১ ডলারের কুঁড়েঘর থেকে ১৩৯ মিলিয়ন ডলারের মেগা ম্যানশন: দামের সিঁড়ি বেয়ে বাড়ি দেখার সফর

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে মিস্টার বিস্ট (জিমি) ও তাঁর দল একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন: বাড়ির দাম বাড়তে থাকলে ভেতরে আসলে কী কী বদলায়। তাঁরা মাত্র ১ ডলারের একটি প্রায় ভাঙা ঘর দিয়ে শুরু করেন। এরপর ১ মিলিয়ন, ১৫ মিলিয়ন, ৩০ মিলিয়ন, ৪৫ মিলিয়ন ও ৬৯ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ঘুরে শেষে পৌঁছান এমন এক প্রাসাদে, যাকে ভিডিওতে "তর্কযোগ্যভাবে গ্রহের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ি" বলা হয়েছে। ভিডিওর শুরুতে সেটিকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি বলা হলেও শেষ অংশে দাম জানানো হয় ১৩৯ মিলিয়ন ডলার। প্রতিটি বাড়িতে দলটি খুঁজে দেখে কোন বৈশিষ্ট্য দামটাকে ন্যায্য করে তোলে, আর কোথায় বিলাসিতা হাস্যকর রকমের অতিরিক্ত।

12 মিনিটে পড়া

১ ডলারের ঘর: পানিতে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়

প্রথম বাড়িটিকে বর্ণনায় "সবেমাত্র কার্যকরী" ঘর বলা হয়েছে, দেখতে একটা চালাঘরের মতো। দাম এক ডলার কেন, সেই প্রশ্নে বিক্রেতা জানান, আরেকটা ঝড় আসছে এবং ঘরটা সম্ভবত পানিতে চলে যাবে। তাই এটা থেকে মুক্তি পাওয়াটাই তাঁর কাছে এক ডলারের সমান। জিমি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কি এটা তাঁর জন্য ভয়াবহ বিনিয়োগ? বিক্রেতা একমত হন।

ভেতরে ঢুকে দলটি নিজেরাই ঝুঁকির কথা তোলে, মেঝে ভেঙে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা "বেশ উঁচু"। ঘরে আছে একটি রিক্লাইনার, একটি গদি আর অর্ধেক মেঝে। মেঝের একটা অংশ নেই বলে জিমি ঘরের ভেতর থেকেই মাছ ধরতে পারেন, যদিও প্রথমবার যেটা ধরেন সেটা আসলে টোপ। মজা শেষে তিনি বিক্রেতার কাছে জানতে চান, বিক্রি করে তাঁর অনুশোচনা হচ্ছে কি না। বিক্রেতা বলেন হচ্ছে না। জিমি দুই ডলারে ঘরটা ফেরত কেনার প্রস্তাব দেন, সেটাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর জিমি ঘোষণা করেন, এই ভিডিওতে পরে এমন একটি বাড়ি আসছে যার দাম এর চেয়ে ১০০ মিলিয়ন গুণ বেশি।

১ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি: কোটিপতির "সাধারণ" জীবন

জিমির ব্যাখ্যায়, এই বাড়ি কিনতে হলে কার্যত মিলিয়নেয়ার হতে হবে, তাই এখানে দেখা যায় একজন মিলিয়নেয়ার কীভাবে থাকেন। তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, বাড়িটা তাঁর নিজের বাড়ির চেয়ে অনেক বড়। বড় রান্নাঘর আছে, আর আছে চারটি বেডরুম। বেডরুমগুলো প্রথমে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে এগোতেই থাকে: একটি বেডরুমের ক্লজেট থেকে ঢোকা যায় এমন এক বাথরুমে, যা ১ ডলারের ঘরের চেয়েও বড়। বাথটাব এত বিশাল যে জিমি নিজেকে ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা বলার পরও জানান, তিনি আরামে এতে এঁটে যান। বাথরুমগুলোতে বিডেটও আছে।

