শব্দরোধী সাদা ঘরে সাত দিন: নির্জন কারাবাসে জিমির (MrBeast) মানসিক ভাঙনের ধারাবিবরণী
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওতে জিমি (MrBeast) চেষ্টা করেন সাত দিন, অর্থাৎ ১৬৮ ঘণ্টা, একটি শব্দরোধী সাদা ঘরে কাটাতে। সেখানে কোনো মানুষের সংস্পর্শ থাকবে না, কোনো উদ্দীপনাও থাকবে না। প্রশ্নটা ছিল, বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হলে একজন মানুষের মন কতটা টিকে থাকে। ঘরে ঢোকার আগে জিমি বলেছিলেন, তিনি আশা করেন পাগল হয়ে যাবেন না। শেষে তার নিজের মূল্যায়ন ছিল, এটি কতটা কঠিন হবে জানলে তিনি কখনোই এটি করতেন না।
ঝুঁকি ও তত্ত্বাবধান: কেন একজন ডাক্তার বাইরে বসে ছিলেন
জিমি শুরুতেই বলেন, চ্যালেঞ্জটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপজ্জনক। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ছিল বাইরে একজন ডাক্তার রাখা, যিনি নজর রাখবেন তিনি যেন পাগল হয়ে না যান। এই ডাক্তার নিজের পরিচয় দেন এভাবে: তিনি তেইশ বছর মানসিক হাসপাতালে কাজ করেছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি তিনি যা দেখেছেন তার চেয়ে অনেক খারাপ। তার সতর্কবার্তা ছিল, সাদা ঘরে ৫০ ঘণ্টা কাটানোর মধ্যেই যেকোনো কিছু স্থায়ী মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, অথচ জিমি থাকতে যাচ্ছেন ১৬৮ ঘণ্টা।
জিমির ভাষ্যে, তিনি সত্যিই মন হারাতে শুরু করে "সাইকোসিস" নামের অবস্থায় চলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দলকে তাকে টেনে বের করতে হবে, কারণ এতে তার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। ডাক্তার ব্যাখ্যা দেন, মস্তিষ্কে তথ্য না এলে তা পাগলামি, হ্যালুসিনেশন আর প্যারানয়া তৈরি করে। দলের একজন মনে করিয়ে দেন, জিমি এর আগে সাত দিন জীবিত কবরে থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তবে এবার তার কোনো সামাজিক যোগাযোগ থাকবে না।
ঘরে যা যা ছিল
পুরো এক সপ্তাহের জন্য জিমির কাছে ছিল ঘুমানোর একটি বিছানা, কলমসহ একটি নোটবুক, একটি রিফিলযোগ্য জলের বোতল, টুথপেস্টসহ টুথব্রাশ, একটি সাবান, আর বাথরুমের জন্য একটি টয়লেট ও একটি সিঙ্ক। খাবার আসত ১০০ ফুটেরও বেশি লম্বা একটি কনভেয়ার বেল্ট দিয়ে, যাতে কোনো মানুষের মুখোমুখি না হয়েই তাকে খাওয়ানো যায়। জিমি আরও জানান, পুরো সেটটি আক্ষরিক অর্থেই ধাতব শিকলে মোড়ানো ছিল। তার আশঙ্কা ছিল, আগুন লাগলে দল তালা খোলার আগেই হয়তো তিনি পুড়ে মারা যাবেন। তারপর তিনি ঠিক করেন, এ নিয়ে আর ভাববেন না।
প্রথম দিন: টাইল গোনা আর সময়বোধ হারানো
কী দিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন, সেই সমস্যা শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রায় নয় ঘণ্টার মাথায় জিমি দেয়ালের টাইল গুনে ফেলেন। দেয়ালে ছিল ১,৯০০টি, আর ছাদ ও মেঝে ধরলে মোট ২,৮৬০টি।
সময় নিয়ে বিভ্রান্তিও শুরু হয় প্রথম দিনেই। একসময় তার মনে হয় প্রায় ১৪ ঘণ্টা কেটে গেছে, অথচ তখন পেরিয়েছিল মাত্র দুই ঘণ্টা। শুরুর দিকে তার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল ক্ষুধা। তিনি স্বীকার করেন, ঢোকার আগে আরও খেয়ে আসা উচিত ছিল।
এই বিভ্রান্তি দলের পরিকল্পনারই অংশ ছিল। তারা জানায়, খাবার পাঠানো হবে এলোমেলো সময়ে, যাতে তিনি সময় আন্দাজ করতে না পারেন। উদাহরণ হিসেবে তারা সন্ধ্যা ছয়টায় তাকে সকালের নাস্তা পাঠায়। ঘরটি শব্দরোধী হওয়ায় খাবার পৌঁছানোর পরও জিমি দুই ঘণ্টা টের পাননি। শেষে খাবার খুঁজে পেয়ে দেখেন সেটা ঠান্ডা আর ভিজে গেছে। তবু তার কাছে তা দারুণ লেগেছে, কারণ তার ভাষায় তিনি কিছু অনুভব করা থেকেই বঞ্চিত।
ডাক্তারের পর্যবেক্ষণ: ধাতব প্লেট যখন আইফোনের মতো মজার
পরের কয়েক ঘণ্টা জিমি যতটা সম্ভব নিজেকে উদ্দীপিত রাখার চেষ্টা করেন। ডাক্তার লক্ষ করেন, তার হাতে কাজ করার মতো কিছুই নেই। তার মতে, এত তাড়াতাড়ি যদি তিনি একেবারে প্রাথমিক উদ্দীপনার দিকে চলে যান, তাহলে সাত দিন টিকবেন কি না সন্দেহ। ডাক্তার এটাকে কৌতূহলোদ্দীপক বলেন যে একজন মানুষের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিলে ধাতব প্লেটের মতো সাধারণ জিনিসও আইফোনের মতো মজার হয়ে উঠতে পারে। জিমি নিজে অভিজ্ঞতাটিকে "খুবই অমানবিক" বলেন এবং ঠিক করেন ঘুমিয়ে পড়বেন।
ঘুমহীনতা, দেয়াল বেয়ে ওঠা আর "আদিম প্রবৃত্তি"
একসময় জিমির ধারণা হয় তিনি প্রায় ৪০ ঘণ্টা পার করেছেন। দলের ভাষ্যে তার অনুমান প্রায় ছয় ঘণ্টা ভুল ছিল, আর বাস্তবে তখন দ্বিতীয় দিনের বিকেল চারটা। জিমি বলেন, সময়বোধ হারানো থেকে আরও সমস্যা তৈরি হয়। যা-ই করুন, তিনি ঘুমাতে পারছিলেন না, আর ঘরের আলো তার মস্তিষ্ককে এলোমেলো করে দিচ্ছিল।
ডাক্তারের ব্যাখ্যা ছিল, অনিদ্রার কারণ হলো আসলে তার ঘুমের প্রয়োজনই নেই। জিমি চান ঘুমিয়ে সময়টা পার করে দিতে। কিন্তু ডাক্তারের মতে তার উচিত জেগে থাকার সময় মনোযোগ ধরে রাখার মতো কিছু করার চেষ্টা করা। জিমিকে দেয়াল বেয়ে উঠতে দেখে ডাক্তার বলেন, এটি স্বাধীনতার জন্য মানুষের স্বাভাবিক তাগিদ, তিনি আদিম প্রবৃত্তির দিকে ফিরে যাচ্ছেন।
খাবারের ক্রম নিয়ে প্যারানয়া
খাবার নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। প্রথম খাবারের কাছে যখন তিনি পৌঁছান, তখন বিকেল সাড়ে চারটা। তিনি বলেন খাবারটা ভালো, কিন্তু খুবই ঠান্ডা, বাকিটা খাওয়ার চেয়ে ক্ষুধার্ত থাকাই ভালো। এরপর দ্বিতীয় খাবার আসার পর তার মনে হয় মাত্র কয়েক মিনিট কেটেছে। তিনি নিজেই প্রশ্ন করতে থাকেন কতক্ষণ হলো, দুটোই খাওয়ার কথা কি না। তিনি একটা ব্যাখ্যাও দাঁড় করান: হয়তো দ্বিতীয় দিনে আরেকবার নাস্তা পাঠানো হয়েছে, কারণ আগের নাস্তা তিনি বেশি খাননি বলে দলের খারাপ লেগেছিল। জিমি পরে স্বীকার করেন, প্রথম খাবারটি কনভেয়ার বেল্টে কতক্ষণ পড়ে ছিল সে সম্পর্কে তখন তার কোনো ধারণাই ছিল না। দলের একজন লক্ষ করেন, তিনি একটু প্যারানয়েড হয়ে উঠছেন। ডাক্তার সতর্ক করেন, এটি সময়ের সঙ্গে আরও খারাপ হতে পারে।
হাজার পর্যন্ত গোনা: "পাগল দেখাচ্ছে, তাই না?"
