১০০ শিশুর স্বপ্নপূরণ: ডিজনি ওয়ার্ল্ড থেকে লেব্রন জেমস, আর শেষে শিশু-ক্যান্সার গবেষণার জন্য তহবিলের আহ্বান
MrBeast ミスタービーストএই ভিডিওতে মি. বিস্ট (জিমি) এক দিনে নয়, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে মোট ১০০টি শিশুর একটি করে বড় স্বপ্ন বা "উইশ" পূরণের চেষ্টা দেখিয়েছেন। এই শিশুদের বেশিরভাগই ক্যান্সারসহ গুরুতর অসুখের সঙ্গে লড়ছে। শুরুতেই তিনি বলেন, আমাদের অনেকের শৈশব হয়তো স্বাভাবিক কেটেছে, কিন্তু ম্যাকের মতো শিশুদের শৈশব কেটেছে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে। ভিডিওর প্রথম অংশে নানা ধরনের উইশ পূরণের ঘটনা। শেষ অংশে প্রশ্নটা বড় হয়ে ওঠে: এমন শিশুদের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, আর শিশুদের ক্যান্সার নির্মূলের জন্য কী করা দরকার।
প্রথম উইশ: ম্যাকের স্কিয়িং
ম্যাকের ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষ হয়েছে। সেটা উদযাপন করতে তাঁকে বলা হয়, জীবনে যা চাও তা-ই এখন নিতে পারো। ম্যাক চায় স্কিয়িং করতে। দলটি স্কি করতে যায়, আর জিমি মজা করে বলেন, যে শেষে পৌঁছাবে সে "পচা ডিম"।
এই দৃশ্যের সঙ্গে ম্যাকের মা একটি স্মৃতির কথা বলেন। যেদিন ক্যান্সার ধরা পড়ে, ম্যাক তাঁর হাত ধরে বলেছিল, "মা, হয়তো কষ্ট হবে, কিন্তু আমি ঠিক হয়ে যাবো।" স্কিয়িং শেষ হলে সবাই উল্লাস করে "তুমি পেরেছো!" বলে। জিমি জানান, এটি এই ভিডিওতে পূরণ হতে যাওয়া ১০০টি উইশের প্রথমটি মাত্র। তাঁর কথায়, এই উইশগুলো পূরণ করতে বিশ্বের সেরা ক্রিয়েটর, মিউজিশিয়ান, পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা এবং লেব্রন জেমসের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে এসেছেন।
রিভারের বিস্ফোরণ বাটন
পরের উইশে রিভার শুধু জিমির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। জিমি বলেন, তিনি পরিকল্পনাটা আরেকটু বিশেষ করে তুলেছেন। রিভারের সামনে একটি বাটন রাখা হয়, যা চাপলে বিশাল এক বিস্ফোরণ হবে। কেমন লাগছে জানতে চাইলে রিভার বলে, ভয় লাগছে। জিমিও স্বীকার করেন, তাঁরও ভয় লাগছে। বিস্ফোরণের পর রিভারের প্রতিক্রিয়া ছিল, "দারুণ ছিল এটা!"
৩০ শিশুর জন্য পুরো ডিজনি ওয়ার্ল্ড
জিমির ভাষায় দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় উইশ হলো "সেই ম্যাজিকাল জায়গায়" যাওয়া। তাই ৩০ জন শিশুকে পুরো ডিজনি ওয়ার্ল্ড একা উপভোগের সুযোগ দেওয়া হয়। কোনো লাইন নেই, সোজা রাইডে গিয়ে উঠে পড়লেই হলো। কারো কারো জন্য এটাই ছিল প্রথমবার আসা।
কেউ প্রিয় রাইডে ব্যস্ত ছিল, কেউ ক্যারোসেলে চড়ছিল, কেউ প্রিয় চরিত্রদের সঙ্গে দেখা করছিল। আর কয়েকজন শিশু চাইছিল দলের সদস্য তারেককে ভয় পেতে দেখতে। তারেক আগেই বলেছিলেন যে রোলার কোস্টার তাঁর একদম ভালো লাগে না। শিশুদের "করো! করো!" চিৎকারের মধ্যে তাঁকে রাইডে তোলা হয়। পরে তিনি স্বীকার করেন, খুব মজা হয়েছে।
হাসপাতালের আলাপ: উইশ কেন জরুরি
জিমি জানান, আরও অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো বাকি, আর এই উইশ পূরণে দা রক, স্পিডসহ আরও অনেকে যোগ দিয়েছেন। এরপর তিনি একটি হাসপাতালে গিয়ে প্রশ্ন করেন, এই উইশগুলো পূরণ করা কেন জরুরি।
সেখানকার একজন উত্তর দেন, এই উইশগুলো জীবন বাঁচানোর চিকিৎসারই একটা অংশ। এর উদ্দেশ্য শিশুদের এমন একটি সুন্দর স্মৃতি দেওয়া, যা তাদের লড়তে সাহায্য করবে। জিমি বলেন, এ কারণেই তাঁর এই ভিডিও। উত্তরদাতা যোগ করেন, এটা শিশুদের এবং তাদের পরিবারকে সাহস দেয়। ভিডিওর পরের সব উইশের পেছনের যুক্তি হিসেবে এই আলাপটি গুরুত্বপূর্ণ।
হোয়েল শার্ক, থিয়েটার, রকেট আর এফ ওয়ান
এরপর ভিডিওতে দ্রুত কয়েকটি উইশ দেখানো হয়:
- অ্যাডিসন চেয়েছিল হোয়েল শার্কের সঙ্গে সাঁতার কাটতে। ভিডিওতে বলা হয়, এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছ। অ্যাডিসনের প্রতিক্রিয়া ছিল, সে বিশ্বাসই করতে পারছে না।
- ডেইজি লন্ডনে থাকে এবং থিয়েটারের জন্য পাগল। তাকে একটি সারপ্রাইজ ভিআইপি অভিজ্ঞতা আর একটি ছোট উপহার দেওয়া হয়।
- ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের সঙ্গে একটি মিশনে শিশুরা উৎক্ষেপণের আগে আসল ফ্যালকন নাইন রকেটে সই করার সুযোগ পায়।
- হ্যারি ও ব্রায়ান্ট এফ ওয়ান দেখার স্বপ্ন পূরণ করে। গাড়ির শব্দে মাটি কাঁপছে, এটা টের পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়।
প্যারিসের ভক্তরা
প্যারিসে কয়েকজন শিশুর চোখের পট্টি খুলে জানানো হয়, শোনা গেছে তারা এই চ্যানেলের বড় ভক্ত। ভিডিওতে বলা হয়, চারজন শিশু একটি মি. বিস্ট চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিল এবং মি. বিস্টের লোগো এঁকেছিল। দলের একজন রসিকতা করে বলেন, তাঁর আঁকা লোগো এখন দেয়ালে ঝুলছে, আর জিজ্ঞেস করেন, "জিমি, আমারটার কী হলো?" শিশুরা জিমিকে দেখে "মি. বিস্ট!" বলে চিৎকার করে ওঠে এবং তাঁকে "চরম" ও "লেজেন্ড" বলে।
লেব্রন জেমস এবং হাউজ থ্রি থার্টি
একদল শিশু শুধু জিমির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। জিমি বলেন, তিনি "আরেকটু লম্বা কাউকে" নিয়ে এসেছেন। তারা বাস্কেটবলের ভক্ত শুনে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন লেব্রন জেমসকে, যাঁকে তিনি অল-টাইম গ্রেটেস্ট বাস্কেটবল প্লেয়ার বলেন। শিশুরা বিশ্বাস করতে পারছিল না। একজন জানায়, সে ভেবেছিল স্বপ্ন দেখছে। লেব্রনের পরামর্শে একজন শিশু শট নেয়, বলটি ঢুকে যায়, আর সে চিৎকার করে বলে, "আমি সত্যি পেরেছি!"
