বিশ্বজুড়ে ১০টি স্কুল: মিস্টারবিস্টের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে মিস্টারবিস্ট (জিমি) ও তাঁর দল ঘানা, ইকুয়েডর, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন জায়গায় মোট ১০টি স্কুল তৈরি বা পুনর্নির্মাণের কাজ দেখান। ভিডিওর শুরুতে বলা হয়, ২০ কোটিরও বেশি শিশুর নিরাপদ স্কুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। দলটি বলে, তারা শুধু স্কুল ভবন তৈরি করবে না। বছরের পর বছর শিশুদের খাবার নিশ্চিত করা, অবৈধ শিশুশ্রমে যুক্ত খামার থেকে তাদের রক্ষা করা এবং দূষিত পানীয় জল থেকে দূরে রাখার দায়িত্বও তারা নিয়েছে। ভিডিওর মূল দাবি হলো, একটি নিরাপদ স্কুল ভবন ছাড়াও জল, খাবার, যাতায়াত ও শিক্ষকদের জীবনমানের মতো আশপাশের সমস্যাগুলো সমাধান না করলে শিশুদের শিক্ষা টেকসই হয় না।

11 মিনিটে পড়া

ঘানা: সরকারের নির্দেশে ভাঙার অপেক্ষায় থাকা স্কুল

প্রথম গন্তব্য ঘানা। সেখানে একটি মরিচা পড়া পুরনো স্কুল দেখানো হয়। মিস্টারবিস্টের ভাষ্যমতে, স্কুলটি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে সরকার এটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। দলের সদস্য চ্যান্ডলারের সঙ্গে হালকা রসিকতার পর পুরনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়, আর শিশুদের তাদের নতুন স্কুল দেখতে পাঠানো হয়। এই স্কুলের জন্য হাঁটার দূরত্বে একটি নতুন কূপও তৈরি করা হচ্ছিল। মিস্টারবিস্ট এটিকে বহু মানুষের জীবন বদলানোর "প্রথম ধাপ" বলে বর্ণনা করেন।

সংস্কার করা স্কুল ও দুটি নতুন ক্লাসরুম

দ্বিতীয় স্কুলটি আগেরটির মতো ভেঙে ফেলার দরকার ছিল না, তাই সেটিকে নতুন করে সাজানো হয়। মিস্টারবিস্ট বলেন, এমন অবস্থায় সেখানে ২৫০ জনেরও বেশি শিশু পড়তে আসে, যা ভাবতেও অবাক লাগে। প্রথম কাজ ছিল দেয়াল রঙ করা। এরপর নতুন সিলিং, নতুন দেয়াল ও নতুন মেঝে বসানো হয়। পুরনো ক্লাসরুমগুলো সংস্কারের পাশাপাশি দুটি একেবারে নতুন ক্লাসরুমও তৈরি করা হয়, যেগুলো শিশুরা এর আগে দেখেনি।

মিস্টারবিস্ট জানান, এই শিশুদের কেউ কেউ জীবনে কখনো খেলনা নিয়ে খেলেনি। নতুন ক্লাসরুমে তারা আড্ডা দিয়ে আর দুষ্টুমি করে আনন্দ পাচ্ছিল। তাঁর ধারণা, এতে স্কুলে উপস্থিতি বাড়বে এবং শিশুরা আরও আনন্দ নিয়ে শিখতে পারবে।

শিক্ষকদের জন্য বাসস্থান

প্রিন্সিপাল মিস্টারবিস্টকে জানান, স্কুলের দুজন শিক্ষক প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে স্কুলে আসেন, আর এই যাতায়াতে তাঁদের বেতনের এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে যায়। মিস্টারবিস্ট একে খুব কষ্টকর এবং অস্থায়ী ব্যবস্থা বলে মনে করেন। তাই জোসেফ ও ইমানুয়েল নামের এই দুই শিক্ষকের চোখ বেঁধে এনে তাঁদের নতুন বাড়ি দেখানো হয়। দুজনকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাগ করে থাকতে হবে না, প্রত্যেকে নিজের আলাদা অংশ পাবেন। মিস্টারবিস্ট ভালো শিক্ষক হওয়ার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

