জ্যামাইকা থেকে কলম্বিয়া: ১০০টি বাড়ি বানিয়ে বিনামূল্যে পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার যাত্রা

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওর লক্ষ্য শুরুতেই জানিয়ে দেওয়া হয়। দল মোট ১০০টি বাড়ি তৈরি করবে এবং সেগুলো এমন পরিবারকে দেবে যাদের নিজেদের বলার মতো কোনো বাড়ি নেই, অথবা যাদের বর্তমান ঘর অনিরাপদ। উপস্থাপক জানান, এই প্রকল্পে "লক্ষ লক্ষ ডলার" খরচ হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি একটি পরিবারের জীবন বদলে দেবে, এটাই তাঁর বক্তব্য। এরপর ভিডিওটি জ্যামাইকা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়া ঘুরে একের পর এক হস্তান্তরের মুহূর্ত দেখায়।

7 মিনিটে পড়া

জ্যামাইকা: প্রথম বাড়ি এবং অনিরাপদ বসবাসের প্রেক্ষাপট

প্রথম পরিবারকে চোখ বন্ধ করে ঘুরে দাঁড়াতে বলা হয়, তারপর পেছনে তাদের নতুন বাড়ি দেখানো হয়। পরিবারের একটি শিশু ঘরে একটি বেডরুম দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। সে জানায়, সবসময় একটা বাঙ্ক বেড চাইত এবং তার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। উপস্থাপক তখন জানান, এটি ১০০টি বাড়ির মধ্যে প্রথমটি মাত্র।

জ্যামাইকায় কেন কাজ শুরু হলো, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। উপস্থাপকের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ অনিরাপদ ও জীবন-হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। প্রতিটি বাড়ি তাই এমন পরিবারের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর চেষ্টা, যাদের "বাড়ি" বলে ডাকার মতো নিরাপদ জায়গা নেই।

পাহাড়ের উপর নিজের হাতে বানানো ঘর থেকে নতুন বাড়িতে

পরের পরিবারের ঘর এতটাই নড়বড়ে যে উপস্থাপকের মতে যেকোনো মুহূর্তে সেটি তাদের উপর ধসে পড়তে পারে। কথোপকথনে জানা যায়, পরিবারের কর্তা ঘরটি একাই বানিয়েছেন। বোর্ডসহ সব উপকরণ তিনি নিজের মাথায় বয়ে পাহাড়ের উপরে তুলেছেন।

দল এই পরিবারের জন্য বাড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নির্মাণের সময় পেতে তারা পরিবারটিকে একটি ভ্রমণে পাঠায়, যাতে অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ শেষ করা যায়। ফিরে আসার পর উপস্থাপক স্বীকার করেন, ভ্রমণটি আসলে একটি কৌশল ছিল। নতুন বাড়িটি পুরোপুরি আসবাবে সাজানো, কারণ দলের মনে হয়েছিল তাদের নতুন আসবাব দরকার। বিদ্যুতের পাশাপাশি পানির জন্য একটি ট্যাঙ্কও রাখা হয়েছে। দুই শিশুর ঘরে আছে বাঙ্ক বেড। হলওয়ের ওপারে মা-বাবার বেডরুমে একটি দোলনাও রাখা হয়েছে, কারণ দল শুনেছিল পরিবারে একটি নবজাতক আছে, যার নাম টায়রা। পরিবারের একজন জানান, সময়টা তাদের জন্য সত্যিই কঠিন যাচ্ছিল এবং এই উপহার তার জীবন বদলে দিয়েছে। শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ির দলিল তাদের হাতে দেওয়া হয়।

ছাদ দিয়ে বৃষ্টি পড়া এক পরিবার

উপস্থাপক আবার জোর দিয়ে বলেন, এই পরিবারগুলোর কিছু বাসস্থান অত্যন্ত অনিরাপদ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবন-হুমকিপূর্ণ। এর উদাহরণ পরের পরিবার। মা জানিয়েছিলেন, তাদের ছাদ কাজ করে না। বৃষ্টি হলেই পুরো ঘর পানিতে ভরে যায়, শিশুরা ভিজে যায় এবং ঘুমাতে পারে না। উপস্থাপক ঘোষণা করেন, আজ থেকে এমনটা আর হবে না। চাবি হাতে পেয়ে মা বারবার বলতে থাকেন, তারা নতুন বাড়ি পেয়েছেন।

