এক ডলার থেকে এক বিলিয়ন ডলার: মিস্টারবিস্টের পারমাণবিক বাঙ্কার সফর

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে মিস্টারবিস্ট (জিমি) ও তাঁর দল ক্রমবর্ধমান দামের কয়েকটি বাঙ্কার ঘুরে দেখেন। শুরু এক ডলারের মাটিচাপা কন্টেইনার দিয়ে, শেষ যুক্তরাষ্ট্রের Cheyenne Mountain Space Force Station-এ, যাকে ভিডিওতে "এক বিলিয়ন ডলারের" এবং "পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ বাঙ্কার" বলা হয়। প্রতিটি ধাপে দেখানো হয় দাম বাড়লে নিরাপত্তা, আরাম আর জীবনধারণের ব্যবস্থা কীভাবে বদলায়। মাঝে মাঝে আসে দলের সদস্যদের ঠাট্টা ও ভুল। ভিডিওর শুরুতেই জিমি দাবি করেন, পাহাড়ের ভেতরে ২,০০০ ফুট গভীরের শেষ বাঙ্কারটি সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বোমার আঘাতও সহ্য করতে পারে।

13 মিনিটে পড়া

$১-এর বাঙ্কার: মাটির নিচে বাঁকা শিপিং কন্টেইনার

প্রথম বাঙ্কারটি আসলে মাটির নিচে চাপা দেওয়া একটি শিপিং কন্টেইনার। ভেতরটা ভিজে গেছে, আর কন্টেইনারটি এর মধ্যেই বেঁকে গেছে। জিমি রসিকতা করেন, এ কারণেই হয়তো এটি তাঁকে এক ডলারে বিক্রি করা হয়েছে, আর এটি যেন "বিস্ফোরণের পরের অবস্থায়" আগে থেকেই আছে। পুরো "ট্যুর" কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায়।

দলের একজনকে জিজ্ঞেস করা হয় বাঙ্কারটি বোমা সহ্য করতে পারবে কি না। উত্তর আসে "না"। এরপর "বোমা ফেলুন!" বলে একটি পরীক্ষার দৃশ্য দেখানো হয়, তারপর জিমি অবাক হয়ে বলেন "অপেক্ষা করুন। কি?" কী ঘটেছিল, সংলাপে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। জিমি জানান, সামনের বাঙ্কারগুলো ক্রমশ আরও অদ্ভুত হবে।

$১ মিলিয়ন: মিসাইল কমান্ড সেন্টার থেকে ব্যক্তিগত বাড়ি

দ্বিতীয় বাঙ্কারটি মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের সময় মাটির গভীরে থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জন্য বানানো হয়েছিল। অনেক সিঁড়ি নেমে আর ৭,০০০ পাউন্ড ওজনের একটি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে হয়। ভেতরের দৃশ্য জিমির কাছে কিছুটা 'স্টার ওয়ার্স'-এর মতো লাগে। যে ঘর থেকে একসময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ চালানো হতো, সেটিও দেখানো হয়। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, পুরো স্থাপনাটি পারমাণবিক আক্রমণ সহ্য করে তারপর পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য নকশা করা।

এখানকার একটি প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। দলটি যে মেঝেতে দাঁড়িয়ে, সেটি আসলে ছাদ থেকে ঝুলে থাকা একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম, আর মাত্র ৮টি স্প্রিং পুরো ভার ধরে রেখেছে। জিমির ভাষায়, ৫০ বছর আগে যা ছিল মিসাইল কমান্ড সেন্টার, তা এখন এর মালিক একটি গোপন ও সুরক্ষিত বাড়িতে পরিণত করেছেন, যা "বিশ্বের শেষের জন্য প্রস্তুত"। জিমি জানতে চান সরকার কীভাবে এটি কেনার অনুমতি দিল, তবে সংলাপে এর কোনো উত্তর নেই।