তবে জিমির মতে বাড়ির সেরা জায়গা নিচতলায়। সেখানে একটি সিনেমা হল, যার চেয়ারগুলো ম্যাসাজ চেয়ার এবং প্রতিটিতে দুটি করে রিমোট। সিনেমা হলের উপরে একটি আর্কেডও আছে। জিমি বলেন, ১ মিলিয়ন ডলারে এত কিছু তিনি আশা করেননি, আর এমন জায়গার মালিক হলে তাঁর অনেক বেশি বন্ধু হতো। শেষ আকর্ষণ একটি পুল, সঙ্গে জিমির ভাষায় একটি "অপ্রয়োজনীয়" জলপ্রপাত। সব মিলিয়ে তাঁর রায়, এখানে থাকাটা বেশ মজার হবে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দর্শকেরা আসলে সবচেয়ে ধনীদের বাড়ি দেখতেই এসেছেন।

১৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি: শীর্ষ আইনজীবীর প্রাসাদ ও মামলার ভয়

দলের এক সদস্যের মতে, এই বাড়ি দেখতে ঠিক সেই বাড়ির মতো, যেটায় যাওয়ার জন্য লোকে GTA গেমে চেষ্টা করে। পুলটা ১ মিলিয়ন ডলারের বাড়ির পুলের চেয়ে অনেক ছোট। তবে সেখান থেকে পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস দেখা যায়, আর এই দৃশ্যকেই দলটি বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখায়।

মালিক কী করে জীবিকা নির্বাহ করেন, এই প্রশ্নে একজন অনুমান করেন NFT। আসলে তিনি একজন আইনজীবী। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ২০১৭ সালে শীর্ষ অ্যাটর্নি এবং ২০২১ সালে এক নম্বর আইনজীবী ছিলেন। মালিক একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন। তাতে তিনি জিমিকে ধন্যবাদ জানান এবং লেখেন, এই সফরের ফলে সন্তানদের সঙ্গে চিরকালের জন্য তাঁর হাতে একটি "ট্রাম্প কার্ড" থাকল। সঙ্গে অনুরোধ ছিল কোনো স্যান্ডউইচ না খেতে, কারণ সেগুলো তাঁর কাছে "অত্যন্ত পবিত্র" এবং পরিবারে প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।

নিচতলায় আছে নিজস্ব সিনেমা, থিয়েটার আর ব্যক্তিগত জিম। জিমের ট্রেডমিল চালাতে পাসকোড লাগে। দলটি ৬৯৬৯ দিয়ে চেষ্টা করে, কাজ হয় না। এরপর একটি গেস্ট বেডরুম, একটি বিনোদন এলাকা এবং একটি বার, যেখানে মালিক তাঁদের জন্য অনেক খাবার রেখে গেছেন। কেউ একজন সতর্ক করেন, মালিক হয়তো খাবার খাওয়ার জন্যই মামলা করতে এগুলো রেখে গেছেন। কিন্তু ততক্ষণে কার্ল খেয়ে ফেলেছেন। বাড়িতে সুইমিং পুলের একটি ভূগর্ভস্থ দৃশ্য দেখার জায়গাও আছে। সেখানে নোলান শটের পটভূমিতে সাঁতার কাটছিলেন, ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও টের পাননি। মাস্টার বেডরুম থেকেও চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে নোলান কুশন ছুড়তে থাকলে জিমি তাঁকে থামান। তাঁর আশঙ্কা, কুশন কিনারা পেরিয়ে পড়লে আইনজীবী মালিক মামলা করতে পারেন। আদালতের কাগজ হাতে পাওয়া এড়াতেই দলটি পরের বাড়ির উদ্দেশে দেশ পেরিয়ে ম্যাসাচুসেটসে উড়ে যায়।

