মিস্টারবিস্টের ৫০০ মিলিয়ন উদযাপন: ৫০ জন পুরনো ইউটিউব লেজেন্ড, এক মিলিয়ন ডলার আর নস্টালজিয়ার প্রতিযোগিতা
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওতে জিমি (মিস্টারবিস্ট) পঞ্চাশজন পুরনো ও প্রভাবশালী ইউটিউব ক্রিয়েটরকে একটি বড় কিউব-আকৃতির সেটে একত্র করেন। নিয়ম সহজ: একের পর এক খেলায় প্রতিযোগীরা বাদ পড়বেন, আর শেষ পর্যন্ত যিনি টিকে থাকবেন, তিনি নিজের সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতবেন। জিমির ভাষায়, এই আয়োজন তাঁর চ্যানেলের ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার উদযাপনের অংশ, এবং যাঁদের দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর "একটা ছোট চেষ্টা"। পুরো ভিডিওর খেলাগুলোও সাজানো হয়েছে ইউটিউবের পুরনো ট্রেন্ডকে ঘিরে, যাকে জিমি একটি "নস্টালজিক ট্যুর" বলে উল্লেখ করেন।
পুনর্মিলনের মতো শুরু
শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের কথায় পুনর্মিলনের অনুভূতি স্পষ্ট। কেউ বলেন, অনেকের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় পর দেখা হচ্ছে। আরেকজন মন্তব্য করেন, এঁরা সবাই যেন দশ-পনেরো বছর আগের স্পীড ও কাই সেনাট। একজন বলেন, সতেরো বছর বয়সে তাঁর কম্পিউটারের সাবস্ক্রিপশন তালিকা খুললে এই কিউবে থাকা ক্রিয়েটরদেরই পাওয়া যেত। আরেকজন মনে করিয়ে দেন, এখনকার দর্শকেরা ফোর্টনাইটের ভিডিও দেখেন, কিন্তু তাঁদের সময়ে সবাই কল অফ ডিউটির ভিডিও দেখতেন।
এই পর্বে জিমির কয়েকটি ব্যক্তিগত মুহূর্তও আছে। ছোট ইউটিউবার থাকার সময় তিনি ফেজ (FaZe) দলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে নেওয়া হয়নি। ফেজের এক সদস্য হেসে স্বীকার করেন যে তখন তাঁরা বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। আরেক ক্রিয়েটরকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর চ্যানেল একসময় ইউটিউবের পঞ্চম সর্বাধিক সাবস্ক্রাইবড চ্যানেল ছিল। তিনি নিজেই বলেন, এই বাক্সে থাকা সবার মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন সম্ভবত তাঁরই হয়েছে।
ভিডিওতে ফ্রেডকে পরিচয় করানো হয় ইউটিউবে প্রথম এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পার করা চ্যানেল হিসেবে। চ্যাডকে পরিচয় করানো হয় ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবে, এবং জিমি বলেন, এর চেয়ে বেশি লেজেন্ডারি কিছু হতে পারে না। জিমির নিজের অবস্থান স্পষ্ট: তিনি শুধু মঞ্চটা বানিয়েছেন, প্রতিভা নিয়ে এসেছেন এই ক্রিয়েটররা। এঁরা না থাকলে তিনি আজ এখানে থাকতেন না। চ্যাডকে তিনি বলেন, ইউটিউব তৈরি না হলে তিনি হয়তো কোনো ওয়ালমার্টে কাজ করতেন।
প্রথম খেলা: কেকের ল্যাম্বরগিনি
প্রথম খেলায় প্রতিযোগীদের সামনে পাঁচটি ল্যাম্বরগিনি রাখা হয়, যার একটি আসলে কেক দিয়ে তৈরি। পরের রাউন্ডে যেতে হলে আসল একটি গাড়ির পাশে দাঁড়াতে হবে। কেকের গাড়ি বাছলে বাদ। জিমি নিয়ম শেষ করার আগেই প্রতিযোগীরা জায়গা দখল করতে ছুটে যান।
এরপর শুরু হয় অনুমানের পালা। কেউ বলেন পাঁচ নম্বরটা কেক, কেউ তিন, কেউ চার, কেউ দুই। একজন জানান, তাঁর নিজের একটা লাল ল্যাম্বো আছে, তবুও তিনি বুঝতে পারছেন না। আরেকজন বলেন, তিনি গাড়ি চেনেন না কিন্তু কেক চেনেন, আর দুই নম্বরটা দেখতে বেশ সুস্বাদু লাগছে। কেউ যুক্তি দেন, চার নম্বরের জানালা বাকিগুলোর মতো চকচকে নয় এবং আলো ঠিকমতো প্রতিফলিত করছে না। আরেকজনের মনে হয়, দুই নম্বরের প্রতিফলনে কিছু গড়মিল আছে।
এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে কৌশলে। করিডোর ডিজিটালের সদস্যরা ভালো করে দেখার জন্য নিজেদের জায়গা ছেড়ে গেলে একজন সেই সুযোগে তাঁদের জায়গা দখল করে নেন। তা দেখে রোমান অ্যাটউড ও ডিউড পারফেক্টও একইভাবে জায়গা নেন, পরে ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোও একটি স্পট "চুরি" করেন। শেষে দেখা যায় পাঁচ নম্বরটা কেক নয়, চার নম্বরটাই কেক। চার নম্বরে দাঁড়ানো প্রতিযোগীরা বাদ পড়েন। একজন বলেন, তাঁরা জানতেন ওটা ভুল, তবুও সেখানে আটকে গিয়েছিলেন। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর জায়গা বদলের সিদ্ধান্ত পরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ শেষে তিনি নিজেই বলেন যে প্রথম রাউন্ডেই প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিলেন।
দ্বিতীয় খেলা: ওয়াটার বোতল ফ্লিপ
টিকে থাকা প্রতিযোগীদের দলে ভাগ করা হয়। জিমি জিজ্ঞেস করেন, কোন ট্রেন্ড ইউটিউবকে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করেছিল। প্রতিযোগীরা স্লাইম, আইস বাকেট, সিনামন চ্যালেঞ্জের নাম বলেন। জিমি বেছে নেন ওয়াটার বোতল ফ্লিপ, এবং বলেন কোনো "ওজি" ইউটিউব ভিডিও এটা ছাড়া অসম্পূর্ণ।
নিয়ম হলো, দলের সদস্যরা একে একে এসে বোতল ফ্লিপ করবেন যতক্ষণ না সেটা ঠিকমতো দাঁড়ায়। যে তিনটি দলের দশজন খেলোয়াড়ই প্রথমে সফল হবে, তারা এগোবে, শেষ দল বাদ পড়বে। ডিউড পারফেক্টের ওয়াটার বোতল ফ্লিপ ট্রিক শট ভিডিওর এক বিলিয়নের বেশি ভিউ আছে বলে জানানো হয়। দলকে তাঁরা পরামর্শ দেন, সবচেয়ে বড় ভুল হবে বোতল কম ঘোরানো।
খেলার সময় জিমি নানা ক্রিয়েটরের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলেন। কেসিকে তিনি বলেন, তাঁর ভ্লগ দেখে তিনি বড় হয়েছেন এবং কেসি তাঁর ছেলেবেলার হিরো। কেসি অভিযোগ করেন, জিমি তাঁকে মনোযোগ হারাতে বাধ্য করছেন। এপিক র্যাপ ব্যাটেলসের লয়েডকে জিমি বলেন, মিডল স্কুলে তিনি তাঁর ট্র্যাকের সঙ্গে গান করতেন। ভ্যানোস গেমিংয়ের ইভান ফং এখন মিউজিক বানান বলে জানানো হয়, আর তাঁর একটি গান চালানো হয়।
অরেঞ্জ দল প্রথমে এগিয়ে যায়। এরপর গ্রিন ও পিঙ্ক দলের মধ্যে টানটান লড়াই চলে। একজন সংবাদ উপস্থাপক প্রতিযোগীকে জিজ্ঞেস করা হয়, এটা খবর পড়ার চেয়েও বেশি চাপের কি না; তিনি হ্যাঁ বলেন। শেষ পর্যন্ত ব্লু দল বাদ পড়ে। এর মধ্যে ছিলেন কেসি, ভ্যানোসের দল, ফুসি এবং স্মাইল মোর দল। বাদ পড়া একজন অভিযোগ করেন, তিনি একবারও ফ্লিপ করার সুযোগ পাননি। জিমি বারবার বলেন, তিনি এঁদের ভিডিও দেখে বড় হয়েছেন, তাই এভাবে তাঁদের হারতে দেখতে ভালো লাগছে না।
তৃতীয় খেলা: হারলেম শেক ও মানুষ-ম্যানিকুইন
এরপর পর্দার আড়ালে বিশাল সেটআপ তৈরি করা হয়। অপেক্ষার সময় প্রতিযোগীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কেউ বলেন, এটা যেন অদ্ভুত এক হাই স্কুল রিইউনিয়ন। একজন মনে করিয়ে দেন, একসময় পাঁচ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হওয়াই বিশাল ব্যাপার ছিল, আর জিমি এখন ৫০০ মিলিয়নে। জিমি বলেন, পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো লাগছে।
পর্দা সরলে দেখা যায় শত শত ম্যানিকুইন। এর মধ্যে পাঁচটি আসলে মানুষ। জিমি "হারলেম শেক" গানটি চালাবেন, আর বিট ড্রপ হলে ওই পাঁচজন সামান্য নড়বেন। যে প্রথম পনেরোজন সঠিক নম্বরগুলো জমা দেবেন, তাঁরা এগোবেন, বাকি পনেরোজন বাদ। কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জিমি জানান, তাঁরা অধিকার নিয়েছেন।
এই খেলায় দেখা যায় প্রতিযোগীরা একা কাজ করছেন না। তাঁরা দল বানিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েন এবং ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে সব ম্যানিকুইনের ওপর নজর রাখেন, যাতে একই জায়গা দুবার দেখতে না হয়। ফলে প্রথম দলের সব উত্তর দ্রুত চলে আসে। কিন্তু উত্তর নকল করার চেষ্টা শুধু সহযোগীরাই করেননি। কয়েকজন স্বীকার করেন, তাঁরা ওই দলে ছিলেন না, অন্যদের "৪২" লিখতে দেখে নিজেরাও লিখে দিয়েছেন। জেলিও একই কাজ করেন বলে জানানো হয়।
এই রাউন্ডে অনেক বড় নাম বাদ পড়েন। জিমি আক্ষেপ করেন, ইতিহাসের সেরা ট্রিক-শটার, সর্বকালের সেরা ভ্লগার, স্মাইল মোর দল, ফেজ ক্ল্যান, ক্লাউন গ্যাং—তাঁর ছেলেবেলার ক্রিয়েটররা একে একে চলে যাচ্ছেন। এক বাদ পড়া প্রতিযোগীকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা কামব্যাক করবেন নাকি আবার পাঁচ বছরের জন্য উধাও হবেন। জবাবে তিনি বলেন, "আমি আউট।" কেসির বিদায়ে জিমি নাটকীয়ভাবে বলেন, "তুমি কাঁদছ না, আমি কাঁদছি।" এর মধ্যে একজন আগেই বাদ পড়া প্রতিযোগী লুকিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেন, কিন্তু ধরা পড়ে যান।
