এক কিউবে ৫০ জন স্ট্রিমার, পুরস্কার দশ লক্ষ ডলার: শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ভিডিওর শুরুতেই মিস্টারবিস্ট (জিমি) জানান, তিনি "বিশ্বের সেরা ৫০ জন স্ট্রিমারকে" একটি বিশাল কিউবের ভেতর আটকে রেখেছেন। নিয়ম একটাই: যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, সে জিতবে দশ লক্ষ ডলার। পরে স্পষ্ট হয়, টাকাটা আসলে বিজয়ীর দর্শকদের কাছে যাবে। প্রতিযোগিতা চলে দুই দিন ধরে। পেইন্টবল, চোখ বেঁধে সময় আন্দাজ, ফুটবল, ফোর্টনাইট, স্মৃতির খেলা, অন্ধের ডজবল, নিজেদের বানানো ওয়ান-ভার্সেস-ওয়ান চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ লড়াই হয় লাইভস্ট্রিমে, বিশাল গুলতি দিয়ে। পুরো ভিডিওতে বারবার একটি প্রশ্ন সামনে আসে: এত বড় অঙ্কের সামনে স্ট্রিমাররা জোট বাঁধবে, নাকি একে অপরের বিরুদ্ধে যাবে?

18 মিনিটে পড়া

শুরুর আবহ: জোট, খোঁচা আর একঘেয়েমি

খেলা শুরুর আগেই কিউবের ভেতর দল তৈরি হতে থাকে। এক দল নিজেদের "স্প্যানিশ জোট" বলে পরিচয় দেয় এবং ঘোষণা করে যে তারা একসাথে আটকে আছে, তাই একসাথেই লড়বে। কেউ বলে, এখানে কৌশলই সব। একজন মজা করে জানায়, জেতার জন্য দরকার হলে মেঝেতে শুয়ে নাচতেও রাজি।

পরিবেশ সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। কেউ অভিযোগ করে যে কিউবে কিছু করার নেই, এভাবে থাকলে সে পাগল হয়ে যাবে। আরেকজন বলে, এই স্ট্রিমাররা শুধু লাইভ করতে জানে, তারা অলস। এরপর জিমির ধারাভাষ্যে কিছু ঝলক দেখানো হয়: কেউ বলছে "কাউকে কিল করো, ভয় পেয়ো না", কেউ অভিযোগ করছে প্রতিপক্ষের ওপর পুরো ক্লিপ খালি করে দিয়েও লাভ হয়নি। জিমি জানান, এসব ঘটনা তখনও ঘটেনি, তাই প্রতিযোগীরা কিছুই জানে না।

প্রথম চ্যালেঞ্জ: পেইন্টবলে "সবচেয়ে অপছন্দের" স্ট্রিমার বাছাই

প্রথম খেলার জন্য একটি দেয়ালে সব প্রতিযোগীর ছবি টাঙানো হয়। প্রত্যেকে একটি করে পেইন্টবল শট পায় এবং যে স্ট্রিমারকে সবচেয়ে অপছন্দ করে, তার ছবিতে গুলি করতে হবে। ৫০ জন গুলি করার পর যাদের ছবিতে সবচেয়ে বেশি রং লাগবে, তারা বাদ পড়বে। কেউ ভেবেছিল ভোট দিয়ে বাদ দেওয়া হবে, কেউ ভেবেছিল বল ছুঁড়তে হবে। পেইন্টবল গানের কথা শুনে অনেকেই অবাক হয়।

স্কেচ প্রথম শট নেয় এবং ইচ্ছে করেই মিস করে, যেন কারও সঙ্গে শত্রুতা তৈরি না হয়। তার মন্তব্য ছিল, "আমি খুব ভালো মানুষ।" লুডউইগ গুলি করে এমন একজনের ছবিতে, যিনি স্ট্রিমার নন। দেখা যায় তিনি টুইচের সিইও, নাম ড্যান। সবাই হেসে বলে, এবার তো লুডউইগ ব্যান খাবে। লুডউইগ জানায়, ব্যান করলেও তার আপত্তি নেই। ড্যান বদলা নিতে লুডউইগকেই লক্ষ্য করেন, কিন্তু মিস করেন। লুডউইগ আগেই খোঁচা দিয়েছিল যে "বুড়ো দাদু" মিস করবেন।

