের প্যাট্রিক বাটন টিপে দেন, আর রেড টিম কিছুই পায় না।

এই সিদ্ধান্ত ব্লু টিমকে দুই সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বাড়তি সুবিধা দেয়, তবে অন্যদের মতামত না নেওয়ায় দলে তৎক্ষণাৎ ফাটল ধরে। একজন চিৎকার করে জানান তিনি নিরামিষাশী, উত্তরে শোনেন "তাতে কার কী যায় আসে"। দুই দলই কয়েকজন খেলোয়াড় হারায়। ব্লু টিমের বাকিরা স্টেক খেয়ে বলেন, এটা বড়দিন আর থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের চেয়েও ভালো, প্রোটিন খেয়ে শক্তি ফিরে এসেছে। রেড টিমে ক্ষোভ দেখা দেয়; একজন বলেন তাঁর হাঁড়িগুলো খুব দরকার ছিল, কেউ বাটন না টেপায় এখন খাবারে কালো জঞ্জাল মিশে থাকে।

দুই দলের উল্টো যাত্রা

মাংস ফুরিয়ে যেতেই ব্লু টিমে আবার বিবাদ শুরু হয়। ত্রিপল নিয়ে একজন আরেকজনকে স্বার্থপর বলেন। একজন নিজেকে ইতিবাচক থাকা আর সবাইকে চাঙ্গা রাখার লোক হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি মনমরা সতীর্থদের হাসাতে ব্যাকফ্লিপ করেন। ১৭তম দিনে এক সদস্য মিষ্টি আলু দিয়ে দুপুরের খাবার খেলে অভিযোগ ওঠে যে অন্যরা কিছু পায়নি; তিনি বলেন খিদে পেলে খাবেনই, কারো কাছে জবাবদিহি করবেন না। চাল নেওয়ার বিষয়ে আগের দিনের মীমাংসা নিয়েও বিরোধ দেখা দেয়, একজন বলেন তিনি সেই আলোচনা শোনেননি, তাতে অংশও নেননি। প্যাট্রিকও চলে যান। এক সদস্য আশঙ্কা করেন, এভাবে একে একে আলাদা হতে থাকলে যা হওয়ার তাই হবে।

রেড টিম দূর থেকে চিৎকার আর তালির শব্দ শুনে অনুমান করে যে ব্লু টিমে কেউ ফ্লেয়ার জ্বালিয়েছে, এবং স্টেক পাওয়ার পরও তাদের দল ভেঙে পড়ছে বলে ধারণা করে। বর্ণনায় বলা হয়, রেড টিমের সদস্যরা সত্যিই একে অপরকে পছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন, মিলেমিশে কাজ করলে এখনো জেতা সম্ভব। তবে রেড টিমেও সবকিছু মসৃণ ছিল না। একজন আরেকজনকে ভণ্ড বলেন এবং বিস্বাদ খাবার রান্না ছাড়া দলের জন্য কিছু না করার অভিযোগ তোলেন। অন্যরা এটাকে বুলিং বলে বর্ণনা করেন, আর ভুক্তভোগী জানান তিনি আজই চলে যেতে চান, কারণ এখানে তিনি মনে শান্তি পাচ্ছেন না। সেই সময় রেড টিমের একজন নদী থেকে একটি বড় মাছ ধরেন, যা তাঁরা একসাথে পরিষ্কার করে রান্না করেন।

ব্লু টিমের এক সদস্যের মন্তব্যে পরিস্থিতির সারকথা উঠে আসে: একা জঙ্গলে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ থাকলেই যে দল হয়ে টিকে থাকা যাবে, তার কোনো মানে নেই। এরপর টানা পাঁচ দিন কেউ ফ্লেয়ার জ্বালাননি। তবু ব্লু টিমে অ্যামেলিয়ার চলে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছিল, আর একজন সতীর্থদের মনে করিয়ে দেন, রেড টিম যদি মাত্র একজনের ব্যবধানে জেতে, তাহলে যাঁরা অন্যদের বিদায়ে আনন্দ করছেন তাঁরাও টাকা হারাবেন।

শেষ চ্যালেঞ্জ: ফ্লেয়ার গানের খোঁজ

তিন সপ্তাহ পর মিস্টার বিস্ট শেষ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসেন: একটি ক্যাম্পের ম্যাপ আর একটি ফ্লেয়ার গান। দলগুলো ঠিক করে দেয় ফ্লেয়ার গানটি কোথায় লুকানো হবে। যে দল সেটি আগে খুঁজে পাবে, তারাই জ্বালিয়ে ঠিক করবে ভিডিও কখন শেষ হবে, আজ, পাঁচ দিন বা দশ দিন পরে, যখন খুশি; অন্য দলের এতে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। রেড টিম প্রতিপক্ষকে খাটিয়ে ক্যালোরি খরচ করাতে সেটি দূরে রাখার পক্ষে মত দেয়।

চোখের বাঁধন খোলার পর দুই দলের প্রস্তুতির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। ব্লু টিম আগে থেকেই এলাকা ছক কেটে ভাগ করে নিয়েছিল এবং কে কোন দিকে যাবে ঠিক করে রেখেছিল। রেড টিম চোখ বাঁধা অবস্থায় কোনো পরিকল্পনা করেনি, ফলে শুরুতে তাদের অবস্থা ছিল জগাখিচুড়ি; পরে তাঁরা ডকের দিকে আর উল্টো দিকে ভাগ হন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর হর্ন বাজে: ব্লু টিমের টেলর ফ্লেয়ার গানটি খুঁজে পান।

রেড টিমে কজন বাকি আছেন, এই প্রশ্নে ব্লু টিমের অনুমান ছিল নয় বা আটজন। পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রস্তাবে তাঁরা বলেন, ২০ দিন অপেক্ষা করেছেন, আর নয়। "ফ্লেয়ার জ্বালাও" স্লোগানের মধ্যে সেটি জ্বালানো হয়।

ফল: ১১ বনাম ৯

চোখের বাঁধন খোলার পর ঘোষণা আসে: ব্লু টিমে ১১ জন, রেড টিমে ৯ জন বাকি। ব্লু টিম ২.৫ লাখ ডলার জেতে, মিস্টার বিস্টের হিসাবে প্রত্যেকে প্রায় ২২ হাজার ডলার নিয়ে বাড়ি ফেরেন। রেড টিমের এক সদস্য জানান, এতদূর আসতে পেরে তিনি গর্বিত। মিস্টার বিস্ট রেড টিমের প্রত্যেককে সময় দেওয়ার জন্য ৪ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যাতে তাঁরা খালি হাতে না ফেরেন।

মাত্র দুজনের ব্যবধানে নির্ধারিত এই ফলের পর মিস্টার বিস্ট তাঁর মূল প্রশ্নের উত্তর দেন এভাবে: দক্ষতা থাকুক বা এক গাদা সরঞ্জাম, দিনশেষে সবচেয়ে জরুরি হলো একজোট হয়ে কাজ করা।