সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকাকে ৩০ দিন শিকলে বাঁধা: $২৫০,০০০-এর চ্যালেঞ্জে সুজি ও জোশের সম্পর্ক কোথায় গড়াল

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মিস্টারবিস্ট (জিমি) এই ভিডিওতে দুজন মানুষকে একসঙ্গে হাতকড়া পরিয়ে দেন। সুজি আর জোশ চার বছর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন, তিন বছর আগে সুজি সম্পর্কটি ভেঙে দেন। শর্ত হলো, তাঁরা ৩০ দিন শিকলে বাঁধা থাকতে পারলে $২৫০,০০০ পাবেন। ভিডিওর মূল প্রশ্ন দুটি। প্রতিনিয়ত ছোট হতে থাকা শিকল কি দুজনকে কাছে আনবে, নাকি আলাদা করে দেবে? আর শেষে যখন একজনের পক্ষে সব টাকা একা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তখন কে কী করবেন?

16 মিনিটে পড়া

নিয়ম এবং শুরুর দিন

হাতকড়া পরানোর আগে জিমি জানান, তিনি কাউকে বাধ্য করছেন না। তবে একবার হাতকড়া পরলে চ্যালেঞ্জ শুরু হয়ে যাবে। নিয়ম ছিল এরকম: কেউ মেঝের লাল লাইন পেরিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিতে চাইলে দুজনের হাতকড়াই সঙ্গে সঙ্গে খুলে দেওয়া হবে, ভিডিও সেখানেই শেষ, আর কেউ কিছুই পাবেন না। হাতকড়া কোনো সময় খুলে ফেললেও ভিডিও শেষ।

ঘরটিকে জিমি পরের ৩০ দিনের "সুখের বাড়ি" বলে দেখান। সেখানে রান্নাঘর, ব্যায়ামের জায়গা আর দুটি আলাদা বিছানা ছিল। একটি দরজায় প্রশ্নচিহ্ন আঁকা, যার রহস্য পরে খোলার কথা। বাথরুমের ব্যবস্থাটা ছিল এমন: শিকল দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে একজন ভেতরে যাবেন, অন্যজন বাইরে থাকবেন। শাওয়ারের সময়ও হাতকড়া খোলা যাবে না। ভিডিওতে জানানো হয়, সুজি এর আগে এক সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ১০০ দিন একটি ঘরে কাটানোর চ্যালেঞ্জ করেছেন। এবার সঙ্গী এমন একজন, যাঁকে তিনি "একটু বেশি" চেনেন।

প্রথম দিকে সুজি একা ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেন যে তিনি নার্ভাস। চার বছরের সম্পর্ক, তিন বছরের বিচ্ছেদ, আর এখন দুজন এক বাক্সে আটকা। তাঁর মতে, কোনো এক সময় কাউকে কিছু বলতেই হবে।

৬০ ফুটের শিকলে আলাদা জীবন, তারপর প্রথম অফার

শুরুতে শিকলটি ছিল ৬০ ফুট লম্বা। ধারাভাষ্য অনুযায়ী, এত লম্বা শিকলে দুজন কার্যত আলাদা জীবন কাটাতে পারছিলেন, এবং তাঁরা ঠিক সেটাই বেছে নেন। একদিনে সুজি স্বীকার করেন যে তিনি জোশের প্রতি বেশ কঠোর ছিলেন, আর তাঁর মতে জোশের সেটা প্রাপ্য, কারণ সম্পর্কটা জোশই ভেঙেছিল বলে তিনি বলেন। সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার আগে তিনি আরেকটু মানিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। জিমি কয়েকদিন পর বর্ণনা করেন, ঘরের পরিবেশ ছিল প্রায় সারাক্ষণ নীরব।

