২,০০০ মানুষকে আবার হাঁটতে সাহায্য: কৃত্রিম অঙ্গ, বিমার ফাঁক আর এক ইউটিউবারের অস্বস্তিকর প্রশ্ন

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ভিডিওর শুরুতেই উপস্থাপক জানান, এবার তাঁদের লক্ষ্য ২,০০০ জন মানুষকে আবার হাঁটতে সাহায্য করা। তাঁর ভাষায়, আগের ভিডিওগুলোর চেয়ে এটি আলাদা। হাঁটাকে আমাদের বেশিরভাগই প্রতিদিনের স্বাভাবিক ব্যাপার ধরে নিই, কিন্তু বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ অঙ্গহারা মানুষের কাছে এটি সহজলভ্য নয়। ভিডিওটি একের পর এক মানুষের গল্প দেখায়, যাঁরা কৃত্রিম অঙ্গ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আবার পায়ে দাঁড়ান। শেষে উপস্থাপক একটি প্রশ্ন তোলেন: এই সাহায্য কেন একজন ইউটিউবারের ওপর নির্ভর করবে।

11 মিনিটে পড়া

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ধাপ: স্টেফানি ও অন্যরা

শুরুতে কয়েকজনের অভিজ্ঞতার টুকরো শোনা যায়। একজন জানান, ২০২০ সালে দুর্ঘটনায় তাঁর দুই গোড়ালিই ভেঙে যায়। আরেকজনের প্রসঙ্গে বলা হয়, প্রথম অসুস্থ হওয়ার সময় কেউ ভাবেনি তিনি আরও এক বছর বাঁচবেন। আরেকজন বলেন, ১৭ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে তিনি পা হারান।

প্রথম পুরো গল্প স্টেফানির। তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে, অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছর, তিনি নিজে হাঁটতে পারেননি। নতুন পা হাতে পেয়ে তিনি নার্ভাস ছিলেন, তারপর সেটি পরে দাঁড়ান এবং হাঁটেন। পরিবারের একজন বলেন, তিনি খুশি যে স্টেফানি এখন নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারবেন, আর বন্দি হয়ে থাকতে হবে না। দলের একজন মন্তব্য করেন, এখন তাঁরা একে অপরের চোখে চোখ রেখে তাকাতে পারবেন। উত্তর আসে, "আমরা নাচতে পারি।" তাঁরা সত্যিই নাচেন।

একইভাবে সাহায্য পান কলিন, যিনি সাত মাস হাঁটতে পারেননি। এরপর ডেভিড, আদ্রিয়ান, লিন্ডা ও খারিদকেও সাহায্য করা হয়। উপস্থাপক স্বীকার করেন, কয়েকজন অসাধারণ মানুষের সাহায্য ছাড়া এই কাজ সম্ভব হতো না।

দাম আর বিমার ফাঁক

এরপর আলোচনা আসে খরচে। এমন একটি কৃত্রিম অঙ্গের সাধারণ দাম কত, এই প্রশ্নের উত্তর আসে ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত। উপস্থাপকের দাবি, ভিডিওর বেশিরভাগ মানুষ হয় বিমা করাতে পারেন না, নয়তো তাঁদের কভারেজ যথেষ্ট নয়। তাই তাঁরা পা না দিলে এই মানুষদের হয়তো আর কখনো হাঁটা হতো না।

বিমা খরচ না দিলে কী করেন, এই প্রশ্নে একজন বলেন, আশা করেন, তহবিল তোলেন আর প্রার্থনা করেন যেন আপনার মতো কেউ এসে পড়েন। আরেকজন জানান, নিজের টাকায় এটি কিনতে তাঁর প্রায় দশ বছর লাগত। উপস্থাপক এটিকে স্পষ্টতই অন্যায্য বলেন এবং তাঁকে ১০,০০০ ডলার দিয়ে বাড়ি পাঠান। ঠাট্টা করে বলা হয়, তিনি এসেছিলেন এক পা নিয়ে, ফিরছেন দুই পা আর টাকাভর্তি ব্রিফকেস নিয়ে। তিনি একে জীবনের সেরা দিন বলেন এবং জানান, পা-টি এত বাস্তব লাগছে যেন তাঁর শরীরেরই অংশ।