নদীর জল, কৃমি ও নতুন কূপ

মিস্টারবিস্ট বলেন, প্রথম দিন এসেই তিনি এমন একটি জিনিস লক্ষ্য করেন যা উপেক্ষা করা যায়নি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পুরো গ্রাম একটি নদী থেকে জল সংগ্রহ করে আসছিল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুসহ গ্রামের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশের অন্ত্রে পরজীবী কৃমি পাওয়া গেছে। তিনি জানান, এটি তাঁর হৃদয় ভেঙে দেয়।

তাই দলটি একটি নতুন কূপ খনন করে, যা শুধু স্কুলের জন্য নয়, আশপাশের কয়েকশো মানুষের জন্যও। এর ফলে স্কুলে এখন বিশুদ্ধ পানীয় জল থাকবে। শিশুদের যাতে আর জঙ্গলে প্রস্রাব করতে না হয়, সেজন্য বাথরুম তৈরি করা হয়। নতুন কূপের জলে চলা সিঙ্কও বসানো হয়।

রান্নাঘর, পাঁচ বছরের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার ও খরচের হিসাব

দলটি স্কুলে একটি রান্নাঘরও তৈরি করে। মিস্টারবিস্ট বলেন, এখানে প্রতিদিন স্কুলের দুপুরের খাবার রান্নার সব সরঞ্জাম আছে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী পাঁচ বছর স্কুল চলার প্রতিটি দিন সব শিক্ষার্থী বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাবে। প্রতিশ্রুতিটা কতটা বাস্তব, তা বোঝাতে তিনি একজনকে ক্যালেন্ডারে যেকোনো তারিখ বেছে নিতে বলেন। ২০৩০ বাছাই করা হলে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মে মাসেও শিশুরা বিনামূল্যে খাবার পাবে। এই কাজে সহায়তার জন্য তিনি রকফেলার ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

মিস্টারবিস্টের হিসাবে, শুধু এই একটি কম্পাউন্ডেই তাঁরা অর্ধ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছেন। বছরের শেষ নাগাদ এই স্কুল ও আশপাশের কমিউনিটির উন্নয়নে খরচ দশ লক্ষ ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, এই অবকাঠামো পরবর্তী প্রজন্মের জীবনেও প্রভাব ফেলবে। তিনি মজা করে বলেন, এত নির্মাণকাজ করায় স্থানীয়রা তাঁকে "উন্নয়নের প্রধান" উপাধি দিয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, জিমি কিছু করবেন বললে সত্যিই করেন। এত কিছু করার দরকার ছিল না, তবুও তিনি ধন্যবাদ জানান।

ছাদ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভবন বদলে দোতলা স্কুল

পরের স্কুলে গিয়ে মিস্টারবিস্ট শিশুদের ভবন থেকে বের করে দেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ভবনটি তাঁর নিজের চেয়েও পুরনো, আর পড়ার সময় শিশুদের মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়তে পারে। তিনি একে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলেন। পড়াশোনার সময় কোনো শিশুর মৃত্যু হওয়াকে তিনি সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।

পুরনো স্কুলের জায়গায় একটি নতুন দোতলা স্কুল তৈরি করা হয়। মিস্টারবিস্ট জানান, আকার দ্বিগুণ হওয়ায় এখন ৩০০ জনেরও বেশি শিশু এখানে পড়তে পারবে। স্কুলে আটটি বড়, সম্পূর্ণ সজ্জিত ক্লাসরুম আছে। পাশেই জল সংরক্ষণের ব্যবস্থাসহ একটি সৌরচালিত কূপ তৈরি করা হয়। এর জল স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের মানুষও ব্যবহার করবে। মিস্টারবিস্ট বলেন, তাঁরা শুধু স্কুল বানাতে আসেননি, এখানকার মানুষের জীবনধারাও বদলাতে এসেছেন।