পঞ্চম দিনে জিমি এসে দেখেন দুজন ঘরের দুই প্রান্তে বসে আছেন। এরপর তিনি প্রথম অফার দেন, যেখানে শিকল যেকোনোভাবেই ছোট হবে। প্রথম বিকল্পে ৫০ ফুট শিকল, অর্থাৎ ১০ ফুট কম, কোনো অতিরিক্ত টাকা নেই। দ্বিতীয় বিকল্পে ৩০ ফুট শিকল, অর্থাৎ অর্ধেক, আর পুরস্কারে যোগ হবে $২৫,০০০। প্রথমে একজন বলেন ৩০ ফুট খুবই ছোট। পরে যুক্তি আসে যে চার বছর তো তাঁরা বিনা পয়সায় কাছাকাছি ছিলেন, এখন একটু কাছে থাকাই যায়। দুজনেই রাজি হন, শিকল অর্ধেক করা হয়।

কিছুক্ষণ তাঁরা বলছিলেন ছোট শিকলে এখনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঝামেলা শুরু হয়। জোশ শাওয়ারে থাকায় সুজি নিজের বিছানা পর্যন্ত যেতে পারছিলেন না। ভোর ৪টায় বাথরুমে যাওয়ার জন্য জোশ সুজিকে ঘুম থেকে তুলে দেন। ঘাম লাগা, একে অন্যকে নকল করে ব্যঙ্গ করা, এসব নিয়ে খোঁচাখুঁচি চলতে থাকে। সুজি মন্তব্য করেন, অপরিচিত কারও সঙ্গে হলে এই চ্যালেঞ্জ সম্ভবত সহজ হতো।

"অসম্মান" নিয়ে বড় ঝগড়া এবং একটি সমঝোতা

এক সকালে একটি মন্তব্য থেকে বড় বিবাদ শুরু হয়। সুজির অভিযোগ, জোশ তাঁকে নিয়ে এমনভাবে মজা করছেন যাতে অন্যরাও তাতে যোগ দেয়। তিনি জোশকে বলেন, তিনি বারবার এমন কথা বলছেন যা সুজিকে লজ্জায় ফেলে। কতজন মানুষ তাঁদের দেখছে কে জানে, সেখানে এমন আচরণ তাঁর কাছে অপমানজনক। জোশের দাবি, এগুলো নিছক রসিকতা, এবং সুজি "এটা অসম্মানজনক" কথাটাকেই একটা বিট বানিয়ে ফেলেছেন। সুজি উত্তরে বলেন, তিনি বিট নিয়ে ভাবছেন না, তাঁর সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে ভাবছেন। তর্ক আরও তীব্র হয়। জোশ বলেন, সবকিছু সুজিকে ঘিরেই, সুজি তারকা আর তিনি এক্সেসরি। সুজি বলেন, এটা মোটেও তাঁকে ঘিরে নয়, তাঁরা সমান অংশীদার।

শেষে একটি সমঝোতা হয়। জোশ মেনে নেন যে সুজির অনুভূতি বোঝা যায়। কিন্তু তাঁর মতে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ব্যাপারটাকে "গতকালের" বিষয় বানিয়ে ফেলা, কারণ তিনি ৩০ দিন শেষ করতে চান। দুজনই স্বীকার করেন, আজকের মতো চললে তাঁরা টিকতে পারবেন না, তবু চেষ্টা করা উচিত। একজন বলেন, তাঁরা এখানে আছেন শুধু টিকে থাকতে, টাকা জিততে, আর তারপর আর কখনো কথা না বলতে। "নতুন শুরু?" প্রশ্নের জবাবে অন্যজন রাজি হন।

দশম দিন: আসবাব সরানো এবং বন্ধুত্ব ফেরানো

দশম দিনে জিমি বিনা পুরস্কারে শিকল আরও ১০ ফুট ছোট করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আগেরবার শিকল ছোট হওয়ায় ব্যক্তিগত জায়গা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। সামনে আরও ছোট শিকলের বিনিময়ে টাকার সুযোগ আসবে, তাই একবারের জন্য আসবাবগুলোর বোল্ট খুলে দেওয়া হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত যা খুশি সরানো যাবে, তারপর আবার স্থায়ীভাবে আটকে দেওয়া হবে। সাহায্যকারী দলের সহায়তায় সুজি ও জোশ সব এলাকার আসবাব কাছাকাছি নিয়ে আসেন, বিশেষ করে বাথরুম আর বিছানা এক জায়গায় জড়ো করেন। জিমির বর্ণনায়, শিকল ছোট হলেও আসবাব সরানো তাঁদের মেজাজ ভালো করে দেয়।

