সাত দিন জীবন্ত কবরে: কফিনের ভেতর মিস্টারবিস্টের শারীরিক ও মানসিক লড়াই

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে জিমি (মিস্টারবিস্ট) নিজেকে একটি কফিনে ভরে প্রায় ২০,০০০ পাউন্ড মাটির নিচে সাত দিন কাটানোর চ্যালেঞ্জ নেন। শুরুতেই তিনি বলেন, এটি তাঁর জীবনে করা সবচেয়ে ভয়ংকর কাজগুলোর একটি, আর কাজটি কতটা কঠিন হবে তা তিনি "গুরুতরভাবে অবমূল্যায়ন" করেছিলেন। ভিডিওর আসল গল্প কেবল মাটির নিচে টিকে থাকা নয়। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একঘেয়েমি, ঘুমহীনতা, শরীরের কষ্ট আর অকারণ কান্না কীভাবে তাঁকে বদলে দেয়, সেটিই এখানে ধরা পড়েছে। একই সময়ে চ্যানেলটি ২০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারে পৌঁছায়, আর সেই মুহূর্তটিও তিনি কফিনের ভেতর থেকেই দেখেন।

11 মিনিটে পড়া

চ্যালেঞ্জের শর্ত ও প্রথম রাতের ভয়

মাটি ফেলার সময় থেকেই চ্যালেঞ্জের ভয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওপর থেকে মাটির বোঝা পড়তেই জিমি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে ছাদটা হাত দিয়ে ধরে রাখতে হবে, কারণ ছাদ কাঁপছে। তিনি জানান, পরের সাত দিনের জন্য তিনি নিজের জীবন এই কফিনের হাতে তুলে দিচ্ছেন, আর প্রার্থনা করেন যেন এটি হঠাৎ ভেঙে না পড়ে। তিনি আরও বলেন যে পুরো ঘটনাটি "১০০% বাস্তব"।

রসদ বলতে ছিল একটি ব্রিফকেসভর্তি খাবার, যার বেশিরভাগই কিছু এমআরই (রেডি-টু-ইট খাবার) আর স্ন্যাকস, সঙ্গে পাঁচ গ্যালনের একটি পানির ড্রাম। বন্ধুরা ব্রিফকেসে কী ভরেছে তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে তাঁর ধারণা ছিল, সাত দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই খাবার ফুরিয়ে যেতে পারে। মাটি চাপা দিতে এত সময় লেগেছিল যে চ্যালেঞ্জ শুরু হতে না হতেই তাঁর প্রস্রাবের বেগ পায়। মাটির নিচে বাথরুম ব্যবহারের ব্যাপারটিকে তিনি খুবই অস্বস্তিকর বলেন। প্রথম দিকেই তাঁর পা অসাড় হয়ে যায়।

নিরাপত্তা নিয়ে জিমি সিরিয়াস সুরে বলেন, কাজটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। শ্বাসরোধের ঝুঁকি এড়াতে সবসময় কেউ না কেউ তাঁকে দেখছে, এটা নিশ্চিত করতে হবে। রাত একটার দিকে তিনি বন্ধুদের মনে করিয়ে দেন, ওয়াকিটকির কাছে সবসময় একজনকে থাকতে হবে, যাতে কিছু দরকার হলে কেউ সাড়া দেয়।

ঘুমের কৌশল, আর বন্ধুদের জ্বালাতন

জিমির মূল পরিকল্পনা ছিল যতটা সম্ভব ঘুমিয়ে কাটানো। তাঁর যুক্তি, ঘুমিয়ে থাকলে বাক্সে আটকে থাকার কথা মাথায় আসে না, তাই নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুমই চাবিকাঠি। প্রথম রাতে তিনি বলেন, হয় ভালো বিশ্রাম নিয়ে জাগবেন, নয়তো ২০,০০০ পাউন্ড মাটিতে পিষে যাবেন।

কিন্তু পরে তিনি স্বীকার করেন, একটা জিনিস তিনি পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলেন: বন্ধুরা তাঁকে জ্বালাবে আর ঘুমাতে দেবে না। ঘুমন্ত অবস্থায় বন্ধুরা তাঁর মুখে নোলানের আঁকিবুঁকির কথা বলে মজা করে। সকালে জিমি দিন শুরু করেন লম্বা প্যান্ট কেটে হাফপ্যান্ট বানিয়ে। কাজটা করতে গিয়ে বাক্সে ঘুষিও লাগে।