এরপর লেব্রন আরেকটি সারপ্রাইজ দেন। সামনের গলিতে তাঁর ফাউন্ডেশনের "হাউজ থ্রি থার্টি", যার চাবি তিনি শিশুদের হাতে তুলে দেন। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়, এটি শুধু গেমস আর খাবারের কমিউনিটি সেন্টার নয়। লেব্রন ফাউন্ডেশন অ্যাক্রনের পরিবারগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং সেখানকার কমিউনিটি বদলে দিতে কাজ করছে। ভবনে লেব্রনের নিজের একটি বেডরুমও আছে। শিশুরা মজা করে সেখানে ঢুকে বলে, "লেব্রন চিন্তা করো না, আমরা তোমার ঘরের খেয়াল রাখছি।" এর মধ্যে স্পিডও কল করেন।
পুরো মল ভাড়া: "বিল আমি দেবো"
পরের দলকে নেওয়া হয় পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি শপিং মলে, এবং সারাদিনের জন্য মলটি পুরোপুরি তাদের। জিমি এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে এই শিশুদের অনেকে হয়তো জীবনে এমন অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেনি। তাই এমন একটি মল পুরো ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখানে "লিটারেলি সবকিছু" পাওয়া যায়।
শিশুরা থিম পার্কের রাইডে চড়ে। এলা নামের একটি শিশুর সঙ্গে রাইডে আবার তারেককে ভয় পেতে দেখা যায়। এরপর জিমি ঘোষণা করেন, পেছনের দোকানে যা দেখা যাচ্ছে সব ফ্রি, বিল তিনি দেবেন। শিশুরা কার্ট উপচে জিনিস ভরতে থাকে। দলের একজন রসিকতা করেন, জিনিসগুলো দামি বলেই বেশি মজা লাগছে, কারণ টাকা যাচ্ছে জিমির ক্রেডিট কার্ড থেকে।
কার্ট এত ভরে যায় যে সাহায্যের জন্য কয়েকজন বন্ধুকে ডাকা হয়। বাজেট জানতে চাইলে উত্তর আসে, "আনলিমিটেড"। সান্তিয়াগো নামের এক শিশুর জন্য জিনিসপত্র তুলে দিতে দলের একজনকে কাজে লাগানো হয়, এই খোঁচা দিয়ে যে তিনি একদম ব্যায়াম করেন না। শেষে সবাই মজা করে বলে, সান্তিয়াগো তো পুরো দোকানটাই পেয়ে গেল।
যে শিশুরা ক্যামেরায় আসতে চায়নি
ভিডিওতে স্পষ্ট বলা হয়, কোনো শিশু ভিডিওতে আসতে না চাইলে তাকে জোর করা হয়নি, তবে তাদের উইশও পূরণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এমন এক শিশুর কথা বলা হয়, যে ভিডিওতে আসতে চায়নি। জিমি বলেন, এটা পুরোপুরি ঠিক আছে। জিমি তাকে হাই বলতে আসেন, কারণ শিশুটি তাঁর ভিডিও দেখে। সঙ্গে একটি নতুন মনিটর আর আইবাইপাওয়ার পিসি নিয়ে আসেন, যাতে সে ইচ্ছেমতো গেম খেলতে পারে।
এই অংশে একটি প্রশ্নও তোলা হয়: বাসা থেকে যারা দেখছেন, তারা পরিচিত কোনো ক্যান্সার রোগীকে কীভাবে সাপোর্ট করতে পারেন? একজন বলেন, স্থানীয় হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে বা রোগীদের গল্প শুনিয়ে পাশে থাকা যায়। আরেকজনের পরামর্শ আরও সহজ: চেনা কেউ ক্যান্সার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে শুধু দেখা করতে যাও, তাতেই তারা খুব খুশি হবে।
জেরেমায়ার স্টিলার্স স্বপ্ন
জেরেমায়ার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল স্টিলার্সের হয়ে খেলা। দলটি তাকে সারপ্রাইজ দিতে স্টিলার্সের কাছে যায়। জার্সি পরে মাঠে নেমে জেরেমায়া খেলে এবং টাচডাউন করে। আশপাশ থেকে সবাই "গো জেরি!" বলে উৎসাহ দেয়, আর শেষে তাকে "কিং জেরেমায়া" বলে ডাকা হয়।
এই দৃশ্যের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসে। সার্জারির কারণে জেরেমায়া কোনো কন্ট্যাক্ট স্পোর্টস খেলতে পারে না। তাই তার পাশের একজন বলেন, তিনি এমন একটি স্বপ্ন সত্যি হতে দেখছেন যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। তাঁর আশা, এই অনুপ্রেরণা জেরেমায়াকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
প্রিয় ইউটিউবার, তারকা ও শখের উইশ
বর্ণনাকারী বলেন, দুর্ভাগ্যের কথা হলো অসুখ এই শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে। তাই তাদের প্রিয় ইউটিউবারদের সঙ্গে খেলার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর একের পর এক উইশ দেখানো হয়:
- এক শিশুকে লরেন জি সাইড এবং দুই শিশুকে কেএসআই পেছন থেকে এসে সারপ্রাইজ দেন।
- একটি খেলনার দোকানে জিমির "আনলিমিটেড ক্রেডিট কার্ড" দেওয়া হয়। শিশুরা পাঁচটা পিএসফাইভ নেয়, প্রতি ঘরের জন্য একটা।
- এজরা কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডজের সঙ্গে দেখা করে এবং তাদের লাইভ পারফর্ম করতে দেখে। পর্দায় তখন অগ্রগতি দেখায় ৮০/১০০।