চতুর্থ খেলা: হ্যান্ডকাফ বাঁধা "ফ্লোর ইজ লাভা"
শীর্ষ পনেরোজনের মধ্যে আরও নয়জনকে বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন জিমি। খেলাটি "ফ্লোর ইজ লাভা", কিন্তু টুইস্ট হলো তিনজন করে দল বানিয়ে হ্যান্ডকাফ বাঁধতে হবে, এবং দল বাছাইয়ের দায়িত্ব প্রতিযোগীদের নিজেদের। প্রতিটি দল দুটি করে বৃত্তাকার প্যাড পাবে। একটিতে দাঁড়িয়ে অন্যটি সামনে রেখে পার হতে হবে। দলের একজনও লাভা ছুঁলে পুরো দল বাদ। প্রথম দুটি দল যারা পার হবে, তারাই টিকবে।
যিনি আগে "ফ্লোর ইজ লাভা" ভিডিও বানিয়েছিলেন, তিনি জানান সেটা প্রায় ছয়-সাত বছর আগের কথা। অনুশীলনের সময় কেউ একজন পড়েও গিয়েছিলেন, তাই সবার মাথায় হেলমেট।
দলগুলো আলাদা কৌশল নেয়। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর দল সবাই মিলে একটি বৃত্তে দাঁড়িয়ে অন্যটি সামনে ঠেলে এগোয়। আলী-এ তাঁর সতীর্থকে পিঠে তুলে নেন। লিনাস ও মার্কেসের দল এবং জ্যাক্সফিল্মসের দল পিছিয়ে পড়ে। জিমি সতর্ক করেন, তাড়াহুড়োর ভুলে যেন অন্য কেউ জিতে না যায়। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর দল প্রথম পৌঁছায়।
দ্বিতীয় স্থানের লড়াই হয় জেলি ও আরেকটি দলের মধ্যে, যাতে আলী-এ ও চ্যাড ছিলেন। কে আগে পৌঁছেছে বোঝা না যাওয়ায় ফুটেজ রিভিউ করা হয়। আইপ্যাডে দেখা যায়, আলী-এ পার হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু চ্যাড ভুল করে লাভা ছুঁয়ে ফেলেছেন। ফলে ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিজেই খেলা থেকে বাদ পড়েন, আর জেলির দল এগোয়। বিদায়ের আগে জিমি চ্যাডকে এত সুন্দর প্ল্যাটফর্ম বানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, ইউটিউব এখানে থাকা প্রত্যেকের জীবন বদলানোর সুযোগ দিয়েছে এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করেছে।
এরপর জিমি বাদ পড়া প্রতিযোগীদের লাউঞ্জে গিয়ে ঘোষণা দেন, ফাইনাল চ্যালেঞ্জে বিজয়ী নির্ধারণে তাঁদেরও বড় ভূমিকা থাকবে।
পঞ্চম খেলা: সাইডমেনের বেছে দেওয়া ঝাল চিপস
শেষ ছয়জনের জন্য পরের চ্যালেঞ্জ বেছে দেয় সাইডমেন দল, একটি ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে। জিমি জানান, ক্লিপটি পাঠানোর সময় কেএসআই সাইডমেনে ছিলেন। তিনি জানেন কেএসআই সম্প্রতি দল ছেড়েছেন, কী করবেন বুঝতে না পেরে বিষয়টি উপেক্ষা করে ক্লিপটিই ব্যবহার করছেন। চ্যালেঞ্জটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল চিপস, যার রেটিং স্কোভিল স্কেলে দুই মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী দুজন পোডিয়ামের দুই পাশে দাঁড়াবেন। একজন গোপনে ঝাল চিপস বা সাধারণ চিপস খাবেন। অন্যজন মুখের প্রতিক্রিয়া দেখে অনুমান করবেন কোনটা খাওয়া হয়েছে। সঠিক অনুমান হলে অনুমানকারী জিতবেন, ভুল হলে খাদক জিতবেন। কে কোন ভূমিকা নেবেন, তা ঠিক হয় যাঁর চ্যানেলে সবচেয়ে পুরনো পাবলিক আপলোড আছে, তাঁর পছন্দ অনুযায়ী।
প্রথমে মে চিপস খাওয়ার ভূমিকা নেন এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে আলী-একে বাছেন, কারণ তিনি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মে বড় একটা কামড় দেন। আলী-এ বলেন, মুখ দেখে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তবে মে অতিরিক্ত চেষ্টা করছেন মুখ স্বাভাবিক রাখতে। তাই তিনি যুক্তি দিয়ে ভেবে বলেন, সাধারণ চিপস। উত্তর সঠিক হওয়ায় আলী-এ এগোন, মে বাদ পড়েন।
পরের পর্বে কিউট গার্লস হেয়ারস্টাইলসের মিন্ডি নিজে না খেয়ে অনুমানের ভূমিকা নেন। জিমি তাঁকে পরিচয় করান এমন একজন হিসেবে, যাঁর ভিডিও দেখে একটা পুরো প্রজন্মের মেয়েরা চুল বাঁধা শিখেছে। মিন্ডি জেলিকে বাছেন। জেলি একবারে পুরো চিপস মুখে দেন এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না। মুখে ঘাম নেই, চোখে পানি নেই। মিন্ডি "নট স্পাইসি" বলেন, কিন্তু জেলি আসলে ঝাল চিপসই খেয়েছিলেন। জেলি পরে স্বীকার করেন এটা মারাত্মক ঝাল ছিল এবং দুধ চান। জিমি তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেন, আর জেলি এগিয়ে যান।
শেষ জায়গার লড়াইয়ে জাস্টিনের সবচেয়ে পুরনো ভিডিও ২০১০ সালের, ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোরটা জিমির ভাষায় ২০১৭ সালের, তাই জাস্টিন আগে বাছার সুযোগ পান। জেলির অবস্থা দেখে তিনি নিজে না খেয়ে ফিলকে খেতে দেন। ফিল সরাসরি চিপস মুখে পুরে দেন। জিমি এই সুযোগে ফিলকে ফিস্টেবলস চকোলেট মিল্ক অফার করেন। ফিল জিজ্ঞেস করেন, জিমি কি নিজের পণ্যের প্রচার করছেন নাকি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করছেন; জিমি বলেন, দুটোই। জাস্টিন লক্ষ করেন, ফিলের চোখ চকচক করছে কিন্তু ঘাম হচ্ছে না। শেষে মনের কথা শুনে বলেন, ফিল সাধারণ চিপস খেয়েছেন। আসলে ফিল ঝাল চিপসই খেয়েছিলেন। তিনি জানান, তিনি "হট ওয়ানস" শোতে গিয়েছিলেন, তাই এটা তাঁর কাছে সহজ, এবং তিনি ঝাল খেতে ভালোবাসেন। দুধও নেননি।
ফাইনালিস্টদের পরিকল্পনা
ফাইনালে ওঠেন আলী-এ, জেলি ও ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। জিতলে টাকা কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে তাঁরা পরিকল্পনা জানান। একজন বলেন, নিজের কমিউনিটির পিছিয়ে থাকা মানুষদের গেমিং সরঞ্জাম ও কনসোল উপহার দিতে চান। আরেকজন বলেন, ২০ হাজার ডলার করে মোট ৫০ জনের মধ্যে টাকা ভাগ করবেন; পরে বিজয়ী হিসেবে ফিলিপ এই পরিকল্পনারই পুনরাবৃত্তি করেন। তৃতীয়জন বলেন, এই ভিডিওর পুরো সেটআপ একটি ভিডিও গেমের ভেতর তৈরি করে কমিউনিটিকে খেলতে দেবেন এবং প্রতিবার প্রায় ৫০ হাজার ডলার করে উপহার দেবেন।
ফাইনাল: মাইনক্রাফট বাড়ি বানানোর লড়াই
শেষ খেলা হিসেবে জিমি বেছে নেন মাইনক্রাফট, যাকে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম বলেন এবং জানান এই চ্যানেলে তাঁর প্রথম ভিডিওও এটি নিয়েই ছিল। তাঁর মতে, আজকের ইউটিউব তৈরিতে এই গেমের বড় ভূমিকা আছে। ফাইনালিস্টদের মধ্যে দুজন জানান, তাঁরা প্রায় দুই হাজার করে মাইনক্রাফট ভিডিও বানিয়েছেন। ফিলিপ জানান, তাঁর সংখ্যা শূন্য।
ফাইনালিস্টরা বাস্তব জগতে মাইনক্রাফট-ধাঁচের ব্লক দিয়ে বাড়ি বানানোর অসীম উপকরণ পান, সময় এক ঘণ্টা। এরপর বাদ পড়া সব ইউটিউবার ফিরে এসে ভোট দেবেন। সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া জন সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতবেন।
জেলি ট্রি-হাউস বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর যুক্তি, সাধারণ বাড়ি বানালে নজর কাড়া কঠিন। জিমি আইডিয়াটার প্রশংসা করেন। আধা সময় পেরোনোর পর জিমির মূল্যায়নে আলী-এ প্রায় শেষের দিকে, ফিলেরটা দুর্গের মতো লাগছে, আর জেলিরটা বড়জোর একটা গাছ হয়েছে। জেলি নিজেও স্বীকার করেন, তিনি কী বানাচ্ছেন তা নিশ্চিত নন। ফিল জানান, তিনি গোলাপের ঝাড় বানাতে চান, কারণ তাঁর ছেলে বাগান করতে ভালোবাসে। তিনি আরও বলেন, ব্লক জোড়া লাগাতে এত সময় লাগবে তা ভাবতেই পারেননি। ফিলের মতে, কাজ অসম্পূর্ণ রাখার চেয়ে মোটামুটি কিছু শেষ করা অনেক ভালো। আলী-এর পর্যবেক্ষণ, তাঁর আর ফিলের বাড়ির স্টাইল কাছাকাছি, জেলিরটা একদম আলাদা, বাকিটা ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার।
এই সময় ইউটিউবের সিইও নিল জিমির জন্য ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার উদযাপনের একটি বিশেষ সারপ্রাইজ নিয়ে আসেন। জিমি বলেন, এর রঙও থিমের সঙ্গে মিলে গেছে, এবং দর্শকদের ধন্যবাদ জানান।
ভোট: স্থাপত্য বনাম আবেগ
