রোনালদো থেকে টম ব্র্যাডি: বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদদের বিপক্ষে সাধারণ মানুষের ছয়টি ১-বনাম-১ লড়াই

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর প্রশ্নটা সোজা: নিয়মে কিছু সুবিধা পেলে একজন সাধারণ মানুষ কি নিজের খেলার সবচেয়ে বড় তারকাকে হারাতে পারেন? প্রায় প্রতিটি লড়াইয়ে বাজি ১ লাখ ডলার। সাধারণ মানুষ জিতলে টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায়, তারকা জিতলে তাঁর পছন্দের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়। শেষ লড়াইটা আলাদা। সেখানে একজন ভক্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি হন, আর বাজি ১০ লাখ ডলার। প্রতিটি লড়াইয়ে পেশাদার খেলোয়াড়ের জন্য নিয়ম একটু কঠিন করা হয়েছে, যাতে প্রতিযোগিতায় সত্যিকারের অনিশ্চয়তা থাকে।

10 মিনিটে পড়া

টম ব্র্যাডি বনাম হাইস্কুলের কোয়ার্টারব্যাক জেক

প্রথম লড়াই আমেরিকান ফুটবলে। প্রতিপক্ষ দুজন: হাইস্কুলের ফুটবল খেলোয়াড় জেক এবং টম ব্র্যাডি। দুজনে পালা করে বেলুন লক্ষ্য করে বল ছুড়বেন, আর যিনি আগে চারটি বেলুন ফাটাবেন তিনি ১ লাখ ডলার জিতবেন। উপস্থাপক বলেন, সাতটি সুপার বোল রিং ব্র্যাডিকে সর্বকালের সেরা কোয়ার্টারব্যাক প্রমাণ করে, তাই তাঁর বেলুনগুলো একটু ছোট রাখা হয়েছে। জেক প্রথমে ছোড়ার সুযোগ পান, কারণ তাঁর "সাতটি সুপার বোল রিং নেই"।

শুরুর দূরত্বে দুজনেই সহজে বেলুন ফাটান। এরপর লক্ষ্য সরে যায় ২০ গজ দূরে। উপস্থাপকের মতে এই দূরত্ব ব্র্যাডির জন্য একেবারে সাধারণ ব্যাপার হওয়ার কথা, তবু তিনি একবার লক্ষ্য মিস করেন এবং দোষ দেন বৃষ্টির ওপর। এর মধ্যে উপস্থাপক জেকের হাইস্কুল ফুটবল দলকে ডেকে আনেন, যারা "জেক! জেক!" বলে উৎসাহ দিতে থাকে। স্কোর একসময় সমান হয়। পরে এক পর্যায়ে ব্র্যাডি জয় থেকে মাত্র একটি বেলুন দূরে ছিলেন, অর্থাৎ আর একটি ফাটালেই টাকা দাতব্যে চলে যেত।

শেষ ধাপে দূরত্ব ৫০ গজ। ব্র্যাডির প্রতিক্রিয়া ছিল, "এটা অনেক লম্বা পথ, জিমি।" ধারাভাষ্যে বলা হয়, সবচেয়ে চাপ সামলাতে পারা কোয়ার্টারব্যাক শেষ রাউন্ডটা সহজে পার করবেন বলে মনে হলেও ৫০ গজ দূরের লক্ষ্যে নিখুঁত থ্রো কোনো স্তরের খেলোয়াড়ের জন্যই সহজ ছিল না। জেক একটি ভালো থ্রো করেন, ব্র্যাডিও ধীরে ধীরে লক্ষ্যের কাছাকাছি আসতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত জেকই নির্ণায়ক বেলুনটি ফাটান। উপস্থাপকের ভাষায়, নিজের হাইস্কুলের সামনে টম ব্র্যাডিকে হারিয়ে তিনি ১ লাখ ডলার জিতে নেন।

নোয়া লাইলস বনাম জোনাহ: আগে দৌড় শুরুর সুবিধা, কিন্তু দাম দিয়ে

দ্বিতীয় লড়াই স্প্রিন্টে। উপস্থাপক নোয়া লাইলসকে পরিচয় করান তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী এবং বর্তমানে পৃথিবীর দ্রুততম মানুষ হিসেবে। তাঁর প্রতিপক্ষ উপস্থাপকের বন্ধু জোনাহ। উপস্থাপক বলেন, জোনাহর জেতার সম্ভাবনা প্রায় নেই, তাই তাঁকে একটি সুবিধা দেওয়া হবে।

দৌড় ২০০ মিটারের। জোনাহ চাইলে আগে থেকে এগিয়ে দাঁড়াতে পারেন, কিন্তু প্রতি ১০ মিটার এগিয়ে থাকার জন্য পুরস্কার থেকে ১০,০০০ ডলার কেটে নেওয়া হবে। প্রথমে ১০ মিটার এগিয়ে থেকে একটি পরীক্ষামূলক দৌড় হয়, আর জোনাহ পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই পিছিয়ে পড়েন। ৮০,০০০ ডলারের বিকল্প, অর্থাৎ ২০ মিটার এগিয়ে থাকার ব্যবস্থাও কাজে আসে না। উপস্থাপক পরামর্শ দেন, সত্যিই জিততে চাইলে জোনাহর আরও বেশি এগিয়ে শুরু করা উচিত, কারণ ৪০ হাজার ডলারও ভালো অঙ্ক, তা দিয়ে নতুন গাড়ি কেনা যায়। শেষে ঠিক হয় জোনাহ ৬০ মিটার এগিয়ে থেকে শুরু করবেন এবং জিতলে পাবেন ৪০,০০০ ডলার।

নোয়া বলেন, জোনাহ তাঁর চেয়ে প্রায় অর্ধেক ফুটবল মাঠ এগিয়ে আছেন, তাই দৌড়টা বেশিরভাগ মানুষ যা ভাবছেন তার চেয়ে কাছাকাছি হতে পারে। তাঁর আরেকটি ধারণা ছিল, শেষ হওয়ার আগেই জোনাহর পায়ে ক্র্যাম্প ধরবে। দৌড় শুরু হলে জোনাহ প্রাণপণে ছুটতে থাকেন এবং চিৎকার করে বলেন যে নোয়া তাঁকে ধরে ফেলছেন। নোয়া তাঁকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে দেন এবং প্রায় জগিং করতে করতে ফিনিশ লাইন পার হন। উপস্থাপকের মন্তব্য ছিল, লড়াইটা কাছাকাছিও ছিল না, যেন চিতার সঙ্গে দৌড়। জোনাহ ক্লান্ত হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েন। নোয়া জেতায় টাকা তাঁর পছন্দের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে যায়।

ব্রাইস হার্পার বনাম বিগ জাস্টিস: অর্ধেক দূরত্বের বেড়া

তৃতীয় লড়াই বেসবলের হোম রান ডার্বি। উপস্থাপক শিশু বিগ জাস্টিসকে মজা করে "গ্রহের সবচেয়ে বড় হিটার" বলে পরিচয় করান। তাঁর প্রতিপক্ষ ব্রাইস হার্পার, যাঁর পরিচয় দেওয়া হয় এভাবে: হল অফ ফেম মানের ব্যাটিং শক্তি, ৩০০-র বেশি হোম রান, দুটি এমভিপি খেতাব, আটবার অল-স্টার এবং একটি হোম রান ডার্বি চ্যাম্পিয়নশিপ। বিগ জাস্টিস আকারে হার্পারের অর্ধেক, তাই তাঁর বেড়াও অর্ধেক দূরত্বে রাখা হয়েছে। দুজনেই দশবার করে ব্যাট ঘোরাবেন।

বাজি শুনে বিগ জাস্টিস প্রথমে বলেন, তাহলে তিনি চান হার্পারই জিতুক, কারণ টাকা দাতব্যে যাবে। উপস্থাপক তখন জানান যে দুজনকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, আর বিগ জাস্টিসকে মনে করিয়ে দেন টাকা দিয়ে কী কী পোকেমন কার্ড কেনা যায়।

হার্পার প্রথমে ব্যাট করেন। শুরুতে কিছু শট বেড়ার আগেই পড়ে যায় বা দেয়ালে লাগে, তাই এক সময় তাঁর স্কোর ছিল তিন সুইংয়ে একটি হোম রান। পরে তিনি একটি বল ছোট লিগের মাঠ, এমনকি স্টেডিয়ামেরও বাইরে পাঠান। উপস্থাপক রসিকতা করেন যে হার্পারের জন্য আরও বড় স্টেডিয়াম বানাতে হবে। শেষ পর্যন্ত হার্পার দশ সুইংয়ে চারটি হোম রান করেন এবং জানান তিনি ক্লান্ত। জিততে হলে বিগ জাস্টিসের দরকার পাঁচটি।

বিগ জাস্টিস প্রথম সুইংয়েই হোম রান মারেন। এরপর কয়েকটি শট অল্পের জন্য ফসকে যায়, আর পাঁচ সুইংয়ে তাঁর স্কোর দাঁড়ায় তিন। তারপর ছয় ও সাত সুইংয়েও স্কোর তিনেই আটকে থাকে। এ সময় তাঁর বাবাকে ছেলের উদ্দেশে কিছু বলতে বলা হয়, এবং এর পরের সুইংয়েই চতুর্থ হোম রান আসে। হার্পার জানান, তিনি গোপনে বিগ জাস্টিসের জন্যই উল্লাস করছিলেন। দুই সুইং বাকি থাকতে উপস্থাপক বলেন, এর একটিও বেড়ার ওপারে গেলে জয় নিশ্চিত। বিগ জাস্টিস ঠিক সেটাই করেন এবং ঘাঁটিগুলো ঘুরে আসেন। কনফেটি ছোড়া হয়, আর তিনি ব্রাইস হার্পারকে হারিয়ে ১ লাখ ডলার জিতে নেন।

ব্রাইসন ডিশ্যাম্বো বনাম অ্যারন: ৫০ গুণ বড় গর্ত

চতুর্থ লড়াই গলফে। একদিকে দুইবারের মেজর চ্যাম্পিয়ন ব্রাইসন ডিশ্যাম্বো, অন্যদিকে অপেশাদার গলফার অ্যারন। অ্যারনের গর্ত ব্রাইসনের গর্তের চেয়ে ৫০ গুণ বড়, এত বড় যে উপস্থাপক বলেন তিনি নিজেই সেখানে ঢুকে যেতে পারবেন। গর্ত ৩৩০ গজ দূরে। কয়টি শটে বল গর্তে যাবে জানতে চাইলে ব্রাইসন বলেন চারটি, হয়তো তিনটি। তিনি এটাও বলেন যে প্রথম শটেই পুরো পথ পেরিয়ে সরাসরি বল গর্তে ফেলার চেষ্টা করবেন, কোনো পাট ছাড়াই। এটা কীভাবে সম্ভব, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন "জেনেটিক্স"।

অ্যারনের প্রথম শট মোটামুটি ভালো হয়, এবং বল পানিতে না পড়ায় ব্রাইসন নিজেই তাঁর প্রশংসা করেন। ব্রাইসনের প্রথম শট অনেক দূরে যায়, কিন্তু ভুল দিকে। নিজের শটকে তিনি দশে "ভালো না" বলে মূল্যায়ন করেন। খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় বল পানিতে পড়েছে। ধারাভাষ্যে বলা হয়, ব্রাইসন বেশি দূরে মারতে পারেন মানেই তা সবসময় সুবিধা নয়। নিয়ম অনুযায়ী বল মাঠে রাখার পর সেটা তাঁর দ্বিতীয় স্ট্রোক হিসেবে গণ্য হয়। এরপর অ্যারনের দ্বিতীয় শট গিয়ে পড়ে ঠিক ব্রাইসনের বলের পাশে। দুজনেই অবাক হন, আর অ্যারন বলেন তাঁদের দুজনের খেলার মান বিবেচনা করলে এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

খেলা এরপর উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অ্যারনের এক পাট ঘাসে আটকে যায়, যা উপস্থাপকের মতে তাঁর দেখা সবচেয়ে বিব্রতকর দৃশ্যগুলোর একটি। অন্যদিকে ব্রাইসনও একটি সহজ সুযোগ ফসকান। তাঁকে উৎসাহ দিতে তাঁর স্ত্রীকে আনা হয়, যিনি ঝোপের আড়াল থেকে খেলা দেখছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্কোর সমান হয়ে যায় এবং টাই-ব্রেকার শুরু হয়। টাই-ব্রেকারে ব্রাইসনের একটি জোরালো শট আবার পানিতে পড়ে, আর তিনি জানান তাঁর স্ত্রী হাসছেন, যা ব্যাপারটাকে আরও কষ্টদায়ক করে তুলছে। অ্যারনের একটি শটও পানিতে যায়। ব্রাইসনের একটি পাট গর্তের কিনারা ছুঁয়ে বেরিয়ে আসে। অ্যারন বলেন, তিনি গলফে খারাপ, তবু এই লোকটাকে কিছুতেই পেছনে ফেলতে পারছেন না।

শেষ সুইংয়ের পর অ্যারন বলেন, এটা ছিল আনন্দ ও সম্মানের ব্যাপার। উপস্থাপক এরপর তাঁকে মন ভালো করার মতো কিছু শোনাতে চান। ট্রান্সক্রিপ্টে চূড়ান্ত ফল স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তবে এই কথোপকথন থেকে মনে হয় টাই-ব্রেকারে ব্রাইসনই জিতেছিলেন।

নোয়া লাইলস বনাম IShowSpeed: ৫০ মিটারের পুনর্ম্যাচ

রোনালদোর পর্বের আগে উপস্থাপক নোয়া লাইলসকে হারানোর আরেকটি সুযোগ তৈরি করেন। এবারের প্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্রিমার IShowSpeed। ফোন পেয়ে Speed জানান, তিনি এখনই স্ট্রিম শেষ করে গাড়ি চালিয়ে চলে আসবেন, এবং সত্যিই তিনি হাজির হন। উপস্থাপক তাঁকে পরিচয় করান "সম্ভবত পৃথিবীর দ্রুততম কনটেন্ট ক্রিয়েটর" হিসেবে। Speed দাবি করেন তিনি নোয়ার খেতাব কেড়ে নেবেন। নোয়া পাল্টা বলেন, অলিম্পিকে সবাই এমনটাই বলেছিল, আর দ্বিতীয় ধাপের পরেই Speed সব আশা হারিয়ে দৌড় থামিয়ে দিতে চাইবেন।

দৌড় হয় ৫০ মিটারের। নোয়া জিতলে তাঁর দাতব্য প্রতিষ্ঠান আরও ১ লাখ ডলার পাবে, আর Speed জিতলে তাঁর একজন ভক্তকে ১ লাখ ডলার দেওয়া হবে। শুরুতে Speed এগিয়ে যান এবং ধারাভাষ্যে বলা হয় তিনি সত্যিই জিততে পারেন। ফিনিশ এত কাছাকাছি হয় যে উপস্থিত সবাই একে টাই বলতে থাকেন, এবং আল্ট্রা স্লো-মোশন ক্যামেরায় রিপ্লে দেখা হয়। Speed তখনও দাবি করেন যে এটা টাই ছিল, এবং প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তাঁর গায়ে ফিনিশিং টেপ কেন। উপস্থাপকের জবাব ছিল, ঘামে তিনি আঠালো হয়ে আছেন।

এরপর কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ডলার দান করা হবে, সেই প্রশ্ন করা হয় নোয়াকে। তিনি বলেন, টাকাটা Speed-কে দিতে পারলে ভালো লাগত, কিন্তু যে শিশুদের জন্য তিনি কাজ করেন তাদের প্রয়োজন আরও বেশি। স্পষ্ট ঘোষণা না থাকলেও এই কথোপকথন থেকে বোঝা যায় রিপ্লের পর ফল নোয়ার পক্ষেই গিয়েছিল।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বনাম খালিদ: ১০ লাখ ডলারের শুটআউট

শেষ ও সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে ভক্ত খালিদ মুখোমুখি হন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর, যাঁকে উপস্থাপক এই চ্যানেলে আসা সবচেয়ে বড় অতিথি বলে উল্লেখ করেন। খালিদ ভাগ্যের শার্ট হিসেবে MrBeast-এর ছবিওয়ালা একটি শার্ট পরে আসেন। রোনালদোর সামনে তিনি এতটাই নার্ভাস ছিলেন যে কথা বলতে গিয়ে তোতলাচ্ছিলেন। নিয়ম সহজ: দুজনে পালা করে লক্ষ্যবস্তুতে শট নেবেন, আর যিনি আগে তিনটি লক্ষ্য ভেদ করবেন তিনি জিতবেন। খালিদ জিতলে পাবেন ১০ লাখ ডলার। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে খালিদ বলেন, সত্যি বলতে তাঁর মনে হয় সুযোগ ফিফটি-ফিফটি। রোনালদো জানান, খালিদের এই আত্মবিশ্বাস তাঁর পছন্দ হয়েছে।

প্রথম রাউন্ডে দুজনেই মিস করেন। এরপর খালিদ লক্ষ্য ভেদ করে এগিয়ে যান। রোনালদো জবাব দেন, "শুধু অপেক্ষা করো।" পরের পালায় রোনালদোর শট অল্পের জন্য ফসকে যায়, ফলে সমতায় ফেরার সুযোগও তিনি হারান। এরপর একটি মজার মুহূর্ত আসে: খালিদের বলটিতে রোনালদো নিজে "আশীর্বাদ" দেন। খালিদ তখন মন্তব্য করেন, রোনালদো বোধহয় চান তিনি ১০ লাখ ডলার জিতুন। সেই বলে খালিদ দ্বিতীয় লক্ষ্যটিও ভেদ করেন এবং রোনালদোর বিখ্যাত "সিউউউ" উদযাপনটি করেন।

খালিদ এখন দুই পয়েন্টে এগিয়ে। ধারাভাষ্য অনুযায়ী, রোনালদোর জেতার একমাত্র উপায় ছিল খালিদ আর একটি লক্ষ্য ভেদ করার আগেই পরপর তিনটি ভেদ করা। পরের তিনটি ভেদ করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে রোনালদো সরাসরি বলেন, "না", তিনি আত্মবিশ্বাসী নন। উপস্থাপক একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য সূচনা বলে নাটকীয়তা বাড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত খালিদই তৃতীয় লক্ষ্য ভেদ করেন। উপস্থাপক বলেন তিনি খালিদের জন্য গর্বিত এবং তাঁর হাতে ১০ লাখ ডলার তুলে দেন। ভিডিওর শেষ দৃশ্যে রোনালদোকে দর্শকদের সাবস্ক্রাইব করতে বলার অনুরোধ করা হয়। রোনালদো বলেন, যাঁরা ক্রিশ্চিয়ানোকে অনুসরণ করেন তাঁদের সবার MrBeast-এ সাবস্ক্রাইব করা উচিত।

ফলাফল

ছয়টি লড়াইয়ের মধ্যে তিনটিতে সাধারণ মানুষ জিতেছেন। হাইস্কুলের কোয়ার্টারব্যাক জেক টম ব্র্যাডিকে, শিশু বিগ জাস্টিস ব্রাইস হার্পারকে, আর ভক্ত খালিদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে হারিয়েছেন। অন্য তিনটিতে পেশাদাররা এগিয়ে ছিলেন। নোয়া লাইলস জোনাহর ৬০ মিটারের সুবিধা সত্ত্বেও সহজে জিতেছেন, IShowSpeed-এর বিপক্ষে প্রায় টাই হওয়া দৌড়েও ফল তাঁর পক্ষে গেছে বলে মনে হয়, এবং গলফে ব্রাইসন ডিশ্যাম্বো সম্ভবত টাই-ব্রেকারে জয়ী হয়েছেন। ভিডিওটি দেখায় যে বড় সুবিধা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে, যেমন বিশ্বের দ্রুততম মানুষের বিপক্ষে দৌড়ে, ব্যবধান ঘোচানো যায় না। আবার কখনো চাপ, আবহাওয়া আর ভাগ্য মিলে পেশাদারদেরও হারিয়ে দেয়, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ১০ লাখ ডলারের শুটআউটে খালিদের জয়।