৩০ মিলিয়ন ডলারের এস্টেট: গাড়ির বাহিনী থেকে ইনডোর ওয়াটার পার্ক

ম্যাসাচুসেটসের এই এস্টেটে ১৬টি বেডরুম এবং চারটি আলাদা ভবন। মূল বাড়িতে একাধিক বসার ঘর আছে। তার মধ্যে যেটিকে সেরা বলা হয়েছে, সেটির ডাকনাম "ওভাল অফিস"। সেখানে বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের "Way to Wealth" বই দেখে দলের সদস্যদের মধ্যে একটু বিভ্রান্তি হয়: লাইট বাল্ব তো এডিসন বানিয়েছিলেন, তাহলে ফ্র্যাঙ্কলিন কী করেছিলেন? বিশাল রান্নাঘরে মালিক একটি উপহার রেখে গিয়েছিলেন। ভিডিওর ভাষ্যমতে তিনি মোমবাতি বানিয়ে ধনী হয়েছেন, তাই দলের জন্য বিশেষভাবে MrBeast মোমবাতি তৈরি করে রেখেছেন। একটির গন্ধ সৈকতের মতো, যা দেখে একজন অবাক হয়ে জানতে চান মোমবাতির মধ্যে সৈকত ঢোকানো হয় কীভাবে। মূল ভবনের ছাদে উঠে চ্যান্ডলার আবিষ্কার করেন, সেখান থেকে গলফ বল মারা যায়।

জিমির মতে এর চেয়েও চমকপ্রদ পাশের ভবনের গ্যারেজ, যা বহিরাগত গাড়িতে ঠাসা এবং দেখতে ভিডিও গেমের গ্যারেজের মতো। সেখানে ল্যাম্বরগিনির উপরে ল্যাম্বরগিনি রাখা। একজন একে "প্রাপ্তবয়স্কদের মিষ্টির দোকান" বলেন। এটি আবার দুটি গ্যারেজের মধ্যে একটি মাত্র, আর দ্বিতীয়টিতে গাড়ি আরও বেশি। দলের কেউ মন্তব্য করেন, এত গাড়ি কেনা একটা পূর্ণকালীন চাকরির মতো। কোণের সিঁড়ি দিয়ে নামলে পাওয়া যায় গাড়ির আরেকটি "বাহিনী", যাকে একজন গাড়ির ক্লজেটের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রথমে তাঁরা অভিযোগ করেন, এখানে প্রায় ২০টি গাড়ি অথচ কোনো আলো নেই। তারপর দেখা যায় কেন সুইচ ছিল না, এবং দলটি অবাক হয়ে যায়। জিমি বিস্ময় প্রকাশ করেন, যে লোক বেসমেন্টে ৩০টি গাড়ি রাখতে পারে সে বিদ্যুৎ রাখতে পারে না কেন।

জিমি বলেন, এ পর্যন্ত সব ঘরই দুর্দান্ত, কিন্তু মালিক হলে তিনি পরের ভবনটি ছেড়ে কখনো বের হতেন না। সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনডোর টেনিস কোর্ট আছে, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে টেনিস খেলতে জানেন না। আছে দুই তলা আর্কেড, যা তাঁর হিসাবে ১ মিলিয়ন ডলারের বাড়ির আর্কেডের চেয়ে ২০ গুণ বড়। একটি বাস্কেটবল কোর্টও আছে, যেখানে দলটি পিং পং খেলে। তবে জিমির মতে এস্টেটটিকে সত্যিকারের বিশেষ করেছে পাশের ঘরটি। সিঁড়ি বেয়ে উঠলে একটি ইনডোর ওয়াটার পার্ক, যাকে "সম্পূর্ণ নতুন একটা জগৎ" বলা হয়। কত বড় সেটা দেখাতে ড্রোন অনেকটা পিছিয়ে যায়, তবু জায়গাটা শেষ হয় না। দলকে বলা হয় মজা করতে, তবে কিছু না ভাঙতে। এরপর সবাই মিলে স্লাইড দিয়ে নামে।

৪৫ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি: মার্ক কিউবানের মূল্যায়ন

পরের বাড়ির জন্য আবার দেশ পেরোতে হয়। এটি ৪৫ মিলিয়ন ডলারের একটি মেগা ম্যানশন, আর দলের একজন একে জীবনে দেখা সবচেয়ে খোলামেলা ঘর বলেন। জিমি স্বীকার করেন, বাড়িগুলো এত দামি হয়ে উঠছে যে তিনি বর্ণনা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই তিনি সাহায্যের জন্য বিলিয়নেয়ার মার্ক কিউবানকে ডেকে আনেন।

