অপরিচিতদের সঙ্গে ৩০ দিন শিকলে বাঁধা: আড়াই লাখ ডলারের বিশ্বাসের খেলায় অ্যালিসনের সিদ্ধান্ত

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে আছেন অ্যালিসন। তিনি আগে একবার আড়াই লাখ ডলার জিতেছিলেন। এবার শর্ত হলো, ৩০ দিন অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে হাতকড়া ও শিকলে বাঁধা থাকতে হবে। পুরো সময় একটাই প্রশ্ন সামনে থাকে: শুধু চেহারা দেখে আর কয়েক দিনের সঙ্গ থেকে কি বোঝা যায়, কে টাকা ভাগ করবে আর কে পুরোটা নিয়ে চলে যাবে? উপস্থাপক জিমি (মিস্টার বিস্ট) একের পর এক নতুন নিয়ম ও মোড় যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হয় অ্যালিসনকেই।

18 মিনিটে পড়া

নিয়ম: শুধু চেহারা দেখে সঙ্গী বাছাই

চোখের পট্টি খোলার পর অ্যালিসনকে জানানো হয়, এখানে উপস্থিত অপরিচিতদের একজনের সঙ্গে ৩০ দিন শিকলে বাঁধা থাকতে পারলে তিনি আড়াই লাখ ডলার পাবেন। শর্ত হলো, সঙ্গী বাছতে হবে কেবল চেহারা দেখে। বিকল্প ছিলেন তিনজন: একজন বয়স্ক দিদা, একজন বাইকার আর একজন "জিম ব্রো"। জিমি সতর্ক করে দেন, শেষে যে সঙ্গী পাশে থাকবে, পুরো টাকা চুরি করার সুযোগ তারও থাকবে।

অ্যালিসন মাঝখানের বাইকারকে বেছে নেন। জিমি মনে করিয়ে দেন, অ্যালিসন তার নামও জানেন না। অ্যালিসনের উত্তর ছিল, নাম জানার জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। বাইকারের নাম ব্রাইস।

থাকার জন্য দেওয়া হয় একটি ছোট বাড়ি, যেখানে রান্নাঘর আর বসার ঘর আছে। অ্যালিসন রান্না পারেন না, ব্রাইস মোটামুটি পারেন। বাথরুমে কীভাবে যাবেন জানতে চাইলে জিমি দেখিয়ে দেন, শিকলটা দরজার নিচ দিয়ে গলিয়ে নিতে হবে। নিয়ম দুটো: বাইরের লাল দাগ পার হওয়া যাবে না, আর হাতকড়া খোলা যাবে না। বাথরুম ছাড়া বাড়ির প্রতিটি কোণে লুকানো ক্যামেরা আছে।

দর্শককে জিমি আরেকটি তথ্য জানান, যা অ্যালিসন তখনো জানতেন না। এই ভিডিওতে অ্যালিসন কেবল একজনের সঙ্গে বাঁধা থাকবেন না। যাদের সঙ্গেই বাঁধা থাকবেন, তাদের প্রত্যেকেরই অ্যালিসনের আড়াই লাখ ডলার চুরি করার সুযোগ থাকবে।

প্রথম সঙ্গী ব্রাইস: মুখে ভাগাভাগি, মনে দ্বিধা

প্রথম দিনেই ব্রাইস বলেন, তিনি আশা করেন শেষে টাকা অর্ধেক-অর্ধেক হবে। অ্যালিসনও একশো শতাংশ তা-ই চান। কিন্তু একান্তে ব্রাইস ক্যামেরাকে বলেন, তিনি চুরি করবেন কি না ভাবছেন, আর মন চুরির দিকেই বেশি ঝুঁকছে। তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে অ্যালিসন আগে একবার আড়াই লাখ ডলার পেয়েছেন, আর তিনি নিজে এসেছেন টাকা কামাতে।

