অপরিচিতদের সঙ্গে ৩০ দিন শিকলে বাঁধা: আড়াই লাখ ডলারের বিশ্বাসের খেলায় অ্যালিসনের সিদ্ধান্ত
MrBeast ミスタービーストএই চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে আছেন অ্যালিসন। তিনি আগে একবার আড়াই লাখ ডলার জিতেছিলেন। এবার শর্ত হলো, ৩০ দিন অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে হাতকড়া ও শিকলে বাঁধা থাকতে হবে। পুরো সময় একটাই প্রশ্ন সামনে থাকে: শুধু চেহারা দেখে আর কয়েক দিনের সঙ্গ থেকে কি বোঝা যায়, কে টাকা ভাগ করবে আর কে পুরোটা নিয়ে চলে যাবে? উপস্থাপক জিমি (মিস্টার বিস্ট) একের পর এক নতুন নিয়ম ও মোড় যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হয় অ্যালিসনকেই।
নিয়ম: শুধু চেহারা দেখে সঙ্গী বাছাই
চোখের পট্টি খোলার পর অ্যালিসনকে জানানো হয়, এখানে উপস্থিত অপরিচিতদের একজনের সঙ্গে ৩০ দিন শিকলে বাঁধা থাকতে পারলে তিনি আড়াই লাখ ডলার পাবেন। শর্ত হলো, সঙ্গী বাছতে হবে কেবল চেহারা দেখে। বিকল্প ছিলেন তিনজন: একজন বয়স্ক দিদা, একজন বাইকার আর একজন "জিম ব্রো"। জিমি সতর্ক করে দেন, শেষে যে সঙ্গী পাশে থাকবে, পুরো টাকা চুরি করার সুযোগ তারও থাকবে।
অ্যালিসন মাঝখানের বাইকারকে বেছে নেন। জিমি মনে করিয়ে দেন, অ্যালিসন তার নামও জানেন না। অ্যালিসনের উত্তর ছিল, নাম জানার জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। বাইকারের নাম ব্রাইস।
থাকার জন্য দেওয়া হয় একটি ছোট বাড়ি, যেখানে রান্নাঘর আর বসার ঘর আছে। অ্যালিসন রান্না পারেন না, ব্রাইস মোটামুটি পারেন। বাথরুমে কীভাবে যাবেন জানতে চাইলে জিমি দেখিয়ে দেন, শিকলটা দরজার নিচ দিয়ে গলিয়ে নিতে হবে। নিয়ম দুটো: বাইরের লাল দাগ পার হওয়া যাবে না, আর হাতকড়া খোলা যাবে না। বাথরুম ছাড়া বাড়ির প্রতিটি কোণে লুকানো ক্যামেরা আছে।
দর্শককে জিমি আরেকটি তথ্য জানান, যা অ্যালিসন তখনো জানতেন না। এই ভিডিওতে অ্যালিসন কেবল একজনের সঙ্গে বাঁধা থাকবেন না। যাদের সঙ্গেই বাঁধা থাকবেন, তাদের প্রত্যেকেরই অ্যালিসনের আড়াই লাখ ডলার চুরি করার সুযোগ থাকবে।
প্রথম সঙ্গী ব্রাইস: মুখে ভাগাভাগি, মনে দ্বিধা
প্রথম দিনেই ব্রাইস বলেন, তিনি আশা করেন শেষে টাকা অর্ধেক-অর্ধেক হবে। অ্যালিসনও একশো শতাংশ তা-ই চান। কিন্তু একান্তে ব্রাইস ক্যামেরাকে বলেন, তিনি চুরি করবেন কি না ভাবছেন, আর মন চুরির দিকেই বেশি ঝুঁকছে। তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে অ্যালিসন আগে একবার আড়াই লাখ ডলার পেয়েছেন, আর তিনি নিজে এসেছেন টাকা কামাতে।
অ্যালিসন অবশ্য বেশ নিশ্চিন্ত ছিলেন। তার কথায়, আগের চ্যালেঞ্জে "আকাশে" থাকার সময় তিনি সবসময় বিরক্ত থাকতেন, এবার কোনো অভিযোগ নেই। তবু তার সন্দেহ ছিল, ব্রাইস হয়তো খুব বিশ্বস্ত সাজার চেষ্টা করছেন, যাতে পরে টাকাটা নিয়ে নিতে পারেন। ব্রাইস প্রতিক্রিয়া দেখাতে অ্যালিসন একটা পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবেন। "দৌড়াও" বললে ব্রাইস রাজি হননি। এরপর দুজন একে অপরের দিকে জিনিস ছোড়াছুড়ি আর লোফালুফি খেলেন। জিমির মন্তব্য, শুনতে খারাপ লাগলেও ওদের হাসি দেখে মনে হচ্ছে সব ঠিক আছে।
একসময় ব্রাইস বলেন, আড়াই লাখ ডলার অনেক টাকা, তবু তার মনে হয় না তিনি চুরি করতে পারবেন। অ্যালিসনের জবাব ছিল, ব্রাইস হয়তো মিথ্যা বলছেন, তবু তিনি আশা রাখছেন।
পঞ্চম দিনের মোড়: প্রতি পাঁচ দিনে নতুন সঙ্গী
পঞ্চম দিনে একটি লিমুজিন আসে। তা থেকে নামেন তিনজন নতুন মানুষ: একজন চিয়ারলিডার, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন আইনজীবী। জিমি নিয়মটা খুলে বলেন। প্রতি পাঁচ দিন পর অ্যালিসনকে একজন নতুন অপরিচিতের সঙ্গে হাতকড়া পরতে হবে। ২৫তম দিনে সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে, আর অ্যালিসনকে ঠিক করতে হবে কাকে তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন যে সে টাকা চুরি করবে না। এবারও নতুনদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না, বাছতে হবে শুধু চেহারা দেখে।
অ্যালিসন আর জিমি চেহারা দেখে নানা অনুমান করেন। আইনজীবীর হাসি দেখে অ্যালিসনের একদমই বিশ্বাস হচ্ছিল না। জিমি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিষ্পাপ দেখালেও তার টাকা চুরির একটা বড় কারণ থাকতে পারে। কলেজ চিয়ারলিডারের হয়তো স্টুডেন্ট লোন আছে। আবার এমনও হতে পারে আইনজীবী বড় মামলা জিতে আগেই ধনী, তার টাকার দরকারই নেই। জিমি মনে করিয়ে দেন, এমনও হতে পারে অ্যালিসন শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবেন। শেষে অ্যালিসন চিয়ারলিডার স্কাইলারকে বেছে নেন, আর ব্রাইস আপাতত বিদায় নেন।
স্কাইলার: বন্ধুত্ব, পারিবারিক গল্প আর একটি বেফাঁস কথা
স্কাইলারের সঙ্গে শুরু থেকেই বোঝাপড়া অন্যরকম ছিল। স্কাইলার চোখের প্যাচ নিয়ে এসেছিলেন, দুজনে মিলে "স্পা ডে" করেন। অ্যালিসনের ধারণা ছিল, যে-ই আসুক, সবাই বলবে চুরি করবে না, অর্ধেক ভাগ করবে। তাই বিশ্বাস যাচাই করতে তিনি আবার একটা খেলা প্রস্তাব করেন: পিঠে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে দুজন দুদিকে জোরে দৌড় দেবেন।
সপ্তম দিনে জিমি লক্ষ করেন, দুজন মজা করছেন কিন্তু টাকার মূল প্রশ্ন নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। অ্যালিসন বলেন, মনে হচ্ছে তারা দুই বন্ধু মিলে সময় কাটাচ্ছেন। স্কাইলার একান্তে বলেন, খেলাটাই হলো অ্যালিসন যেন তাকে বিশ্বাস করেন, তাই তিনি যেভাবে চলছেন সেভাবেই চলবেন।
এই পর্যায়ে কথোপকথন ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। টাকা পেলে কী করবেন জানতে চাইলে অ্যালিসন বলেন, তিনি বাবার কাছে গিয়ে টাকাটা ভালো কোথাও বিনিয়োগ করার কথা বলবেন। তার দুশ্চিন্তা, অনেক বয়স পর্যন্ত বড় অঙ্কের আয় করতে না পারলে তখন বাবা পাশে থাকবেন কি না, তিনি জানেন না। দেরি হয়ে গেলে বাবার সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতাটা আর পাওয়া হবে না।
এরপর জিমির ভাষায় স্কাইলার "একটু বেশিই স্বচ্ছন্দ" হয়ে যান। সবুজ রঙের মিন্ট চকলেট চিপ দুজনেরই পছন্দ, এমন হালকা কথার মধ্যে স্কাইলার হঠাৎ বলে ফেলেন, "আড়াই লাখ ডলারের আরেকটু কাছে।" সঙ্গে সঙ্গে নিজেই বলেন, ভুল করে হয়ে গেছে, গোপন কথা ফাঁস হয়ে গেল। দশম দিনে জিমির মন্তব্য ছিল, স্কাইলার যে টাকা চুরি করতে চান, তার ওপরই বসে আছেন।
দশম দিন: অন্য ভিডিওতে পাঠানো, "বিস্ট মাল্টিভার্স"
দশম দিনে স্কাইলারের সতীর্থ চিয়ারলিডাররা এসে উল্লাস করেন এবং শিকলসহ টাকাটা দেখানো হয়। এক পর্যায়ে একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়, অ্যালিসন তাকে বাছলে তিনি চুরি করতেন কি না। উত্তর আসে, পাঁচ দিন একে অপরকে চেনার পরেও মনে হয় তিনি চুরিই করতেন, এবং তিনি একদমই বিশ্বাস করতেন না।
এরপর লাল দাগ মুছে দেওয়া হয়। পরের পাঁচ দিন তারা ছোট বাড়িতে থাকবেন না। জিমি জানান, অ্যালিসনকে সম্পূর্ণ আরেকটি ভিডিওর ভেতরে পাঠানো হচ্ছে। সেটা একটি মুদি দোকান, যেখানে এক মিলিয়ন ডলারের জন্য চারজনকে দোকানের সব খাবার খেয়ে শেষ করতে হবে। স্কাইলার সেখানেই মুক্তি পান। অ্যালিসনকে ওই চারজনের একজনের সঙ্গে দোকানের ভেতরে হাতকড়া পরে থাকতে হবে, আর সেই সঙ্গী খাবার শেষ করতেও সাহায্য করবে। জিমির দাবি, চ্যানেলের ইতিহাসে এই প্রথম দুটি ভিডিও একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো। তিনি এর নাম দেন "দ্য বিস্ট মাল্টিভার্স"।
এবার অ্যালিসন প্রশ্ন করার সুযোগ পান। কখন ঘুম থেকে ওঠেন, এই প্রশ্নে একজন বলেন, এটা আড়াই লাখ ডলারের ব্যাপার, ঘুম থেকে ওঠার সময়ের নয়, এবং তিনি সোয়া লাখ ডলারেই রাজি। আরেকজন দাবি করেন, তাদের কেউই চুরি করবে না। চুপচাপ থাকা হুয়ানকে অ্যালিসন বেছে নেন। জানা যায়, হুয়ান আগে ব্লু-কলার কাজ করতেন এবং ভোর পাঁচটায় ওঠার অভ্যাস আছে। দলের দুজনই নির্মাণকাজে যুক্ত: একজন ভারী যন্ত্র চালিয়ে ভবন ভাঙেন, আরেকজন ভবন বানান।
হুয়ান: "কোনোদিন কিছু চুরি করিনি"
মুদি দোকানের প্রতিযোগীরা যা খান তার ক্যালোরি পোড়াতে ব্যায়াম করেন। ছোট ঘরে দশ দিন কাটানোর পর অ্যালিসন এতে যোগ দিতে উৎসাহী ছিলেন। তিনি দলটিকে অপছন্দের খাবার খেতেও সাহায্য করেন, যেমন ফুলকপির জুস। অ্যালিসনের পরিবার এটা খুব পছন্দ করে, আর এর একমাত্র উপাদান ফুলকপি। হুয়ানের প্রতিক্রিয়া অবশ্য বিতৃষ্ণার।
তবে অ্যালিসনকে নিজের চ্যালেঞ্জের কথাও ভাবতে হচ্ছিল। হুয়ান বলেন, জীবনে তিনি কোনোদিন কিছু চুরি করেননি, খাবার বা টাকা কিছুই না। তার ছয়টি সন্তান, আর সবটাই তিনি করছেন পরিবারের জন্য। অ্যালিসন জানান, সম্প্রতি তার বাবার ডিমেনশিয়া ধরা পড়েছে। বাবা সবার খেয়াল রাখতেন, তাই এবার তিনি তাদের জন্য কিছু করতে চান, কারণ তাদের এটা তার চেয়ে বেশি দরকার। হুয়ান বলেন, অ্যালিসনের বাবা সত্যিই ভালো মানুষ, এবং অ্যালিসনকে একটা আলিঙ্গন দিয়ে বলেন সেটা যেন বাবার কাছে পৌঁছে দেন। অ্যালিসনের কথায়, হুয়ান সবাইকে ভালোবাসেন, আর তাকে দেখলে নিজের বাবার কথা মনে পড়ে।