কিউবান ডালাস ম্যাভেরিক্স বাস্কেটবল দলের মালিক। এই বাড়িতেও নিজস্ব বাস্কেটবল কোর্ট থাকায় দলটি কিছুক্ষণ খেলায় মেতে ওঠে, এবং গেম-জেতানো শটটি করেন জেক। এরপর তাঁরা কিউবানকে বাকি বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান, যাতে বোঝা যায় তাঁর মতে বাড়িটি ৪৫ মিলিয়ন ডলারের যোগ্য কি না। দাম শুনে কিউবানের জবাব ছিল, "কারণ এটি ব্রেন্টউড, এটি সম্ভবত অর্ধেক।" দলের কেউ কেউ প্রথমে ভেবেছিলেন "ব্রেন্টউড" বাড়ির কাঠের কোনো ধরন। পরে জানা যায় এটি এলাকার নাম।

বাথরুমে একটি পালঙ্ক দেখে জিমি জানতে চান, কিউবানের বাথরুমেও কি পালঙ্ক আছে। কিউবান হ্যাঁ বলেন। কিউবানের "এক নম্বর নিয়ম", টয়লেটে উত্তপ্ত আসন থাকতে হবে, কারণ বসার পর উঠে গেলে ঠান্ডা লাগার অনুভূতিটা এড়ানো যায়। জিমি একমত হয়ে বলেন, সুখী হতে কোটি কোটি টাকা লাগে না। শুধু একটা বিডেট আর উত্তপ্ত টয়লেট সিটের সামর্থ্য থাকলেই চলে, কারণ তিনি বেশিরভাগ সময় সেখানেই কাটান।

৬৯ মিলিয়ন ডলারের আর্ট হাউস: শিল্পকর্ম আর সুনামি-প্রতিরোধী নকশা

পরের বাড়ির দাম জিমির "প্রিয় সংখ্যা", ৬৯ মিলিয়ন ডলার। তাঁর মতে বাড়িটা দেখে মনে হয় কোনো ভিলেন এর মালিক। অতিথি মিরান্ডাকে নিজের বাড়ির সঙ্গে তুলনা করতে বলা হলে কথোপকথনটি মজায় গড়ায়। জিমি ব্যাখ্যা করেন, দেখতে অদ্ভুত হলেও বাড়িটির দাম ৬৯ মিলিয়ন ডলার হতে পারছে কারণ এটি বিশ্বের নানা প্রান্তের অমূল্য শিল্পকর্ম ও ভাস্কর্যে ভরা।

এখানে দলটি শিল্পকর্মের দাম অনুমান করার খেলা খেলে। একটি শিল্পকর্মের জন্য একজন বলেন ১,০০,০০০, মিরান্ডা বলেন ৮০ (হাজার)। মিরান্ডা জানান, তাঁর বাড়িতেও এরকম একটি আছে। জিমি এক মিলিয়ন অনুমান করেন, কারণ জিনিসটা প্রবেশপথের সিঁড়ির ঠিক নিচে রাখা। আসল দাম ৪,৫০,০০০ ডলার, যা শুনে সবাই বলে ওঠেন "খুব নির্দিষ্ট"। জিমি তুলনা টানেন: ৩০ মিলিয়ন ডলারের বাড়িতে ছিল ওয়াটার পার্ক আর অসংখ্য গাড়ি, অথচ এই জায়গায় আছে শুধু শিল্পকর্ম, যেমন "বড় লাল ভাস্কর্য জিনিস"।

একটি ঘরে কিছু না ছোঁয়ার প্রতিশ্রুতি দলটিকে ৩০ বার দিতে হয়েছিল। সেখানে আছে একটি সম্পূর্ণ অ্যানালগ কাস্টম হোম সাউন্ড সিস্টেম। ভিডিও অনুযায়ী এটি ওয়াকম্যানের স্রষ্টার তৈরি, আর ওয়াকম্যানকে বর্ণনা করা হয় হাঁটতে হাঁটতে গান শোনার সুযোগ দেওয়া প্রথম দিকের যন্ত্র হিসেবে।

