গিজার পিরামিডে ১০০ ঘণ্টা: মিস্টার বিস্টের দল কীভাবে পিরামিড নির্মাতাদের খোঁজ করল

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মিস্টার বিস্ট (জিমি) ও তাঁর বন্ধুরা মিশরের গিজার পিরামিডগুলো ঘুরে দেখার জন্য ১০০ ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন। এর মধ্যে এমন অনেক জায়গাও ছিল যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ, কারণ জায়গাগুলো বিপজ্জনক বা ভঙ্গুর। পুরো ভিডিওর পেছনে একটি প্রশ্ন ছিল: পিরামিড কারা বানিয়েছিল? অনেকে এগুলোর কৃতিত্ব মিশরের আগের কোনো সভ্যতাকে দেন, কেউ কেউ ভিনগ্রহীদের কথাও বলেন। অন্যদিকে মিশরবিদরা নিশ্চিত যে প্রাচীন মিশরীয়রাই তাঁদের রাজাদের সমাধি হিসেবে এগুলো তৈরি করেছিলেন। জিমি শুরুতেই বলেন, ভিডিওর শেষে তাঁরা জানবেন কোন তত্ত্বটি সত্য। মজা আর ভয়ের মুহূর্তের পাশাপাশি পুরো যাত্রায় তিনি গাইড ও মিশরবিদদের কাছ থেকে এই প্রশ্নের প্রমাণ সংগ্রহ করেন।

13 মিনিটে পড়া

খুফুর পিরামিড দিয়ে শুরু: রাজার দেহ কোথায়?

যাত্রা শুরু হয় গ্রেট পিরামিডে। দলের সঙ্গে ছিলেন গাইড রামি। তাঁর ভাষায়, এই পিরামিড প্রায় ৪৫০০ বছরের পুরনো। মিশরবিদদের মতে দলটি যে পথ ধরে এগোচ্ছিল, সেটি রাজা খুফুর সমাধির দিকে যায়, আর সম্ভবত এই ফারাওই পিরামিড তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। পথে পড়ে "গ্র্যান্ড গ্যালারি" নামের বিশাল করিডোর।

জিমি জানতে চান, পিরামিডের কত শতাংশ এখন পর্যন্ত দেখা গেছে। উত্তর আসে, এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনোই জানা যাবে না। কিংস চেম্বারে পৌঁছে বলা হয়, ৪৬০০ বছর আগে এখানে রাজার মমিকৃত দেহ থাকতে পারে, এবং "আমরা বিশ্বাস করি" এটিই চূড়ান্ত বিশ্রামস্থল। "বিশ্বাস" শব্দটিতে জিমি থেমে যান: নিশ্চিতভাবে জানা নেই কেন? তাঁর নিজের ধারণা, পিরামিডের ভেতরে এখনো অনাবিষ্কৃত কোনো কক্ষ আছে যেখানে রাজার দেহ থাকতে পারে। তিনি ঘোষণা দেন, পিরামিডের শত শত ফুট নিচ থেকে সবচেয়ে উঁচু স্থান পর্যন্ত খুঁজে তাঁরা এর উত্তর বের করার চেষ্টা করবেন। এই প্রশ্নটি ভিডিওর শেষাংশে আবার ফিরে আসে।

রাতে দলটি পিরামিডের পাশে বেস ক্যাম্পে থাকে। সেখানে খাবারের টেবিল আর ঘুমানোর তাঁবু ছিল, আর ক্যাম্প থেকে পিরামিড দেখার জন্য আলোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। জিমি মজা করে এটিকে "সবচেয়ে দামি নাইটলাইট" বলেন। পরের দিনের কাজ ভোর ৫টায় শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

খাফরের পিরামিড: আবরণ, গ্রাফিতি আর "অভিশাপ"

তালিকার পরের পিরামিড খাফরের। এর বিশেষত্ব হিসেবে বলা হয়, এই পিরামিড থেকেই জানা গেছে পিরামিডগুলোর বাইরের আবরণ কেমন ছিল। এক সময় সবগুলোই এরকম দেখতে ছিল। জিমি ঠাট্টা করে বলেন, ভিনগ্রহীরা বানানোর পরপরই নিশ্চয়ই এমন হয়েছিল। গাইড তা সঙ্গে সঙ্গে উড়িয়ে দেন।

