মিস্টারবিস্টের ৫০০ মিলিয়ন উদযাপন: ৫০ জন পুরনো ইউটিউব লেজেন্ড, এক মিলিয়ন ডলার আর নস্টালজিয়ার প্রতিযোগিতা

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে জিমি (মিস্টারবিস্ট) পঞ্চাশজন পুরনো ও প্রভাবশালী ইউটিউব ক্রিয়েটরকে একটি বড় কিউব-আকৃতির সেটে একত্র করেন। নিয়ম সহজ: একের পর এক খেলায় প্রতিযোগীরা বাদ পড়বেন, আর শেষ পর্যন্ত যিনি টিকে থাকবেন, তিনি নিজের সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতবেন। জিমির ভাষায়, এই আয়োজন তাঁর চ্যানেলের ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার উদযাপনের অংশ, এবং যাঁদের দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর "একটা ছোট চেষ্টা"। পুরো ভিডিওর খেলাগুলোও সাজানো হয়েছে ইউটিউবের পুরনো ট্রেন্ডকে ঘিরে, যাকে জিমি একটি "নস্টালজিক ট্যুর" বলে উল্লেখ করেন।

14 মিনিটে পড়া

পুনর্মিলনের মতো শুরু

শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের কথায় পুনর্মিলনের অনুভূতি স্পষ্ট। কেউ বলেন, অনেকের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় পর দেখা হচ্ছে। আরেকজন মন্তব্য করেন, এঁরা সবাই যেন দশ-পনেরো বছর আগের স্পীড ও কাই সেনাট। একজন বলেন, সতেরো বছর বয়সে তাঁর কম্পিউটারের সাবস্ক্রিপশন তালিকা খুললে এই কিউবে থাকা ক্রিয়েটরদেরই পাওয়া যেত। আরেকজন মনে করিয়ে দেন, এখনকার দর্শকেরা ফোর্টনাইটের ভিডিও দেখেন, কিন্তু তাঁদের সময়ে সবাই কল অফ ডিউটির ভিডিও দেখতেন।

এই পর্বে জিমির কয়েকটি ব্যক্তিগত মুহূর্তও আছে। ছোট ইউটিউবার থাকার সময় তিনি ফেজ (FaZe) দলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে নেওয়া হয়নি। ফেজের এক সদস্য হেসে স্বীকার করেন যে তখন তাঁরা বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। আরেক ক্রিয়েটরকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর চ্যানেল একসময় ইউটিউবের পঞ্চম সর্বাধিক সাবস্ক্রাইবড চ্যানেল ছিল। তিনি নিজেই বলেন, এই বাক্সে থাকা সবার মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন সম্ভবত তাঁরই হয়েছে।

ভিডিওতে ফ্রেডকে পরিচয় করানো হয় ইউটিউবে প্রথম এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পার করা চ্যানেল হিসেবে। চ্যাডকে পরিচয় করানো হয় ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবে, এবং জিমি বলেন, এর চেয়ে বেশি লেজেন্ডারি কিছু হতে পারে না। জিমির নিজের অবস্থান স্পষ্ট: তিনি শুধু মঞ্চটা বানিয়েছেন, প্রতিভা নিয়ে এসেছেন এই ক্রিয়েটররা। এঁরা না থাকলে তিনি আজ এখানে থাকতেন না। চ্যাডকে তিনি বলেন, ইউটিউব তৈরি না হলে তিনি হয়তো কোনো ওয়ালমার্টে কাজ করতেন।

প্রথম খেলা: কেকের ল্যাম্বরগিনি

প্রথম খেলায় প্রতিযোগীদের সামনে পাঁচটি ল্যাম্বরগিনি রাখা হয়, যার একটি আসলে কেক দিয়ে তৈরি। পরের রাউন্ডে যেতে হলে আসল একটি গাড়ির পাশে দাঁড়াতে হবে। কেকের গাড়ি বাছলে বাদ। জিমি নিয়ম শেষ করার আগেই প্রতিযোগীরা জায়গা দখল করতে ছুটে যান।