ঝগড়া পুরোপুরি থামেনি, তবু ধারাভাষ্য অনুযায়ী শিকল তাঁদের কাছে টানতে শুরু করে এবং তাঁরা আবার বন্ধু হয়ে ওঠেন। একঘেয়েমি কাটাতে তাঁরা খাওয়া শেষের Lunchly-র প্যাকেট দিয়ে দেয়ালে একটি হৃদয় বানান। আপসের উদাহরণও দেখা যায়: জোশ শুয়ে শুয়ে জার্নাল লেখেন, আর সুজি পাশে ট্রেডমিলে হাঁটেন। একজন বলেন, এখান থেকে বেরোতে হলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শেষে দুজন একে অপরকে "বন্ধু" বলে মেনে নেন।

বিচ্ছেদ নিয়ে প্রথম সৎ আলাপ

বন্ধুত্ব ফেরার পর জোশ জানতে চান, সম্পর্কটা আসলে কেন টেকেনি। আলাপে উঠে আসে যে বিচ্ছেদটা "খারাপ" ছিল না, কিন্তু একজন এমন কিছু চাইছিলেন যা অন্যজনের সঙ্গে মেলে না। সুজির বারবার মনে হতো, নিজের কী চাই তা তাঁকে সবসময় জোশকে বুঝিয়ে বলতে হচ্ছে। আবার কখনো সম্পর্কে ফেরার কথা ভাবলে তিনি চাইবেন সেটা আগের থেকে একেবারে আলাদা হোক।

বিচ্ছেদের পর কী করেছিলেন, এই প্রশ্নে দুজনই বলেন তাঁরা কেঁদেছিলেন আর খুব একা বোধ করেছিলেন। জোশ জানান, সুজিকে ফলো না করলেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল তিনি কখনো ভোলেননি, প্রতি দুই সপ্তাহে একবার খুঁজে দেখতেন। এতদিন একসঙ্গে থাকার পর কারও জীবন তৃতীয় ব্যক্তির চোখে দেখাটা তাঁর কাছে অদ্ভুত লাগত, মনে হতো হৃদয় দুই টুকরো হয়ে গেছে। সুজি বলেন, সম্পর্ক ভাঙার সময়ও তিনি জোশকে ভালোবাসতেন এবং কখনোই ভাঙতে চাননি। জোশ বলেন, তিনি কখনো সুজিকে পুরোপুরি ভালোবাসা বন্ধ করেননি।

সুজি পরে একা বলেন, এই চ্যালেঞ্জ তাঁকে জোশকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে, অভিজ্ঞতাটা চোখ খুলে দেওয়ার মতো। তবে তিনি নিজেই সতর্ক করেন যে এই ঘরে যা ঘটে তা বাস্তব জীবনের ভালো প্রতিফলন নয়।

বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ১৫তম দিনের অফার

সম্পর্কে অগ্রগতি হলেও বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্নতা জোশকে ভোগাতে শুরু করে। তিনি বলেন, এখানে থাকার জন্য পুরো জীবন ছেড়ে এসেছেন, দুই সপ্তাহ বাইরে যাননি, তাঁর পুরো জীবন বাইরে পড়ে আছে। তিনি জানান, মানসিকভাবে ভালো বোধ করছেন না।