শিশুশ্রম ও ফিস্টেবলসের সংযোগ

এই অংশে মিস্টারবিস্ট স্কুলের সঙ্গে শিশুশ্রমের সম্পর্ক টানেন। তাঁর যুক্তি, শিশুরা নিরাপদ স্কুলে যেতে পারলে তাদের অবৈধ শিশুশ্রমে বাধ্য করা হবে না। তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান ফিস্টেবলস কৃষকদের জীবনযাত্রার আয়ের রেফারেন্স মূল্য দেয় এবং তাদের খামারে শিশুশ্রম নিরীক্ষণ ও প্রতিকারে অনড়। এই কারণেই তিনি ঘানার ১১টি ভিন্ন কমিউনিটিতে শিশুদের জন্য স্কুল তৈরি করেছেন বলে জানান।

বৃষ্টিতে কাদায় ভরে যাওয়া স্কুল

মিস্টারবিস্ট বলেন, শিশুশ্রমই একমাত্র সমস্যা নয় যা তাঁরা সমাধান করেছেন। পরের স্কুলটি এতটাই জরাজীর্ণ ছিল যে সেখানে পড়াশোনা প্রায় অসম্ভব। একজন জানান, বৃষ্টি হলে সেখানে বন্যা হয়, জল ভেতরে ঢুকে সবকিছু কাদা হয়ে যায়।

পরের কয়েক মাস ধরে দলটি সেখানে সাতটি ক্লাসরুমসহ একটি নতুন স্কুল তৈরি করে। প্রতিটি ক্লাসরুমে নতুন ডেস্ক দেওয়া হয়। মিস্টারবিস্ট মজার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন যে শিক্ষকরা আগে কোনো শিশুকে ভেতরে ঢুকতে দেননি, তাই উদ্বোধনের দিনই তারা প্রথম ভেতরে ঢোকে। আট মাস আগে পুরনো স্কুলের জন্য তাঁরা একটি রান্নাঘর তৈরি করেছিলেন। এখানেও পরবর্তী পাঁচ বছর প্রতিটি স্কুলদিবসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। একজন স্থানীয় ব্যক্তি সতর্ক করেন যে খাবারের জন্য আরও শিশু আসবে, তাই আরও ক্লাসরুম লাগবে। মিস্টারবিস্ট উত্তর দেন, সেই কারণেই তাঁরা সাতটি ক্লাসরুম বানিয়েছেন।

এক বছর পরের ফিরে দেখা: খাদ্য কর্মসূচি ও উপস্থিতি

পরের জায়গাটি এমন একটি স্কুল, যেখানে দলটি এক বছর আগে একটি স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম শুরু করেছিল। এক বছর পর ফিরে এসে তাঁরা দেখান, লাঞ্চ প্রোগ্রাম এখনো চলছে এবং শিশুরা প্রতিটি স্কুলদিবসে বিনামূল্যে খাবার পাচ্ছে। মিস্টারবিস্টের দাবি, এই কর্মসূচির কারণে স্কুলে উপস্থিতি ১০ শতাংশ বেড়েছে এবং আরও বাড়ছে।

তিনি জানান, সেই আগের ভিডিওর সময় ক্লাসরুমগুলোর অবস্থা দেখে তিনি বুঝেছিলেন যে কিছু একটা করতে হবে। তাই এবার শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি ক্লাসরুমসহ একটি নতুন স্কুল তৈরি করা হয়। ভিডিওর ১০টি স্কুলের মধ্যে এটি একটি। মিস্টারবিস্ট বলেন, এই স্কুল না থাকলে শিশুরা প্রতিদিন ভয় নিয়ে ক্লাসে যেত। নিরাপদ স্কুল তৈরি করতে পারায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।