প্রথম ভোট দেন ক্যাপ্টেন স্পার্কলস, যাঁকে জিমি মাইনক্রাফটের সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় করান। তিনি জানান, মাইনক্রাফটে প্রায় এক বছরের সমান সময় কাটিয়েছেন। ফাইনালিস্টরা নিজেদের বাড়ি ব্যাখ্যা করেন। জেলি দেখান, তাঁর ট্রি-হাউসে শেয়াল বা কাঠবিড়ালির মতো প্রাণীর ওঠার জন্য পাশে মই ও প্রবেশপথ আছে। আলী-এর বাড়ির দুই পাশে গাছ, দরজা লক করা যায় যাতে রাতে জম্বি ঢুকতে না পারে, আর সকালে আবার খোলা যায়। ফিলিপ জানান, তিনি বড়জোর ৪০ ঘণ্টা মাইনক্রাফট খেলেছেন। তাঁর ছেলে এ নিয়ে তাঁকে খ্যাপায়, একবার ভুল কাঠ দেওয়ায় চেঁচিয়েও ছিল। তাই পুরো বাড়িটাই ছেলের জন্য বানানো, এবং তাঁর ভাষায়, একভাবে এটাই তাঁদের একসঙ্গে বানানো প্রথম বাড়ি। ক্যাপ্টেন স্পার্কলস আলী-এর বাড়ির কাঠামোকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে তাঁকে ভোট দেন।
এরপর ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। অনেকে আলী-এর নিখুঁত মাইনক্রাফট স্থাপত্য পছন্দ করেন। অন্যদিকে অনেকে ফিলের ছেলের প্রতি আবেগে নাড়া খান; একজন বলেন, তিনি আবেগের সঙ্গেই যাবেন। একজন ভোটার জানান, ফিলের বাড়ির বেগুনি ফুল দেখে তাঁর সম্প্রতি মারা যাওয়া বিড়াল নায়লার কথা মনে পড়েছে, তাই ভোট ফিলকে। আরেকজন সমালোচনার সুরে বলেন, তিনি এক বাড়িতে গাছে জ্বলন্ত মশাল দেখছেন যা যেকোনো সময় পুড়ে ছাই হতে পারে, আরেক বাড়িতে আলো নেই বলে জম্বি এসে সবাইকে মেরে ফেলবে, আর একটি বাড়ি পুরোপুরি কাজের; তিনি ফিলের বাড়ি বেছে নেন। একজন বলেন, ফিলের বাড়ি সবচেয়ে বড় বলে সিদ্ধান্ত সহজ ছিল।
জেলির পক্ষে ভোটের সংখ্যা নিয়ে ভিডিওতে কিছুটা অসঙ্গতি আছে। মাঝপথে বলা হয়, ৩১টি ভোটের মধ্যে জেলি পেয়েছেন একটি। কিন্তু ফল ঘোষণার সময় জিমি বলেন, জেলি কোনো ভোটই পাননি। জেলি জানান, তিনি ভেবেছিলেন সবার থেকে আলাদা কিছু বানালে নজরে আসা যাবে, কিন্তু পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, ফিল আর আলীর লড়াই প্রায় সমানে সমান ছিল, এবং জিমি নিজেও আন্দাজ করতে পারছিলেন না কে জিতছে।
ফল: ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর জয়
শেষ পর্যন্ত বিজয়ী ঘোষিত হন ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। প্রথম রাউন্ডেই জায়গা বদলে কোনোমতে টিকে যাওয়া প্রতিযোগীই সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জেতেন। তিনি বলেন, প্রথম রাউন্ডেই প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিলেন। টাকা কীভাবে দেবেন জানতে চাইলে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০ হাজার ডলার করে মোট ৫০ জনকে দেওয়া হবে।
শেষ কথা: শূন্য সাবস্ক্রাইবারের ঘর থেকে
ভিডিওর শেষে জিমি নিজের ছেলেবেলার ঘর থেকে কথা বলেন। তিনি জানান, আজ তাঁর ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার, কিন্তু এই ঘরেই একসময় তাঁর সাবস্ক্রাইবার ছিল শূন্য, আর এখানেই তিনি চ্যানেল শুরু করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, এই ভিডিও বানানোর মূল কারণ সেই "ওজি" ইউটিউবারদের সম্মান জানানো, যাঁদের ভিডিও তিনি ছোটবেলায় এই ঘরে বসে রোজ দেখতেন। তিনি পঞ্চাশজন ক্রিয়েটরকেই আবার ধন্যবাদ দেন।
দর্শকদেরও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর বক্তব্য, দর্শকরা ভিডিও না দেখলে তিনি বিশ্বজুড়ে কুয়ো বানাতে বা দুস্থদের খাবার দিতে পারতেন না। তিনি বলেন, মাত্র দশজন দর্শক থাকলেও তিনি ইউটিউবে কাজ চালিয়ে যেতেন, কারণ এই কাজকে তিনি দর্শকদের কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, আর এত দর্শক পাওয়া তাঁর কাছে এক পরম আশীর্বাদ। শেষে তিনি বলেন, দর্শকদের এই ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না।
আমি ৫০ জন ইউটিউব লেজেন্ডকে এক করেছি! যে কিউব থেকে শেষে বের হবে, সাবস্ক্রাইবারদের জন্য ১ মিলিয়ন ডলার জিতবে। হ্যাঁ!
এই ক্রিয়েটররাই আজকের ইউটিউবকে তৈরি করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে ভাইরাল কিছু ভিডিওর পেছনে ওরাই আছে। আর এখন ওরা প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে নিজেদের সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিততে।
মনে হচ্ছে রিউনিয়ন। অনেকের সাথে এক দশকেরও বেশি সময় পরে দেখা। এরা সবাই স্পিড আর কাই সেনাট, তবে ১০ বছর আগের। কমপক্ষে ১০ বছর তো হবেই। ১৫ বছর আগে!
আমার ১৭ বছর বয়সের কম্পিউটারের সাবস্ক্রিপশন লিস্ট চেক করলে এই কিউবে থাকা ক্রিয়েটরদেরই পাওয়া যাবে।
আমি যখন ছোট ইউটিউবার, তখন ফেজ-এ জয়েন করতে চেয়েছি, আমাকে নাওনি। আমরা তখন অনেক বড় সুযোগ মিস করেছি। এখন জয়েন করতে পারি?
তুমি ইউটিউবের ৫ নম্বর মোস্ট সাবস্ক্রাইবড চ্যানেল ছিলে এক সময়। হ্যাঁ। এই বক্সের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডাউনফল বোধহয় আমারই হয়েছে। সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড়। সেটাই হবে।
ফ্রেডের চ্যানেলটিই প্রথম ইউটিউবে এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পার করেছিল। হাই, আমি ফ্রেড। তারা যদি এখনো আনসাবস্ক্রাইব না করে থাকে, তবে তারা এক মিলিয়ন ডিসার্ভ করে।
তোমরা এখন ফোর্টনাইট ভিডিও দেখো, কিন্তু আমাদের সময়ে আমরা কল অফ ডিউটির ভিডিও দেখতাম। ১৫ বছর আগে এরা ইউটিউব কাঁপাতো।
চ্যাড হলো ইউটিউবের কো-ফাউন্ডারদের একজন। এর চেয়ে বেশি লেজেন্ডারি আর কিছু হতে পারে না। আমি শুধু স্টেজটা বানিয়েছি, ওরা ট্যালেন্ট নিয়ে এসেছে।
এই ক্রিয়েটররা না থাকলে আজ আমি এখানে থাকতাম না। তাই আমাদের ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার সেলিব্রেট করতে যারা আমাকে ইন্সপায়ার করেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এটা একটা ছোট চেষ্টা। তোমরা ইউটিউব না বানালে, আজ হয়তো আমি কোনো ওয়ালমার্টে কাজ করতাম।
অলরাইট, তাহলে শুরু করা যাক। ফ্লোরটা চেঞ্জ করো!
তোমাদের সামনে পাঁচটা ল্যাম্বরগিনি আছে… যার মধ্যে একটা কেক দিয়ে তৈরি! ওয়াও, এটা তো দারুণ! পরের রাউন্ডে যেতে হলে তোমাদের একটা আসল ল্যাম্বরগিনি বেছে নিতে হবে।
আরে! ওরা তো চলেও গেল। আমার কথাটাও শেষ করতে দিল না। সাবধানে জায়গা চুজ করো, কারণ যদি কেকের ল্যাম্বরগিনি সিলেক্ট করো, তবে এলিমিনেট হয়ে যাবে।
৫ নম্বরটা কেক মনে হচ্ছে! ওটা পুরোপুরি কেকের মতো দেখতে। তাই না? আমি ৩ নম্বরে যাচ্ছি। দাঁড়াও, ৩ নম্বরটা কেক না তো? এটা ৪ নম্বরই হবে! আমার মনে হয় ৪।
ভাই, বুঝতেই পারছি না। আমিও না। বোঝা যাচ্ছে না। চার। মনে হয় ৪ নম্বরটাই কেক। আমার মনে হয় দুই। না, ৫ নম্বরটা কেক।
৩ নম্বরটা নিয়ে কী মনে হচ্ছে? আমার ঠিকই মনে হচ্ছে, যদি… ৩ নম্বরটা কেকের মতো লাগছে না? না। তুমি ওভাবে বলছ কেন?
বোঝার কোনো উপায়ই নেই। অবশ্যই উপায় আছে। তাই? জিমি, আমার একটা লাল ল্যাম্বো আছে, তাও পারছি না। যে এটা বানিয়েছে, সে এক পারফেকশনিস্ট! সবগুলোই একদম রিয়েল লাগছে।
আমি ল্যাম্বরগিনি বা গাড়ি সম্পর্কে কিছুই জানি না। তাই? কিন্তু আমি কেক চিনি। ২ নম্বরটা দেখতে বেশ সুস্বাদু লাগছে।
২ নম্বরের রিফ্লেকশনে কিছু একটা গড়মিল আছে, আর আমি ওটাতেই দাঁড়িয়ে আছি। বেশ টেনশন হচ্ছে।
এটা ৪ নম্বর, জিমি। তোমার কেন এমন মনে হলো? এর উইন্ডোগুলো বাকিগুলোর মতো চকচকে না। আলো ঠিকমতো রিফ্লেক্ট করছে না। জানালাগুলো কেমন অদ্ভুত। একটা ঝামেলা আছেই। ওকে। আমরা কি ৪ নম্বরে ফেঁসে গেলাম? মনে হয় ফেঁসেছি।
আর যখন করিডোর ডিজিটাল ভালো করে দেখার জন্য নিজেদের জায়গা ছাড়ল, একজন বিষয়টা খেয়াল করলো এবং সুযোগটা নিল।
আরে! দাঁড়াও। দেখ, ও তোমার জায়গা সোয়াপ করেছে! ও নিয়ে নিল? আচ্ছা, ঠিক আছে। বিশ্বাস হচ্ছে না তুমি এটা করেছ।
এটা দেখে রোমান অ্যাটউডও একটা স্পট নিল, তারপর ডিউড পারফেক্টও তাই করল। ইয়েস! ৪ নম্বরটাই কেক। আমি জাস্ট বেঁচে গেলাম! যেকারণে ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোও একটা স্পট চুরি করে নিল।
সবাই নিজেদের চয়েস নিয়ে হ্যাপি তো? হ্যাঁ, কেকের লাইনে আসবে কেউ? অলরাইট, দেখা যাক তোমাদের মধ্যে কারা এলিমিনেট হচ্ছে।
এটা কি ২ নম্বর?! দাঁড়াও, দাঁড়াও! কোনটা? কোনটা? কোনটা সেটা? ৫ নম্বরটা কেক না! এটা ২ নম্বরই হবে! ওহ না! ওহ না, এটা ৪ নম্বর! ৪ নম্বর! ওহ না! না!