এরপর পরিস্থিতি বদলায়। জিমির ভাষ্যে, কেউ একজন ভুল করে গুলি খাবে আর তখনই ঝামেলা বাড়বে, এবং ঠিক তাই হয়। আরকি নামের একজন অন্য স্ট্রিমারদের টার্গেট করা শুরু করে, স্ট্রিমাররাও পাল্টা জবাব দেয়। এভাবে বোঝা যেতে থাকে কাকে সবাই কম পছন্দ করে। কয়েকজন প্রকাশ্যে প্রতিশোধের ঘোষণা দেয়। কেউ জানতে চায় কাউকে বাদ না দিয়ে মাটিতে গুলি করা যায় কিনা, জিমি জানান সেটা সম্ভব। পোকি দাবি করে সে মাটির দিকে টার্গেট করেছিল, অথচ গুলি গিয়ে লাগে আরেকজনের ছবিতে।

জিমির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ট্রিমাররা হয় নিজেদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষকে টার্গেট করছিল, নয়তো যাদের ছবিতে আগে থেকেই বেশি রং লেগেছে তাদের, যাতে নিজেরা বাদ পড়া এড়াতে পারে। মার্লন নামের একজন দুর্ঘটনাবশত নিজের ছবিতেই গুলি করে বসে, আর বাকিরা তাকে মজা করে "হিরো" বলে।

এই রাউন্ডের সবচেয়ে উত্তপ্ত চরিত্র ছিল এক্সকিউসি। অনেকে তাকে টার্গেট করে, কেউ চিৎকার করে বলে "তুমি শেষ, এক টাকাও জিততে পারবে না।" লাল আলো জ্বলে উঠলে পাঁচজন "সবচেয়ে অপছন্দের" স্ট্রিমারের নাম ঘোষণা হয়, এক্সকিউসিও তাদের একজন। যাওয়ার আগে সে এএমপি গ্রুপকে উদ্দেশ্য করে বলে যায় যে তাদের কেউ দেখে না, তাদের গান ফালতু।

চোখ বেঁধে ল্যাম্বরগিনি: দশ মিনিট আন্দাজের খেলা

দ্বিতীয় খেলায় মেঝে বদলে একটি ল্যাম্বরগিনি আনা হয়। জিমি জানান, একজন স্ট্রিমার এই গাড়িটি জিতবে এবং কিউবের ভেতর থেকেই তার কোনো দর্শককে উপহার দেবে। তবে খেলায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অংশগ্রহণকারীদের চোখ বেঁধে গাড়িতে হাত রাখতে হবে, এবং যে ঠিক দশ মিনিটের সবচেয়ে কাছাকাছি সময়ে হাত সরাবে, সে জিতবে। কিন্তু যারা অংশ নিয়ে হারবে, তারা মূল প্রতিযোগিতা থেকেও বাদ পড়বে।

এই ঝুঁকির কারণে দুই মিনিটের সময়সীমায় মাত্র চারজন সার্কেলে ঢোকে। একজন স্কেচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অংশ নেয়, স্কেচ নিজে জানায় সে ভয় পাচ্ছে। নিওনের ঢোকা নিয়ে বাইরে বেশ উল্লাস হয়। একজন জানতে চায় দশ মিনিট আসলে কতক্ষণ, তারপর "এক মিসিসিপি, দুই মিসিসিপি" গুনতে গিয়ে থেমে যায়।

টাইমার চালুর পর বাইরের স্ট্রিমাররা অংশগ্রহণকারীদের বিভ্রান্ত করতে শুরু করে। কেউ ভুল সংখ্যা চেঁচায় ("১৫, ১৬, ১৭... ৩০, ৮০, ৬০"), কেউ বলে সাত মিনিট ৩৭ সেকেন্ড হয়েছে, কেউ বলে মাত্র ছয় মিনিট। প্রথম যে হাত সরায়, তার তখন মাত্র প্রায় পাঁচ মিনিট হয়েছিল। তার মতে, সবাই যখন ধোঁকা দিতে চাইছে তখন মনোযোগ রাখা অসম্ভব।

বন্ধুদের টাইমার আর পাঁচ ফ্রেমের ব্যবধান

পরে জানা যায়, শেষ দুজন আলাদা ফন্দি এঁটেছিল। দুজনেরই বন্ধু ছিল, যারা ভ্লগ ক্যামেরা দিয়ে শুরু থেকে সময় মাপছিল। ঠিক হয়, শেষ দশ সেকেন্ড বাকি থাকতে বন্ধু সংকেত হিসেবে "কাওয়াই" বলবে। জিমি এই বুদ্ধির প্রশংসা করেন এবং বলেন এটা বৈধ। আগেই বাদ পড়া একজন হতাশ হয়ে জানায়, এভাবে হারলে খুব গায়ে লাগে। নয় মিনিট হলে সে গিয়ে সব ঘেঁটে দেবে যাতে কেউ গাড়ি না পায়।