অ্যালিসন জানান, আগের দুজনকেও তিনি বিশ্বাস করেছিলেন এবং মনে হয় না তারা চুরি করবে। কিন্তু আসল কাজ হলো সবচেয়ে বিশ্বাসী মানুষটিকে খুঁজে বের করা। হুয়ান সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ, তিনি যেমন, সবসময় তেমনই থাকেন। জিমির বাগদত্তাও তখন সেখানে এসে হুয়ানের সঙ্গে ব্যায়াম করছিলেন। জিমি স্বীকার করেন, এসব মুহূর্তে বোঝা যায় তাদের ভিডিওগুলো কতটা অদ্ভুত হয়। পরের পাঁচ দিন কোথায় কাটাতে চান জানতে চাইলে অ্যালিসন বলেন, অন্তত ছোট বাড়িতে ফিরতে চান না। জিমি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কি তিনি বাড়িটা ধ্বংস করে দেবেন? অ্যালিসন বলেন, "হ্যাঁ, প্লিজ।"
পনেরোতম দিন: কাউবয় আর বাড়ির ওপর প্লেন
পনেরোতম দিনে নতুন তিনজন আসেন: একজন ফাইটার, একজন কাউবয় এবং একজন সুমো কুস্তিগির। অ্যালিসন কথা বলার জন্য এক মিনিট চাইলে জিমি তা দেননি। অ্যালিসন কাউবয় জেসনকে বেছে নেন, আর হুয়ান মুক্তি পান।
এরপর জিমি "আসল মোড়" ঘোষণা করেন। অ্যালিসনের কথা মেনেই ছোট বাড়িটার ওপর একটা প্লেন ফেলা হয়। অ্যালিসন বলেন, জীবনে শোনা সবচেয়ে বিকট আওয়াজ ছিল সেটা। পরের পাঁচ দিন তাদের থাকতে হবে সেই ধ্বংসস্তূপেই। চারপাশে নতুন বৃত্ত আঁকা হয় এবং তারা তার ভেতরে আটকে যান। অ্যালিসন একটা ব্যায়ামের সাইকেল চান। ভেতরের মেঝে খুব ঢালু ছিল, কীভাবে ঘুমাবেন বুঝতে পারছিলেন না। কাউবয় অবশ্য বলেন, এমন পরিস্থিতি তিনি আগেও সামলেছেন।
ষোলোতম দিনে জিমি দেখতে আসেন এবং জেসনকে জিজ্ঞেস করেন, অ্যালিসন তাকে বাছলে তিনি টাকা অর্ধেক ভাগ করবেন কি না। জেসন একটু থেমে বলেন, "এই মুহূর্তে বলবো, হ্যাঁ, শেয়ার করবো।" এই দ্বিধা সবার নজরে পড়ে। সেদিন সাইকেলও পৌঁছে যায়। সতেরোতম দিনে শিকল সাইকেলের মাঝখানে আটকে যাচ্ছিল। জিমি স্বীকার করেন, ওদের বাড়ির ওপর প্লেন ফেলে খারাপই লাগছে, তাই খাবারের একটা প্যাকেট পাঠানো হয়।
জেসনের পরিকল্পনা ছিল, টাকা জিতলে বাচ্চাদের জন্য একটা কাউবয় ক্যাম্প বানাবেন। সেখানে ছোটদের জন্য ভেড়া আর ১৩-১৪ বছর বয়সীদের জন্য ছোট ষাঁড় থাকবে, যা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। তবে অ্যালিসন বলেন, তিনি জেসনের মুখ থেকে একটা কথাই শুনতে চেয়েছিলেন: তিনি চুরি করবেন না। সেটা জেসন ঠিকমতো বলতে না পারায় তাকে আগের সঙ্গীদের ওপরে রাখা সম্ভব নয়।
বিশতম দিন: ব্রি আর "প্রমিস" ট্যাটু
শেষ সঙ্গী বাছার জন্য আসেন একজন রকস্টার, একজন জেলে আর একজন পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড়। অ্যালিসন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ব্রিকে বেছে নেন, জেসন মুক্তি পান। এবার সীমানা বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং দ্বিতীয়বারের মতো অ্যালিসনকে আরেকটি ভিডিওর ভেতরে পাঠানো হয়। জিমির বর্ণনায় সেটি তাদের একটি জনপ্রিয় ভিডিওর সিক্যুয়েল, যেখানে এক দম্পতি বিয়ের আগে ১৫০ পাউন্ড ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন। অ্যালিসন আর ব্রি সেখানকার সবকিছু ব্যবহারের সুযোগ পান, শাওয়ারও।
ব্রি প্রতিশ্রুতি দেন, অ্যালিসনকে পরবর্তী নারী "হারলেম গ্লোবেট্রটার" হওয়া শিখিয়ে দেবেন। অ্যালিসনের চোখে ব্রি বেশ কুল, প্রচুর কথা বলেন আর খুব অ্যাথলেটিক। কিন্তু একান্তে ব্রি বলেন, অ্যালিসন আগেই আড়াই লাখ ডলার জিতেছেন, এখন অ্যালিসনকেই তাকে বোঝাতে হবে যাতে তিনি পুরো টাকা নিয়ে না যান। জিমির মন্তব্য, ব্রি শুরু থেকেই চুরির মতলব করছেন। টাকা দিয়ে কী করবেন জানতে চাইলে ব্রি বলেন, পরিবার আগে। তার এক কাকিমা বেশ কিছুদিন ধরে গৃহহীন, তাকে ওই অবস্থা থেকে বের করতে চান।
টেনিস কোর্টে তাদের বোঝাপড়া দিন দিন ভালো হচ্ছিল। তবু অ্যালিসনের মনে হচ্ছিল, ব্রি যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চান তবে তার আরও চেষ্টা করা উচিত। ব্রি দম্পতির একজনকে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করেন, অ্যালিসনের বিশ্বাস পেতে কী করা উচিত। উত্তর আসে, নিজের মতো থাকো আর সৎ থাকো। পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে কি ব্রি একশো শতাংশ ভাগ করবেন? ব্রি বলেন, তাকে একটু ভাবতে হবে।
জিমি দুজনের সঙ্গেই কথা বলেন। অ্যালিসন জানান, ব্রি একবারও বলেননি যে টাকা চুরি করবেন না, তাই মনে সন্দেহ জাগছে। জিমি ব্রিকে জিজ্ঞেস করেন, অ্যালিসনের বিশ্বাস বাড়াতে তিনি কী করতে পারেন। জিমির নিজের বর্ণনায়, এই কথোপকথনই ব্রিকে পরিকল্পনা কার্যকর করার শেষ ধাক্কাটা দেয়। ব্রি নিজেকে "প্রতিযোগী" বলে পরিচয় দেন। এরপর অ্যালিসনকে জানান, তিনি মানুষকে সম্মান করেন, কখনো প্রতিশ্রুতি ভাঙেন না, আর তার হাতে "প্রমিস" লেখা একটা ট্যাটুও আছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অ্যালিসনের কাছ থেকে এক টাকাও নেবেন না, আর তাকে বাছলে জয় "১০০০ শতাংশ" নিশ্চিত। অ্যালিসন বলেন, ব্রি-ই প্রথম সঙ্গী যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন চুরি করবেন না, তাই তাকে বাছলে জেতা নিশ্চিত মনে হচ্ছে। ব্রি একান্তে বলেন, প্রতিশ্রুতি ভাঙলে ট্যাটুটা হয়তো লেজার দিয়ে তুলে ফেলতে হবে।
সিদ্ধান্তের আগের দিন অ্যালিসন ভেঙে পড়েন। এতজনের মধ্যে কেবল একজনকে বাছতে হবে, অথচ অনেকের ওপরই তার সত্যিকারের বিশ্বাস জন্মেছে, সবার গল্প শুনেছেন আর সবার কারণই গুরুত্বপূর্ণ। দম্পতিটি তাকে বলেন, এখানে কোনো ভুল পছন্দ নেই, নিজের অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা রাখো।
চূড়ান্ত পর্ব: বাটন, পুরস্কারের সিঁড়ি আর তাড়াহুড়ো
জিমি প্রথমে মজা করে বলেন আরও পাঁচ দিন সময় আছে। তারপর লিমুজিনে করে অ্যালিসনকে চোখ বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে প্রতিযোগীদের একান্ত মন্তব্যে নানা সুর শোনা যায়। কেউ বলেন তিনি প্রতিযোগী, এটা স্বাভাবিক জায়গা নয়, একটা চ্যালেঞ্জ। কেউ বলেন আড়াই লাখ ডলার বিশাল অঙ্ক। কেউ বলেন অ্যালিসনের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ তৈরি হয়নি। আবার কেউ বলেন তিনি চুরি করতে চান না, অর্ধেক ভাগ করতে চান।
পট্টি খোলার পর অ্যালিসনের সামনে দাঁড়ান সেই পাঁচজন সঙ্গী: ব্রাইস, স্কাইলার, হুয়ান, জেসন ও ব্রি। জায়গাটা মুদি দোকানের পেছনের অংশ, তাই হুয়ান একসঙ্গে দুটি ভিডিওর শুটিং করছিলেন। জিমি জানান, এখনো পাঁচ দিন সময় আছে। যেকোনো সময় একটা বাটন চেপে একে একে সবাইকে বাড়ি পাঠানো যাবে, অথবা পাঁচ দিন ধরে তাদের আরও ভালো করে চেনা যাবে। কিন্তু ব্যাখ্যা শেষ হওয়ার আগেই অ্যালিসন বাটন চেপে দেন, আর তা ফেরানো যায় না।
এরপর জিমি বাকি নিয়ম জানান। পাঁচজনই আগে থেকে ঠিক করে রেখেছেন তারা টাকা ভাগ করবেন নাকি চুরি করবেন। শিকল কাটার পর তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাবে। প্রথম বাদ পড়া ব্যক্তি পাবেন ১০ হাজার ডলার, দ্বিতীয়জন ২০ হাজার, তৃতীয়জন ৩০ হাজার, চতুর্থজন ৪০ হাজার। জিমি বলেন, এই কারণেই তিনি পাঁচ দিন সময় দিতে চেয়েছিলেন, কারণ বাদ দেওয়ার ক্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম বাদ: কাউবয়ের লাল আলো
প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করা হয় তারা চুরি করেছেন কি না, সবাই অস্বীকার করেন। একজন বলেন, তারা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সুযোগ পেলেও কেউ টাকা নেবেন না, এবং সেই প্রতিশ্রুতি তারা রেখেছেন। জেসন অ্যালিসনকে বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ দেন। অ্যালিসন সোজাসুজি বলেন, লাইনে কেবল জেসনকে নিয়েই তার খটকা লাগছিল। জেসনের ব্যাখ্যা ছিল, তিনি খুব বাজে মিথ্যাবাদী, তাই শুরুতে কোনো নাটক করতে চাননি যাতে পরে তাকে মিথ্যাবাদী মনে হয়। ব্রি বলেন, এখানে সবাই চমৎকার মানুষ, কারও জীবন অন্যের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
অ্যালিসন ঠিক করেন, সবচেয়ে কম বিশ্বাসী থেকে শুরু করে সবচেয়ে বিশ্বাসীর দিকে যাবেন। প্রথমে জেসনকে বাদ দেন, কারণ পুরো লাইনে তিনিই একমাত্র যিনি সরাসরি বলেননি টাকা নেবেন না। জেসন একান্তে বলেন, অ্যালিসন আগেই অনেক টাকা জিতেছেন, আর তিনি এসেছিলেন প্রথম হতে, দ্বিতীয় হতে নয়। ফলাফলে দেখা যায় জেসন পুরো টাকা চুরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার যুক্তি, তিনি তো বলেছিলেন "যদি না পরিস্থিতি পাল্টায়"। জিমি বলেন, জেসন শেষ পর্যন্ত থাকলে পুরো আড়াই লাখ ডলার নিয়ে যেতেন আর অ্যালিসন খালি হাতে ফিরতেন। জেসনের নিজের মন্তব্য: অ্যালিসন খেলাটা ভালো খেলেছেন, কিন্তু তিনি নিজে খেলেছেন দুর্দান্ত।
এরপর জিমি অ্যালিসনকে বলেন, প্রতিযোগীরা যে প্রাইজমানি পাবেন সেটা জানার আগে থেকেই তিনি অ্যালিসনকে জেতাতে চেয়েছিলেন। তাই বাকিদের মধ্যে ২০, ৩০ বা ৪০ হাজার কাকে কোনটা দেওয়া হবে, সেটা অ্যালিসনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।
দ্বিতীয় বাদ: ব্রির ভাঙা প্রতিশ্রুতি