ওহ! ওহ! না! না!
আমরা জানতাম ওটা ভুল, তাও এখানে আটকে গিয়েছিলাম! দেখতে টেস্টি লাগছিল, তাই বুঝতে পারিনি। ওহ না! তোমরা সবাই এখন এলিমিনেটেড।
আর যারা এখনো টিকে আছ… পরের গেমের জন্য তোমাদের টিম ঠিক হয়ে গেছে। ফ্লোর চেঞ্জ করো! তোমরা এখন সবাই টিমমেট।
বুঝতেই পারছ, আমরা এখন নস্টালজিক কিছু করতে যাচ্ছি। কোন বড় ট্রেন্ড ইউটিউবকে পপুলার হতে হেল্প করেছিল? স্লাইম! আইস বাকেট! সিনামন চ্যালেঞ্জ? তাহলে নিয়ে আসা যাক!
কোনো ওজি ইউটিউব ভিডিও তো অসম্পূর্ণ… ওয়াটার বোতল ফ্লিপ ছাড়া! ইয়ো! ওহ, আমি এটাতে বেশ ভালো। নিঃসন্দেহে এটা ইউটিউব ইতিহাসের অন্যতম বড় একটা ট্রেন্ড।
আমার বাচ্চারাও বোতল ফ্লিপ খেলে। তার মানে তুমি এটা বেশ ভালোই জানো। হ্যাঁ, একদম। ওখানে গিয়ে সবার সামনে নার্ভাস না হলেই হলো, বাকিটা সামলে নেবে।
ওয়াটার বোতল ফ্লিপ ট্রিক শটের ওপর ডিউড পারফেক্টের এক বিলিয়নের বেশি ভিউজ আছে। তোমার টিমকে কী বলবে? আমি ওকে বলছিলাম, সবচেয়ে বড় ভুল হবে যদি বোতলটা কম রোটেট করো।
এক এক করে তোমাদের টিমের সবাই আসবে, যতক্ষণ না বোতলটা পারফেক্টলি ফ্লিপ হয়ে ল্যান্ড করে। প্রথম যে তিনটা টিম… যাদের ১০ জন প্লেয়ারই এই টেবিলের ওপর বোতলটা ফ্লিপ করতে পারবে… তারা পরের রাউন্ডে যাবে। আর লাস্ট টিমটা এলিমিনেটেড হবে।
ওহ শুট! কেন? সবসময় টুইস্ট, জিমি। অলরাইট। গো!
যাও, যাও। পারবে, রোমান। যাও, যাও, যাও। এবার কে আসবে… চমৎকার। ইয়েস! জলদি! জলদি, জলদি!
গ্রিন টিম পিছিয়ে পড়ছে। ঠিক আছ রোমান, চাপ নেই। বুঝেছি। নাইস, নাইস! প্রতিটা টিমই খাতা খুলে ফেলেছে। ইয়েস! ব্লু টিম লিড নিচ্ছে। উফফ! ইয়েস! লেটস গো।
কাম অন, কেসি! কেসি, করে দেখাও! তোমার ভ্লগ দেখে বড় হয়েছি। তুমি আমার অনেক বড় ইন্সপিরেশন। জিমি, তুমি আমাকে ডিসট্র্যাক্ট করছ! কেসি, ছোটবেলার ইমোশন ভেঙে দিচ্ছ। তুমি আমার ছেলেবেলার হিরো ছিলে। একটা বোতল ফ্লিপ কেন করতে পারছ না?
ইয়ো! এই তো, হয়ে গেছে! ইয়েস! সাবাশ! কাম অন, লেটস গো। জলদি করো! ইয়েস! চলো, চলো, চলো। আর এভাবেই অরেঞ্জ টিম লিড নিয়ে নিল।
আমরা দারুণ করছি। ইনি হলেন এপিক র্যাপ ব্যাটেলস-এর লয়েড। ব্রো, মিডল স্কুলে তোমার ট্র্যাকের সাথে জ্যাম করতাম। হ্যাঁ, সবাই করতো।
আর একটু ঘোরাও। পেরেছো! কাম অন… ইয়েস। নাইস। চলো, চলো! জলদি করো!
জলদি, জলদি, জলদি করো! অরেঞ্জ টিম প্রায় শেষ করেছে।
ও ভ্যানোস-এর ইভান ফং। ও এখন মিউজিক বানায়। তোমার একটা গান চালাতে পারি? হ্যাঁ। ওর একটা গান চালাও। হ্যাঁ, দারুণ! ইয়েস, ইয়েস!
ভ্যানোস কিন্তু এখন বেশ স্ট্রাগল করছে। আর একটু ফ্লিক করো! আর একটু জোর দাও। কবজির জোর আর একটু বাড়াও।
ইয়েস! যাও, যাও! এটা সত্যি অনেক স্ট্রেসফুল! সাবাশ চ্যাড! ইয়েস! দারুণ হয়েছে। এগিয়ে যাও চ্যাড। জলদি যাও।
ব্লু টিম, তোমরা কিন্তু সবার শেষে আছ। জলদি করো, জলদি! আর একটা বাকি, আলী-এ! ধুর! তুমি আমাকে হতাশ করছ।
এই তো, হয়ে গেছে! ওরা আবার ফর্মে ফিরেছে, কিন্তু অরেঞ্জ টিমের আর একটা বাকি। আরো জোরে, জোরে, আরো জোরে! চমৎকার! অরেঞ্জ টিম পরের রাউন্ডে যাচ্ছে!
এলিফ্যান্ট টুথপেস্ট? চলো। চলো এবার! অরেঞ্জ টিম পরের রাউন্ডে যাচ্ছে! চালিয়ে যাও! এখনো আরও দুটো টিম যেতে পারবে! গ্রিন টিম এখন সাতে! আর পিঙ্ক টিম ওদের ঠিক পেছনে!
ওহহ! তুমি ঠিক আছ তো? সত্যি ঠিক আছো? ঠিক আছি। ওকে, কিছু লাগলে আমাকে বলো।
ইয়েস! যাও, জলদি করো। ইভা, টিমকে টিকিয়ে রাখতে হলে এটা তোমাকে এখন করতেই হবে! এই যে শুনো। জলদি করো ভাই। সময় চলে যাচ্ছে!
আরেকটু ঘোরাও! আরেকটু ফ্লিক! ইভা! এটা ঠিকমতো ফ্লিপ হচ্ছে না! একদম ওইখানে। কাম অন! তুমি পারবে। গ্রিন টিমের আর একটা বাকি।
এটা কি খবর পড়ার চেয়েও বেশি স্ট্রেসফুল? হ্যাঁ।
পিঙ্ক টিমের দুটো বাকি। আরো ফ্লিপ! আর একটু ঘোরাও! ওহ, টেবিলই মিস করলে!
পারবে ডেভান। হ্যাঁ, এটাই শেষ! এক মিনিট! আর একটু জোরে। তুমি পারবে।
আর মাত্র একটা টিমই যাবে। তুমি পারবে, ইভা। ইয়েস! যাও, যাও, জলদি করো! চলো চলো! বেইলি! বেইলি! এটা করতে পারলে তোমার টিম পরের রাউন্ডে যাবে। তুমি পারবে!
ওহ, আমি এটাতে সত্যিই বস। চলো এবার। ইয়েস! আহহ। সাবাশ! ইয়েস!
তোমাদের অনেকের ভিডিও দেখেই আমি বড় হয়েছি, তাই তোমাদের এভাবে হারতে দেখতে একদম ভালো লাগছে না। কলিন্স!
ওকে। এটার জন্য রেডি ছিলাম না, তবে… সব ঠিক হয়ে যাবে। ব্লু টিম, তোমরা এলিমিনেট হয়ে গেছ। বডি বানিয়ে কোনো লাভ হলো না! আমি তো ফ্লিপই করিনি! একটা চান্সও পাইনি। আহ!
ওহ নো! আমি তোমাদের দেখে বড় হয়েছি। না। আমি প্রায় ১০ বছর ধরে তোমাদের সবার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রেখেছি। ওহ না, ফুসি! এখন সবাইকে প্র্যাঙ্ক কে করবে?
ওহ! ওয়াও! ফ্লোরটা আগের মতো করে দাও। তোমাদের চিল করার একটু সময় দিচ্ছি।
আমাদের জন্য নেক্সট কোন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছ শুনি? যা-ই আসুক, আমরা রেডি।
টপ টেনে গেলে দারুণ হতো। তবে জেতার কথা এখন ভাবাই যাচ্ছে না। আমার মনে হয় আলী-এ আর জেলিকে নিয়ে একটু ভয়ই হবে।
হেই, সবাই একটু টাকার চারপাশে এসে দাঁড়াবে? পরের গেমটার জন্য একটু সেটআপের দরকার আছে। পর্দাগুলো নিয়ে এসো!
ওহ ভাই! মনে হচ্ছে, একটা আস্ত ট্রেন চলে এসেছে।
এটা কি শোনার কোনো চ্যালেঞ্জ নাকি? মনে হয় ইচ্ছা করে আওয়াজ করছে বিভ্রান্ত করতে। তাই না? মনে হয় ওরা আমাদের সাথে মজা করছে। আমরা বেশ কিছু অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি।
ইউটিউব লেজেন্ড হিসেবে এখানে এসে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে অদ্ভুত কোনো হাই স্কুল রিউনিয়ন হচ্ছে। মনে আছে, একসময় ৫ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হওয়াই অনেক বড় ব্যাপার ছিল। আর তুমি এখন ৫০০ মিলিয়নে আছ। কী অবস্থা!