- ব্রুক বিখ্যাত শেফ ক্রিস্টিনা তোসির সঙ্গে রান্না করে, আর মেনুতে নিজের বানানো একটি ডেজার্ট যোগ করে।
- শেলবি স্যাম আর কলবির সঙ্গে ভেগাসের একটি হন্টেড মিউজিয়াম ঘোরে। ভিডিওতে বলা হয়, কলবিরও ক্যান্সার হয়েছিল, তাই শেলবি তাঁর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারে।
- জোশুয়া পায় বহুদিনের পছন্দের লেজার এনগ্রেভার। তার কথায়, কল্পনার চেয়েও সুন্দর কিছু পেয়েছে।
- আলিয়া অ্যাপলের প্রোডাক্ট চেয়েছিল, তাকে সেভাবেই সারপ্রাইজ দেওয়া হয়।
আরেকটি উইশের জন্য পুরো "ভিডিও সেট"ই শিশুদের কাছে নিয়ে আসা হয়। একটি ঘরে মি. বিস্ট ভিডিওর একটি মিনি সংস্করণের সেট সাজানো ছিল, যাতে মি. বিস্ট ভিডিওতে ছোট একটি পার্ট করার শখ পূরণ হয়। শিশুটি দৃশ্যে অভিনয় করে ("চলো, দ্বীপে যাওয়া যাক!") এবং শেষে একটি নতুন এক্সবক্স উপহার পায়।
হাওয়াই, মোয়ানা আর প্রিমিয়ার
পরের উইশে ডিজনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৩ জন শিশুকে হাওয়াইয়ে ডিজনির আউলানি রিসোর্টে এক সপ্তাহের ট্রিপে পাঠানো হয়। স্বাগত জানানোর সময় এক শিশু নিজেই "আলোহা! হাওয়াইয়ে স্বাগতম" বলতে চায়, আর তাকে বলতে দেওয়া হয়। তারা মিকি মাউস ও তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে, সমুদ্রে সময় কাটায় এবং হেলিকপ্টারে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখে।
শিশুরা মোয়ানার বড় ভক্ত, তাই তাদের মোয়ানার কাস্টদের সঙ্গে একটি পার্টিতে নিমন্ত্রণ করা হয়। সেখানে তারা অনেক ছবি তোলে। জিমি বলেন, তিনি তাদের উইশের থেকেও বেশি কিছু দিতে চাইছিলেন। তাই তাদের 'মোয়ানা'র প্রিমিয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুরা লিমুজিনে আসে, জানে না যে জিমি সেখানে আছেন, আর তাঁকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়। ছবি দেখার পর এক শিশু বলে, কল্পনার চেয়েও অনেক সুন্দর। ভিডিওতে ডিজনিকে আগে দেখতে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং বলা হয়, দর্শক যখন ভিডিওটি দেখছেন ততদিনে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে।
এরপর বর্ণনাকারী ডিজনিকে "বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বপ্নপূরণকারী সংস্থা" বলে উল্লেখ করেন, যারা পরের উইশটিতেও সাহায্য করেছে। সেখানে এমানুয়েল নামের এক শিশু জিমির বড় ভক্ত। তাঁকে দেখে সে আবেগে প্রায় কেঁদে ফেলে এবং জিমিকে জড়িয়ে ধরে।
গিভ কিডস দা ওয়ার্ল্ড এবং সিন্ডারেলা ক্যাসেল সুইট
ভিডিওতে বলা হয়, ডিজনির উইশ গ্র্যান্টিং প্রতিষ্ঠান আর "গিভ কিডস দা ওয়ার্ল্ড" প্রতিদিন এমন অনেক শিশুর স্বপ্ন পূরণ করে চলেছে। এই সংস্থায় দান করলে অসুস্থ শিশুদের এক সপ্তাহের ফ্রি ছুটির ব্যবস্থা করা যায়, যাতে তারা কিছু অমূল্য স্মৃতি তৈরি করতে পারে।
এর সঙ্গে একটি সুযোগের কথাও বলা হয়। জিমির ভাষায় সিন্ডারেলা ক্যাসেল সুইট "বিশ্বের সবচেয়ে ইউনিক রুম", যা ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মাঝখানে ক্যাসেলের চূড়ায় এবং টাকা দিয়ে কোথাও কেনা যায় না। গিভ কিডস দা ওয়ার্ল্ডে ১০ ডলার দান করলে এই রুমে থাকার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। বর্ণনাকারী বলেন, ভিডিওতে যা দেখা গেছে এই সংস্থা সেই কাজগুলোই করে: কঠিনতম সময় পার করা শিশুদের বাঁচার আনন্দ আর স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়। তাই তাদের সাহায্য করা উচিত।
নাম না জানানো শিশুর উইশ: রক্তদান ক্যাম্পেইন
পুরো যাত্রার শেষে জিমি "সবচেয়ে বড় উইশার" হিসেবে এমন এক শিশুর কথা বলেন, যে নিজের নাম বলতে চায়নি। তার উইশ ছিল, অন্য ক্যান্সার রোগীদের যেন সাহায্য করা হয়। সেই উইশ থেকেই একটি বড় রক্তদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে একজন ব্যাখ্যা করেন, তারা রক্ত, লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকা দান করছেন যাদের দরকার তাদের জন্য। কীভাবে এটা কাজে লাগে, সেই প্রশ্নে বলা হয়, ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় শরীরের রক্তকোষ নষ্ট হয়ে যায়, যা ভালো রক্ত দিয়ে পূরণ করতে হয়। ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৪ লক্ষ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। জিমি অবাক হয়ে জোর দিয়ে বলেন, "৪ লক্ষ মানুষ নয়, ৪ লক্ষ বাচ্চা!"
