শব্দরোধী সাদা ঘরে সাত দিন: নির্জন কারাবাসে জিমির (MrBeast) মানসিক ভাঙনের ধারাবিবরণী

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে জিমি (MrBeast) চেষ্টা করেন সাত দিন, অর্থাৎ ১৬৮ ঘণ্টা, একটি শব্দরোধী সাদা ঘরে কাটাতে। সেখানে কোনো মানুষের সংস্পর্শ থাকবে না, কোনো উদ্দীপনাও থাকবে না। প্রশ্নটা ছিল, বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হলে একজন মানুষের মন কতটা টিকে থাকে। ঘরে ঢোকার আগে জিমি বলেছিলেন, তিনি আশা করেন পাগল হয়ে যাবেন না। শেষে তার নিজের মূল্যায়ন ছিল, এটি কতটা কঠিন হবে জানলে তিনি কখনোই এটি করতেন না।

15 মিনিটে পড়া

ঝুঁকি ও তত্ত্বাবধান: কেন একজন ডাক্তার বাইরে বসে ছিলেন

জিমি শুরুতেই বলেন, চ্যালেঞ্জটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপজ্জনক। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ছিল বাইরে একজন ডাক্তার রাখা, যিনি নজর রাখবেন তিনি যেন পাগল হয়ে না যান। এই ডাক্তার নিজের পরিচয় দেন এভাবে: তিনি তেইশ বছর মানসিক হাসপাতালে কাজ করেছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি তিনি যা দেখেছেন তার চেয়ে অনেক খারাপ। তার সতর্কবার্তা ছিল, সাদা ঘরে ৫০ ঘণ্টা কাটানোর মধ্যেই যেকোনো কিছু স্থায়ী মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, অথচ জিমি থাকতে যাচ্ছেন ১৬৮ ঘণ্টা।

জিমির ভাষ্যে, তিনি সত্যিই মন হারাতে শুরু করে "সাইকোসিস" নামের অবস্থায় চলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দলকে তাকে টেনে বের করতে হবে, কারণ এতে তার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। ডাক্তার ব্যাখ্যা দেন, মস্তিষ্কে তথ্য না এলে তা পাগলামি, হ্যালুসিনেশন আর প্যারানয়া তৈরি করে। দলের একজন মনে করিয়ে দেন, জিমি এর আগে সাত দিন জীবিত কবরে থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তবে এবার তার কোনো সামাজিক যোগাযোগ থাকবে না।

ঘরে যা যা ছিল

পুরো এক সপ্তাহের জন্য জিমির কাছে ছিল ঘুমানোর একটি বিছানা, কলমসহ একটি নোটবুক, একটি রিফিলযোগ্য জলের বোতল, টুথপেস্টসহ টুথব্রাশ, একটি সাবান, আর বাথরুমের জন্য একটি টয়লেট ও একটি সিঙ্ক। খাবার আসত ১০০ ফুটেরও বেশি লম্বা একটি কনভেয়ার বেল্ট দিয়ে, যাতে কোনো মানুষের মুখোমুখি না হয়েই তাকে খাওয়ানো যায়। জিমি আরও জানান, পুরো সেটটি আক্ষরিক অর্থেই ধাতব শিকলে মোড়ানো ছিল। তার আশঙ্কা ছিল, আগুন লাগলে দল তালা খোলার আগেই হয়তো তিনি পুড়ে মারা যাবেন। তারপর তিনি ঠিক করেন, এ নিয়ে আর ভাববেন না।

প্রথম দিন: টাইল গোনা আর সময়বোধ হারানো

কী দিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন, সেই সমস্যা শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রায় নয় ঘণ্টার মাথায় জিমি দেয়ালের টাইল গুনে ফেলেন। দেয়ালে ছিল ১,৯০০টি, আর ছাদ ও মেঝে ধরলে মোট ২,৮৬০টি।

সময় নিয়ে বিভ্রান্তিও শুরু হয় প্রথম দিনেই। একসময় তার মনে হয় প্রায় ১৪ ঘণ্টা কেটে গেছে, অথচ তখন পেরিয়েছিল মাত্র দুই ঘণ্টা। শুরুর দিকে তার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল ক্ষুধা। তিনি স্বীকার করেন, ঢোকার আগে আরও খেয়ে আসা উচিত ছিল।