রামি দলটিকে মাটির প্রায় ১০০ ফুট নিচে, পিরামিডের গভীরে নিয়ে যান। জিমির বর্ণনায় আধুনিক বিশ্বের খুব কম মানুষ সেখানে গেছেন। একটি কক্ষে তাঁরা কার্ডবোর্ডসহ নানা জিনিসপত্র দেখতে পান। জানা যায়, আগে এই কক্ষকেই রাজা খাফরের সমাধিস্থল মনে করা হতো, আর এখন পিরামিড পুনরুদ্ধারের কাজে এটি সরঞ্জাম রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এরপর রামি তাঁদের সেই কক্ষে নিয়ে যান যেখানে খাফরের দেহ রাখা ছিল বলে মনে করা হয়।

সমাধি কক্ষের দেয়ালে একটি গ্রাফিতি আর তারিখ দেখে সবাই অবাক হন। ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, যিনি এই সমাধি আবিষ্কার করেছিলেন বলে দাবি করেন, লেখাটি তাঁর। জিমি জিজ্ঞেস করেন, শবাধারে শুয়ে পড়া কি অসম্মানজনক হবে। গাইড বলেন, অসম্মানের চেয়ে অভিশাপ নিয়েই তিনি বেশি চিন্তিত থাকতেন। এ কথা শুনে দলটি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। জিমি স্বীকার করেন, রাজার সমাধি তাঁদের প্রশ্নের তেমন উত্তর দেয়নি।

ওসিরিসের সমাধি: পাতালের প্রবেশদ্বার

এরপর দলটি যায় দেবতা ওসিরিসের সমাধিতে। একে বলা হয় পাতালের প্রবেশদ্বার, আর বর্ণনা অনুযায়ী খুব কম মানুষ সেখানে গেছেন। পাতালের দেবতার সমাধি তাই মাটির বেশ গভীরে। খাড়া, গভীর সিঁড়ি দেখে কেউ জিজ্ঞেস করেন পড়ে গেলে কী হবে। উত্তর আসে, পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু।

নামার পথে তাঁরা মানুষের হাড় দেখতে পান, যা প্রায় ৩০০০ বছরের পুরনো বলে জানানো হয়। এর মধ্যে একটি খুলিও ছিল। সতর্ক করে দেওয়া হয়, নিচে এত গভীরে অক্সিজেন কম যে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। চ্যান্ডলার পানির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান এবং বাতাস পাতলা লাগছে বলে জানান। কক্ষের ঠিক মাঝখানে রয়েছে ওসিরিসের শবাধার, যা সম্ভবত পাতালের প্রবেশদ্বার বলে বর্ণনা করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, কার্যত কোনো মানুষ এর আগে এখানে আসেনি।

কক্ষের উপরের ডান কোণে একটি খাদ ছিল যেটি কোথায় গেছে কেউ জানে না। বন্ধুদের নিষেধ সত্ত্বেও কার্ল সেখানে উঠে পড়েন। তিনি জানান, তিনি একটি সরু তাকের ওপর আছেন, জায়গা ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে, আর মাত্র এক ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা অবশিষ্ট। তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল তিনি প্রাচীন মিশরের এমন এক সুড়ঙ্গে আছেন যেখানে আগে কেউ যায়নি। ততক্ষণে অক্সিজেনের নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছিল, তাই দলটি যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসে। জিমির ভাষায়, গ্রেট পিরামিডের লুকানো খাদগুলো দেখা পর্যন্ত তিনি বেঁচে থাকতে চান। তাঁর দাবি অনুযায়ী আধুনিক সময়ে সেখানে যাওয়া মানুষের সংখ্যা মহাকাশে যাওয়া মানুষের চেয়েও কম।

এর ফাঁকে দলটি পিরামিডের পাশে উটে চড়ে। একজন গাইড জানান, তাঁকে আগে উট কামড়েছে এবং তাতে ব্যথাও লেগেছিল। চ্যান্ডলার উটের পিঠে ভালো সময় কাটাননি।