শেষ মুহূর্তে চারদিক থেকে চিৎকার চলতে থাকে: "৯:১৩... ৯:৩৬... ৯:৩৭", "আট!", "না না! দশ সেকেন্ড!"। তারপর কেউ চেঁচায় "অ্যামিন! কাওয়াই! হাত সরাও!" এবং দুজন প্রায় একই সঙ্গে হাত সরায়। জিমির দল ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখে, একজন আগে হাত সরিয়েছিল আর অন্যজন মাত্র পাঁচ ফ্রেম পরে, যা দশ মিনিটের সবচেয়ে কাছাকাছি। ফরাসি স্ট্রিমার রিবেউডিটার মাত্র পাঁচ ফ্রেমের ব্যবধানে জিতে যায়।

বাকি তিনজন বাদ পড়ে। একজন স্বীকার করে সে জানতই না যে এখানে চিটিং করা যায়, আর মজা করে বলে সে চিটিং ভালোবাসে। আরেকজনকে পরামর্শ দেওয়া হয়, তার ভালো বন্ধু বানানো উচিত ছিল। রিবেউ চ্যাট থেকে একজন দর্শক বেছে নেয় এবং "মিস্টার ঝু" ল্যাম্বরগিনি জেতেন। ভিডিওতে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, তিনি নার্ভাস কিন্তু খুব খুশি। খেলায় অংশ না নেওয়া একজন মন্তব্য করে, তার দর্শকরা অন্তত জেনে খুশি হবে যে সে তাদের ল্যাম্বোর জন্য লড়েনি।

ভিডিও গেম নাকি স্পোর্টস: নিজের দুর্বলতা নিজেই বেছে নেওয়া

পরের ধাপে জিমি জানান, প্রতিযোগীদের নিজেদেরই বেছে নিতে হবে তারা ভিডিও গেম খেলবে নাকি আউটডোর স্পোর্টস। প্রতিটি পাশ থেকে দশজন পরের রাউন্ডে যাবে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক বাদ পড়বে। ফলে আসল হিসাব দাঁড়ায় কোন পাশে প্রতিযোগিতা কম আর কোন দক্ষতায় নিজের ওপর ভরসা বেশি।

প্রায় সবাই ভিডিও গেমের দিকে ভিড় করে, জিমির ভাষায় সেখানে "গেমারের মেলা"। কেউ বলে নিজের দৌড় জানে, স্পোর্টস তার হবে না। লেসি নিজেকে ঘরের সেরা দশ গেমারের একজন দাবি করে। আরেকজন বলে সে দুটোতেই সেরা, তাই ভাবছে কাদের কম হতাশা দিয়ে বিদায় করা যায়। ডিডিজি শেষে সিদ্ধান্ত নেয়।

স্পিডের বিরুদ্ধে গোলের চ্যালেঞ্জ

স্পোর্টস পাশের জন্য ফুটবল চ্যালেঞ্জ ঘোষণা হয়, আর গোলকিপার হিসেবে আসে স্পিড। জিমি তাকে মজা করে বর্ণনা করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং রোনালদোর সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে। গোল করলে পরের রাউন্ড, মিস করলে বা স্পিড বল আটকালে বাদ। একমাত্র নিয়ম ছিল লাইন থেকে বের হওয়া যাবে না।

পরিকল্পনার মাঝেই লুডউইগ লাইন পেরিয়ে বেরিয়ে যায়, কারণ সে স্পিডকে "হাই" বলতে চেয়েছিল। তার মতে স্পিড তার প্রিয় স্ট্রিমার। জিমি এটিকে বাদ পড়ার একটি অদ্ভুত কারণ বলে উল্লেখ করেন।