দ্বিতীয়জন হিসেবে অ্যালিসন ব্রির নাম বলেন, কারণ তার সত্যিই মনে হয়েছিল ব্রি চুরি করেছেন। তিনি আরেকটি যুক্তিও দেন। হুয়ানকে বাড়ি পাঠানোর পর তিনি আর কোনো লাল আলো দেখতে চান না। হুয়ানকে পাঠানোর পরে লাল আলো জ্বললে তিনি খুব কষ্ট পাবেন, আর ৩০ দিনের খাটুনিটাই বৃথা মনে হবে।
ব্রি স্বীকার করেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু মাঝে মাঝে প্রতিশ্রুতি ভাঙতে হয়। ফলাফলে লাল আলো জ্বলে, ব্রি চুরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ট্যাটুর কথা তুললে ব্রি বলেন, নিজের আর পরিবারের কাছে করা প্রতিশ্রুতিই তার কাছে আসল, ট্যাটুর মানে সেটাই। খেলাটা একটু জমাতে তাকে ওই কথাগুলো বলতে হয়েছিল। বাকিদের কেউ কেউ বলেন, এটা তারা আগেই আঁচ করেছিলেন।
তৃতীয় বাদ: হুয়ানের স্বেচ্ছা আত্মত্যাগ
তিনজন বাকি থাকতে জিমি বলেন, এখন কে কী বলছেন তার ওপরই নির্ভর করছে কে ৩০ হাজার, কে সোয়া লাখ আর কে পুরো আড়াই লাখ নিয়ে যাবেন। স্কাইলার বলেন, কসম বা প্রতিশ্রুতির কোনো মানে নেই, সবাই মিথ্যাই বলে। তিনি বিশ্বাস অর্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, কিন্তু হাতজোড় করে অনুরোধ করতে পারবেন না। যা-ই হোক, তিনি অ্যালিসনের বন্ধুই থাকবেন। ব্রাইস ক্যামেরার সামনে বলেন, তিনি সবুজ বাটন টিপেছেন। তার যুক্তি, দুজন দুজনকে বিশ্বাস করেছেন, আর কর্মফল দশগুণ হয়ে ফেরে। অ্যালিসন বলেন, তার মন বলছে ব্রাইস চুরি করেননি।
এরপর অ্যালিসন হুয়ানকে বাদ দেন, যাকে তিনি নিজেই চুরি করেননি বলে বিশ্বাস করতেন। কারণ, এ বিষয়ে দুজনের আগেই কথা হয়েছিল। হুয়ান জানিয়েছিলেন, যে অবস্থানেই বাদ দেওয়া হোক তাতে তার আপত্তি নেই, তিনি অ্যালিসনের ওপর রাগ করবেন না। মুদি দোকানের খাবার শেষ করতে পারলে বাইরে গিয়েও তিনি ভালো থাকবেন। অ্যালিসন বলেন, তিনি আর হুয়ান মিলে বাকিদের আরও বেশি সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। জিমি জানতে চান, হুয়ান কি নিজে জিততে না চেয়ে অন্যদের সুযোগ দিতে চেয়েছেন? উত্তর হ্যাঁ। জিমির মতে, তার চ্যানেলে এভাবে আত্মত্যাগ আগে কেউ করেননি।
হুয়ানের ফলাফলে সবুজ আলো জ্বলে, তিনি সত্যিই সৎ ছিলেন। হুয়ান বলেন, তিনি খুশি যে এটা তিনিই ছিলেন। অ্যালিসন জানান, এখন পর্যন্ত তার বিচার ভুল হয়নি, আর তিনি ঠিক হলে পরের দুটো আলোও সবুজ জ্বলবে। জিমি হুয়ানকে বলেন, তিনি মিস্টার বিস্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলা খেলেছেন। অ্যালিসন ব্যাখ্যা করেন, ব্রি সামনে থাকায় তিনি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছিলেন না। ব্রি হঠাৎ খুব বদলে গিয়েছিলেন, তাতে তিনি বুঝেছিলেন কোথাও গোলমাল আছে। অন্যদিকে হুয়ান শুরু থেকে একই রকম ছিলেন।
চতুর্থ বাদ: ব্রাইসের অপ্রত্যাশিত লাল আলো
এরপর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অ্যালিসন বাটন চাপেননি। তিনি রাতে ঘুমিয়ে আরও ভাবার সময় নিয়েছেন, যাতে ঠান্ডা মাথায় ভুল এড়ানো যায়। জিমি জানান, তাকে অন্য ভিডিওর শুটিংও করতে হবে, এত সময় লাগবে ভাবেননি। জিমি স্কাইলারকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। স্কাইলার স্বীকার করেন অফারটা লোভনীয়। অ্যালিসন বলেন, তার মনে হয় দুজনেই সবুজ বেছে নিয়েছেন, তাই কাজটা আরও কঠিন। এমন সময় স্কাইলারের সেই পুরোনো বেফাঁস কথা, "আড়াই লাখ ডলারের আরেক ধাপ কাছে", আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
শেষে অ্যালিসন ব্রাইসকে বাদ দেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন ব্রাইস সবুজ বেছেছেন। তার যুক্তি, ব্রাইসকে চোর মনে হলে তিনি তাকে এই অবস্থান পর্যন্ত আনতেনই না, তার জায়গায় হুয়ানকে রাখতেন। কিন্তু ফলাফলে লাল আলো জ্বলে। অথচ শুরু থেকেই ব্রাইস বলে আসছিলেন তিনি ভাগ করবেন, আর একটু আগেও সবুজ বাটনের দাবি করেছিলেন। অ্যালিসন স্বীকার করেন তিনি ভুল ছিলেন। জিমি বলেন, অ্যালিসনের উচিত হুয়ানের কাছে ক্ষমা চাওয়া, আর অ্যালিসনও বলেন সেজন্য তার খারাপ লাগছে। ব্রাইস ৪০ হাজার ডলার নিয়ে বিদায় নেন।
শেষ পরীক্ষা: পর্দার ওপারে স্কাইলার আর টাকা
জিমি মন্তব্য করেন, এর মানে হুয়ান ছাড়া বাকি সবাই অ্যালিসনের টাকা চুরি করতে চেয়েছিলেন। তবে তখনো স্কাইলারের সিদ্ধান্ত প্রকাশ পায়নি। জিমি জোর দিয়ে বলেন, সঙ্গী বাছাই থেকে বাদ দেওয়ার ক্রম পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত অ্যালিসন নিজে নিয়েছেন, আর সেসবই তাকে এই শেষ মুহূর্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। শেষ নিয়ম হলো, পর্দা সরানোর পর স্কাইলার আর টাকা দুটোই থাকলে দুজন অর্ধেক-অর্ধেক পাবেন। কোনোটি না থাকলে অ্যালিসন কিছুই পাবেন না, আর পুরো খাটুনি বৃথা যাবে।
অ্যালিসন বলেন, ব্রাইসের কাণ্ড দেখে তিনি খুব নার্ভাস, তবু মনের কোণে বিশ্বাস আছে স্কাইলার ভাগ করেছেন। তিন-দুই-এক গোনার পর পর্দা সরে যায়। স্কাইলার আর টাকা দুটোই সেখানে ছিল। স্কাইলার ভাগ করার পথই বেছে নিয়েছিলেন। অ্যালিসন বলেন, তিনি সত্যিই খুব ভয় পেয়েছিলেন। দুজনেই সোয়া লাখ ডলার নগদ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
শেষে জিমির মন্তব্য ছিল, মাঝে মাঝে অপরিচিতরাই হয়ে ওঠে এমন বন্ধু, যাদের সঙ্গে আগে দেখা হয়নি। পাঁচ সঙ্গীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে টাকা ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেবল হুয়ান আর স্কাইলার। যারা সবচেয়ে জোর দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই ব্রি আর ব্রাইস, দুজনেই শেষ পর্যন্ত চুরির পথ বেছে নিয়েছিলেন।
চোখ থেকে পট্টি খোলো! এ হলো অ্যালিসন। যদি সে এই অপরিচিতদের একজনের সাথে ৩০ দিন এভাবে চেইনে বাঁধা থাকতে পারে, আমি ওকে আড়াই লাখ ডলার দিব।
ওহ, দাঁড়াও। কিন্তু শুধু লুক দেখে তোমাকে পার্টনার বেছে নিতে হবে। —দাঁড়াও, আমি নিজে বাছবো? —হ্যাঁ, তুমিই বাছবে। ওই দিদা, এই বাইকার, নাকি জিম ব্রো। সাবধানে বাছো। শেষে যে সাথে থাকবে, সে কিন্তু পুরো টাকাটা চুরি করার সুযোগ পাবে।
ওকে, এটা কঠিন। শুধু এইটুকুই যখন জানি, আমি মাঝখানের ওই বাইকারকে বেছে নিচ্ছি। —তুমি ওর নামও জানো না। —সেটা জানার জন্য অনেক সময় পাবো। আড়াই লাখ ডলারের ডিসিশন। দেখা যাক কী হয়।
অলরাইট, এই নাও। —হেই, কেমন আছো? —নাইস টু মিট ইউ… —ব্রাইস। —অ্যালিসন। হাত ঘেমে যাচ্ছে। আমি একটু নার্ভাস। ভিডিওটা বেশ ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে।
তোমরা এই বাড়িতেই থাকবে। এই যে কিচেন। —আমি রান্না করতে পারি না, তবে… তুমি রান্না পারো? —হ্যাঁ, মোটামুটি ভালোই। —আর এটা লিভিং রুম… —দারুণ।
কোনো প্রশ্ন আছে? —এটা পরে বাথরুম কীভাবে যাবো? —জাস্ট ভেতরে যাও। ফ্লোরের নিচ দিয়ে নাও… আর এই তো হয়ে গেল! —ওহ! —এমন করো না! ওহ, নো।
রুলস একটাই—বাইরের ওই লাল দাগ পার হওয়া যাবে না আর হ্যান্ডকাফ খোলা যাবে না। এবার তোমরা নিজেদেরকে জেনে নাও।
—আচ্ছা, যদি বলি ওই দিদাকে বাছা উচিত ছিল, কেমন শোনাবে? —হ্যাঁ। আমি বিশ্বাসঘাতকও হতে পারি, তোমার ধারণা নেই।
তোমরা তো জানোই, এই বাড়ির প্রতি ইঞ্চিতে হিডেন ক্যামেরা আছে… বাথরুম বাদে। তবে অ্যালিসন জানে না যে, এই ভিডিওতে ও শুধু একজনের সাথেই চেইনে বাঁধা থাকবে না। আর ওদের সবার কাছেই সুযোগ থাকবে অ্যালিসনের আড়াই লাখ ডলার চুরি করার। খেলাটা জমবে এবার। দেখা যাক কী হয়।
প্রথম দিন। —কোন বেডটা আমার? —আমি ওই পাশেরটা নেবো। একটু লস হয়ে গেল। ও বাথরুমের বেশি কাছে থাকলো।
—আমি জানি না। —আমি ডাইনিংয়ে বসছি। বাইকার ম্যান—তোমার নাম যেন কী? —ব্রাইস! —ওয়াও! ব্রাইস। বাইকার ম্যান ব্রাইস… ও বললো রান্না পারে।
—আমি শুধু আশা করি শেষে টাকাটা হাফ-হাফ হবে। বুঝতে পেরেছো? —আমিও সেটাই চাই। একশ পার্সেন্ট।
আমি কি চুরি করবো, নাকি না? মন কিন্তু চুরির দিকেই বেশি ঝুঁকছে।
ব্রাইসের প্ল্যান যাই হোক, অ্যালিসন কিন্তু একদম বিন্দাস। আমার সত্যি কোনো কমপ্লেন নেই। আগে আকাশে থাকার সময় সবসময় বিরক্ত হতাম। —এটা নিয়ে তোমার দ্বিতীয়বার? —হ্যাঁ। ও তো অলরেডি একবার আড়াই লাখ ডলার পেয়েছে। আমি টাকা কামাতে এসেছি।
—আচ্ছা, ঘুমে যদি তুমি বিড়বিড় করে বলো, "আমি টাকাটা চুরি করছি", তখন? —আমাকে বিশ্বাস করো না।
আমার মনে হয় ব্রাইস খুব বিশ্বস্ত সাজার চেষ্টা করছে, যাতে পরে টাকাটা মারতে পারে। ও কেমন রিঅ্যাক্ট করে দেখতে অ্যালিসন ওকে টেস্ট করার কথা ভাবলো।
—দৌড়াও। —দৌড়াবো!? না। দুজন অপরিচিত মানুষ এভাবে একে অপরের দিকে জিনিস ছুঁড়ছে দেখলে খারাপ শোনায়। কিন্তু ওদের হাসি দেখে মনে হচ্ছে সব ঠিক আছে।
না! ওহ, ওহ! ওহ, দারুণ ক্যাচ ছিল! যাক, ওরা অন্তত মজা করছে। দেখা যাক দুই দিনে এই সিন চেঞ্জ হয় কি না। আমি কী বলছি পরেই বুঝবে।
আড়াই লাখ ডলার অনেক টাকা, কিন্তু তবুও মনে হয় না আমি চুরি করতে পারবো। হ্যাঁ, আমি সারাদিন এখানে বসে বলতে পারি যে তুমি টাকা চুরি করবে না। তুমি হয়তো মিথ্যা বলছো, তাও আমি আশা রাখছি।
এবার সবকিছু বদলে যাওয়ার সময়। এই দেখো! ওটা কি? —একটা লিমুজিন? —ওহ মাই গড। আমি বললে তবেই চোখ খুলবে। জিমি…? তোমাদের এমন দেখাচ্ছে কেন?