১৫তম দিনে জিমি একটি উঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে তাঁদের জায়গা দ্বিগুণ হবে এবং যখন খুশি বাইরে যাওয়া যাবে। শর্ত হলো শিকল নেমে আসবে ১০ ফুটে। জোশ বাইরে যেতে চাইছিলেন, সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখার কথাও বলেন। অন্য পক্ষের যুক্তি ছিল, শুধু বাইরে যাওয়ার জন্য অর্ধেক শিকল হারানো মূল্যবান নয়, তাহলে সারাক্ষণ গা ঘেঁষে থাকতে হবে, আর সূর্যের আলো ছাড়াও চালিয়ে নেওয়া যায়। শেষে তাঁরা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। দশ সেকেন্ড বাইরে থাকার সুযোগ পেয়ে আবার ভেতরে ফিরে যান।

সিদ্ধান্তটা জোশকে বেশ নাড়া দেয়। পরের দিন তিনি বলেন দিনটা হতাশাজনক লাগছে, প্রতিদিনের জীবনে কিছুই বদলাচ্ছে না, এটা তাঁর জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ মাস। নিজের অবস্থা বোঝাতে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে পাগল হয়ে যাচ্ছেন, "আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও"।

রহস্য দরজা, হৃদয়-আকৃতির প্রাতঃরাশ এবং একটি গোপন কথা

এদিকে সুজির মন পড়ে ছিল প্রশ্নচিহ্ন আঁকা দরজায়। ভিডিওতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, আগের এক ভিডিওতে সুজি একটি রহস্য বাক্স ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যার ভেতরে ছিল $৫০,০০০ আর তাঁর প্রিয় গাড়ি টেসলা। সেই স্মৃতি তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। তিনি বলেন, দরজার পেছনে টেসলা থাকলে শুধু নিজের "পুনরুদ্ধারের" জন্য হলেও সেটা নিতে হবে।

জোশের খারাপ দিনে সুজি সকালে উঠে ডিম আর বেকন দিয়ে হৃদয়ের আকারে প্রাতঃরাশ বানিয়ে দেন। কারণ হিসেবে বলেন, জোশ খুব হতাশ ছিলেন, আর কখনো কখনো সঙ্গীকে টেনে তুলতে হয়। সুজি বলেন এটা "বন্ধুত্বের" নিদর্শন। কিন্তু জোশ বিভ্রান্ত হয়ে যান, কারণ তাঁর মতে কেউ কাউকে এমনি এমনি বিছানায় প্রাতঃরাশ বানিয়ে দেয় না। অর্থ বুঝতে তিনি The Man's Guide to Women নামে একটি বই পড়া শুরু করেন। ধারাভাষ্য একে জোশের পক্ষে অস্বাভাবিক, চরম একটি পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করে। বইয়ে দেওয়া সংকেতগুলো, যেমন সরাসরি চোখে চোখ রাখা, হাসি, বারবার তাকানো, মিলিয়ে জোশ অনুমান করেন যে সুজি তাঁকে পছন্দ করেন।

এরই মধ্যে জোশ লক্ষ করেন, সুজি তাঁর দেওয়া একটি আংটি পরে আছেন। সুজি জানান, মাঝে মাঝে পরেন। তখন জোশ বলেন, সম্পর্কের কোনো জিনিসই তিনি ফেলে দিতে পারেননি, শুধু একটি বিশেষ জিনিস বিক্রি করতে হয়েছিল। কী সেটা, তা তিনি বলবেন এখান থেকে বেরোনোর দিন। একা ক্যামেরায় তিনি স্বীকার করেন, ভয়ে কথাটা কখনো সুজিকে বলেননি। সুজি বলেন, এই গোপন কথা জানার আগ্রহই তাঁকে চ্যালেঞ্জের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে।

২০তম দিন: পাঁচটি প্লেট এবং দুটি টেসলা

২০তম দিনে জিমি পাঁচটি ঢাকা প্লেট নিয়ে আসেন। প্রতিটির নিচে রহস্য দরজা খোলার একটি শর্ত। নিয়ম হলো, তিনি ডান থেকে বামে একে একে অফার দেখাবেন। কোনো অফারে "হ্যাঁ" বললে দরজার পেছনের জিনিস তাঁদের। "না" বললে পরের অফার আসবে, কিন্তু আগেরটি আর ফেরত পাওয়া যাবে না।

