নেইমারকে হারিয়ে পাঁচ লক্ষ ডলার: বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদ বনাম সাধারণ মানুষের ১ বনাম ১ চ্যালেঞ্জ

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে মিস্টারবিস্ট একটি প্রশ্ন ঘিরে সব পর্ব সাজিয়েছেন: বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষ কি জিততে পারেন, যদি খেলার নিয়মে তাঁকে কিছুটা সুবিধা দেওয়া হয়? প্রতিটি চ্যালেঞ্জে সাধারণ প্রতিযোগী জিতলে টাকা (একটি পর্বে গাড়ি) সরাসরি তাঁর হাতে যায়। হারলে সেই টাকা তারকা ক্রীড়াবিদের পছন্দের কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়। টেনিস, বাস্কেটবল, রেসিং, বেসবল, শ্বাস ধরে রাখা আর হট ডগ খাওয়ার পর্ব পেরিয়ে ভিডিও শেষ হয় নেইমারের সঙ্গে অর্ধ মিলিয়ন ডলারের পেনাল্টি চ্যালেঞ্জে।

10 মিনিটে পড়া

সেরেনা উইলিয়ামসের সার্ভ ফেরানো

প্রথম চ্যালেঞ্জে ছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। ভিডিওতে তাঁকে সর্বকালের সেরা মহিলা টেনিস খেলোয়াড় বলে পরিচয় দেওয়া হয়। মিস্টারবিস্টের দাবি, তিনি পৃথিবীর যেকোনো নারীর চেয়ে দ্রুত সার্ভ করেন। তাঁর প্রতিপক্ষ চারজন তরুণী, ভিডিওতে যাঁদের চতুর্যমজ বা "কোয়াড্রুপলেট" বলা হয়েছে। নিয়ম খুব সহজ: চারজনের যেকোনো একজন সেরেনার একটি সার্ভ ফেরাতে পারলেই এক লক্ষ ডলার পাবেন।

শুরুর আগে চারজনই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, বলছিলেন কাজটা "সহজ"। কিন্তু সার্ভটি কার্যত সবার ওপর দিয়ে চলে যায়, কেউ বল ছুঁতেও পারেননি। সেরেনা মজা করে ক্ষমা চান। টাকাটি তিনি ইয়েতুন্ডে প্রাইস রিসোর্স সেন্টারে দান করতে বলেন।

জিয়ানিসের বিরুদ্ধে ট্রিস্টানের অপ্রত্যাশিত জয়

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জে ছিলেন "গ্রিক ফ্রিক" জিয়ানিস। ভিডিওতে তাঁকে নয়বারের অল-স্টার, দুইবারের এমভিপি এবং এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। প্রতিপক্ষ ট্রিস্টান, যাঁকে "সাধারণ বাস্কেটবল খেলোয়াড়" বলা হয়েছে। খেলার শর্ত ছিল, যিনি আগে পরপর একটি লে-আপ, একটি ফ্রি থ্রো, একটি থ্রি-পয়েন্টার এবং একটি হাফ-কোর্ট শট সফল করবেন, তিনিই এক লক্ষ ডলার জিতবেন।

শুরু থেকেই ট্রিস্টান দ্রুত এগিয়ে যান। অন্যদিকে জিয়ানিস ফ্রি থ্রোতে আটকে যান। ফ্রি থ্রো যে তাঁর দুর্বল দিক, তা নিয়ে সেখানে হালকা খোঁচাও দেওয়া হয়। জিয়ানিস ফ্রি থ্রো সফল করার আগেই ট্রিস্টান থ্রি-পয়েন্টার শেষ করে হাফ-কোর্ট শটে পৌঁছে যান এবং সেটিও ঢুকিয়ে ফেলেন। জিয়ানিস তখনও পেছনে ছিলেন। পুরো ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে যান। হেরে যাওয়ার পর জিয়ানিস নিজেই বলেন তিনি এখন খুব "সল্টি" বা বিরক্ত। মিস্টারবিস্ট মন্তব্য করেন, এই লোকটি মিলওয়াকিতে এসে পকেটে এক লক্ষ ডলার নিয়ে ফিরে গেলেন।