এই বিভ্রান্তি দলের পরিকল্পনারই অংশ ছিল। তারা জানায়, খাবার পাঠানো হবে এলোমেলো সময়ে, যাতে তিনি সময় আন্দাজ করতে না পারেন। উদাহরণ হিসেবে তারা সন্ধ্যা ছয়টায় তাকে সকালের নাস্তা পাঠায়। ঘরটি শব্দরোধী হওয়ায় খাবার পৌঁছানোর পরও জিমি দুই ঘণ্টা টের পাননি। শেষে খাবার খুঁজে পেয়ে দেখেন সেটা ঠান্ডা আর ভিজে গেছে। তবু তার কাছে তা দারুণ লেগেছে, কারণ তার ভাষায় তিনি কিছু অনুভব করা থেকেই বঞ্চিত।

ডাক্তারের পর্যবেক্ষণ: ধাতব প্লেট যখন আইফোনের মতো মজার

পরের কয়েক ঘণ্টা জিমি যতটা সম্ভব নিজেকে উদ্দীপিত রাখার চেষ্টা করেন। ডাক্তার লক্ষ করেন, তার হাতে কাজ করার মতো কিছুই নেই। তার মতে, এত তাড়াতাড়ি যদি তিনি একেবারে প্রাথমিক উদ্দীপনার দিকে চলে যান, তাহলে সাত দিন টিকবেন কি না সন্দেহ। ডাক্তার এটাকে কৌতূহলোদ্দীপক বলেন যে একজন মানুষের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিলে ধাতব প্লেটের মতো সাধারণ জিনিসও আইফোনের মতো মজার হয়ে উঠতে পারে। জিমি নিজে অভিজ্ঞতাটিকে "খুবই অমানবিক" বলেন এবং ঠিক করেন ঘুমিয়ে পড়বেন।

ঘুমহীনতা, দেয়াল বেয়ে ওঠা আর "আদিম প্রবৃত্তি"

একসময় জিমির ধারণা হয় তিনি প্রায় ৪০ ঘণ্টা পার করেছেন। দলের ভাষ্যে তার অনুমান প্রায় ছয় ঘণ্টা ভুল ছিল, আর বাস্তবে তখন দ্বিতীয় দিনের বিকেল চারটা। জিমি বলেন, সময়বোধ হারানো থেকে আরও সমস্যা তৈরি হয়। যা-ই করুন, তিনি ঘুমাতে পারছিলেন না, আর ঘরের আলো তার মস্তিষ্ককে এলোমেলো করে দিচ্ছিল।

ডাক্তারের ব্যাখ্যা ছিল, অনিদ্রার কারণ হলো আসলে তার ঘুমের প্রয়োজনই নেই। জিমি চান ঘুমিয়ে সময়টা পার করে দিতে। কিন্তু ডাক্তারের মতে তার উচিত জেগে থাকার সময় মনোযোগ ধরে রাখার মতো কিছু করার চেষ্টা করা। জিমিকে দেয়াল বেয়ে উঠতে দেখে ডাক্তার বলেন, এটি স্বাধীনতার জন্য মানুষের স্বাভাবিক তাগিদ, তিনি আদিম প্রবৃত্তির দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

