১০০ শিশুর স্বপ্নপূরণ: ডিজনি ওয়ার্ল্ড থেকে লেব্রন জেমস, আর শেষে শিশু-ক্যান্সার গবেষণার জন্য তহবিলের আহ্বান

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

এই ভিডিওতে মি. বিস্ট (জিমি) এক দিনে নয়, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে মোট ১০০টি শিশুর একটি করে বড় স্বপ্ন বা "উইশ" পূরণের চেষ্টা দেখিয়েছেন। এই শিশুদের বেশিরভাগই ক্যান্সারসহ গুরুতর অসুখের সঙ্গে লড়ছে। শুরুতেই তিনি বলেন, আমাদের অনেকের শৈশব হয়তো স্বাভাবিক কেটেছে, কিন্তু ম্যাকের মতো শিশুদের শৈশব কেটেছে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে। ভিডিওর প্রথম অংশে নানা ধরনের উইশ পূরণের ঘটনা। শেষ অংশে প্রশ্নটা বড় হয়ে ওঠে: এমন শিশুদের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, আর শিশুদের ক্যান্সার নির্মূলের জন্য কী করা দরকার।

13 মিনিটে পড়া
0:19

প্রথম উইশ: ম্যাকের স্কিয়িং

ম্যাকের ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষ হয়েছে। সেটা উদযাপন করতে তাঁকে বলা হয়, জীবনে যা চাও তা-ই এখন নিতে পারো। ম্যাক চায় স্কিয়িং করতে। দলটি স্কি করতে যায়, আর জিমি মজা করে বলেন, যে শেষে পৌঁছাবে সে "পচা ডিম"।

এই দৃশ্যের সঙ্গে ম্যাকের মা একটি স্মৃতির কথা বলেন। যেদিন ক্যান্সার ধরা পড়ে, ম্যাক তাঁর হাত ধরে বলেছিল, "মা, হয়তো কষ্ট হবে, কিন্তু আমি ঠিক হয়ে যাবো।" স্কিয়িং শেষ হলে সবাই উল্লাস করে "তুমি পেরেছো!" বলে। জিমি জানান, এটি এই ভিডিওতে পূরণ হতে যাওয়া ১০০টি উইশের প্রথমটি মাত্র। তাঁর কথায়, এই উইশগুলো পূরণ করতে বিশ্বের সেরা ক্রিয়েটর, মিউজিশিয়ান, পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা এবং লেব্রন জেমসের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে এসেছেন।

রিভারের বিস্ফোরণ বাটন

পরের উইশে রিভার শুধু জিমির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। জিমি বলেন, তিনি পরিকল্পনাটা আরেকটু বিশেষ করে তুলেছেন। রিভারের সামনে একটি বাটন রাখা হয়, যা চাপলে বিশাল এক বিস্ফোরণ হবে। কেমন লাগছে জানতে চাইলে রিভার বলে, ভয় লাগছে। জিমিও স্বীকার করেন, তাঁরও ভয় লাগছে। বিস্ফোরণের পর রিভারের প্রতিক্রিয়া ছিল, "দারুণ ছিল এটা!"

৩০ শিশুর জন্য পুরো ডিজনি ওয়ার্ল্ড

জিমির ভাষায় দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় উইশ হলো "সেই ম্যাজিকাল জায়গায়" যাওয়া। তাই ৩০ জন শিশুকে পুরো ডিজনি ওয়ার্ল্ড একা উপভোগের সুযোগ দেওয়া হয়। কোনো লাইন নেই, সোজা রাইডে গিয়ে উঠে পড়লেই হলো। কারো কারো জন্য এটাই ছিল প্রথমবার আসা।

কেউ প্রিয় রাইডে ব্যস্ত ছিল, কেউ ক্যারোসেলে চড়ছিল, কেউ প্রিয় চরিত্রদের সঙ্গে দেখা করছিল। আর কয়েকজন শিশু চাইছিল দলের সদস্য তারেককে ভয় পেতে দেখতে। তারেক আগেই বলেছিলেন যে রোলার কোস্টার তাঁর একদম ভালো লাগে না। শিশুদের "করো! করো!" চিৎকারের মধ্যে তাঁকে রাইডে তোলা হয়। পরে তিনি স্বীকার করেন, খুব মজা হয়েছে।

হাসপাতালের আলাপ: উইশ কেন জরুরি

জিমি জানান, আরও অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো বাকি, আর এই উইশ পূরণে দা রক, স্পিডসহ আরও অনেকে যোগ দিয়েছেন। এরপর তিনি একটি হাসপাতালে গিয়ে প্রশ্ন করেন, এই উইশগুলো পূরণ করা কেন জরুরি।