এরপর শুরু হয় অনুমানের পালা। কেউ বলেন পাঁচ নম্বরটা কেক, কেউ তিন, কেউ চার, কেউ দুই। একজন জানান, তাঁর নিজের একটা লাল ল্যাম্বো আছে, তবুও তিনি বুঝতে পারছেন না। আরেকজন বলেন, তিনি গাড়ি চেনেন না কিন্তু কেক চেনেন, আর দুই নম্বরটা দেখতে বেশ সুস্বাদু লাগছে। কেউ যুক্তি দেন, চার নম্বরের জানালা বাকিগুলোর মতো চকচকে নয় এবং আলো ঠিকমতো প্রতিফলিত করছে না। আরেকজনের মনে হয়, দুই নম্বরের প্রতিফলনে কিছু গড়মিল আছে।

এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে কৌশলে। করিডোর ডিজিটালের সদস্যরা ভালো করে দেখার জন্য নিজেদের জায়গা ছেড়ে গেলে একজন সেই সুযোগে তাঁদের জায়গা দখল করে নেন। তা দেখে রোমান অ্যাটউড ও ডিউড পারফেক্টও একইভাবে জায়গা নেন, পরে ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোও একটি স্পট "চুরি" করেন। শেষে দেখা যায় পাঁচ নম্বরটা কেক নয়, চার নম্বরটাই কেক। চার নম্বরে দাঁড়ানো প্রতিযোগীরা বাদ পড়েন। একজন বলেন, তাঁরা জানতেন ওটা ভুল, তবুও সেখানে আটকে গিয়েছিলেন। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর জায়গা বদলের সিদ্ধান্ত পরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ শেষে তিনি নিজেই বলেন যে প্রথম রাউন্ডেই প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিলেন।

দ্বিতীয় খেলা: ওয়াটার বোতল ফ্লিপ

টিকে থাকা প্রতিযোগীদের দলে ভাগ করা হয়। জিমি জিজ্ঞেস করেন, কোন ট্রেন্ড ইউটিউবকে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করেছিল। প্রতিযোগীরা স্লাইম, আইস বাকেট, সিনামন চ্যালেঞ্জের নাম বলেন। জিমি বেছে নেন ওয়াটার বোতল ফ্লিপ, এবং বলেন কোনো "ওজি" ইউটিউব ভিডিও এটা ছাড়া অসম্পূর্ণ।

নিয়ম হলো, দলের সদস্যরা একে একে এসে বোতল ফ্লিপ করবেন যতক্ষণ না সেটা ঠিকমতো দাঁড়ায়। যে তিনটি দলের দশজন খেলোয়াড়ই প্রথমে সফল হবে, তারা এগোবে, শেষ দল বাদ পড়বে। ডিউড পারফেক্টের ওয়াটার বোতল ফ্লিপ ট্রিক শট ভিডিওর এক বিলিয়নের বেশি ভিউ আছে বলে জানানো হয়। দলকে তাঁরা পরামর্শ দেন, সবচেয়ে বড় ভুল হবে বোতল কম ঘোরানো।

খেলার সময় জিমি নানা ক্রিয়েটরের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলেন। কেসিকে তিনি বলেন, তাঁর ভ্লগ দেখে তিনি বড় হয়েছেন এবং কেসি তাঁর ছেলেবেলার হিরো। কেসি অভিযোগ করেন, জিমি তাঁকে মনোযোগ হারাতে বাধ্য করছেন। এপিক র‍্যাপ ব্যাটেলসের লয়েডকে জিমি বলেন, মিডল স্কুলে তিনি তাঁর ট্র্যাকের সঙ্গে গান করতেন। ভ্যানোস গেমিংয়ের ইভান ফং এখন মিউজিক বানান বলে জানানো হয়, আর তাঁর একটি গান চালানো হয়।