কেমন লাগে, জিমি? পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো লাগছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না।
বাইরে আসলে কী চলছে? জানি না, নার্ভাস লাগছে। তোমরা কি পরের গেমের জন্য রেডি? চলো শুরু করি! কাম অন।
এই পর্দার পেছনে শত শত ম্যানিকুইন আছে। ওয়াও! কী বললে? আহ! পর্দা নামার পর তোমাদের বের করতে হবে এর মধ্যে কোন পাঁচটা ম্যানিকুইন আসলে মানুষ। যেই প্রথম ১৫ জন সঠিক উত্তর দেবে, পরের রাউন্ডে যাবে। আর বাকি ১৫ জন এলিমিনেট হয়ে যাবে।
ওহ, চলো দেখা যাক। গেমটা তোমাদের জন্য একটু সহজ করতে, যেহেতু এটা একটা নস্টালজিক ট্যুর… আমি 'হারলেম শেক' গানটা প্লে করব। আর মিউজিকের বিট ড্রপ করার সাথে ওই পাঁচজন মানুষ সামান্য নড়ে উঠবে।
হারলেম শেক গানটাতে কি কপিরাইট নেই? ওদের সাথে কথা বলে রাইটস নিয়েছি। ওয়াও!
সবাই পজিশন নাও! ডু দ্য হারলেম শেক।
তার মানে তোমরা সবাই মিলে প্রথম ১৫ জনে থাকার ট্রাই করছ? হ্যাঁ। অবশ্যই। সবাই ক্লকওয়াইজ চেক করো যাতে একই জিনিস বারবার দেখতে না হয়। টেনশন নিয়ো না। আমি তোমাদের সঠিক নম্বরগুলো বলে দেব।
আচ্ছা, ও ওভাবে হাসল কেন? ও এখনো ওভাবে হাসছে কেন?
হারলেম শেক প্লে করো। শুরু করা যাক! পর্দা নামিয়ে দাও! বিট ড্রপ করলেই এই ম্যানিকুইনগুলোর মধ্যে পাঁচটা নড়ে উঠবে। তোমরা ওদের নাম্বার ইনপুট করলেই পরের রাউন্ডে যাবে। মনে রেখো, শুধু প্রথম ১৫ জন। জাস্ট প্রথম ১৫ জন। স্টার্ট করা যাক।
০৬১ ০৬৭ ০৬৩। ওকে। কোনো নড়াচড়া চোখে পড়ল?
কেউ একা কাজ করছে না। ওরা টিম বানিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে সব ম্যানিকুইনের ওপর নজর রাখছে।
১৭? এখান থেকে যাও তো রাইস! তোমরা কয়টা খুঁজে পেলে? তিনটে। তিনটে পেয়েছ? পাঁচটার মধ্যে তিনটে। তোমরা কোন নাম্বার পেয়েছ? তোমরা তিনটে পেয়েছ? হ্যাঁ। দেয়ালের পেছনে দেখো। চার নম্বরটা। আমি ওটা দেখেছি।
গানটার কথা মনে আছে? ভাই, আমি জাস্ট বাকিদের আনসার দেখছি। কোনটা? লাস্টেরটা কত?
সবাই একসাথে কাজ করায়, প্রথম ইউটিউবারের সব উত্তর লক করতে বেশি সময় লাগেনি। শেষটা, জাস্ট শেষটা। ৪২। ডান! চেক!
কিন্তু শুধু ওদের টিমমেটরাই ওদের উত্তর কপি করার চেষ্টায় ছিল না। আর চারটে স্পট খালি! ৪২?
ইয়েস! সাবাস। ইয়েস! আমরা পেরেছি! চলো এবার! জলদি করো টে! ধ্যাত!
তুমি ওদের টিমে ছিলে না? না। আমি ওদের ৪২ নম্বরটা দিতে দেখেছিলাম, টাইপ করে দিলাম… গ্রিন!
আমিও কিন্তু ওদের টিমে ছিলাম না। ওহ! আমি নকল করেছি। ওরা তোমার স্পট নিয়ে নিল। হ্যাঁ। তাই আমি দৌড়ে এলাম এটা নিতে। ধুর! জেলিও তাই করল। ওহ মাই গড!
ম্যানিকুইনদের সামনে নিয়ে আসো। ১৪২ ১৪০ ১৪৫। ও তোমাকে ফোর্টনাইটের ইমোট দিচ্ছে।
ও তোমাকে ফোর্টনাইটের ইমোট দিচ্ছে। কেমন লাগছে এখন? এটা মেনে নেওয়া কঠিন ভাই।
ইতিহাসের সেরা ট্রিক শটার, সর্বকালের সেরা ভ্লগার—এত সব ওজি ক্রিয়েটররা চলে গেল!
যাওয়ার আগে বলো, তোমরা কি কামব্যাক করবে নাকি আবার আগামী ৫ বছরের জন্য গায়েব হয়ে যাচ্ছ? আমি আউট ভাই। আচ্ছা, তাহলে আবার ৫ বছর পরেই দেখা হবে।
আমি নিয়মিত তোমাদের ভ্লগ দেখতাম। স্মাইল মোর টিম চলে গেল, আমি ফেজ ক্ল্যানে জয়েন করতে চেয়েছিলাম, ওরাও চলে গেল। ক্লাউন গ্যাং—আমার চাইল্ডহুডের ক্রিয়েটররা এভাবে চলে যাচ্ছে? আসলেই খারাপ লাগছে।
বাই। বিদায়, ভাই ও বোনেরা। অবিশ্বাস্য!
খুব কাছাকাছি ছিলাম। দারুণ লড়াই হয়েছে। ভ্যানোস ক্রু শেষ। আমরা সবাই বাদ। আমি স্পিডির চেয়ে ভ্যানোসের বড় ফ্যান, ধুর!
এমনকি কেসিও বাদ… কেসি, না! না! না! তুমি কাঁদছ না, আমি কাঁদছি।
জিমি, চলে যেতে আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু… আমারও খারাপ লাগছে। তবে চলো পরের গেমে যাওয়া যাক। তোমরা রেডি তো? চলো ভাই, শুরু করা যাক!
টপ ১৫! টপ ১৫-এ আছি, এটাই বলছিলাম! হ্যাঁ, আমরা টপ ১৫-এ এসেছি! শেষ ১৫ জনের মধ্যে আছি।
ওহ!
আরে আরে! এটা কী হলো? আমাকে ধাক্কা দিল! এইটুকুই? শেষ। বাই।
ওহহ! এই! কিন্তু তুমি তো আগেই বাদ পড়ে গিয়েছিলে। লুকিয়ে ঢোকার চেষ্টা করি, কিন্তু ধরে ফেলে। ওহ ভাই। যা-ই হোক, পরে দেখা হবে। ঠিক আছে। বাই। লাভ ইউ মম্।
টপ ১৫! কেমন ফিল হচ্ছে? এবার যদি আরও ৯ জনকে এলিমিনেট করি, কেমন হবে?
ওহ ওয়াও। দেখি আনো যা আছে! ওটা আবার কী? কী এটা? ওহ গড! কত কিছু হচ্ছে। আমার মনে হয় এটা কোনো ফ্লোর মেমোরি গেম। টেনশন হচ্ছে!
নেক্সট গেম হলো 'ফ্লোর ইজ লাভা'।
এটা দারুণ! নিয়ম তো জানোই। লাভা টাচ করলেই এলিমিনেটেড। কিন্তু এখানে টুইস্ট আছে। তোমাদের তিনজনের গ্রুপ বানিয়ে হ্যান্ডকাফ বাঁধতে হবে।
ভাই… কী? টিম বেছে নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ তোমাদের। কিন্তু এটাই এই খেলায় তোমাদের ভাগ্য ঠিক করবে।
আমি আলীর সাথেই আছি। আমি তোমাদের সাথেই আছি। ওকে। হ্যাঁ, আমিও রেডি। আমরা তিনজন একসাথে। আমরা দল। পারফেক্ট টিম। হ্যাঁ।
মনে হচ্ছে তুমিই টিম ক্যাপ্টেন। মাঝখানে থাকবে? হ্যাঁ, আমিই ক্যাপ্টেন। দেখা যাক! দেখা যাক!
হ্যান্ডকাফ পজিশন লক হয়ে গেছে। প্রতিটা টিম এই সার্কেলগুলোর দুটো করে পাবে। একটায় পা দিয়ে অন্যটা সামনে ফেলবে, এভাবেই পার হতে হবে। আর কোনোভাবে লাভা টাচ করলে পুরো টিমই বাদ।
মনে আছে, একসময় এ ট্রেন্ড কতটা পপুলার ছিল? আমরা ছোটবেলায় এটা খেলতাম। ফ্লোরের ওপর বালিশ বিছিয়ে নিতাম।
এবার আসল কথায় আসি, সবার মাথায় হেলমেট কেন? তুমি তো পড়ে গিয়েছিলে! হ্যাঁ, পড়ে গিয়েছিলাম, তবে এখন ফিট আছি।
তুমি তো ফ্লোর ইজ লাভা ভিডিও করেছিলে। হ্যাঁ। সেটা কত বছর আগে? প্রায় ৬-৭ বছর। হ্যাঁ।
লাভা টাচ না করে যে প্রথম দুটো টিম এই পাশে আসতে পারবে, ওরাই টিকবে। থ্রি, টু, ওয়ান, স্টার্ট!
টিমের একজনও যদি লাভা ছোঁয়, পুরো টিম কিন্তু শেষ। ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর টিম সবাই মিলে একটা সার্কেলে দাঁড়াচ্ছে, তারপর অন্যটা সামনে ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছে।
আলী তো তার টিমমেটকে রীতিমতো পিঠে তুলে নিয়েছে! অবিশ্বাস্য কাণ্ড! মনে হচ্ছে মার্কেসের টিম একটু স্কুট করার চেষ্টা করছে। বামে যাও। এই স্ট্র্যাটেজি কি খাটবে?
এত তাড়াহুড়ো কোরো না যে তোমাদের ভুলের জন্য অন্য কেউ জিতে যায়। আমরা টাইম নিতে পারি। হ্যাঁ। একটু সময় নাও, তাড়া নেই।
না না না! থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ, বাঁচালে ভাই! ঠিক আছে, সব ঠিক আছে। ওরা কিন্তু লিড করছে! ওহ মাই গড।
তোমরা পৌঁছে গেছ! পেছনের টিম, এখন ঘেঁটে দিও না। তোমাদের স্পিড বাড়াতে হবে। লিনাস, মার্কেস, কিছু একটা করো! এখনই যাও, জলদি! মার্কেস আর জ্যাক্সফিল্মসের টিম অনেক পেছনে।
ওহ! কাম অন, ইয়েস! আমরা প্রথম টিম পেয়ে গেছি! পরের যে টিমটা পার হবে, ওরাই নেক্সট চ্যালেঞ্জে যাবে।
জেলি আর কোবির টিমের মধ্যে কম্পিটিশন! এই তো এসে গেছি। পারব, জাস্ট আর একটু! একদম হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! কারা যাচ্ছে পরের রাউন্ডে? জেলি! তুমি কি লাফ দিচ্ছ?