খাবারের অভিজ্ঞতা এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্ট করে। এমআরই-তে গরম পানি দিলে রাসায়নিকভাবে খাবার রান্না হয়ে যায়। কিন্তু জিমির ব্যাগের পাস্তা মুখে দিতেই কুড়মুড় করে ওঠে। একই সময়ে বন্ধুরা ঠিক তাঁর কবরের ওপরে স্টেক গ্রিল করে খাচ্ছিল। একজন সহমর্মিতা দেখিয়ে বলে, জিমির খাতিরে বাকি সময় তারাও এমআরই খাবে। সঙ্গে সঙ্গে তারেককে "না" বলতে শোনা যায়।

একঘেয়েমি এতটাই চরমে ওঠে যে জিমি শুধু মজার জন্য কফিনের দেয়ালে ঘুষি মারতে থাকেন, যতক্ষণ না আঙুলের গাঁটে ব্যথা শুরু হয়। তারপর হাতে মোজা পরে ঘুষি চালিয়ে যান। তাঁর ভাষায়, তিনি বিনোদনের জন্য মরিয়া। এরপর বন্ধুরা কবর পর্যন্ত একটি পাইপ বসায়, ভেতরের মাটি টেনে বের করে, আর সেই পথে তারযুক্ত একটি সার্জিক্যাল ক্যামেরা ঢুকিয়ে দেয়। জিমির মতে এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে কষ্ট দেওয়া। হঠাৎ এই শব্দে তিনি সত্যিই ভয় পেয়ে যান।

দ্বিতীয় দিন: ব্রিফকেসের ছবি, কোমর ব্যথা আর বৃষ্টি

দ্বিতীয় দিনের দিকে বন্ধুরা তাদের আরভিতে সময় কাটাতে চলে যায়। জিমি এই সুযোগে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্রিফকেস ঘেঁটে দেখেন। সেখানে তিনি নোলানের মায়ের একটি ছবি পান, আর সেটা নিয়ে নোলানকে খেপাতে শুরু করেন। এই ছবিটা পরে ভিডিওতে একটি চলমান কৌতুক হয়ে থাকে।

শারীরিক কষ্ট ততদিনে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। চ্যালেঞ্জ ছেড়ে দিতে চাওয়ার কারণ কী হতে পারে, এমন প্রশ্নে জিমি অনুমান করেন: মাটির নিচে থাকতে না চাওয়া, তারপর "কোমর ব্যথা, কোমর ব্যথা, কোমর ব্যথা, এবং হয়তো কিছু কোমর ব্যথা।" তিনি স্বীকার করেন, ইতিমধ্যেই ব্যাপারটা বেশ কঠিন হয়ে উঠছে, আর বরাবরের মতো আরও খারাপ হবে।

এরপর প্রবল বৃষ্টি নামে। বজ্রপাতের শব্দে এক বন্ধু জেগে উঠে নোলানকে ডাকে, কারণ জিমি পিষে যাচ্ছেন কিনা দেখা দরকার। তারা সত্যিই কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল। তাদের ধারণা ছিল, মাটির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে বোঝা আরও ভারী হয়ে গেছে।

স্পিকার, কম্পন আর গোপন সুড়ঙ্গ

বন্ধুদের জ্বালাতন এরপর আরও বড় আকার নেয়। তারা কবরের ওপর ১৫টি স্পিকার বসিয়ে গান বাজায় আর বলে ওপরে পার্টি চলছে। কম্পনে জিমির কফিন সত্যিই কাঁপতে থাকে, আর তিনি বলেন এই কম্পন তাঁর মাথায় আঘাত করছে। এই সময় তিনি লক্ষ্য করেন, কফিনের পাশের একটি বোল্ট একেবারে গোড়া থেকে খুলে গেছে। কফিন সব দিক থেকে ঠিক আছে কিনা, এ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শব্দের আড়ালে বন্ধুদের আসল পরিকল্পনা ছিল একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সোজা জিমির কফিন পর্যন্ত পৌঁছানো। খোঁড়াখুঁড়ির শব্দ যাতে তিনি টের না পান, সেজন্য স্পিকারে নির্মাণকাজের শব্দ বাজানো হয়। ভেতরে জিমি জোরালো আওয়াজ শুনছিলেন কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছিল না। তাঁর মনে হচ্ছিল, হয় তিনি মরতে যাচ্ছেন, নয়তো বন্ধুরা কোনো বোকামি করছে।