ভিডিওতে আরও বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২-৩% রক্ত দান করেন। এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া মানুষদের কারণে তাঁরা ১,০০০টি জীবন বাঁচানোর মতো রক্ত জোগাড় করতে পেরেছেন বলে জানানো হয়। একজন বলেন, টাকা দিয়ে সাহায্য করতে না পারলেও রক্ত দেওয়া একটা দারুণ উপায়। জিমি লাইনটিকে "টাকা দিতে না পারলে রক্ত দিন!" হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটা তাঁর পছন্দ হয়েছে। এক রক্তদাতার শিশুকে মজা করে বলা হয়, তার বাবা রক্ত দিয়েছেন, তাই এক সপ্তাহ বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
শিশু-ক্যান্সার গবেষণা ও ৬ মিলিয়ন ডলারের অনুদান
শেষ অংশে ভিডিওতে বলা হয়, প্রতি বছর ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি শিশু ক্যান্সারে মারা যায়। তাদের বাঁচাতে কাজ করছেন অসংখ্য ডাক্তার, গবেষক এবং সেন্ট বালড্রিকসের মতো প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকেরা, যাঁরা ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে থাকতে নিজেদের মাথা ন্যাড়া করেন। একজন জানান, লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের সময় জিমির ভিডিও তাঁকে অনেক শক্তি দিয়েছিল। অ্যামজেনের মতো কোম্পানিগুলো ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা খুঁজছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এক বক্তা আশা প্রকাশ করেন যে নতুন গবেষণার ফলে হয়তো শিশুদের আর আড়াই বছর ধরে যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি নিতে হবে না। এটি তাঁর আশা হিসেবেই বলা হয়েছে, কোনো প্রমাণিত ফল হিসেবে নয়। স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সারের মতো সংগঠনের কথা বলে বক্তারা বিশ্বাস প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন ক্যান্সারমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠবে। আরেকজন নিজের অভিজ্ঞতা জানান: ২১ বছর বয়সে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে। সঠিক চিকিৎসা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারণে তিনি নানা ধরনের চিকিৎসার সুযোগ পান, এবং এখন ৫ বছর ধরে ক্যান্সারমুক্ত।
জিমি বলেন, এই ভিডিওতে ১০০ শিশুর স্বপ্ন পূরণ হতে দেখা গেছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো সমাজকে ক্যান্সারমুক্ত করা। তাঁর বর্ণনায়, স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার এই লক্ষ্যে একটি "ড্রিম টিম" গড়েছে এবং তহবিল তুলছে, যাতে বিশ্বের সেরা গবেষকদের একসঙ্গে এনে শিশুদের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়। তাই তিনি এই মিশনকে সমর্থন করছেন। তিনি জানান, তিনি, অ্যামজেন এবং সেন্ট বালড্রিকসের বন্ধুরা মিলে এই ড্রিম টিমের কাজ শুরুর জন্য ৬ মিলিয়ন ডলার দান করছেন।
তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, এই সমস্যার সমাধানে ৬০ লাখ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি তহবিল প্রয়োজন। তাই তিনি দর্শকদের ডেসক্রিপশনের লিংক থেকে দান করতে বলেন এবং আহ্বান জানান, "আরও জীবন বাঁচাতে, চলুন এটা দ্বিগুণ করি।" কোনো শিশুকে যেন আর ক্যান্সারে ভুগতে না হয়, এই সহায়তা সে কাজে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে কত তহবিল লাগবে, সেই প্রশ্নের উত্তর ভিডিওতে খোলাই থেকে যায়।
আমি আজ ১০০ বাচ্চার একটা করে জীবনের বড় স্বপ্ন পূরণ করছি! কারণ আমাদের অনেকেরই শৈশব হয়তো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ম্যাকের মতো বাচ্চাদের শৈশব কেটেছে জীবনের সাথে লড়াই করে। তবে ম্যাকের ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট শেষ হওয়া সেলিব্রেটের জন্য…
তোমাকে একটা উইশ দেয়া হলো, তুমি জীবনে যা চাও, তাই এখন নিতে পারো। তুমি কী চাও? স্কিয়িং করা।
চলে এসেছি! অলরাইট, যে শেষে থাকবে সেটা একটা পচা ডিম!
যেদিন ক্যান্সার ধরা পড়ে, ম্যাক আমার হাত ধরেছিল। আর বলেছিল, "মা, হয়তো কষ্ট হবে, কিন্তু আমি ঠিক হয়ে যাবো।"
তুমি পেরেছো! ইয়েস!
আর এটা কেবল ১০০টা উইশের প্রথমটা ছিল, যা আমরা এই ভিডিওতে পূরণ করতে যাচ্ছি। বিশ্বের সেরা ক্রিয়েটরস, সেরা আর সেরা মিউজিশিয়ান, অ্যাওয়ার্ড উইনিং অ্যাক্টরস আর লেজেন্ডারি অ্যাথলেট যেমন লেব্রন জেমস… হ্যাঁ, সত্যি লেব্রন জেমস আছে এই ভিডিওতে! এই উইশগুলো পূরণ করতে আমরা সবাই একসাথে এসেছি।
তবে আমাদের নেক্সট উইশে… রিভার শুধু আমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিল। প্ল্যানটা আরেকটু স্পেশাল করলাম।
এই বাটনটা রেডি। তুমি প্রেস করলেই বিশাল এক বিস্ফোরণ হবে! কেমন ফিল হচ্ছে? ভয় লাগছে। হ্যাঁ! আমারও। সেইম!
সাবস্ক্রাইব করুন।
ওহ! দারুণ ছিল এটা!
আর দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় উইশ হচ্ছে সেই ম্যাজিকাল জায়গায় যাওয়া! তোমরা ৩০ জন পুরো ডিজনি ওয়ার্ল্ড একাই এনজয় করবে!