এরপর তাঁরা একটি স্কাইওয়াক পার হন। জিমির ব্যাখ্যায়, বাড়ির নকশা এত অদ্ভুত, যেমন কোথাও যেতে আকাশসেতু পেরোতে হয়, তার কারণ বাড়িটি সত্যিকারের সুনামির শক্তি সহ্য করার জন্য খুব যত্ন নিয়ে তৈরি। এখান থেকে প্রতিবেশীর উঠোনও পুরোটা দেখা যায়। দলটি এ নিয়ে রসিকতা করে, এখানকার বাসিন্দা যদি পাশের বাড়ির কারও সঙ্গে গোপনে প্রেম করেন, তাহলে তো এটা রোমিও-জুলিয়েটের গল্প।

১৩৯ মিলিয়ন ডলারের মেগা ম্যানশন: জাস্টিন টিম্বারলেকের সঙ্গে সফর

শেষ বাড়িটি ১৩৯ মিলিয়ন ডলারের এবং ৩৬,০০০ বর্গফুটের। ভিডিওর বর্ণনায় এখানে এমন সব জিনিস আছে যা অন্য কোনো বাড়িতে দেখা যায় না: একটি নাইটক্লাব, একটি টি-রেক্স এবং একটি সম্পূর্ণ রোবোটিক কার লিফট। সফরটিকে বিশেষ করতে দলটি জাস্টিন টিম্বারলেককে নিয়ে আসে, এবং তিনিই সবাইকে বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান। সফর শেষে জানতে চাওয়া হবে তিনি এর জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার দেবেন কি না। ভিডিওতে রসিকতা করে বলা হয়, পছন্দ হলে কেনার জন্য তাঁর নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা আছে।

বাড়ি থেকে দৃশ্য এত নিখুঁত যে কেউ বলেন এটা CGI-এর মতো লাগে। জিমি জানতে চান এর চেয়ে ভালো দৃশ্য কেউ দেখেছেন কি না। টিম্বারলেকের উত্তর, সম্ভবত এটা সেরা ১০-এর মধ্যে, আর জিমি একে সেরা পাঁচে রাখতে চান। জিমির হিসাবে বাড়িটি কত বড় তা বর্ণনা করা কঠিন: তিন তলা জুড়ে ১২টি শয়নকক্ষ আর ১৭টি বাথরুম, সবখান থেকেই লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কাইলাইন দেখা যায়। টিম্বারলেক বলেন তিনি সব সময় রান্নাঘর দেখে বাড়ি বিচার করেন। রান্নাঘরটি মিনিমালিস্ট। তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে সামনে এগোতে বলেন।

ভিডিওর ভাষ্যমতে, এই বাড়ির সবকিছু গ্রহের সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপকরণে তৈরি। একটি ঘরের দেয়াল পুরোটাই ইতালি থেকে সরাসরি আমদানি করা বিরল মার্বেলের। দলটি জানায়, পুরো বাড়িতে এক টুকরো ড্রাইওয়ালও নেই। একটি ঝাড়বাতির দাম এক মিলিয়ন ডলারের বেশি, আর হাজার হাজার পাউন্ড ওজনের কারণে সিলিং আক্ষরিক অর্থেই ঝুলে পড়তে শুরু করেছে। দাম শুনে একজন বলেন, আগে জানালে তিনি এটা নিয়ে খেলতেন না। জিমির হিসাবে বাড়িতে মোট ৬ মিলিয়ন ডলারের ঝাড়বাতি আছে।

বরফঘর, ডাইনোসর আর বিলিয়নেয়ারদের লকার

জিমির মতে নিচতলার ঘরগুলো আরও ভালো। সেখানে একটি "বরফঘর" আছে, যার ভেতরের দিকে কোনো হাতল নেই। দলটি রসিকতা করে বলে ভেতরে আটকে পড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ, তবে শেষ পর্যন্ত কিছু হয় না। কেউ একজন মন্তব্য করেন, মনে হচ্ছে নির্মাতাদের ঘরের আইডিয়া ফুরিয়ে গিয়েছিল। এরপর আসে ডাইনোসর। বাড়িতে ডাইনোসর আছে জেনে টিম্বারলেক কি এটা কিনতে বেশি আগ্রহী? তাঁর জবাব, তিনি এখনো দ্বিধায় আছেন।