নদীর বন্যায় ভেসে যাওয়া বাড়ি এবং এক সারি নতুন ঘর

এরপর দল এমন এক জায়গায় যায় যেখানে একটি নদী উপস্থাপকের ভাষ্যমতে প্রতি বছর শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস করে। বর্ষাকালে আকস্মিক বন্যায় বাড়িগুলো ভেসে যায়, ভেতরে থাকা মানুষের জন্যও তা বিপজ্জনক। নদীর মধ্যে একটি ফ্রিজ পড়ে থাকতে দেখা যায়। উপস্থাপক ধরে নেন, কারও বাড়ি ভেসে যাওয়ার ফলেই সেটি সেখানে এসেছে, এবং স্থানীয় একজন তা নিশ্চিত করেন। পরে বোঝা যায় জায়গাটি এল সালভাদরে।

এর জবাবে দল নদী থেকে কয়েক মাইল দূরে ওই সম্প্রদায়ের জন্য সারি সারি নতুন বাড়ি বানিয়েছে। প্রথমে তারা মারিয়া ও তার মেয়ের কাছে যায়। তাদের আগের বাড়ি বর্ষায় নদীতে পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল এবং ঘুমানোর জন্য বিছানাও ছিল না। মারিয়া বলেন, ঈশ্বর তাকে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছেন। পরিবারটি ইংরেজি বলতে না পারায় একজন অনুবাদক সাহায্য করেন।

বাড়ি ঘুরে দেখার সময় দল বুঝতে পারে, পরিবারটি জানতই না যে বাড়িটি বিনামূল্যে। অনুবাদককে বলা হয় তাদের জানাতে যে কোনো টাকা দিতে হবে না, সবকিছু তাদের। খবর শুনে পরিবারটি কৃতজ্ঞতা জানায়। একজন জিজ্ঞেস করেন তিনি শুয়ে দেখতে পারেন কি না, আরেকজন উপস্থাপককে জড়িয়ে ধরতে চান। উপস্থাপক বলেন, এই খুশির জন্যই তারা এ ধরনের ভিডিও বানান। তিনি চান পরিবারটি আর নদী নিয়ে চিন্তা না করুক। এখানেও নবজাতকের কথা শুনে একটি দোলনা দেওয়া হয়।

আট পরিবারকে একসঙ্গে বাড়ি এবং একটি ফুটবল মাঠ

একই সম্প্রদায়ে আটটি পরিবারকে চোখ বেঁধে সারি করা বাড়ির সামনে আনা হয়। উপস্থাপক রসিকতা করে বলেন, তারা পরিবারগুলোকে অপহরণ করছেন না, সবাইকে একসঙ্গে বাড়ি দিচ্ছেন। চোখ খোলার পর কেউ অবাক হয়ে জানতে চান সত্যিই এটা বিনামূল্যে কি না। একজন "জিমি"-কে বাড়ির জন্য ধন্যবাদ জানান। অনুবাদকের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে জিজ্ঞেস করা হয় নতুন বাড়ি তাদের পছন্দ হয়েছে কি না, এবং তারা হ্যাঁ বলেন।

সারির শেষ পরিবারের একটি ছেলে ছবি তুলতে চাইলে উপস্থাপক জানান, তার কাছে ছবির চেয়েও ভালো কিছু আছে। তিনি ছেলেটিকে ফুটবল খেলার প্রস্তাব দেন। এরপর জানানো হয়, সম্প্রদায়কে শুধু বাড়ি নয়, একটি বিশাল ফুটবল মাঠও দেওয়া হচ্ছে। সেখানে শত শত শিশু অপেক্ষা করছিল, তাদের চমকে দেওয়া হয় এবং সবার জন্য নতুন ফুটবল সরঞ্জামও আনা হয়। মাঠে শিশুরা চকলেটের দাবি তুললে কিছু চকলেটও বিতরণ করা হয়।

এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো

উপস্থাপক বলেন, এই সম্প্রদায়ের বাইরেও এল সালভাদর জুড়ে আরও অনেক পরিবারের নিরাপদ আবাসন দরকার ছিল। তাই ফেরার পথে তারা যত বেশি সম্ভব বাড়ি বানান। তবু তখন পর্যন্ত লক্ষ্যের অর্ধেক পূরণ হয়েছিল। এরপর আর্জেন্টিনার একটি ছোট সম্প্রদায়ে বাড়ির পর বাড়ি তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিটি শিশু শেখা ও বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপদ জায়গা পায়। তারপর দল মেক্সিকোতে গিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য আরও বাড়ি বানায়। এই অংশগুলো ভিডিওতে সংক্ষেপে দেখানো হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের গল্প সেখানে নেই।