মাত্র দুই দিন পেরিয়েছে, অথচ কী করবেন জিমি বুঝতে পারছিলেন না। তিনি ঠিক করেন দেখবেন কত পর্যন্ত গুনতে পারেন, এবং ১,০০০ পর্যন্ত যান। তার নিজের ব্যাখ্যা ছিল, ব্যাপারটা পাগলামি দেখায়, কিন্তু কিছুই করার না থাকলে পাগলামির কাছে আত্মসমর্পণ করাটাই একমাত্র পথ। ডাক্তারের পূর্বাভাস ছিল, সময় যত গড়াবে তার এলোমেলো কাজের ভান্ডার ফুরিয়ে আসবে। পরে ধারাবর্ণনায় জিমি নিজেই বলেন ডাক্তার ঠিক ছিলেন, কারণ চ্যালেঞ্জের পরের দিকে তিনি প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।
ঘুমের কৌশলের মূল্য: সাত ঘণ্টা পড়ে থাকা খাবার
বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটানোর কৌশল সময় পার করতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু অন্যভাবে ক্ষতিও করেছিল। একবার জেগে উঠে তিনি দেখেন খাবার পড়ে আছে, ভয়ানক ভেজা আর ঠান্ডা। দল জানায় খাবারটি সাত ঘণ্টা ধরে সেখানে ছিল। আইসক্রিম খেতে পারলে কী না দিতেন, এমন আক্ষেপও তিনি করেন।
চাপ নয়, উদ্বেগ: FOMO
একটা পর্যবেক্ষণ জিমির কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। সাধারণত একসঙ্গে অনেক ভিডিওতে কাজ করার কারণে তিনি প্রচণ্ড চাপে থাকেন। এখানে তিনি তেমন চাপ অনুভব করছিলেন না। তবে তীব্র উদ্বেগ হচ্ছিল, কারণ তার গুরুতর FOMO ছিল, মনে হচ্ছিল বাইরের পৃথিবীতে দারুণ সব জিনিস তিনি মিস করছেন। তিনি বলেন, এটা তার অভ্যস্ত আবেগের চেয়ে আলাদা। কিছু না করা যে এত কঠিন, সেটাও তার কাছে অবাক করার মতো ছিল।
কল্পনার পার্ক আর ৪৪৭টি চাল
প্রায় ৬৫ ঘণ্টায় জিমি হ্যান্ডস্ট্যান্ড করার চেষ্টা করেন এবং আক্ষেপ করেন, ঢোকার আগে কেউ এর মূল কৌশলটা শিখিয়ে দিলে ভালো হতো। ডাক্তারের মতে, তীব্র বিষণ্নতা এড়াতে তাকে এমন সব ধারণা উদ্ভাবন করতে হবে যা কেবল তার মনের ভেতরে থাকে। জিমি ঠিক তা-ই করেন। তিনি কল্পনা করেন একটি পার্কে হাঁটছেন, যেখানে সবুজ ঘাস, কেউ মাছ ধরছে, চারদিকে রোদ আর পাখির ডাক। ডাক্তার মন্তব্য করেন, তিনি আক্ষরিক অর্থেই মাথার ভেতরে দৃশ্য তৈরি করছেন। কিন্তু কল্পনাটা বাধা পায়, আর জিমি অভিযোগ করেন তার পার্কে হাঁটা নষ্ট হয়ে গেছে। দলের একজন বলেন, তারা তাকে পাগলামি করতে দেখছেন।
এরপর আসে ভাত, মিষ্টি আলু আর স্টেক, যা তার মতে চ্যালেঞ্জে পাওয়া সেরা খাবার। কিন্তু খাওয়ার আগে তিনি ট্রের ভাত গুনতে বসেন এবং জানান ধাতব ট্রেতে ৪৪৭টি চাল আছে। পরে ক্লান্ত লাগায় তিনি অনুমান করেন এটা হয়তো পঞ্চম দিনের রাত। বাস্তবে তিনি অর্ধেক পথও পার হননি, অথচ তার হিসাব পুরো একদিন এগিয়ে ছিল। তিনি বাথরুমে গিয়ে ঘুমান, কারণ সেখানে আলো কম উজ্জ্বল। জিমির মতে এটিই ছিল তার সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপ, কারণ সেখানে তিনি ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলেন।
৮৪ ঘণ্টা: স্প্যাগেটিওসের অক্ষর আর ভুলে যাওয়া নাম
চ্যালেঞ্জের মাঝপথে, ৮৪ ঘণ্টায়, দল ঠিক করে তাকে সময়টা জানাবে খাবারের মাধ্যমে। তারা স্প্যাগেটিওসের অক্ষর দিয়ে বার্তা পাঠায়। কিন্তু জিমি অক্ষরগুলো খেয়াল না করেই খেতে থাকেন। দল অবাক হয়ে দেখে, প্রতিবার অক্ষর পেলেই তিনি সেটা খেয়ে ফেলছেন। জিমি "স্প্যাগেটিওস" নামটাও মনে করতে পারছিলেন না, রোলের নামও ভুলে গিয়েছিলেন। শেষে একটা "N" অক্ষর চোখে পড়ে। পরে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, তারা নিশ্চয়ই আশা করেনি যে খাওয়ার আগে তিনি জাদুর মতো বুঝে ফেলবেন অক্ষরগুলো জুড়ে একটা শব্দ বানাতে হবে। দলের একজন বলেন, বেরিয়ে এসে এটা দেখলে জিমির নিজেকে খুব বোকা মনে হবে।
ক্ষুধা নাকি উদ্দীপনার অভাব
এই পর্যায়ে উজ্জ্বল আলো তাকে সত্যিই কাবু করতে শুরু করে। তিনি প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর ক্ষুধার কথা বলেন এবং জিজ্ঞেস করেন তার শরীরে কী হচ্ছে। ডাক্তারের ব্যাখ্যা ছিল, প্রয়োজনীয় সব ক্যালোরি পাওয়া সত্ত্বেও তিনি আরও খাবার চাইছেন, কারণ উদ্দীপনা খুব কম বলে তার মনে হচ্ছে তিনি ক্ষুধার্ত। জিমি বারবার কনভেয়ার বেল্টে খাবার আছে কি না দেখতে থাকেন।
একবার ম্যাকডোনাল্ডসের একটি ব্যাগ আসে। হালকা দেখে তিনি সন্দেহ করেন, ভেতরে খাবার না থাকলে বিষণ্ণ হয়ে পড়বেন, তবে খাবার ছিল। তিনি খাবারের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করেন এভাবে: প্রতিবার খাবার পেলে প্রায় ২০ মিনিটের বিশুদ্ধ সুখ, আবার মানুষ মনে হয়, হাসি থামে না। কিন্তু শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই হতাশার ঢেউ আসে, কারণ মনে হয় "এখন কী করব?"