অ্যালিসন অবশ্য বেশ নিশ্চিন্ত ছিলেন। তার কথায়, আগের চ্যালেঞ্জে "আকাশে" থাকার সময় তিনি সবসময় বিরক্ত থাকতেন, এবার কোনো অভিযোগ নেই। তবু তার সন্দেহ ছিল, ব্রাইস হয়তো খুব বিশ্বস্ত সাজার চেষ্টা করছেন, যাতে পরে টাকাটা নিয়ে নিতে পারেন। ব্রাইস প্রতিক্রিয়া দেখাতে অ্যালিসন একটা পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবেন। "দৌড়াও" বললে ব্রাইস রাজি হননি। এরপর দুজন একে অপরের দিকে জিনিস ছোড়াছুড়ি আর লোফালুফি খেলেন। জিমির মন্তব্য, শুনতে খারাপ লাগলেও ওদের হাসি দেখে মনে হচ্ছে সব ঠিক আছে।

একসময় ব্রাইস বলেন, আড়াই লাখ ডলার অনেক টাকা, তবু তার মনে হয় না তিনি চুরি করতে পারবেন। অ্যালিসনের জবাব ছিল, ব্রাইস হয়তো মিথ্যা বলছেন, তবু তিনি আশা রাখছেন।

পঞ্চম দিনের মোড়: প্রতি পাঁচ দিনে নতুন সঙ্গী

পঞ্চম দিনে একটি লিমুজিন আসে। তা থেকে নামেন তিনজন নতুন মানুষ: একজন চিয়ারলিডার, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন আইনজীবী। জিমি নিয়মটা খুলে বলেন। প্রতি পাঁচ দিন পর অ্যালিসনকে একজন নতুন অপরিচিতের সঙ্গে হাতকড়া পরতে হবে। ২৫তম দিনে সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে, আর অ্যালিসনকে ঠিক করতে হবে কাকে তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন যে সে টাকা চুরি করবে না। এবারও নতুনদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না, বাছতে হবে শুধু চেহারা দেখে।

অ্যালিসন আর জিমি চেহারা দেখে নানা অনুমান করেন। আইনজীবীর হাসি দেখে অ্যালিসনের একদমই বিশ্বাস হচ্ছিল না। জিমি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিষ্পাপ দেখালেও তার টাকা চুরির একটা বড় কারণ থাকতে পারে। কলেজ চিয়ারলিডারের হয়তো স্টুডেন্ট লোন আছে। আবার এমনও হতে পারে আইনজীবী বড় মামলা জিতে আগেই ধনী, তার টাকার দরকারই নেই। জিমি মনে করিয়ে দেন, এমনও হতে পারে অ্যালিসন শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবেন। শেষে অ্যালিসন চিয়ারলিডার স্কাইলারকে বেছে নেন, আর ব্রাইস আপাতত বিদায় নেন।

স্কাইলার: বন্ধুত্ব, পারিবারিক গল্প আর একটি বেফাঁস কথা

স্কাইলারের সঙ্গে শুরু থেকেই বোঝাপড়া অন্যরকম ছিল। স্কাইলার চোখের প্যাচ নিয়ে এসেছিলেন, দুজনে মিলে "স্পা ডে" করেন। অ্যালিসনের ধারণা ছিল, যে-ই আসুক, সবাই বলবে চুরি করবে না, অর্ধেক ভাগ করবে। তাই বিশ্বাস যাচাই করতে তিনি আবার একটা খেলা প্রস্তাব করেন: পিঠে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে দুজন দুদিকে জোরে দৌড় দেবেন।

সপ্তম দিনে জিমি লক্ষ করেন, দুজন মজা করছেন কিন্তু টাকার মূল প্রশ্ন নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। অ্যালিসন বলেন, মনে হচ্ছে তারা দুই বন্ধু মিলে সময় কাটাচ্ছেন। স্কাইলার একান্তে বলেন, খেলাটাই হলো অ্যালিসন যেন তাকে বিশ্বাস করেন, তাই তিনি যেভাবে চলছেন সেভাবেই চলবেন।

এই পর্যায়ে কথোপকথন ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। টাকা পেলে কী করবেন জানতে চাইলে অ্যালিসন বলেন, তিনি বাবার কাছে গিয়ে টাকাটা ভালো কোথাও বিনিয়োগ করার কথা বলবেন। তার দুশ্চিন্তা, অনেক বয়স পর্যন্ত বড় অঙ্কের আয় করতে না পারলে তখন বাবা পাশে থাকবেন কি না, তিনি জানেন না। দেরি হয়ে গেলে বাবার সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতাটা আর পাওয়া হবে না।