বাড়িটিতে একটি বাথটাব, রান্নাঘর আর বিনোদনের জায়গা আছে। দুই তলা নেমে, মোট পাঁচ তলা গভীরে, রয়েছে একটি ক্লাব, যেখানে মালিক পার্টি করেন। দলের সদস্য নোলানকে নিয়ে জিমি ঠাট্টা করেন যে তিনি সম্ভবত সেখানে আমন্ত্রণ পান না। জিমির বন্ধুদের আইকিউ সাধারণ অতিথিদের তুলনায় কেমন, এমন প্রশ্নে মালিক মজা করে বলেন "কম"।

এরপর মালিক তাদের এমন একটি গোপন অংশে নিয়ে যান, যা তিনি সাধারণত কাউকে দেখান না। সেটি সেই সাইলো, যেখানে কয়েক দশক আগে একটি সত্যিকারের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখা ছিল। জায়গাটি অন্ধকার আর ভীতিকর। "ওখানে কি নিরাপদ?" প্রশ্নের জবাবে মালিক বলেন, "না"। তবু কার্ল এগিয়ে যান, আর বাতি বন্ধ হলে কেউ কিছুই দেখতে পান না।

$৩ মিলিয়ন: কলিন ফার্জের পেছনের উঠানের বাঙ্কার

জিমি বলেন, কেউ নিজে বাঙ্কার বানাতে চাইলে তা দেখতে এই পেছনের উঠানের মতো হতে পারে। একটি "ভুতুড়ে" শেডের নিচে লুকানো এই বাঙ্কারটি বানিয়েছেন ইউটিউবার কলিন ফার্জ। নিরাপত্তার দিক থেকে মাথার ওপর প্রায় এক মিটার কংক্রিট আছে। কলিন জানান, নিরাপদ আশ্রয় ছাড়াও জায়গাটি তাঁর ইউটিউব সৃষ্টির একটি জাদুঘরের মতো।

ভিডিও অনুযায়ী, এই বাঙ্কারের মূল্য তিন মিলিয়ন ডলার হওয়ার কারণ কলিনের সংগ্রহে থাকা "অবিশ্বাস্য ও বিপজ্জনক" অস্ত্রগুলো। সেখানে আছে একটি ব্যাকপ্যাক ফ্লেমথ্রোয়ার, কব্জিতে বাঁধা একটি রকেট লঞ্চার যা ছুরি ছোঁড়ে এবং যাতে একটি টেজারও আছে, আর চেইনসো জোড়া একটি মেশিনগান। জিমি কলিনকে বাস্তব জীবনের টনি স্টার্কের সঙ্গে তুলনা করেন। বাঙ্কারের ভেতরেই ফ্লেমথ্রোয়ার চালানো হলে দলের সদস্যরা ভয় পান, একজন বলেন কলিন নিজের বাঙ্কারই পুড়িয়ে ফেলবেন। জিমির মন্তব্য, বাঙ্কার ডাকাতি করতে চাইলে এটিই হবে সবচেয়ে খারাপ জায়গা।

এর বাইরে কলিনের একটি আলাদা ঘর আর আসল ভূগর্ভস্থ টানেল ব্যবস্থাও আছে, যা প্রথম বাঙ্কারটির চেয়েও বড়। সেখানে কলিন এমন একটি কামান দেখান যা "যেকোনো কিছু" ছুঁড়তে পারে। পরীক্ষায় ছোঁড়া হয় রুটির রোল, এরপর একটি আস্ত টয়লেট রোল। আরেকটি আবিষ্কার ঘূর্ণমান ছুরির বেল্ট, যা কলিন গায়ে পরে চালান। জিমি বলেন, বাঙ্কারের উদ্দেশ্য সুরক্ষা দেওয়া হলেও এটি বের করার পর তিনি নিরাপদ বোধ করছিলেন না। কলিন জানান, তাঁর ওপর কখনো ছুরি পড়েনি। জিমি যখন বলেন যন্ত্রটা ছুরির বেল্ট ছাড়াও চালানো যেত, কলিনের জবাব ছিল, এভাবে "অনেক ভালো"।

শেষে কলিন দেখান তাঁর "ফ্রিজার-ওয়েভ", যাকে তিনি মাইক্রোওয়েভের বিপরীত বলে বর্ণনা করেন। এতে Feastables চকলেট রেখে মুহূর্তেই জমিয়ে ফেলা হয়।