নিজের বানানো খেলা
সেকেন্ডগুলো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যেতে থাকে। সময় আন্দাজ করার কোনো উপায় তার ছিল না, আর তিনি বলেন তার মন ধীরে ধীরে বোকা হয়ে যাচ্ছে, নিজেকে আরও ভালোভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। তিনি ম্যাকডোনাল্ডসের চিজবার্গারের র্যাপার আর টুথব্রাশ রাখার কাপ দিয়ে বাস্কেটবল খেলা বানান, লেব্রন, স্টেফ আর কোবের নাম নিয়ে শট নেন। তারপর বাস্কেটবল তার জিনিস নয় বলে বেসবলের দিকে যান, কিন্তু সেটাও ঠিকমতো হয়নি। তখন তার মনে পড়ে প্রথম খাবারের সঙ্গে একটি অবিনাশী প্লেট এসেছিল, আর তিনি সেটা ছুড়তে শুরু করেন। এতকিছুর পরও তার মন্তব্য ছিল, "আমি বিরক্ত।"
১১৩ ঘণ্টার অনুমান, ক্যামেরা আর গোপনীয়তা
চতুর্থ দিনে জিমি বলেন, তার মনে হচ্ছে কোনো এক সময় তিনি বেরিয়ে যেতে চাইবেন, কিন্তু যতই ভিক্ষা করুন বা চিৎকার করুন, দল যেন তাকে আগে বের হতে না দেয়। দলের একজন আশ্বাস দেন। নিজের প্রবৃত্তির ওপর ভর করে তিনি অনুমান করেন ১১৩ ঘণ্টা পার হয়েছে, বাকি ৫৫ ঘণ্টা। তিনি সম্পাদককে অনুরোধ করেন দর্শকদের যেন আসল বাকি সময়টা দেখানো হয়।
ডাক্তারের ধারণা ছিল, তিনি যা ঘটছে তা নিয়ে রাগান্বিত এবং সম্ভবত প্যারানয়েড হয়ে উঠবেন। জিমি গোপনীয়তার প্রশ্ন তোলেন এবং ঘরের প্রতিটি ক্যামেরা আঙুল দিয়ে দেখান, যেগুলো ২৪ ঘণ্টা তার ওপর নজর রাখছে। বাইরে দলের কেউ প্রস্তাব দেন কনভেয়ার দিয়ে একটা ক্যামেরা ছুড়ে দেওয়ার। জিমি সেটাকে বোলিং বানিয়ে খেলতে গিয়ে আঙুলে আঘাত পান।
তলানিতে: "নিজেকে পশুর মতো লাগছে"
জিমি স্বীকার করেন, এই ভিডিও কতটা কঠিন হবে তা তিনি মারাত্মকভাবে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। তার মনে হচ্ছিল তিনি একধরনের পশু, মানুষ হিসেবে সব অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। তার অনুমান তখন পঞ্চম দিনের মাঝামাঝি। তিনি বান্ধবী আর বন্ধুদের মিস করার কথা বলেন, এমনকি নোলানকেও। মানসিকভাবে তিনি নিজেকে আক্ষরিক তলানিতে বলে বর্ণনা করেন। এত দিন ধরে আছেন যে এখন ঘরটাই তার স্বপ্নে আসে। স্বপ্নে মনে হয় ছয়-সাত দিন হয়ে গেছে, জেগে উঠে বোঝেন সেটা স্বপ্ন ছিল। সময় জানার জন্য তিনি অনেক টাকা দিতেও রাজি বলে জানান।
৩৩ ঘণ্টা বাকি: শরীর দিয়ে সময় মাপার চেষ্টা
ঘড়ি ছাড়া জিমি নিজের শরীরকেই প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন, কেন তার মনে হয় চ্যালেঞ্জের ৩৩ ঘণ্টা বাকি:
- তিনি পাঁচবার ঘুমিয়েছেন।
- সাধারণত দিনে একবার মলত্যাগ করেন, আর এখানে আসার পর পাঁচবার করেছেন।
- ঘাড়ে প্রচুর চুল গজিয়েছে, যা সাধারণত এক সপ্তাহের মতো সময় নেয়।
তিনি বলেন, যদি দেখা যায় এখনও পঞ্চম দিন, বা ঈশ্বর না করুন চতুর্থ দিন, তাহলে তিনি মন হারিয়ে ফেলবেন।
এরপর আসে আরও অদ্ভুত এক ঘটনা। ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখেন ১,০০,০০০ পর্যন্ত গুনেছেন। জেগে উঠে তিনি ঠিক করেন ঘরের চারপাশে এক হাজার চক্কর দেবেন। পরে ফুটেজ দেখে তিনি এটাকে আক্ষরিক পাগলামি বলেন: সুস্থ থাকতে তিনি বৃত্তাকারে হাঁটার আশ্রয় নিয়েছিলেন। এক হাজার চক্কর বেশি হয়ে যায়, তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। পুরো চ্যালেঞ্জে তিনি সিঙ্ক থেকে জল খেয়েছেন, আর নিজেকে বিনোদন দিতে সব চেষ্টা করেও তার স্বীকারোক্তি ছিল, কিছুই কাজ করছে না।
প্রতিশোধ: বেইলি আর সুজির প্রত্যাবর্তন
এই পর্যায়ে দল আনে বেইলি আর সুজিকে, যাদের জিমি আগের এক ভিডিওতে ১০০ দিন একসঙ্গে আটকে রেখেছিলেন। এবার জিমিই সাদা ঘরে বন্দি, তাই তারা প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন। তাদের একজন বলেন, তুলনা করলে তিনি বরং কাউকে সঙ্গে নিয়ে আটকে থাকতে চাইতেন, অর্থাৎ জিমির একাকী অবস্থা তাদের অভিজ্ঞতার চেয়ে কঠিন। তারা কনভেয়ার দিয়ে খালি ট্রে পাঠান, খাওয়ার নাম করে নানা কৌশল খাটান। জিমি বিরক্ত হয়ে বলেন, "আমরা আবার এটা করছি না।" দলের পর্যবেক্ষণ, সেদিন এটাই ছিল তার পাওয়া সবচেয়ে বেশি উদ্দীপনা। জিমি শেষে মেনে নেন, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, আর হয়তো এটা তার প্রাপ্যই ছিল।
ঘুমই একমাত্র আশ্রয়
এরপর জিমির কথায় অন্ধকার সুর আসে। তিনি ভাবেন, মরার পর যদি চিরকালের জন্য সাদা ঘরে যেতে হয়, তাহলে খুব দুঃখজনক হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ঘুমালে স্বপ্নে নিজেকে বাইরের জগতে দেখেন, আর জেগে থাকলে কেবল হতাশ, একাকী আর দুঃখী থাকেন। তাই যত বেশি ঘুমাবেন, তত সুখী থাকবেন। তিনি বলেন নিজেকে মৃত মনে হচ্ছে, এখান থেকে সত্যিই বের হওয়া দরকার।
তিনি তার আগের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তোলেন: ভেলায় সাত দিন, জীবিত কবরে সাত দিন, আর এখন নির্জন কারাবাসে সাত দিন। এর মধ্যে এটিই তাকে বলাতে বাধ্য করে যে কতটা কঠিন হবে জানলে তিনি কখনো এটি করতেন না। দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, স্ক্রিনের ওপরের বাঁ কোণের ঘণ্টার সংখ্যা যদি ২০-এর বেশি হয়, তিনি মন হারাবেন। তিনি অত্যন্ত একাকী বোধ করেন, বান্ধবীকে মিস করেন, আর অভিজ্ঞতাটিকে "নির্যাতন" বলেন। বাইরে দলের একজন জিজ্ঞেস করেন তিনি কাঁদছেন কি না, আর মন্তব্য করেন তিনি ভালো নেই। তার বর্ণনায় জিমি মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন, জিনিস ছুড়ছেন, রেগে যাচ্ছেন, আবার নাস্তা পেলে খুশি হচ্ছেন, অনেকটা শিশুর মতো।