খাবারের ক্রম নিয়ে প্যারানয়া

খাবার নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। প্রথম খাবারের কাছে যখন তিনি পৌঁছান, তখন বিকেল সাড়ে চারটা। তিনি বলেন খাবারটা ভালো, কিন্তু খুবই ঠান্ডা, বাকিটা খাওয়ার চেয়ে ক্ষুধার্ত থাকাই ভালো। এরপর দ্বিতীয় খাবার আসার পর তার মনে হয় মাত্র কয়েক মিনিট কেটেছে। তিনি নিজেই প্রশ্ন করতে থাকেন কতক্ষণ হলো, দুটোই খাওয়ার কথা কি না। তিনি একটা ব্যাখ্যাও দাঁড় করান: হয়তো দ্বিতীয় দিনে আরেকবার নাস্তা পাঠানো হয়েছে, কারণ আগের নাস্তা তিনি বেশি খাননি বলে দলের খারাপ লেগেছিল। জিমি পরে স্বীকার করেন, প্রথম খাবারটি কনভেয়ার বেল্টে কতক্ষণ পড়ে ছিল সে সম্পর্কে তখন তার কোনো ধারণাই ছিল না। দলের একজন লক্ষ করেন, তিনি একটু প্যারানয়েড হয়ে উঠছেন। ডাক্তার সতর্ক করেন, এটি সময়ের সঙ্গে আরও খারাপ হতে পারে।

হাজার পর্যন্ত গোনা: "পাগল দেখাচ্ছে, তাই না?"

মাত্র দুই দিন পেরিয়েছে, অথচ কী করবেন জিমি বুঝতে পারছিলেন না। তিনি ঠিক করেন দেখবেন কত পর্যন্ত গুনতে পারেন, এবং ১,০০০ পর্যন্ত যান। তার নিজের ব্যাখ্যা ছিল, ব্যাপারটা পাগলামি দেখায়, কিন্তু কিছুই করার না থাকলে পাগলামির কাছে আত্মসমর্পণ করাটাই একমাত্র পথ। ডাক্তারের পূর্বাভাস ছিল, সময় যত গড়াবে তার এলোমেলো কাজের ভান্ডার ফুরিয়ে আসবে। পরে ধারাবর্ণনায় জিমি নিজেই বলেন ডাক্তার ঠিক ছিলেন, কারণ চ্যালেঞ্জের পরের দিকে তিনি প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।

ঘুমের কৌশলের মূল্য: সাত ঘণ্টা পড়ে থাকা খাবার

বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটানোর কৌশল সময় পার করতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু অন্যভাবে ক্ষতিও করেছিল। একবার জেগে উঠে তিনি দেখেন খাবার পড়ে আছে, ভয়ানক ভেজা আর ঠান্ডা। দল জানায় খাবারটি সাত ঘণ্টা ধরে সেখানে ছিল। আইসক্রিম খেতে পারলে কী না দিতেন, এমন আক্ষেপও তিনি করেন।

চাপ নয়, উদ্বেগ: FOMO

একটা পর্যবেক্ষণ জিমির কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। সাধারণত একসঙ্গে অনেক ভিডিওতে কাজ করার কারণে তিনি প্রচণ্ড চাপে থাকেন। এখানে তিনি তেমন চাপ অনুভব করছিলেন না। তবে তীব্র উদ্বেগ হচ্ছিল, কারণ তার গুরুতর FOMO ছিল, মনে হচ্ছিল বাইরের পৃথিবীতে দারুণ সব জিনিস তিনি মিস করছেন। তিনি বলেন, এটা তার অভ্যস্ত আবেগের চেয়ে আলাদা। কিছু না করা যে এত কঠিন, সেটাও তার কাছে অবাক করার মতো ছিল।

কল্পনার পার্ক আর ৪৪৭টি চাল

প্রায় ৬৫ ঘণ্টায় জিমি হ্যান্ডস্ট্যান্ড করার চেষ্টা করেন এবং আক্ষেপ করেন, ঢোকার আগে কেউ এর মূল কৌশলটা শিখিয়ে দিলে ভালো হতো। ডাক্তারের মতে, তীব্র বিষণ্নতা এড়াতে তাকে এমন সব ধারণা উদ্ভাবন করতে হবে যা কেবল তার মনের ভেতরে থাকে। জিমি ঠিক তা-ই করেন। তিনি কল্পনা করেন একটি পার্কে হাঁটছেন, যেখানে সবুজ ঘাস, কেউ মাছ ধরছে, চারদিকে রোদ আর পাখির ডাক। ডাক্তার মন্তব্য করেন, তিনি আক্ষরিক অর্থেই মাথার ভেতরে দৃশ্য তৈরি করছেন। কিন্তু কল্পনাটা বাধা পায়, আর জিমি অভিযোগ করেন তার পার্কে হাঁটা নষ্ট হয়ে গেছে। দলের একজন বলেন, তারা তাকে পাগলামি করতে দেখছেন।