এরপর জিমির ভাষায় স্কাইলার "একটু বেশিই স্বচ্ছন্দ" হয়ে যান। সবুজ রঙের মিন্ট চকলেট চিপ দুজনেরই পছন্দ, এমন হালকা কথার মধ্যে স্কাইলার হঠাৎ বলে ফেলেন, "আড়াই লাখ ডলারের আরেকটু কাছে।" সঙ্গে সঙ্গে নিজেই বলেন, ভুল করে হয়ে গেছে, গোপন কথা ফাঁস হয়ে গেল। দশম দিনে জিমির মন্তব্য ছিল, স্কাইলার যে টাকা চুরি করতে চান, তার ওপরই বসে আছেন।

দশম দিন: অন্য ভিডিওতে পাঠানো, "বিস্ট মাল্টিভার্স"

দশম দিনে স্কাইলারের সতীর্থ চিয়ারলিডাররা এসে উল্লাস করেন এবং শিকলসহ টাকাটা দেখানো হয়। এক পর্যায়ে একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়, অ্যালিসন তাকে বাছলে তিনি চুরি করতেন কি না। উত্তর আসে, পাঁচ দিন একে অপরকে চেনার পরেও মনে হয় তিনি চুরিই করতেন, এবং তিনি একদমই বিশ্বাস করতেন না।

এরপর লাল দাগ মুছে দেওয়া হয়। পরের পাঁচ দিন তারা ছোট বাড়িতে থাকবেন না। জিমি জানান, অ্যালিসনকে সম্পূর্ণ আরেকটি ভিডিওর ভেতরে পাঠানো হচ্ছে। সেটা একটি মুদি দোকান, যেখানে এক মিলিয়ন ডলারের জন্য চারজনকে দোকানের সব খাবার খেয়ে শেষ করতে হবে। স্কাইলার সেখানেই মুক্তি পান। অ্যালিসনকে ওই চারজনের একজনের সঙ্গে দোকানের ভেতরে হাতকড়া পরে থাকতে হবে, আর সেই সঙ্গী খাবার শেষ করতেও সাহায্য করবে। জিমির দাবি, চ্যানেলের ইতিহাসে এই প্রথম দুটি ভিডিও একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো। তিনি এর নাম দেন "দ্য বিস্ট মাল্টিভার্স"।

এবার অ্যালিসন প্রশ্ন করার সুযোগ পান। কখন ঘুম থেকে ওঠেন, এই প্রশ্নে একজন বলেন, এটা আড়াই লাখ ডলারের ব্যাপার, ঘুম থেকে ওঠার সময়ের নয়, এবং তিনি সোয়া লাখ ডলারেই রাজি। আরেকজন দাবি করেন, তাদের কেউই চুরি করবে না। চুপচাপ থাকা হুয়ানকে অ্যালিসন বেছে নেন। জানা যায়, হুয়ান আগে ব্লু-কলার কাজ করতেন এবং ভোর পাঁচটায় ওঠার অভ্যাস আছে। দলের দুজনই নির্মাণকাজে যুক্ত: একজন ভারী যন্ত্র চালিয়ে ভবন ভাঙেন, আরেকজন ভবন বানান।

হুয়ান: "কোনোদিন কিছু চুরি করিনি"

মুদি দোকানের প্রতিযোগীরা যা খান তার ক্যালোরি পোড়াতে ব্যায়াম করেন। ছোট ঘরে দশ দিন কাটানোর পর অ্যালিসন এতে যোগ দিতে উৎসাহী ছিলেন। তিনি দলটিকে অপছন্দের খাবার খেতেও সাহায্য করেন, যেমন ফুলকপির জুস। অ্যালিসনের পরিবার এটা খুব পছন্দ করে, আর এর একমাত্র উপাদান ফুলকপি। হুয়ানের প্রতিক্রিয়া অবশ্য বিতৃষ্ণার।