প্রথম স্বেচ্ছাসেবক গোল করে, যদিও স্পিড তা ভাগ্যের জোর বলে উড়িয়ে দেয়। এরপর অ্যামিনকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তবে পরের এক শটে একজন বিদায় নেয় এবং স্পিডের ফুটবল দক্ষতার প্রশংসা করে যায়। কেউ আর আসতে না চাওয়ায় সবাই লুকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু জিমি জানিয়ে দেন ব্রিফকেসের পেছনে লুকানো চলবে না, এবং নাম তোলেন। জীবনে কোনোদিন ফুটবল না খেলা আন্দ্রেয়া বোটেজের নাম ওঠে। মায়া জানায় স্পিডকে তার সত্যিই ভয় লাগে। ফলোয়ার সংখ্যাসহ পর্দায় আসা কয়েকজন, যেমন এজেন্ট (৪৫ লাখ) এবং ফ্যানাম (৭৩ লাখ), বাদ পড়ে।

ওয়েন্ডি জিজ্ঞেস করে কোন পায়ে মারবে, পরামর্শ পায় সোজা বা ডান দিকে যত জোরে সম্ভব মারতে। এরপর স্পিড গোলে ফিরে যাওয়ার আগেই সে কিক মেরে দেয়, আর জিমি সেটিকে গোল হিসেবে গণ্য করেন। এরপর স্পিড বলে, এমন আর হতে দেবে না।

ফোর্টনাইটের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমার নিক এহ থার্টি (১ কোটি ৪৫ লাখ ফলোয়ার) জানায়, সে ভেবেছিল স্পোর্টস মানে পুশ-আপ জাতীয় কিছু হবে, ফুটবলের জন্য একদমই তৈরি ছিল না। তবু সে গোল করে টিকে যায়। শেষ এলিমিনেশন হয় রে-র। তার বিদায়ে কেউ খুশি না দুঃখিত, সে প্রশ্নে খানিকটা অস্বস্তিকর মজা হয়। এভাবে স্পোর্টস পাশ থেকে দশজন পরের রাউন্ডে যায়।

ফোর্টনাইট ব্যাটল রয়্যাল: পেশাদারদেরও পতন

ভিডিও গেম পাশের জন্য জিমি ফোর্টনাইট বেছে নেন। তাঁর যুক্তি, এই গেমই স্ট্রিমিং জগতকে আজকের অবস্থানে এনেছে এবং উপস্থিত অনেককে পরিচিতি দিয়েছে। নিয়ম ছিল, বারো জন বাদ পড়া পর্যন্ত খেলা চলবে।

জিমির বর্ণনায়, খেলার শুরুতেই সেরা প্লেয়াররা জোট বাঁধে। এর মধ্যে ছিল টিফু, যাকে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেয়ার বলেন। তারা শুরুতেই প্লেন দখলের সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যাপের অন্য পাশে আরেকটি দল তৈরি হয়, আর কেউ কেউ পুরো গেম লুকিয়ে কাটানোর পরিকল্পনা করে। প্রথম দিকে খেলাটা অস্বাভাবিক শান্ত ছিল, জিমি অবাক হন যে এতক্ষণেও বেশি কেউ আউট হয়নি। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, ঝড়ের গণ্ডি যত ছোট হবে, লড়াই তত জমবে, কারণ ঝড়ে আটকে পড়ার ভয়ে প্লেয়াররা বোকার মতো ভুল করে।

তাই ঘটে। এমিলি পাহাড় থেকে পড়ে মারা যায়, পোকি নিহত হয়, এক মুহূর্তে তিনজন একসাথে ছিটকে পড়ে। শেষ দিকে জিমির ভাষ্যে, শুধু আনাড়িরা নয়, সেরা প্লেয়াররাও ভুল করতে শুরু করে। শেষ যে বাদ পড়ে, সে টিফু। টিফুর প্রতিক্রিয়া ছিল, ফোর্টনাইটে হেরে যাওয়ার দুঃখ তার সারাজীবন থেকে যাবে, আর এক থেকে দশের স্কেলে হতাশা অন্তত নয়। এভাবে সেরা ২০ জন নির্বাচিত হয়।

আকার মনে রাখার দলগত খেলা

বিশজনকে চারজন করে পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়, এবং দুটি দল বাদ পড়বে। জিমি এটিকে ভিডিওর তাঁর প্রিয় খেলাগুলোর একটি বলেন। মেঝেতে কয়েকটি আকার (সার্কেল, স্কয়ার, ডায়মন্ড, ট্রায়াঙ্গেল, স্টার) মাত্র দশ সেকেন্ডের জন্য দেখানো হয়। তারপর চাকা ঘুরিয়ে একটি আকার বাছা হয়, আর পুরো দলকে দৌড়ে সেই আকারের জায়গায় দাঁড়াতে হয়। যতজন ঠিক জায়গায় দাঁড়ায়, তত পয়েন্ট। সবচেয়ে কম পয়েন্ট পাওয়া দুই দল বিদায় নেয়।