এর মধ্যে জিমি জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ ঘণ্টা পার করেছেন। আগের বার এই চ্যালেঞ্জ করার সময় তিনি এর চেয়ে কম সময় টিকেছিলেন। স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও তিনি এখানে তোলেন। ডাক্তারকে তিনি কথা দিয়েছিলেন প্রতিদিন নড়াচড়া করবেন, যাতে রক্ত জমাট না বাঁধে, কারণ তাঁর ভাষায় "দৃশ্যত" সাত দিন শুয়ে থাকলে মানুষ মারা যেতে পারে। বন্ধুদের কাছে ডাম্বেল চেয়েছিলেন, তারা দিয়েছে তিন পাউন্ডের ডাম্বেল। তিনি বলেন, দুই দিন পর উঠে দাঁড়ালে মারা যেতে পারেন, এই চিন্তাটা মাথা থেকে সরিয়ে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।

আরেকটা অস্বস্তি ছিল অবিরাম ক্যামেরা। প্রথম কয়েক দিন ব্যাপারটা তাঁকে বিরক্ত করেনি। কিন্তু সবসময় কেউ তাকিয়ে আছে, এই অদ্ভুত অনুভূতি ধীরে ধীরে তাঁকে পীড়া দিতে শুরু করে।

সারা রাত খুঁড়ে বন্ধুরা শেষ পর্যন্ত কফিনের কাছে পৌঁছায়। জিমি ফাঁক দিয়ে নোলানের কপাল দেখতে পান। নোলান তখন মায়ের ছবি ফেরত চায়, আর জিমি জানান, তিনি ছবিটা বাঁধিয়ে চিরকাল রেখে দেবেন।

২০০ মিলিয়নের খবর, ঘুমহীনতা আর অকারণ কান্না

বন্ধুরা জানায়, জিমি এত দিন কফিনে আছেন যে চ্যানেলের খবরই রাখেননি: চ্যানেল প্রায় ২০০ মিলিয়নে পৌঁছে গেছে, আর মাইলফলকটা তিনি কফিনের ভেতরেই ছোঁবেন। জিমি আফসোস করেন, যদি এটা লাইভ দেখতে পারতেন। বন্ধুরা সুড়ঙ্গ দিয়ে তাঁর কফিনে ফিস্টেবলস চকলেট বার টেপ দিয়ে আটকে দেয়। জিমি মজা করে বলেন, এটা বন্ধুদের বেশ ভালো মার্কেটিং।

তারপরই ভিডিওর সুর বদলাতে শুরু করে। জিমি জানান, তিনি খুব ক্লান্ত, অথচ কোনো কারণে ঘুমাতে পারছেন না। আগে এমন হয়নি। তারপর হঠাৎ কাঁদতে শুরু করেন, আর কেন কাঁদছেন নিজেও জানেন না।

পঞ্চম দিনে তিনি বলেন, আর মাত্র দুই দিন এই দুঃস্বপ্ন বাকি। তবে তাঁর ধারণা, মানুষ পাঁচ দিন ধরে শুয়ে থাকার জন্য তৈরি নয়। তিনি বলেন, হতাশ নন এমন ভান করার চেষ্টা করবেন। বন্ধুরা যখন পেইন্টবল বন্দুক দিয়ে তাঁর সমাধিফলকে গুলি করার কথা বলে, তিনি প্রথমে যোগ দিতে চান। কিন্তু মজার জন্য কী করছেন জিজ্ঞেস করলে জানান, কিছুই না, তিনি মানসিক যন্ত্রণায় আছেন। মলত্যাগের প্রবল বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ঠিক করেন, বাকি দুই দিন চেপে রাখা যায় কিনা দেখবেন।