গ্রেগ: মৌলিক কাজের ক্ষমতা

উপস্থাপক বলেন, এই প্রক্রিয়ায় তাঁরা শিখেছেন যে হাঁটার ক্ষমতা হারালে জীবনের সবচেয়ে মৌলিক কাজগুলোর ক্ষমতাও হারিয়ে যায়। গ্রেগের কথায়, সবকিছু আগের তুলনায় দ্বিগুণ কঠিন হয়ে গেছে। একসময় তিনি পরিবারের সঙ্গে সারাক্ষণ টেনিস খেলতেন, অথচ এখন শুধু দাঁড়িয়ে থালাবাসন ধুতে পারলেই খুশি হবেন। নতুন পা পরে দাঁড়ানোর পর তিনি বলেন, দাঁড়ানোর অনুভূতিটা ভালো, আর এটা হাসি এনে দেয়।

ট্র্যাভিস ও মেয়ের বিয়ে

ট্র্যাভিসের সামনে ছিল একটি বিশেষ উপলক্ষ, যা বসে বসে পার করা যায় না: মেয়ের বিয়ে। মেয়ে জানান, তিন-চার বছর বয়স থেকেই তিনি বিয়ের পরিকল্পনা করছেন এবং সবসময় স্বপ্ন দেখেছেন বাবা তাঁকে আইল ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবেন।

ট্র্যাভিস জানান, একসময় একঘেয়ে লাগলে তিনি সপ্তাহে ছয়-সাত দিন দৌড়াতেন। ১৭ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েন, পরে অস্টিওমাইলাইটিস হয়, আর এভাবেই পা হারান। শেষবার কবে স্বাভাবিকভাবে হেঁটেছেন, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাভাবিক কী, সেটাই তিনি আর জানেন না। তাঁকে ডান ও বাম দুই পা দেওয়া হয়। প্রথম ধাপের পর তিনি হাত ছাড়াই হাঁটেন, এবং বলেন তিনি অবশ্যই দৌড়ানো শুরু করবেন।

এরপর উপস্থাপক জানান, তাঁরা মেয়ের হবু স্বামীর কাছ থেকে বিয়ের খরচ জেনে নিয়েছিলেন। একটি হুইলচেয়ারে ঠিক সেই পরিমাণ টাকা রাখা ছিল, অর্থাৎ বিয়ের পুরো খরচ তাঁরা বহন করবেন। মজা করে প্রশ্ন ওঠে, তাঁরা কি আমন্ত্রিত? উত্তর আসে হ্যাঁ, সঙ্গে কিছু ফিস্টেবলস আনতে হবে। উপস্থাপক জানান, ভিডিওর শেষের দিকে তাঁরা সত্যিই সেই বিয়েতে যান।

উন্নয়নশীল দেশে সমস্যা আরও ভারী: গুয়াতেমালা ও ROMP

উপস্থাপক মনে করিয়ে দেন, এই ভিডিওতে তাঁরা সব কৃত্রিম অঙ্গের খরচ দিলেও বাস্তবে সবসময় তা হয় না। ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার বেশিরভাগ মানুষের জন্যই বেশি, আর উন্নয়নশীল দেশে এই দাম আরও ভারী। এই সূত্রে তিনি গুয়াতেমালায় যান ডেভিডের সঙ্গে দেখা করতে। ডেভিড সুবিধাবঞ্চিতদের কৃত্রিম অঙ্গের অভাব মোকাবিলায় রেঞ্জ অফ মোশন প্রজেক্ট (ROMP) প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ডেভিডের ভাষায়, দরিদ্রদের কাছে কৃত্রিম অঙ্গসেবা পৌঁছানোর একটি উপায় হলো কম খরচের প্রযুক্তি। দাম এত বেশি কেন, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগুলো খুবই ব্যয়বহুল। উপস্থাপকের বর্ণনায়, ডেভিড মান বজায় রেখে মাত্র এক-দশমাংশ খরচে এটি করার একটি সহজ উপায় বের করেছেন। একটি ঘর দেখিয়ে ডেভিড জানান, এটি তাঁদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানের বৈশ্বিক মজুতের অংশ। অন্য কৃত্রিম অঙ্গ থেকে আসা এসব উপাদানের অনেকটাই এখনও কার্যকর। উপস্থাপক দর্শকদের বলেন, কারও কাছে দান করার মতো কৃত্রিম অঙ্গ থাকলে তাঁরা ওয়েবসাইটে গিয়ে দিতে পারেন। উপস্থাপকের মতে, এভাবেই ডেভিড খরচ এত কমাতে পেরেছেন যে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদেরও সাহায্য করা যায়, আর তাঁদের জন্য এর অর্থ হলো গুয়াতেমালায় আরও বেশি মানুষকে পূর্ণ জীবনে ফেরানো।