এরপর আসে ভাত, মিষ্টি আলু আর স্টেক, যা তার মতে চ্যালেঞ্জে পাওয়া সেরা খাবার। কিন্তু খাওয়ার আগে তিনি ট্রের ভাত গুনতে বসেন এবং জানান ধাতব ট্রেতে ৪৪৭টি চাল আছে। পরে ক্লান্ত লাগায় তিনি অনুমান করেন এটা হয়তো পঞ্চম দিনের রাত। বাস্তবে তিনি অর্ধেক পথও পার হননি, অথচ তার হিসাব পুরো একদিন এগিয়ে ছিল। তিনি বাথরুমে গিয়ে ঘুমান, কারণ সেখানে আলো কম উজ্জ্বল। জিমির মতে এটিই ছিল তার সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপ, কারণ সেখানে তিনি ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলেন।

৮৪ ঘণ্টা: স্প্যাগেটিওসের অক্ষর আর ভুলে যাওয়া নাম

চ্যালেঞ্জের মাঝপথে, ৮৪ ঘণ্টায়, দল ঠিক করে তাকে সময়টা জানাবে খাবারের মাধ্যমে। তারা স্প্যাগেটিওসের অক্ষর দিয়ে বার্তা পাঠায়। কিন্তু জিমি অক্ষরগুলো খেয়াল না করেই খেতে থাকেন। দল অবাক হয়ে দেখে, প্রতিবার অক্ষর পেলেই তিনি সেটা খেয়ে ফেলছেন। জিমি "স্প্যাগেটিওস" নামটাও মনে করতে পারছিলেন না, রোলের নামও ভুলে গিয়েছিলেন। শেষে একটা "N" অক্ষর চোখে পড়ে। পরে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, তারা নিশ্চয়ই আশা করেনি যে খাওয়ার আগে তিনি জাদুর মতো বুঝে ফেলবেন অক্ষরগুলো জুড়ে একটা শব্দ বানাতে হবে। দলের একজন বলেন, বেরিয়ে এসে এটা দেখলে জিমির নিজেকে খুব বোকা মনে হবে।

ক্ষুধা নাকি উদ্দীপনার অভাব

এই পর্যায়ে উজ্জ্বল আলো তাকে সত্যিই কাবু করতে শুরু করে। তিনি প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর ক্ষুধার কথা বলেন এবং জিজ্ঞেস করেন তার শরীরে কী হচ্ছে। ডাক্তারের ব্যাখ্যা ছিল, প্রয়োজনীয় সব ক্যালোরি পাওয়া সত্ত্বেও তিনি আরও খাবার চাইছেন, কারণ উদ্দীপনা খুব কম বলে তার মনে হচ্ছে তিনি ক্ষুধার্ত। জিমি বারবার কনভেয়ার বেল্টে খাবার আছে কি না দেখতে থাকেন।

একবার ম্যাকডোনাল্ডসের একটি ব্যাগ আসে। হালকা দেখে তিনি সন্দেহ করেন, ভেতরে খাবার না থাকলে বিষণ্ণ হয়ে পড়বেন, তবে খাবার ছিল। তিনি খাবারের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করেন এভাবে: প্রতিবার খাবার পেলে প্রায় ২০ মিনিটের বিশুদ্ধ সুখ, আবার মানুষ মনে হয়, হাসি থামে না। কিন্তু শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই হতাশার ঢেউ আসে, কারণ মনে হয় "এখন কী করব?"