স্টেফ কারি বনাম হাই স্কুলের সেরা শ্যুটার

জিয়ানিস হেরে যাওয়ায় পরের চ্যালেঞ্জে আনা হয় স্টেফ কারিকে। ভিডিওতে বলা হয়, তিনি এনবিএর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি থ্রি-পয়েন্টার করেছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ ডেমারিয়ন, যাঁকে একটি হাই স্কুলের এক নম্বর শ্যুটার বলে পরিচয় দেওয়া হয়। খেলাটি হয় পুরো স্কুলের সামনে। কারি ৩০ সেকেন্ডে যতগুলো সম্ভব থ্রি-পয়েন্টার করবেন। ডেমারিয়ন সেই সংখ্যা ছাড়াতে দ্বিগুণ সময়, অর্থাৎ ৬০ সেকেন্ড পাবেন।

খেলার আগে ডেমারিয়নকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি কারি না লেব্রন জেমসকে বেশি পছন্দ করেন। তিনি সোজাসুজি লেব্রনের নাম বলেন। মিস্টারবিস্ট রসিকতা করেন যে প্রতিপক্ষকে খেলার আগে রাগিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। কারি কয়েকটি শট মিস করলেও ৩০ সেকেন্ডে ১৪টি থ্রি-পয়েন্টার সফল করেন।

ডেমারিয়নের শুরুটা ধীর ছিল। মাঝপথে তিনি কিছুটা ছন্দ ফিরে পান, কিন্তু শেষ শট পর্যন্ত কারির ১৪টিতে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি বলেন খেলাটি তাঁর জন্য সম্মানের ছিল। কারি টাকাটি "Eat. Learn. Play." ফাউন্ডেশনে দান করতে বলেন।

রেসিং ট্র্যাকে ড্যান টিকটাম বনাম রনি

এরপর প্রতিযোগিতা সরে যায় রেসিং ট্র্যাকে। ভিডিওতে ড্যান টিকটামকে দুইবারের ফর্মুলা চ্যাম্পিয়ন বলে পরিচয় দেওয়া হয়। তাঁর প্রতিপক্ষ মিস্টারবিস্টের বন্ধু রনি। রনি যেহেতু পেশাদার এফই ড্রাইভার নন, তাই নিয়ম দাঁড়ায় এমন: ড্যান চার ল্যাপ শেষ করার আগে রনিকে তিন ল্যাপ শেষ করতে হবে। রনি জিতলে এক লক্ষ ডলার পাবেন। ড্যান জিতলে টাকা যাবে তাঁর পছন্দের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে।

রনিকে জিজ্ঞেস করা হয় আগের ভিডিওগুলোতে তিনি কত টাকা হারিয়েছেন। উত্তর ছিল ৭৫০ হাজার ডলার। মিস্টারবিস্ট জানতে চান এবার সেটা ৮৫০ হাজার হবে কি না। মিস্টারবিস্ট এও জানান, ভিডিওর জন্য টেস্ট ল্যাপ চালানোর সময় তিনি নিজে কয়েক জি বল নিয়ে দেয়ালে ধাক্কা খেয়েছিলেন। তাই রনি সাবধানে চালালে তিনি তাঁকে দোষ দেবেন না।

রেস শুরুতে রনি একটু দ্রুত বেরিয়ে যান, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ড্যান তাঁকে অনেক পেছনে ফেলে দেন। ধারাভাষ্য অনুযায়ী, রনি যখন সাবধানে চালাচ্ছিলেন, ড্যান তখন ঘণ্টায় প্রায় ২০০ মাইল বেগে ছুটছিলেন। রনিকে গতি জিজ্ঞেস করলে তিনি ১১২ বলেন। ড্যান যখন দ্বিতীয় ল্যাপে, রনি তখন সবে প্রথম ল্যাপ শেষ করেছেন। শেষ পর্যন্ত রনির তিন ল্যাপ শেষ হওয়ার আগেই ড্যান চার ল্যাপ শেষ করে জিতে যান। ড্যান টাকাটি যুক্তরাজ্যের প্রবীণ সেনাদের দাতব্য সংস্থা হেল্প ফর হিরোসে দান করতে বলেন।