এই পর্যায়ে তাঁর কিছু করার অনুপ্রেরণা নেই। পাঁচ দিন শুয়ে থাকার পর খাবার বানানোর মতো শক্তিও নেই, আর বাথরুমে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। ভুলবশত হাফপ্যান্টে প্রস্রাব লেগে যাওয়ায় তিনি সেই অংশ কেটে ফেলেন, ফলে হাফপ্যান্ট আরও ছোট হয়ে যায়।

মাটির নিচ থেকে ২০০ মিলিয়ন উদযাপন

মাইলফলক ঘনিয়ে এলে বন্ধুরা উদযাপন করতে আসে। দল একটি হোম ইন্টারনেট বক্সের মাধ্যমে কফিনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করে (এটি ভিডিওর স্পনসর অংশের সঙ্গে যুক্ত ছিল)। ফলে মাটির দশ ফুট নিচে বসেও জিমি রিয়েল-টাইমে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দেখতে পান। তিনি বলেন, সারাদিন বেশ খারাপ লাগছিল, কিন্তু ২০০ মিলিয়নে পৌঁছানোর ব্যাপারটা তাঁকে একধরনের খুশি করছে।

অপেক্ষার সময়টা পরিণত হয় স্মৃতিচারণে। কার্ল বলেন, আগে তিনি ছিলেন নেব্রাস্কার এক সাধারণ লোক, আর এখন নর্থ ক্যারোলাইনার। আরেকজন বলেন, একসময় তারা লাঞ্চ টেবিলে বসে এসব নিয়ে কথা বলত, আর এখন ২০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার, ব্যাপারটা পাগলামি। কেউ বলেন, সবার সঙ্গে কাজ করা তাঁর জন্য সম্মানের। চ্যান্ডলার জানান, তিনি যখন কাজ শুরু করেন, তখন দলে মাত্র সাতজনের মতো ছিল আর তিনি ছিলেন দারোয়ান। এখন ২০০ মিলিয়নে পৌঁছে তিনি কৃতজ্ঞ।

জিমি বলেন, তিনি ১১ বছর বয়সে ভিডিও বানানো শুরু করেছিলেন, এখন তাঁর বয়স ২৫। চ্যানেল এত বড় হবে, এটা তিনি কখনো ভাবেননি। দর্শকদের তিনি ধন্যবাদ জানান এবং মনে করেন সেই দিনগুলোর কথা, যখন ভিডিও বানিয়ে আক্ষরিক অর্থেই শূন্য ভিউ পেতেন। সংখ্যাটা ২০০ মিলিয়ন ছুঁতেই সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে। সংযোগ খুলে নেওয়ার আগে জিমি অনুরোধ করেন দুই মিনিটের জন্য আবার চালু করতে, যাতে বান্ধবীকে ফোন করে জানাতে পারেন যে তিনি বেঁচে আছেন।

উদযাপনের পর আবার একা

উদযাপন শেষে জিমির মানসিক অবস্থা আবার খারাপ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আবার কাঁদছেন এবং কেন কাঁদছেন তা শতভাগ নিশ্চিত নন। বন্ধুদের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ছোঁয়া মজার ছিল, কিন্তু এখন তিনি আবার একা, আটকা পড়ে আছেন। পাঁচ দিন একা কফিনে কাটানোর পর বাকি দুই দিন কীভাবে টিকবেন, সে সম্পর্কে তাঁর সত্যিই কোনো ধারণা নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি দ্রুত ভেঙে পড়ছেন।

নোলান খোঁজ নিতে এলে জিমি ধন্যবাদ জানান, কিন্তু বলেন, কনটেন্টের জন্য কথা বলার যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন, আসলে তাঁর কথা বলার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি শুধু বের হতে চান। বন্ধুদের পর্যবেক্ষণ ছিল, জিমি প্রথমে আতঙ্কিত ছিলেন, তারপর বকবক করতে শুরু করেছিলেন, আর এখন একেবারে বিষণ্ণ। তাদের মতে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন।