প্রথম অফার ছিল নিজের পকেট থেকে $৫০,০০০ দেওয়া। তাঁরা না বলেন। দ্বিতীয় অফার ছিল পুরস্কার থেকে $১০০,০০০ কাটা। এটাও বাদ যায়। তৃতীয় অফারে $২৫,০০০ কাটা যাবে এবং শিকল হবে ৫ ফুট, যখন চ্যালেঞ্জের এখনো ১০ দিন বাকি। জিমি সুজিকে মনে করিয়ে দেন আগের ভিডিওতে রহস্য বাক্স আর টেসলা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। দরজার ফাঁক দিয়ে কিছু দেখতে না পেলেও শেষে তাঁরা এই অফারে রাজি হন। পরে জানা যায়, বাকি দুটির একটিতে $২৫,০০০ কাটা যেত কিন্তু শিকল একই থাকত, আর শেষটি ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। অর্থাৎ অপেক্ষা করলে তাঁরা বিনা খরচে পেতেন।

দরজার পেছনে ছিল দুটি নতুন টেসলা, দুজনের জন্য একটি করে। সুজি আবেগে কেঁদে ফেলেন। বলেন, জানেন এটা শুধু একটা গাড়ি, তবু তিনি সত্যিই কৃতজ্ঞ, এবং ঘটনাটাকে তাঁর "পুনরুদ্ধারের গল্প" বলে মনে হচ্ছে। ভিডিওতে গাড়িটিকে ৪০,০০০ ডলারের বলে উল্লেখ করা হয়।

৫ ফুটের শিকল, বইয়ের পরামর্শ এবং ঘরের ভেতরে একটি ডেট

টেসলার দাম দিতে হয় দৈনন্দিন জীবনে। ৫ ফুট শিকলে দুজন একসঙ্গে আলাদা দুটি কাজ করতে পারছিলেন না। একজন বলেন তিনি হাত ধুতে পারছেন না, হাত ওপরে তুলতেও পারছেন না। শাওয়ারের সময় শিকল পৌঁছায় না। একজন বাথরুমে থাকলে অন্যজনকে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।

সেই অপেক্ষার সময় জোশ বইয়ের পরামর্শগুলো নিয়ে ভাবেন এবং দিনভর আচরণ বদলাতে থাকেন: চেয়ার টেনে দেওয়া, দরজা খুলে দেওয়া, কথোপকথনে সুজিকে কেন্দ্রে রাখা, খোলামেলা প্রশ্ন করা। বইয়ের শেষ অধ্যায়টি তাঁর কাছে সম্পর্কের মূল সমস্যা ধরিয়ে দেয়: এমন ডেটের পরিকল্পনা করা যাতে সঙ্গী নিজেকে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জোশ স্বীকার করেন, এখানেই তিনি পুরো সম্পর্কটা নষ্ট করেছিলেন। তাঁরা তিন মাস কোনো ডেটে যাননি, তিনি নিয়মিত ডেটের পরিকল্পনা করেননি, সুজির চাহিদায় মনোযোগ দেননি। সুজিও বলেন, সবচেয়ে ছোট প্রত্যাশাগুলোও তাঁকে মুখে বলে দিতে হতো।

জোশ একজন প্রযোজকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে ঘরের ভেতরেই মোমবাতি জ্বালিয়ে একটি ডেটের আয়োজন করেন। সুজি স্বীকার করেন, জোশ ভালো করেছেন। দুজনের মতে তাঁরা আবার আবেগের দিক থেকে কাছে আসছেন। সুজি বলেন, প্রথমবার যেভাবে শেষ হয়েছিল সেজন্য এটা ভয়েরও, তবে সঠিক দিকে একটি পদক্ষেপ। জোশ জিজ্ঞেস করেন, বেরোনোর পর বাইরে একটি সত্যিকারের ডেটে যেতে পারবেন কি না। সুজি হ্যাঁ বলেন। তিন বছর পর প্রথম ডেট নিয়ে সুজি খুশি বলে জানান, আর দুজনের মতে এটা ঘরে কাটানো সবচেয়ে মজার দিনগুলোর একটি।