মেনকাউরের পিরামিড: প্রথম অলংকরণ আর খিলানযুক্ত ছাদ

তৃতীয় পিরামিড মেনকাউরের। এখানে দলের সঙ্গে যোগ দেন পুরো গিজা মালভূমির পরিচালক আশরাফ। পিরামিডের নিচের দিকে তিনি ৪৬০০ বছর আগের গ্রানাইট আবরণের অবশিষ্টাংশ দেখান। একটি অংশ দেখিয়ে বলেন, এটি আগে কেমন ছিল বলে তাঁরা মনে করেন। জিমি লক্ষ করেন, প্রায় ৫০০০ বছর পরে এটুকুই টিকে আছে। এই অংশে জিমির বন্ধু নোলান অনুমতি নিয়ে পিরামিডে চড়েন। এক রক্ষী তাঁকে চিৎকার করে নামতে বলেন, পরে জানা যায় সেটা ছিল নিছক রসিকতা। নোলান ভেবেছিলেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ভেতরে প্রথম খাদটি মাটির প্রায় একশ ফুট নিচে নামে। সেখানে এমন একটি কক্ষ আছে যাকে প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে প্রথম অলংকরণমূলক খোদাইযুক্ত কক্ষ বলা হয়। খোদাইটি একটি "নকল দরজা"-র নকশা। আশরাফ ব্যাখ্যা করেন, প্রথম রাজবংশের পিরামিডগুলোর ভেতরে এটি ছাড়া আর কোনো অলংকরণ ছিল না। জিমি "চার-পাঁচ হাজার বছর" আন্দাজ করলে তিনি সংশোধন করে দেন: চার হাজার ছয়শ বছর।

এরপর সামনের কক্ষ বা অ্যান্টিচেম্বারে একটি উঁচু সুড়ঙ্গ দেখে জিমি জানতে চান ওপরে কী আছে। আশরাফ বলেন, কিছুই নেই। জিমি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি কি নিজে সেখানে গেছেন? আশরাফ জানান, যাননি, তবে নিচ থেকেই দেখা যাচ্ছে ওটা কেবল একটি সুড়ঙ্গ। জিমি তা মেনে নেন, কিন্তু মন্তব্য করেন: "সর্বদা সন্দেহবাদী থাকুন।"

জটিল পথের জন্য পরিচিত এই পিরামিডের শেষ অবরোহী খাদটি সমাধি কক্ষে গিয়ে পৌঁছায়। আশরাফ ব্যাখ্যা করেন, এর খিলানযুক্ত ছাদ তৈরি করা হয়েছে ওজনের চাপ কমানোর জন্য। জিমি জানতে চান ৫০০০ বছর আগে মানুষ এটা কীভাবে জানল। আশরাফের উত্তর: যদি তুমি একটি পিরামিড তৈরি করতে পারো, তুমি যেকোনো কিছু করতে পারো।

বের হওয়ার সময় মূল পিরামিডের পাশের তিনটি ছোট পিরামিড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আশরাফ জানান, এগুলো মেনকাউরের রানিদের, অর্থাৎ তাঁর তিন স্ত্রীর সমাধি।

ভিনগ্রহী তত্ত্ব নিয়ে আশরাফের জবাব

আশরাফ চলে যাওয়ার আগে জিমি সরাসরি ভিনগ্রহী তত্ত্ব নিয়ে তাঁর মত জানতে চান। আশরাফ তত্ত্বটি সরাসরি নাকচ করেন। তাঁর যুক্তি, মিশর জুড়ে ১২৪টি পিরামিড আছে, আর প্রতিবার ভিনগ্রহীদের ডেকে পিরামিড বানিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন হতে পারে না। তাঁর ঘোষণা: মিশরীয়রাই নির্মাতা। দলের সদস্য তারেক আবার ভিনগ্রহীর প্রসঙ্গ তুললে তাঁকে মজা করে থামিয়ে দেওয়া হয়।

স্ফিংস: সোনার মন্দির কি আছে?