এখানকার মানুষের চাওয়াগুলো ছিল মোটরসাইকেল চালানোর মতো রোমাঞ্চকর কাজ থেকে ফুটবল খেলা, আবার জীবনের ছোট ছোট আনন্দও। একজন স্প্যানিশে বলেন, প্রথমেই তিনি পরিবারের সঙ্গে হাঁটতে চান। আরেকজন বলেন, মনে হচ্ছে তাঁকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি শিশুকেও স্বাধীনতা ফিরে পেতে দেখা যায়। উপস্থাপকের মন্তব্য, জীবনের যে কোনো পর্যায়ে একটি নতুন অঙ্গ সবকিছু বদলে দিতে পারে।

ক্লিনিকে পৌঁছাতে না পারা রোগী আর একটি ট্রাক

দিন শেষে অনেককে সাহায্য করা গেলেও উপস্থাপক বলেন, তাঁদের মিশন তখন সবে শুরু। ডেভিড জানান, কিছু মানুষ ক্লিনিক পর্যন্ত আসতেই পারেন না। দেশটি পাহাড়ি, যাতায়াত কঠিন, নদী পার হতে হয়, জঙ্গল পেরোতে হয়। তাঁর মতে, হাঁটতে না পারা মানে কার্যত রোগীদের ঘরে আটকে থাকা। তাই ডেভিডকে মাঝে মাঝে ক্লিনিক ছেড়ে রোগীদের বাড়িতে যেতে হয়।

এর সমস্যাও ধরা পড়ে। উপস্থাপক জানতে চান তাঁদের ট্রাক কোথায়, আর জানা যায় ROMP-এর কোনো ট্রাক নেই। উপস্থাপকের ব্যাখ্যায়, ROMP-এর বেশিরভাগ সম্পদ যায় কর্মী ও কৃত্রিম সামগ্রীতে, তাই দুর্গম এলাকার রোগীদের কাছে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য যানবাহন তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে ছিল। এরপর তাঁরা ডেভিডকে একটি নতুন ৬৫,০০০ ডলারের ট্রাক উপহার দেন, যার গায়ে ROMP লেখা। উপস্থাপক জানান, এটি কঠিনতম ভূখণ্ডের জন্য সজ্জিত। কর্মীরা আগে থেকে জানলেও ডেভিডকে কেউ বলেননি।

আগ্নেয়গিরির পাশে কেভিন

শহরের কোলাহল ছেড়ে যত দূরে যান, উপস্থাপক তত বোঝেন ডেভিড বাড়িয়ে বলেননি। তাঁরা জঙ্গলের মধ্যে একটি আগ্নেয়গিরির পাশের বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে উপস্থাপক বলেন, এবার তিনি বুঝছেন ট্রাকটি কেন এত মূল্যবান, কারণ এই রাস্তায় সাধারণ গাড়ি চালানোর কথা তিনি ভাবতেই পারেন না।

সেখানে থাকেন কেভিন, যিনি ২৪ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন এবং একটি পা হারান। চলাফেরার প্রশ্নে জানা যায়, পথ এতটাই এবড়োখেবড়ো যে কাউকে তাঁকে হুইলচেয়ারে ঠেলে নিতে হয়। নতুন পা পরে তিনি আগ্নেয়গিরির পাশ দিয়ে হাঁটেন এবং মাকে জড়িয়ে ধরেন। তাঁর পরিবারের একজন বলেন, তাঁদের মতো অনেকেই সংগ্রাম করছেন, এবং পথ মিলিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান। উপস্থাপকের হিসাবে কেভিন ছিলেন ৭১তম ব্যক্তি, যাঁকে তাঁরা আবার হাঁটতে সাহায্য করেন।