শহরের প্রথম হাই স্কুল ও গাড়িতে বসে কাজ করা প্রিন্সিপাল

এরপর দলটি এমন একটি শহরে যায়, যেখানে গোটা শহরে একটিমাত্র স্কুল ছিল, আর সেটি মিডল স্কুল। সেখানে তাঁরা শহরের প্রথম হাই স্কুল তৈরি করেন এবং মিডল স্কুলটিকে হাই স্কুলে রূপান্তর করেন। এখানে দর্শকরা নির্মাণের ধাপগুলোও দেখতে পান। প্রথমে আলাদা আলাদা দেয়াল তৈরি করে জোড়া লাগানো হয়। মিস্টারবিস্ট স্বীকার করেন, স্কুল নির্মাণ বলতে তিনি হাতুড়ি-পেরেকের কাজ ভেবেছিলেন, বাস্তবে বিষয়টা এমন হবে তা ভাবেননি। এরপর তিনি ও ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মিলে ভারী ছাদ ভবনের ওপর তোলেন। একজন সতর্ক করেন যে ছাদ ছুঁড়ে দেওয়া যাবে না, সাবধানে বসাতে হবে। দলের সদস্য নোলানকে নিয়ে তিনি রসিকতা করেন যে তিনি যথেষ্ট লম্বা নন। দুই দিকের ছাদ বসানোর পর বলা হয়, এই "নেক্সট জেন" নির্মাণসামগ্রীর ভেতরে সিমেন্ট ভরা হবে, যাতে ভবন বহু বছর টেকে। এরপর কংক্রিট দিয়ে দেয়াল মজবুত করা হয়।

এই স্কুলে আরও একটি চমক ছিল। পুরনো স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান, গত এক দশক ধরে নিজস্ব অফিস না থাকায় তাঁকে গাড়িতে বসে কাজ করতে হয়েছে। তাই নতুন স্কুলের পাশেই তাঁর জন্য একটি অফিস তৈরি করা হয়। আবেগাপ্লুত প্রিন্সিপাল বলেন, "তুমি আমাকে কাঁদাবে!" এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন ফুটবল মাঠও তৈরি করা হয়। এই কাজে সহায়তার জন্য মিস্টারবিস্ট টেলিভিসা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

ইকুয়েডরের রেইনফরেস্ট: উঁচু স্কুল ও ধাতব সেতু

মিস্টারবিস্ট ইকুয়েডরের পরের দুটি স্কুলকে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কাজ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, এই কমিউনিটিগুলো এত দূরের জঙ্গলে যে তাদের নিজেদের সবকিছুর দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হয়, কারণ রেইনফরেস্টে বাইরের কোনো সাহায্য পৌঁছায় না। সেখানে পৌঁছাতে দলটিকে দুটি প্লেনে যাত্রা, তিন ঘণ্টার নৌ-ভ্রমণ এবং কাঁচা রাস্তায় দেড় ঘণ্টা যেতে হয়।

পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, বৃষ্টি কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। একজন শিক্ষক বলেন, বৃষ্টি হলে পড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দে কারো কথা শোনা যায় না, আর উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীরা কিছু শিখতে পারে না। জল কত উঁচুতে ওঠে জানতে চাইলে উত্তর আসে, হাঁটুর ওপর পর্যন্ত। মিস্টারবিস্টের মন্তব্য, পড়াশোনা তো দূরের কথা, এটা সত্যিই বিপজ্জনক।

তাই পুরনো ভাঙাচোরা স্কুলের বদলে দুটি নতুন উঁচু (এলিভেটেড) স্কুল তৈরি করা হয়, যাতে বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকে। মিস্টারবিস্ট জানান, ৫০ জনেরও বেশি শিশু এখন উন্নত পরিবেশে স্কুলে ফিরতে পারছে। স্কুলে যাওয়ার পথে বিপজ্জনক কাঠের সেতুর জায়গায় একটি নিরাপদ ধাতব সেতুও তৈরি করা হয়, যাতে শিশুদের প্রতিদিন ভয় নিয়ে যাতায়াত করতে না হয়।