এরপর দলটি স্ফিংসে যায়। সেখানে তাঁদের সঙ্গী ছিলেন ড. জাহি হাওয়াস, যাঁকে জিমি বর্ণনা করেন "এখানে মূলত সবকিছু খুঁজে পাওয়া" ব্যক্তি হিসেবে। জিমি অনলাইনে পড়েছিলেন যে স্ফিংসের নিচে সোনায় ভরা একটি মন্দির চাপা পড়ে আছে। তাই তিনি যাচাই করতে চান কে ঠিক: ড. জাহি, নাকি ইন্টারনেটের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।

জাহি তাঁকে স্ফিংসের ভেতরের একটি প্রবেশপথ দেখান। ঢুকে জিমি শুধু একটি খালি গর্ত দেখতে পান। জাহি তখন একটি "বিবৃতি" দেন: স্ফিংসের ভেতরে কিছুই নেই। এরপর ভবিষ্যতের জন্য বার্তা হিসেবে জিমি সেখানে একটি চিঠি পুঁতে রাখেন। জাহির ধারণা, এটি হাজার হাজার বছর টিকে থাকবে।

স্ফিংস অভিযানের সময় মাথার ওপর হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা যায়। জিমি জানান, তাঁর বন্ধুরা কোনোভাবে মিশরীয় সামরিক বাহিনী ও সরকারকে রাজি করিয়ে স্ফিংসের ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারে ওড়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। জাহি আরও আভাস দেন, গ্রেট পিরামিডের চূড়ায় নিয়ে গিয়ে তিনি এমন কিছু দেখাবেন যা আগে কখনো ক্যামেরায় দেখানো হয়নি।

আইমেরির সমাধি: ৪৬০০ বছরের পুরনো রঙ আর "হাউ-টু ভিডিও"

গ্রেট পিরামিডের চূড়ায় ওঠার আগে রামি দলটিকে আইমেরির সমাধিতে নিয়ে যান। রামির ভাষায়, এখানে মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঢোকার আগে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেন, দেয়াল ছোঁয়া যাবে না। বারবার দেয়াল ছোঁয়ার অভ্যাসের জন্য নোলানকে "ফিঙ্গার ফুড" আর "বাটারফিঙ্গার্স" বলে খেপানো হয়।

রামি জানান, আইমেরি ছিলেন সেই সময়ের মহাযাজক, যাঁর অবস্থান এখনকার পোপের মতো। এখানে কারও প্রবেশাধিকার না থাকার কারণ হলো ৪৬০০ বছর টিকে থাকা দেয়ালচিত্রের রঙ যেন নষ্ট না হয়। পুরো কক্ষজুড়ে রঙিন ছবি। জিমি একে এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে সুন্দর কক্ষ বলেন।

রামির মতে, এ ধরনের সমাধি কখনো কখনো তাঁদের কাছে পিরামিডের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো মিশরীয়দের দৈনন্দিন জীবন ব্যাখ্যা করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, প্রাচীন মিশরীয়রা কীভাবে ওয়াইন তৈরি করত তা এই দেয়ালচিত্র থেকেই বোঝা গেছে। ছবিতে আঙুর সংগ্রহ থেকে শুরু করে ওয়াইন বোতলজাত করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আঁকা আছে। জিমি একে ৫০০০ বছর আগের ইউটিউব ভিডিওর সঙ্গে তুলনা করেন, আর রামি সায় দিয়ে বলেন, এটা আসলে একটা "হাউ-টু" ভিডিও। অন্য দেয়ালে দেখা যায় সাধারণ মিশরীয়রা মহাযাজক আইমেরিকে রুটি, ব্র্যান্ডি ও বিয়ারসহ নানা নৈবেদ্য দিচ্ছেন।

শ্রমিকদের সমাধি: কঙ্কালে নির্মাতাদের প্রমাণ

চতুর্থ দিনে, হাতে মাত্র ২২ ঘণ্টা বাকি থাকতে, দলটি উটের বদলে দ্রুতগামী গাড়িতে করে পিরামিডের পাশ দিয়ে ছুটে যায় এবং শ্রমিকদের সমাধিতে চলমান একটি খননকাজে যোগ দেয়। সেখানে আবারও গাইড ছিলেন ড. জাহি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এগুলো পিরামিড নির্মাতাদের সমাধি, যাঁদের ৪৬০০ বছরেরও বেশি আগে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল।