অরেঞ্জ দল প্রথমে এগিয়ে যায়। এরপর গ্রিন ও পিঙ্ক দলের মধ্যে টানটান লড়াই চলে। একজন সংবাদ উপস্থাপক প্রতিযোগীকে জিজ্ঞেস করা হয়, এটা খবর পড়ার চেয়েও বেশি চাপের কি না; তিনি হ্যাঁ বলেন। শেষ পর্যন্ত ব্লু দল বাদ পড়ে। এর মধ্যে ছিলেন কেসি, ভ্যানোসের দল, ফুসি এবং স্মাইল মোর দল। বাদ পড়া একজন অভিযোগ করেন, তিনি একবারও ফ্লিপ করার সুযোগ পাননি। জিমি বারবার বলেন, তিনি এঁদের ভিডিও দেখে বড় হয়েছেন, তাই এভাবে তাঁদের হারতে দেখতে ভালো লাগছে না।

তৃতীয় খেলা: হারলেম শেক ও মানুষ-ম্যানিকুইন

এরপর পর্দার আড়ালে বিশাল সেটআপ তৈরি করা হয়। অপেক্ষার সময় প্রতিযোগীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কেউ বলেন, এটা যেন অদ্ভুত এক হাই স্কুল রিইউনিয়ন। একজন মনে করিয়ে দেন, একসময় পাঁচ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হওয়াই বিশাল ব্যাপার ছিল, আর জিমি এখন ৫০০ মিলিয়নে। জিমি বলেন, পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো লাগছে।

পর্দা সরলে দেখা যায় শত শত ম্যানিকুইন। এর মধ্যে পাঁচটি আসলে মানুষ। জিমি "হারলেম শেক" গানটি চালাবেন, আর বিট ড্রপ হলে ওই পাঁচজন সামান্য নড়বেন। যে প্রথম পনেরোজন সঠিক নম্বরগুলো জমা দেবেন, তাঁরা এগোবেন, বাকি পনেরোজন বাদ। কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জিমি জানান, তাঁরা অধিকার নিয়েছেন।

এই খেলায় দেখা যায় প্রতিযোগীরা একা কাজ করছেন না। তাঁরা দল বানিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েন এবং ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে সব ম্যানিকুইনের ওপর নজর রাখেন, যাতে একই জায়গা দুবার দেখতে না হয়। ফলে প্রথম দলের সব উত্তর দ্রুত চলে আসে। কিন্তু উত্তর নকল করার চেষ্টা শুধু সহযোগীরাই করেননি। কয়েকজন স্বীকার করেন, তাঁরা ওই দলে ছিলেন না, অন্যদের "৪২" লিখতে দেখে নিজেরাও লিখে দিয়েছেন। জেলিও একই কাজ করেন বলে জানানো হয়।

এই রাউন্ডে অনেক বড় নাম বাদ পড়েন। জিমি আক্ষেপ করেন, ইতিহাসের সেরা ট্রিক-শটার, সর্বকালের সেরা ভ্লগার, স্মাইল মোর দল, ফেজ ক্ল্যান, ক্লাউন গ্যাং—তাঁর ছেলেবেলার ক্রিয়েটররা একে একে চলে যাচ্ছেন। এক বাদ পড়া প্রতিযোগীকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা কামব্যাক করবেন নাকি আবার পাঁচ বছরের জন্য উধাও হবেন। জবাবে তিনি বলেন, "আমি আউট।" কেসির বিদায়ে জিমি নাটকীয়ভাবে বলেন, "তুমি কাঁদছ না, আমি কাঁদছি।" এর মধ্যে একজন আগেই বাদ পড়া প্রতিযোগী লুকিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেন, কিন্তু ধরা পড়ে যান।

চতুর্থ খেলা: হ্যান্ডকাফ বাঁধা "ফ্লোর ইজ লাভা"