প্রথম দল স্কয়ার পায় এবং আত্মবিশ্বাসী থাকলেও মাত্র এক পয়েন্ট পায়। পরের দল স্টার পায়, যাকে একজন সবচেয়ে কঠিন আকার বলে। দলের মধ্যে জায়গা নিয়ে দ্বিধা থাকে। শেষে একজনের পা আধাআধি দাগ ছুঁয়ে থাকে এবং তারা দুই পয়েন্ট পায়। জেসন তাদের দলে ছিল। তৃতীয় দল ডায়মন্ড পায় এবং জিমির ভাষ্যে প্রতিপক্ষরা "স্কয়ার, স্কয়ার, ওদিকে!" বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবু তারা দুই পয়েন্ট পায়। টাইলারের দলের হয়ে টাইলার জোর গলায় বলেছিল "আমি একদম মাঝখানে আছি।" দেখা যায় জায়গাটা ভুল, তবে একজনের পায়ের আঙুল ভেতরে থাকায় তারাও দুই পয়েন্ট পায়। ওয়েন্ডির দলে ট্রায়াঙ্গেল পড়ে। একজন প্রকাশ্যে বলে সে মোটেও নিশ্চিত নয়, এবং দলটি জিতবে বলে মনে করে না। শেষে তারাও দুই পয়েন্ট পায়।

ফলে এক পয়েন্ট পাওয়া প্রথম দলটি বাদ পড়ে, যার একজনকে ফরাসিতে বিষয়টি অনুবাদ করে দিতে বলা হয়। বিদায়ের সময় সান্ত্বনা হিসেবে বলা হয়, ওদের একজন অন্তত একটা ল্যাম্বো জিতেছে।

বাকি চার দলের মধ্যে টাইব্রেকার হয়। একটি দল স্টারে চারজনই ভেতরে দাঁড়িয়ে পূর্ণ পয়েন্ট পায়। টাইলারের দল সার্কেলে আবারও টাইলারের "মাঝখানে আছি" বিশ্বাসে ভর করে শূন্য পায়। জিমি মন্তব্য করেন, ছোট ছোট মিকি মাউসের মতো আকারগুলো তো একদম সামনেই ছিল। এক দল কোনোমতে এক বা দুই পয়েন্ট পায়। শেষ দলটি স্টার পায়, এবং দেখা যায় অন্য দলের কেউ কেউ তাদের জায়গা দেখিয়ে সাহায্য করছে। ক্রিস স্টারের বাইরে দাঁড়ালেও দুজন ভেতরে থাকায় তারা টিকে যায়। টাইলারের দল বাদ পড়ে, আর দলের একজন সব দোষ নিজের কাঁধে নেয়। শীর্ষ ১২ জন নির্বাচিত হয়।

রাতের বিরতি ও রাকাইয়ের প্রলোভন

রাতে কিউবের ভেতর বিছানা আনা হয় এবং একটি "ঘুম পার্টি" হয়। কেউ ঘুমানোর আগে টিকটক দেখতে চায়, কেউ এসির তাপমাত্রা কমাতে বলে। একজন জানায়, তার দলের সবাই, এমনকি সব এএমপি ভাইরাও চলে গেছে। কয়েকজন শেষ তিনে থাকলে কী হবে তা নিয়ে আলোচনা করে। একজন অভিযোগ করে, অন্যজন তাকে তিনবার বাদ দেওয়ার কথা বলেছে, যদিও উত্তর আসে সেটা মজা ছিল। জিমির ভাষ্যে, রাকাই লোভ সামলাতে পারছিল না এবং লাল লাইনের দিকে যাচ্ছিল। অন্যরা তাকে থামায়।

অন্ধ চ্যান্ডলারের ডজবল

সকালে প্রতিযোগীরা আড্ডা দিতে চাইলেও জিমি সরাসরি নতুন খেলা শুরু করেন। চ্যান্ডলারের চোখ বেঁধে দেওয়া হয় এবং তার হাতে ডজবল দেওয়া হয়। প্রতিযোগীদের পায়ে থাকে চাপ দিলে শব্দ করা খেলনা মুরগির জুতো, আর গলায় গরুর ঘণ্টা। চ্যান্ডলার প্রথম যে চারজনকে আঘাত করবে, তারা বাদ পড়বে। কেউ বলে এভাবে বাদ পড়ার চেয়ে খারাপ বিদায় আর হয় না। কেউ বলে শব্দে মনে হচ্ছে পাগলাগারদে আছে।