$৫ মিলিয়ন: JFK-এর প্রেসিডেন্সিয়াল বাঙ্কার

একটি দ্বীপে আছে "পাঁচ মিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্ট বাঙ্কার"। ঢুকেই জিমি জানতে চান বিড়ালের প্রস্রাবের মতো গন্ধ আসছে কেন। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, দেখতে তেমন কিছু না হলেও ১৯৬১ সালে এটিকেই প্রেসিডেন্ট JFK-এর জন্য যথেষ্ট মনে করা হয়েছিল। জিমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, JFK-এর কাছে কি শুধু এটুকুই ছিল? জায়গাটি এখন কিছুটা খারাপ অবস্থায় আছে। দেখানো হয় প্রেসিডেন্টের বাথরুম। জিমির মন্তব্য, বাঙ্কারটি খুব বড় নয়, আর অন্য দুর্দান্ত বাঙ্কারগুলো দেখলে JFK নিশ্চয়ই হতাশ হতেন।

$৩০ মিলিয়ন: ১৫ তলার ভূগর্ভস্থ আকাশচুম্বী

"অতীত থেকে ভবিষ্যতের বাঙ্কারে" যাওয়ার কথা বলে জিমি নিয়ে যান ১৫ তলার একটি বাঙ্কারে। তিনি এটিকে ভূগর্ভস্থ আকাশচুম্বী বলেন, যা ৭৫ জন মানুষের জন্য তৈরি, যাতে তারা "যেকোনো কিছু থেকে" বাঁচতে পারে। প্রবেশপথে আছে দুই ফুট পুরু আর্মার প্লেটেড ইস্পাতের দরজা। দরজা ভাঙতে কয়টি RPG লাগবে, এমন প্রশ্নে উত্তর আসে "সম্ভবত ৩টি"। এর সঙ্গে আছে ছাদে স্নাইপারের নেস্ট, ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা আর ল্যারির প্রিয় বন্দুক। বাঙ্কারের একজন বলেন, তারা কাউকে নিজেদের খাবার চুরি করতে দেবেন না। একটি ইনডোর শুটিং রেঞ্জও আছে। জিমি স্বীকার করেন সবকিছু হয়তো বাড়াবাড়ি, তবে পৃথিবী সত্যিই শেষ হলে এখানে কে থাকতে চাইবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন।

বাঙ্কারে আছে হাসপাতাল, পরীক্ষার ঘর, দন্তচিকিৎসকের অফিস, ফার্মেসি, এমনকি একটি জেলখানা। আছে ১৫টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টও। জিমি জানান, পাঁচ বছর আগে তারা এই বাঙ্কারেই ২৪ ঘণ্টা কাটানোর একটি ভিডিও করেছিলেন, আর তখন সবাইকে দেখতে কতটা আলাদা লাগত তা নিয়ে কথা বলেন। ১৫ তলা নিচের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওয়াশার-ড্রায়ারসহ সব আছে। জিমির মতে, এটি বেশিরভাগ মানুষের সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের চেয়েও ভালো, আর বাকি ১৪ তলা জুড়ে অন্যান্য সুবিধা। রসিকতা করে তিনি বলেন, চ্যান্ডলারকে না জানিয়েই হয়তো তারা একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে ফেলবেন।

খাদ্যের ব্যবস্থাও দেখানো হয়। একটি মুদি দোকান আছে, যার তাকে ক্যানভর্তি বেকনও রয়েছে। জিমির মতে বাঙ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলোর একটি হাইড্রোপনিক্স কক্ষ। ভিডিওর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেখানে মাটি ছাড়া শুধু জল ব্যবহার করে বিভিন্ন গাছ জন্মানো হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য কার্যত অফুরন্ত খাবার জোগাবে। সবশেষে আসে একটি সুইমিং পুল, যাকে জিমি সম্ভবত "পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত পুল" বলেন। পুল, অফুরন্ত খাবার, জিম আর একটি পূর্ণাঙ্গ ক্লাইম্বিং ওয়াল দেখে জিমির মূল্যায়ন, এটি এ পর্যন্ত দেখা সব বাঙ্কারের চেয়ে অন্তত ২০ গুণ ভালো। এর চেয়ে ভালো কী হতে পারে তা তিনি জানেন না, তবু আরও দামি বাঙ্কার আছে।