জাহি ব্যাখ্যা করেন, অন্য অনেক সমাধিতে সুন্দর ছবি থাকলেও এই মানুষগুলো ছিলেন দরিদ্র। একটি সমাধিতে তিনি একজনের নাম দেখান, যা ভিডিওতে শোনা যায় "নেফির থাইস"।

জিমি এখানে একটি আপত্তি নিজেই তোলেন: দেয়ালের লেখায় পিরামিড নির্মাতাদের এখানে সমাহিত করার কথা থাকলেও সেটুকু দিয়েই প্রমাণ হয় না যে তাঁরা সত্যিই এখানে সমাহিত। তিনি বলেন, একটি জিনিস দেখার আগ পর্যন্ত তিনিও তাই ভাবছিলেন। সেটি ছিল খননস্থলে মাটিতে থাকা একটি খুলি। দর্শকরা প্রশ্ন তুলবেন ভেবে জিমি জাহিকে জিজ্ঞেস করেন, খুলিটা তিনি নিজে রেখে দেননি তো? জাহি জোর দিয়ে বলেন, না, এটিই কঙ্কালের আসল অবস্থান, ৪৬০০ বছর আগে থেকে, তাঁরা একে একটুও সরাননি। জিমি নিজ হাতে খুঁড়ে মেরুদণ্ডের হাড়ও দেখতে পান।

জাহি জানান, এখানে পাওয়া নারী-পুরুষ সবার কঙ্কালেই পিঠে চাপের চিহ্ন ছিল। জিমি অনুমান করেন, এর কারণ ছিল দুই টনের ব্লক টানা, আর জাহি তাতে সায় দেন। জিমি এখান থেকে উপসংহার টানেন: এ কারণেই জাহি বারবার বলেন ভিনগ্রহীরা পিরামিড বানায়নি, কারণ শ্রমিকদের মৃতদেহ এখানেই আছে। জিমি একে সম্ভবত তাঁর জীবনের সবচেয়ে দারুণ কাজ বলেন।

গ্রেট পিরামিডের সবচেয়ে নিচে: খালি "ছলনা কক্ষ"

শেষ অভিযান গ্রেট পিরামিডের সবচেয়ে উঁচু স্থানে ওঠা। তবে তার আগে গাইডের পরামর্শে দলটি প্রথমে পিরামিডের সবচেয়ে নিচের বিন্দুতে নামে, প্রায় ৩০০ ফুট লম্বা একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে। জিমি জানতে চান, ফারাওরা ওঠানামার জন্য একটি ভালো সিঁড়ি কেন বানাননি। রামির উত্তর: মমি আর সম্পদ রক্ষা করাই ছিল উদ্দেশ্য, আর এটাই পিরামিডের মূল কথা।

ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একজন সদস্য সরু পথে প্রচণ্ড কষ্ট পান। প্রায় এক ঘণ্টা লড়াইয়ের পর দলটি নিচে পৌঁছায়। কারও মাথা ঘোরে, কারও হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়। নিচের কক্ষটি বিশাল, কিন্তু রামি জানান, এটি প্রথম আবিষ্কারের সময় এখানে কিছুই পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি আরেকটি ছলনা, অর্থাৎ একটি ডিকয় কক্ষ।

জিমি অবাক হন যে এত পরিশ্রম করে শুধু একটি ছলনা কক্ষ বানানো হয়েছিল। রামি বলেন, ঠিক এটাই ভাবিয়ে তোলে। এখান থেকে জিমি প্রথম দিনের প্রশ্নে ফিরে যান: যে কক্ষটিকে রাজার কক্ষ বলে ধরা হয়, সেটিও কি আসল, নাকি আরেকটি ছলনা? যদি ছলনা হয়, তাহলে খুফুর দেহ এখনো পিরামিডের অন্য কোথাও থাকতে পারে। ভিডিওর বর্ণনায় এই ছলনা কক্ষকে পিরামিডগুলো রাজাদের সমাধি হিসেবে নির্মিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এই কক্ষেই পিরামিডের গভীরতম বিন্দু, আর জিমি সেখানে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন যে তিনি পিরামিডের সর্বনিম্ন বিন্দুতে আছেন।