তবে অ্যালিসনকে নিজের চ্যালেঞ্জের কথাও ভাবতে হচ্ছিল। হুয়ান বলেন, জীবনে তিনি কোনোদিন কিছু চুরি করেননি, খাবার বা টাকা কিছুই না। তার ছয়টি সন্তান, আর সবটাই তিনি করছেন পরিবারের জন্য। অ্যালিসন জানান, সম্প্রতি তার বাবার ডিমেনশিয়া ধরা পড়েছে। বাবা সবার খেয়াল রাখতেন, তাই এবার তিনি তাদের জন্য কিছু করতে চান, কারণ তাদের এটা তার চেয়ে বেশি দরকার। হুয়ান বলেন, অ্যালিসনের বাবা সত্যিই ভালো মানুষ, এবং অ্যালিসনকে একটা আলিঙ্গন দিয়ে বলেন সেটা যেন বাবার কাছে পৌঁছে দেন। অ্যালিসনের কথায়, হুয়ান সবাইকে ভালোবাসেন, আর তাকে দেখলে নিজের বাবার কথা মনে পড়ে।

অ্যালিসন জানান, আগের দুজনকেও তিনি বিশ্বাস করেছিলেন এবং মনে হয় না তারা চুরি করবে। কিন্তু আসল কাজ হলো সবচেয়ে বিশ্বাসী মানুষটিকে খুঁজে বের করা। হুয়ান সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ, তিনি যেমন, সবসময় তেমনই থাকেন। জিমির বাগদত্তাও তখন সেখানে এসে হুয়ানের সঙ্গে ব্যায়াম করছিলেন। জিমি স্বীকার করেন, এসব মুহূর্তে বোঝা যায় তাদের ভিডিওগুলো কতটা অদ্ভুত হয়। পরের পাঁচ দিন কোথায় কাটাতে চান জানতে চাইলে অ্যালিসন বলেন, অন্তত ছোট বাড়িতে ফিরতে চান না। জিমি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কি তিনি বাড়িটা ধ্বংস করে দেবেন? অ্যালিসন বলেন, "হ্যাঁ, প্লিজ।"

পনেরোতম দিন: কাউবয় আর বাড়ির ওপর প্লেন

পনেরোতম দিনে নতুন তিনজন আসেন: একজন ফাইটার, একজন কাউবয় এবং একজন সুমো কুস্তিগির। অ্যালিসন কথা বলার জন্য এক মিনিট চাইলে জিমি তা দেননি। অ্যালিসন কাউবয় জেসনকে বেছে নেন, আর হুয়ান মুক্তি পান।

এরপর জিমি "আসল মোড়" ঘোষণা করেন। অ্যালিসনের কথা মেনেই ছোট বাড়িটার ওপর একটা প্লেন ফেলা হয়। অ্যালিসন বলেন, জীবনে শোনা সবচেয়ে বিকট আওয়াজ ছিল সেটা। পরের পাঁচ দিন তাদের থাকতে হবে সেই ধ্বংসস্তূপেই। চারপাশে নতুন বৃত্ত আঁকা হয় এবং তারা তার ভেতরে আটকে যান। অ্যালিসন একটা ব্যায়ামের সাইকেল চান। ভেতরের মেঝে খুব ঢালু ছিল, কীভাবে ঘুমাবেন বুঝতে পারছিলেন না। কাউবয় অবশ্য বলেন, এমন পরিস্থিতি তিনি আগেও সামলেছেন।

ষোলোতম দিনে জিমি দেখতে আসেন এবং জেসনকে জিজ্ঞেস করেন, অ্যালিসন তাকে বাছলে তিনি টাকা অর্ধেক ভাগ করবেন কি না। জেসন একটু থেমে বলেন, "এই মুহূর্তে বলবো, হ্যাঁ, শেয়ার করবো।" এই দ্বিধা সবার নজরে পড়ে। সেদিন সাইকেলও পৌঁছে যায়। সতেরোতম দিনে শিকল সাইকেলের মাঝখানে আটকে যাচ্ছিল। জিমি স্বীকার করেন, ওদের বাড়ির ওপর প্লেন ফেলে খারাপই লাগছে, তাই খাবারের একটা প্যাকেট পাঠানো হয়।

জেসনের পরিকল্পনা ছিল, টাকা জিতলে বাচ্চাদের জন্য একটা কাউবয় ক্যাম্প বানাবেন। সেখানে ছোটদের জন্য ভেড়া আর ১৩-১৪ বছর বয়সীদের জন্য ছোট ষাঁড় থাকবে, যা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। তবে অ্যালিসন বলেন, তিনি জেসনের মুখ থেকে একটা কথাই শুনতে চেয়েছিলেন: তিনি চুরি করবেন না। সেটা জেসন ঠিকমতো বলতে না পারায় তাকে আগের সঙ্গীদের ওপরে রাখা সম্ভব নয়।