একটি লকার রুমে এমন কিছু মানুষের নামফলক আছে যাঁরা সত্যিই এই বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন। ভিডিওতে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ বলা হয়: ওয়ারেন বাফেট প্রায় ৮০ বিলিয়ন, এলিসন প্রায় ৫০ বিলিয়ন, বেজোস প্রায় ১০০ বিলিয়ন। চ্যান্ডলারের নাম কেন নেই, সেই প্রশ্ন তুলে দলটি তাঁকে নিয়ে মজা করে। নোলান ঘরে বসে পোজ দেন, আর অন্যরা বলেন তিনি ঘরের সঙ্গে মানিয়ে গেছেন।

২.৫ মিলিয়ন ডলারের কার লিফট, থিয়েটার আর শাওয়ার

জিমির মতে ২.৫ মিলিয়ন ডলারের কার লিফট বাড়ির সবচেয়ে উন্মাদ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। ট্যাবলেটে কোন গাড়ি চালাতে চান তা বেছে নিলে সেটি সরাসরি গ্যারেজের মেঝেতে উঠে আসে। তবে রসিকতা করে একটি "প্রধান সমস্যা" ধরা হয়: এতে মাত্র ছয়টি ল্যাম্বরগিনি রাখা যায়, অথচ দরকার অন্তত ১০টি গাড়ির জায়গা।

বাড়িতে আছে জিমির জীবনে দেখা সবচেয়ে বড় হোম থিয়েটার, প্রায় আসল সিনেমা হলের মতো, হেলান দেওয়ার চেয়ার সহ। ম্যাসাজ বোতাম নিয়ে কিছুক্ষণ বিভ্রান্তি চলে: একজনের চেয়ারে বোতাম কাজ করে, আরেকজন নিজের বোতামই খুঁজে পান না। চ্যান্ডলার শেষে পরীক্ষা করে জানান ম্যাসাজ কাজ করছে। উপরতলার প্রাথমিক বেডরুমের বাথরুমের শাওয়ার এত বড় যে দলের ভাষায় ১০ জন একসঙ্গে গোসল করতে পারবে, বা "একটা সেনাবাহিনী" এঁটে যাবে।

পুলের ওপরের পর্দা ও শেষ সিদ্ধান্ত

জিমি বাড়ির সেরা অংশ এবং এত দামের "আসল কারণ" হিসেবে দেখান পুলের ওপরের একটি বৈশিষ্ট্য। বোতাম চাপলে একটি বিশাল পর্দা ধীরে ধীরে নামে। দলের মতে এটি অযৌক্তিক রকমের বড় এবং ধীর। তবে তাঁরা একমত হন যে ধীরগতি একটা নাটকীয়তা আনে, যাকে একজন "একটু ফ্লেক্স" বলেন। পর্দার পেছনে লস অ্যাঞ্জেলেসের চমৎকার দৃশ্য, ডাউনটাউন LA সহ। টিভি কত লম্বা বোঝাতে তাঁরা কার্লকে পাশে দাঁড় করান, যিনি প্রায় ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি।

সফর শেষে টিম্বারলেককে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি বাড়িটি কিনবেন? তিনি শর্ত দেন, বাড়ির সঙ্গে নোলানের শার্ট দিতে হবে। নোলান রাজি হলে তিনি বলেন, "আমি ভিতরে আছি।" এরপর রসিকতা চলে, নোলানের শার্ট যে ভালুক ছিঁড়েছে সেটাও কি সঙ্গে আসবে। বাড়িটি শেষ পর্যন্ত কেনা হলো কি না, ভিডিওতে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ১ ডলারের ভাসমান প্রায় কুঁড়েঘর থেকে শুরু হওয়া তুলনাটি শেষ হয় এই হাসিঠাট্টার মধ্য দিয়ে।