$৫০ মিলিয়ন: সাধারণ বাড়ির নিচে "বাইরের" অনুভূতি

পরের বাঙ্কারটি একটি সাধারণ পাড়ার সাধারণ বাড়ির নিচে, প্রায় ৩০ ফুট গভীরে। ওপরের বাড়িটি দেখতে একদম সাধারণ, কিন্তু একটি গোপন কোড দিলে লিফট খোলে। জিমি কোডটি ঝাপসা করে দিতে বলেন, নইলে তিনি বিপদে পড়বেন। লিফট পাথর আর সিমেন্টের মধ্য দিয়ে তিন তলা নিচে নামে, আর নামতে অনেক সময় লাগে।

ভিডিওর মূল বক্তব্য, এই বাঙ্কার এমনভাবে নকশা করা যাতে মনে না হয় আপনি বাঙ্কারে আছেন। মেঝের আবরণ কার্পেট না ঘাস, দলটি তা ঠিক বুঝতে পারে না। তিন তলা নিচে পাম গাছ লাগানো, আর ক্রিসমাসের ৯ মাস পরেও একটি ক্রিসমাস ট্রি দাঁড়িয়ে আছে। জিমির অনুমান, গাছটি সারা বছরই রাখা হয়। ভেতরে আবার আস্ত একটি বাড়ি, জানালার বাইরে গাছপালা। জিমির ব্যাখ্যা, কাউকে দশকের পর দশক এখানে থাকতে হলে তিনি যেন বাইরের জগৎ মিস না করেন, তাই এটি বাইরের মতো করে বানানো। তাঁর মতে, ১০০ বছর বাঙ্কারে আটকে থাকতে হলে মানুষ সম্ভবত এটিই বেছে নেবে।

এখানে কয়েকটি মজার মুহূর্ত আছে। বাঙ্কারের নির্মাতা মাত্র ৫ ফুট লম্বা, তাই কিছু জায়গায় ছাদ নিচু। দলের সদস্য তারেক অনায়াসে নিচ দিয়ে হেঁটে যান, আর অন্যরা ঠাট্টা করেন যে এটা কোনো গর্বের বিষয় নয়। জিমি ফ্রিজ থেকে একটি ডায়েট কোক খুলে দেখেন সেটির মেয়াদ দুই বছর আগে শেষ হয়ে গেছে, স্বাদও খুব খারাপ ছিল। তিন তলা নিচে থাকায় ফোনে সিগন্যালও নেই।

এরপর জিমি তাঁর আগের একটি ভিডিওর কথা তোলেন, যেখানে হুগো ও রেইনকে $৫০০,০০০ জেতার জন্য ১০০ দিন একটি বাঙ্কারে রাখা হয়েছিল। সংকেত পেয়ে দুজন লিফটে নেমে আসেন। জিমির ধারণা ছিল, এই বাঙ্কারটি তাঁর বানানো বাঙ্কারের চেয়ে অনেক সুন্দর দেখে তারা রেগে যাবেন। দুজনেই তা স্বীকার করেন। জিমি তাদের ঝগড়া না করার পরামর্শ দেন, কিন্তু খুব দ্রুতই তারা পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যান। গোলাপি রান্নাঘর দেখে রেইন বলেন, এটি তাদের বাঙ্কারের রান্নাঘর হলে প্রতি রাতে হুগোর জন্য রান্না করতেন। হুগো তাতে বিশ্বাস করেন না।

এই ভূগর্ভস্থ বাড়ির "বাইরে" একটি পুলও আছে, আর হুগো মোজা পরেই তাতে ঝাঁপ দেন। জিমির একমাত্র সমালোচনা, পুলের পানি বেশ ঠান্ডা, গরম করার ব্যবস্থা দরকার। তাদের চ্যালেঞ্জে পুল থাকলে কতটা আলাদা হতো, এমন প্রশ্নে একজন বলেন "খুব আলাদা", অন্যজন বলেন তিনি সম্ভবত বেরই হতেন না। সবশেষে দেখানো হয় বাঙ্কারের গোপন পালানোর পথ, যদিও জিমি নিশ্চিত নন সেটি দেখানো উচিত কি না।