সেখানকার একজন উত্তর দেন, এই উইশগুলো জীবন বাঁচানোর চিকিৎসারই একটা অংশ। এর উদ্দেশ্য শিশুদের এমন একটি সুন্দর স্মৃতি দেওয়া, যা তাদের লড়তে সাহায্য করবে। জিমি বলেন, এ কারণেই তাঁর এই ভিডিও। উত্তরদাতা যোগ করেন, এটা শিশুদের এবং তাদের পরিবারকে সাহস দেয়। ভিডিওর পরের সব উইশের পেছনের যুক্তি হিসেবে এই আলাপটি গুরুত্বপূর্ণ।

হোয়েল শার্ক, থিয়েটার, রকেট আর এফ ওয়ান

এরপর ভিডিওতে দ্রুত কয়েকটি উইশ দেখানো হয়:

  • অ্যাডিসন চেয়েছিল হোয়েল শার্কের সঙ্গে সাঁতার কাটতে। ভিডিওতে বলা হয়, এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছ। অ্যাডিসনের প্রতিক্রিয়া ছিল, সে বিশ্বাসই করতে পারছে না।
  • ডেইজি লন্ডনে থাকে এবং থিয়েটারের জন্য পাগল। তাকে একটি সারপ্রাইজ ভিআইপি অভিজ্ঞতা আর একটি ছোট উপহার দেওয়া হয়।
  • ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের সঙ্গে একটি মিশনে শিশুরা উৎক্ষেপণের আগে আসল ফ্যালকন নাইন রকেটে সই করার সুযোগ পায়।
  • হ্যারি ও ব্রায়ান্ট এফ ওয়ান দেখার স্বপ্ন পূরণ করে। গাড়ির শব্দে মাটি কাঁপছে, এটা টের পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়।

প্যারিসের ভক্তরা

প্যারিসে কয়েকজন শিশুর চোখের পট্টি খুলে জানানো হয়, শোনা গেছে তারা এই চ্যানেলের বড় ভক্ত। ভিডিওতে বলা হয়, চারজন শিশু একটি মি. বিস্ট চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিল এবং মি. বিস্টের লোগো এঁকেছিল। দলের একজন রসিকতা করে বলেন, তাঁর আঁকা লোগো এখন দেয়ালে ঝুলছে, আর জিজ্ঞেস করেন, "জিমি, আমারটার কী হলো?" শিশুরা জিমিকে দেখে "মি. বিস্ট!" বলে চিৎকার করে ওঠে এবং তাঁকে "চরম" ও "লেজেন্ড" বলে।

লেব্রন জেমস এবং হাউজ থ্রি থার্টি

একদল শিশু শুধু জিমির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। জিমি বলেন, তিনি "আরেকটু লম্বা কাউকে" নিয়ে এসেছেন। তারা বাস্কেটবলের ভক্ত শুনে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন লেব্রন জেমসকে, যাঁকে তিনি অল-টাইম গ্রেটেস্ট বাস্কেটবল প্লেয়ার বলেন। শিশুরা বিশ্বাস করতে পারছিল না। একজন জানায়, সে ভেবেছিল স্বপ্ন দেখছে। লেব্রনের পরামর্শে একজন শিশু শট নেয়, বলটি ঢুকে যায়, আর সে চিৎকার করে বলে, "আমি সত্যি পেরেছি!"

এরপর লেব্রন আরেকটি সারপ্রাইজ দেন। সামনের গলিতে তাঁর ফাউন্ডেশনের "হাউজ থ্রি থার্টি", যার চাবি তিনি শিশুদের হাতে তুলে দেন। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, এটি শুধু গেমস আর খাবারের কমিউনিটি সেন্টার নয়। লেব্রন ফাউন্ডেশন অ্যাক্রনের পরিবারগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং সেখানকার কমিউনিটি বদলে দিতে কাজ করছে। ভবনে লেব্রনের নিজের একটি বেডরুমও আছে। শিশুরা মজা করে সেখানে ঢুকে বলে, "লেব্রন চিন্তা করো না, আমরা তোমার ঘরের খেয়াল রাখছি।" এর মধ্যে স্পিডও কল করেন।

পুরো মল ভাড়া: "বিল আমি দেবো"

পরের দলকে নেওয়া হয় পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি শপিং মলে, এবং সারাদিনের জন্য মলটি পুরোপুরি তাদের। জিমি এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে এই শিশুদের অনেকে হয়তো জীবনে এমন অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেনি। তাই এমন একটি মল পুরো ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখানে "লিটারেলি সবকিছু" পাওয়া যায়।