লিমুজিন কেন এসেছে? লিমুজিনে তো অনেক মানুষ ধরে। —হ্যাঁ। —হয়তো নতুন কেউ এসেছে?
কী হচ্ছে তা বলার আগে… নোলানের হাঁটাটা কি শুধু আমারই অদ্ভুত লাগছে? —সত্যিই খুব অদ্ভুত লাগছে। —এটা বেশ দেখার মতো। ভালো যে তুমি বললে।
বলেছিলাম না পাঁচ নম্বর দিনে একটা টুইস্ট আসবে? —বাইরে এসো। —হ্যাঁ, বলেছিলে তো। ওদের পাঠিয়ে দাও, নোলান!
একজন চিয়ারলিডার। চিয়ারলিডার? লেটস গো! একজন প্রেগন্যান্ট মহিলা। প্রেগন্যান্ট মম! আর একজন উকিল। —উকিল? —ওকে।
প্রতি পাঁচ দিন পর পর, অ্যালিসন, তুমি হ্যান্ডকাফ পরবে অপরিচিত একজনের সাথে। —ওহ, আমাকে আবার বাছতে হবে? —আর তারপর ২৫ নম্বর দিনে আমি ওদের সবাইকে ফেরত আনবো, আর তোমাকে ঠিক করতে হবে কাকে তুমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করো যে টাকা চুরি করবে না। ওদের সাথে কথা বলবে না। তুমি চুজ করবে, শুধু চেহারা দেখে।
ওহ গড, তুমি আমার সাথে এমন করতে পারলে! সত্যি বলছি, এই লয়ারকে আমার একদম বিশ্বাস হচ্ছে না। ওর হাসি দেখো একবার।
এবার এই প্রেগন্যান্ট মহিলার কথা ভাবো। দেখতে খুব ইনোসেন্ট হলেও, ওর কিন্তু টাকাটা চুরি করার একটা বড় কারণ আছে। আমি এটাই বলতে যাচ্ছিলাম। আর এই কলেজ চিয়ারলিডার, ওর হয়তো স্টুডেন্ট লোন আছে। বুঝতেই তো পারছো। এটা বড্ড কঠিন!
এমনও হতে পারে এই লয়ার অনেক বড় কেস জিতে অলরেডি অনেক ধনী। —ওর টাকার দরকারই নেই। —দেখো কেমন মুচকি হাসছে! ব্রিফকেসে কী আছে? —ও কি এটা নিয়ে ভেতরে যাবে? —আমি জানি না।
এমনও হতে পারে তুমি এক টাকাও পেলে না। জিরো ব্যালেন্স নিয়ে বাড়ি ফিরলে। কাকে বাছবে তাহলে? —আমি চিয়ারলিডারকেই বাছছি। —চিয়ারলিডার? অলরাইট, চলে এসো!
—ইয়েয়! —হাই, নাইস টু মিট ইউ। —আমার নাম অ্যালিসন। —আমি স্কাইলার। নাইস টু মিট ইউ। ৩০ নম্বর দিনে দেখা হবে। টেক কেয়ার। —বাই! —অডিয়েন্স জানতে চাইবে, তোমরা কি একে অপরকে চেনো? —না।
শুরুতেই বোঝা গেল, এই নতুন পার্টনারের সাথে অ্যালিসনের টিউনিংটা একটু অন্যরকম। এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা আমরা একসাথেই থাকবো। দারুণ হবে। স্কাইলার এই আই-প্যাচগুলো এনেছে। স্পা ডে!
আমার মনে হয় যেই আসুক না কেন, সবাই বলবে যে তারা টাকা চুরি করবে না, বরং হাফ-হাফ করে নেবে। ও মনে মনে ভাবছে, "এই মেয়েটাকে বিশ্বাস করা যায় না।" আর ওর করা উচিতও না।
যেহেতু আড়াই লাখ ডলারের ব্যাপার, তাই অ্যালিসন দেখতে চাইলো সে আসলেই ওকে ট্রাস্ট করতে পারে কি না।
—আমার মাথায় একটা আইডিয়া আছে। —কী? —আমরা পিঠোপিঠি দাঁড়াবো, তারপর যে যার দিকে জোরে দৌড় দেবো। —কেন? তুমি সিরিয়াস? ওকে।
সপ্তম দিন। ওরা মজা করছে দেখে ভালো লাগছে, কিন্তু টাকার মেইন বিষয়টা নিয়ে এখনো কোনো কথাই বলেনি।
আমরা ট্রাস্ট বা এই জাতীয় কোনো কথাই বলিনি। মনে হচ্ছে আমরা জাস্ট দুজন বন্ধু মিলে গার্লস টাইম কাটাচ্ছি। গেমটাই হলো ও যেন আমাকে ট্রাস্ট করে। তাই আমি যেভাবে চলছি, সেভাবেই চলবো।
লেটস গো, পাইরেটস! মেয়ে দুটো একে অপরের সাথে বেশ ফ্র্যাঙ্ক হতে শুরু করেছিল।
যদি তুমি এই টাকাটা পাও, তাহলে এটা দিয়ে কী করার প্ল্যান আছে? আমি বাবার কাছে গিয়ে বলবো যে আমি এটা ভালো কোথাও ইনভেস্ট করতে চাই। ধরো অনেক বয়স হওয়া পর্যন্ত যদি আমি বড় কোনো অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে না পারি…
ধরো অনেক বয়স হওয়া পর্যন্ত যদি আমি বড় কোনো অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে না পারি… তখন বাবা আমার সাথে থাকবে কি না আমি জানি না। জানি না, বেশি দেরি হয়ে গেলে, তবে… বাবার সাথে ওই এক্সপেরিয়েন্সটা আর হবে না। হ্যাঁ।
কিন্তু মনে হচ্ছিল স্কাইলার অ্যালিসনের সাথে একটু বেশিই কমফোর্টেবল হয়ে গেছে।
মিন্ট চকলেট চিপস শুধু গ্রিন কালার হলেই আমার ভালো লাগে। আমারও! এটা আমার 'পছন্দের' লিস্টে যাবে। ও গ্রিন কালারের মিন্ট চকলেট পছন্দ করে।
এই চক্করে ও একটা মস্ত ভুল করে বসলো। আড়াই লাখ ডলারের আরেকটু কাছে। দাঁড়াও, আড়াই লাখ?
ওহ গড, ওটা ভুল করে হয়েছে। সিক্রেটটা ফাঁস করে দিলাম। ও ভুলভাল বকে ফেলেছে।
দাঁড়াও। আমার হাঁটুর ওপর দাঁড়াও। দশম দিন। স্কাইলার ওই টাকার ওপর বসে আছে, যা ও চুরি করতে চায়। ভুল উত্তর!
আমরা বাড়ির কাছে চলে এসেছি। এবার ১০ নম্বর দিনের টুইস্টের পালা, যেটা ৫ নম্বর দিনের চেয়েও বড়। দেখা যাক অ্যালিসন কী বলে।
হেই, কেমন চলছে সব? ভালো। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। ওহ, তাই নাকি? ফাইভ। সিক্স। সেভেন। এইট।
মিস্টার বিস্টের জন্য চিয়ার্স করো। ও যে সবচেয়ে দয়ালু আমরা জানি। এবার টাকার দিকে চলো। গো জিমি!
ওকে! ওয়াও! বাহ, চেন সহ! দেখে তো মনে হচ্ছে তোমাদের বন্ডিং বেশ জমে উঠেছে। কী মনে হয়, তোমার সাথে হাফ-হাফ করবে?
অলরাইট স্কাই। হেই নোলান, চিৎকার করতে পারবে? চালিয়ে যাও, নোলান। আরও জোরে।
ও যদি তোমাকে নিত, তুমি কি টাকাটা চুরি করতে? আড়াই লাখ কিন্তু অনেক। পাঁচ দিন ধরে একে অপরকে চেনার পর… মনে হয় আমি চুরিই করতাম। সত্যি? হ্যাঁ, হ্যাঁ। একে তো আমি একদমই বিশ্বাস করতাম না।
অ্যালিসন, তুমি কি নতুন স্ট্রেঞ্জারদের সাথে মিট করতে রেডি? হ্যাঁ, আমি রেডি। পেইন্ট নিয়ে এসো। পেইন্ট?
লাল দাগটা এখন মুছে দেওয়া হলো, কারণ আগামী পাঁচ দিন তোমরা এই বাড়িতে থাকছো না… তোমরা অন্য কোথাও যাচ্ছো।
না! তুমি ইয়ার্কি করছো! অসম্ভব। ওহ মাই গড। ওখানে যেতে ভয়ই লাগছে, তবে রুলস তো রুলসই। তোমার এক্সাইটেড হওয়া উচিত। ওয়াও! নোলান। চলো যাই।
নতুন বাড়িতে যাচ্ছো না, আবার আকাশেও পাঠাচ্ছি না। একটু পরেই দেখতে পাবে। ওহ, কী! আসলে… আমরা অ্যালিসনকে পুরো অন্য একটা ভিডিওর ভেতর পাঠাচ্ছি।
অসম্ভব। মজা করছো নিশ্চয়ই। না। গ্রোসারি স্টোর দেখছি! গ্রোসারি স্টোর। জানি ওই গ্রোসারি স্টোরে কী আছে।
তুমি কি ওই গ্রোসারি স্টোরের কথা বলছো, যেখানে এক মিলিয়ন ডলারের জন্য চারজনকে স্টোরের সব খাবার খেতে হবে? হ্যাঁ। যেখানে পাঁচ দিনের জন্য জয়েন করতে পারো? অসম্ভব। কী?