২৫তম দিন: হাতের চাবি এবং মিথ্যা শনাক্তকারী

২৫তম দিনে জিমি জানান, তিনি পুরো ভিডিওটাই মৌলিকভাবে বদলে দিতে যাচ্ছেন। প্রত্যেককে তাঁদের নিজ নিজ হাতকড়ার চাবি দেওয়া হয়। এতদিন হাতকড়া খুলে ফেলা মানে দুজনেরই হার। এখন থেকে ভিডিও শেষ হওয়ার আগে কেউ নিজের হাতকড়া খুলে ফেললে তিনি একাই $২৫০,০০০ আর দুটি টেসলা পাবেন, অন্যজন পাবেন শূন্য। সঙ্গে ঘোষণা হয়, এখন থেকে প্রতিদিন শিকল এক ফুট করে ছোট হবে। ৩০তম দিনে দুজনের দূরত্ব হবে মাত্র এক ফুট, যদিও চাইলে তার আগেই কেউ বেরিয়ে যেতে পারেন। সুজি বলেন, এখন তিনি সারাক্ষণ উদ্বেগে থাকবেন।

একে অন্যের মনে কী আছে তা জানাতে জিমি একজন মিথ্যা শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞকে আনেন। প্রশ্নগুলো তৈরি হয়েছিল তাঁদের ভ্লগ ফুটেজ দেখে। প্রথমে জোশ বসেন, প্রশ্ন করেন সুজি। সম্পর্ক ভাঙার পরও জোশ কখনো সুজির আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ করেননি, এই উত্তর সত্য আসে। কিন্তু এখানে আসার পর একা থাকলে ভালো হতো কি না, এই প্রশ্নে জোশের "না" উত্তর মিথ্যা ধরা পড়ে। গ্রাফে সেটা এক বিশাল উল্লম্ফন হিসেবে দেখা যায়, যাকে "মাউন্ট এভারেস্ট" বলা হয়। পুরো $২৫০,০০০ চুরি করবেন কি না, এর জবাবে জোশ বলেন "মনে হয় না"। তখন তাঁর শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে স্পষ্ট হ্যাঁ-না চাওয়া হলে তিনি "না" বলেন। এরপর যোগ করেন, খারাপ অনুভূতি না থাকলে পুরো টাকা নেবেন না, তবে খারাপ অনুভূতি তো অবশ্যই থাকবে। সুজি বলেন, এসব উত্তর তাঁকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং তিনি একটু ভয় পাচ্ছেন।

এরপর জোশ সুজিকে প্রশ্ন করেন। সুজি কি এমন কিছু লুকিয়েছেন যা জানলে জোশ আঘাত পাবেন? উত্তর "হ্যাঁ", সত্য। সুজি ইঙ্গিত দেন, সম্পর্ক না থাকার সময় আরেকজনের সঙ্গে তিনি কতটা ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন সেটাই বিষয়। তবে এখন এ নিয়ে কথা বলতে চাননি। জোশ তাঁকে কোনোভাবে পিছিয়ে রাখেন বলে সুজি বিশ্বাস করেন কি না? "হ্যাঁ", সত্য। আবার সুজির আদর্শ ভবিষ্যতে জোশ আছেন কি না? এটাও "হ্যাঁ", সত্য। পরস্পরবিরোধী মনে হওয়া এই উত্তরগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুজি বলেন, জোশকে দেখাতে হবে কীভাবে আবার ডেট করতে হয় এবং সেটা কেমন হবে। শেষে জোশের প্রশ্ন ছিল, সুজি কি নিজেকে মুক্ত করবেন? "না", সত্য। সুজি কি তাঁকে ভালোবাসা বন্ধ করেছেন? "না", সত্য।