বিশতম দিন: ব্রি আর "প্রমিস" ট্যাটু

শেষ সঙ্গী বাছার জন্য আসেন একজন রকস্টার, একজন জেলে আর একজন পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড়। অ্যালিসন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ব্রিকে বেছে নেন, জেসন মুক্তি পান। এবার সীমানা বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং দ্বিতীয়বারের মতো অ্যালিসনকে আরেকটি ভিডিওর ভেতরে পাঠানো হয়। জিমির বর্ণনায় সেটি তাদের একটি জনপ্রিয় ভিডিওর সিক্যুয়েল, যেখানে এক দম্পতি বিয়ের আগে ১৫০ পাউন্ড ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন। অ্যালিসন আর ব্রি সেখানকার সবকিছু ব্যবহারের সুযোগ পান, শাওয়ারও।

ব্রি প্রতিশ্রুতি দেন, অ্যালিসনকে পরবর্তী নারী "হারলেম গ্লোবেট্রটার" হওয়া শিখিয়ে দেবেন। অ্যালিসনের চোখে ব্রি বেশ কুল, প্রচুর কথা বলেন আর খুব অ্যাথলেটিক। কিন্তু একান্তে ব্রি বলেন, অ্যালিসন আগেই আড়াই লাখ ডলার জিতেছেন, এখন অ্যালিসনকেই তাকে বোঝাতে হবে যাতে তিনি পুরো টাকা নিয়ে না যান। জিমির মন্তব্য, ব্রি শুরু থেকেই চুরির মতলব করছেন। টাকা দিয়ে কী করবেন জানতে চাইলে ব্রি বলেন, পরিবার আগে। তার এক কাকিমা বেশ কিছুদিন ধরে গৃহহীন, তাকে ওই অবস্থা থেকে বের করতে চান।

টেনিস কোর্টে তাদের বোঝাপড়া দিন দিন ভালো হচ্ছিল। তবু অ্যালিসনের মনে হচ্ছিল, ব্রি যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চান তবে তার আরও চেষ্টা করা উচিত। ব্রি দম্পতির একজনকে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করেন, অ্যালিসনের বিশ্বাস পেতে কী করা উচিত। উত্তর আসে, নিজের মতো থাকো আর সৎ থাকো। পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে কি ব্রি একশো শতাংশ ভাগ করবেন? ব্রি বলেন, তাকে একটু ভাবতে হবে।

জিমি দুজনের সঙ্গেই কথা বলেন। অ্যালিসন জানান, ব্রি একবারও বলেননি যে টাকা চুরি করবেন না, তাই মনে সন্দেহ জাগছে। জিমি ব্রিকে জিজ্ঞেস করেন, অ্যালিসনের বিশ্বাস বাড়াতে তিনি কী করতে পারেন। জিমির নিজের বর্ণনায়, এই কথোপকথনই ব্রিকে পরিকল্পনা কার্যকর করার শেষ ধাক্কাটা দেয়। ব্রি নিজেকে "প্রতিযোগী" বলে পরিচয় দেন। এরপর অ্যালিসনকে জানান, তিনি মানুষকে সম্মান করেন, কখনো প্রতিশ্রুতি ভাঙেন না, আর তার হাতে "প্রমিস" লেখা একটা ট্যাটুও আছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অ্যালিসনের কাছ থেকে এক টাকাও নেবেন না, আর তাকে বাছলে জয় "১০০০ শতাংশ" নিশ্চিত। অ্যালিসন বলেন, ব্রি-ই প্রথম সঙ্গী যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন চুরি করবেন না, তাই তাকে বাছলে জেতা নিশ্চিত মনে হচ্ছে। ব্রি একান্তে বলেন, প্রতিশ্রুতি ভাঙলে ট্যাটুটা হয়তো লেজার দিয়ে তুলে ফেলতে হবে।

সিদ্ধান্তের আগের দিন অ্যালিসন ভেঙে পড়েন। এতজনের মধ্যে কেবল একজনকে বাছতে হবে, অথচ অনেকের ওপরই তার সত্যিকারের বিশ্বাস জন্মেছে, সবার গল্প শুনেছেন আর সবার কারণই গুরুত্বপূর্ণ। দম্পতিটি তাকে বলেন, এখানে কোনো ভুল পছন্দ নেই, নিজের অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা রাখো।