অলরাইট, রাইডে চড়ার জন্য রেডি সবাই? হ্যাঁ! এখানে প্রথমবার এলে? আহা। অনেক মজা হবে আজকে। আজকের দিনটা সেরা হবে! কোনো লাইন নেই! সোজা রাইডে গিয়ে উঠে পড়ো।
আমার রোলার কোস্টার একদম ভালো লাগে না, ওদের এখনই সেটা বলে দেব নাকি?
আর কেউ কেউ যখন পছন্দের রাইড নিয়ে ব্যস্ত… চলো যাই! চলো এবার ক্যারোসেলে চড়ি! বা প্রিয় ক্যারেক্টারদের সাথে দেখা করতে… কয়েকজন চাচ্ছিল তারেককে ভয় পেতে দেখতে!
করো! করো! করো! এটা লাগাও। আচ্ছা, ঠিক আছে, ঠিক আছে। ওকে। থ্রি! টু! ওয়ান!
ওহ! ও মাই গড! খুব মজা হচ্ছে।
কিন্তু আরও অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো বাকি! দ্য রক, স্পিডসহ আরও অনেকে এসেছে এই উইশগুলো পূরণ করতে।
একটা হাসপাতালে আছি। জানতে চাই এই উইশগুলো পূরণ করা কেন জরুরি? এই উইশগুলো জীবন বাঁচানোর চিকিৎসারই একটা অংশ। এমন এক সুন্দর স্মৃতি দিতে চাই যা ওদের লড়তে সাহায্য করবে। আর এজন্যই আমার এই ভিডিও। একদম। এটা ওদের আর ওদের পরিবারকে সাহস দেয়।
আমাদের নেক্সট উইশে অ্যাডিসন হোয়েল শার্কের সাথে সাঁতার কাটতে চেয়েছিল। ওরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছ। ওই জিনিসটা? হ্যাঁ, ওটাই! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না। ওর স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে।
আর ওদিকে লন্ডনে… থিয়েটারের জন্য পাগল ডেইজিকে আমরা একটা সারপ্রাইজ ভিআইপি এক্সপেরিয়েন্স দিচ্ছি। তোমার জন্য একটা ছোট গিফট এনেছি।
আমাদের পরের মিশনটা ছিল ব্লু অরিজিন আর স্পেসএক্সের সাথে। যেখানে বাচ্চারা আসল ফ্যালকন নাইনের রকেটে সাইন করার সুযোগ পাবে, তাও আবার এটি লঞ্চ হওয়ার আগে।
আর হ্যারি আর ব্রায়ান্ট এফ ওয়ান দেখার স্বপ্নটা সত্যি হতে দেখল। মাটি কাঁপছে একদম ফিল করা যাচ্ছে! হ্যাঁ, একদম!
আর প্যারিসে… চোখের পট্টি খুলে ফেলো। শুনলাম তোমরা নাকি এই চ্যানেলের খুব বড় ফ্যান!
চারজন বাচ্চা মি. বিস্ট চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিল। মি. বিস্ট লোগো পেইন্ট করেছে… আর ওটা এখন আমার দেয়ালে ঝুলছে! জিমি, আমারটার কী হলো? নোলান, এটা আবার কী?
শুনলাম তোমরা চ্যানেলের বিশাল ফ্যান। ওহ! কী অবস্থা তোমাদের? মি. বিস্ট! কী খবর, লিটল ম্যান? মি. বিস্ট! তুমি জাস্ট চরম! এক কথায় লেজেন্ড! আরে থ্যাংক ইউ।
ওরা শুধু আমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি আরেকটু লম্বা কাউকে নিয়ে এলাম।
শুনলাম তোমরা বাস্কেটবলের ফ্যান। আজ শুধু আমার সাথেই দেখা হচ্ছে না। তোমাদের সাথে দেখা করতে আসছে অল-টাইম গ্রেটেস্ট বাস্কেটবল প্লেয়ার লেব্রন জেমস! নো ওয়ে! ও মাই গড! ভাই, এটা জাস্ট অসাধারণ! আসার জন্য থ্যাংকস। ব্যাপার না। আমার জাস্ট মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে! প্রচণ্ড এক্সাইটেড লাগছে!
লাক ভালো হলে জলদি ওকে দিয়ে একটা শট নেয়াতে পারো। হ্যাঁ, করা যায়। ওহ ইয়েস! আমি স্বপ্নে নেই তো? ভাবছিলাম বুঝি স্বপ্ন দেখছি।
একদম স্কয়ারটার মধ্যে হিট করবে। এই তো হয়ে গেছে! তুমি সত্যিই পেরেছো!
ওহ ওহ! অবিশ্বাস্য! আমি সত্যি পেরেছি!
তোমাদের জন্য একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ আছে। সামনের গলিটায় আমার ফাউন্ডেশনের হাউজ থ্রি থার্টি আছে। সেটার চাবি তোমাদের হাতে দিচ্ছি এক দারুণ এক্সপেরিয়েন্সের জন্য। এটা দারুণ!
এই ফাউন্ডেশন শুধু গেমস আর খাবারের কমিউনিটি সেন্টার না… ওই ক্যারামেল ফাজ ব্রাউনিটা খেতে ইচ্ছা করছে। …লেব্রন ফাউন্ডেশন অ্যাক্রনে থাকা পরিবারগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং এর কমিউনিটিকে বদলে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে ওর নিজের বেডরুমও আছে।
কিছু মনে করো না। লেব্রন, চিন্তা করো না, আমরা তোমার ঘরের খেয়াল রাখছি। ভালোভাবেই রাখছি, লেব্রন!
দেখো কে কল করেছে! আরে ভাই স্পিড! লেটস গো!
আর গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পরের বাচ্চাদের আমি নিয়ে এলাম পৃথিবীর অন্যতম বড় শপিং মলে।
সবাই চোখের পট্টি খোলো। সারাদিনের জন্য মলটা পুরো তোমাদের। যা ইচ্ছা করো! থিম পার্কে যেতে চাও? হ্যাঁ। অলরাইট, চলো যাওয়া যাক!
ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য এই বাচ্চাদের অনেক হয়তো জীবনে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা এনজয় করতে পারেনি। তাই এমন একটা মল পুরো ভাড়া নিয়ে ওদের সারপ্রাইজ দিলাম, যেখানে লিটারেলি সবকিছু এভেইলেবল।
ইয়েস! এবার অনেক মজা হবে! ইয়েস!
তারেক, নোলান। চলো অন্য রাইডে যাই। মনে হচ্ছে আর জায়গা খালি নেই। হ্যাঁ, তোমাদের নামতে হবে।
আমার নাম তারেক। তোমার নাম কী? এলা। এলা, নাইস টু মিট ইউ। ওহ, এটা তো খুব ভয়ংকর! হেই তারেক, ভয় পেও না! এটা অত ভয়ের না, তাই না?
তবে তারেককে ভয় পেতে দেখা ছাড়াও আরও স্পেশাল সারপ্রাইজ ছিল। পেছনের দোকানের যা জিনিস দেখো সব ফ্রি, বিল আমি দেবো! ইয়েস! যাও, আনন্দ করো।
আমাদের কেউ থামাতে পারবে না! এটা একদম ফ্রি ক্যান্ডি শপের মতো লাগছে। যা ধরবে সবই ফ্রি। ওটা? একদম ফ্রি। এটাও ফ্রি, ওইটাও ফ্রি।
জিনিসগুলো দামি বলেই বেশি মজা লাগছে, কারণ টাকা জিমির ক্রেডিট কার্ড থেকে যাচ্ছে!
একদম! ওতেই তো আসল মজা। এই নাও। পার্স চাই? নিয়ে নাও! যা পছন্দ হয় সব তোমার! এর চেয়ে বেশি আর নিতে পারবে না, তাই তো? আরে ভাই, আরও উঁচু বানাতে পারি!
বাচ্চারা কার্টগুলো এত বেশি জিনিস দিয়ে ভরছিল… ও তো পুরো গাদাগাদি করে ভরছে! তাই ওদের হেল্প করার জন্য কয়েকজন ফ্রেন্ডকে ডেকে নিলাম।
বাজেট কত? আনলিমিটেড! সব ফ্রি। ও মাই গড! ইনফিনিট বাজেট!
সান্তিয়াগোকে জিনিসপত্র তুলে দিতে সাহায্য করবে? ও একদম ব্যায়াম করে না, তাই ওকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি। আহ! ওয়ার্কআউট করি না মানে… আচ্ছা!
এই সব সান্তিয়াগোর জন্য। একদম সব! হ্যাঁ, ওর জন্য আরও একটা খোলো। এগুলো সব সান্তিয়াগোর। সান্তিয়াগো! ওইটাও কি সান্তিয়াগোর? হ্যাঁ! সান্তিয়াগো তো পুরো দোকানটাই পেয়ে গেল!
দেখেছো ওরা কত হ্যাপি! দারুণ একটা এক্সপেরিয়েন্স হচ্ছে। চলো আরও মানুষকে সাহায্য করি। দেখা হয়ে ভালো লাগলো, থ্যাংক ইউ।
কোনো বাচ্চা ভিডিওতে আসতে না চাইলে জোর করা হয়নি। তবে তাদের উইশও পূরণ করা হয়। যেমন এই বাচ্চাটা ভিডিওতে আসতে চায়নি, দ্যাটস টোটালি ফাইন!
বাসা থেকে যারা দেখছেন তারা পরিচিত কোনো ক্যান্সার রোগীকে কীভাবে সাপোর্ট করতে পারেন? স্থানীয় হাসপাতালে ভলান্টিয়ার হয়ে বা রোগীদের গল্প শুনিয়ে পাশে থাকা যায়… আমি বলবো তোমার চেনা কেউ হাসপাতালে ক্যান্সার নিয়ে ভর্তি থাকলে জাস্ট দেখা করতে যাও। ওতেই ওরা খুব খুশি হবে।
তোমরা যে ভিডিও দেখো সেটা জেনে তোমাদের হাই বলতে এলাম। সাথে ব্র্যান্ড নিউ মনিটর আর আইবাইপাওয়ার পিসিও নিয়ে আসলাম। তোমার যা ইচ্ছা গেমস খেলতে পারবে এখন। টেক কেয়ার ম্যান, দেখা হয়ে ভালো লাগলো। থ্যাংক ইউ। ব্যাপার না।
পরের উইশে আমরা যাচ্ছি স্টিলার্স ক্লাবে জেরেমায়াকে সারপ্রাইজ দিতে। অলরাইট, জার্সিটা পরে নিই, খেলা তো কেবল শুরু!
জেরেমায়ার স্বপ্ন আজ পূরণ হতে চলেছে। স্টিলার্সের হয়ে খেলা ওর ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল। জেন্টলম্যান, তোমরা রেডি তো? হ্যাঁ একদম!
হু হু! আরও সামনে যাও! কাম অন! গো জেরি! চালিয়ে যাও জেরি।
কাম অন! টাচডাউন! দারুণ খেলেছ! তোমার আনন্দ হচ্ছে? অনেক!
ওর জন্য আমি অনেক খুশি। ওর স্বপ্ন সত্যি হতে দেখছি। যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। অলরাইট! কাম অন! সার্জারির জন্য ও কোনো কনট্যাক্ট স্পোর্টস খেলতে পারে না। তবে এই অনুপ্রেরণা ওকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
আহাহা! তুমিই সেরা, কিং জেরেমায়া! চুলে বরফ লেগে গেছে! একদম ঠিক জায়গায়! হেভি লাগছে দেখতে!
দুর্ভাগ্যের কথা হলো অসুখ এই বাচ্চাদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে। তাই ওদের প্রিয় ইউটিউবারদের সাথে খেলার ব্যবস্থা করলাম। এখন ওরা সবাই খেলবে।
কী অবস্থা সবার? লরেন জেডসাইডকে চেনো তুমি? হ্যাঁ। ও যদি ঠিক তোমার পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকে?
দুই বাচ্চাকে কেএসআইকে নিয়ে সারপ্রাইজ দিলাম… পেছনে ঘুরে দেখো। ও মাই গড! হে গাইজ! হাই!
আর খেলনার দোকানে দেওয়া হলো আমার আনলিমিটেড ক্রেডিট কার্ড! আমরা তো পাঁচটা পিএসফাইভ নিয়েছি! পাঁচটা! প্রতি ঘরের জন্য একটা!