"শেষ খাবার" যা শেষ ছিল না
জিমির ধারণা ছিল আর আট ঘণ্টা বাকি, তারপর দরজা খুলবে আর তিনি মুক্ত। তিনি প্রার্থনা করেন সত্যিই যেন আট ঘণ্টাই হয়। দলের ভাষ্যে, তিনি ভাবছেন শেষ কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন, তাই জেগে উঠে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক নির্মম ধাক্কা। জিমি পরে আরও দুই-তিন ঘণ্টা সময় ধরে "শেষ খাবার" উপভোগ করতে বসেন। বাইরে দলের মন্তব্য ছিল, ব্যাপারটা বিদ্রূপাত্মক, কারণ তখনও ঠিক ২৪ ঘণ্টা বাকি।
যেকোনো মুহূর্তে দরজা খুলবে ভেবে জিমি ঘর গোছাতে শুরু করেন। পরে স্বীকার করেন এটা আসলে অজুহাত, তিনি শুধু বিরক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ভেবেছিলেন এই পরীক্ষা থেকে মানসিক স্বচ্ছতা পাবেন, নিজের সম্পর্কে কিছু শিখবেন। বাস্তবে তিনি বেরোচ্ছেন কেবল কনভেয়ার বেল্টের দরজা দিয়ে জিনিস ছুড়ে ফেলার নতুন দক্ষতা নিয়ে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার অস্থিরতা বাড়ে। তিনি বলেন এমন কোনো পৃথিবী নেই যেখানে ২৪ ঘণ্টার বেশি বাকি, তিনি আর ২৪ ঘণ্টা পারবেন না, তিনি তার সীমায় পৌঁছে গেছেন। তারপর তিনি এটা বিশ্বাস করতেই অস্বীকার করেন। সময় কাটাতে আবার গোনা শুরু করেন, ৫,৪২৫ পর্যন্ত। একসময় তিনি ঈশ্বরের শপথ করে বলেন বাইরে কিছু শুনেছেন। এরপর বারবার "আমি দুঃখিত" বলতে থাকেন এবং অনুনয় করেন যে তিনি এখানে থাকতে চান না, তাকে যেন বের করা হয়।
বাইরে দলের দুশ্চিন্তা
শেষ পর্যায়ে বাইরের দল উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। তারা দেখে জিমি বিছানায় শুয়ে আছেন, চোখ ঢাকা, কোনো উত্তেজনা নেই। দলের একজন বলেন, এটা ঠিক দেখতে চাওয়ার মতো দৃশ্য নয়। তারা প্রশ্ন তোলেন, বেরিয়ে তিনি কেমন আচরণ করবেন, নতুন মানুষ হয়ে উঠবেন কি না। একজনের আশঙ্কা, তিনি কর্মহীনতায় ভেঙে পড়েছেন। দলের স্বীকারোক্তি ছিল, এই ভিডিওতে তাকে যতটা ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আগে কখনো ততটা হয়নি, কারণ এবার তিনি সব রকম মানুষের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিলেন। তাই তারা ঠিক করেন, ঘুম থেকে জাগানো ছোট বাচ্চার মতো তার সঙ্গে নরম আচরণ করতে হবে। দশ মিনিট বাকি থাকতে তারা প্রস্তুতি নেয়।
মুক্তি: উজ্জ্বল আলো ছাড়া একটা সিলিং
কাউন্টডাউন শুরু হলে জিমি হঠাৎ খেয়াল করেন তার প্যান্টও পরা নেই। দরজা খোলার পর তিনি প্রথমেই লক্ষ করেন বাইরে আলো এত উজ্জ্বল নয়। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে বলেন, মাথা কিছুটা হালকা লাগছে। ধারাবর্ণনায় তিনি জানান, চ্যালেঞ্জের পর তিনি মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় তা-ও ভুলে গিয়েছিলেন। উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকাতে না হওয়াটাই তার কাছে স্বস্তির ছিল, সাধারণ একটা সিলিংকেও অসাধারণ মনে হচ্ছিল। একজন বন্ধু বলেন, অনেক দিনের মধ্যে তাকে এত খুশি দেখেননি। জিমি স্বীকার করেন, তিনি ভেবেছিলেন চিরকাল "২৪ ঘণ্টা বাকি" অবস্থাতেই আটকে থাকবেন।
শেষে তিনি সবাইকে বাইরে নিয়ে যান সূর্য দেখবেন বলে। কিন্তু বাইরে তখন অন্ধকার। সময়ের হিসাব যে তার একেবারেই ছিল না, সেটা শেষ মুহূর্তেও বোঝা যায়। তবু তার শেষ কথা ছিল, বাইরের জগৎটা দেখতে খুব ভালো লাগছে।
নির্জন কারাবাসে কাটানোর চেষ্টা করতে যাচ্ছি। আমাকে সিল করে দাও। বাই, জিমি। আশা করি পাগল হয়ে যাব না।
পরের সাত দিন, আমাকে শূন্য মানব সংস্পর্শ এবং শূন্য উদ্দীপনা সহ এই শব্দরোধী সাদা ঘরে বেঁচে থাকতে হবে। এবং যেহেতু এটি আসলে মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিপজ্জনক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাইরের ডাক্তার নিশ্চিত করা যে আমি পাগল না হয়ে যাই।
আমি তেইশ বছর ধরে মানসিক হাসপাতালে কাজ করেছি, এবং এটি আমি যা দেখেছি তার চেয়ে অনেক খারাপ। সাদা ঘরে 50 ঘন্টার মধ্যে যে কোনও কিছু স্থায়ী মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এবং আমি 168 ঘন্টা করতে যাচ্ছি। এমন একটি সুযোগ আছে যে আমি আসলে আমার মন হারাতে শুরু করি এবং সাইকোসিস নামক কিছুতে চলে যাই... এবং তাদের আমাকে টেনে বের করতে হবে কারণ এটি আমার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
তিনি সাত দিন জীবিত কবর দিয়ে বেঁচে ছিলেন। এটা কি অনেক কঠিন? হ্যাঁ। অনেক কঠিন। তার সামাজিক যোগাযোগ নেই। যদি আপনার মস্তিষ্কে তথ্য না আসে তবে এটি পাগলামি তৈরি করে, এটি হ্যালুসিনেশন তৈরি করে, এটি প্যারানয়া তৈরি করে।
এবং পরের সপ্তাহের জন্য আমাকে বেঁচে থাকতে হবে তা হল ঘুমানোর জন্য একটি বিছানা, একটি কলম সহ একটি নোটবুক, একটি রিফিলযোগ্য জলের বোতল, টুথপেস্ট সহ টুথব্রাশ এবং একটি সাবান বার, বাথরুম ব্যবহার করার জন্য একটি টয়লেট এবং একটি সিঙ্ক। জল।
এই মুহূর্তে, এটি আমার কাছে পরিষ্কার ছিল যে এই চ্যালেঞ্জের সময় নিজেকে বিনোদন দেওয়া কঠিন হতে চলেছে, বিশেষত নয় ঘন্টায়, যখন আমি এটি করেছি।
আপনি সম্ভবত এই দেয়ালে কতগুলি টাইল আছে তা ভাবছেন। সঠিক উত্তর হল 1,900। এবং যদি আপনি ছাদ এবং মেঝে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তাহলে এটি 2,860। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ... আমার পেট মোতাবেক খাবার খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।