দরজা খোলার আওয়াজ পাচ্ছি। কে হতে পারে? আমি চেনের আওয়াজ পাচ্ছি। কী অবস্থা ছেলেরা? তোমাদের জন্য দুজন বন্ধু নিয়ে এলাম। হেই। হাই।
শুরু করার আগে, স্কাই, তোমার হাতটা একটু দেখাবে? হ্যাঁ। তোমাদের এই গ্রোসারি স্টোরের ভিডিওর সাথেই আমরা আরেকটা ভিডিও শুট করছি, যেখানে প্রতি পাঁচ দিন পর অ্যালিসনকে নতুন একজনের সাথে চেইন দিয়ে বাঁধা হয়।
দাঁড়াও, তুমি নতুন কাউকে আনতে যাচ্ছো? না, আমাদের মধ্যেই কেউ একজন হবে। এলডিন, আমাদের মধ্যে থেকে!
অলরাইট স্কাই, তুমি এখন ফ্রি। তুমি গ্রোসারি স্টোর থেকে যেতে পারো। টেক কেয়ার। বাই গাইজ। বাই!
এদিকে এসো অ্যালিসন। যা মনে চায় জিজ্ঞেস করতে পারো। আগামী পাঁচ দিন তুমি এই চারজনের একজনের সাথে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় থাকবে এই গ্রোসারি স্টোরের ভিতরে। আর ও এখানে তোমাদের খাবার শেষ করতেও হেল্প করবে… দারুণ তো। লেটস গো।
আড়াই লাখ ডলারের জন্য চেইন পরে থাকতে কার আপত্তি আছে? তুমি কখন ঘুম থেকে ওঠো? দেখো, আমরা আড়াই লাখ ডলার নিয়ে কথা বলছি, ঘুম থেকে ওঠার টাইম নিয়ে নয়।
আমি সোয়া এক লাখ ডলারেও রাজি আছি। তুমি ওর থেকে পুরো টাকা চুরি করবে না? একদমই না। করবে না তো? না। সত্যি বলতে আমাদের কেউই করবে না।
তোমাদের মধ্যে কেউ বেশি কথা বলো? খুব বকবক করো? আমি প্রচুর কথা বলি। হুয়ান সম্পর্কে কী মনে হয়? তুমি খুব শান্ত আছো। তোমার কী মনে হয়? আমি ঠিক আছি।
অলরাইট, অ্যালিসন… জানতে চাই… কাকে বাছছো? আমার মনে হয় হুয়ানকে নিবো। হুয়ান! ওহ মাই গড! ওকে হুয়ান। সরি হুয়ান।
আর এই তো হয়ে গেল। তুমি এখন ওদের টিমের অংশ। ওয়েলকাম। ঘরে স্বাগতম।
আমাদের চ্যানেলের হিস্ট্রিতে এই প্রথম আমরা দুটো ভিডিও একসাথে মার্জ করছি। দ্য বিস্ট মাল্টিভার্স!
আমি ব্লু-কলার জব করতাম, ভোর পাঁচটায় ওঠার অভ্যাস আছে। ওহ আচ্ছা! তোমাদের মধ্যে তো মিল আছে। দুজনেই কনস্ট্রাকশনের কাজ করো। হ্যাঁ, আমি হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর। আমি এই ধরনের বিল্ডিং ভেঙে গুঁড়িয়ে দিই। তুমি বিল্ডিং ভাঙো। আর ও বিল্ডিং তৈরি করে। হ্যাঁ। হ্যাঁ, আমি বিল্ডিং বানাই। লেটস গো! দারুণ ব্যাপার।
দশম দিন। ১১তম দিন। গুড মর্নিং।
এই চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে, গ্রোসারি স্টোরের প্রতিযোগীরা যা খাচ্ছে সেই ক্যালোরি বার্ন করতে এক্সারসাইজ করে। ওকে। আর একটা ছোট ঘরে ১০ দিন কাটানোর পর অ্যালিসনও এতে যোগ দিতে এক্সাইটেড ছিল।
কতদিন এভাবে এক্সারসাইজ করিনি। ব্রেক লাগলে আমাকে বলো। আমার শরীরে এখন প্রচুর এনার্জি। আমারও সারাদিন থাকে। আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন করবো।
অ্যালিসন ছেলেদের এমন কিছু খাবার খেতেও হেল্প করছিল যা তারা একদমই পছন্দ করে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ও ফুলকপির জুস বানাচ্ছে। ওদের ফ্যামিলি নাকি এটা খুব পছন্দ করে।
এতে জাস্ট একটাই উপাদান আছে। উপাদানটা কী? ফুলকপি। আমরা পারবো। আমরা পারবো, হুয়ান। এটা কী রে বাবা! ইয়াক ব্রো। আহ!
তবে অ্যালিসনকে নিজের চ্যালেঞ্জের কথাও ভাবতে হচ্ছিল, ওকে দেখতে হচ্ছিলো এই নতুন মানুষটাকে ও ট্রাস্ট করতে পারে কি না।
তুমি যদি সোয়া এক লাখ ডলার জেতো, অথবা চুরি করে পুরো আড়াই লাখ ডলার পাও… তোমাকে আমি সত্যি বলি, আমি আজ পর্যন্ত কোনোদিন কিছু চুরি করিনি। কোনোদিন কিছু চুরি করোনি? কখনো না। কোনো খাবার, টাকা, কিচ্ছু না।
তোমার কয়টি বাচ্চা আছে? আমার ছয়টা বাচ্চা আছে। তার মানে তুমি সবটাই ফ্যামিলির জন্য করছো। হ্যাঁ, হ্যাঁ। একদমই তাই।
আমারও অনেকটা একই রকম ফিলিংস, কারণ রিসেন্টলি আমার বাবার ডিমেনশিয়া ধরা পড়েছে। ওহ গড। উনি আমাদের সবার খেয়াল রাখতেন। আমার ইচ্ছে আমি ওনাদের জন্য কিছু করি, কারণ ওনাদের এটা আমার চেয়ে বেশি দরকার।
আমি বলবো তোমার বাবা সত্যিই খুব ভালো একজন মানুষ। আমি বাবাকে বলবো তুমি এই কথা বলেছো। হ্যাঁ। আর হ্যাঁ, আমি তোমাকে একটা হাগ দিচ্ছি। এটা আমার তরফ থেকে তোমার বাবাকে দিয়ে দিও। ওকে।
হুয়ান মানুষটা বড্ড ভালো। ও সবাইকে ভালোবাসে। আর ওকে দেখলে আমার বাবার কথা মনে পড়ে।
হুয়ানের পরেও আমাকে আরও স্ট্রেঞ্জারদের সাথে চেইন পরে থাকতে হবে। বাকি দুজন কেমন ছিল? আমি ওদের ট্রাস্ট করেছিলাম। মনে হয় না ওরা চুরি করবে। তবে আসল কাজ হলো সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসী মানুষকে খুঁজে বের করা। হুয়ানের ক্ষেত্রে বলবো, ও যেমন তেমনই থাকে।
আমাদের টিমটা ভালো। হ্যাঁ, তোমার সাথে কাজ করে ভালো লাগল। হেই, দেখো কে এসেছে! আচ্ছা, আমার বাগদত্তা তাহলে এখানে এসেছে! হাই বেবি।
এই ধরনের মোমেন্টে আমি বুঝি আমাদের ভিডিওগুলো মাঝে মাঝে কতটা অদ্ভুত হয়! এসব কী হচ্ছে? এখানে হুয়ান অ্যালিসনের সাথে চেইনে বাঁধা, আবার আমার বাগদত্তার সাথে…
এসব কী হচ্ছে? এখানে হুয়ান অ্যালিসনের সাথে চেইনে বাঁধা, আবার আমার বাগদত্তার সাথে এক্সারসাইজ করছে। আমার চ্যানেলের যে কী দশা হচ্ছে কে জানে!
আচ্ছা, এর পরের পাঁচ দিন তোমাদের কোথায় কাটবে বলে মনে হয়? আমার মন বলছে আমি যেন অন্তত ওই ছোট বাড়িতে ফিরে না যাই। তার মানে তুমি চাও আমি ওই ছোট বাড়িটা ধ্বংস করে দিই? হ্যাঁ প্লিজ, আমি পারবো না। ওকে।
দাঁড়াও, চেইনটা এখানে নামাচ্ছি। সরি। ওহ। চলো দেখি নতুন কী করা যায়। নতুন প্ল্যান!
১৫তম দিন। অ্যালিসন, তুমি কি পরবর্তী স্ট্রেঞ্জার ব্যাচের সাথে দেখা করতে রেডি? হ্যাঁ। ওদের ভেতরে পাঠিয়ে দাও!
ওহ নো। ওহ নো কেন? ওহ! এসব কী হচ্ছে ভাই? ওহ! হ্যাঁ, আমি ঠিক এটাই চাইছিলাম। উফ।
অ্যালিসন, তোমার সামনে এখন আছে একজন ফাইটার, একজন কাউবয় আর একজন সুমো রেসলার। কী মনে হয় তোমার? আমি কি ওদের সাথে একটু কথা বলার জন্য এক মিনিট সময় পেতে পারি? না। হুয়ান এখন একদম ফ্রি। থ্যাংক ইউ অ্যালিসন। বাই হুয়ান।
অ্যালিসন, এই হ্যান্ডকাফ কার হাতে পরাবো? আমি তাহলে যাবো… কাউবয়ের সাথে। কাউবয়? অলরাইট, থ্যাংক ইউ। ওকে, তোমার ডান হাতটা বাড়াও। ঠিক আছে। ওকে। হ্যান্ডকাফ পরে আমি আগে কখনো এত খুশি হইনি।
শেষ কিছু বলার আছে তোমাদের? বাই! লাভ ইউ! বাই বাই বন্ধু!
অ্যালিসন, এবার এই ভিডিওর আসল টুইস্টের পালা। ওহ গড, ওহ গড! চোখের পট্টি খোলো আর বদলে এই সেফটি গ্লাসগুলো পরে নাও। এটা ভালো লক্ষণ মনে হচ্ছে। ওরা এখনো ঘুরেও তাকায়নি।
বিস্ট মাল্টিভার্সের পরবর্তী চ্যাপ্টারে স্বাগতম। আমরা তোমাদের ওই বাড়িটার ওপর একটা প্লেন ক্র্যাশ করাবো। না, তুমি এটা করতে পারো না! আসলে তুমিই তো বলেছিলে… তুমি চাও আমি যেন ওই ছোট বাড়িটা ধ্বংস করে দিই। হ্যাঁ, প্লিজ। ওকে।
প্লেনটা ফেলে দাও। ওহ মাই গড।
ওহ! ওহ বাবারে! আমার লাইফে শোনা সবচেয়ে বিকট আওয়াজ। তোমাদের বাড়ি এখন শেষ! আগামী পাঁচ দিন এটাই তোমাদের আস্তানা। এটা কী হলো? তুমি নির্ঘাত ইয়ার্কি করছো। বাড়ির ওপর প্লেন ক্র্যাশ করার পর কেউ কখনো সেখানে থেকেছে? না।
এখন নতুন একটা সার্কেল আঁকতে হবে। ধুর। ওহ নো! আমার জুতোয় লেগে গেছে। দাঁড়াও, জুতোয় লেগে গেল। নো!