২০ হাজার দর্শকের সামনে ড্যামিয়ান লিলার্ড

পরের চ্যালেঞ্জটি হয় প্রায় ২০,০০০ দর্শকে ভরা একটি স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ ড্যামিয়ান লিলার্ড। ভিডিওতে বলা হয়, তিনি এক খেলায় ৭০-এর বেশি পয়েন্ট পাওয়া মাত্র তিনজন খেলোয়াড়ের একজন। শর্ত ছিল, লিলার্ড তিনটি শট সফল করার আগে দর্শকদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া একজন সাধারণ মানুষ একটি শট সফল করতে পারলে এক লক্ষ ডলার পাবেন।

লিলার্ডের প্রথম শটটি মিস হয়। তবে এরপর তিনি দুটি শট সফল করে তিনের মধ্যে দুইয়ে পৌঁছে যান। চ্যালেঞ্জারের প্রথম চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়। ভিডিওতে মন্তব্য করা হয়, লিলার্ড "স্পষ্টতই সহজভাবে" খেলছেন। লিলার্ডের তৃতীয় শটের আগে চ্যালেঞ্জার শেষ পর্যন্ত একটি শট ঢুকিয়ে দেন এবং স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের সামনে এক লক্ষ ডলার জেতেন। অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টা সত্যিই অবাস্তব লাগছে, আর বাবাকে ধন্যবাদ দেন।

অ্যারন জাজের হোম রান ডার্বি

বেসবল পর্বে আনা হয় অ্যারন জাজকে। ভিডিওতে তাঁকে দুইবারের এমভিপি ও ছয়বারের অল-স্টার বলা হয়। দাবি করা হয়, গত পাঁচ বছরে বেসবলে তাঁর চেয়ে বেশি হোম রান কেউ করেননি। প্রতিপক্ষ চ্যান্ডলার, যাঁকে "দ্বিতীয় বিভাগের জাগারনাট" বলে মজা করে পরিচয় দেওয়া হয়। চ্যান্ডলার নিজেই জানান, তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে হোম রান একটি। জাজ বলেন তাঁর হোম রান ৩০০-এর বেশি। ব্যবধান কমাতে জাজকে ১০টি সুইং আর চ্যান্ডলারকে ২০টি সুইং দেওয়া হয়।

জাজের শুরু তুলনামূলক ধীর ছিল। তবে মাঝপথে তিনি ছন্দ পান এবং শেষ পর্যন্ত ১০ সুইংয়ে ৫টি হোম রান করেন। এরপর চ্যান্ডলারকে বলা হয়, ছয়টি হোম রান করলে তিনি এক লক্ষ ডলার পাবেন এবং বলতে পারবেন যে তিনি অ্যারন জাজকে হারিয়েছেন।

চ্যান্ডলারের সুইংগুলো বেশিরভাগই এদিক-ওদিক চলে যায়। একটি গিয়ে টেলিফোনের খুঁটিতে লাগে, কোনোটা পপ ফ্লাই হয়, কোনোটা প্রথম বেসম্যান ধরে ফেলেন। জাজের কাছে পরামর্শ চাইলে জাজ সঙ্গে সঙ্গে "না" বলে দেন। ১৩টি সুইংয়ে একটিও হোম রান না হওয়ায় মিস্টারবিস্ট শর্ত সহজ করেন: চ্যান্ডলার মাত্র একটি হোম রান করলেই উপস্থিত প্রত্যেককে এক লক্ষ ডলার দেওয়া হবে।