আরে, আরে! দাঁড়াও, কে আগে পৌঁছাল জানি না। ফুটেজটা ভালো করে রিভিউ করার পর… এই আইপ্যাডে দেখা যাচ্ছে কোন টিমটা আগে ক্রস করেছে। আর তোমরা দেখতেই পাচ্ছ… ইয়েস!
আলী-এ ক্রস করেছে, আর চ্যাড ভুল করে লাভা টাচ করেছে! ওহ হো! কী বললে!
ওহহহ! আমরা জিতে গেছি! স্বয়ং ইউটিউবের কো-ফাউন্ডারই গেম থেকে বাদ পড়ে গেলেন!
ফ্লোরটা চেঞ্জ করো। স্যরি বয়েজ, তোমরা এলিমিনেটেড। ধুর ভাই। বেস্ট অফ লাক! গুড লাক!
এক মিলিয়ন জিতে ফিরো! অনেক বিখ্যাত নাম। কোনো টেকনিক্যাল প্রবলেম হলে আমরা গেলাম! হ্যাঁ, ওটাই।
তোমরা যাওয়ার আগে বলি, এত সুন্দর একটা প্ল্যাটফর্ম বানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ। শুনে ভালো লাগল। ও কিন্তু দারুণ।
ইউটিউব এখানে থাকা প্রতিটা মানুষের লাইফ চেঞ্জ করার সুযোগ দিয়েছে এবং সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সাথে কানেক্ট করেছে। আর তোমাদের জন্যই আজ আমরা এখানে এই ভিডিওটা করতে পারছি।
এই সেই লোকটা। ধন্যবাদ, জিমি, ভালো থেকো। অনেক থ্যাংকস। ভালো থেকো। অলরাইট।
মোট্রিন। আমি এখন এসেছি মোট্রিন রিচার্জ লাউঞ্জে, যেখানে বাদ পড়া সব কনটেস্ট্যান্টদের রাখা হয়েছে, এটা জানাতে যে ফাইনাল গেমে ওরাও একটা পার্ট প্লে করবে।
কেমন এনজয় করছ এই লাউঞ্জ? দারুণ জায়গা, রিল্যাক্সিং। ভাইবটাই আলাদা।
তোমরা বাদ পড়েছ, কিন্তু থ্যাংকস টু আওয়ার ফ্রেন্ডস অ্যাট মোট্রিন, ওরা এই মোট্রিন রিচার্জ লাউঞ্জটা বানিয়েছে যাতে সবাই আরাম করে ফ্রেশ হতে পারে। আর এটা বেশ ভালো, কারণ… তোমাদের ফুল চার্জড হওয়া দরকার, কারণ ফাইনাল চ্যালেঞ্জের জন্য আবার আসছো!
কী বললে? ওহ! এলিমিনেট হওয়া সবাই ফাইনাল চ্যালেঞ্জে ফিরছে। ফাইনালে কারা জিতবে, সেটা ডিসাইড করার একটা বড় সুযোগ পাবে তোমরা। সত্যি? জাস্ট ক্রেজি!
এখন আমি এক মিলিয়ন ডলারের জন্য যা খুশি করতে রেডি। এত দূর যখন এসেছি, তখন দেখা যাক।
থ্যাংক ইউ মোট্রিন। একটু রেস্ট নাও, ভিডিও শেষে দেখা হচ্ছে। অলরাইট। ধন্যবাদ।
আমরা এখন ফাইনাল সিক্সে, তবে… সব ইউটিউব লিজেন্ড তো আর এই ভিডিওতে আসতে পারেনি, তাই আমি 'সাইডমেন' টিমের সাথে কন্ট্যাক্ট করে ওদের নেক্সট চ্যালেঞ্জ পছন্দ করতে বলেছি। ওহ গড!
ওহ! হোয়াটস আপ লিজেন্ডস?
দেখুন, ওরা যখন ক্লিপটা পাঠিয়েছিল, তখন কেএসআই সাইডমেন টিমে ছিল। আমি জানি ও রিসেন্টলি টিম ছেড়েছে। এখন এটা নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না, তাই জাস্ট ইগনোর করে ক্লিপটাই ইউজ করছি।
এবার আমরা দেখতে চাই তোমরা পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল চিপসটা খাও কি না! না! ওহ!
এই গেমের নিয়ম হলো, পোডিয়ামের দুই পাশে দুজন থাকবে।
তোমাদের একজনের কাছে অপশন থাকবে ঝাল চিপস অথবা নরমাল চিপস খাওয়ার। অন্য পাশের জন যদি সঠিকভাবে গেস করতে পারে যে তুমি কোনটা খেয়েছ, সে জিতে যাবে আর তুমি বাদ। আর ভুল গেস করলে তুমি জিতবে আর সে বাদ।
কে চিপস খাবে আর কে গেস করবে, সেটা কীভাবে ঠিক হবে? দারুণ প্রশ্ন করেছ। মে এমন ব্যক্তি যার ইউটিউব চ্যানেলে সবচেয়ে পুরনো পাবলিক আপলোড আছে। ইয়েস! কিন্তু এটার মানে কী দাঁড়াল?
মে, তুমি কোন সাইড নিতে চাও? চিপস খাবে নাকি সামনের জনের রিঅ্যাকশন দেখে গেস করতে চাও? আমি চিপসটা খেতে চাই। তাহলে উপরে চলে এসো। এবার এই পাঁচজন প্রতিযোগীর মধ্যে একজনকে বেছে নাও। তোমাদের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরে যাবে।
আলী-এ। আলী-এ। ওহ! আমাকে কেন নিলে? একটু জানতে পারি? তুমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলে বলেই তোমাকে নিলাম। ওহ, জাস্ট মাঝখানে ছিল বলে? হ্যাঁ।
এবার আমরা সবাই ওপাশে ঘুরে দাঁড়াব। আর এই ফাঁকে মে ডিসাইড করবে সে কি সত্যিই ঐ ঝাল চিপস খাবে। স্কোভিল স্কেলে ২ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি রেটিং। মেবেবি। অলরাইট, সবাই ঘুরে দাঁড়াও।
স্টার্ট করো মে। ওহ গড! ওহ মাই গড! ও তো এক বিশাল কামড় দিল! এবার বলো, ও কি স্পাইসি চিপস খেয়েছে নাকি নরমালটা?
ওহ গড! ওহ মাই গড। তুমি বারবার ওর থেকে নজর সরিয়ে নিচ্ছ। তোমার একমাত্র ক্লু কিন্তু ওর চেহারাতে আছে। চেহারা দেখে কিছু বুঝতে পারছ? মেবেবি। ও এ চেহারা রিড করতে দিচ্ছে না। তবে মনে হচ্ছে ও স্ট্রাগল করছে। মানে মেন্টালি? ম্মম?!
ও খুব বেশি চেষ্টা করছে মুখটা এমন রাখতে যাতে মনে হয় চিপসটা একদমই ঝাল না। ওহ, তাই নাকি? আমি জাস্ট লজিক্যালি ভাবছি, কারণ ওর মুখ দেখে শিওর হওয়া যাচ্ছে না। ও মনে হয় নন-স্পাইসিটাই খেয়েছে। তোমার ফাইনাল আনসার হলো নন-স্পাইসি।
মে, ওটা কি নরমাল চিপস ছিল? হ্যাঁ। ওহহ! ওর গেস পারফেক্ট! আর আমি আউট। ইয়েসসস! আলী-এ পরের রাউন্ডে যাচ্ছে আর মে এলিমিনেটেড। আসার জন্য অনেক থ্যাংকস। থ্যাংক ইউ!
এর পরের ওল্ডেস্ট আপলোড হলো ‘কিউট গার্লস হেয়ারস্টাইলস’-এর। ওহ মাই গড। একটা পুরো জেনারেশনের মেয়েরা ওর ভিডিও দেখে চুল স্টাইল করা শিখেছে।
মিন্ডি, তুমি কি গেস করবে নাকি নিজেই হট সিটে বসবে? আসলেই হট! আমি খেতে চাই না। খেতে চাও না? না। ওকে, তাহলে এই পাশে চলে এসো। তার মানে তুমি চুজ করবে এই বাকি ছেলেদের মধ্যে কে চিপসটা খাবে।
জেলি কি বলেছিল যে ওর ঝাল পছন্দ? খেতেই পারি। ওহ, খেতে পারে। আচ্ছা! উত্তরটা তো বেশ বিন্দাস। জেলি। জে সি কেলেন। জেলি। জেলি। ওকে, একজনকে চুজ করো। জেলি। ওহহহ। দেখা যাক কী হয়।
অলরাইট। দেখে নাও কোনটা কী। জেলি। ওকে, যখন তুমি রেডি হও। এখন জেলির পালা। জেলি। কিউট গার্লস হেয়ারস্টাইলস। বাঃ! ও তো একবারে পুরো চিপসটাই খেয়ে নিল।
আর এখন মিন্ডি ওর মুখের প্রতিটা এক্সপ্রেশন রিড করার ট্রাই করছে চোখের দিকে তাকিয়ে। জেলি। পরিস্থিতিটা একটু অদ্ভুত করে দিলাম, যা-ই হোক। মুখে কোনো ঘাম নেই। কাঁদছো না।
তোমার প্রতিটা মুভমেন্ট কিন্তু ওর ডিসিশন চেঞ্জ করতে পারে। ওকে কিছু বলতে চাও? সত্যি বলতে, আমি এই সিটটাতেই বসতে চেয়েছিলাম। ওহ, তার মানে ও তোমার চাওয়া পূরণ করেছে? হ্যাঁ। কিন্তু আমিও যা চেয়েছিলাম তা-ই পেয়েছি। আর আমি একটা দারুণ ভিডিও পাচ্ছি! সো সবাই জিতছি।
ও কি তোমাকে কনফিউজ করছে? মানে, ও যদি সত্যিই ঝালটা খেয়ে থাকে আর কোনো রিঅ্যাকশন না দেয়, তবে ও দারুণ অ্যাক্টর! আনসারটা লক করতে চাও? বুঝতে পারছি না।
উফফ! ‘নট স্পাইসি’র সাথে যাব। নরমাল চিপস? তুমি কোনটা খেয়েছ? স্পাইসি। তুমি সিরিয়াস তো? হ্যাঁ। কী!
ধুর! মারাত্মক ঝাল ছিল! সত্যি অনেক ঝাল। আমার অবস্থা খারাপ! দুধ নিবো? হ্যাঁ হ্যাঁ, অবশ্যই নাও। উফফ, এবার শান্তি! সব ঠিক। তোমার এক্সপ্রেশন এত ভালো! উফফ! তোমার অ্যাক্টিং স্কিলকে হ্যাটস অফ!