সুতরাং আপনি যদি ভাবছেন যে এই চ্যালেঞ্জের সময় আমি কীভাবে খাচ্ছি, এখানে একটি কনভেয়ার বেল্ট রয়েছে যা 100 ফুটেরও বেশি বিস্তৃত যাতে আমাকে কোনও মানুষের মিথস্ক্রিয়া ছাড়াই খাওয়ানো যায়।
আমি মনে করি আমি এখানে প্রায় 14 ঘন্টা ছিলাম। এটা কি পাগল নয় যে এই মুহূর্তে, আমি ইতিমধ্যে দুই ঘন্টা বন্ধ ছিলাম? এবং এখনও পর্যন্ত, চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে কঠিন অংশটি এখনও কেউ আমাকে খাওয়ায়নি। আপাতদৃষ্টিতে, আমি এখানে আসার আগে আমার আরও খাবার খাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু খুব শীঘ্রই কেউ যদি আমাকে খাওয়ায় তবে এটি সত্যিই ভাল হবে। তোমার ছেলে খুব ক্ষুধার্ত।
তুমি কি হাত ধুয়েছ? হ্যাঁ, অবশ্যই করেছি। না, সে করে নাই।
আমরা তাকে তার খাবার এলোমেলোভাবে পাঠাব যাতে সে সময় অনুমান করতে না পারে। যেমন এখন সন্ধ্যা ৬টা বাজে এবং আমরা তাকে তার নাস্তা পাঠাচ্ছি।
আমার বন্ধুরা কখন আমাকে খাওয়াবে? আমি ক্ষুধার্ত, আমি ক্ষুধার্ত।
এখন যেহেতু এই ঘরটি সাউন্ডপ্রুফ, যদিও খাবার এসেছিল, আমি দুই ঘন্টা পরে চেক না করা পর্যন্ত বুঝতে পারিনি।
আমি হাঁটতে খুব ক্ষুধার্ত। এটা একটু নাটকীয়, মানুষ। চলে আসো। তাই যখন আমি অবশেষে চেক করলাম... আমি আসলে খাবার আশা করছিলাম না।
এই বিস্ময়কর স্বাদ। এটা ঠাণ্ডা এবং ভিজে গেছে, কিন্তু আমি কিছু অনুভব করা থেকে বঞ্চিত, এটা দারুণ।
এই নির্জন কারাবাসের সেটটি আক্ষরিক অর্থেই ধাতব শিকল দিয়ে মোড়ানো। যদি এই সেটে আগুন লেগে যায়, তবে তারা এটিকে আনলক করার আগে আমি সম্ভবত জীবিত পুড়ে যাব। যাইহোক, আমি এটা ছাড়া অন্যান্য জিনিস সম্পর্কে চিন্তা করতে যাচ্ছি।
পরের কয়েক ঘন্টার জন্য, আমি নিজেকে যতটা সম্ভব মানবিকভাবে উদ্দীপিত রাখার চেষ্টা করেছি। এটা শান্ত ধরনের।
তার কিছুই নেই। তার সাথে কাজ করার কিছু নেই। যদি সে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক উদ্দীপনার জন্য এটি করে থাকে তবে আমার সন্দেহ আছে যে সে সাত দিন স্থায়ী হবে।
এটা কৌতূহলোদ্দীপক যে আপনি যখন একজন মানুষের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নেন, ধাতব প্লেটের মতো সহজ কিছু আইফোনের মতো মজাদার হতে পারে।
তিনি একঘেয়েমি উপায় দ্বারা উত্তেজিত পেতে যাচ্ছে। এটা খুবই অমানবিক অভিজ্ঞতা।
আমি শুধু বিছানায় যেতে যাচ্ছি, এবং আমরা দেখব কি হয়।
আমি মনে করি আমি চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রায় 40 ঘন্টা আছি।
জিমির ছয় ঘণ্টার ছুটির সময় কী মনে করে। যার মানে দুই নম্বর দিনে বিকেল ৪টা বাজে। আমি ভেবেছিলাম সে আজ ট্র্যাকে থাকবে।
আমার সময় বোধ হারানো অন্যান্য সমস্যার নেতৃত্বে। আমি যাই করি না কেন, আমি আক্ষরিক অর্থেই ঘুমাতে পারি না। এই আলোগুলি সত্যিই আমার মস্তিষ্কের সাথে জগাখিচুড়ি করছে। হয়তো আমি আগামী পাঁচ দিনের জন্য এখানে শুয়ে থাকব।
তার অনিদ্রার কারণ হল তার ঘুমানোর দরকার নেই। তিনি এটি বন্ধ করে ঘুমাতে চান এবং কেবল এটিকে শেষ করতে চান, তবে তার যা করা উচিত তা হল এমন কিছু করার চেষ্টা করা যা সে জেগে থাকার সময় তার মনোযোগ দখল করতে চলেছে।
সে দেয়ালে উঠছে। এটা স্বাধীনতার জন্য মানুষের স্বাভাবিক তাগিদ। সে আদি প্রবৃত্তির দিকে ফিরে যাচ্ছে।
কেন মনে হল বিকেল ৪টা বাজে? এর মানে কি রাত ৯টা বাজে না?
এবং যখন আমি আমার প্রথম খাবার খাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম, তখন বিকেল 4:30 বেজে গেছে।
আমাকে ভুল বুঝবেন না, খাবারটা ভালো লাগছে, কিন্তু ঠান্ডা ঠান্ডা। এই বাকি খাবার খাওয়ার চেয়ে আমি বরং ক্ষুধার্ত থাকতে চাই। তাই…
এবং যখন আমার দ্বিতীয় খাবার পৌঁছেছিল, তখন আমার মনে হয়েছিল যে কয়েক মিনিট কেটে গেছে। কী এইমাত্র কনভেয়ার বেল্ট দিয়ে এসেছিল? দাঁড়াও, কতদিন হলো? আমার কি দুটোই খাওয়ার কথা নাকি... এটা অবশ্যই দ্বিতীয় দিন ছিল যখন আমি দ্বিতীয় নাস্তা করেছিলাম, কিন্তু আমি প্রাতঃরাশের বেশি কিছু খাইনি, তাই হয়তো তাদের খারাপ লেগেছিল কারণ আমি খুব বেশি নাস্তা খাইনি। আচ্ছা, না...
এই মুহূর্তে, আমার কোনও ধারণা ছিল না যে প্রথম খাবারটি কনভেয়ার বেল্টে কতক্ষণ বসে ছিল।
তুমি কি দেখেছ সে একটু প্যারানয়েড হচ্ছে? এটি এমন জিনিস যা সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ হতে পারে। মাত্র দুই দিন।
কি করতে হবে তা আমি নিশ্চিত না। আমি মনে করি আমি কতটা উচ্চ গণনা করতে পারি তা দেখতে যাচ্ছি। 1, 2, 3, 4, 5... এটা পাগল দেখাচ্ছে, তাই না? 565, 566, 567... কিন্তু যখন আপনি এমন পরিস্থিতিতে থাকেন যেখানে কিছুই করার নেই... 999। ...পাগল কি শুধু এটা আত্মসমর্পণ করা হয়। 1,000।
এটি অগ্রগতির সাথে সাথে, তার র্যান্ডম জিনিসগুলি শেষ হয়ে যাবে।
এবং আমি তাকে এটি দিতে হয়েছে। ডাক্তার ঠিক বলেছেন, কারণ পরে এই চ্যালেঞ্জে, আমি সীমারেখা পাগল হয়ে যাই।
তুমি কি মনে কর আমি পাব... তুমি কি মনে কর আমি...
এবং যখন আমার বেশিরভাগ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ঘুমানোর কৌশলটি সময় পার করতে সাহায্য করেছিল, এটি আমাকে অন্য উপায়ে আঘাত করেছিল।
আমি ওখানে খাবার দেখছি। এটা ভয়ঙ্কর ভিজা এবং ঠান্ডা। কতদিন ধরে এই এখানে বসে আছে?