স্ট্রে কিডস ব্যান্ডের সাথে এজরা দেখা করার সুযোগ পেল…
৮০/১০০
এমনকি লাইভ পারফর্ম করতে দেখলো! থ্যাংক ইউ মি. বিস্ট!
ব্রুক বিখ্যাত শেফ ক্রিস্টিনা তোসির সাথে রান্না করার সুযোগ পেল। এটা অসাধারণ হয়েছে! আর মেনুতে নিজের বানানো একটা ডেজার্ট যোগ করলো। একদম দারুণ ব্যাপার!
শেলবি স্যাম আর কলবির সাথে ভেগাসের এক হন্টেড মিউজিয়াম ঘুরল। কলবিরও ক্যান্সার হয়েছিল, তাই ওর সাথে নিজেকে মেলাতে পারি। ওদের খুব পছন্দ করি।
জোশুয়া পেল ওর বহুদিনের পছন্দের লেজার এনগ্রেভার। কল্পনার চেয়েও বেশি সুন্দর কিছু পেয়েছি।
আর আলিয়া… অ্যাপলের প্রোডাক্ট চেয়েছিল। চলো ওকে সারপ্রাইজ দিই। শুনেছি অ্যাপলের প্রোডাক্ট পছন্দ করো? থ্যাংক ইউ!
পরের উইশগুলোর জন্য আমরা ভিডিওর সেটই ওদের কাছে নিয়ে এলাম! কখনো কি মি. বিস্ট ভিডিওতে ছোট কোনো পার্ট করতে চেয়েছো? ওকে! পুরো রুমে আমাদের মিনি ভিডিও ভার্সনের সেট আপ করা আছে।
আরেকটু সামনে চলো, ইয়েস হয়ে গেছে! ওহ! দেখি বাতাসকে কাজে লাগানো যায় নাকি! চলো, দ্বীপে যাওয়া যাক!
আমাদের তরফ থেকে ব্র্যান্ড নিউ এক্সবক্স পাচ্ছো। এই নাও, একটু ভারী আছে। কনগ্র্যাচুলেশনস!
পরের উইশে ডিজনির সাথে যুক্ত হয়ে আমরা ৩ জন বাচ্চাকে হাওয়াইয়ে ডিজনির আউলানি রিসোর্টে ১ সপ্তাহের ট্রিপে পাঠালাম।
আলোহা, হাওয়াইয়ে তোমাদের স্বাগত… আমি বলতে চাই! ওহ আচ্ছা! বলতে চাও? ঠিক আছে, বলো তাহলে। আমি বলছি। আলোহা! হাওয়াইয়ে স্বাগতম। জীবনের সেরা একটা সপ্তাহ কাটাতে সবাই রেডি তো? হ্যাঁ!
আর মিকি মাউস আর তার বন্ধুদের সাথে দেখা করার পর… থ্যাংক ইউ! সমুদ্রের জলে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে…
তুমি ঠিক আছো তো? তীরে ফেরত যাচ্ছি! আমরা ওদের হেলিকপ্টারে করে পুরো দ্বীপটা দেখালাম। হেভি লাগছে!
আর ওরা মোয়ানার এত বড় ভক্ত বলে মোয়ানার কাস্টদের সাথে এক পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানানো হয়। আলোহা। আলোহা! সেখানে তাদের সাথে দেখা হলো।
কেমন আছো সবাই? হাই বলো। আজকের দিনটা কেমন কাটলো? দারুণ! আর সবাই মিলে অনেক ছবি তুললো।
আরও একটা সারপ্রাইজ ছিল। আমি তাদেরকে উইশের থেকেও আরও বেশি কিছু দিতে চাচ্ছিলাম তাই তাদের নিয়ে গেলাম মোয়ানার প্রিমিয়ার শোতে। বাচ্চাগুলো এই লিমুজিনে। ওদের ধারণা নেই আমি যে এখানে আছি!
আরে, এটা তো মি. বিস্ট! কী অবস্থা তোমাদের? ও মাই গড! হেই! দেখা হয়ে ভালো লাগলো। এসো এসো! ভালো লাগলো দেখা হয়ে! মোয়ানা মুভি দেখতে চাও? হ্যাঁ! অলরাইট, চলো গিয়ে বসি।
কেমন লাগছে বলো? দারুণ! একদম দারুণ না? একদম তাই! তাই না? কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর!
ডিজনিকে থ্যাংকস আমাদের আগেই দেখতে দেয়ার জন্য। যখন ভিডিও দেখছেন, এর মধ্যে মুভিটি মুক্তি পেয়েছে। এখনই গিয়ে মোয়ানা দেখে নিন।
তারপর ডিজনি, যা হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বপ্নপূরণকারী সংস্থা, ওরা আমাকে পরের উইশটি পূরণ করতে সাহায্য করলো।
কী অবস্থা সবার? ও মাই গড!
ও মাই গড! ও মাই গড! ইয়েস! আহা। ও মাই গড!
শুনলাম তুমি আমার বড় ফ্যান। ও মাই গড! ও মাই গড! কী অবস্থা… তুমি চ্যানেল… আমাকে কাঁদিয়ে দিলে। আমাকে বলেছে তুমি চ্যানেলের বড় ফ্যান, তাই হাই বলতে এসেছি। আরেকটা হাগ করবে? দেখা হয়ে খুব ভালো লাগলো এমানুয়েল।
প্রতিদিন এমন অনেক বাচ্চার স্বপ্ন পূরণ করে যাচ্ছে ডিজনির উইশ গ্র্যান্টিং প্রতিষ্ঠান আর গিভ কিডস দ্য ওয়ার্ল্ড। এই সংস্থায় ডোনেট করে আপনিও অসুস্থ বাচ্চাদের ১ সপ্তাহের ফ্রি ভ্যাকেশনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। যাতে তারা জীবনের কিছু অমূল্য স্মৃতি তৈরি করতে পারে।
আর এর বদলে পেতে পারেন একটা সারপ্রাইজ রাত কাটানোর সুযোগ পুরো বিশ্বের সবচেয়ে ইউনিক রুম সিন্ডারেলা ক্যাসেল সুইটে। আমরা ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মাঝখানে ক্যাসেলের চূড়াতে আছি। এটা এমন একটা রুম যেটা টাকা দিয়ে আপনি কোথাও কিনতে পারবেন না। কিন্তু আপনি বাসায় বসে এই রুমে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। শুধু গিভ কিডস দ্য ওয়ার্ল্ডে ১০ ডলার ডোনেট করতে হবে।
আপনি এই ভিডিওতে যা দেখেছেন তারা সেই কাজগুলোই করে। যে বাচ্চাগুলো জীবনের কঠিনতম সময় পার করছে তাদের বাঁচার আনন্দ দেয়, স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়। আমাদের উচিত তাদের সাহায্য করা। ডেসক্রিপশনের লিংকে ক্লিক করে ডোনেট করুন।
বিশ্বজুড়ে ঘোরার পর আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উইশার, যে নাম বলতে চায়নি, সে উইশ করেছে যে আমরা যেন অন্য ক্যান্সার রোগীদের সাহায্য করি! আর তাই আমরা আয়োজন করেছি এক বিশাল ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন!
