১০ মিনিটে পাঁচ তলা পার হয়ে আড়াই লাখ ডলার বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ: কাটছাঁট ছাড়া রিয়েল-টাইমে ডার্সির দৌড়

YouTube-এ খুলুন ↗
সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ভিডিওর শুরুতেই জিমি (MrBeast) একটি ১০ মিনিটের টাইমার চালু করেন। টাইমার শূন্যে পৌঁছালে টাকাভর্তি একটি ঘর বিস্ফোরিত হবে। সেটি থামাতে পারেন কেবল একজন: স্ট্রেইটজ্যাকেট পরা ডার্সি। তাঁকে জ্যাকেট থেকে বেরোতে হবে, একটি টাওয়ারের পাঁচটি তলা পার হতে হবে, তারপর সময় শেষ হওয়ার আগে একটি বোতাম টিপতে হবে। জিমির ভাষায় ঝুঁকিতে আছে "এক মিলিয়ন ডলারের চতুর্থাংশ", অর্থাৎ ২,৫০,০০০ ডলার। এই চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর ফরম্যাট। জিমি বলেন, এটি তাঁদের প্রথম রিয়েল-টাইম শুট। ভিডিওটি ঠিক ১০ মিনিটের, কোনো কাট নেই, দর্শক সবকিছু দেখবেন।

7 মিনিটে পড়া

রিয়েল-টাইম ফরম্যাট: কেন কাটা যাচ্ছে না

ভিডিওটি যে সত্যিই বাস্তব সময়ের, তা প্রমাণ করতে জিমি জানান, শুরুর কিছুক্ষণ পর থেকে পর্দার এক কোণে পুরো সময় ডার্সির একটি অবিচ্ছিন্ন শট দেখা যাবে। ভিডিও জুড়ে তিনি বারবার এই ফরম্যাটের প্রসঙ্গে ফেরেন। বোল্ডার রুমে ডার্সি যখন দড়ি কাটতে অনেক সময় নিচ্ছিলেন, তখন জিমি বলেন, সাধারণত তাঁদের ভিডিওতে কেউ এত ধীরে কিছু করলে সেই অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এটি লাইভ, তাই "আক্ষরিক অর্থে" কাটা সম্ভব নয়। শেষের দিকে তিনি আবার বলেন, সাধারণত তাঁরা কাট ও এডিট করেন, কিন্তু এখানে তিনি যা বলছেন তা তাৎক্ষণিকভাবেই বানিয়ে বলছেন।

প্রথম তলা: স্ট্রেইটজ্যাকেট আর ধাতব খাঁচা

টাইমার শুরু হতেই ডার্সি নেমে আসেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি জ্যাকেট থেকে বেরিয়ে যান, আর তাঁর গতি দেখে উপস্থাপকেরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, এত দ্রুত তিনি কীভাবে বেরোলেন। জিমি অবশ্য সতর্ক করেন, পরের তলা থেকে পালানো "দ্বিগুণ কঠিন"।

পরের ধাপে ডার্সিকে একটি ধাতব খাঁচা থেকে বেরোতে হয়। এর জন্য মেঝেতে রাখা লক পিক দিয়ে তালা খুলতে হবে। ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুক্ত হতে হলে তালার ভেতরের তিনটি পিন পুরোপুরি সারিবদ্ধ করতে হয়। উপস্থাপকদের মতে, টুল হাতে থাকলেও তালা খোলা বেশ অস্বস্তিকর কাজ। এক মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরও ডার্সি তখনো প্রথম ঘরেই ছিলেন। জিমি দর্শকদের মনে করিয়ে দেন, এখনো পাঁচটি তলা বাকি। তিনি নিজের দুশ্চিন্তার কথাও জানান। ম্যাকের সঙ্গে কথোপকথনে তাঁরা একমত হন যে এখন পর্যন্ত সময় ভালোই যাচ্ছে, তবে সামনের ঘরগুলো আরও কঠিন।

চার নম্বর তলা: পৃথিবীর "সবচেয়ে আঠালো আঠা"

দড়ি বেয়ে নেমে ডার্সি পৌঁছান আঠার ঘরে, যাকে চার নম্বর তলা বলা হয়। পুরো মেঝে আঠায় ঢাকা। ডার্সিকে বেছে নিতে হবে মাংকি বার ধরে ঝুলে পার হবেন, নাকি আঠার ওপর দিয়ে হাঁটবেন। জিমি জোরালোভাবে আঠার ওপর দিয়ে না হাঁটার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, এটি "পৃথিবীর সবচেয়ে আঠালো আঠা", পড়ে গেলে ডার্সি জুতা হারাবেন, আর তিনি মোটেও রসিকতা করছেন না।