নিজের বানানো খেলা

সেকেন্ডগুলো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যেতে থাকে। সময় আন্দাজ করার কোনো উপায় তার ছিল না, আর তিনি বলেন তার মন ধীরে ধীরে বোকা হয়ে যাচ্ছে, নিজেকে আরও ভালোভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। তিনি ম্যাকডোনাল্ডসের চিজবার্গারের র‍্যাপার আর টুথব্রাশ রাখার কাপ দিয়ে বাস্কেটবল খেলা বানান, লেব্রন, স্টেফ আর কোবের নাম নিয়ে শট নেন। তারপর বাস্কেটবল তার জিনিস নয় বলে বেসবলের দিকে যান, কিন্তু সেটাও ঠিকমতো হয়নি। তখন তার মনে পড়ে প্রথম খাবারের সঙ্গে একটি অবিনাশী প্লেট এসেছিল, আর তিনি সেটা ছুড়তে শুরু করেন। এতকিছুর পরও তার মন্তব্য ছিল, "আমি বিরক্ত।"

১১৩ ঘণ্টার অনুমান, ক্যামেরা আর গোপনীয়তা

চতুর্থ দিনে জিমি বলেন, তার মনে হচ্ছে কোনো এক সময় তিনি বেরিয়ে যেতে চাইবেন, কিন্তু যতই ভিক্ষা করুন বা চিৎকার করুন, দল যেন তাকে আগে বের হতে না দেয়। দলের একজন আশ্বাস দেন। নিজের প্রবৃত্তির ওপর ভর করে তিনি অনুমান করেন ১১৩ ঘণ্টা পার হয়েছে, বাকি ৫৫ ঘণ্টা। তিনি সম্পাদককে অনুরোধ করেন দর্শকদের যেন আসল বাকি সময়টা দেখানো হয়।

ডাক্তারের ধারণা ছিল, তিনি যা ঘটছে তা নিয়ে রাগান্বিত এবং সম্ভবত প্যারানয়েড হয়ে উঠবেন। জিমি গোপনীয়তার প্রশ্ন তোলেন এবং ঘরের প্রতিটি ক্যামেরা আঙুল দিয়ে দেখান, যেগুলো ২৪ ঘণ্টা তার ওপর নজর রাখছে। বাইরে দলের কেউ প্রস্তাব দেন কনভেয়ার দিয়ে একটা ক্যামেরা ছুড়ে দেওয়ার। জিমি সেটাকে বোলিং বানিয়ে খেলতে গিয়ে আঙুলে আঘাত পান।

তলানিতে: "নিজেকে পশুর মতো লাগছে"

জিমি স্বীকার করেন, এই ভিডিও কতটা কঠিন হবে তা তিনি মারাত্মকভাবে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। তার মনে হচ্ছিল তিনি একধরনের পশু, মানুষ হিসেবে সব অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। তার অনুমান তখন পঞ্চম দিনের মাঝামাঝি। তিনি বান্ধবী আর বন্ধুদের মিস করার কথা বলেন, এমনকি নোলানকেও। মানসিকভাবে তিনি নিজেকে আক্ষরিক তলানিতে বলে বর্ণনা করেন। এত দিন ধরে আছেন যে এখন ঘরটাই তার স্বপ্নে আসে। স্বপ্নে মনে হয় ছয়-সাত দিন হয়ে গেছে, জেগে উঠে বোঝেন সেটা স্বপ্ন ছিল। সময় জানার জন্য তিনি অনেক টাকা দিতেও রাজি বলে জানান।

৩৩ ঘণ্টা বাকি: শরীর দিয়ে সময় মাপার চেষ্টা

ঘড়ি ছাড়া জিমি নিজের শরীরকেই প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন, কেন তার মনে হয় চ্যালেঞ্জের ৩৩ ঘণ্টা বাকি:

  1. তিনি পাঁচবার ঘুমিয়েছেন।
  2. সাধারণত দিনে একবার মলত্যাগ করেন, আর এখানে আসার পর পাঁচবার করেছেন।
  3. ঘাড়ে প্রচুর চুল গজিয়েছে, যা সাধারণত এক সপ্তাহের মতো সময় নেয়।

তিনি বলেন, যদি দেখা যায় এখনও পঞ্চম দিন, বা ঈশ্বর না করুন চতুর্থ দিন, তাহলে তিনি মন হারিয়ে ফেলবেন।