কলম্বিয়া: ঝড়ে বিধ্বস্ত সম্প্রদায়

পরবর্তী গন্তব্য কলম্বিয়া। সেখানে দল এমন এক সম্প্রদায় পায়, যার বাড়িঘর এক ভয়াবহ ঝড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। একটি পরিবার জানায়, টর্নেডো তাদের বাড়ি ধ্বংস করে দেয়। উপস্থাপকের মতে, এই ঘরগুলো কোনোভাবেই বসবাসের যোগ্য নয়। দল জন ও আনার জন্য একটি নতুন বাড়ি বানায়, যদিও পরিবারটি এ বিষয়ে কিছুই জানত না।

চোখের বাঁধন খোলার পর উপস্থাপক বলেন, তিনি জানেন ব্যাপারটা অবাস্তব মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বৈধভাবে তাদের বাড়ি। তাঁর মতে, পরিবারটি এত হতবাক যে হয়তো এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না। তারা কিছু বলছে না, কিন্তু তাদের কান্না অনেক কিছু বলে দেয়। পরিবারের একজন বলেন, বাড়িটা অনেক বড়, আগে তাদের ছিল মাত্র একটি অর্ধসমাপ্ত ঘর। উপস্থাপক জানান, ওই সম্প্রদায়ের বাকিদের জন্যও একইভাবে বাড়ি বানানো হয়েছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের মাথার উপর একটি নিরাপদ ছাদ প্রাপ্য, এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন কিছু হওয়া উচিত নয়।

সব হস্তান্তর মসৃণ হয়নি: ভাঙা তালার ঘটনা

উপস্থাপক স্বীকার করেন, প্রতিটি বাড়ির হস্তান্তর এত সহজে হয়নি। এক বাড়িতে তার মনে হয় তিনি ভুলবশত দরজার তালা ভেঙে ফেলেছেন। পরিবারের আসবাব তখনও বাইরে পড়ে ছিল, জানালায় গ্রিল থাকায় ভেতরে ঢোকারও উপায় ছিল না। দলের সদস্যরা বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন, এর মধ্যেই পরিবার এসে পৌঁছায়। উপস্থাপক তাদের জানান যে সম্ভবত তালা ভেঙে গেছে এবং পরিবারের একজনকে চেষ্টা করতে বলেন। সেই ব্যক্তি সহজেই দরজা খুলে ফেলেন। উপস্থাপক নিজেকে নিয়ে মজা করে বলেন, তারা হয়তো বোকামি করেছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো তালা-বিশেষজ্ঞ নন। আসবাব তখনও ভেতরে সাজানো হয়নি, তবে উপস্থাপকের মতে আসল বিষয় হলো, হোসে ও তার পরিবার এখন "বাড়ি" বলার মতো একটি জায়গা পেয়েছে।

যাতায়াতের সমস্যা: মোটরসাইকেল ও সাইকেল

দল জানতে পারে, হোসের পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের বাহনটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তাদের একটি নতুন মোটরসাইকেলও দেওয়া হয়। উপস্থাপক বলেন, এখন তাদের নতুন বাড়ির সঙ্গে চলাফেরার উপায়ও আছে।

এই ঘটনা থেকে তিনি একটি বড় পর্যবেক্ষণে পৌঁছান। এত বাড়ি দিতে গিয়ে তিনি লক্ষ করেছেন, অনেক মানুষ যাতায়াত নিয়ে সমস্যায় ভুগছে। এর সমাধান হিসেবে একটি ট্রাক ভর্তি সাইকেল আনা হয় এবং গ্রামের প্রতিটি শিশুকে একটি করে দেওয়া হয়। শিশুরা "ধন্যবাদ, MrBeast" বলে চেঁচিয়ে ওঠে।

শেষ বাড়ি এবং সামনের আশা

কলম্বিয়ায় এতগুলো বাড়ি বানানোর পর একটি বাড়ি তখনও দেওয়া বাকি ছিল, সেটিই ১০০ নম্বর। পরিবারটিকে আগের মতোই চোখ বন্ধ করে ঘুরে দাঁড়াতে বলা হয়, এবং তারা বারবার ধন্যবাদ জানায়।

শেষে উপস্থাপক বাড়িগুলো বানাতে সাহায্যকারী সব অংশীদারকে ধন্যবাদ জানান, সঙ্গে দর্শকদেরও। তাঁর বক্তব্য, দর্শকরা এই ভিডিওগুলো না দেখলে ১০০টি বাড়ি বানানো সম্ভব হতো না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চ্যানেল বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে হাজারটা বাড়ি বানাতে পারবেন।