চূড়ান্ত পর্ব: বাটন, পুরস্কারের সিঁড়ি আর তাড়াহুড়ো

জিমি প্রথমে মজা করে বলেন আরও পাঁচ দিন সময় আছে। তারপর লিমুজিনে করে অ্যালিসনকে চোখ বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে প্রতিযোগীদের একান্ত মন্তব্যে নানা সুর শোনা যায়। কেউ বলেন তিনি প্রতিযোগী, এটা স্বাভাবিক জায়গা নয়, একটা চ্যালেঞ্জ। কেউ বলেন আড়াই লাখ ডলার বিশাল অঙ্ক। কেউ বলেন অ্যালিসনের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ তৈরি হয়নি। আবার কেউ বলেন তিনি চুরি করতে চান না, অর্ধেক ভাগ করতে চান।

পট্টি খোলার পর অ্যালিসনের সামনে দাঁড়ান সেই পাঁচজন সঙ্গী: ব্রাইস, স্কাইলার, হুয়ান, জেসন ও ব্রি। জায়গাটা মুদি দোকানের পেছনের অংশ, তাই হুয়ান একসঙ্গে দুটি ভিডিওর শুটিং করছিলেন। জিমি জানান, এখনো পাঁচ দিন সময় আছে। যেকোনো সময় একটা বাটন চেপে একে একে সবাইকে বাড়ি পাঠানো যাবে, অথবা পাঁচ দিন ধরে তাদের আরও ভালো করে চেনা যাবে। কিন্তু ব্যাখ্যা শেষ হওয়ার আগেই অ্যালিসন বাটন চেপে দেন, আর তা ফেরানো যায় না।

এরপর জিমি বাকি নিয়ম জানান। পাঁচজনই আগে থেকে ঠিক করে রেখেছেন তারা টাকা ভাগ করবেন নাকি চুরি করবেন। শিকল কাটার পর তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাবে। প্রথম বাদ পড়া ব্যক্তি পাবেন ১০ হাজার ডলার, দ্বিতীয়জন ২০ হাজার, তৃতীয়জন ৩০ হাজার, চতুর্থজন ৪০ হাজার। জিমি বলেন, এই কারণেই তিনি পাঁচ দিন সময় দিতে চেয়েছিলেন, কারণ বাদ দেওয়ার ক্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম বাদ: কাউবয়ের লাল আলো

প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করা হয় তারা চুরি করেছেন কি না, সবাই অস্বীকার করেন। একজন বলেন, তারা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সুযোগ পেলেও কেউ টাকা নেবেন না, এবং সেই প্রতিশ্রুতি তারা রেখেছেন। জেসন অ্যালিসনকে বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ দেন। অ্যালিসন সোজাসুজি বলেন, লাইনে কেবল জেসনকে নিয়েই তার খটকা লাগছিল। জেসনের ব্যাখ্যা ছিল, তিনি খুব বাজে মিথ্যাবাদী, তাই শুরুতে কোনো নাটক করতে চাননি যাতে পরে তাকে মিথ্যাবাদী মনে হয়। ব্রি বলেন, এখানে সবাই চমৎকার মানুষ, কারও জীবন অন্যের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

অ্যালিসন ঠিক করেন, সবচেয়ে কম বিশ্বাসী থেকে শুরু করে সবচেয়ে বিশ্বাসীর দিকে যাবেন। প্রথমে জেসনকে বাদ দেন, কারণ পুরো লাইনে তিনিই একমাত্র যিনি সরাসরি বলেননি টাকা নেবেন না। জেসন একান্তে বলেন, অ্যালিসন আগেই অনেক টাকা জিতেছেন, আর তিনি এসেছিলেন প্রথম হতে, দ্বিতীয় হতে নয়। ফলাফলে দেখা যায় জেসন পুরো টাকা চুরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার যুক্তি, তিনি তো বলেছিলেন "যদি না পরিস্থিতি পাল্টায়"। জিমি বলেন, জেসন শেষ পর্যন্ত থাকলে পুরো আড়াই লাখ ডলার নিয়ে যেতেন আর অ্যালিসন খালি হাতে ফিরতেন। জেসনের নিজের মন্তব্য: অ্যালিসন খেলাটা ভালো খেলেছেন, কিন্তু তিনি নিজে খেলেছেন দুর্দান্ত।

এরপর জিমি অ্যালিসনকে বলেন, প্রতিযোগীরা যে প্রাইজমানি পাবেন সেটা জানার আগে থেকেই তিনি অ্যালিসনকে জেতাতে চেয়েছিলেন। তাই বাকিদের মধ্যে ২০, ৩০ বা ৪০ হাজার কাকে কোনটা দেওয়া হবে, সেটা অ্যালিসনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।

দ্বিতীয় বাদ: ব্রির ভাঙা প্রতিশ্রুতি

দ্বিতীয়জন হিসেবে অ্যালিসন ব্রির নাম বলেন, কারণ তার সত্যিই মনে হয়েছিল ব্রি চুরি করেছেন। তিনি আরেকটি যুক্তিও দেন। হুয়ানকে বাড়ি পাঠানোর পর তিনি আর কোনো লাল আলো দেখতে চান না। হুয়ানকে পাঠানোর পরে লাল আলো জ্বললে তিনি খুব কষ্ট পাবেন, আর ৩০ দিনের খাটুনিটাই বৃথা মনে হবে।

ব্রি স্বীকার করেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু মাঝে মাঝে প্রতিশ্রুতি ভাঙতে হয়। ফলাফলে লাল আলো জ্বলে, ব্রি চুরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ট্যাটুর কথা তুললে ব্রি বলেন, নিজের আর পরিবারের কাছে করা প্রতিশ্রুতিই তার কাছে আসল, ট্যাটুর মানে সেটাই। খেলাটা একটু জমাতে তাকে ওই কথাগুলো বলতে হয়েছিল। বাকিদের কেউ কেউ বলেন, এটা তারা আগেই আঁচ করেছিলেন।

তৃতীয় বাদ: হুয়ানের স্বেচ্ছা আত্মত্যাগ

তিনজন বাকি থাকতে জিমি বলেন, এখন কে কী বলছেন তার ওপরই নির্ভর করছে কে ৩০ হাজার, কে সোয়া লাখ আর কে পুরো আড়াই লাখ নিয়ে যাবেন। স্কাইলার বলেন, কসম বা প্রতিশ্রুতির কোনো মানে নেই, সবাই মিথ্যাই বলে। তিনি বিশ্বাস অর্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, কিন্তু হাতজোড় করে অনুরোধ করতে পারবেন না। যা-ই হোক, তিনি অ্যালিসনের বন্ধুই থাকবেন। ব্রাইস ক্যামেরার সামনে বলেন, তিনি সবুজ বাটন টিপেছেন। তার যুক্তি, দুজন দুজনকে বিশ্বাস করেছেন, আর কর্মফল দশগুণ হয়ে ফেরে। অ্যালিসন বলেন, তার মন বলছে ব্রাইস চুরি করেননি।

এরপর অ্যালিসন হুয়ানকে বাদ দেন, যাকে তিনি নিজেই চুরি করেননি বলে বিশ্বাস করতেন। কারণ, এ বিষয়ে দুজনের আগেই কথা হয়েছিল। হুয়ান জানিয়েছিলেন, যে অবস্থানেই বাদ দেওয়া হোক তাতে তার আপত্তি নেই, তিনি অ্যালিসনের ওপর রাগ করবেন না। মুদি দোকানের খাবার শেষ করতে পারলে বাইরে গিয়েও তিনি ভালো থাকবেন। অ্যালিসন বলেন, তিনি আর হুয়ান মিলে বাকিদের আরও বেশি সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। জিমি জানতে চান, হুয়ান কি নিজে জিততে না চেয়ে অন্যদের সুযোগ দিতে চেয়েছেন? উত্তর হ্যাঁ। জিমির মতে, তার চ্যানেলে এভাবে আত্মত্যাগ আগে কেউ করেননি।

হুয়ানের ফলাফলে সবুজ আলো জ্বলে, তিনি সত্যিই সৎ ছিলেন। হুয়ান বলেন, তিনি খুশি যে এটা তিনিই ছিলেন। অ্যালিসন জানান, এখন পর্যন্ত তার বিচার ভুল হয়নি, আর তিনি ঠিক হলে পরের দুটো আলোও সবুজ জ্বলবে। জিমি হুয়ানকে বলেন, তিনি মিস্টার বিস্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলা খেলেছেন। অ্যালিসন ব্যাখ্যা করেন, ব্রি সামনে থাকায় তিনি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছিলেন না। ব্রি হঠাৎ খুব বদলে গিয়েছিলেন, তাতে তিনি বুঝেছিলেন কোথাও গোলমাল আছে। অন্যদিকে হুয়ান শুরু থেকে একই রকম ছিলেন।