শুরুতেই চ্যান্ডলার এক শটে একজনকে আউট করে দেয়। এরপর কিউব একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে যায়, কেউ নড়ে না। জিমি সবাইকে উসকে দেন একে অপরের অবস্থান বলে দিতে। চ্যান্ডলার শব্দ শুনে কোণগুলো খুঁজতে থাকে এবং একসময় দৌড়াতে বাধ্য হওয়া প্রতিযোগীদের আঘাত করে। ইয়োনা, ওয়েন্ডি আর ক্রিস আউট হয়।

চতুর্থ ও শেষ এলিমিনেশন নিয়ে সবচেয়ে বিতর্ক হয়। চ্যান্ডলার যখন কাছে আসছিল, তখন রাকাই আব্রাহামকে জাপটে ধরে রাখে, ফলে আব্রাহামের পায়ে বল লাগে। আব্রাহাম রাকাইকে "শয়তান" বলে। রাকাইয়ের সাফ কথা ছিল, জেতার জন্য সে যা খুশি করতে পারে, যেকোনো উপায়ে জেতাই তার লক্ষ্য। এই ঘটনা পরে ফাইনালে বড় ভূমিকা রাখে। এভাবে শেষ আটজন নির্বাচিত হয়।

শেষ আটজন: নিজেদের বানানো দ্বৈরথ

শেষ আটজনের মধ্যে কেউ জানায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়েছে, তবে দশ লক্ষ ডলারের জন্য সব সহ্য করা যায়। আরেকজন বলে, জিতলে টাকাটা নিজের কমিউনিটিতে দেবে, কয়েকজনের কলেজের টিউশন ফি দেবে। পরিবেশে উত্তেজনাও ছিল। একজন অন্যজনকে বলে, তার "নেগেটিভ এনার্জি" আর খারাপ রেপুটেশনের জন্য মানুষ তাকে পছন্দ করে না, এবং সুযোগ পেলে সে নিজেই তাকে বের করে দেবে।

এই রাউন্ডে জিমি জানান, প্রতিযোগীরা যেহেতু নিজেরাই কনটেন্ট ক্রিয়েটর, তাই তারা নিজেরাই ওয়ান-ভার্সেস-ওয়ান চ্যালেঞ্জ বানাবে। তবে চারজনকে বাদ পড়তেই হবে, আর ফাউলের বিচার করবে চ্যান্ডলার।

প্রথম দ্বৈরথ ছিল কানেক্ট ফোর, যেখানে এক সারিতে চারটি গুটি সাজালেই জয়। স্কি মাস্ক এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে। ধারাভাষ্য অনুযায়ী এক পক্ষ প্রায় জিতে গিয়েছিল, কিন্তু অন্যজন আটকে দেয়, এবং শেষে মারি হেরে বিদায় নেয়। মারি বলে, অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল।

এরপর দূর থেকে বাস্কেটবল ছোঁড়া, যে আগে বাস্কেট করবে সে এগোবে। রেজের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ একটু বেশি জোরে ছুঁড়ে ফেলে। জিমির বর্ণনায় গ্রেফগ এক অন্য ফন্দি আঁটে: সৌভাগ্যের জন্য হাতে চুমু খাওয়ার মতো একটি আচার। শেষে রেজের পক্ষ সফল হয়, এবং উল্লাসে একজন বলে এখন থেকে সে রোজ ওর হাতে চুমু খাবে। হেরে যাওয়া প্রতিযোগী জিমিকে সুযোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেয়।

রুবিওস বনাম ইবাইয়ের খেলায় শর্ত ছিল এক হাতে, অনেক দূর থেকে শট নিতে হবে। রুবিওস প্রথমবারেই বল ঢুকিয়ে দেয়, যা দেখে সবাই অবাক হয় এবং কেউ জিজ্ঞেস করে সে জাদু দেখাচ্ছে কিনা। ইবাই মিস করে বিদায় নেয় এবং যাওয়ার আগে স্প্যানিশ কমিউনিটিকে বার্তা দেয়।

সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি ছিল রাকাই বনাম জেসনের সাত পয়েন্টের ওয়ান-অন-ওয়ান বাস্কেটবল। শুরুতে রাকাই এগিয়ে যায়, কিন্তু জেসন ৪-২ করে চাপ বাড়ায়। জিমির ভাষ্যে, রাকাই জেসনকে আটকাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল, যার মানে বারবার ফাউল। দুজনেই এত মরিয়া ছিল যে কার্যত মেঝেতে কুস্তি শুরু হয়। শেষে রাকাই ৬-৩ থেকে আরেক পয়েন্ট নিয়ে জেতে। জেসন বাদ পড়ে, আর শেষ চারজন দাঁড়ায় স্কি মাস্ক, রেজ, রুবিওস ও রাকাই।

গুলতি ফাইনাল: লাইভ দর্শকের ভোট, তিনটি হার্ট

ফাইনালের জন্য একটি বিশাল গুলতি আনা হয়, আর পর্দা সরিয়ে দেখানো হয় প্রত্যেকের জন্য তিনটি করে হার্ট। জিমি ঘোষণা করেন, এইমাত্র লাইভস্ট্রিম শুরু হয়েছে এবং দশ লক্ষের বেশি মানুষ দেখছে। চ্যাটে থাকা দর্শকরাই ভোট দিয়ে ঠিক করবে কোন জিনিস গুলতি দিয়ে ছোঁড়া হবে। তিনটি হার্ট ভেঙে গেলে বাদ। কাকে নিশানা করা হবে, সেটা প্রতিযোগীদের সিদ্ধান্ত। প্রতিপক্ষকেই মারতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আগের খেলায় প্রথম হওয়ায় স্কি প্রথম শট নেয়, তারপর রেজ, রুবিওস ও রাকাই।

প্রথম রাউন্ডের বিকল্প ছিল পিনাটা, বাঁধাকপি, একটি ঘড়ি (যা জিমির মতে হাওয়ায় উড়বে না, খুব বাজে যাবে) এবং বাস্কেটবল। তবে একই সময়ে এত মানুষ ভোট দেয় যে পোলটি ভেঙে পড়ে, তাই প্রথম রাউন্ডে ছক্কা ফেলে জিনিস বাছা হয়। স্কি বাস্কেটবল পায়। রাকাই আগেই সতর্ক করে যে সে স্কির পাশেই আছে, তাকে মারতে গেলে নিজের গায়েই লাগবে।

রাকাইয়ের ভাগে পড়ে সবচেয়ে খারাপ বিকল্প, ঘড়ি, এবং বাকিদের মধ্যে থেকে "আব্রাহামের জন্য ন্যায়বিচার" স্লোগান ওঠে। একটি পোলে প্রায় অর্ধেক দর্শক টয়লেট পেপারের পক্ষে ভোট দেয়। রুবিওস "আমি একা, সারা বিশ্ব বিরুদ্ধে" বলে মুখ খোলে, আর তার জন্য তরমুজ ও সকার বলের মধ্যে সকার বল বেছে নেওয়া হয়।

জিমির ভাষ্যে, স্ট্রিমাররা গুলতি চালাতে এতটাই খারাপ ছিল যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেরেও একটা নিশানাও লাগাতে পারছিল না। রাকাই নাকি শুধু আকাশের দিকেই মারছিল। জিমি জানান, তিনি আগে এটি খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষ দুই ধরনের লোক দিয়েই পরীক্ষা করেছিলেন, এবং প্রত্যেক পরীক্ষায় সবাই এর চেয়ে অনেক ভালো করেছিল। প্রতিযোগীরা তাঁকে "গুল মারছেন" বলে খোঁচা দেয়। এরপর জিমি প্রস্তাব দেন, চারজনই রাজি হলে গুলতির বদলে হাতে ছুঁড়ে মারার একটি রাউন্ড হতে পারে।

রাকাই বনাম বাকিরা

জিমির বিশ্লেষণে, আব্রাহামের সঙ্গে রাকাই যা করেছিল তা অন্য স্ট্রিমাররা ভালোভাবে নেয়নি, এবং তাকে রুখে দাঁড়াতেই হতো। একটি হার্ট আঘাত পেয়েও ঝুলে টিকে থাকে, তাই নোলানকে ডেকে নিশ্চিত হতে হয় সেটি অক্ষত। রুবিওসের দুটো হার্ট থাকায় সে-ও লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে, যদিও নিশানা তখনও খারাপই ছিল। স্কি অভিযোগ করে, সে যখনই মারছে, রাকাইয়ের দিকেই যাচ্ছে।