শিশুরা থিম পার্কের রাইডে চড়ে। এলা নামের একটি শিশুর সঙ্গে রাইডে আবার তারেককে ভয় পেতে দেখা যায়। এরপর জিমি ঘোষণা করেন, পেছনের দোকানে যা দেখা যাচ্ছে সব ফ্রি, বিল তিনি দেবেন। শিশুরা কার্ট উপচে জিনিস ভরতে থাকে। দলের একজন রসিকতা করেন, জিনিসগুলো দামি বলেই বেশি মজা লাগছে, কারণ টাকা যাচ্ছে জিমির ক্রেডিট কার্ড থেকে।

কার্ট এত ভরে যায় যে সাহায্যের জন্য কয়েকজন বন্ধুকে ডাকা হয়। বাজেট জানতে চাইলে উত্তর আসে, "আনলিমিটেড"। সান্তিয়াগো নামের এক শিশুর জন্য জিনিসপত্র তুলে দিতে দলের একজনকে কাজে লাগানো হয়, এই খোঁচা দিয়ে যে তিনি একদম ব্যায়াম করেন না। শেষে সবাই মজা করে বলে, সান্তিয়াগো তো পুরো দোকানটাই পেয়ে গেল।

যে শিশুরা ক্যামেরায় আসতে চায়নি

ভিডিওতে স্পষ্ট বলা হয়, কোনো শিশু ভিডিওতে আসতে না চাইলে তাকে জোর করা হয়নি, তবে তাদের উইশও পূরণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এমন এক শিশুর কথা বলা হয়, যে ভিডিওতে আসতে চায়নি। জিমি বলেন, এটা পুরোপুরি ঠিক আছে। জিমি তাকে হাই বলতে আসেন, কারণ শিশুটি তাঁর ভিডিও দেখে। সঙ্গে একটি নতুন মনিটর আর আইবাইপাওয়ার পিসি নিয়ে আসেন, যাতে সে ইচ্ছেমতো গেম খেলতে পারে।

এই অংশে একটি প্রশ্নও তোলা হয়: বাসা থেকে যারা দেখছেন, তারা পরিচিত কোনো ক্যান্সার রোগীকে কীভাবে সাপোর্ট করতে পারেন? একজন বলেন, স্থানীয় হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে বা রোগীদের গল্প শুনিয়ে পাশে থাকা যায়। আরেকজনের পরামর্শ আরও সহজ: চেনা কেউ ক্যান্সার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে শুধু দেখা করতে যাও, তাতেই তারা খুব খুশি হবে।

6:56

জেরেমায়ার স্টিলার্স স্বপ্ন

জেরেমায়ার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল স্টিলার্সের হয়ে খেলা। দলটি তাকে সারপ্রাইজ দিতে স্টিলার্সের কাছে যায়। জার্সি পরে মাঠে নেমে জেরেমায়া খেলে এবং টাচডাউন করে। আশপাশ থেকে সবাই "গো জেরি!" বলে উৎসাহ দেয়, আর শেষে তাকে "কিং জেরেমায়া" বলে ডাকা হয়।

এই দৃশ্যের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে। সার্জারির কারণে জেরেমায়া কোনো কন্ট্যাক্ট স্পোর্টস খেলতে পারে না। তাই তার পাশের একজন বলেন, তিনি এমন একটি স্বপ্ন সত্যি হতে দেখছেন যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। তাঁর আশা, এই অনুপ্রেরণা জেরেমায়াকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

প্রিয় ইউটিউবার, তারকা ও শখের উইশ

বর্ণনাকারী বলেন, দুর্ভাগ্যের কথা হলো অসুখ এই শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে। তাই তাদের প্রিয় ইউটিউবারদের সঙ্গে খেলার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর একের পর এক উইশ দেখানো হয়:

  • এক শিশুকে লরেন জি সাইড এবং দুই শিশুকে কেএসআই পেছন থেকে এসে সারপ্রাইজ দেন।
  • একটি খেলনার দোকানে জিমির "আনলিমিটেড ক্রেডিট কার্ড" দেওয়া হয়। শিশুরা পাঁচটা পিএসফাইভ নেয়, প্রতি ঘরের জন্য একটা।
  • এজরা কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডজের সঙ্গে দেখা করে এবং তাদের লাইভ পারফর্ম করতে দেখে। পর্দায় তখন অগ্রগতি দেখায় ৮০/১০০।
  • ব্রুক বিখ্যাত শেফ ক্রিস্টিনা তোসির সঙ্গে রান্না করে, আর মেনুতে নিজের বানানো একটি ডেজার্ট যোগ করে।
  • শেলবি স্যাম আর কলবির সঙ্গে ভেগাসের একটি হন্টেড মিউজিয়াম ঘোরে। ভিডিওতে বলা হয়, কলবিরও ক্যান্সার হয়েছিল, তাই শেলবি তাঁর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারে।
  • জোশুয়া পায় বহুদিনের পছন্দের লেজার এনগ্রেভার। তার কথায়, কল্পনার চেয়েও সুন্দর কিছু পেয়েছে।
  • আলিয়া অ্যাপলের প্রোডাক্ট চেয়েছিল, তাকে সেভাবেই সারপ্রাইজ দেওয়া হয়।