আর এর সাথে, আগামী পাঁচ দিনের জন্য তোমরা এই সার্কেলে লক হয়ে গেলে। কিছু লাগবে তোমাদের? আমি জানি ও না-ই বলবে। একটা এক্সারসাইজ বাইক হলে ভালো হতো। ওকে, আমি এনে দিচ্ছি। পরে দেখা হবে।
রেডি? তুমি রেডি, জেসন? তোমার পেছনেই আছি, অ্যালস। সাবধানে। জায়গাটা কিন্তু বেশ ঢালু। বাপরে বাপ! আমরা কীভাবে ঘুমাবো জানি না। তবে শোনো, এই ধরনের অবস্থা আগেও সামলেছি। তোমাদের রাতটা আজ খুব বাজে কাটবে। ইয়ি হা! জায়গাটা একটু বেশিই বাঁকা। হ্যাঁ, বেশ ভালো রকম ঢালু।
১৬তম দিন। প্লেন ফেলার একদিন হয়ে গেছে। দেখা যাক ওরা কেমন আছে। নক নক! কে? আমি জিমি। ওহ। ওয়েলকাম। হ্যাঁ। বাইরে থেকে তো এত বাঁকা লাগছিল না। অদ্ভুত তো!
আমাদের এই কাউবয় কি আড়াই লাখের অর্ধেক পাচ্ছে? আমি জানি না। ও যদি তোমাকে নেয়, তুমি কি টাকাটা হাফ-হাফ করবে? মানে… মানে কী?! এই মোমেন্টে বলবো, হ্যাঁ, আমি শেয়ার করবো। এটা কী বললো!
মনে আছে গতকাল বলেছিলাম কিছু লাগবে নাকি? হ্যাঁ। একটু বাইরে এসো। সত্যি বলছো? ওয়াও। তোমাদের আর কিছু লাগবে? আসলে হুট করে কিছু মাথায় আসে না, কারণ আমি তো ভাবিইনি এমন কিছু হবে। আচ্ছা, তার মানে যা দরকার সব আছে। আগামীকাল দেখা হবে। বাই অ্যালিসন। না! না!
১৭তম দিন। দারুণ! চেইনটা মাঝখানে আটকে যাচ্ছে! এবার জোরে প্যাডেল মারো। জোরে চালাও।
ধুর! ওদের বাড়ির ওপর প্লেন ফেলে খারাপই লাগছে। মাজদ, কেয়ার প্যাকেজটা পাঠিয়ে দাও। হেই! শুনলাম তোমরা নাকি ক্ষুধার্ত! এর ভেতর কিছু ফিস্টেবলস চকলেট আছে। নিয়ে এসো। ওহ! থ্যাংক ইউ!
ফিস্টেবলসের প্রথম বাইট। দারুণ টেস্ট। আমার মুখে কি লেগে আছে?
তো, টাকাটা জিতলে কী করবে বলছিলে যেন? বাচ্চাদের জন্য একটা কাউবয় ক্যাম্প বানাবো। ছোটদের জন্য ভেড়া আর ১৩-১৪ বছর বয়সীদের জন্য ছোট ষাঁড় থাকবে। বেশ খরচসাপেক্ষ ব্যাপার।
আমি আসলে ওর মুখ থেকে একটা কথাই শোনার অপেক্ষায় ছিলাম যে ও টাকা চুরি করবে না। কিন্তু ও যেহেতু সেটা ঠিকমতো বলতে পারলো না, তাই আগের পার্টনারদের ওপরে ওকে রাখা সম্ভব নয়।
আড়াই লাখ বা সোয়া এক লাখ ডলার জেতার চান্স থাকলে তুমি কী করতে? দেখা যাক কী হয়।
২০ নম্বর দিন শুরু হতেই অ্যালিসনের শেষ পার্টনার বাছার সময় চলে এলো। অলরাইট, অলরাইট। ওহ, এটা তো মাজদ! ওয়াও!
আজ অ্যালিসনের ২০ নম্বর দিন, আর জেসনের ৫ নম্বর দিন। এর মানে তো জানোই। নতুন স্ট্রেঞ্জারদের নিয়ে এসো! আমাদের কাছে আছে একজন রকস্টার, একজন জেলে আর একজন প্রফেশনাল বাস্কেটবল প্লেয়ার। ওহ! দারুণ সব অপশন।
তো অ্যালিসন, কাকে বাছছো? ওকে, আমি প্রফেশনাল বাস্কেটবল প্লেয়ারকেই বেছে নিচ্ছি। ওয়াও, ওকে। আমি রেডি, চলো শুরু করি। অলরাইট।
জেসন, তুমি এখন অফিশিয়ালি ফ্রি। বাই জেসন। গুড লাক। আমার হয়ে কিছু সুশি খেও। অবশ্যই, তুমিও ভালো করবে। ওহ… অফিশিয়াল।
আর একটা কথা অ্যালিসন। মনে হলো তোমাদের একটু বেশি স্পেস দরকার, তাই বাউন্ডারিটা বাড়িয়ে দিচ্ছি। ওহ। বাহ, কী নিখুঁত কাজ! দারুণ! তবে এটা কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে।
দ্বিতীয়বারের মতো অ্যালিসন অন্য একটা ভিডিওর ভেতর যাচ্ছে। আমাদের একটা পপুলার ভিডিওর সিক্যুয়েল এটা, যেখানে এই কাপল ১৫০ পাউন্ড ওজন কমানোর ট্রাই করছে তাদের বিয়ের আগে।
হাই! হেই! হাই গাইজ। অ্যালিসন, তুমি ওপাশ থেকে এদের ওপরই চেঁচাচ্ছিলে। ওদের ঘরটা ঘুরিয়ে দেখাবে? চলে এসো। নতুন ঘরে স্বাগত। আমি খুব এক্সাইটেড!
অ্যালিসন আর ব্রি এখানকার সবকিছুর ফুল অ্যাক্সেস পাবে। ঘরটা খুব সুন্দর তো। এটাই মেইন জায়গা। সুন্দর। আমরা কি শাওয়ার ইউজ করতে পারি? হ্যাঁ, অবশ্যই পারো। ওহ মাই গড।
মনে হচ্ছিল গ্রোসারি স্টোরই সবচেয়ে বড় টুইস্ট। হ্যাঁ। আর এখন আমি পুরো অন্য সেটে। আমার ভালো লাগছে।
তোমার ভাগ্য ভালো। আমি তোমাকে নেক্সট ফিমেল ‘হারলেম গ্লোবট্রটার’ হওয়া শিখিয়ে দেবো। আরও কয়েক ইঞ্চি লম্বা হতে হবে। আমি তোমার চেয়ে মাত্র এক ইঞ্চি লম্বা। এবার চলো হাঁটা যাক। হ্যাঁ, দারুণ! ইয়াহ!
ব্রি মেয়েটা বেশ কুল। প্রচুর কথা বলে আর হেভি অ্যাথলেটিক, তাই এখানে বেশ মজাই হবে। এই তো, পারফেক্ট গার্ল! একদম ঠিক!
আমি এখনো ওকে ওভাবে চিনি না। আর ও অলরেডি আড়াই লাখ ডলার জিতে বসে আছে। ও তো জিতেই গেছে। এখন ওকেই আমাকে কনভিন্স করতে হবে যাতে আমি পুরো টাকাটা মেরে না দিই।
ওয়াও, ব্রি তো এখন থেকেই চুরির মতলব করছে।
প্রশ্ন হলো, অ্যালিসন কি এটা টের পাবে?
আজ সকালে যা ওয়ার্কআউট করলাম, বাপরে বাপ! আমি তো প্রায় শেষ।
টাকাটা পেলে কী করার প্ল্যান? ফ্যামিলি সবার আগে। আমার কাকিমা বেশ কিছুদিন ধরে হোমলেস। আমি শুধু ওনাকে ওই পরিস্থিতি থেকে বের করতে চাই। এটা আমার জন্য নয়, ওনাদের জন্য।
হ্যাঁ! লেটস গো! উহু! ফার্স্ট ট্রাই। হু!
আমি নিজের মতোই থাকছি। আমি পজিটিভ ভাইব পছন্দ করি আর আমাদের টিউনিংটাও বেশ ভালো। টেনিস কোর্টে আমাদের পারফর্ম্যান্স দিন দিন বেটার হচ্ছে।
তোমরা করে দেখিয়েছো। হ্যাঁ, এখানে আমাদের খুব মজা হচ্ছে।
কিন্তু ব্রি যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চায়, আমার মনে হয় ওর আরেকটু এফোর্ট দেওয়া উচিত। আমি ওর জায়গায় হলে একটু বোঝার ট্রাই করতাম সামনের জনের মাথায় কী চলছে। যদিও কাজটা কঠিন।
তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো। কী? হ্যাঁ, বলো? আমি জোরে বলতে পারছি না, তবে... ওকে, এক সেকেন্ড।
ও যাতে আমাকে ট্রাস্ট করে, তার জন্য আমার কী করা উচিত বলে মনে হয়? নিজের মতো থাকো আর অনেস্ট থাকো।
তার মানে তুমি একশ পার্সেন্ট শেয়ার করবে? আমাদের মধ্যের কথা যেহেতু, আমাকে একটু ভাবতে হবে। হ্যাঁ, আর সেটা খুবই স্বাভাবিক। তুমি হলে কী করতে? পুরোটাই তোমার ওপর। তোমার ওপর নির্ভর করে।
অ্যালিসনের ডিসিশন নেওয়ার সময় যত আগাচ্ছিলো, আমি ওদের দুজনের সাথেই একটু কথা বলতে চাইলাম।
আমি খেয়াল করলাম ও কিন্তু একবারও বলেনি যে ও টাকাটা চুরি করবে না। হ্যাঁ, ওর মুখ থেকে এই কথাটা আমি শুনিনি। তাই মনে একটু সন্দেহ জাগছে।
ও যাতে তোমাকে আরও বেশি বিলিভ করে বা ট্রাস্ট করে, তার জন্য কী করতে পারো? বাঃ, দারুণ প্রশ্ন তো!
সময় কমে আসছিল, আর আমাদের এই কথাই ব্রিকে ওর প্ল্যান এক্সিকিউট করার ফাইনাল পুশটা দিল।
আমি একজন কম্পিটিটর, আর আমি এবার ওকে বুঝিয়ে দেবো ও চোখ বন্ধ করে আমাকে ট্রাস্ট করতে পারে। আশা করি সব ঠিক হবে।
আমার মনে হয় এতদিনে তুমি বুঝেছো আমি মানুষ হিসেবে কেমন। আমি মানুষকে রেস্পেক্ট করি আর কখনো প্রমিস ভাঙি না। তোমাকে দেখানো হয়নি, আমার হাতে একটা ট্যাটুও আছে, যাতে লেখা ‘প্রমিস’।
তাই নাকি!
আমি প্রমিস করছি যে আমি তোমার থেকে এক টাকাও কেড়ে নেবো না।
আমি যদি তোমাকে বাছি, তাহলে এটা ১০০০ পার্সেন্ট গ্যারান্টিড উইন হবে। হ্যাঁ। আমি প্রমিস করছি।
ওই প্রথম কোনো পার্টনার যে প্রমিস করে বললো ও চুরি করবে না। আমার মনে হয় ওকে বাছলে জেতা সুনিশ্চিত।
প্রমিস ভাঙলে এই ট্যাটুটা হয়তো আর রাখা যাবে না। লেজার দিয়ে তুলে ফেলতে হবে।
বড় ডিসিশন নেওয়ার মাত্র একদিন বাকি থাকতে অ্যালিসনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠলো।
বাকিদের কথা ভেবে খারাপ লাগছে, এতজনের মধ্যে আমি শুধু একজনকে বাছতে পারবো। এটা আমার একদম ভালো লাগছে না কারণ এদের অনেকের ওপরই আমার সত্যি বিশ্বাস জন্মেছে। গাইজ, আমি বুঝতে পারছি না কী করা উচিত আমার।
ইটস ওকে, শান্ত হও। সব ঠিক হয়ে যাবে।
এটা মানুষের লাইফ চেঞ্জ করে দেবে। আমি সবার গল্প শুনেছি আর সবার কারণগুলোই খুব ইম্পর্ট্যান্ট। আমি নার্ভাস হয়ে যাচ্ছি।
তুমি যা ডিসিশন নেবে সেটাই পারফেক্ট হবে। কোনো চয়েস এখানে ভুল নয়। তাই এটা নিয়ে একদম ভেবো না। হ্যাঁ, ঠিক। স্রেফ নিজের গাট ফিলিং আর বিশ্বাসের ওপর ভরসা রাখো।
কাল পরিস্থিতির ওপর ছেড়ে দেবো, দেখা যাক কোন সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।
অলরাইট, আজ সেই গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজই অ্যালিসন ডিসাইড করবে আড়াই লাখ ডলারের জন্য ও কাকে ট্রাস্ট করবে।
ওহ! জাস্ট কিডিং! আরও পাঁচ দিন পাবে। ওহ, থ্যাংক গড! বাঁচা গেল।
সামনের লিমুজিনটায় আমার সাথে এলে পুরো বিষয়টা বুঝতে পারবে। ওহ বাবা!