$১ বিলিয়ন: Cheyenne Mountain Space Force Station

শেষ গন্তব্য Cheyenne Mountain Space Force Station। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, এটি ২,০০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথর দিয়ে সুরক্ষিত এবং মানবজাতির তৈরি সবচেয়ে বিধ্বংসী অস্ত্রের বিরুদ্ধেও টিকে থাকতে পারে। জিমি জানান, সাধারণত এই জায়গায় তারা বাঙ্কারের বিন্যাস বোঝাতে একটি 3D মানচিত্র দেখান, কিন্তু স্থানটি এতটাই গোপন যে ক্যামেরার লেন্সে ক্যাপ লাগাতে হয়। তাঁর ভাষায়, আইনগতভাবে তিনি এখান থেকে কিছুই দেখাতে পারেন না। টানেলে দৌড়ালে কী হবে, এই প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, প্রহরীরা গুলি করবে। প্রহরীর বন্দুক ধরতে চাইলে স্পষ্ট "না" শোনা যায়।

প্রবেশপথে আছে বিশাল পারমাণবিক বোমা-প্রতিরোধী দরজা, যা ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক বোমা থেকেও রক্ষা করার মতো শক্তিশালী। দলটি অবাক হয়ে দেখে একটি নয়, দুটি দরজা আছে, দ্বিতীয়টি অন্য পাশে। গাইডের কথায়, বাইরে কেউ পারমাণবিক বোমা ফাটালেও ভেতরে থাকা মানুষ নিরাপদ থাকবে। ভেতরে ঢুকেই একটি দেয়াল, যাকে তারা 'ওয়েলকাম ওয়াল' বলেন, সেখানে 'স্পেস ফোর্স' লেখা আছে। জানানো হয়, এই বাঙ্কার থেকে ৪টি কমান্ড কাজ করে।

ভিডিওতে বাঙ্কারের একটি নকশাগত দিক ব্যাখ্যা করা হয়। এটি শুধু শত্রুর আক্রমণ নয়, তার চেয়ে কম পূর্বানুমানযোগ্য প্রকৃতির বিরুদ্ধেও টিকে থাকার জন্য তৈরি। পাহাড় আর বাঙ্কারের মাঝে একটি ফাঁক রেখে বাঙ্কারটিকে স্প্রিংয়ের ওপর বসানো হয়েছে, ফলে এটি কার্যত "ভাসমান"। ভিডিওর ভাষ্যে, এতে পারমাণবিক হামলা বা ভূমিকম্পের শকওয়েভ সম্পূর্ণ শোষিত হয়। বিশাল বিস্ফোরণ-দরজা পেরিয়ে অনেক দূর হাঁটতে হয়, তবে কতদূর তা গোপনীয় বলে জিমি জানাতে পারেন না।

NORAD-এর যুদ্ধ ডেক ও AJOC

ভেতরে দলটি পৌঁছায় "যুদ্ধের ডেকে"। এখানে ডান দিকের অংশ ছাড়া বাকি সব দেখানোর অনুমতি মেলে। জিমি রসিকতা করেন, সেটা নিশ্চিতভাবেই কোনো ইউএফও নয়। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, আকাশপথ বা সমুদ্রপথে উত্তর আমেরিকা আক্রান্ত হলে এখানেই NORAD-এর নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। জিমি অনুমতি নিয়ে জেনারেলের আসনে বসেন, তবে কিছু স্পর্শ না করার শর্তে। তারেককে "সিস্টেম প্রস্তুত" করতে বলার পর তিনি সত্যিই কিছু একটা স্পর্শ করে ফেলেন। দলের অন্যরা মনে করিয়ে দেন, তাদের "৩০ বার" কিছু না ছুঁতে বলা হয়েছিল। তারেক বারবার ক্ষমা চান, আর অন্যরা মজা করে বলেন তিনি গ্রেফতার হবেন বা সবাইকে বের করে দেওয়া হবে। একটি কাচের জানালার ওপারে কী আছে, সেই প্রশ্নের পর হাততালি দিয়ে প্রতিধ্বনি শোনার একটি মুহূর্তও আছে।