ইকুয়েডর: কেলি, এডুয়ার্ডো ও শিশুরা

এরপর ডেভিড ও উপস্থাপক ইকুয়েডরে যান। সেখানে কেলি বলিভিয়া থেকে ছয় দিন বাসে চড়ে এসেছিলেন, অথচ কৃত্রিম অঙ্গ পাবেন কিনা তাও জানতেন না। তিনি বলেন, এর আগে কখনো দেশ ছাড়েননি, তাই ভয় পেয়েছিলেন, তবু ঝুঁকি নিয়েছেন। উপস্থাপক বলেন, এই কারণেই তাঁরা এখানে ভিডিওটি করছেন। দুই বছর পর প্রথমবার হাঁটতে পেরে কেলি এত খুশি হন যে উপস্থাপককে নাচতে ডাকেন। উপস্থাপক স্বীকার করেন তিনি নাচতে জানেন না, তবু নাচেন। তাঁর কথায়, এই পরিবারকে তাদের অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিরে পেতে দেখা তাঁর কাছে অনেক কিছু।

এডুয়ার্ডো নতুন পা পেয়ে সেটিতে চুমু খান। এরপর দেখা যায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে, যে কয়েক মাস হাঁটতে পারেনি। মা জানান, শিশুটিকে মাটিতে টেনে টেনে চলতে হতো এবং একটি পা না থাকার জন্য সে লজ্জাও পেত। আরেক মেয়ের মা নিজের সন্তানকে আবার হাঁটতে দেখে বলেন, এটি খুবই আবেগের আর উত্তেজনার মুহূর্ত। জানা যায়, মেয়েটি এক বছরেরও বেশি সময় হাঁটতে পারেনি। উপস্থাপক এখানে বলেন, এটি সত্যিই তাঁর প্রিয় ভিডিও। আরেকজনকে নতুন প্রস্থেটিক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তিনি একে আশীর্বাদ বলেন এবং জানান, আবার হাঁটতে পারা সত্যিই বিশাল আনন্দ। উপস্থাপকের হিসাবে ইকুয়েডরে মোট ৫০ জনকে সাহায্য করা হয়।

পাহাড়ে ওঠার প্রতীকী অর্থ

ডেভিড তাঁর একটি প্রিয় রীতি সবার সঙ্গে ভাগ করেন: নতুন প্রস্থেটিক পাওয়া রোগীদের নিয়ে পাহাড়ে হাইকিং। তাঁর যুক্তি, যদি তাঁরা এই পাহাড়ে উঠতে পারেন, তবে দৈনন্দিন জীবনও সামলাতে পারবেন। তিনি বলেন, রোগীদের সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ দেওয়া দরকার, কারণ প্রতিবন্ধিতা নিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারলে মনে হয় অন্য কিছুও সম্ভব।

উপস্থাপক জানান, পথটি আসলেই বেশ কঠিন ছিল। কিছুদিন আগেও হাঁটতে না পারা একজন মানুষ আক্ষরিক অর্থেই পাহাড়ে হাইক করছেন, এটি তাঁকে বিস্মিত করে। তাঁর মতে, এই অঙ্গহারা মানুষদের অধ্যবসায় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি আগে যা দেখেছেন তার থেকে আলাদা, আর পুরো যাত্রার মূল কথা হলো হার না মানা। তিনি স্বীকার করেন, শুরুতে কেন পাহাড়ে উঠছেন তা পুরোপুরি বোঝেননি, কিন্তু এখন বুঝেছেন। উদ্দেশ্য হলো তাঁদের দেখানো যে এই পাহাড়ে উঠতে পারলে নতুন কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ে যেকোনো কিছু পেরোনো সম্ভব। চূড়ায় পৌঁছে তিনি সবাইকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন।

কেনিয়া: পা আছে, কিন্তু অস্ত্রোপচার দরকার

কেনিয়ায় সমস্যাটি ছিল ভিন্ন। সেখানে এমন অনেক শিশু ছিল যাদের পা আছে, কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করতে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার দরকার। উপস্থাপক জানান, সেই খরচ তাঁরা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, অস্ত্রোপচারের আগে এদের কেউ কেউ সারা জীবন হাঁটতে পারেনি।

একটি শিশু বলে, হাঁটার চেষ্টা করলে সে না বুঝেই পড়ে যেত, সহপাঠীরা তাকে উপহাস করত, তাই মাঝে মাঝে স্কুলে যেতে পারত না। প্রথম পদক্ষেপের পর সে বলে, এখন অন্য মানুষের মতো হাঁটতে পারছে বলে খুব খুশি। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি তাঁরা ক্লিনিকে শিশুদের জন্য একটি নতুন খেলার ঘরও তৈরি করে দেন।

আফ্রিকা থেকে এশিয়া: ২,০০০টি প্রথম পদক্ষেপ

এরপর উপস্থাপক গতি বাড়িয়ে জানান, কেনিয়ার পর তাঁরা আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে হাঁটতে সাহায্য করেছেন। সেখান থেকে যান ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও শ্রীলঙ্কায়। সাহায্যপ্রাপ্তদের কেউ বলেন, তাঁর পরিবার ও আর্থিক অবস্থা সব বদলে যাবে। কেউ একে দ্বিতীয় সুযোগ বলেন, কেউ বলেন আবার বেঁচে থাকার অনুভূতি হচ্ছে। উপস্থাপকের হিসাবে, বিভিন্ন দেশ ঘুরে তাঁরা মোট ২,০০০টি প্রথম পদক্ষেপের সাক্ষী হয়েছেন।

বিয়ের আইলে ট্র্যাভিস

ভিডিওর শুরুতে দেওয়া কথামতো দলটি ট্র্যাভিসের মেয়ের বিয়েতে যায়। উপস্থাপকরা মজা করেন, বেশি অদ্ভুত কোনটা, ২৪ ঘণ্টা আগে পরিচিত মানুষদের বিয়েতে আসা, নাকি নোলানের শার্ট। সবাই বলেন, নোলানের শার্ট।

তারপর সেই মুহূর্ত আসে। নতুন পা নিয়ে ট্র্যাভিস মেয়েকে আইল ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যান। মেয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্নটি পূরণ হয়, আর নবদম্পতিকে "মিস্টার ও মিসেস অ্যান্ডারসন" হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ট্র্যাভিস বলেন, মেয়েকে আইল ধরে হাঁটিয়ে নিতে পারাটা অসাধারণ ছিল। উপস্থাপকের কাছে এই দৃশ্য পুরো ভিডিওতে যাঁদের জীবন ছুঁয়ে গেছে তাঁদের সবার প্রতিফলন।

শেষ কথা: "উত্তর আমি জানি না"

শেষে উপস্থাপক সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন, এই ভিডিওটি তিনি একটু অন্যভাবে শেষ করতে চান। এখানকার কিছু মানুষের বিমা ছিল, কিন্তু দাবি নাকচ হয়েছে। কারও বিমা থাকলেও সঠিক কভারেজ ছিল না। বিষয়টি তাঁর কাছে মোটেই ঠিক মনে হয় না। তাঁর বক্তব্য, এই মানুষদের একমাত্র আশা একটি কৃত্রিম পা, যাতে তাঁরা আবার হাঁটতে পারেন, কাজ পেতে পারেন এবং সমাজের উৎপাদনশীল সদস্য হতে পারেন। অথচ সেটি পাওয়ার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোনো ইউটিউবারের এগিয়ে আসা, যাকে তিনি অযৌক্তিক বলেন।

উপস্থাপক স্বীকার করেন, এর সমাধান কী তা তিনি জানেন না। তবু কথাটি বলতে চেয়েছেন, যাতে ভিডিওটি দেখা প্রায় ১০ কোটি মানুষ অনুপ্রাণিত হন, কারণ এই ভিডিও করতে গিয়ে তিনি যা দেখেছেন তা স্পষ্টতই ঠিক নয়।