যুক্তরাষ্ট্র: হোপ ক্রিক একাডেমির প্রাকৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র

এরপর দলটি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। হোপ ক্রিক একাডেমি নিউরোডাইভারজেন্ট চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের স্কুল। সেখানকার একজন জানান, তাঁরা শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ দেন যাতে তারা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে ও ভালো করতে পারে। মিস্টারবিস্ট বলেন, এই শিক্ষার্থীদের শেখার সবচেয়ে ভালো জায়গা ক্লাসরুমের ভেতরে নয়, স্কুলের বাইরে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য বলছে নিউরোডাইভারজেন্ট শিশুরা ঘরের সংকীর্ণ জায়গার চেয়ে খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশে ভালো শেখে।

এই কারণে লো'স-এর সঙ্গে মিলে একটি বহিরঙ্গন শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হয়। লাল পোশাক পরা লো'স-এর কর্মীরা স্বেচ্ছায় সময় ও শ্রম দেন। স্কুলের একজন জানান, এটি এমন এক ধরনের পরিবেশ হবে যা শিশুদের এখন নেই, যেখানে তারা প্রকৃতির সঙ্গে খেলতে পারবে। একে "প্রকৃতির খেলাঘর" বলে বর্ণনা করা হয়। কাজ শেষে শিশুদের সেখানে আনা হলে একজন শিক্ষক বলেন, জায়গাটি আরও উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক, এবং এখানে কল্পনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ বেশি।

ভারত: ৪০০ শিক্ষার্থী, ছয়টি ক্লাসরুম

শেষ স্কুলের জন্য দলটি ভারতে যায়। সেখানে স্কুলে এত ভিড় যে শত শত আগ্রহী শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একজন জানান, তাঁদের নিজস্ব কোনো ক্লাসরুম নেই। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য মোট ক্লাসরুম মাত্র ছয়টি। দলটি তাদের জন্য একটি নতুন তিনতলা স্কুল তৈরি করে।

মিস্টারবিস্ট আরও জানান, অনেক শিশুকে স্কুলে আসতে অন্ধকারে একটি ব্যস্ত ও বিপজ্জনক রাস্তা দিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি হাঁটতে হয়। তাই স্কুলকে একটি নিজস্ব স্কুল বাস কিনে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষক বলেন, তিনি বিশেষভাবে খুশি যে তাঁর শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে মেয়েরা, এখন নিরাপদে স্কুলে আসতে পারবে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা সবাই নতুন স্কুলে যেতে পেরে খুব উচ্ছ্বসিত, এবং এত বড় একটি ভবন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি ফাউন্ডেশনের কাছে কৃতজ্ঞ।

সমাপ্তি: খরচ, প্রভাব ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা

শেষে মিস্টারবিস্ট দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, দর্শকরা ভিডিওগুলো দেখেন বলেই তাঁরা এই শিশু, শিক্ষক ও পুরো কমিউনিটির জীবন বদলাতে পেরেছেন। তাঁর দেওয়া হিসাবে, দশটি স্কুল তৈরিতে তিন মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে, এবং সময়ের সঙ্গে এসব স্কুলে ১৮,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী পড়বে। এর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের কূপ খনন করা হয়েছে এবং বাস ও সেতুর মাধ্যমে যাতায়াত নিরাপদ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এসব শুধু বর্তমানের জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও কাজে আসবে।

মিস্টারবিস্ট বলেন, তিনি আশা করেন এটা কেবল শুরু। তাঁর বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলো, মিস্টারবিস্ট চ্যানেলের পুরো যাত্রায় আরও লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচানো ও বদলানো। ভিডিওর শেষে তিনি অংশীদার টি-মোবাইলকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের প্রজেক্ট ১০ মিলিয়নের কথা উল্লেখ করেন।