ডার্সি মাংকি বার বেছে নেন। এক মুহূর্তে তিনি ঘুরে যেতে শুরু করলে উপস্থাপকেরা উদ্বিগ্ন হন, তবে শেষ পর্যন্ত একবারও মাটি না ছুঁয়ে ঝুলে ঝুলে প্রস্থানে পৌঁছে যান। ততক্ষণে দুই মিনিট কেটে গেছে। এরপর একটি ঢাকনা তুলে তিনি পরের ঘরে নামার প্রস্তুতি নেন, আর জিমি সেটিকে "সবচেয়ে পাগলাটে ঘর" বলে ঘোষণা করেন। এই সময় ডার্সিকে বলতে শোনা যায়, তিনি খুব ক্লান্ত।

তিন নম্বর তলা: বোল্ডার, দুটি দড়ি আর একটি ভোঁতা ছুরি

তিন নম্বর তলা "বোল্ডার রুম"। শুরুতে মনে হচ্ছিল এটি বেশ সহজ হবে। ঘরে একটি বিশাল পাথর একটি র‍্যাম্পের ওপর রাখা, আর সেটিকে গড়িয়ে পড়া থেকে আটকে রেখেছে কেবল দুটি দড়ি। ঘরে একটি ছুরিও আছে, এবং জিমির ইঙ্গিত অনুযায়ী ঘর থেকে বেরোতে সেটি লাগবে। ডার্সি বুঝে নেন যে দড়ি কাটতে হবে।

এই ঘরেই সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়। সাত মিনিট বাকি থাকতে ডার্সি প্রথম দড়ির প্রায় অর্ধেক কেটেছেন। উপস্থাপকদের মন্তব্য, যত নিচে যাওয়া হবে তলাগুলো তত কঠিন হবে আর তত বেশি সময় লাগবে। তাঁদের মতে, শেষ দড়িটিই সবচেয়ে বেশি সময় নেবে, কারণ সেটি অনেক মোটা। ডার্সি নিজেই জানান, ছুরিটি খুব ভোঁতা। পাশ থেকে কেউ বলেন, তিনি এখন সময়ের হিসাবে পিছিয়ে পড়েছেন। জিমি রসিকতা করে বলেন, ডার্সি নিজের মুখে বললে সম্ভবত জানাতেন যে তিনি বিশ্বমানের এস্কেপ আর্টিস্ট, কিন্তু দড়ি কাটায় তিনি স্পষ্টতই সেরা নন। আরেকজন প্রশ্ন তোলেন, জিমি কেন দড়ি কাটায় "সম্ভাব্য সবচেয়ে ধীর মানুষটিকে" খুঁজে এনেছেন। ডার্সিকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তিনি পুরো এক মিনিট এই কাজে খরচ করেছেন। ডার্সি নিজে দৃঢ়ভাবে বলেন, একটা "বোকা দড়ির" জন্য তিনি এই ২৫০ গ্র্যান্ড হারাবেন না।

দড়ি কাটলে কী ঘটবে, তা নিয়ে আগে থেকেই রহস্য তৈরি করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসা করা হলে জিমির অনুমান ছিল, বোল্ডারটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে যাবে। শেষ দড়ি কাটা হলে ডার্সিকে বোল্ডারটি র‍্যাম্পের নিচে ঠেলে দিতে বলা হয়।

লাফ: ছাদের দড়ি আর ক্রেন

বোল্ডার ঠেলে দেওয়ার পর ডার্সিকে ছাদ থেকে ঝোলানো একটি দড়ি ধরে নিজের প্যান্টের সামনের ল্যাচে আটকাতে বলা হয়, আর সেটি যে আটকানো হয়েছে তা "১০০% নিশ্চিত" করতে বলা হয়। তারপর জানানো হয়, তাঁকে নিচে লাফ দিতে হবে। ডার্সি ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, সত্যিই লাফ দিতে হবে কি না, আর কীভাবে তিনি এটা করবেন। শেষে তিনি লাফ দেন। তখন ঠিক পাঁচ মিনিট বাকি।

লাফের পর কেউ বারবার "ক্রেন থামাও, কপিকল থামাও" বলে চিৎকার করেন। জিমি মজা করে মন্তব্য করেন, ক্রেন অপারেটর বোধহয় মাতাল।

লেজারের গোলকধাঁধা

পরের তলাকে জিমি "এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন" বলেন। এটি একটি লেজারের গোলকধাঁধা। নিয়ম হলো, ডার্সি ভুলবশত কোনো লেজার ছুঁয়ে ফেললে তাঁর টাকা সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হবে। লেজারের সংখ্যা দেখে ডার্সি নিজেও প্রশ্ন করেন, কীভাবে তিনি এটা পার হবেন।