এরপর আসে আরও অদ্ভুত এক ঘটনা। ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখেন ১,০০,০০০ পর্যন্ত গুনেছেন। জেগে উঠে তিনি ঠিক করেন ঘরের চারপাশে এক হাজার চক্কর দেবেন। পরে ফুটেজ দেখে তিনি এটাকে আক্ষরিক পাগলামি বলেন: সুস্থ থাকতে তিনি বৃত্তাকারে হাঁটার আশ্রয় নিয়েছিলেন। এক হাজার চক্কর বেশি হয়ে যায়, তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। পুরো চ্যালেঞ্জে তিনি সিঙ্ক থেকে জল খেয়েছেন, আর নিজেকে বিনোদন দিতে সব চেষ্টা করেও তার স্বীকারোক্তি ছিল, কিছুই কাজ করছে না।

প্রতিশোধ: বেইলি আর সুজির প্রত্যাবর্তন

এই পর্যায়ে দল আনে বেইলি আর সুজিকে, যাদের জিমি আগের এক ভিডিওতে ১০০ দিন একসঙ্গে আটকে রেখেছিলেন। এবার জিমিই সাদা ঘরে বন্দি, তাই তারা প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন। তাদের একজন বলেন, তুলনা করলে তিনি বরং কাউকে সঙ্গে নিয়ে আটকে থাকতে চাইতেন, অর্থাৎ জিমির একাকী অবস্থা তাদের অভিজ্ঞতার চেয়ে কঠিন। তারা কনভেয়ার দিয়ে খালি ট্রে পাঠান, খাওয়ার নাম করে নানা কৌশল খাটান। জিমি বিরক্ত হয়ে বলেন, "আমরা আবার এটা করছি না।" দলের পর্যবেক্ষণ, সেদিন এটাই ছিল তার পাওয়া সবচেয়ে বেশি উদ্দীপনা। জিমি শেষে মেনে নেন, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, আর হয়তো এটা তার প্রাপ্যই ছিল।

ঘুমই একমাত্র আশ্রয়

এরপর জিমির কথায় অন্ধকার সুর আসে। তিনি ভাবেন, মরার পর যদি চিরকালের জন্য সাদা ঘরে যেতে হয়, তাহলে খুব দুঃখজনক হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ঘুমালে স্বপ্নে নিজেকে বাইরের জগতে দেখেন, আর জেগে থাকলে কেবল হতাশ, একাকী আর দুঃখী থাকেন। তাই যত বেশি ঘুমাবেন, তত সুখী থাকবেন। তিনি বলেন নিজেকে মৃত মনে হচ্ছে, এখান থেকে সত্যিই বের হওয়া দরকার।

তিনি তার আগের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তোলেন: ভেলায় সাত দিন, জীবিত কবরে সাত দিন, আর এখন নির্জন কারাবাসে সাত দিন। এর মধ্যে এটিই তাকে বলাতে বাধ্য করে যে কতটা কঠিন হবে জানলে তিনি কখনো এটি করতেন না। দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, স্ক্রিনের ওপরের বাঁ কোণের ঘণ্টার সংখ্যা যদি ২০-এর বেশি হয়, তিনি মন হারাবেন। তিনি অত্যন্ত একাকী বোধ করেন, বান্ধবীকে মিস করেন, আর অভিজ্ঞতাটিকে "নির্যাতন" বলেন। বাইরে দলের একজন জিজ্ঞেস করেন তিনি কাঁদছেন কি না, আর মন্তব্য করেন তিনি ভালো নেই। তার বর্ণনায় জিমি মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন, জিনিস ছুড়ছেন, রেগে যাচ্ছেন, আবার নাস্তা পেলে খুশি হচ্ছেন, অনেকটা শিশুর মতো।

"শেষ খাবার" যা শেষ ছিল না

জিমির ধারণা ছিল আর আট ঘণ্টা বাকি, তারপর দরজা খুলবে আর তিনি মুক্ত। তিনি প্রার্থনা করেন সত্যিই যেন আট ঘণ্টাই হয়। দলের ভাষ্যে, তিনি ভাবছেন শেষ কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন, তাই জেগে উঠে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক নির্মম ধাক্কা। জিমি পরে আরও দুই-তিন ঘণ্টা সময় ধরে "শেষ খাবার" উপভোগ করতে বসেন। বাইরে দলের মন্তব্য ছিল, ব্যাপারটা বিদ্রূপাত্মক, কারণ তখনও ঠিক ২৪ ঘণ্টা বাকি।