শেষ কয়েকটি সুইংয়ে চ্যান্ডলার কয়েকবার ওয়ার্নিং ট্র্যাক পর্যন্ত বল পাঠান। শেষ সুইংয়ের বল বেড়া থেকে প্রায় দুই ফুট দূরে থেমে যায়। জাজ টাকাটি অল রাইজ ফাউন্ডেশনে দান করতে বলেন। চ্যান্ডলার রসিকতা করেন যে টাকাটা বাচ্চাদের কাছে যাচ্ছে বলেই তিনি ইচ্ছা করে কোনো হোম রান করেননি।

বিশ্বরেকর্ডধারী শ্বাস ধরে রাখার চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে পাঁচজন

এই পর্বের কাঠামো আলাদা ছিল। এক বিশ্বরেকর্ডধারী ব্রেথ-হোল্ডারের বিরুদ্ধে পাঁচজন প্রতিযোগী পানির ট্যাঙ্কে নামেন। তাঁরা পালাক্রমে পানির নিচে থেকে মিলিতভাবে তাঁর চেয়ে বেশি সময় শ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। পুরস্কার একটি একেবারে নতুন ল্যাম্বরগিনি। রেকর্ডধারী জানান, তিনি ৪৮ বছর বয়সে এই চর্চা শুরু করেছিলেন এবং এখন তাঁর বয়স ৬০। শুরুতে প্রতিযোগীদের বলা হয় তাঁর সেরা সময় "পাঁচ মিনিটের মতো"। পরে মিস্টারবিস্টের মুখে "আগামী ২০ মিনিট" কথাটা শুনে প্রতিযোগীরা আপত্তি তোলেন। একজন প্রতিযোগী জানান, তিনি সাঁতারই জানেন না।

চ্যালেঞ্জ শুরু হতেই প্রতিযোগীরা দ্রুত বুঝতে পারেন কাজটি কত কঠিন। প্রথমজন মাত্র ২৩ সেকেন্ডে উঠে আসেন। এক মিনিটের মাথায় তৃতীয় জন পানিতে নামেন। খুব তাড়াতাড়ি পুরো ভার গিয়ে পড়ে শেষ প্রতিযোগীর ওপর। তিনিও ভয় পেয়ে উঠে আসেন। পাঁচজন মিলে মোট টিকতে পারেন ৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ড।

অন্যদিকে রেকর্ডধারী তখনও পানির নিচে শ্বাস ধরে ছিলেন। ভিডিও অনুযায়ী তিনি একটানা ১১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড শ্বাস বন্ধ রাখেন এবং উঠে এসে জানান তিনি ঠিক আছেন।

জোয়ি চেস্টনাট বনাম চার সুমো কুস্তিগীর

নেইমার পর্বের আগে শেষ প্রতিযোগিতা ছিল হট ডগ খাওয়া। একদিকে জোয়ি চেস্টনাট। মিস্টারবিস্ট মজা করে বলেন তিনি "ইতিহাসের প্রতিটি হট ডগ খাওয়ার প্রতিযোগিতার বিজয়ী"। অন্যদিকে চারজন সুমো কুস্তিগীর, যাঁদের সম্মিলিত ওজন ১,৫০০ পাউন্ডের বেশি। ১০ মিনিটে যে পক্ষ বেশি হট ডগ খাবে, তারাই এক লক্ষ ডলার পাবে।

ধারাভাষ্য অনুযায়ী, এক মিনিটেই জোয়ি ১০টি হট ডগ খেয়ে ফেলেন। আলাদাভাবে হিসাব করলে প্রত্যেক সুমো কুস্তিগীর তাঁর গতির প্রায় দশ ভাগের এক ভাগে খাচ্ছিলেন। আড়াই মিনিটে জোয়ি ২০ নম্বর হট ডগে পৌঁছান, আর সুমোরা মিলে তখন ১১টিতে। এক সুমো কুস্তিগীর মাঝপথেই জানান তাঁর পেট ভরে গেছে। শেষ হিসাবে জোয়ি একাই ৪৬টি হট ডগ খান, চার সুমো মিলে খান ৩৩টি। জোয়ি টাকাটি ইন্ডিয়ানার গ্লিনার্স ফুড ব্যাংকে দান করতে বলেন। তিনি জানান, সংস্থাটি নিশ্চিত করে যেন বাচ্চারা ক্ষুধার্ত না থাকে।