জেলি পরের রাউন্ডে গেল। বস, আমি বুঝতেই পারিনি! তুমি গেম থেকে এলিমিনেটেড। আমি জানি। সো সরি গাইস।
ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কোর সবচেয়ে পুরনো ভিডিও ২০১৭ সালের আর জাস্টিন, তোমার ভিডিও ২০১০ সালের। অর্থাৎ তুমি আগে চুজ করার সুযোগ পাচ্ছো। তুমি খাবে নাকি রিঅ্যাক্ট করবে? আমি চাই আমার বন্ধু ফিল এই চিপসটা খাক। ওহ তাই? অলরাইট ফিল, উপরে চলে এসো।
তা জাস্টিন, তুমি নিজে না খেয়ে ওকে কেন খেতে দিলে? পুরো পাওয়ার তো ওর কাছে চলে গেল। জেলির যা অবস্থা, আমি সেটা চাই না! ঠিক, আমার অবস্থা টাইট!
ওকে, সবাই উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়াও। রেডি হলে জানিও। জে সি কেলেন। ওকে। বেশ তাড়াতাড়ি! ওয়াও। ফাইনাল গেমের লাস্ট সিটটা কে পাবে, তা এখনই ডিসাইড হবে।
ওহ, ও তো ডিরেক্ট মুখে পুরে দিল! উফফ। দেখে স্পাইসি লাগছে। চিবিয়ে নাও আগে। ওকে। ঝালটা ফিল করো। উঁহু!
তুমি ফিস্টেবলস চকোলেট মিল্ক খেয়েছো? না, করিনি। ফিস্টেবলস নিয়ে কী মতামত? খেতে ইচ্ছে করছে, চিপসও খাইনি তাও। ওকে। নাও কিছু ফিস্টেবলস চকোলেট মিল্ক।
ওহ, আচ্ছা। ভাই, এটা তোমার ট্রাই করা উচিত। ওই তো তোমার জন্য রাখা আছে। তুমি কি আমার প্রোডাক্টের প্রমোশন করছ, নাকি ওকে বোকা বানানোর ট্রাই করছ? দুটোই আসলে করছি।
আমি আগেও এই ঝাল চিপস খেয়েছি। নিঃশ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে যায়। ওকে। শ্বাস নাও। হ্যাঁ। মারাত্মক ঝাল! ও যখন ওভাবে শ্বাস নিল, তুমি কী দেখলে? ও মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে।
তোমার চোখগুলো চকচক করছে ভাই। ওহ, হ্যাঁ। দাঁড়াও, ওর চোখের দিকে তাকাও। কিন্তু তোমার ঘাম হচ্ছে না। ধুর ভাই, বোঝা যাচ্ছে না। আসল ক্লু খোঁজার ট্রাই করো। প্রথমে একটা নরমাল চিপস খাওয়া হয়েছিল, আর তারপর একটা ঝাল চিপস।
ওহ। আমার মন বলছে তুমি ঝালটা খাওনি। এটাই ফাইনাল আনসার। আচ্ছা। আমার বিশ্বাস তুমি খেয়েছ… ওহহ। নরমাল চিপসটা।
ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। ঝাল চিপসটা! তোমার ঝালে অবস্থা খারাপ হচ্ছে না? না। আমি ‘হট ওয়ানস’ শো-তে গিয়েছিলাম। এটা তো সহজ।
একেই বলে বস! ওহ, ফিল! আমি ঝাল খেতে ভালোবাসি। এই ফিলটাই চেয়েছি। ওহ মাই গড! অলরাইট, জে সি। দুধ লাগবে না? না, ঠিক আছি। উফফ। ওহ ওয়াও, কাণ্ড দেখো একবার!
আর তোমরা তিনজন এখন লড়বে ফাইনাল গেমে, নিজেদের কোনো এক ফ্যানের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিততে! জাস্ট ক্রেজি!
আমি যদি এই এক মিলিয়ন ডলার জিততে পারি, তবে আমার কমিউনিটির যারা একটু পিছিয়ে আছে, তাদের গেমিং ইকুইপমেন্ট আর গেমিং কনসোল গিফট করতে চাই।
আমি ২০ হাজার ডলার করে মোট ৫০ জনের মধ্যে এই টাকাটা ভাগ করে দেব।
আমরা এখন যে ভিডিওটা করছি, আমি পুরো সেটআপটা একটা ভিডিও গেমের ভেতর তৈরি করব এবং আমার কমিউনিটিকে খেলতে দেব। আর এক একবারে প্রায় ৫০ হাজার ডলার করে গিফট করব।
মিলিয়ন ডলার গেম—রেডি? ওহ মাই গড! হ্যাঁ। আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।
নস্টালজিক ট্যুর করতে এসে ইউটিউব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গেমটা না খেললে কি চলে? ওয়াও! যে গেম দিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়।
অনেকেরই ক্যারিয়ারের শুরু এটা দিয়ে। কোনটা সেটা? ওটা ভেতরে নিয়ে এসো। কী এটা? এটা তো মাইনক্রাফট!
এই গেমে তোমরা মাইনক্রাফট বাড়ি বানানোর আনলিমিটেড মেটেরিয়ালস পাবে। ওহ মাই গড!
মাইনক্রাফট হলো পৃথিবীর মোস্ট পপুলার গেম, আর এই চ্যানেলে ওটাই আমার প্রথম ভিডিও ছিল। আজকের ইউটিউব তৈরিতে এই গেমের বড় ভূমিকা আছে।
তুমি মাইনক্রাফটের কটা ভিডিও বানিয়েছ? প্রায় ২ হাজার। আমারও প্রায় ২ হাজার। তুমি কয়টা বানিয়েছ? জিরো!
তোমাদের কাছে ১ ঘণ্টা সময় আছে সবচেয়ে সেরা মাইনক্রাফট হাউস তৈরি করার… আর তারপর এলিমিনেট হওয়া সব ইউটিউবারদের আবার ডেকে আনা হবে সেরা বাড়িটার জন্য ভোট দিতে। যে সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, সে তার ফ্যানদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতে নেবে।
ওয়াও! অলরাইট। থ্রি, টু, ওয়ান, স্টার্ট বিল্ডিং!
একবারে পাঁচটা করে নিচ্ছি। ওয়াও! ফিল তো শুরুতেই ফর্মে আছে।
আমার একটা আইডিয়া আছে। আমি একটা ট্রি-হাউস বানাব। ওটা কিন্তু দারুণ হবে!
আমি এমন বাড়ি বানাতে চাই যাতে কেউ ভেতরে ঢুকলে তার মনটা ভালো হয়ে যায়।
আর তোমাদের চেস্ট বক্সটা দেখতে ভুলো না যেন। ক্রাফটিং টেবিল আছে। এই সবকিছুই ওদের চেস্টে আছে। আমরা কিছু ফেন্স আর সুন্দর সুন্দর ফুল পেয়েছি।
সবাই এখন বাড়ি তৈরিতে চরম ব্যস্ত, তবে সত্যি বলতে, কাজ এখনো অনেক বাকি।
ওহ না না, এক্সট্রিমলি সরি! ওহ নো, নো, নো! খেলাটা এমন নাকি? আমি লাথি দিয়ে তোমারটা ভাঙতে পারি। তোমার কাছে কিছুই নেই। চিল, রিল্যাক্স। তোমার কিচ্ছু হবে না। এক মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন!
কিছু গোলাপের ঝাড় বানাব ভাবছি। আমার ছেলে দেখলে খুব খুশি হবে। শুধু মাইনক্রাফট বলে নয়, ও বাগান করতে খুব ভালোবাসে।
আমি বাচ্চাদের সাথে খেলার চেষ্টা করি, কিন্তু ওরা আমার চেয়েও… আর বলে, "ধুর বাবা!"
এই ব্লকগুলো একসাথে জোড়া লাগাতে যে এত টাইম লাগবে, আমি আসলে ভাবতেই পারিনি।
অর্ধেক সময় শেষ! আলী প্রায় কাছাকাছি, ফিলেরটা একটা দুর্গের মতো লাগছে আর জেলিরটা বড়জোর একটা গাছ হয়েছে।
জেলি কী বানানোর ট্রাই করছে, সেটাই বুঝলাম না। সত্যি বলতে, আমিও কিছু বুঝছি না। সত্যি বলতে, আমিও জানি না! ওহ ভালোই হলো! ওকে।
আর ওরা যখন নিজেদের বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত… ইউটিউবের সিইও আমার জন্য একটা সারপ্রাইজ নিয়ে এসেছেন। ফিরছি।
হ্যালো নিল! জিমি, তোমাকে দেখে ভালো লাগলো। আমাদের ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার সেলিব্রেট করতে একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ আছে। দেখতে রেডি? একদম রেডি। ওকে, তাহলে দেখা যাক।
ওয়াও! ওহ মাই গড! আর রঙটাও থিমের সাথে মিলে গেছে। একদম তাই, চমৎকার। অসাধারণ!
অনেক ধন্যবাদ। আর অবশ্যই আমাদের সাবস্ক্রাইব করার জন্য আপনাদের সবাইকে থ্যাংকস। অনেক কিছু বলার আছে, তবে সব ভিডিওর শেষেই বলব। আপাতত চলো দেখে আসি কে জিতছে।
সময় চলে যাচ্ছে কিন্তু! কাজ শেষ না করার চেয়ে মোটামুটি একটা কিছু করা অনেক ভালো।
ক্রিয়েটরস, তোমাদের কাছে অফিশিয়ালি আর মাত্র ৫ মিনিট সময় আছে।
এটার নাম 'লিটল জিমি দ্য বি'। ওহ! এটা মৌমাছির বাড়ি তাহলে? নরমাল বাড়ি বানালে সবার নজর কাড়া একটু কঠিন হয়ে যায়।
জেলি, তোমার আইডিয়াটা চরম! তাই মনে হয়? দেখতে ইউনিক লাগছে।
একটু টেনশন হচ্ছে। আমার আর ফিলেরটা কাছাকাছি স্টাইলের। জেলিরটা একদম আলাদা। বাকিটা পার্সোনাল চয়েসের ওপর নির্ভর করছে।
আর মাত্র এক মিনিট বাকি, সবাই জলদি করো! এই বাড়িগুলোর মধ্যে একটি তার সাবস্ক্রাইবারদের ১ মিলিয়ন ডলার জিতাবে।
ধুর, শেষ! টাইমার জিরো হলে হাত থেকে সব ছাড়তে হবে। কোনো মুভমেন্ট বা ক্রাফটিং আর চলবে না। কিচ্ছু না!
১০! ৯! ৮! ৭! ৬! ৫! ৪!