পরীক্ষার পর জোশ বলেন, টাকার প্রশ্নে তাঁর সৎ উত্তরটাই দেওয়া উচিত ছিল। তিনি এও উল্লেখ করেন যে সুজি আগেই ২০০ হাজার ডলার জিতেছেন। একা ক্যামেরায় জোশ বলেন, তিনি সব টাকা নিয়ে চলে যেতে পারেন, আর যেহেতু প্রথমে সম্পর্কটা সুজিই ভেঙেছিলেন, এটা হবে "নিখুঁত প্রতিশোধের গল্প"।

সাউন্ডপ্রুফ বাক্স এবং ক্রমশ ছোট হতে থাকা শিকল

২৬তম দিনে শিকল ৪ ফুট। জিমি একটি সাউন্ডপ্রুফ বাক্স আনেন, যেখানে একজন মনের কথা বলতে পারবেন আর অন্যজন শুনতে পাবেন না। সুজি সেখানে জানান, আগের রাতটা কঠিন ছিল। জোশ বলেছেন সম্পর্ক নিয়ে খারাপ অনুভূতি থাকলে তিনি টাকা নেবেন, আর বিচ্ছেদের পর তিনি হয়তো কোনোভাবে প্রতিশোধ নিতে চান, এসব সুজিকে কষ্ট দিয়েছে। তাঁর চোখে পড়েছে যে হাতকড়া খোলার সুযোগের কথায় জোশ দ্রুত "হ্যাঁ" বলেছিলেন, যেন টাকাটা তাঁর প্রাপ্য। চ্যালেঞ্জ শেষ হতে কয়েক দিন বাকি, অথচ জোশ তখনো বড় গোপন কথাটা বলেননি।

ছোট শিকলে দুজনের ধৈর্য ফুরিয়ে আসে। জোশ বলেন সুজি ধীর, মাঝে মাঝে তাতে তিনি বিরক্ত হন। সুজির অভিযোগ, জোশ নিজের কাজ করাতে তাঁকে প্রায় তুলে নিয়ে যান। ২৭তম দিনে শিকল ৩ ফুট। সুজি বলেন জোশ সারাক্ষণ তাঁর ঘাড়ের ওপর ভাসছেন বলে তিনি কিছুই করতে পারছেন না। একবার সুজি বাথরুমে থাকার সময় জোশ পানি খেতে রান্নাঘরে টেনে নিয়ে যান। ২৮তম দিনে শিকল ২ ফুট। জোশ বলেন, আগে রান্নাঘরে ধাক্কা লাগলে "দুঃখিত" বলতেন, এখন প্রতিটি ছোট ধাক্কায় তাঁর বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। একপর্যায়ে তিনি বলে ফেলেন, তিনি তো যেকোনো সময় বেরিয়ে যেতে পারেন। সুজি জানান, এই কথায় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

শেষ ২৪ ঘণ্টা: বিক্রি করা আংটির গল্প

২৯তম দিনে শিকল এক ফুটে নামানোর আগে জিমি জোশকে গোপন কথাটা বলার সুযোগ দেন। জোশ জানান, সম্পর্কের শেষ আট মাস তিনি একটি এনগেজমেন্ট রিংয়ের জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন এবং আংটিটা কিনেও ফেলেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল সুজির পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে একটি জলপ্রপাতের নিচে প্রস্তাব দেবেন। কিন্তু তার আগেই সম্পর্ক ভেঙে যায়, আর তখন তিনি আংটি বিক্রি করে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। সুজি প্রথমে বলেন তিনি বুঝতে পারছেন না কী বলবেন। পরে বলেন, এখন তিনি জানেন জোশের মন সবসময় সঠিক জায়গায় ছিল, এবং তিনি আবার জোশের সঙ্গে একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন।