কিংস চেম্বারের ওপরের লুকানো কক্ষ ও "খুফুর বন্ধুদের দল"

নিচ থেকে সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দলটি ড. জাহির সঙ্গে দেখা করে। জাহি জানান, ওপরে মাত্র পাঁচজন যেতে পারবেন। কারা যাবেন তা ঠিক হয় রক-পেপার-সিজার্সে, আর নোলান বাদ পড়েন।

দলটি প্রথম দিনে কিংস চেম্বারে যাওয়ার সেই করিডোরে ফিরে আসে। ভিডিও শুরু হয়েছিল এই সুড়ঙ্গের নিচ দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে তার ওপরের লুকানো কক্ষগুলোতে উঠে। বলা হয়, গত ৫০০০ বছরে যতজনের কথা জানা যায়, তাঁদের মধ্যে ৫০ জনেরও কম এখানে এসেছেন। একজন সদস্য ঠিক এই সময়ে জানান যে তিনি উচ্চতায় ভয় পান। খাড়া সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়, আর জিমি স্বীকার করেন তিনি ভেবেছিলেন কাজটা অনেক সহজ হবে।

জাহি ব্যাখ্যা করেন, নিচে আরও দুটি কক্ষ আছে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তিন, চার ও পাঁচ নম্বর কক্ষ। চার নম্বর পেরিয়ে দলটি পিরামিডের ভেতরের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছায়। সেখানে অনেক বাদুড় ছিল, আর হাতে সময় ছিল মাত্র দুই মিনিটের মতো।

এখানেই জাহি সেই জিনিসটি দেখান যার আভাস তিনি আগে দিয়েছিলেন: পিরামিড নির্মাণকারী দলগুলোর একটির নাম লেখা একটি গ্রাফিতি। তিনি পড়ে শোনান: "হেবার" অর্থ দল, "সিমসু" অর্থ বন্ধু, আর কার্টুশের ভেতরে লেখা খুফু। অর্থাৎ "খুফুর বন্ধুদের দল"। জাহির কথায়, এটি ৪৬০০ বছর আগে লেখা হয়েছিল।

উপসংহার: "আমরাই নির্মাতা"

শেষে জিমি পুরো যাত্রার প্রমাণগুলো একসঙ্গে তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, মিশরবিদরা দেখিয়েছেন যে তাঁদের হাতে থাকা সেরা প্রমাণ মিশরীয়দের দিকেই নির্দেশ করে। শ্রমিকদের সমাধি এবং কায়িক শ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কঙ্কালগুলো তার একটি অংশ। স্ফিংসের নিচে গোপন কক্ষ বা গুপ্তধনের সন্ধানেও কিছু পাওয়া যায়নি, ভিনগ্রহীর কোনো চিহ্নও নেই। জিমির বর্ণনায় গবেষকদের কাছে এই গ্রাফিতিটি তাঁদের দাবির কফিনে শেষ পেরেক, যাঁরা সন্দেহ করেন যে প্রাচীন মিশরীয়রাই তাঁদের ফারাওদের সমাধি হিসেবে পিরামিড বানিয়েছিলেন।

তবে একটি প্রশ্ন ভিডিওতে খোলাই থেকে যায়: খুফুর দেহ আসলে কোথায়। ছলনা কক্ষ দেখার পর জিমি নিজেই সম্ভাবনা তুলেছিলেন যে পরিচিত রাজকক্ষটিও আসল না হতে পারে, কিন্তু এর কোনো উত্তর মেলেনি। অভিযান শেষে জিমি বলেন, তিনি জানেন না মিশর কেন তাঁদের এত কিছু করার অনুমতি দিয়েছে, তবে তিনি এর জন্য চিরকৃতজ্ঞ।