রুবিওস বাদ পড়ার পর রাকাইয়ের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। রুবিওস জোর দিয়ে বলে, আব্রাহামের জন্য ন্যায়বিচার হবেই, হয়তো সে করবে না, অন্য কেউ করবে। জিমি রুবিওসকে জানান, একজন স্প্যানিশ দর্শককে দেওয়ার জন্য তার কাছে ৫০,০০০ ডলার আছে এবং রুবিওসই ঠিক করবে কে পাবে।

জিমির ভাষ্যে রুবিওসের কথাই সত্যি হয়: রাকাই হয়ে ওঠে সবার এক নম্বর টার্গেট। কেউ স্কিকে বলে, সে জিতল কি না তাতে কিছু যায় আসে না, শুধু রাকাইকে আউট করলেই হবে। রাকাই নিজেকে সবচেয়ে ছোট বলে সহানুভূতি চায়, উত্তর আসে, সারাদিন ধরে সে ইমোশনাল নাটক করছে। হার্টে মারতে না পেরে জিমির বর্ণনায় রাকাই সম্ভাব্য সব কৌশল চেষ্টা করে। অন্যদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে সে অভিযোগ করে যে দুজন মিলে তার বিরুদ্ধে খেলছে।

শেষে পরিস্থিতি হাতাহাতির কাছাকাছি পৌঁছায়। জিমিকে "শান্ত হও" বলে সিকিউরিটি ও চ্যান্ডলারকে ডাকতে হয়। রাকাই বারবার দাবি করতে থাকে যে অন্যজন লাইন ছুঁয়েছে, কিন্তু রাকাইকেই বাদ ঘোষণা করা হয়। রাকাই জানতে চায় সে তবু টাকা পাবে কিনা। জিমি জানান, দর্শককে দেওয়ার জন্য সে ৫০,০০০ ডলার পাচ্ছে, প্রত্যেক পরাজিতও তাই পায়। বিদায়ের সময় বাকিদের একজন মন্তব্য করে, রাকাই তাকেও ঠকিয়ে হারিয়ে দিত।

শেষ দুজন: স্কি মাস্ক বনাম রেজ

শেষ দুজন স্কি মাস্ক ও রেজ ছিল বন্ধু, এবং দুজনেই অবাক হয় যে শেষে তারাই পৌঁছেছে। জিমি মনে করিয়ে দেন, বন্ধুত্ব থাকলেও একজনের দর্শক এক মিলিয়ন ডলার পাবে, অন্যজনের পাবে না। দুজন একে অপরকে ভালো খেলার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করে।

স্কি দ্রুত এগিয়ে যায় এবং স্কোর দাঁড়ায় ৩-১, রেজের হাতে একটি মাত্র হার্ট। জিমি রেজকে মনে করিয়ে দেন, লেব্রন জেমস ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে ৩-১ পিছিয়ে থেকে কামব্যাক করে জিতেছিলেন। প্রশ্ন করেন, "তুমি কি লেব্রন?" রেজ উত্তর দেয়, তার বিশ্বাস সে পারবে।

একের পর এক শটে খেলা শেষ হয়নি। জিমি বলেন, স্কি সহজেই সব শেষ করে দিতে পারত, আর রেজ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখত। স্কিকে "ধারাবাহিক" বলা হয়। শেষে রেজ লাগাতে পারে এবং খেলায় ফিরে আসে, তারপর আবারও হার্ট ভেঙে স্কোর সমান করে। এখন দুজনেরই একটি করে হার্ট, যারটা আগে ভাঙবে সে হারবে, অন্যজন দর্শকদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতবে।

শেষ মুহূর্তের ধারাভাষ্যে বারবার বলা হয় যে রেজ পুরোপুরি খেলায় ডুবে গেছে। তারপর শেষ হার্টটি ভেঙে যায়, এবং বিজয়ীকে বলা হয়, "তুমি এইমাত্র এক মিলিয়ন ডলার জিতে গেলে!" বিজয়ীর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, "ওরা আমার ওপর ভরসা রাখেনি!" এবং বারবার চিৎকার করে, "আমি এক মিলিয়ন ডলার জিতেছি!" সাবটাইটেলে বিজয়ীর নাম স্পষ্ট করে উচ্চারিত হয়নি, তবে ৩-১ থেকে ফিরে আসার ধারাভাষ্য এবং "ভরসা রাখেনি" মন্তব্য রেজের কামব্যাক সম্পূর্ণ হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। বিজয়ী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, এবং এখানেই লাইভস্ট্রিম ও ৫০ জন স্ট্রিমারের দুই দিনের প্রতিযোগিতা শেষ হয়।