শারীরিক পরিস্থিতিও ততদিনে চরমে। প্রস্রাবের সব বোতল ফুরিয়ে গেছে, তাই এখন তিনি এমআরই-র খাবার খেয়ে খালি ব্যাগে প্রস্রাব করে জিপ আটকে দেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেন এটা হয়তো বেশি তথ্য হয়ে গেল, আর বলেন, চ্যালেঞ্জটা ঘৃণ্য, তিনি চলে যেতে চান।

তাঁকে চাঙা করতে নোলান কয়েকটা ফোন কল করেন। জিমির মতে, সেই অবস্থায় পৃথিবীতে একটাই জিনিস তাঁকে উৎসাহিত করতে পারত: নোলানের বাবা-মা এসে হাজির হন। তারা নোলান সম্পর্কে বিব্রতকর গল্প শোনান। নোলান বাড়িতে বলেছিল প্রমে যাচ্ছে, কিন্তু আসলে কিছুক্ষণের জন্য পাশের প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিল। বাবা-মা এটাও বলেন, তারা চান নোলান বড়দিনে কোনো মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসুক। জিমি বলেন, তাঁকে চাঙা করতে এটুকুই যথেষ্ট ছিল, কারণ তিনি জানেন মন্তব্য বিভাগ এটা নিয়ে পাগল হয়ে যাবে।

শেষ রাত, মুক্তি আর রক্ত জমাটের প্রশ্ন

শেষ রাতের আগে জিমি বন্ধুদের কড়া নির্দেশ দেন: ঠিক ১২ ঘণ্টা পর খোঁড়া শুরু করতে হবে। বন্ধুরা ভোরে ওঠা নিয়ে আপত্তি জানায়। জিমি জিজ্ঞেস করেন, দাঁড়ানোর সময় রক্ত জমাট বেঁধে তিনি যদি ঘটনাস্থলেই মারা যান তাহলে তারা কী করবে। এক বন্ধু রসিকতা করে বলেন, তাঁকে কোথায় রাখতে হবে তা তো জানাই আছে।

শুতে যাওয়ার আগে জিমি আবার কাঁদেন, আর বলেন, জীবনে কোনো কিছুর জন্য এতটা উত্তেজিত হয়েছেন বলে তাঁর মনে পড়ে না। পরদিন সূর্যের আলো দেখার জন্য তিনি অধীর। শেষ রাতে শুয়ে তাঁর মাথায় কেবল একটাই চিন্তা ঘোরে: সব শেষ হলে তিনি উঠে দাঁড়াতে পারবেন কিনা। তিনি বলেন, এতক্ষণ শুয়ে থাকা আর নড়াচড়া না করা স্বাভাবিক নয়।

সাত দিন পূর্ণ হলে তিনি বলেন, এটাই চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে খারাপ অংশ। কারণ এখন বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর দাঁড়ালে মারা যাবেন কিনা সেই বাড়তি উত্তেজনাও আছে। একটি খননযন্ত্র এসে মাটি সরায়, যা জিমির কাছে ভীতিকর লাগে। তারপর তিনি সূর্যের আলো দেখতে পান। টানা সাত দিন সূর্য না দেখার পর সেটা কেমন লাগে, তা বর্ণনা করা কঠিন বলে তিনি জানান, আর আবার কাঁদতে শুরু করেন। কেন, নিজেও নিশ্চিত নন।

উদযাপনের আগে তিনি সবাইকে থামান: যতক্ষণ না তিনি উঠে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করছেন যে রক্ত জমাট বেঁধে মারা যাননি, ততক্ষণ কোনো উদযাপন নয়। একজন চিকিৎসক নেমে এসে জিজ্ঞেস করেন বমি ভাব বা মাথা ঘোরা আছে কিনা। জিমির উত্তর, তিনি জানেন না। এরপর এক সপ্তাহে প্রথমবার তিনি উঠে দাঁড়ান। পা দুর্বল, মাথায় রক্ত ছুটে যাওয়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি, তবু তিনি বলেন, "ওহ, আমি মারা যাইনি।"

ওপরে উঠে তিনি দেখেন অনেক মানুষ অপেক্ষা করছে। সাত দিন পর অবশেষে তিনি ২০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলকটি ঠিকমতো উদযাপন করতে পারেন। ভিডিও শেষ হয় তাঁর চিরাচরিত কায়দায়, একটি বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে।