১০০ ঘণ্টায় প্রাচীন মায়া মন্দির, পবিত্র গুহা আর কুকুলকান: জিমি ও তার দলের অভিযান

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে জিমি (মিস্টারবিস্ট) এবং তার বন্ধুরা মেক্সিকোর জঙ্গলে থাকা প্রাচীন মায়া মন্দির, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও গুহা ঘুরে দেখেন। তাদের হাতে সময় ছিল মাত্র ১০০ ঘণ্টা। প্রশ্ন ছিল, মায়ানরা এসব স্থাপনার ভেতরে কী লুকিয়ে রেখেছিল। শেষ গন্তব্য ছিল কুকুলকানের মন্দির, যাকে ভিডিওতে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অভিযানে গাইডের ব্যাখ্যা, ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণের ছবি আর বন্ধুদের হাসিঠাট্টা পাশাপাশি চলে। জিমির দাবি অনুযায়ী, তারা এমন কিছু জায়গায় গিয়েছিলেন যেখানে সাধারণত কাউকে যেতে দেওয়া হয় না।

10 মিনিটে পড়া

জঙ্গলের মাঝে দুই হাজার বছরের পুরনো মন্দিরে নামা

অভিযান শুরু হয় জঙ্গলে ঘেরা একটি প্রাচীন মন্দিরের চূড়ায় নামার মধ্য দিয়ে। ভিডিওতে মন্দিরটিকে দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো বলা হয়। শুরুতেই জিমি জানান, তারা কয়েক ডজন মন্দির ঘুরে দেখবেন এবং মাটির গভীরে লুকানো মায়ানদের রহস্য খুঁজবেন। বিশাল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় তিনি মজা করে বলেন, তিনি একটা এসকেলেটর খুঁজছেন।

মন্দিরে ঢোকার পথ একটি গভীর, সরু সুড়ঙ্গ। একজন সঙ্গী সাবধান করে দেন যে ভেতরে বুবি ট্র্যাপ থাকতে পারে। ভেতরে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি বিশাল মূর্তি। গাইডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটিকে জাগুয়ারের মুখের ভেতরে বসা ভুট্টার দেবতা বলে মনে করা হয়। এরপর জিমি খেলাচ্ছলে মূর্তির বিভিন্ন অংশের অর্থ আন্দাজ করতে থাকেন। একটি অংশকে তিনি টয়লেট বলেছিলেন। গাইড জানান, সেটি আসলে দেবতার কানের দুল।

পিরামিডের ভেতরে পিরামিড, আর হাজার বছরের পুরনো মুখোশ

গাইড ব্যাখ্যা করেন, এই স্থাপনাটি আসলে একটি পিরামিডের ওপর তৈরি আরেকটি পিরামিড। তাই যত গভীরে ঢোকা যায়, জিনিসগুলো তত পুরনো হয়। দল একটি অন্ধকার, সংকীর্ণ পথ ধরে এগোয়। জিমি বারবার অবাক হয়ে বলেন, সরকার তাদের এখানে ঢুকতে দিচ্ছে, এটা তার বিশ্বাসই হচ্ছে না। তাদের ভাষ্যে, প্রত্নতাত্ত্বিকদেরও এই অংশে ফিরে যেতে দেওয়া হয় না।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোরার পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে গাইড একটি চমক দেখান। সেটি একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মুখোশ, যা ভিডিওর বর্ণনায় গত দুই দশকের মধ্যে পাওয়া গেছে। গাইডের মতে, এটি "সাপের রাজ্যের" এক রাজার মুখ। মায়ানরা এ ধরনের মুখোশ ব্যবহার করত পাতালে যাওয়ার পথে মৃত ব্যক্তিকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে। মুখোশটি এক হাজার বছরেরও বেশি আগে তৈরি বলে জানানো হয়।

জিমি মুখোশটি হাতে নেওয়ার অনুমতি পান, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তিতে পড়েন। তার প্রশ্ন ছিল, এটা জাদুঘরে না থেকে একজন ইউটিউবারের হাতে কেন। তিনি দ্রুত মুখোশটি ফিরিয়ে দিতে বলেন। তারপর রসিকতা করেন যে কাউকে বলবেন না, মাত্র "২০ কোটি" মানুষকে দেখাবেন।

এক লক্ষ মানুষের পরিত্যক্ত শহর

প্রথম মন্দিরটি ছিল একটি বিশাল পরিত্যক্ত শহরের অংশ, যেখানে আরও অনেক মন্দির আছে। জঙ্গলটিকে বানর আর সাপে ভরা বলে বর্ণনা করা হয়। জিমি জানান, এখানে জাগুয়ারের আক্রমণে মানুষও মারা গেছে। রাতে দল হ্যামকে ক্যাম্প করে। জিমি বলেন, এখনও এক ডজনেরও বেশি মন্দির দেখা বাকি।

পরদিন সকালে তারা শহরের বাকি অংশ ঘোরেন। বর্তমানের ধ্বংসাবশেষ দেখে শহরটি কেমন ছিল তা কল্পনা করা কঠিন। তাই ভিডিওতে পুনর্নির্মিত ছবি দেখানো হয়। বলা হয়, এই শহরে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস করত, সর্বত্র মন্দির ছিল এবং পুরো এলাকা সমৃদ্ধ ছিল। রাস্তার চেহারা সম্পর্কেও "তারা মনে করে" বলে একটি অনুমান দেখানো হয়।

মন্দিরের ভেতরের দেয়ালচিত্র দেখে জিমি জানান, এ ধরনের ভিডিওতে তার সবচেয়ে প্রিয় অংশ হলো পুরনো ছবিগুলোকে জীবন্ত করে তোলা। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ছবিগুলো কী প্রতিনিধিত্ব করে সে বিষয়ে এগুলো তাদের "সেরা অনুমান" মাত্র। তার মতে, এগুলো ২,৫০০ বছর আগের মায়া জীবনের এক বিরল আভাস। একটি চিত্রকে নোলান লামা ভেবেছিলেন, যা নিয়ে দলে হাসাহাসি হয়। এরপর নোলান তারেককে মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখান।

বল কোর্ট, রাজপ্রাসাদ ও গোলকধাঁধা

দল এরপর দাঁড়ায় এমন একটি জায়গায়, যা দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে বল কোর্ট ছিল। গাইডের ভাষ্যে, "আমরা যতদূর জানি", এটিই ছিল বল দিয়ে খেলা প্রথম দলগত খেলা। তাদের বর্ণনায়, পরাজিত দলের অধিনায়কের মাথা কেটে ফেলা হতো। জিমি মন্তব্য করেন, মায়ানরা আসলেই "পাগল ধরনের" ছিল।

এরপর তারা যান একটি প্রাসাদে। বলা হয়, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এখানে রাজা ও রানি বাস করতেন। পুনর্নির্মিত ছবিতে দেখানো হয়, মানুষ রাজাকে একনজর দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত। জিমির অনুমান, রাজা সম্ভবত প্রাসাদ থেকে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতেন।

প্রাসাদের ভেতরটা গোলকধাঁধার মতো। দলের ব্যাখ্যা ছিল, রাজাকে রক্ষা করতে হলে পথ বিভ্রান্তিকর রাখাই স্বাভাবিক। জিমি গাইড আর্নেস্তোকে জিজ্ঞেস করেন, কেউ কি কখনো একটি পাথরের ব্লক ঠেলে দেখেছে যে পেছনে লুকানো ধন আছে কি না। আর্নেস্তো জানান, তিনি নিজে এমনটা করতেন না। রাজা কোনো গুপ্তধনের ঘর বানাননি কি না, এই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল অস্পষ্ট: "হয়তো, কিন্তু এটা লুকিয়ে আছে।"

বাদুড়ের গুহা ও মশালের রাত

রাজার গুপ্তধনের আশায় দল জঙ্গলের গভীরে একটি গুহায় যায়। গাইড জানান, মায়ানরা এমন গুহাকে পৃথিবীর দানবের মুখ বলে ভাবত। কিন্তু ভেতরে তারা ধনের বদলে পান হাজার হাজার বাদুড়। বাদুড়গুলো মাথার ঠিক পেছন দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। জিমি একে "বাদুড়ের টর্নেডো" বলেন। কেউ মজা করে বলেন, এখানে ধন থাকলেও তা বাদুড়ের মলে ঢাকা পড়বে। শেষ পর্যন্ত কোনো ধন না পেয়ে তারা দ্রুত বেরিয়ে আসেন।

তখন বাইরে অন্ধকার হয়ে গেছে। তবু আরেকটি মন্দিরে ধন থাকতে পারে, এই আশায় তারা মশাল জ্বালিয়ে রাতের অভিযানে বের হন। কিন্তু পথগুলো একের পর এক অচল অবস্থায় শেষ হয়। ওপর থেকে একটি প্রাণীর শব্দে সবাই চমকে ওঠেন। সেটি বানর না জাগুয়ার, তা নিয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। রাত শেষে জিমি ঘোষণা দেন, সকালে একটি বড় চমক অপেক্ষা করছে।

নতুন অঞ্চল: পাতালের প্রবেশদ্বার

সকালে জানা যায়, কয়েক ডজন মন্দিরের শহরটি পুরো ভিডিও ছিল না। দল হেলিকপ্টারে করে আরেকটি এলাকায় যায়। জিমির ভাষায়, সেখানে মানবজাতির তৈরি কিছু অদ্ভুত প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ আছে।

প্রথমে তারা একটি স্থাপনা দেখেন, যাকে মায়ানরা পাতালের প্রবেশদ্বার বলত। একসময় এর গায়ে বিশাল দাঁত ছিল, যা পরে পড়ে গেছে। কাছাকাছি একটি ভবন দেখে জিমি আন্দাজ করেন এটি বলিদানের মন্দির ছিল। গাইড তা সমর্থন করেন, আর জিমি খুশি হয়ে বলেন, এবার অন্তত একটা কিছু ঠিক বলেছেন।

জীবনবৃক্ষের গুহা ও অনুমতির অনুষ্ঠান

তবে গাইড আসলে যা দেখাতে চেয়েছিলেন, তা হলো একটি গুহা। গাইডের ব্যাখ্যায়, মায়ানরা বিশ্বাস করত মানবজাতির উৎপত্তি এই গুহা থেকে। গুহার গভীরে আছে তাদের ভাষায় জীবনবৃক্ষ, এক মহিমান্বিত গাছ, যা থেকে সব মানুষের জন্ম হয়েছে বলে তারা মনে করত।

জায়গাটি এত পবিত্র যে ভেতরে ঢোকার আগে গুহার আত্মাদের কাছে অনুমতি চাওয়ার একটি অনুষ্ঠান করা হয়। এই রীতি পালন করেন একজন আলাদা ব্যক্তি, যিনি প্রথমে গুহার প্রবেশপথ পরিষ্কার করেন। জিমি মজা করে বাজি ধরেন যে আত্মারা নোলানকে প্রত্যাখ্যান করবে। অনুষ্ঠান শেষে জানানো হয়, আত্মারা কাউকে প্রত্যাখ্যান করেনি।

গুহার যত গভীরে যাওয়া হয়, গরম তত বাড়ে। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতাসও পাতলা হতে থাকে আর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। জিমি জানান, মায়ানরা চায়নি এই অংশ কেউ দেখুক, এবং তারা আক্ষরিক অর্থেই এটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

শেষে একটি কক্ষে পৌঁছে দেখা যায় "জীবনবৃক্ষ" আসলে গাছ নয়। জিমি অবাক হয়ে জানতে চান, তিনিই কি একমাত্র যিনি এটাকে সত্যিকারের গাছ ভেবেছিলেন। গাইড একে পবিত্র সেইবা বলে পরিচয় দেন, যা মায়া বিশ্বাসে আকাশকে ধরে রাখে। চারপাশে থাকা পাত্রগুলো মায়ানদেরই তৈরি। গাইডের ব্যাখ্যায়, এগুলোতে ধূপ পুড়িয়ে দেবতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতো। জিমি বলেন, মানুষ যদি সত্যিই বিশ্বাস করত যে তারা এখান থেকে এসেছে, তাহলে জায়গাটিকে এত পবিত্র মনে করার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন।

অক্সিজেন ট্যাঙ্ক নিয়ে আরও গভীরে

এর পরের অংশকে জিমি সত্যিকারের বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেন। সেখানে শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন ট্যাঙ্ক লাগবে। তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেন, কেন তিনি ভিডিওতে এমন কিছু করেন যা তাকে মেরে ফেলতে পারে। কত গভীরে যেতে হবে জানতে চাইলে উত্তর আসে, প্রায় দুটি ফুটবল মাঠের সমান।

পথে নোলানের মাথা ঘুরতে শুরু করে। তিনি নিজেকে ঠিক আছেন বললেও তাকে জোর করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। গাইড সেখানে প্রাচীন মৃৎপাত্রের টুকরো দেখান। নোলান একটা টুকরো বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন কি না জিজ্ঞেস করলে গাইড জানান, তাহলে তাকে জেলে যেতে হবে।

এই গম্ভীর পরিবেশেও দলের ঠাট্টা থামেনি। নোলান সুড়ঙ্গে লুকিয়ে বাকিদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। একজন জানতে চান, বাদুড় কি মানুষকে কামড়ায়। শেষ প্রান্তের কাছে জিমিকে সতর্ক করা হয় যে তার পেছনে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাকড়সা"। সেটি দেখে দল আন্দাজ করে, মাকড়সাটা হয়তো কিছু একটা পাহারা দিচ্ছে। তারা আর এগোননি, সুড়ঙ্গের শেষটা অজানাই থেকে যায়। বেরিয়ে এসে একজন স্বীকার করেন, আতঙ্কে তিনি প্রায় অক্সিজেন ট্যাঙ্কটা ছুঁড়ে মারছিলেন।

পিটজ খেলা ও সেনোটে বিশ্রাম

চতুর্থ দিনে জিমি জানতে চান মায়ানরা বিনোদনের জন্য কী করত। তাই দল নিজেরাই পিটজ খেলায় নামে। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, মায়ানরা ৩,০০০ বছরেরও বেশি আগে খেলাটি আবিষ্কার করেছিল। এতে বাস্কেটবলের চেয়েও ছোট একটি রিংয়ের ভেতর দিয়ে বল পাঠিয়ে গোল করতে হয়। তবে ফুটবলের মতো হাত ব্যবহার করা যায় না। এখানে আবার মনে করিয়ে দেওয়া হয় আগের দাবিটি: পরাজিত অধিনায়কের মাথা কাটা যেত।

বল নিয়ন্ত্রণে কিছুটা উন্নতি হলেও গোল করা ছিল অনেক দূরের ব্যাপার। জিমি ক্যামেরাম্যানদেরও সাহায্যের জন্য ডাকেন, তাতেও লাভ হয়নি। একের পর এক ব্যর্থতার পর জিমি স্বীকার করেন, তারা হয়তো কখনো গোলই করতে পারবেন না। শেষে ঘোষণা করা হয় যে নোলান হেরেছেন, তবে কারও মাথা কাটা হয়নি।

এরপর দল একটি সিঙ্কহোলের প্রাকৃতিক জলাধারে, অর্থাৎ সেনোটেতে নেমে সাঁতার কাটে। জিমির অনুমান, এমন নিষ্ঠুর খেলার পর বেঁচে থাকা খেলোয়াড়রা হয়তো এভাবেই উদযাপন করত। একজন পানিকে "সতেজ" বললেও নামার পর অন্যরা বুঝতে পারেন পানি আসলে খুব ঠান্ডা।

শেষ রাতে দলকে মায়ান ধাঁচের খাবার পরিবেশন করা হয়। বলা হয়, এগুলো হাজার বছরেরও বেশি আগে মায়ানদের খাওয়া খাবারের মতো। জিমি মনে করিয়ে দেন, মায়ানরা ভুট্টার দেবতার পূজা করত আর টর্টিলার প্রধান উপাদান ভুট্টা। তারপর তিনি সম্পাদককে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, মায়ানরা কি টাকো আবিষ্কার করেছিল। এর কোনো উত্তর ভিডিওতে দেওয়া হয়নি।

কুকুলকানের মন্দির: হাততালির প্রতিধ্বনি আর খালি কক্ষ

অভিযানের শেষ ঘণ্টাগুলোতে দল পৌঁছায় কুকুলকানের মন্দিরে। ভিডিওর বর্ণনায়, এটি সপ্তাশ্চর্যের মর্যাদা পেয়েছে আংশিকভাবে এর বিশাল আকারের জন্য, আর আংশিকভাবে এর শব্দের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের জন্য। বলা হয়, মায়ানরা এটি এমনভাবে বানিয়েছিল যে সামনে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে লেজারের মতো একটি শব্দ ফিরে আসে। ভিডিওতে সেটি করে দেখানোও হয়।

তবে দলের আসল লক্ষ্য ছিল পিরামিডের চূড়ার মন্দিরটি। ভিডিওর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এত পবিত্র যে সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। জিমি জানান, সংস্কৃতি এবং যারা স্থানটিকে পবিত্র মনে করেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে তারা মন্দিরে হাত দেবেন না। বদলে তারা একটি ড্রোন উড়িয়ে ভেতরের কক্ষ দেখার চেষ্টা করেন।

ড্রোনের ক্যামেরায় দেখা যায়, কক্ষটি খালি। ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়, পাঁচশো বছর আগে স্প্যানিশরা এখানে এসে ভেতরের অনেক জিনিস নিয়ে গিয়েছিল। এরপর ইতিহাসবিদদের অনুমানের ভিত্তিতে একটি পুনর্নির্মাণ দেখানো হয়, যেখানে সবকিছু সরিয়ে নেওয়ার আগে মন্দিরটি কেমন ছিল তার ছবি আছে।

অভিযানের শেষে জিমি স্বীকার করেন, তারা কোনো সোনা বা গুপ্তধন পাননি। তবু এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভগুলো দেখতে পারা এবং দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। রাজার লুকানো ধনভান্ডার, বাদুড়ের গুহায় কিছু আছে কি না, মাকড়সা-পাহারা দেওয়া সুড়ঙ্গের শেষে কী আছে, এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর ভিডিওতে মেলেনি।