তুমি কি তোমার লাইফের সবচেয়ে বড় ডিসিশনটা নিতে রেডি? আমার রিঅ্যাকশন দেখেই তো বুঝতে পারছো উত্তরটা ‘না’।
একটা চোখের পট্টি নাও, অ্যালিসন। তোমার চোখের পট্টি। ওহ, ওকে। ওহ গড! তোমরা যদি এটা একটু পরে নাও, খুব ভালো হয়।
বাই! তুমি খুব ভালো করবে। দেখা যাক ও কী ডিসাইড করে।
এসব কী হচ্ছে রে বাবা?
নিয়ে নিন, ভাগ করুন।
আমি একজন কম্পিটিটর। এটা কোনো নরমাল জায়গা নয়, একটা চ্যালেঞ্জ। আমি ওকে প্রমিস করেছি।
জানি না অ্যালিসন, আড়াই লাখ ডলার কিন্তু বিশাল অ্যামাউন্ট।
আমার মনে হয় একটা সঠিক চয়েস আছে, যা লজিক্যাল এবং ফেয়ার হবে।
ওর সাথে আমার ওভাবে কোনো কানেকশন তৈরি হয়নি। আমরা দুজনে একদম আলাদা টাইপের মানুষ।
আমি ওর জন্য খুব হ্যাপি। আমি টাকা চুরি করতে চাই না। হাফ-হাফ করতে চাই। কিন্তু কাজটা কঠিন, আমারই খারাপ লাগছে।
স্প্লিট।
সবাই নিজেদের চোখের পট্টি খুলে ফেলো।
হ্যালো সবাই। হ্যালো অ্যালিসন। হ্যালো। হেয় অ্যালিসন।
অ্যালিসনের সামনে এখন সেই সব স্ট্রেঞ্জাররা আছে যাদের সাথে ও হ্যান্ডকাফ পরে ছিল। হুয়ান এখানে কীভাবে এলো ভেবে থাকলে, আমরা এখন গ্রোসারি স্টোরের ব্যাকসাইডে আছি, তাই হুয়ান একসাথে দুটো ভিডিওর শুট করছে।
সত্যি বলতে, আমি এত তাড়াতাড়ি এটা আশা করিনি। ভাবলাম আরও পাঁচ দিন সময় আছে। হ্যাঁ, পাঁচ দিন সময় এখনো আছে। ওহ। ডিসিশন নেওয়ার জন্য।
এখন থেকে তোমরা যেকোনো সময় এই বাটনটা প্রেস করে একে একে সবাইকে বাড়ি পাঠাতে পারো। অথবা আরও পাঁচ দিন সময় নিয়ে ওদেরকে ভালো করে চিনে নিতে পারো, যা মনে চায় প্রশ্ন করতে পারো।
ওয়াও। ওকে, আরেকটা বিষয় এক্সপ্লেন করার ছিল। কিন্তু ও বাটন টিপেই দিল! এটাকে কি রিওয়াইন্ড করা যাবে না? না।
শেষ যে কথাটা বলছিলাম, এই পাঁচজন অলরেডি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা টাকাটা শেয়ার করবে নাকি চুরি করবে। যাকে তুমি প্রথমে এলিমিনেট করবে সে পাবে ১০ হাজার ডলার। নোলান, ওটা একটু নিয়ে এসো।
ওহ, আচ্ছা! নোলান, এটা বেশ ভালো ছিল। হ্যাঁ। হ্যাঁ, থ্যাংক ইউ নোলান।
যাকে সেকেন্ড এলিমিনেট করবে সে পাবে ২০ হাজার ডলার। থার্ড জন ৩০ হাজার, আর ফোর্থ জন ৪০ হাজার ডলার। তাই এলিমিনেশনের সিরিয়ালটা কিন্তু খুব ম্যাটার করছে। এই কারণেই আমি পাঁচ দিন সময় দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ও তো বাটন প্রেস করেই দিল। যা হয়ে গেছে, ওটা ফেরানো যাবে না।
প্লায়ার্সটা দাও। ধন্যবাদ। অলরাইট।
সব খুব জলদি হচ্ছে, অ্যালিসনের একদম ধৈর্য নেই। আসল মজা হলো, চেইন কাটার পর জানা যাবে ওদের ডিসিশন কী ছিল। এটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
অন্তত এটা ভেবে ভালো লাগছে যে তোমরা সবাই কিছু না কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরছো।
মাত্র পাঁচ দিন এখানে কাটিয়ে ১০ হাজার ডলার পাওয়াটাও একটা বড় ব্লেসিং। সোয়া এক লাখ পাওয়াটাও। অথবা পুরো আড়াই লাখ ডলার। এটা ওদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার।
লেফট সাইড থেকে শুরু করতে পারি। তুমি কি টাকাটা চুরি করেছ? না, আমি করিনি। আমরা একে অপরকে প্রমিস করেছিলাম যে ও চান্স পেলে আমরা কেউ টাকা মারবো না। আমরা প্রমিস রেখেছি। ওকে। আমি বিশ্বাস করি তুমি চুরি করোনি। একশ পার্সেন্ট বিশ্বাস করি।
স্কাই, তুমি কি টাকাটা চুরি করেছ? না।
আর হুয়ান? তুমি কি চুরি করেছ? না, একদম না। না? হুয়ান চুরি করতে পারে না। ওকে।
মিস্টার কাউবয়, ওকে কিছু বলতে চাও? হেই অ্যালিসন। আমাকে ট্রাস্ট করার জন্য থ্যাংকস। ও কিন্তু এখনো তোমাকে ট্রাস্ট করার ডিসিশন নেয়নি। হ্যাঁ, সেটা অবশ্য ঠিক।
তোমার কি মনে হয় ও টাকা চুরি করেছে? সত্যি বলতে, লাইনে শুধু তোমাকেই আমার একটু খটকা লাগছিল। আর আমি অনেস্ট থাকতে চাই। খারাপ লাগলো।
মানে, তুমি টাকাটা চুরি করেছ? না, আমি চুরি করিনি। আমি খুব বাজে মিথ্যা বলি, তাই শুরুতে ওসব নাটক করতে চাইনি।
যাতে ও পরে আমাকে মিথ্যাবাদী ভাবে।
ওকে, আমি ওকে বিশ্বাস করছি। ওকে।
ব্রি? আমার মনে হয় এখানে সবাই খুব চমৎকার মানুষ। সবার গল্পই আমি শুনেছি। কারোর লাইফ কারোর চেয়ে কম ইম্পর্ট্যান্ট নয়। এটা স্রেফ ওর ওপর ডিপেন্ড করছে যে ও কার সাথে বেশি কানেক্ট করেছে।
খুব কঠিন ডিসিশন। কীভাবে বাছবে?
আমি ভাবছি কম বিশ্বাসী থেকে শুরু করে মোস্ট ট্রাস্টওয়ার্দির দিকে যাবো। এই নাও।
তার মানে যাকে তুমি এখন বাছছো, তাকে সবচেয়ে কম ট্রাস্ট করো।
একদম। আমাকে তোমাকেই বাছতে হচ্ছে কারণ পুরো লাইনে তুমিই একমাত্র মানুষ যে সরাসরি বলেনি যে টাকাটা নেবে না।
যাই হোক, ১০ হাজার ডলার তো পাচ্ছো। এটা দিয়ে কয়টা ষাঁড় কেনা যাবে?
আমাকে মনে রাখতে হবে অ্যালিসন অলরেডি অনেক টাকা জিতেছে।
আমি এখানে সেকেন্ড হতে আসিনি, ফার্স্ট হতেই এসেছিলাম।
ওর ডিসিশনটা রিভিল করা যাক। ওয়াও!
তুমি পুরো টাকাটা চুরির ডিসিশন নিয়েছিলে?
হ্যাঁ। আমি তো বলেছিলাম যদি না পরিস্থিতি পাল্টায়।
সর্বনাশ! অবিশ্বাস্য! ও যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতো ও কিন্তু পুরো আড়াই লাখ ডলার নিয়ে চলে যেত। আর তুমি খালি হাতে ফিরতে। ভালো যে তুমি এটা ধরে ফেলেছ।
ওয়াও! আমার আগের সব কথা মনে পড়ছে আর ভাবছি ওয়াও!
তুমি খেলাটা ভালোই খেলেছ, কিন্তু আমি খেলেছি দুর্দান্ত!
হ্যাঁ, একদম ঠিক।
বাকি চারজনের সাথে একটু সময় দিচ্ছি।
সবাই যে প্রাইজ মানি পাবে তা জানার আগেই তো আমি তোমাকেই জেতাতে চেয়েছিলাম। তাই ডিসিশনটা তোমার ওপরই ছাড়ছি। যদি আমরা বাকিদের আরও বেশি টাকা দিয়ে হেল্প করতে পারি, ২০ হাজার, ৩০ হাজার বা ৪০ হাজার ডলার। কাকে কোনটা দেবে সেটা তোমার চয়েস কারণ আমি তোমাকেই বেশি ট্রাস্ট করি।
অলরাইট! তোমরা কি আমাকে মিস করেছিলে? কী ব্যাপার, কেউ তো হাই-ও বললে না!
হাই, কেমন আছো?
আমি সারাদিন ধরে এটার ওয়েট করছিলাম। হ্যাঁ, দেখেই বুঝছি।
২০ হাজার ডলার নিয়ে এসো। ইয়েস!
থ্যাংকস নোলান। তুমি এখন যার নাম বলবে তোমার মনে হয় সে টাকা চুরি করেছে?
আমার সত্যি মনে হয় ও টাকাটা চুরি করেছে।
তোমার মনে হয় ব্রি তোমার টাকা চুরি করেছে? আমি শিওর নই। সেটা জানার তো একটাই উপায় আছে।
হ্যাঁ, কেন মনে হলো আমি?
আসল কথা হলো, আমি হুয়ানকে বাড়ি পাঠানোর পর রেড লাইট দেখতে চাই না। আমি চাই সব রেড লাইট যেন চলে যায়। কারণ হুয়ানকে পাঠানোর পর রেড লাইট জ্বললে আমি খুব আপসেট হবো। তাহলে এই ৩০ দিনের কষ্টটাই বৃথা যাবে।
ব্রি, ওকে কী বলতে চাও? ও তোমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
ও আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে! দেখো, এখন পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি ওকে প্রমিস করেছিলাম ঠিকই কিন্তু মাঝে মাঝে প্রমিস ভাঙতেই হয়।
ওকে। অনেকগুলো টাকার ব্যাপার।
ব্রি টাকাটা চুরি করার ডিসিশন নিয়েছিল। ব্রি! তোমার ওই ট্যাটুটার কী হলো?
নিজের আর ফ্যামিলির কাছে করা প্রমিসটাই আমার কাছে আসল। ওটার মানে এটাই ছিল। তবে গেমটা একটু ইন্টারেস্টিং করার জন্য ওটা বলতে হয়েছিল।
এটা আমি আগেই জানতাম। হ্যাঁ, এটা প্রেডিক্টেবল ছিল।
না! তুমিও এটা ফিল করেছিলে তাহলে!