শীর্ষ পনেরোজনের মধ্যে আরও নয়জনকে বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন জিমি। খেলাটি "ফ্লোর ইজ লাভা", কিন্তু টুইস্ট হলো তিনজন করে দল বানিয়ে হ্যান্ডকাফ বাঁধতে হবে, এবং দল বাছাইয়ের দায়িত্ব প্রতিযোগীদের নিজেদের। প্রতিটি দল দুটি করে বৃত্তাকার প্যাড পাবে। একটিতে দাঁড়িয়ে অন্যটি সামনে রেখে পার হতে হবে। দলের একজনও লাভা ছুঁলে পুরো দল বাদ। প্রথম দুটি দল যারা পার হবে, তারাই টিকবে।

যিনি আগে "ফ্লোর ইজ লাভা" ভিডিও বানিয়েছিলেন, তিনি জানান সেটা প্রায় ছয়-সাত বছর আগের কথা। অনুশীলনের সময় কেউ একজন পড়েও গিয়েছিলেন, তাই সবার মাথায় হেলমেট।

দলগুলো আলাদা কৌশল নেয়। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর দল সবাই মিলে একটি বৃত্তে দাঁড়িয়ে অন্যটি সামনে ঠেলে এগোয়। আলী-এ তাঁর সতীর্থকে পিঠে তুলে নেন। লিনাস ও মার্কেসের দল এবং জ্যাক্সফিল্মসের দল পিছিয়ে পড়ে। জিমি সতর্ক করেন, তাড়াহুড়োর ভুলে যেন অন্য কেউ জিতে না যায়। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর দল প্রথম পৌঁছায়।

দ্বিতীয় স্থানের লড়াই হয় জেলি ও আরেকটি দলের মধ্যে, যাতে আলী-এ ও চ্যাড ছিলেন। কে আগে পৌঁছেছে বোঝা না যাওয়ায় ফুটেজ রিভিউ করা হয়। আইপ্যাডে দেখা যায়, আলী-এ পার হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু চ্যাড ভুল করে লাভা ছুঁয়ে ফেলেছেন। ফলে ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিজেই খেলা থেকে বাদ পড়েন, আর জেলির দল এগোয়। বিদায়ের আগে জিমি চ্যাডকে এত সুন্দর প্ল্যাটফর্ম বানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, ইউটিউব এখানে থাকা প্রত্যেকের জীবন বদলানোর সুযোগ দিয়েছে এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করেছে।

এরপর জিমি বাদ পড়া প্রতিযোগীদের লাউঞ্জে গিয়ে ঘোষণা দেন, ফাইনাল চ্যালেঞ্জে বিজয়ী নির্ধারণে তাঁদেরও বড় ভূমিকা থাকবে।

পঞ্চম খেলা: সাইডমেনের বেছে দেওয়া ঝাল চিপস

শেষ ছয়জনের জন্য পরের চ্যালেঞ্জ বেছে দেয় সাইডমেন দল, একটি ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে। জিমি জানান, ক্লিপটি পাঠানোর সময় কেএসআই সাইডমেনে ছিলেন। তিনি জানেন কেএসআই সম্প্রতি দল ছেড়েছেন, কী করবেন বুঝতে না পেরে বিষয়টি উপেক্ষা করে ক্লিপটিই ব্যবহার করছেন। চ্যালেঞ্জটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল চিপস, যার রেটিং স্কোভিল স্কেলে দুই মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী দুজন পোডিয়ামের দুই পাশে দাঁড়াবেন। একজন গোপনে ঝাল চিপস বা সাধারণ চিপস খাবেন। অন্যজন মুখের প্রতিক্রিয়া দেখে অনুমান করবেন কোনটা খাওয়া হয়েছে। সঠিক অনুমান হলে অনুমানকারী জিতবেন, ভুল হলে খাদক জিতবেন। কে কোন ভূমিকা নেবেন, তা ঠিক হয় যাঁর চ্যানেলে সবচেয়ে পুরনো পাবলিক আপলোড আছে, তাঁর পছন্দ অনুযায়ী।

প্রথমে মে চিপস খাওয়ার ভূমিকা নেন এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে আলী-একে বাছেন, কারণ তিনি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মে বড় একটা কামড় দেন। আলী-এ বলেন, মুখ দেখে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তবে মে অতিরিক্ত চেষ্টা করছেন মুখ স্বাভাবিক রাখতে। তাই তিনি যুক্তি দিয়ে ভেবে বলেন, সাধারণ চিপস। উত্তর সঠিক হওয়ায় আলী-এ এগোন, মে বাদ পড়েন।

পরের পর্বে কিউট গার্লস হেয়ারস্টাইলসের মিন্ডি নিজে না খেয়ে অনুমানের ভূমিকা নেন। জিমি তাঁকে পরিচয় করান এমন একজন হিসেবে, যাঁর ভিডিও দেখে একটা পুরো প্রজন্মের মেয়েরা চুল বাঁধা শিখেছে। মিন্ডি জেলিকে বাছেন। জেলি একবারে পুরো চিপস মুখে দেন এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না। মুখে ঘাম নেই, চোখে পানি নেই। মিন্ডি "নট স্পাইসি" বলেন, কিন্তু জেলি আসলে ঝাল চিপসই খেয়েছিলেন। জেলি পরে স্বীকার করেন এটা মারাত্মক ঝাল ছিল এবং দুধ চান। জিমি তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেন, আর জেলি এগিয়ে যান।

শেষ জায়গার লড়াইয়ে জাস্টিনের সবচেয়ে পুরনো ভিডিও ২০১০ সালের, ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোরটা জিমির ভাষায় ২০১৭ সালের, তাই জাস্টিন আগে বাছার সুযোগ পান। জেলির অবস্থা দেখে তিনি নিজে না খেয়ে ফিলকে খেতে দেন। ফিল সরাসরি চিপস মুখে পুরে দেন। জিমি এই সুযোগে ফিলকে ফিস্টেবলস চকোলেট মিল্ক অফার করেন। ফিল জিজ্ঞেস করেন, জিমি কি নিজের পণ্যের প্রচার করছেন নাকি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করছেন; জিমি বলেন, দুটোই। জাস্টিন লক্ষ করেন, ফিলের চোখ চকচক করছে কিন্তু ঘাম হচ্ছে না। শেষে মনের কথা শুনে বলেন, ফিল সাধারণ চিপস খেয়েছেন। আসলে ফিল ঝাল চিপসই খেয়েছিলেন। তিনি জানান, তিনি "হট ওয়ানস" শোতে গিয়েছিলেন, তাই এটা তাঁর কাছে সহজ, এবং তিনি ঝাল খেতে ভালোবাসেন। দুধও নেননি।

ফাইনালিস্টদের পরিকল্পনা

ফাইনালে ওঠেন আলী-এ, জেলি ও ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। জিতলে টাকা কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে তাঁরা পরিকল্পনা জানান। একজন বলেন, নিজের কমিউনিটির পিছিয়ে থাকা মানুষদের গেমিং সরঞ্জাম ও কনসোল উপহার দিতে চান। আরেকজন বলেন, ২০ হাজার ডলার করে মোট ৫০ জনের মধ্যে টাকা ভাগ করবেন; পরে বিজয়ী হিসেবে ফিলিপ এই পরিকল্পনারই পুনরাবৃত্তি করেন। তৃতীয়জন বলেন, এই ভিডিওর পুরো সেটআপ একটি ভিডিও গেমের ভেতর তৈরি করে কমিউনিটিকে খেলতে দেবেন এবং প্রতিবার প্রায় ৫০ হাজার ডলার করে উপহার দেবেন।

ফাইনাল: মাইনক্রাফট বাড়ি বানানোর লড়াই

শেষ খেলা হিসেবে জিমি বেছে নেন মাইনক্রাফট, যাকে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম বলেন এবং জানান এই চ্যানেলে তাঁর প্রথম ভিডিওও এটি নিয়েই ছিল। তাঁর মতে, আজকের ইউটিউব তৈরিতে এই গেমের বড় ভূমিকা আছে। ফাইনালিস্টদের মধ্যে দুজন জানান, তাঁরা প্রায় দুই হাজার করে মাইনক্রাফট ভিডিও বানিয়েছেন। ফিলিপ জানান, তাঁর সংখ্যা শূন্য।

ফাইনালিস্টরা বাস্তব জগতে মাইনক্রাফট-ধাঁচের ব্লক দিয়ে বাড়ি বানানোর অসীম উপকরণ পান, সময় এক ঘণ্টা। এরপর বাদ পড়া সব ইউটিউবার ফিরে এসে ভোট দেবেন। সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া জন সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতবেন।

জেলি ট্রি-হাউস বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর যুক্তি, সাধারণ বাড়ি বানালে নজর কাড়া কঠিন। জিমি আইডিয়াটার প্রশংসা করেন। আধা সময় পেরোনোর পর জিমির মূল্যায়নে আলী-এ প্রায় শেষের দিকে, ফিলেরটা দুর্গের মতো লাগছে, আর জেলিরটা বড়জোর একটা গাছ হয়েছে। জেলি নিজেও স্বীকার করেন, তিনি কী বানাচ্ছেন তা নিশ্চিত নন। ফিল জানান, তিনি গোলাপের ঝাড় বানাতে চান, কারণ তাঁর ছেলে বাগান করতে ভালোবাসে। তিনি আরও বলেন, ব্লক জোড়া লাগাতে এত সময় লাগবে তা ভাবতেই পারেননি। ফিলের মতে, কাজ অসম্পূর্ণ রাখার চেয়ে মোটামুটি কিছু শেষ করা অনেক ভালো। আলী-এর পর্যবেক্ষণ, তাঁর আর ফিলের বাড়ির স্টাইল কাছাকাছি, জেলিরটা একদম আলাদা, বাকিটা ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার।

এই সময় ইউটিউবের সিইও নিল জিমির জন্য ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার উদযাপনের একটি বিশেষ সারপ্রাইজ নিয়ে আসেন। জিমি বলেন, এর রঙও থিমের সঙ্গে মিলে গেছে, এবং দর্শকদের ধন্যবাদ জানান।

ভোট: স্থাপত্য বনাম আবেগ

প্রথম ভোট দেন ক্যাপ্টেন স্পার্কলস, যাঁকে জিমি মাইনক্রাফটের সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় করান। তিনি জানান, মাইনক্রাফটে প্রায় এক বছরের সমান সময় কাটিয়েছেন। ফাইনালিস্টরা নিজেদের বাড়ি ব্যাখ্যা করেন। জেলি দেখান, তাঁর ট্রি-হাউসে শেয়াল বা কাঠবিড়ালির মতো প্রাণীর ওঠার জন্য পাশে মই ও প্রবেশপথ আছে। আলী-এর বাড়ির দুই পাশে গাছ, দরজা লক করা যায় যাতে রাতে জম্বি ঢুকতে না পারে, আর সকালে আবার খোলা যায়। ফিলিপ জানান, তিনি বড়জোর ৪০ ঘণ্টা মাইনক্রাফট খেলেছেন। তাঁর ছেলে এ নিয়ে তাঁকে খ্যাপায়, একবার ভুল কাঠ দেওয়ায় চেঁচিয়েও ছিল। তাই পুরো বাড়িটাই ছেলের জন্য বানানো, এবং তাঁর ভাষায়, একভাবে এটাই তাঁদের একসঙ্গে বানানো প্রথম বাড়ি। ক্যাপ্টেন স্পার্কলস আলী-এর বাড়ির কাঠামোকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে তাঁকে ভোট দেন।

এরপর ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। অনেকে আলী-এর নিখুঁত মাইনক্রাফট স্থাপত্য পছন্দ করেন। অন্যদিকে অনেকে ফিলের ছেলের প্রতি আবেগে নাড়া খান; একজন বলেন, তিনি আবেগের সঙ্গেই যাবেন। একজন ভোটার জানান, ফিলের বাড়ির বেগুনি ফুল দেখে তাঁর সম্প্রতি মারা যাওয়া বিড়াল নায়লার কথা মনে পড়েছে, তাই ভোট ফিলকে। আরেকজন সমালোচনার সুরে বলেন, তিনি এক বাড়িতে গাছে জ্বলন্ত মশাল দেখছেন যা যেকোনো সময় পুড়ে ছাই হতে পারে, আরেক বাড়িতে আলো নেই বলে জম্বি এসে সবাইকে মেরে ফেলবে, আর একটি বাড়ি পুরোপুরি কাজের; তিনি ফিলের বাড়ি বেছে নেন। একজন বলেন, ফিলের বাড়ি সবচেয়ে বড় বলে সিদ্ধান্ত সহজ ছিল।

জেলির পক্ষে ভোটের সংখ্যা নিয়ে ভিডিওতে কিছুটা অসঙ্গতি আছে। মাঝপথে বলা হয়, ৩১টি ভোটের মধ্যে জেলি পেয়েছেন একটি। কিন্তু ফল ঘোষণার সময় জিমি বলেন, জেলি কোনো ভোটই পাননি। জেলি জানান, তিনি ভেবেছিলেন সবার থেকে আলাদা কিছু বানালে নজরে আসা যাবে, কিন্তু পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, ফিল আর আলীর লড়াই প্রায় সমানে সমান ছিল, এবং জিমি নিজেও আন্দাজ করতে পারছিলেন না কে জিতছে।

ফল: ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর জয়

শেষ পর্যন্ত বিজয়ী ঘোষিত হন ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। প্রথম রাউন্ডেই জায়গা বদলে কোনোমতে টিকে যাওয়া প্রতিযোগীই সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জেতেন। তিনি বলেন, প্রথম রাউন্ডেই প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিলেন। টাকা কীভাবে দেবেন জানতে চাইলে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০ হাজার ডলার করে মোট ৫০ জনকে দেওয়া হবে।

শেষ কথা: শূন্য সাবস্ক্রাইবারের ঘর থেকে

ভিডিওর শেষে জিমি নিজের ছেলেবেলার ঘর থেকে কথা বলেন। তিনি জানান, আজ তাঁর ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার, কিন্তু এই ঘরেই একসময় তাঁর সাবস্ক্রাইবার ছিল শূন্য, আর এখানেই তিনি চ্যানেল শুরু করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, এই ভিডিও বানানোর মূল কারণ সেই "ওজি" ইউটিউবারদের সম্মান জানানো, যাঁদের ভিডিও তিনি ছোটবেলায় এই ঘরে বসে রোজ দেখতেন। তিনি পঞ্চাশজন ক্রিয়েটরকেই আবার ধন্যবাদ দেন।

দর্শকদেরও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর বক্তব্য, দর্শকরা ভিডিও না দেখলে তিনি বিশ্বজুড়ে কুয়ো বানাতে বা দুস্থদের খাবার দিতে পারতেন না। তিনি বলেন, মাত্র দশজন দর্শক থাকলেও তিনি ইউটিউবে কাজ চালিয়ে যেতেন, কারণ এই কাজকে তিনি দর্শকদের কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, আর এত দর্শক পাওয়া তাঁর কাছে এক পরম আশীর্বাদ। শেষে তিনি বলেন, দর্শকদের এই ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না।