এই খাবারটি সাত ঘন্টা ধরে বসে আছে।
আমি ঐ আইসক্রিম খাওয়ার জন্য কিছু দিতাম। খাবারের ভোজ্য অংশগুলি থাকলে ভাল হত, তবে অনুমান করুন আমি আবার ক্ষুধার্ত হব।
সাধারণত, যেহেতু আমরা একসাথে অনেকগুলি ভিডিওতে কাজ করছি, আমি অবিশ্বাস্যভাবে চাপে থাকি। এই মুহূর্তে, আমি সত্যিই এতটা চাপ অনুভব করি না, তবে আমি এক টন উদ্বেগ অনুভব করি কারণ আমার কাছে এই গুরুতর FOMO রয়েছে যে আমি বিশ্বে প্রচুর দুর্দান্ত জিনিস মিস করছি। এটা অদ্ভুত। এটি একটি ভিন্ন আবেগ যা আমি অভ্যস্ত।
এটা কিছু না করা কতটা কঠিন এটা বেশ পাগল। আমি সত্যিই বিরক্ত পেতে শুরু করছি। এটা আমার জন্য মানসিকভাবে... আমি বিরক্ত। সাহায্য।
আমি 168-ঘন্টা চিহ্নের কাছাকাছি কোথাও ছিলাম না।
আমি ১৬৮ ঘণ্টার ধারেকাছেও ছিলাম না, তাই ৬৫ ঘণ্টা কাটতেই আমি ভাবতে শুরু করেছি... হ্যান্ডস্ট্যান্ড কীভাবে করতে হয়?
ইশ, এখানে আসার আগে কেউ আমাকে হ্যান্ডস্ট্যান্ড করার মূল বিষয়গুলো শিখিয়ে দিত।
তাকে এমন ধারণা উদ্ভাবন করতে হবে যা শুধুমাত্র তার মনের মধ্যে বিদ্যমান, যাতে তাকে তীব্র বিষণ্নতার সম্মুখীন হতে না হয়।
আমি শুধু কল্পনা করব যে আমি বর্তমানে একটি পার্কে হাঁটছি। সবুজ ঘাস আছে, কেউ মাছ ধরছে।
তিনি আক্ষরিক অর্থেই এই মুহূর্তে তার মাথায় দৃশ্যকল্প তৈরি করছেন। হে ঈশ্বর।
চারদিকে খুব রোদ। পাখির ডাক শুনি।
তুমি পার্কে আমার হাঁটা নষ্ট করেছ।
হে ঈশ্বর। আমরা তাকে পাগলামি করতে দেখছি।
ওহ, তারা আমাকে আরও খাবার দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা কিছু ভাত, মিষ্টি আলু এবং স্টেক পেয়েছি। এই চ্যালেঞ্জে আমি এখন পর্যন্ত যে খাবার পেয়েছি, তার মধ্যে এটাই সেরা।
আপনি যদি এখানে তাকান, কিছু ভাত দেখতে পাবেন। যেকোনো সাধারণ মানুষ সম্ভবত এই ভাতটি খাবে, তবে আমি এটি গুনব। ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭। ৯৭, ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১। ২৬৫, ২৬৬, ২৬৭। ৩০৭, ৩০৮, ৩০৯, ৩১০। ৪২১, ৪২২, ৪২৩, ৪২৪। ৪৪৫, ৪৪৬, ৪৪৭।
এই ধাতব ট্রেতে ৪৪৭টি ভাতের দানা রয়েছে। এই তথ্যটি সম্ভবত একজন মানুষ হিসেবে আপনাকে গভীরভাবে পরিবর্তন করেছে।
আমি বেশ ক্লান্ত বোধ করছি, যার মানে এটা সম্ভবত পঞ্চম দিনের রাত।
আমি চ্যালেঞ্জের অর্ধেক পথও পার করিনি, আর ইতিমধ্যেই আমার হিসাব পুরো এক দিন ভুল ছিল।
আমি বাথরুমে আরও কিছুক্ষণ ঘুমাতে যাচ্ছি, যেখানে এত উজ্জ্বল আলো নেই।
এটি এখনও পর্যন্ত আমার সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ আমি আসলে সেই বাথরুমে ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলাম।
আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জের অর্ধেক পথে, ৮৪ ঘণ্টা। আচ্ছা, জিমি।
আমরা তার পরবর্তী খাবারে তাকে সেটা জানাব। শুধু তার জন্য সবটা একটু এলোমেলো করা আছে। আপনি এখনও অক্ষরগুলো একসঙ্গে সাজাতে পারেন।
আমি ক্ষুধার্ত। ক্ষুধার্ত আমি। আমরা এখানে কী নিয়ে কাজ করছি? এটা কী?
ভাই স্প্যাগেটিওসের কথা শোনেনি?
আর শুধু ওটার নামই যে আমি ভুলে যাচ্ছিলাম, তা নয়।
এটাকে কী বলে? এটি একটি রোল।
একটি রোলের জন্য এটা অনেক সস। এটির স্বাদ কেচাপের মতো।
সেখানে অক্ষরগুলো সে কীভাবে খেয়াল করছে না?
ওহ, এটি একটি এন। হ্যাঁ। হ্যাঁ। তোমরা এই চারটি স্প্যাগেটিও বের করতে ভুলে গেছ।
না। যতবারই সে একটা অক্ষর পায়, সেটা খেয়ে ফেলে।
আশা করি এগুলো দিয়ে কোনো শব্দ বানানোর কথা ছিল না। আমি যেন জাদুর মতো সেগুলো খাওয়ার আগেই বুঝে ফেলতাম, আর তারপর সেগুলো একসঙ্গে সাজিয়ে আরও খাবার পাওয়ার জন্য একটা শব্দ বের করতাম। নিশ্চয়ই তারা আমার কাছ থেকে সেটা চায়নি।
জিমি বের হওয়ার পর এটা দেখে নিজেকে খুব বোকা মনে করবে। বিষণ্নতা।
এই সময়ে উজ্জ্বল আলোগুলো সত্যিই আমাকে কষ্ট দিতে শুরু করেছিল।
আমার এই মুহূর্তে খুব মাথাব্যথা হচ্ছে, আর আমি খুব ক্ষুধার্ত। কী হচ্ছে আমার শরীরে?
তিনি আরও খাবার চেয়েছিলেন, যদিও তিনি তার প্রয়োজনীয় সব ক্যালোরি পাচ্ছেন। কিন্তু তার কারণ হলো, তিনি খুব কম উদ্দীপনা পাচ্ছেন, তাই তার মনে হচ্ছে তিনি ক্ষুধার্ত।
শেষ পর্যন্ত আমি বারবার খাবার এসেছে কি না দেখতে থাকলাম।
এটি অদ্ভুতভাবে প্রশান্তিদায়ক। তোমার কি মনে হয় এটা করতে গিয়ে আমি আঘাত পাব?
তোমার সম্ভবত থামা উচিত।
তুমি ঠিক বলেছ, আমার সম্ভবত থামা উচিত।
এখানে ম্যাকডোনাল্ডসের একটি ব্যাগ আছে। এটা সন্দেহজনকভাবে হালকা। এই ব্যাগে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার না থাকলে আমি বিষণ্ন হয়ে পড়ব। আসলেই আছে। চলো!
প্রতিবার যখন আমি খাবার পাই, সেটা যেন ২০ মিনিটের বিশুদ্ধ সুখ। আমি আবার নিজেকে মানুষ বলে অনুভব করি। আমি হাসি থামাতে পারি না। আমি খুব খুশি। আর যেই খাবারটা শেষ করি, হতাশার একটা ঢেউ অনুভব করি, কারণ ভাবি, ‘আমি এখন কী করব?’
সেকেন্ডগুলো একসঙ্গে মিশে যেতে শুরু করেছে। আমি এখন কটা বাজে তা অনুমান করার চেষ্টা করব, কিন্তু আমার কোনো ধারণাই নেই। আমার মন ধীরে ধীরে বোকা হয়ে যাচ্ছে। আমাকে আরও ভালোভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে।
আমরা এই ম্যাকডোনাল্ডসের চিজবার্গারের মোড়ক আর এই কাপটা নেব, যেটায় আমার টুথব্রাশ রাখা ছিল। আর এখন আমাদের কাছে বাস্কেটবল আছে। লেব্রন। স্টেফ। কোবে। হয়তো বাস্কেটবল আমার জন্য নয়।
আমার মনে হয় আমি সবসময় বেসবলে ভালো ছিলাম। স্ট্রাইক! যা হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি।
আর তখন মনে পড়ল... দেখুন আমি কী পে— ওহ, এটিতে একটি কাঁটা আছে। ...প্রথম খাবারের সঙ্গে আমি একটি অবিনাশী প্লেট পেয়েছিলাম।
আমি এটা এতবার ছুড়ব যে ব্যাপারটা হাস্যকর হয়ে যাবে।
আমি বিরক্ত। এই ঘরে আমার এখনও দুই দিন বাকি আছে। আর আমার মনে হচ্ছে, একসময় আমি চলে যেতে চাইব।
এটা চতুর্থ দিন। আমি যতই ভিক্ষা করি, চিৎকার করি বা অনুনয় করি... বা ঢেঁকুর তুলি... আমাকে সময়ের আগে এই ঘর থেকে বের হতে দিও না।
ঠিক আছে, জিমি, আমি তোমার কথা বুঝেছি।
আমার প্রবৃত্তি বলছে... আমি এখন পর্যন্ত ১১৩ ঘণ্টা কাটিয়েছি, যার মানে আমার ৫৫ ঘণ্টা বাকি আছে। আর যে এটা সম্পাদনা করছে, দর্শকদের দেখাও আমার আসলে কত ঘণ্টা বাকি আছে। আশা করি সেটা ৫৫ ঘণ্টার কাছাকাছি।
আমার মনে হয় সে যা ঘটছে তা নিয়ে রাগান্বিত, আর সম্ভবত প্যারানয়েড হতে চলেছে।
একজন মানুষকে কি গোপনীয়তা থাকতে দেওয়া হয় না? সেখানে একটা ক্যামেরা আছে, তার ওপরে একটা ক্যামেরা আছে, একটা ক্যামেরা আছে। ক্যামেরা, ক্যামেরা, ক্যামেরা, ক্যামেরা, ক্যামেরা, ক্যামেরা। এতগুলো ক্যামেরা সারাক্ষণ আমার ওপর নজর রাখছে। আমি পাগল হয়ে যাব।
আমরা যদি কনভেয়ারের মাধ্যমে ক্যামেরাটা ছুড়ে দিই... জিনিয়াস। আমি এটাকে বোলিংয়ের মতোই বিবেচনা করব।
আহ! কোনোভাবে আঙুলে আঘাত পেয়েছি। ওহ।
এই ভিডিওটি কতটা কঠিন হবে, তা আমি ভীষণভাবে অবমূল্যায়ন করেছি। শুধু এটা নিয়ে ভাবলেই আমার কান্না পাচ্ছে। কিন্তু এখন নিজেকে একধরনের পশুর মতো মনে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে মানুষ হিসেবে আমার সব অধিকার হারিয়ে ফেলেছি।
যদি আমাকে অনুমান করতে হয়, আমি বলব পঞ্চম দিনের অর্ধেকটা পার করেছি। আমি সত্যিই আমার বান্ধবীকে মিস করছি, আর দলের সবাইকেও মিস করছি। এমনকি নোলানকেও।
এমনকি নোলানকেও।
মানসিকভাবে এখন আমি একেবারে তলানিতে আছি বলতে চাই। এটি খুবই অমানবিক। আমি এখানে এতদিন আছি যে কিছু স্বপ্নেও নিজেকে এই ঘরে দেখি, আর মনে হয় ছয় বা সাত দিন হয়ে গেছে। কিন্তু তারপর ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি সেটা স্বপ্ন ছিল।
কটা বাজে? এখন কটা বাজে জানতে আমি অনেক টাকা দিতে রাজি। দেখি কেন আমার মনে হচ্ছে এই চ্যালেঞ্জে ৩৩ ঘণ্টা বাকি আছে।
আমি পাঁচবার ঘুমিয়েছি। দ্বিতীয় কারণ, আমি সাধারণত দিনে একবার মলত্যাগ করি, আর এখানে আসার পর থেকে পাঁচবার মলত্যাগ করেছি। তৃতীয় কারণ, আমার ঘাড়ে অনেক লোম গজাচ্ছে, আর এতে সাধারণত এক সপ্তাহের মতো লাগে।
যদি কোনো কারণে এখনও— যদি কোনো কারণে এখনও পঞ্চম দিন হয় বা, ঈশ্বর না করুন, কোনোভাবে এখনও চতুর্থ দিন হয়, আমি পাগল হয়ে যাব।
ঘুমানোর সময় আমি একবার স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমি এক লাখ পর্যন্ত গুনেছি। তাই ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধান্ত নিলাম এই ঘরের চারপাশে এক হাজার চক্কর দেব। পুরোনো দিনের কথা মনে করে। ওটা হবে চিহ্ন। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ...
এই ফুটেজ ফিরে দেখলে ব্যাপারটা একেবারে পাগলামি মনে হয়।
এই ফুটেজ ফিরে দেখলে মনে হয়, এটা একেবারে পাগলামি। নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য আমি বৃত্তাকারে হাঁটা শুরু করেছিলাম। হাজারটা অনেক বেশি। আমার ইতিমধ্যে মাথা ঘুরতে শুরু করেছে।
এই পুরো চ্যালেঞ্জে আমি এই সিঙ্ক থেকে জল নিচ্ছি, আর সত্যি বলতে... আমি না... ভাই।
সার্কুল একটি ফ্লেভার কার্ট্রিজ, যা আপনি আপনার জলের বোতলে স্ক্রু করে লাগাতে পারেন। এটি সাধারণ জলের স্বাদ অসাধারণ করে তোলে। এই বোতলের সাথে মানানসই একশোরও বেশি ভিন্ন স্বাদ রয়েছে, যেগুলোতে ক্যালোরি ও চিনি দুটোই শূন্য।
এই ট্রাইপড সরানো দুঃখজনক।
আপনি কতটা তীব্র স্বাদ চান তা বেছে নিন, তারপর পান করা শুরু করুন। এটি সত্যিই অনেক স্বাদ যোগ করে। আমি বুঝতেই পারছি না যে এটা সিঙ্কের জল। এই পুরো চ্যালেঞ্জে আমি ফ্রুট পাঞ্চ পান করছি, আর এটি সত্যিই জলের স্বাদ অসাধারণ করে তোলে।
আমি এই দেয়ালগুলোর মাঝে হাঁটতে যাচ্ছি।
এই কার্ট্রিজগুলো আপনার জলের বোতল একাধিকবার রিফিল করলেও চলে। এটা ভালো, কারণ ছেলেরা এগুলো পাঠাতে খুবই খারাপ, আর কখনও কখনও আমাকে সারা দিন একইটা ব্যবহার করতে হয়। আপনি যদি আরও জল পান করা শুরু করতে চান বা সাধারণভাবে আপনার জলের স্বাদ ভালো করতে চান, তাহলে এটি ব্যবহার করে দেখতে drinkcirkul.com বা আপনার স্থানীয় Walmart-এ যান।
নিজেকে বিনোদন দেওয়ার জন্য আমি সবকিছু চেষ্টা করেছি, আর সত্যি বলতে, কিছুই কাজ করছে না।
একসাথে ১০০ দিন আটকে থাকা দুজনকে ফিরিয়ে আনে।
আমরা এখানে। আরে, এটা দেখো। তোমাদের এটা ভালো লাগবে। ওটা সেই লোকটার মুখ, যে তোমাদের একশো দিন ধরে আটকে রেখেছিল।
তোমরা যা করেছিলে, তার চেয়ে এটা সহজ নাকি কঠিন বলবে? তুলনা করলে, আমার মনে হয় আমি বরং এখানে আমার সাথে অন্য কাউকে চাইতাম।
এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে, আর সাদা ঘনকটায় আমিই আছি। বেইলি আর সুজি প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেছিল।
আমি তোমাদের দেখাব কীভাবে কনভেয়ার বেল্ট কাজ করে।
তারা একটা খালি ট্রে পাঠিয়েছে। সে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আমার মোটেও খারাপ লাগছে না। এটাই তার প্রাপ্য।
আমি আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রতিটি ডলার বাজি ধরতে পারি, কার্ল এইমাত্র এসেছে।
কোনোভাবেই না। তুমি ক্ষুধার্ত, জিমি? এটা খাও। আমরা আবার এটা করছি না। আমরা এটা করছি না। আমরা এটা করছি না।
এই দিনে সে সবচেয়ে বেশি উদ্দীপনা পেয়েছিল।
তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। সম্ভবত এটাই আমার প্রাপ্য ছিল।
ভাবো তো, মরার পর যদি তুমি চিরকালের জন্য একটা সাদা ঘরে চলে যাও। সেটা দুঃখজনক হবে।
যখন আমি ঘুমিয়ে থাকি, স্বপ্নে নিজেকে বাইরের জগতে দেখি। আর যখন জেগে থাকি, আমি শুধু হতাশাগ্রস্ত, একাকী আর সত্যি বলতে, দুঃখী। তাই যত বেশি সময় ঘুমিয়ে কাটাব, ততই সুখী হব।
আমাকে বের হতে দাও।
আমি ব্যাটম্যান।
নিজেকে মৃত মনে হচ্ছে। আমার সত্যিই এখান থেকে বের হওয়া দরকার। আমরা একটা ভেলায় সাত দিন কাটিয়েছি, আমি সাত দিন জীবন্ত কবরস্থ ছিলাম, আর এখন নির্জন কারাবাসে সাত দিন কাটিয়েছি। যদি জানতাম এটা কতটা কঠিন হবে, আমি কখনোই এটা করতাম না।
উপরের বাঁ দিকে ঘণ্টার সংখ্যাটা যদি ২০-এর বেশি কিছু দেখায়, আমি পাগল হয়ে যাব। আমি অত্যন্ত একাকী বোধ করছি। আমার গার্লফ্রেন্ডকে মিস করছি। এটা নির্যাতন।
সে কি কাঁদছে? সে ভালো নেই। সে মেঝেতে ঘুমাচ্ছে, জিনিস ছুড়ে ফেলছে, ক্ষেপে যাচ্ছে, নাস্তা পেলে খুশি হচ্ছে। সে শিশুর মতো।
আমার মনে হয় আট ঘণ্টা বাকি আছে। তারপর তারা ওই দরজাটা খুলবে, আর আমি মুক্ত হব। আমি প্রার্থনা করছি। দয়া করে যেন আট ঘণ্টাই বাকি থাকে।
সে মনে করছে, এখন ঘুমিয়ে শেষ কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দিচ্ছে। সে এটাই মনে করছে। তাই ঘুম ভাঙলে একটা কঠিন ধাক্কা খাবে, আক্ষরিক অর্থেই। সত্যি বলতে, এটা উদ্বেগজনক।
আমার মনে হয় আর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর ওই দরজাটা খুলবে। তাই আমি আমার শেষ খাবারটা উপভোগ করব, তারপর এখান থেকে বের হব।
সে কি এইমাত্র বলল এটা তার শেষ খাবার? আমার তাই মনে হয়। ব্যাপারটা বিদ্রূপাত্মক, কারণ ঠিক... ২৪ ঘণ্টা।
এখন যেকোনো ঘণ্টায় তারা ওই দরজা দিয়ে আসবে, তাই আমি জায়গাটা পরিষ্কার করব। এটা একটু অগোছালো। আমি পরিষ্কার করার একটা অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আসলে আমি শুধু বিরক্ত।
আমি ভেবেছিলাম এই পরীক্ষায় এসে আরও মানসিক স্বচ্ছতা পাব, হয়তো নিজের সম্পর্কে কিছুটা শিখতে পারব। কিন্তু বাস্তবে, কনভেয়ার বেল্টের দরজা দিয়ে বাইরে জিনিস ছুড়ে ফেলার নতুন দক্ষতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। হয়তো তা-ও না।
কোনোভাবেই ২৪ ঘণ্টার বেশি বাকি থাকতে পারে না। আমি এখানে আর ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারব না। আমি আমার সীমায় পৌঁছে গেছি। কিন্তু তাতেও কিছু যায় আসে না। আর ২৪ ঘণ্টা বাকি নেই। আমি ঠিক... আমি এটা বিশ্বাস করতে রাজি নই। তাই এখন যেকোনো সেকেন্ডে।
সময় কাটানোর জন্য আমি আবার গুনতে শুরু করব। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, এগারো, বারো, তেরো, চৌদ্দ, পনেরো, ষোলো, বিশ, একুশ, বাইশ।
৫৪২২, ৫৪২৩, ৫৪২৪, ৫৪২৫।
ঈশ্বরের শপথ, আমি ওখানে কিছু শুনতে পাচ্ছি।
আমি দুঃখিত। আমি দুঃখিত। আমি দুঃখিত। আমি দুঃখিত। আমি এখানে থাকতে চাই না। আমাকে এই ঘর থেকে বের করে দাও।
এ সবে মানুষ। সে বিছানায় শুয়ে আছে, চোখ ঢেকে আছে, কোনো উত্তেজনা নেই। এটা ঠিক এমন দৃশ্য নয়, যা তুমি দেখতে চাইবে।
সে কীভাবে আচরণ করবে? সে কি নতুন মানুষ হয়ে যাবে? আমার চিন্তা হচ্ছে, সে এমনই হয়ে যাবে। সে একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে ভেঙে পড়েছে। এই ভিডিওতে তাকে যতটা ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমরা কখনও তাকে এতটা ঠেলে দিইনি।
ঠিক, কারণ সে মানুষের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছে। কোমলভাবে আচরণ করো, যেন ছোট একটা বাচ্চা ঘুম থেকে উঠছে। ঠিক আছে, দশ মিনিট বাকি আছে। চলো, তৈরি হয়ে নিই।
ধন্যবাদ। শুভকামনা।
আমি মারা যাচ্ছি।
দশ, নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ, চার।
অপেক্ষা করো। দাঁড়াও, আমার প্যান্টও পরা নেই। ঠিক আছে, দুই, এক।
ওহ ভগবান। আরে, জিমি। দুঃখিত, আমি প্যান্ট পরছিলাম। এখানে এতটা উজ্জ্বল নয়। কেমন লাগছে, দোস্ত? আমার আসলে একটু মাথা ঘুরছে।
এটা পাগলামি, কিন্তু এই চ্যালেঞ্জের পর আমি মানুষের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়, তা ভুলে গিয়েছিলাম।
তুমি কোথায় যাচ্ছ? ঠিক আছে।
উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে না হওয়াটা আসলে স্বস্তিদায়ক। সিলিংটা যেন অসাধারণ।
অনেক দিন ধরে তোমাকে যতবার দেখেছি, তার মধ্যে এবারই সবচেয়ে খুশি দেখাচ্ছে।
সত্যি বলতে, আমি ভেবেছিলাম এই ২৪ ঘণ্টা চিরকাল চলতে থাকবে। আমার সাথে বাইরে এসো। আমি সূর্য দেখতে চাই।
হে ভগবান। ওহ, বাইরে অন্ধকার। বাইরের জগৎটা দেখতে খুব ভালো লাগছে।
নিবন্ধ প্রকাশিত