এ পর্যায়ে মিস্টারবিস্ট বলেন, এতক্ষণে তিনি প্রায় দশ লক্ষ ডলার দান করেছেন।

নেইমার বনাম হিগর: অর্ধ মিলিয়ন ডলারের পেনাল্টি চ্যালেঞ্জ

চূড়ান্ত পর্বে আসেন নেইমার। ভিডিওতে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয় ২৮টি শিরোপা, একটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার মুকুটের মাধ্যমে। প্রতিপক্ষ হিগর, আর বাজি পাঁচ লক্ষ ডলার। হিগর জিতলে টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। নেইমার জিতলে যাবে তাঁর পছন্দের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। শুরুতেই নেইমার হিগরকে "তুমি হেরে গেছো" বলে খোঁচা দেন।

নিয়ম ছিল, পেনাল্টি স্পট থেকে শুরু হবে। দুজনেই গোল করলে শুটিং পয়েন্ট ১৫ ফুট পিছিয়ে যাবে। যতক্ষণ না একজন গোল করেন আর অন্যজন মিস করেন, ততক্ষণ এভাবে পিছিয়ে যাওয়া চলবে, দরকার হলে পুরো মাঠ পর্যন্ত। গোলরক্ষক নেই, গোলপোস্ট খালি। রক-পেপার-সিজার্সে জিতে নেইমার আগে শট নেন। প্রথম কয়েকটি দূরত্বে দুজনেই সহজে গোল করেন। মিস্টারবিস্ট ব্যাখ্যা করেন, প্রথম চারটি শটের জন্য নেইমারের মতো খেলোয়াড় দরকার হয় না, কিন্তু আরও দূরে গেলে সাধারণ খেলোয়াড় আর অভিজাত খেলোয়াড়ের পার্থক্য স্পষ্ট হবে।

এক পর্যায়ে নেইমারের একটি শট গোলের বাইরে দিয়ে বেঁকে গিয়ে ভেতরে ঢোকে। বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা জানতে চাইলে নেইমার বলেন, বিশ্বকাপে চাপ আরও বেশি। পরে হিগর একটি শট মিস করেন। নিয়ম অনুযায়ী নেইমার গোল করলেই জিতে যেতেন, মিস করলে আবার শট হতো। তখন নেইমার নিজের জন্য কঠিন শর্ত বেছে নেন: তাঁর গোল তখনই গণ্য হবে যদি বল ক্রসবারে লেগে ভেতরে যায়। শটটি সেভাবে না যাওয়ায় খেলা চলতে থাকে। মিস্টারবিস্ট মন্তব্য করেন, হিগর ভাগ্যবান যে নেইমার একজন ক্ষমাশীল মানুষ।

পরের দূরত্বে নেইমার নিজেই হিগরকে শিখিয়ে দেন ক্যামেরার দিকে লক্ষ্য রেখে শট নিতে। হিগর সেভাবেই গোল করেন। এরপর খেলা পৌঁছায় মাঝমাঠে। সেখানে নেইমারের শটটি গোললাইনের ওপর গিয়ে থামে। দুজনে কাছে গিয়ে দেখেন। মিস্টারবিস্ট ব্যাখ্যা করেন, বল লাইন স্পর্শ করে থাকলে প্রযুক্তিগতভাবে সেটি গোল নয়, তাই নেইমারের শট গণ্য হয়নি। এখন হিগর মাঝমাঠ থেকে গোল করলেই জিতবেন।

হিগর মাঝমাঠ থেকে শট নিয়ে গোল করেন এবং পাঁচ লক্ষ ডলার জিতে নেন। এরপর হঠাৎ তিমির পোশাক পরা কয়েকজন মাঠে ঢুকে উদযাপনে যোগ দেন। মিস্টারবিস্ট নিজেও স্বীকার করেন তিনি বুঝতে পারছেন না কী হচ্ছে, আর এই বিশৃঙ্খল উদযাপনের মধ্য দিয়েই ভিডিও শেষ হয়।