ভিডিওর শুরুতে আমাদের সাথে ৫০ জন এমন ইউটিউবার ছিলেন যাদের দেখে আমরা বড় হয়েছি, আর এখন বাকি আছেন মাত্র ৩।
২, ১! স্টপ! আর কেউ হাত দেবে না। আমার শেষ! ডিজাইন লক হয়ে গেছে। এলিমিনেট হওয়া সব ইউটিউবারদের ডাকা যাক ভোট দেওয়ার জন্য।
জানি না ভাই, মনে হয় না আমি জিততে পারব। তোমার কী মনে হয়, কে জিতবে? আমার মনে হয় ওই বাড়িটাই। ওয়াও।
প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন স্পার্কলসের চেয়ে বেটার আর কে হতে পারে?! নিঃসন্দেহে ও মাইনক্রাফটের সর্বকালের অন্যতম পপুলার ক্রিয়েটর! প্রথম ভোট দেওয়ার চাপটাই আলাদা।
মাইনক্রাফটে কত ঘণ্টা কাটিয়েছ? প্রায় এক বছরের মতো। তার মানে মাইনক্রাফটের বাড়ি জাজ করার জন্য তুমি একশো ভাগ কোয়ালিফাইড। টুকটাক তো দেখেছি।
এদিকে এসো। জেলিকে দিয়ে শুরু করি। আমার মাইনক্রাফট প্রজেক্টে স্বাগতম। এটা হলো একটা ট্রি-হাউস। আচ্ছা। হ্যাঁ।
এখানে একটা এন্ট্রি আছে। যেমন ধরো কোনো শেয়াল… আচ্ছা। কিংবা কাঠবিড়ালি যদি গাছে উঠতে চায়, তাদের জন্য পাশে সুন্দর একটা মই আর ঢোকার রাস্তা আছে।
এবার আলী-এ'র আইডিয়া শোনা যাক। দুই পাশে গাছ আর বাইরে কিছু চমৎকার ইনডোর প্ল্যান্টস আছে।
যদি ভেতরে ঢুকি, দরজাগুলো লক করা যায়। ওহ, হ্যাঁ। যাতে জম্বিরা ভেতরে আসতে না পারে। রাতটা কেটে গেলে যখন ওরা চলে যাবে, আমরা দরজা আবার খুলে দেব।
আর এবার ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। ইয়েস স্যার! মাইনক্রাফটে সবচেয়ে কম অভিজ্ঞতা। তুমি কি এর আগে কখনো মাইনক্রাফট খেলেছ?
সত্যি বলতে, সেই কারণেই আমার ডিজাইনটা এমন হয়েছে। আমি বড়জোর ৪০ ঘণ্টার মতো খেলেছি। আমার ছেলে এটা নিয়ে আমার পিছে লাগে। ভুল কাঠ দেয়ায় ও আমার ওপর চেঁচিয়েছিল! এই পুরো জিনিসটা জাস্ট ওর জন্যই বানানো। একভাবে এটাই আমাদের একসাথে তৈরি প্রথম বাড়ি।
ওহ ভাই, ডিসিশন নেওয়া কিন্তু বেশ কঠিন! আমি সত্যিই ইম্প্রেসড। তোমার কোন বাড়িটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে?
আমার মনে হয় আলী-এ'র বাড়ির স্ট্রাকচারটা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ইয়েসসস! আলী-এ এক পয়েন্ট পেয়ে গেল।
আর এরপর একে একে বাকি ইউটিউবাররাও ভোট দিতে শুরু করল…
ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো। আমি আলী-এ'র বাড়ির সাথেই যাচ্ছি। আলীর আরও এক ভোট। ওহ হ্যাঁ, ফিল। আমি আলী-এ'র বাড়িটা চুজ করছি। আমার ভোট ফিলের জন্য। আমি আলীকে ভোট দিচ্ছি। আমার ভোট ফিলকে। আমি আলীকে চুজ করলাম।
মনে হচ্ছে অনেকেই আলীর তৈরি করা নিখুঁত আর্কিটেকচার পছন্দ করেছে। এটাই মাইনক্রাফট আর্কিটেকচার। আমার ভোট ওখানেই যাচ্ছে। আলী-একে দিচ্ছ? হ্যাঁ।
আবার বাকিদের ফিলের ছেলের প্রতি ইমোশনটা টাচ করেছে। আমি ইমোশনের সাথেই যাব ভাই। আমার জন্য বড় ব্যাপার। আমিও ফিলের সাথেই আছি।
গল্পটা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেছে। ছেলের জন্য তুমি এত কষ্ট করে এটা বানালে, ও যখন ভিডিওটা দেখবে… জাস্ট ভাবা যায় না!
তিনটার মধ্যে জেলিরটাই ভালো লেগেছে। ওহ! হ্যাঁ, জেলি। তুমিই আমাকে প্রথম ভোট দিলে ভাই! আমার ভোট তোমার জন্যই। অনেক ধন্যবাদ ভাই। অলরাইট।
৩১টা ভোটের মধ্যে জেলির একটা! জেলি, তুমি চাইলে বাকিদের সাথে চলে যেতে পারো।
আরে শোনো শোনো! জিমি, একটু শান্ত হও ভাই। অন্তত ভিডিওর শেষ পর্যন্ত থাকতে দাও! ওকে।
আমি ভেবেছিলাম সবার চেয়ে আলাদা কিছু বানালে হয়তো নজরে আসা যাবে। ওরা ভোট দিয়ে দিয়েছে। আমি জাস্ট বলছিলাম—আমি ওদের বুঝিয়ে বলবো। কিন্তু প্ল্যানটা খাটল না।
তবে ফিল আর আলীর মধ্যে লড়াইটা একদম টাই ছিল।
তবে ফিল আর আলীর মধ্যে লড়াইটা একদম টাই ছিল।
আমার ভোট আলী-এ'র জন্য। আমি ফিলকে চুজ করলাম। মনে হচ্ছে আলী-এ সহজেই জিতবে। আর আমি ফিলিপকেই ভোট দেব। আলী-এ। আমি ফিলিপের পক্ষেই আমার ভোটটা দিচ্ছি। আলী-এ। আমি আলীর সাথেই যাচ্ছি। সরি জেলি ভাই! আরে সরি, সরি ভাই!
আমি শুরুতেই বেগুনি ফুলগুলো খেয়াল করেছি আর ওটা দেখে আমার বিড়াল নায়লার কথা মনে পড়ে গেল, যে কয়দিন আগেই মারা গেছে। ফিলের আইডিয়া খুব পছন্দ হয়েছে, তাই ভোটটা ওকেই দিলাম।
আমি একটা গাছে মশাল জ্বলতে দেখছি যেটা যেকোনো সময় পুড়ে ছাই হতে পারে। একটা আলো ছাড়া বাড়ি দেখছি যেখানে জম্বি এসে সবাইকে মেরে ফেলবে। এই বাড়ি দেখছি যেটা পারফেক্টলি কাজের। ফিলের বাড়িই পছন্দ।
আমার ভোট আলী-এ'র বাড়ির জন্য। ফিলের বাড়িটা সবচেয়ে বড়, তাই ডিসিশন খুব ইজি ছিল। ফিলের পক্ষে ভোট দিচ্ছি।
আর এভাবেই সব ভোট দেওয়া শেষ হলো…
আমি এসব একদম সাপোর্ট করি না।
অলরাইট, রেজাল্ট আমাদের হাতে চলে এসেছে! এক মিলিয়ন ডলারের উইনার হলেন… জেলি তো একদমই নও। তুমি কোনো ভোটই পাওনি ভাই, সো সরি!
ডাকার জন্য থ্যাংকস জিমি। তোমরা সবাই সত্যিই কড়া কম্পেটিটর ছিলে। ধন্যবাদ ভাই।
দুজনের বাড়িই ভালো লেগেছে। কে জিতছে আমি নিজেও আন্দাজ করতে পারছি না। তবে উইনার তোমাদের দুজনের মধ্যেই একজন, যে সাবস্ক্রাইবারদের এক মিলিয়ন ডলার দেবে। বেস্ট অফ লাক! গুড লাক।
নিজের সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার জিতে নিয়েছেন… ফিলিপ ডিফ্রাঙ্কো! কী বললে?!
ওহ মাই গড, ওহ মাই গড! ওহ মাই গড! লেটস গো! ফিলিপ! ফিলিপ! ফিলিপ! ওহ গড! উফফ!
এটা অবিশ্বাস্য! তুমি সত্যিই এটা করে দেখালে! বিশ্বাস হচ্ছে না। প্রথম রাউন্ডেই প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিলাম! হ্যাঁ।
এক মিলিয়ন ডলার তোমার সাবস্ক্রাইবারদের মধ্যে কীভাবে দিবে? আমরা ২০ হাজার ডলার করে মোট ৫০ জনকে এই টাকাটা দেব। ২০ হাজার করে ৫০ বার!
হেই গাইস, ভিডিওটা শেষ করার আগে আমি আমার ছোটবেলার এই ঘর থেকে কিছু বলতে চাই। আজ আমার ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার আছে ঠিকই, কিন্তু এক সময় এখানে আমার জিরো সাবস্ক্রাইবার ছিল। এই ঘরেই আমি আমার চ্যানেল শুরু করি, আর এই ভিডিওটা বানানোর মেইন রিজনও ওটাই, যাতে সেই সব ওজি ইউটিউবারদের সম্মান জানাতে পারি যাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। কারণ আমি যখন ছোট ছিলাম, ঘরে বসে এদের অনেকের ভিডিও রোজ দেখতাম।
তাই আমি আরও একবার এখানে আসা ৫০ জন ক্রিয়েটরকেই মন থেকে থ্যাংক ইউ বলতে চাই। আপনারা সবাই দারুণ! প্রত্যেকেই ভীষণ ভালো মনের মানুষ। আমি আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
আর যারা আমাদের ভিডিওগুলো দেখছেন, তাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা ভিডিও না দেখলে আজ আমি বিশ্বজুড়ে কুয়ো বানাতে পারতাম না, দুস্থদের খাবার দিতে পারতাম না। এত ভালো কাজ করা আমার পক্ষে পসিবল হতো না।
যদি আপনাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনও ভিডিও দেখতেন, বাকিরা চলেও যেতেন আর আমি জাস্ট ১০ জনের সামনে কথা বলতাম… ইউটিউবে কাজ করে যেতাম। আমি এই কাজটাকে আপনাদের কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসি। এত ভিউয়ার্স পাওয়া আমার কাছে এক পরম আশীর্বাদ। শেষে একটা কথাই বলব, আপনাদের এই ভালোবাসাকে আমি কোনোদিন ভুলব না। ভিডিওটা দেখার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কুকির জন্য সাবস্ক্রাইব করুন।
নিবন্ধ প্রকাশিত