এরপর এরিক তাদের বাঙ্কারের কেন্দ্রে একটি গোপন কমান্ড পোস্টে নিয়ে যান, যার নাম AJOC, অর্থাৎ অল্টারনেট জয়েন্ট অপারেশনস সেন্টার। ভিডিওতে বলা হয়, এটি পুরো উত্তর আমেরিকা মহাদেশের আকাশ ও সমুদ্রের সুরক্ষার দায়িত্বে। অজানা কোনো বিমান দেখা দিলে কত মিনিটে যুদ্ধবিমান পিছু নেবে, এই প্রশ্নের উত্তর ছিল "৫ মিনিটেরও কম"। যেহেতু তারা সম্ভাব্য সব হুমকি পর্যবেক্ষণ করেন, জিমি ইউএফও নিয়ে প্রশ্ন না করে পারেননি। উত্তরটা অস্পষ্ট থেকে যায়: "সম্ভবত?" এরপর উত্তরদাতা মাটির দিকে তাকিয়ে "ভিন্ন বিষয়" বলে প্রসঙ্গ বদলান, আর সেখানেই কথা থামিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে একটি করিডোর ভিডিও করার অনুমতি মেলে, তারপর আবার লেন্সে ক্যাপ লাগাতে বলা হয়।

পাহাড়ের ভেতরের জীবনযাত্রা: সাবওয়ে, ফায়ার স্টেশন ও CPR প্রশিক্ষণ

এখানে কতজন কাজ করেন তা গোপন। তবে জিমির পর্যবেক্ষণ, শত শত মানুষকে বছরের পর বছর বাঁচিয়ে রাখার মতো সব ব্যবস্থা এখানে আছে, যেমন জিম আর মুদি দোকান। এত মানুষ কাজ করেন যে ভেতরে একটি Subway রেস্তোরাঁও খোলা হয়েছে। জিমি সেখান থেকে "জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ" মিটবল মারিনারা খেতে যান।

বাঙ্কারের নিজস্ব ফায়ার স্টেশনও আছে, যেখানে পাহাড়ের ভেতরের আসল রাস্তায় ফায়ার ট্রাক চলাচল করে। ট্রাক নিয়ে দৌড়ানোর অনুমতি অবশ্য মেলেনি। সাধারণত তারা ডামির ওপর প্রশিক্ষণ নেন, কিন্তু এবার দল নিজেদের একজনকে "ডামি" হিসেবে এনে উদ্ধার ও CPR অনুশীলন করে। হইচইয়ের মধ্যে দলের পারফরম্যান্স জানতে চাইলে প্রশিক্ষক রেটিং দেন "সম্ভবত ৪/১০"। দলের একজন বলেন, যথেষ্ট CPR করা হয়নি বলেই এমন হয়েছে, আর তখনই "ডামি" উঠে বলেন তিনি ঠিক আছেন।

শেষ কথা: পেছনের উঠান থেকে ভূগর্ভস্থ শহর

শেষে জিমি পুরো সফরটি এক জায়গায় আনেন। কিছু বাঙ্কার পেছনের উঠানে লুকিয়ে থাকে, যথেষ্ট টাকা থাকলে কিছু পুরো পাড়ার নিচে। কিছু বাঙ্কার শুধু বেঁচে থাকার চেয়ে বেশি কিছু দেয়, এত বিলাসবহুল যে নিজস্ব জল পার্কও আছে। কিন্তু তাঁর মতে কোনোটিই Cheyenne Mountain-এর সঙ্গে তুলনীয় নয়। ভিডিওর বর্ণনায় এটি এক ভূগর্ভস্থ শহর, যার নিজস্ব পাওয়ার গ্রিড, অন্তহীন করিডোর, মহাসড়ক আর একাধিক হ্রদ আছে, এবং যা একদিন উত্তর আমেরিকা ও মানবতার রক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

বিদায়ের আগে জিমি শেষ একটি অনুরোধ করেন। গাইডকে জিজ্ঞেস করেন, দর্শকরা সাবস্ক্রাইব না করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের খুঁজে বের করবে, এমনটা কি বলা যায়? উত্তর আসে, "একদম না।" জিমি বলেন, "ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করলাম।"