যেকোনো মুহূর্তে দরজা খুলবে ভেবে জিমি ঘর গোছাতে শুরু করেন। পরে স্বীকার করেন এটা আসলে অজুহাত, তিনি শুধু বিরক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ভেবেছিলেন এই পরীক্ষা থেকে মানসিক স্বচ্ছতা পাবেন, নিজের সম্পর্কে কিছু শিখবেন। বাস্তবে তিনি বেরোচ্ছেন কেবল কনভেয়ার বেল্টের দরজা দিয়ে জিনিস ছুড়ে ফেলার নতুন দক্ষতা নিয়ে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার অস্থিরতা বাড়ে। তিনি বলেন এমন কোনো পৃথিবী নেই যেখানে ২৪ ঘণ্টার বেশি বাকি, তিনি আর ২৪ ঘণ্টা পারবেন না, তিনি তার সীমায় পৌঁছে গেছেন। তারপর তিনি এটা বিশ্বাস করতেই অস্বীকার করেন। সময় কাটাতে আবার গোনা শুরু করেন, ৫,৪২৫ পর্যন্ত। একসময় তিনি ঈশ্বরের শপথ করে বলেন বাইরে কিছু শুনেছেন। এরপর বারবার "আমি দুঃখিত" বলতে থাকেন এবং অনুনয় করেন যে তিনি এখানে থাকতে চান না, তাকে যেন বের করা হয়।

বাইরে দলের দুশ্চিন্তা

শেষ পর্যায়ে বাইরের দল উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। তারা দেখে জিমি বিছানায় শুয়ে আছেন, চোখ ঢাকা, কোনো উত্তেজনা নেই। দলের একজন বলেন, এটা ঠিক দেখতে চাওয়ার মতো দৃশ্য নয়। তারা প্রশ্ন তোলেন, বেরিয়ে তিনি কেমন আচরণ করবেন, নতুন মানুষ হয়ে উঠবেন কি না। একজনের আশঙ্কা, তিনি কর্মহীনতায় ভেঙে পড়েছেন। দলের স্বীকারোক্তি ছিল, এই ভিডিওতে তাকে যতটা ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আগে কখনো ততটা হয়নি, কারণ এবার তিনি সব রকম মানুষের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিলেন। তাই তারা ঠিক করেন, ঘুম থেকে জাগানো ছোট বাচ্চার মতো তার সঙ্গে নরম আচরণ করতে হবে। দশ মিনিট বাকি থাকতে তারা প্রস্তুতি নেয়।

মুক্তি: উজ্জ্বল আলো ছাড়া একটা সিলিং

কাউন্টডাউন শুরু হলে জিমি হঠাৎ খেয়াল করেন তার প্যান্টও পরা নেই। দরজা খোলার পর তিনি প্রথমেই লক্ষ করেন বাইরে আলো এত উজ্জ্বল নয়। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে বলেন, মাথা কিছুটা হালকা লাগছে। ধারাবর্ণনায় তিনি জানান, চ্যালেঞ্জের পর তিনি মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় তা-ও ভুলে গিয়েছিলেন। উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকাতে না হওয়াটাই তার কাছে স্বস্তির ছিল, সাধারণ একটা সিলিংকেও অসাধারণ মনে হচ্ছিল। একজন বন্ধু বলেন, অনেক দিনের মধ্যে তাকে এত খুশি দেখেননি। জিমি স্বীকার করেন, তিনি ভেবেছিলেন চিরকাল "২৪ ঘণ্টা বাকি" অবস্থাতেই আটকে থাকবেন।

শেষে তিনি সবাইকে বাইরে নিয়ে যান সূর্য দেখবেন বলে। কিন্তু বাইরে তখন অন্ধকার। সময়ের হিসাব যে তার একেবারেই ছিল না, সেটা শেষ মুহূর্তেও বোঝা যায়। তবু তার শেষ কথা ছিল, বাইরের জগৎটা দেখতে খুব ভালো লাগছে।