আরেকটি উইশের জন্য পুরো "ভিডিও সেট"ই শিশুদের কাছে নিয়ে আসা হয়। একটি ঘরে মি. বিস্ট ভিডিওর একটি মিনি সংস্করণের সেট সাজানো ছিল, যাতে মি. বিস্ট ভিডিওতে ছোট একটি পার্ট করার শখ পূরণ হয়। শিশুটি দৃশ্যে অভিনয় করে ("চলো, দ্বীপে যাওয়া যাক!") এবং শেষে একটি নতুন এক্সবক্স উপহার পায়।

9:08

হাওয়াই, মোয়ানা আর প্রিমিয়ার

পরের উইশে ডিজনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৩ জন শিশুকে হাওয়াইয়ে ডিজনির আউলানি রিসোর্টে এক সপ্তাহের ট্রিপে পাঠানো হয়। স্বাগত জানানোর সময় এক শিশু নিজেই "আলোহা! হাওয়াইয়ে স্বাগতম" বলতে চায়, আর তাকে বলতে দেওয়া হয়। তারা মিকি মাউস ও তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে, সমুদ্রে সময় কাটায় এবং হেলিকপ্টারে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখে।

শিশুরা মোয়ানার বড় ভক্ত, তাই তাদের মোয়ানার কাস্টদের সঙ্গে একটি পার্টিতে নিমন্ত্রণ করা হয়। সেখানে তারা অনেক ছবি তোলে। জিমি বলেন, তিনি তাদের উইশের থেকেও বেশি কিছু দিতে চাইছিলেন। তাই তাদের 'মোয়ানা'র প্রিমিয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুরা লিমুজিনে আসে, জানে না যে জিমি সেখানে আছেন, আর তাঁকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়। ছবি দেখার পর এক শিশু বলে, কল্পনার চেয়েও অনেক সুন্দর। ভিডিওতে ডিজনিকে আগে দেখতে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং বলা হয়, দর্শক যখন ভিডিওটি দেখছেন ততদিনে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে।

এরপর বর্ণনাকারী ডিজনিকে "বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বপ্নপূরণকারী সংস্থা" বলে উল্লেখ করেন, যারা পরের উইশটিতেও সাহায্য করেছে। সেখানে এমানুয়েল নামের এক শিশু জিমির বড় ভক্ত। তাঁকে দেখে সে আবেগে প্রায় কেঁদে ফেলে এবং জিমিকে জড়িয়ে ধরে।

10:47

গিভ কিডস দা ওয়ার্ল্ড এবং সিন্ডারেলা ক্যাসেল সুইট

ভিডিওতে বলা হয়, ডিজনির উইশ গ্র্যান্টিং প্রতিষ্ঠান আর "গিভ কিডস দা ওয়ার্ল্ড" প্রতিদিন এমন অনেক শিশুর স্বপ্ন পূরণ করে চলেছে। এই সংস্থায় দান করলে অসুস্থ শিশুদের এক সপ্তাহের ফ্রি ছুটির ব্যবস্থা করা যায়, যাতে তারা কিছু অমূল্য স্মৃতি তৈরি করতে পারে।

এর সঙ্গে একটি সুযোগের কথাও বলা হয়। জিমির ভাষায় সিন্ডারেলা ক্যাসেল সুইট "বিশ্বের সবচেয়ে ইউনিক রুম", যা ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মাঝখানে ক্যাসেলের চূড়ায় এবং টাকা দিয়ে কোথাও কেনা যায় না। গিভ কিডস দা ওয়ার্ল্ডে ১০ ডলার দান করলে এই রুমে থাকার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। বর্ণনাকারী বলেন, ভিডিওতে যা দেখা গেছে এই সংস্থা সেই কাজগুলোই করে: কঠিনতম সময় পার করা শিশুদের বাঁচার আনন্দ আর স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়। তাই তাদের সাহায্য করা উচিত।