শেষ রাতে দুজনের মনেই টাকার চিন্তা ঘুরছিল। সুজি বলেন, মিথ্যা শনাক্তকারীতে তিনি আগে হাতকড়া খুলবেন না বলে সত্য উত্তর দিয়েছিলেন, কিন্তু জোশের কাছ থেকে তেমন পরিষ্কার সত্য উত্তর পাননি। তাই কয়েক দিন ধরে তাঁর ভয় ছিল, জোশ সত্যিই হাতকড়া খুলে ফেলতে পারেন। অন্যদিকে জোশের কথায় ছিল দ্বিধা। $২৫০,০০০ তাঁর জীবন বদলে দিতে পারে, অর্ধেকের চেয়ে অনেক বেশি। বিচ্ছেদের সময়টায় তিনি খুব হারিয়ে যাওয়া ও একা বোধ করেছিলেন, তাই সুজির কাছ থেকে টাকাটা নেওয়া তাঁর কাছে ন্যায্য মনে হতে পারে। ঘুমানোর আগে তিনি সুজিকে মনে করিয়ে দেন, তিন বছর আগে সুজি সম্পর্ক ভেঙেছিলেন আর তারপর তিন বছর তাঁদের কথা হয়নি। এবারও তিনি সব টাকা নিয়ে যেতে পারেন, আর তারপর আর কখনো কথা হবে না। সুজি প্রতিবাদ করলে জোশ বলেন, তিনি "শুধু বলছেন"।

শেষ মিনিট: চুরি, নাকি ভাগাভাগি?

শেষ সময়ে জিমি জানান, কেউ হাতকড়া না খুললে দুজনেই পাবেন $১২৫,০০০ করে। চাপ বাড়াতে তিনি মিথ্যা শনাক্তকারীর উত্তরগুলো আবার শোনান: সুজি বিশ্বাস করেন জোশ তাঁকে পিছিয়ে রাখেন, আর পুরো টাকা চুরির প্রশ্নে জোশের "মনে হয় না" উত্তরে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। এক মিনিট বারো সেকেন্ড বাকি থাকতে জোশ বলেন, এটাই হবে "চূড়ান্ত প্রতিশোধ"। জিমি প্রশ্ন তোলেন, জোশ কি এতদিন লম্বা খেলা খেলছিলেন? ষোলো সেকেন্ড বাকি থাকতে জোশ শেষ পর্যন্ত বলেন, সুজি অর্ধেকের যোগ্য, যদিও তিনি নিজে হয়তো পুরোটার যোগ্য।

শেষ মুহূর্তে জিমি জানতে চান, ভিডিও প্রকাশের পর সুজির উদ্দেশে জোশ কিছু বলতে চান কি না। জোশ বলেন, বিচ্ছেদের পর তিনি কখনো সুজিকে পুরোপুরি ভালোবাসা থামাননি এবং সেই অনুভূতি সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে বেড়িয়েছেন। মনে এত ভালোবাসা ছিল বলেই তিনি এগিয়ে যেতে বা অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারেননি। আবার জিজ্ঞেস করেন, বেরোনোর পর কি সত্যিকারের একটি ডেটে যাওয়া যায়? সুজি হ্যাঁ বলেন। শেষ কয়েক সেকেন্ডে জোশ স্পষ্ট করেন, তিনি হাতকড়া খুলবেন না।

সময় শেষ হয়। কেউ হাতকড়া খোলেননি, দুজনেই মুক্ত হন এবং প্রত্যেকে পান $১২৫,০০০। শেষে "এরপর তোমাদের কী পরিকল্পনা?" প্রশ্নের পর দুজনের এমন একটি প্রতিক্রিয়া দেখা যায় যাতে উপস্থিতদের একজন বলে ওঠেন, তিনি এটা আশা করেননি। তবে ঠিক কী ঘটেছিল, তা সংলাপে স্পষ্ট নয়। জিমির মন্তব্য অনুযায়ী, দুজনকে তখন খুশি দেখাচ্ছিল। বাইরে তাঁদের সম্পর্ক আসলে কোন দিকে যাবে, ভিডিও সেই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। শুধু দেখা যায়, ঘর থেকে বেরোনোর আগে দুজন একটি সত্যিকারের ডেটে যেতে রাজি হয়েছেন।