হ্যাঁ। অলরাইট। এই তো হয়ে গেল। আফসোস নেই।
সবাই ব্রি-কে বাই বলে দাও। বাই ব্রি। ভালো থেকো। ভালো সময় কাটলো।
এবার তোমরা তিনজন বাকি আছো যার মধ্যে একজন আড়াই লাখ ডলার শেয়ার করার সুযোগ পাবে।
আমি কি…
টাকাটা নিয়ে এসো নোলান! এখন তোমরা কে কী বলছো তা খুব ইম্পর্ট্যান্ট কারণ এটার ওপরই ডিপেন্ড করছে কে ৩০ হাজার, সোয়া এক লাখ নাকি পুরো আড়াই লাখ নিয়ে যাবে। তোমরা কে কী চুজ করেছ আমি জানি না। আশা করি আড়াই লাখ না!
অ্যালিসনকে কী বলতে চাও তোমরা? ওয়ান-টু-ওয়ান কথা বলার এটাই হয়তো লাস্ট চান্স।
কসম বা প্রমিস করার কোনো মানে নেই, সবাই মিথ্যাই বলে। আমি তোমাকে ট্রাস্ট করানোর জন্য নিজের বেস্ট ট্রাই করেছি। আমি ওভাবে হাত জোড় করে রিকোয়েস্ট করতে পারবো না। ব্যস এটুকুই। যাই হোক আমি তোমার বন্ধুই থাকবো।
ব্রাইস, তুমি কী চুজ করেছ?
আমি গ্রিন বাটন টিপেছি, আর কেন টিপেছি সেটার কারণও বলতে পারি।
বলো ক্যামেরার সামনে। হ্যাঁ।
আমি তোমার কথা বিশ্বাস করেছি, তুমিও আমারটা করেছ। আর কর্মফল কিন্তু ১০ গুণ হয়ে ফেরত আসে। আমি জাস্ট ওটাই বিলিভ করি।
ওয়াও! বেশ গভীর একটা কথা। ও যদি এটা মন থেকে বলে থাকে, তাহলে বেশ অনেস্ট কথাই বলেছে।
আমার মন বলছে তুমি চুরি করোনি।
এটা কিন্তু অনেক বড় ডিসিশন, অ্যালিসন!
সত্যিই খুব বড় ডিসিশন। আর এত কিছু দেখার পর এখনও মনে একটু ভয় কাজ করছে। কারণ কখন কী হয় আর কার মাথায় কী চলছে, তা কেউ জানে না।
আড়াই লাখ ডলারের ব্যাপার।
তা সত্ত্বেও আমি মোটামুটি একটা ডিসিশনে পৌঁছেছি। নেক্সট যে স্টেপটা নেবো সেটা নিয়ে আমি কনফিডেন্ট। আশা করি এটাই সঠিক ডিসিশন হবে। আর আমার মন বলছে এটাই ঠিক।
ওহ গড! ও এখন কী করতে চলেছে?
হুয়ান।
না অ্যালিসন, এমন করো না! নো!
তোমার কি মনে হয় হুয়ান টাকা চুরি করেনি? তাও তুমি ওকেই এলিমিনেট করছো?
হ্যাঁ। আর হুয়ানকে বাদ দেওয়ার কারণ হলো এই বিষয়ে আমাদের দুজনের অলরেডি কথা হয়েছে।
আমার কোনো সমস্যা নেই। তুমি আমাকে যে পজিশনেই বাদ দাও, আমার চলবে। আমি ওতেই হ্যাপি। তোমার ওপর আমার কোনো রাগ নেই।
ও বলেছে এখান থেকে বেরোনোর পরেও ও ভালোই থাকবে।
হ্যাঁ, যদি ও গ্রোসারি স্টোরের খাবার শেষ করতে পারে।
আমি হুয়ানকে চিনি! ও গ্রোসারি স্টোরের সব খাবার একাই সাবাড় করে দেবে।
আর এখন হুয়ান আর আমি মিলে বাকিদের একটু বেশি হেল্প করার ট্রাই করছি।
তার মানে তুমি নিজে জিততে চাওনি? ওদের জেতার সুযোগ দিতে চেয়েছ? হ্যাঁ।
হুয়ান যেভাবে স্যাক্রিফাইস করলো, এমনটা আমার চ্যানেলে আগে কখনো কেউ করেনি।
না! ওরা গ্রোসারি স্টোর থেকে চিৎকার করছে! ওহ নো। ওর রেজাল্ট রিভিল করা যাক!
ইয়েয়! আমি খুব হ্যাপি যে এটা আমি ছিলাম!
গ্রিন লাইট জ্বলে উঠেছে! ও আসলেই অনেস্ট ছিল!
যাক বাবা! এক সেকেন্ডের জন্য টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম।
দাঁড়াও! তুমি এত খুশি হচ্ছো কেন? তুমি তো জাস্ট সোয়া এক লাখ ডলার হারালে।
আশা করি ওটা হারাবো না, একদমই না! আমার জাজমেন্ট এখন পর্যন্ত ভুল হয়নি। আর আমি যদি ঠিক হই, পরের দুটো লাইটও গ্রিন জ্বলবে।
তোমাকে অনেক থ্যাংকস। ওহ মাই গড। দেখেছো? হুয়ান সত্যিই একজন অনেস্ট মানুষ ছিল।
ধন্যবাদ হুয়ান। গ্রোসারি স্টোরে ফিরতে পারো। বাই হুয়ান। বাই হুয়ান।
সত্যি বলতে, তুমি মিস্টার বিস্টের হিস্ট্রিতে অন্যতম সেরা গেম খেললে।
কীভাবে করলাম? ব্রি সামনে থাকায় মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছিলাম না। ও হুট করে খুব চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল আর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে কিছু একটা ঝামেলা আছে। তুমি শুরু থেকে একই রকম ছিলে।
হ্যাঁ।
২৪ ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে, অ্যালিসন এখনো বাটন প্রেস করেনি।
আসলে রাতে ঘুমানোর পর চিন্তা করার জন্য আরেকটু বেশি টাইম পেয়েছিলাম।
গাইজ, আমাকে অন্য ভিডিওর শুটও করতে হবে। ভাবিনি তোমরা এত টাইম নেবে।
প্রপার টাইম নিয়ে ভালো একটা ডিসিশন নিয়ে বাড়ি ফিরলে আমার নিজেরই ভালো লাগবে।
অ্যালিসন এর পরে যাকে দেখুক না কেন, একটা চান্স কিন্তু থেকেই যায় যে ও এখান থেকে খালি হাতে ফিরবে।
তোমাদের মধ্যে একজন পাবে ৪০ হাজার ডলার, আর বাকিজন পাবে সোয়া এক লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার।
আমি কৌতূহলী। স্কাই, তোমার কী মনে হচ্ছে?
অফারটা বেশ লোভনীয় লাগছে।
ও তো বলছে ও ওটা চায়ই না।
আরে, আমি তো ওকথা বলিনি!
অলরাইট, এটার আর কোনো দরকার নেই তাহলে। প্লায়ার্সটা আমাকে দাও।
ওহ, আবার সেই প্লায়ার্স! ওহ গড!
অ্যালিসন, একটা ভুল ডিসিশন কিন্তু তোমার সবকিছু কেড়ে নিতে পারে। আমি আশা করছি এখানে কোনো ভুল অপশন নেই। আমি কিচ্ছু বলবো না।
এখানে কোনো অপশনই ভুল নয় গাইজ, কোনোটিই নয়। আমি এটা নিয়ে অনেক ভেবেছি। ভুল চয়েস এড়াতে এক্সট্রা এক রাত কাটালাম, যাতে ঠান্ডা মাথায় ডিসিশন নিতে পারি। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তোমরা দুজনেই গ্রিন লাইট চুজ করেছ। তাই কাজটা আরও টাফ হয়ে গেছে। দুজনকে একসাথে ট্রাস্ট করলে কী করা উচিত…
ওকে। নোলান, আমি কথার মাঝখানে ছিলাম! সরি। নোলান, ওদিকের লাইট বাল্বটা তোমার চেঞ্জ করা উচিত। ওহ, হ্যাঁ।
তুমি কি চাও না টাকাটা তুলি… তুমি ওদিক যাও। তুমি অনেক করেছ। ধন্যবাদ নোলান। তুমি খুব ভালো মানুষ। বাই। হ্যাঁ, ওদিকে। ওখানে না, হ্যাঁ এখানে। ধন্যবাদ। আমি পেছনের পর্দাটা খুঁজছিলাম। ইটস ওকে।
আমি জানার জন্য ছটফট করছি ও কাকে বাছছে। জানি তুমি এক্সাইটেড। চলো অ্যালিসন, করে ফেলো! আরও একটু ভাবতে হবে।
এই দেখো! নিজেকে মনে করাচ্ছি কেন এখানে এসেছিলাম। এটা পুরো বিশ্বাসের খেলা। আড়াই লাখ ডলারের আরেক ধাপ কাছে! দাঁড়াও, আড়াই লাখ?!
সরি ব্রাইস। আমাকে ওকেই এলিমিনেট করতে হচ্ছে। ওহ মাই গড!
কিছু বলার আগে ও কী চুজ করেছিল দেখতে চাও? হ্যাঁ চাই। অনেস্টলি বলো, ও কী চুজ করেছিল বলে মনে হয়? নির্ঘাত গ্রিন। রেড মনে হলে ও এই পজিশনে আসতোই না, ওর জায়গায় আমি হুয়ানকে রাখতাম। তার মানে কোনোভাবেই এটা রেড লাইট হতে পারে না। একদমই না। ওকে।
রেজাল্ট রিভিল করা যাক!
ওহ গড! রেড লাইট জ্বললো! আমি তাহলে ভুল। এটা একটা ভুলের পৃথিবী। তুমি নির্ঘাত ইয়ার্কি করছো! এটা সত্যি হতে পারে না! এবার গ্রিন লাইটটা জ্বালো প্লিজ। কোনো গ্রিন লাইট নেই।
ওয়াও! তোমার হুয়ানের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হ্যাঁ, ওই জন্য খারাপই লাগছে। হ্যাঁ, আসলেই।
এবার কি ওর যাওয়ার পালা? তুমি কি চাও ও চলে যাক? হ্যাঁ। ক্যাশ ৪০ হাজার ডলার পাচ্ছো। ব্রাইস… তুমি এলিমিনেটেড। থ্যাংক ইউ।
ইয়েয় গাইজ! ওয়াও! শেষ পর্যন্ত শেষ হলো। তার মানে হুয়ান ছাড়া বাকি সব প্রতিযোগী তোমার টাকা চুরি করতে চেয়েছিল।
দেখা যাক কী হয়। আমার খুব ভয় লাগছে।
প্রতিটি ডিসিশন অ্যালিসন নিজে নিয়েছে। পার্টনার বাছা থেকে শুরু করে কে কোন সিরিয়ালে বাড়ি যাবে—সবটাই ও কন্ট্রোল করেছে। আর সেই সব চয়েস ওকে এই ফাইনাল মোমেন্টে এনে দাঁড় করিয়েছে।
অ্যালিসন, যদি পর্দা নামার পর স্কাই আর টাকা দুটোই থাকে, তোমরা হাফ-হাফ পাবে। ওকে। কিন্তু ওখানে স্কাই বা টাকা যদি না থাকে, তুমি কিচ্ছু পাবে না। ওয়াও! আর তোমার পুরো খাটনিটাই বৃথা যাবে।
কী মনে হয়, হুয়ান ছাড়া কি আসলেই সবাই চোর ছিল? ব্রাইসের ওই কাণ্ড দেখে আমি খুব নার্ভাস। তাও মনের কোণে বিশ্বাস আছে যে ও টাকাটা শেয়ার করেছে। এখনই জানা যাবে। আমার বড্ড ভয় লাগছে…
অলরাইট। থ্রি। টু। ওয়ান।
আহ! তোমরা টাকাটা হাফ-হাফ শেয়ার করছো! ভাই, আমি সত্যি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! বিশ্বাস হচ্ছে না! ইয়াহ! ইয়াহ!
তোমরা দুজনেই ক্যাশ সোয়া এক লাখ ডলার নিয়ে বাড়ি ফিরছো। মাঝে মাঝে স্ট্রেঞ্জাররা এমন বন্ধু হয় যাদের সাথে আগে দেখা হয়নি। কনগ্রাচুলেশনস। ইয়েয়!
সাবস্ক্রাইব।
নিবন্ধ প্রকাশিত