চতুর্থ বাদ: ব্রাইসের অপ্রত্যাশিত লাল আলো

এরপর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অ্যালিসন বাটন চাপেননি। তিনি রাতে ঘুমিয়ে আরও ভাবার সময় নিয়েছেন, যাতে ঠান্ডা মাথায় ভুল এড়ানো যায়। জিমি জানান, তাকে অন্য ভিডিওর শুটিংও করতে হবে, এত সময় লাগবে ভাবেননি। জিমি স্কাইলারকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। স্কাইলার স্বীকার করেন অফারটা লোভনীয়। অ্যালিসন বলেন, তার মনে হয় দুজনেই সবুজ বেছে নিয়েছেন, তাই কাজটা আরও কঠিন। এমন সময় স্কাইলারের সেই পুরোনো বেফাঁস কথা, "আড়াই লাখ ডলারের আরেক ধাপ কাছে", আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

শেষে অ্যালিসন ব্রাইসকে বাদ দেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন ব্রাইস সবুজ বেছেছেন। তার যুক্তি, ব্রাইসকে চোর মনে হলে তিনি তাকে এই অবস্থান পর্যন্ত আনতেনই না, তার জায়গায় হুয়ানকে রাখতেন। কিন্তু ফলাফলে লাল আলো জ্বলে। অথচ শুরু থেকেই ব্রাইস বলে আসছিলেন তিনি ভাগ করবেন, আর একটু আগেও সবুজ বাটনের দাবি করেছিলেন। অ্যালিসন স্বীকার করেন তিনি ভুল ছিলেন। জিমি বলেন, অ্যালিসনের উচিত হুয়ানের কাছে ক্ষমা চাওয়া, আর অ্যালিসনও বলেন সেজন্য তার খারাপ লাগছে। ব্রাইস ৪০ হাজার ডলার নিয়ে বিদায় নেন।

শেষ পরীক্ষা: পর্দার ওপারে স্কাইলার আর টাকা

জিমি মন্তব্য করেন, এর মানে হুয়ান ছাড়া বাকি সবাই অ্যালিসনের টাকা চুরি করতে চেয়েছিলেন। তবে তখনো স্কাইলারের সিদ্ধান্ত প্রকাশ পায়নি। জিমি জোর দিয়ে বলেন, সঙ্গী বাছাই থেকে বাদ দেওয়ার ক্রম পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত অ্যালিসন নিজে নিয়েছেন, আর সেসবই তাকে এই শেষ মুহূর্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। শেষ নিয়ম হলো, পর্দা সরানোর পর স্কাইলার আর টাকা দুটোই থাকলে দুজন অর্ধেক-অর্ধেক পাবেন। কোনোটি না থাকলে অ্যালিসন কিছুই পাবেন না, আর পুরো খাটুনি বৃথা যাবে।

অ্যালিসন বলেন, ব্রাইসের কাণ্ড দেখে তিনি খুব নার্ভাস, তবু মনের কোণে বিশ্বাস আছে স্কাইলার ভাগ করেছেন। তিন-দুই-এক গোনার পর পর্দা সরে যায়। স্কাইলার আর টাকা দুটোই সেখানে ছিল। স্কাইলার ভাগ করার পথই বেছে নিয়েছিলেন। অ্যালিসন বলেন, তিনি সত্যিই খুব ভয় পেয়েছিলেন। দুজনেই সোয়া লাখ ডলার নগদ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

শেষে জিমির মন্তব্য ছিল, মাঝে মাঝে অপরিচিতরাই হয়ে ওঠে এমন বন্ধু, যাদের সঙ্গে আগে দেখা হয়নি। পাঁচ সঙ্গীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে টাকা ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেবল হুয়ান আর স্কাইলার। যারা সবচেয়ে জোর দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই ব্রি আর ব্রাইস, দুজনেই শেষ পর্যন্ত চুরির পথ বেছে নিয়েছিলেন।