11:49

নাম না জানানো শিশুর উইশ: রক্তদান ক্যাম্পেইন

পুরো যাত্রার শেষে জিমি "সবচেয়ে বড় উইশার" হিসেবে এমন এক শিশুর কথা বলেন, যে নিজের নাম বলতে চায়নি। তার উইশ ছিল, অন্য ক্যান্সার রোগীদের যেন সাহায্য করা হয়। সেই উইশ থেকেই একটি বড় রক্তদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে একজন ব্যাখ্যা করেন, তারা রক্ত, লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকা দান করছেন যাদের দরকার তাদের জন্য। কীভাবে এটা কাজে লাগে, সেই প্রশ্নে বলা হয়, ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় শরীরের রক্তকোষ নষ্ট হয়ে যায়, যা ভালো রক্ত দিয়ে পূরণ করতে হয়। ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৪ লক্ষ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। জিমি অবাক হয়ে জোর দিয়ে বলেন, "৪ লক্ষ মানুষ নয়, ৪ লক্ষ বাচ্চা!"

ভিডিওতে আরও বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২-৩% রক্ত দান করেন। এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া মানুষদের কারণে তাঁরা ১,০০০টি জীবন বাঁচানোর মতো রক্ত জোগাড় করতে পেরেছেন বলে জানানো হয়। একজন বলেন, টাকা দিয়ে সাহায্য করতে না পারলেও রক্ত দেওয়া একটা দারুণ উপায়। জিমি লাইনটিকে "টাকা দিতে না পারলে রক্ত দিন!" হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটা তাঁর পছন্দ হয়েছে। এক রক্তদাতার শিশুকে মজা করে বলা হয়, তার বাবা রক্ত দিয়েছেন, তাই এক সপ্তাহ বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।

13:00

শিশু-ক্যান্সার গবেষণা ও ৬ মিলিয়ন ডলারের অনুদান

শেষ অংশে ভিডিওতে বলা হয়, প্রতি বছর ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি শিশু ক্যান্সারে মারা যায়। তাদের বাঁচাতে কাজ করছেন অসংখ্য ডাক্তার, গবেষক এবং সেন্ট বালড্রিকসের মতো প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকেরা, যাঁরা ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে থাকতে নিজেদের মাথা ন্যাড়া করেন। একজন জানান, লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের সময় জিমির ভিডিও তাঁকে অনেক শক্তি দিয়েছিল। অ্যামজেনের মতো কোম্পানিগুলো ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা খুঁজছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এক বক্তা আশা প্রকাশ করেন যে নতুন গবেষণার ফলে হয়তো শিশুদের আর আড়াই বছর ধরে যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি নিতে হবে না। এটি তাঁর আশা হিসেবেই বলা হয়েছে, কোনো প্রমাণিত ফল হিসেবে নয়। স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সারের মতো সংগঠনের কথা বলে বক্তারা বিশ্বাস প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন ক্যান্সারমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠবে। আরেকজন নিজের অভিজ্ঞতা জানান: ২১ বছর বয়সে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে। সঠিক চিকিৎসা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারণে তিনি নানা ধরনের চিকিৎসার সুযোগ পান, এবং এখন ৫ বছর ধরে ক্যান্সারমুক্ত।

জিমি বলেন, এই ভিডিওতে ১০০ শিশুর স্বপ্ন পূরণ হতে দেখা গেছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো সমাজকে ক্যান্সারমুক্ত করা। তাঁর বর্ণনায়, স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার এই লক্ষ্যে একটি "ড্রিম টিম" গড়েছে এবং তহবিল তুলছে, যাতে বিশ্বের সেরা গবেষকদের একসঙ্গে এনে শিশুদের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়। তাই তিনি এই মিশনকে সমর্থন করছেন। তিনি জানান, তিনি, অ্যামজেন এবং সেন্ট বালড্রিকসের বন্ধুরা মিলে এই ড্রিম টিমের কাজ শুরুর জন্য ৬ মিলিয়ন ডলার দান করছেন।

তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, এই সমস্যার সমাধানে ৬০ লাখ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি তহবিল প্রয়োজন। তাই তিনি দর্শকদের ডেসক্রিপশনের লিংক থেকে দান করতে বলেন এবং আহ্বান জানান, "আরও জীবন বাঁচাতে, চলুন এটা দ্বিগুণ করি।" কোনো শিশুকে যেন আর ক্যান্সারে ভুগতে না হয়, এই সহায়তা সে কাজে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে কত তহবিল লাগবে, সেই প্রশ্নের উত্তর ভিডিওতে খোলাই থেকে যায়।