এই অংশে জিমি একটি স্পনসর সেগমেন্ট পড়ছিলেন, আর মাঝে মাঝে ম্যাক ডার্সির অগ্রগতি জানাচ্ছিলেন। একসময় খবর আসে, ডার্সি লেজারের অর্ধেক পথ পার হয়েছেন। রিয়েল-টাইম ফরম্যাটের চাপ জিমি নিজেই স্বীকার করেন: তিনি চাপে আছেন, আর লাইন ভুলে গেলে যেন দর্শকেরা ক্ষমা করেন। একপর্যায়ে তিনি ম্যাককে থামিয়ে বিজ্ঞাপনটা শেষ করতে দিতে বলেন। এর মধ্যেই ডার্সি লেজার পার হয়ে পানিতে লাফ দেন।

শেষ স্তর: পানিভর্তি ঘরের চারটি ভালভ

জিমি এটিকে শেষ স্তর ঘোষণা করেন। ঘরটি পানিতে ভরা। ঘরের চার কোণে চারটি ভালভ আছে, সবগুলো খুলে দিলে পানি বেরিয়ে যাবে। তারপর ডার্সি সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে বোতাম টিপতে পারবেন। ডার্সি প্রথমে জিজ্ঞেস করেন এগুলো ঘোরাতে হবে কি না, আর কেউ বলে দেন গাঁট ঘোরাতে হবে। এরপর জিমি সিদ্ধান্ত নেন আর সাহায্য করা হবে না: দেখা যাক টাকা জেতার মতো বুদ্ধি ডার্সির আছে কি না। তাঁর প্রশ্ন ছিল, চারটি ভালভ খুলতে ডার্সি যথেষ্ট লম্বা সময় দম ধরে রাখতে পারবেন, নাকি তার আগেই সময় ফুরিয়ে যাবে।

প্রথম ভালভ খোলার পর ডার্সি একবার ভুল করে আগেই খোলা ভালভের দিকে ফিরে যান। উপস্থাপকদের হিসাবে এতে প্রায় ৩০ সেকেন্ড নষ্ট হয়। তখন তিন মিনিট বাকি, আর জিমির মতে তাড়াহুড়ো করলে তখনও সম্ভব। "দুটো শেষ, দুটো বাকি" অবস্থার পর ডার্সি সাঁতরে অন্য দিকে যান। জিমি বলেন, তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না ডার্সি এখন কতটা ক্লান্ত। দুই মিনিট দশ সেকেন্ড বাকি থাকতে উত্তেজনা চরমে ওঠে, আর শেষ পর্যন্ত ঘোষণা আসে যে ডার্সি চারটি ভালভই খুলেছেন।

চূড়ান্ত দরজা: পানির চাপ আর আটকে থাকা ল্যাচ

এক মিনিট ৫০ সেকেন্ড বাকি থাকতে ডার্সি চূড়ান্ত দরজায় পৌঁছান। এবার তাঁকে দরজা খুলে দৌড়ে বোতাম টিপতে হবে। কিন্তু দরজা সহজে খোলেনি। ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘরে তখনো অনেক পানি ছিল, আর পানির চাপের কারণে দরজা আটকে যাচ্ছিল, তাই আরও পানি বেরোনো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। ডার্সিকে বলা হয় সব ল্যাচ খুলতে হবে। এর মধ্যে সামনের দরজা দিয়ে পানি বেরোতে শুরু করে।

এই সময় জিমি ম্যাককে বলেন, ডার্সি ব্যর্থ হলে বোমা বিস্ফোরিত হবে, তাই তিনি যেন বালির বস্তার আড়ালে লুকিয়ে থাকেন। ডার্সি একটি ল্যাচে আটকে যান এবং বুঝতে পারছিলেন না কী ভুল হচ্ছে। একজন মন্তব্য করেন, এটাই শেষ, তিনি ব্যর্থ হবেন। ৪৫ সেকেন্ড, তারপর ৩০ সেকেন্ড বাকি থাকতে নির্দেশ আসে দরজার ফাঁক দিয়ে পিছলে বেরিয়ে বোতাম টিপতে।

ফলাফল: ১৯ সেকেন্ড বাকি রেখে জয়

শেষ পর্যন্ত ডার্সি বোতাম টেপেন, তখন টাইমারে ১৯ সেকেন্ড বাকি। জিমি জানান, জয়ের পর তাঁরা বোমার পথ থেকে টাকা সরিয়ে নেন এবং ডার্সিকে জিজ্ঞেস করেন টাকাটা দিয়ে তিনি কী করবেন। ডার্সির উত্তর ছিল, আগামীকাল তাঁর সন্তান জন্ম নিতে যাচ্ছে, যা শুনে উপস্থিতরা বিস্মিত হন। এরপর তাঁরা ভবনটি উড়িয়ে দেন। জিমি আশা প্রকাশ করেন দর্শকেরা বিস্ফোরণ উপভোগ করেছেন, এবং ভিডিওটি ঠিক ১০ মিনিটের রাখতে হবে বলে দ্রুত বিদায় জানান।