এখানে কী কাজ হচ্ছে একটু বুঝিয়ে বলবেন? আমরা রক্ত, লোহিত রক্তকণিকা আর শ্বেত রক্তকণিকা দান করছি এগুলো যাদের দরকার তাদের জন্য। এখানে যারা রক্ত দিচ্ছে তারা মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। কিন্তু এটা ঠিক কীভাবে কাজ করে?
ক্যান্সারের ট্রিটমেন্টের সময় শরীরের রক্তের কোষ নষ্ট হয়ে যায় যা ভালো রক্ত দিয়ে পূরণ করতে হয়। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৪ লক্ষ বাচ্চা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়! ৪ লক্ষ মানুষ নয়, ৪ লক্ষ বাচ্চা! হ্যাঁ, বাচ্চা! ক্যান্সারে ভোগে! হ্যাঁ। কোনো বাচ্চার যেন ক্যান্সারে মৃত্যু না হয়। প্রচুর রক্তের দরকার এখন।
তুমি সত্যিই একজন হিরো! তোমার বাবা রক্ত দিয়েছে। বাবার সাথে ভালো হয়ে চলবে এক সপ্তাহ। আপনারা মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন।
মানুষের মধ্যে মাত্র ২-৩% প্রাপ্তবয়স্ক রক্ত দান করে থাকে। তোমাকে ধন্যবাদ তুমি এই অসাধারণ মানুষগুলোকে এখানে নিয়ে এসেছো। আর এদের জন্যই আমরা ১,০০০টা জীবন বাঁচানোর মতো রক্ত জোগাড় করতে পেরেছি।
টাকা দিয়ে সাহায্য না করতে পারলেও, রক্ত দেওয়া একটা দারুণ উপায়… কথাটা কিন্তু জাস্ট দারুণ বললে… “টাকা দিতে না পারলে রক্ত দিন!” লাইনটা আমার পছন্দ হয়েছে। রক্ত দিয়ে আপনি আসলেই কাউকে নতুন জীবন দিলেন। দারুণ একটা অনুভূতি!
প্রতি বছর ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি শিশু ক্যান্সারে ভুগে মারা যায়। কিন্তু তাদের বাঁচাতে অসংখ্য ডাক্তার, গবেষক আর সেন্ট বালড্রিকসের মতো প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়াররা। এখানকার হিরো আর ভলান্টিয়াররা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের পাশে থাকতে নিজেদের মাথা অবধি ন্যাড়া করে ফেলেন।
লিউকেমিয়ার সাথে লড়াই করার সময় আপনার ভিডিও আমায় অনেক শক্তি দিয়েছিল।
আর অ্যামজেনের মতো কোম্পানিগুলো ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা বের করতে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো বাচ্চাকে যেন ক্যান্সারে মরতে না হয়। নতুন গবেষণা থেকে আমি একটা আশা পাচ্ছি যে শিশুদের হয়তো আর আড়াই বছর ধরে যন্ত্রণাকর কেমোথেরাপির প্রয়োজন হবে না।
আর স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সারের মতো যারা দিনরাত চেষ্টা করছে অবস্থা পরিবর্তনের, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে একদিন ক্যান্সারমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠবে।
২১ বছর বয়সে আমার ক্যান্সার ধরা পড়ে। সঠিক চিকিৎসা, রিসার্চ আর উদ্ভাবনের কারণে আমি বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার সুযোগ পাই। ৫ বছর ধরে আমি ক্যান্সার ফ্রি! দারুণ ব্যাপার! শুনে খুব ভালো লাগলো।
এই ভিডিওতে ১০০ বাচ্চার স্বপ্ন পূরণ হতে দেখেছেন। আমার সাথে সবাই একমত হবে যে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হচ্ছে সমাজকে ক্যান্সারমুক্ত করা। আর এ নিয়েই কাজ করছে স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার যারা তৈরি করেছে একটা ড্রিম টিম। তারা ফান্ড তোলার ব্যবস্থাও করছে যাতে বিশ্বের সেরা গবেষকদের একসাথে নিয়ে শিশুদের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়। এজন্যই আমি এদের মিশনকে সাপোর্ট করে যাচ্ছি। তাই বন্ধুরা সবাই এগিয়ে আসো।
আমি, অ্যামজেন ও সেন্ট বালড্রিকসের বন্ধুরা মিলে ৬ মিলিয়ন ডলারের ডোনেশন দিচ্ছি যাতে এই ড্রিম টিমের কাজ শুরু করা যায়।
এই ৬ মিলিয়ন ডলার বহু বাচ্চার জীবন বদলে দেবে। ডেসক্রিপশনের লিংকে ক্লিক করুন। কারণ এই সমস্যার সুরাহা করতে আমাদের ৬০ লাখ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি ফান্ডের প্রয়োজন। কোনো শিশুকে যেন আর ক্যান্সারে ভুগতে না হয়, আশা করি আমাদের সহায়তা কাজে আসবে। সবাই ভালো থাকবেন।
আরও জীবন বাঁচাতে, চলুন এটা দ্বিগুণ করি। উপায়ের জন্য ডেসক্রিপশন দেখুন। এখনই ডোনেট করতে পারেন।
নিবন্ধ প্রকাশিত · হালনাগাদ
